জনকল্যাণে কাজ করলে মানুষ আজীবন মনে রাখে : সিসিক প্রশাসক

জনকল্যাণে কাজ করলে মানুষ আজীবন মনে রাখে : সিসিক প্রশাসক

সিলেট সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসক ও সিলেট জেলা বিএনপির সভাপতি আব্দুল কাইয়ুম চৌধুরী বলেছেন, জনকল্যাণে নিষ্ঠার সঙ্গে কাজ করলে মানুষ সেই অবদান কখনও ভুলে যায় না। সিলেট মেট্রোপলিটন পুলিশের (এসএমপি) বিদায়ী কমিশনার মো. আব্দুল কুদ্দুছ চৌধুরী তারই উজ্জ্বল উদাহরণ। দায়িত্ব পালনকালে তিনি আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নয়ন, জননিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ এবং জনবান্ধব নানা উদ্যোগের মাধ্যমে মানুষের আস্থা অর্জন করেছেন। তাই আজ সর্বস্তরের মানুষ তাকে ভালোবাসা ও সম্মান জানাচ্ছে। সামাজিক সংগঠন ইউনাইটেড সিলেটের উদ্যোগে রোববার (২৬ জুন) বিকেলে সারদা হলে চট্টগ্রাম রেঞ্জের ডিআইজি হিসেবে বদলিজনিত বিদায় উপলক্ষে আয়োজিত সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। সিসিক প্রশাসক বলেন, আব্দুল কুদ্দুছ চৌধুরী একজন দক্ষ, সৎ ও দায়িত্বশীল পুলিশ কর্মকর্তা। তার নেতৃত্বে সিলেটে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উল্লেখযোগ্য উন্নয়ন হয়েছে। জাতীয় সংসদ নির্বাচন শান্তিপূর্ণ, অবাধ ও সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন করতেও তিনি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছেন। তিনি বলেন, সম্প্রতি সংঘটিত কয়েকটি চাঞ্চল্যকর হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা গ্রহণ এবং দ্রুত আসামিদের গ্রেপ্তার করে তিনি পেশাদারিত্বের পরিচয় দিয়েছেন। নগরবাসীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে তার আন্তরিক প্রচেষ্টা সর্বদা প্রশংসিত হবে। সিলেট প্রেসক্লাবের সভাপতি মুকতাবিস-উন-নূরের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য রাখেন, ইউনাইটেড সিলেটের সভাপতি আব্দুল মোমিন। বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন, জালালাবাদ ক্যান্টনমেন্ট পাবলিক স্কুল অ্যান্ড কলেজের প্রাক্তন অধ্যক্ষ কর্নেল (অব.) সৈয়দ আলী আহমদ, মহানগর দায়রা জজ আদালতের পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি) অ্যাডভোকেট বদরুল আহমদ চৌধুরী, সিলেট জেলা দোকান মালিক সমিতির সদস্যসচিব আব্দুর রহমান রিপন। অন্যানের মধ্যে আরও বক্তব্য রাখেন, সিলেট ব্যবসায়ী ঐক্যকল্যাণ পরিষদের সভাপতি আব্দুল মুনিম মল্লিক মুন্না, সিলেট প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ সিরাজুল ইসলাম, জুবায়ের আহমদসহ বিভিন্ন সামাজিক, পেশাজীবী ও ব্যবসায়ী সংগঠনের নেতৃবৃন্দ। সংবর্ধিত অতিথি আব্দুল কুদ্দুছ চৌধুরী বলেন, "সিলেটবাসীর অকুণ্ঠ সহযোগিতা পেয়েছি বলেই দায়িত্ব পালনে সফল হতে পেরেছি। তাই এই সফলতার কৃতিত্ব একান্তই সিলেটবাসীর।" তিনি বলেন, সিলেটে অবৈধ রিকশা নিয়ন্ত্রণ এবং ফুটপাত দখলমুক্ত করার মতো কঠিন কাজ বাস্তবায়ন সম্ভব হয়েছে সবার সম্মিলিত সহযোগিতার কারণে। একই সঙ্গে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নয়নেও প্রশাসন ও জনগণের সমন্বিত প্রচেষ্টা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে। অনুষ্ঠান শেষে বিদায়ী পুলিশ কমিশনার মো. আব্দুল কুদ্দুছ চৌধুরীর হাতে সম্মাননা স্মারক তুলে দেন অতিথিবৃন্দ। 

২৬ই জুলাই, ২০২৬
স্কলার্সহোম শিবগঞ্জ শাখায় কৃতি শিক্ষার্থীদের সংবর্ধনা

স্কলার্সহোম শিবগঞ্জ শাখায় কৃতি শিক্ষার্থীদের সংবর্ধনা

"মেধা, অধ্যবসায় ও সুশিক্ষাই একটি জাতির উজ্জ্বল ভবিষ্যতের ভিত্তি।"—এই চেতনাকে ধারণ করে ২০২৫ সালের প্রাথমিক বৃত্তি পরীক্ষায় অসাধারণ সাফল্য অর্জনকারী শিক্ষার্থীদের সংবর্ধনা দিয়েছে স্কালার্সহোম শিবগঞ্জ শাখা।রোববার (২৬ জুলাই) প্রতিষ্ঠানটির মিলনায়তনে এ সংবর্ধনা অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়। স্কলার্সহোম শিবগঞ্জ শাখার উপাধ্যক্ষ শানিজ ফাতেমা ইব্রাহিমের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্য রাখেন, স্কলার্সহোমের একাডেমিক কো-অর্ডিনেটর অধ্যাপক জয়নুল আবেদিন চৌধুরী। বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন, স্কলার্সহোম টিলাগড় শাখার অধ্যক্ষ ও স্কলার্সহোম শিবগঞ্জ শাখার প্রাক্তন অধ্যক্ষ মোহাম্মদ শামছ উদ্দিন।  অনুষ্ঠানের সূচনা পর্বে বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী নাবিহা তাহসিন’র সঞ্চালনায় অভিভাবকদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন, মোছা. হেনা বেগম, বেলাল হোসেন এবং কবির আহমেদ প্রমুখ। শেষে অতিথিবৃন্দ কৃতি শিক্ষার্থীদের সম্মাননা সনদ তুলে দেন। উল্লেখ্য, ২০২৫ সালের প্রাথমিক বৃত্তি পরীক্ষায়  এ প্রতিষ্টান থেকে ট্যালেন্টপুলে বৃত্তি পেয়েছে ৬ জন শিক্ষার্থী এবং সাধারণ বৃত্তি পেয়েছে ১০ জন শিক্ষার্থী।

২৬ই জুলাই, ২০২৬
প্রাথমিক শিক্ষার মানোন্নয়নে নীতিমালা প্রণয়নের কাজ চলছে: প্রতিমন্ত্রী

প্রাথমিক শিক্ষার মানোন্নয়নে নীতিমালা প্রণয়নের কাজ চলছে: প্রতিমন্ত্রী

প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ বলেছেন, প্রাথমিক শিক্ষার মানোন্নয়ন ও প্রশাসনিক দক্ষতা বৃদ্ধি করতে সরকার নতুন নীতিমালা ও মূল্যবোধভিত্তিক কারিকুলাম প্রণয়নের কাজ করছে। এ লক্ষ্যে দেশের আটটি বিভাগে প্রশাসনিক কর্মকর্তাদের নিয়ে ধারাবাহিক কর্মশালার আয়োজন করা হয়েছে। সিলেট বিভাগ দিয়ে এ কর্মসূচির সূচনা হয়েছে। রোববার (২৬ জুলাই) সিলেট নগরীর পিটিআই অডিটোরিয়ামে জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিস আয়োজিত বাংলাদেশের প্রাথমিক শিক্ষার শ্রেণি কার্যক্রম পরিচালনা, মনিটরিং, জবাবদিহিতা ও স্থানীয় প্রশাসনের প্রতি পরিবর্তিত প্রত্যাশা শীর্ষক প্রশিক্ষণ কর্মশালায় সেশন পরিচালনা শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব কথা বলেন।  প্রতিমন্ত্রী বলেন, উন্নত বিশ্বের শিক্ষা ব্যবস্থা হুবহু অনুসরণ নয় বরং বাংলাদেশের বাস্তবতার সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে ফলাফলভিত্তিক শিক্ষা ব্যবস্থা গড়ে তোলাই সরকারের লক্ষ্য। প্রাথমিক পর্যায়ে Foundational Learning ​​​​​ শতভাগ নিশ্চিত করার পাশাপাশি ধর্মীয়, পারিবারিক ও নাগরিক মূল্যবোধকে নতুন কারিকুলামে অধিক গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। দেশবরেণ্য বিশেষজ্ঞ ও আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠানের সহযোগিতায় কারিকুলাম প্রণয়নের কাজ এগিয়ে চলছে। একই সঙ্গে শিক্ষক ও প্রশাসনিক কর্মকর্তাদের জন্য নতুন নীতিমালার প্রথম খসড়া আগামী ১৭ আগস্টের মধ্যে প্রস্তুত করার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। তিনি বলেন, নীতিমালা চূড়ান্ত হওয়ার আগে শিক্ষকদের বেতন কাঠামো নিয়ে মন্তব্য করা সমীচীন নয়। তবে শিক্ষকদের পেশাগত দক্ষতা ও জীবনমান উন্নয়নে কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া হবে। বর্তমানে মিড-ডে মিল কর্মসূচি পাইলট পর্যায়ে রয়েছে। এর বাস্তবায়নে পাওয়া ত্রুটি সংশোধনে সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠানের তদারকি, কারখানা পরিদর্শন, খাদ্য প্রযুক্তিবিদ নিয়োগ ও বিদ্যালয়ভিত্তিক ‘মাদার্স কমিটি’ গঠনসহ বিভিন্ন পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। পাইলটিং সফল হলে ২০২৭ সালের শুরু থেকে কর্মসূচিটি সারা দেশে চালুর পরিকল্পনা রয়েছে। প্রতিমন্ত্রী আরও বলেন, ২০২৮ সালে নতুন কারিকুলাম চালুর সঙ্গে সঙ্গে বেসরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলোকেও নীতিমালার আওতায় আনা হবে। এসব বিদ্যালয়ের কারিকুলাম, শিক্ষকের মান, অবকাঠামো ও শিক্ষা ক্যালেন্ডার নিয়মিত মনিটরিং করা হবে। একই সঙ্গে বিদ্যমান নীতিমালার আওতায় অধিদপ্তরের কার্যক্রম পরিচালিত হবে এবং নতুন নীতিমালা কার্যকর হওয়ার পর তা বাস্তবায়ন করা হবে। সিলেটের জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার সাখওয়াত এরশেদের সভাপতিত্বে কর্মশালায় বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন, প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের অতিরিক্ত মহাপরিচালক মো. আব্দুর রহিম, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক মো. মাসুদ রানা।  এসময় সিলেট বিভাগের প্রাথমিক শিক্ষা সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তাগণ উপস্থিত ছিলেন।

২৬ই জুলাই, ২০২৬
গোয়াইনঘাটে মাদক ও মানব পাচারকে না বলুন’ শীর্ষক  সভা

গোয়াইনঘাটে মাদক ও মানব পাচারকে না বলুন’ শীর্ষক সভা

তরুণ প্রজন্মকে মাদক ও মানব পাচারের ভয়াবহতা সম্পর্কে সচেতন করতে  সিলেটের গোয়াইনঘাট উপজেলার সোনারহাট উচ্চ বিদ্যালয়ে ‘মাদক ও মানব পাচারকে না বলুন’ শীর্ষক এক সচেতনতামূলক আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।  রোববার (২৬ জুলাই) দুপুরে উপজেলার সোনারহাট উচ্চ বিদ্যালয়ের মিলনায়তনে এ আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটির সভাপতি আব্দুল করিমের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন, গোয়াইনঘাট থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. ওমর ফারুক মুরুল। বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন, গোয়াইনঘাট উপজেলা পরিষদের সাবেক ভাইস চেয়ারম্যান মাওলানা গোলাম আম্বিয়া কয়েছ। অন্যান্যের মধ্যে আরও বক্তব্য রাখেন, যুক্তরাজ্য প্রবাসী মোস্তাফিজুর রহমান কাওছার, বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক জাফর ইকবাল ও সিনিয়র শিক্ষক আব্দুর রাজ্জাক। অনুষ্ঠানে বিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষার্থী, অভিভাবক এবং স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ উপস্থিত ছিলেন।

২৬ই জুলাই, ২০২৬
জুলাইয়ের ২৫ দিনে রেকর্ড প্রবাসী আয়

জুলাইয়ের ২৫ দিনে রেকর্ড প্রবাসী আয়

চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রথম মাস জুলাইয়ের প্রথম ২৫ দিনেই রেকর্ড ২২৯ কোটি ৯৪ লাখ ৫০ হাজার ডলারের প্রবাসী আয় এসেছে। বাংলাদেশি মুদ্রায় যার পরিমাণ প্রায় ২৮ হাজার ২২৬ কোটি টাকা (প্রতি ডলার ১২২.৭৫ টাকা হিসাবে)। রোববার (২৬ জুলাই) কেন্দ্রীয় ব্যাংকের হালনাগাদ প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের জুলাইয়ের ২৫ দিনে অর্জিত এই আয় আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় উল্লেখযোগ্যভাবে বেশি। গত ২০২৫-২৬ অর্থবছরের জুলাইয়ের প্রথম ২৫ দিনে প্রবাসীরা পাঠিয়েছিলেন ১৯৯ কোটি ৮২ লাখ ৮২ হাজার ডলার। সে তুলনায় চলতি বছরের একই সময়ে প্রবাসী আয় প্রবৃদ্ধি হয়েছে ১৫ শতাংশ। ব্যাংকভিত্তিক লেনদেনের চিত্রে দেখা গেছে, প্রবাসীরা সবচেয়ে বেশি অর্থ পাঠিয়েছেন বেসরকারি ব্যাংকগুলোর মাধ্যমে। ২৫ দিনে বেসরকারি বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোর মাধ্যমে এসেছে ১৬৫ কোটি ৭১ লাখ ডলার। এছাড়া রাষ্ট্রায়ত্ত বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোর মাধ্যমে দেশে এসেছে ৩৩ কোটি ৭১ লাখ ৭০ হাজার ডলার। বিশেষায়িত একমাত্র বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের মাধ্যমে এসেছে ৩০ কোটি ১৫ লাখ ৫০ হাজার ডলার। আর দেশে কর্মরত বিদেশি বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোর মাধ্যমে প্রবাসী আয় এসেছে ৩৬ লাখ ২০ হাজার মার্কিন ডলার। খাত সংশ্লিষ্টরা বলছেন, বৈধ ব্যাংকিং চ্যানেলে রেমিট্যান্স পাঠাতে সরকারের নানা প্রণোদনা এবং ডলারের দর স্বাভাবিক থাকায় প্রবাসীরা এখন ব্যাংকিং পথকেই অগ্রাধিকার দিচ্ছেন। এতে দেশের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভে ইতিবাচক প্রভাব পড়ার প্রত্যাশা করা হচ্ছে।

২৬ই জুলাই, ২০২৬
মৌলভীবাজারে পিকআপ-সিএনজি মুখোমুখি সংঘর্ষে নিহত ১

মৌলভীবাজারে পিকআপ-সিএনজি মুখোমুখি সংঘর্ষে নিহত ১

মৌলভীবাজারের বড়লেখায় পিক-আপ ও সিএনজি চালিত অটোরিকশার মুখোমুখি সংঘর্ষে আলী হোসেন নামের এক ব্যক্তি নিহত হয়েছে। এঘটনায় ৩ জন আহত হয়েছেন। আহতদের সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। রোববার (২৬ জুলাই)  দুপুরে বড়লেখা-জুড়ী আঞ্চলিক মহাসড়কের বড়লেখা উপজেলার দক্ষিণভাগ ইউনিয়নের হাতলিয়া এ ঘটনা ঘটে। নিহত আলী হোসেন জুড়ী উপজেলার গোয়ালবাড়ী ইউনিয়নের কচুরগুল এলাকার হাজী সোয়াব উদ্দিনের ছেলে।  পুলিশ ও স্থানীয়রা জানান, বড়লেখা-জুড়ী আঞ্চলিক সড়কের হাতলিয়া এলাকায় সিএনজিচালিত অটোরিকশা ও পিক-আপের মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়। এসময় স্থানীয়রা তাদেরকে উদ্ধার করে জুড়ী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে আসলে কর্তব্যরত চিকিৎসক আলী হোসেকে মৃত ঘোষণা করেন এবং ৩ জনকে প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে উন্নয়ত চিকিৎসার জন্য সিলেট এমএজি মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে । জুড়ী উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. সমরজিৎ সিংহ বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, আলী হোসেনসহ ৪জনকে জুড়ী স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে এলে কর্তব্যরত চিতিৎসক আলী হোসেনকে মৃত ঘোষণা করেন। আহত ৩ জনকে  সিলেট এম এ জি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। বড়লেখা থানা ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা(ওসি) মনিরুজ্জামান খান বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, নিহত আলী হোসেনের স্বজনা বিনা ময়নাতদন্তের মরদেহ নেয়ার আবদনের প্রেক্সিতে বিনা ময়না তদন্তের আলী হোসেনের মরদেহ স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হয়।

২৬ই জুলাই, ২০২৬
সিলেটে ভিডিও ভাইরাল হওয়া সেই শিক্ষিকার বিরুদ্ধে হচ্ছে তদন্ত কমিটি

সিলেটে ভিডিও ভাইরাল হওয়া সেই শিক্ষিকার বিরুদ্ধে হচ্ছে তদন্ত কমিটি

সিলেটের ফেঞ্চুগঞ্জ উপজেলার পিটাইটিকর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষিকা একটি ভিডিও নিয়ে তোলপাড় চলছে। বিশেষ করে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম (ফেসবুকে) ওই শিক্ষিকার ভিডিও ভাইরাল হওয়ার পর থেকে পক্ষে-বিপক্ষে আলোচনা-সমালোচনা শুরু হয়েছে। বিষয়টি অনুসন্ধানে একটি তদন্ত গঠন করা হবে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা। জানা যায়, ওই শিক্ষিকার নাম বিউটি পাল। তিনি ফেঞ্চুগঞ্জ উপজেলার পিটাইটিকর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষিকা হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। বিউটি পাল এ বছর সিলেট জেলার শ্রেষ্ঠ প্রধান শিক্ষক নির্বাচিত হয়েছেন।  গত বৃহস্পতিবার (২৩ জুলাই) দুপুরের দিকে বিউটি পাল নিজের ফেসবুক আইডি (annabel Li Li) থেকে কয়েক সেকেন্ডের একটি রিল ভিডিও পোস্ট করেন। ভিডিওতে দেখা যায়, বিদ্যালয় প্রাঙ্গনেই শাড়ি পরে বাংলা গান ‘‘আজ কেন মন উদাসী হয়ে/ দূর অজানায় চায় হারাতে..’’ খোলা চুলে বিভিন্ন অঙ্গ-ভঙ্গি করছেন। মুহুর্তে ভিডিওটি ছড়িয়ে পড়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে। প্রধান শিক্ষিকার এমন ভিডিও ছড়িয়ে পড়ার পর থেকে দেশ-বিদেশে অবস্থানরত বিভিন্ন শ্রেণী পেশার লোকজন একপক্ষ শিক্ষিকার ভিডিও শেয়ার করে তীব্র সমালোচনা করছেন। বিষয়টি নিয়ে চলছে ট্রল ও সাইবার বুলিং। আরেকপক্ষ ওই শিক্ষিকার পক্ষ নিয়ে বুলিং ও ট্রলের নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাচ্ছেন। এদিকে, বিউটি পালের ভাইরাল হওয়া ভিডিও আচরণবিধি লঙ্ঘন হয়েছে কি না সেই বিষয়ে অনুসন্ধানে একটি তদন্ত গঠন করা হবে বলে জানিয়েছেন ফেঞ্চুগঞ্জ উপজেলা শিক্ষা অফিসার মোহাম্মদ সোহেল মোল্লা। রোববার (২৬জুলাই) বিকালে সচিত্র সিলেটকে ফেঞ্চুগঞ্জ উপজেলা শিক্ষা অফিসার মোহাম্মদ সোহেল মোল্লা বলেন, বিষয়টি আমাদের নজরে এসেছে ও এ নিয়ে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে কথা হয়েছে। বিষয়টি তদন্তের জন্য প্রাথমিক সিদ্ধান্ত হিসেবে একটি তদন্ত কমিটি গঠনের আলোচনা হয়েছে। শিক্ষা অফিসার আরও জানান, কমিটি গঠন ও তদন্তের পর দেখা হবে কোনো ধরনের আচরণবিধি লঙ্ঘনের ঘটনা ঘটেছে কিনা। তদন্ত প্রতিবেদনের ওপর ভিত্তি করেই পরবর্তীতে প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক পদক্ষেপ নেওয়া হবে। বিদ্যালয় চলাকালীন সময়ে এমন ঘটনার নিয়মকানুনের বিষয়ে জানতে চাওয়া হলে তিনি জানান, যেহেতু তদন্ত প্রক্রিয়া শুরুর প্রাথমিক পর্যায়ে রয়েছে, তাই এ বিষয়ে তদন্তের আগে কোনো আনুষ্ঠানিক বক্তব্য প্রদান করা সমীচীন হবে না। এ বিষয়ে সিলেট জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার সাখাওয়াত এরশেদ সচিত্র সিলেটকে বলেন, এটা নিয়ে আমরা কাজ করছি। একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হবে এবং সেখানে আচরণবিধি লঙ্ঘন ও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম নিয়ে সরকারি যে নির্দেশনা রয়েছে তা লঙ্ঘন হয়েছে কি না তা খতিয়ে দেখা হবে।

২৬ই জুলাই, ২০২৬
বাজারের ৩৪ টুথপেস্টের ২৬টিতে মিলেছে বিষাক্ত মাইক্রোপ্লাস্টিক

বাজারের ৩৪ টুথপেস্টের ২৬টিতে মিলেছে বিষাক্ত মাইক্রোপ্লাস্টিক

দেশের বাজারে বিক্রি হওয়া ৩৪টি টুথপেস্টের মধ্যে ২৬টিতেই ক্ষতিকর মাইক্রোপ্লাস্টিকের উপস্থিতি পাওয়া গেছে বলে এক গবেষণায় দাবি করেছে পরিবেশ বিষয়ক গবেষণা সংস্থা এনভায়রনমেন্ট অ্যান্ড সোশ্যাল ডেভেলপমেন্ট অর্গানাইজেশন (এসডো)। রোববার (২৬ জুলাই) রাজধানীতে নিজস্ব কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এক বছরব্যাপী পরিচালিত এ গবেষণার ফল প্রকাশ করে সংস্থাটি। গবেষণায় বলা হয়েছে, প্রতি ১০০ গ্রাম টুথপেস্টে সর্বনিম্ন ২০টি থেকে সর্বোচ্চ ৩২০টি পর্যন্ত মাইক্রোপ্লাস্টিক কণা শনাক্ত হয়েছে। সবচেয়ে বেশি ৩২০টি কণা পাওয়া গেছে ‘মেডিপ্লাস ফ্লুরাইড জেল’-এ। এসডো জানায়, গবেষণার অংশ হিসেবে দেশের ২ হাজার ৭৬০ জন ভোক্তার ওপর জরিপ পরিচালনা করা হয়। পাশাপাশি জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিবেশবিজ্ঞান বিভাগের ‘এনভায়রনমেন্টাল হেলথ অ্যান্ড ইকোটক্সিকোলজি ল্যাবরেটরিতে’ স্টিরিওমাইক্রোস্কোপি ও ফুরিয়ার ট্রান্সফর্ম ইনফ্রারেড (এফটিআইআর) স্পেকট্রোস্কোপি প্রযুক্তি ব্যবহার করে নমুনা পরীক্ষা করা হয়। প্রতিবেদনে বলা হয়, পরীক্ষা করা ২৫টি দেশীয় টুথপেস্টের মধ্যে ২২টিতে মাইক্রোপ্লাস্টিক পাওয়া গেছে। এছাড়া ভারতের পাঁচটির মধ্যে একটিতে, থাইল্যান্ডের দুটির মধ্যে একটিতে এবং ভিয়েতনামের দুটি টুথপেস্টের দুটিতেই এ ক্ষতিকর কণা শনাক্ত হয়েছে। উদ্বেগের বিষয় হলো, শিশুদের জন্য তৈরি ছয়টি টুথপেস্টের চারটিতেই মাইক্রোপ্লাস্টিকের উপস্থিতি পাওয়া গেছে। গবেষণার তথ্য অনুযায়ী, প্রতি ১০০ গ্রাম হিসেবে মেডিপ্লাস ফ্লুরাইড জেলে ৩২০টি, ক্লোজ আপ রেড হটে ১৬০টি, ক্লোজ আপ মেন্থল ফ্রেশে ১৬০টি, কোডোমো আল্ট্রা শিল্ড ফর্মুলা স্ট্রবেরিতে ১৪০টি, সিগন্যাল গ্রিন টিতে ১২০টি, পেপসোডেন্ট অ্যাডভান্স সল্টে ১০০টি, হিমালয়া কমপ্লিট কেয়ারে ১০০টি এবং সেনসোডাইন ফ্রেশ মিন্টে ৮০টি মাইক্রোপ্লাস্টিক কণা শনাক্ত হয়েছে। শিশুদের টুথপেস্টের মধ্যে কোডোমো আল্ট্রা শিল্ড ফর্মুলায় ১৪০টি, মেরিল বেবি স্ট্রবেরিতে ৬০টি, মেরিল বেবি অরেঞ্জে ৪০টি এবং পেপসোডেন্ট কিড অরেঞ্জে ২০টি প্লাস্টিক কণা পাওয়া গেছে। তবে গবেষণায় বাংলাদেশে উৎপাদিত জেনফ্রেশ, প্যারাসুট জাস্ট ফর বেবি (ম্যাঙ্গো) এবং ক্লোজ আপ রেড হট জিংক ফ্রেশ টেকনোলজিতে কোনো শনাক্তযোগ্য মাইক্রোপ্লাস্টিক পাওয়া যায়নি। এছাড়া শিশুদের জন্য আমদানি করা কোডোমো অরেঞ্জ টুথপেস্টেও মাইক্রোপ্লাস্টিকের উপস্থিতি শনাক্ত হয়নি বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

২৬ই জুলাই, ২০২৬
হামের উপসর্গে ২৪ ঘণ্টায় আরও ৪ মৃত্যু

হামের উপসর্গে ২৪ ঘণ্টায় আরও ৪ মৃত্যু

দেশে ২৪ ঘণ্টায় হামের উপসর্গ নিয়ে আরো চার জনের মৃত্যুর তথ্য দিয়েছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। এরমধ্যে দুজন ময়মনসিংহ বিভাগের এবং একজন করে আছেন ঢাকা ও বরিশাল বিভাগের। অধিদপ্তরের হিসাবে, দেশে ১৫ মার্চ থেকে সংক্রামক এ ব্যাধির উপসর্গ নিয়ে ৭২৫ জনের মৃত্যু হলো। আর হামে আক্রান্ত হয়ে মারা গেছে ৯৫ জন। রোববার স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের বুলেটিনে বলা হয়, শনিবার সকাল ৮টা থেকে ২৪ ঘণ্টায় দেশে হাম শনাক্ত হয়েছে ১৭০ জনের শরীরে। দেশে হামের উপসর্গ নিয়ে এবছর সবচেয়ে বেশি ৩১৭ জন মারা গেছে ঢাকা বিভাগে। এর পরেই আছে সিলেট বিভাগ, সেখানে মারা গেছে ১০৬ জন। এছাড়া রাজশাহীতে ৯০, চট্টগ্রামে ৫৭, বরিশালে ৪৪, ময়মনসিংহে ৬৯, খুলনায় ৩২ ও রংপুর বিভাগে ১০ জন মারা গেছে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর বলেছে, গেল ২৪ ঘণ্টায় আরো ৯৯০ জন হামের উপসর্গ নিয়ে দেশের বিভিন্ন হাসপাতালে এসেছে। তাদের মধ্যে ভর্তি হয়েছে ৯৪১ জন। ঢাকা বিভাগে ভর্তি হয়েছেন ৩২২ জন, রাজশাহীতে ৩২, সিলেটে ৯৫, চট্টগ্রামে ২২০, বরিশালে ১৫৫, ময়মনসিংহে ৫৫, খুলনায় ৪১ ও রংপুরে ভর্তি হয়েছেন ২১ জন। এ নিয়ে সারা দেশের বিভিন্ন হাসপাতালে হাম রোগী ভর্তির সংখ্যা দাঁড়াল এক লাখ ছয় হাজার ২৩৯ জন। দেশে সন্দেহজনক হাম রোগীর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে এক লাখ ২৩ হাজার ৭৫৩। আর নিশ্চিত হাম রোগীর সংখ্যা ১৫ হাজার ৪৪২।

২৬ই জুলাই, ২০২৬
নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে ইসির প্রস্তুতি শুরু

নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে ইসির প্রস্তুতি শুরু

রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিনের বিদায়ের পর নতুন রাষ্ট্রপ্রধান নির্বাচনের প্রক্রিয়া শুরু করতে যাচ্ছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। এ বিষয়ে শিগগির ভারপ্রাপ্ত স্পিকার কায়সার কামালের সঙ্গে বৈঠক করতে যাচ্ছেন প্রধান নির্বাচন কমিশনার এ এম এম নাসির উদ্দিন। গুরুতর অসুস্থততার কথা জানিয়ে শুক্রবার বিকালে রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন পদত্যাগ করেন। সংবিধান অনুযায়ী স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ পরবর্তী রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত না হওয়া পর্যন্ত দায়িত্ব পালন করবেন। আর সেই পর্যন্ত স্পিকারের দায়িত্ব সামলাবেন ডেপুটি স্পিকার কায়সার কায়সার কামাল। ইতোমধ্যে রাষ্ট্রপতির পদত্যাগ এবং ভারপ্রাপ্ত স্পিকারের দায়িত্ব পালন সংক্রান্ত গেজেট প্রকাশ হয়েছে। সপ্তাহের প্রথম কার্যদিবস রোববার অনানুষ্ঠানিক বৈঠক করেছে নির্বাচন কমিশন, তাতে রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের আইনি দিক পর্যালোচনা করা হয়। রাষ্ট্রপতি ভোটের প্রস্তুতির বিষয়ে জানতে চাইলে ইসি সচিব আখতার আহমেদ বলেন, “আমরা তো প্রস্তুতি শুরু করছি। “প্রথা অনুযায়ী এখন স্পিকারের (ভারপ্রাপ্ত স্পিকার কায়সার কামাল) সাথে সাক্ষাৎ করবেন সিইসি। ইসি সচিবালয় দু-একদিনের মধ্যে চিঠি দিয়ে সাক্ষাতের সূচি চাইবে। ভারপ্রাপ্ত স্পিকার যখন সময় দেবেন, তখনই এই বৈঠক হবে।” রাষ্ট্রপতির পদত্যাগের পরবর্তী ৯০ দিনের মধ্যে নির্বাচন করার সাংবিধানিক বাধ্যবাধকতা রয়েছে। সেক্ষেত্রে ২২ অক্টোবরের মধ্যে নির্বাচন করতে হবে। সংসদ সদস্যদের গোপন ব্যালটে রাষ্ট্রপতি নির্বাচন হয়। সেজন্য সংসদ সচিবালয় থেকে ভোটার তালিকা বা সংসদ সদস্যদের নাম ইসি সচিবালয়ে পাঠানো হবে। এরপর সার্বিক বিষয় পর্যালোচনা করে নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করা হবে। জাতীয় সংসদের আগামী অধিবেশনে নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হবেন বলে আশা প্রকাশ করেছেন আইনমন্ত্রী আসাদুজ্জামান। সংসদের বাজেট অধিবেশন ১৫ জুলাই শেষ হওয়ার কথা জানিয়ে শনিবার তিনি বলেন, “সংবিধানের ১২৩ এর (২) অনুচ্ছেদ অনুসারে পদত্যাগের মধ্যে ৯০ দিনের মধ্যে নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচন করতে হবে। যেহেতু ১৫ জুলাই থেকে ৬০ দিনের মধ্যে আমাদের পরবর্তী অধিবেশন হওয়ার কথা সাংবিধানিকভাবে; আশা করি, সেই অধিবেশনে এটা করা সম্ভব হবে।” ভারপ্রাপ্ত স্পিকারের সঙ্গে আলোচনা করে উপযুক্ত সময় বিবেচনা করে নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের তফসিল দেবে ইসি। গাজী নজরুলের বিষয়ে সংসদের চিঠি পায়নি ইসি এদিকে জামায়াতে ইসলামী থেকে বহিষ্কৃত সংসদ সদস্য গাজী নজরুল ইসলামের বিষয়ে সংসদের কোনো চিঠি পায়নি নির্বাচন কমিশন। ইসি সচিব আখতার আহমেদ রোববার বলেন, “দল থেকে বহিষ্কারের বিষয়ে জামায়াতের একটি চিঠি আমরা পেয়েছি। এখনও সংসদ সচিবালয় থেকে রেফার করে এ ধরনের কোনো পত্র ইসি সচিবালয়ে পৌঁছেনি।” ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনে জামায়াতে ইসলামীর দাঁড়িপাল্লা প্রতীকে সাতক্ষীরা-৪ (শ্যামনগর) আসন থেকে নির্বাচিত হন নজরুল ইসলাম। এর মধ্যে গেল ২০ জুলাই রাতে এক নারীর সঙ্গে তার অন্তরঙ্গ মুহূর্তের ভিডিও ফেইসবুকে ছড়িয়ে পড়ে। শুরুতে জামায়াতের নেতাকর্মীরা ভিডিওটি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) দিয়ে তৈরি বলে দাবি করেন। তবে সংসদ সদস্য নজরুল ইসলাম ফেইসবুক পোস্টে ওই নারীকে দ্বিতীয় স্ত্রী বলে দাবি করেন। উদ্ভূত পরিস্থিতিতে ২২ জুলাই তাকে বহিষ্কার করে জামায়াতে ইসলামী। পরদিন দলটি নিজেদের সিদ্ধান্তের কথা জানিয়ে স্পিকার ও নির্বাচন কমিশনকে চিঠি দেয়। জামায়াতে ইসলামী বহিষ্কার করলেও গাজী নজরুল ইসলামের এমপি পদ নিয়ে নির্বাচন কমিশনের করার কিছু নেই বলে জানিয়েছেন ইসি আব্দুর রহমানেল মাছউদ। এক প্রশ্নের জবাবে বৃহস্পতিবার তিনি বলেছেন, দল বহিষ্কার করলেও ইসির কিছু করার সুযোগ নেই। তবে দল থেকে স্বেচ্ছায় পদত্যাগ করলে সংসদ সদস্য পদ শূন্য হয়। ইসি মাছউদ বলেন, কেবল দলের বহিষ্কারের চিঠি দিয়ে এমপি পদ থাকা না থাকার আলোচনা একটি বিতর্কিত বিষয়। গাজী নজরুল ইসলামের পদ নিয়ে স্পিকার বা জাতীয় সংসদের তরফ থেকে কোনো আনুষ্ঠানিক ‘রেফারেন্স’ বা চিঠি পেলে আইন ও সংবিধান পর্যালোচনা করে ব্যবস্থা নেবে নির্বাচন কমিশন।

২৬ই জুলাই, ২০২৬
জৈন্তাপুরে ভাতিজার দায়ের কোপে আহত চাচার মৃত্যু

জৈন্তাপুরে ভাতিজার দায়ের কোপে আহত চাচার মৃত্যু

সিলেটের জৈন্তাপুর উপজেলার চিকনাগুল ইউনিয়নের কাপনাকান্দি গ্রামে জমি-সংক্রান্ত দীর্ঘদিনের বিরোধের জের ধরে আপন ভাতিজার দায়ের কোপে গুরুতর আহত হওয়ার এক মাস পর মারা গেছেন মনোফর আলী (৭০)।  রোববার (২৬ জুলাই) সকাল ৮টার দিকে নিজ বাড়িতে তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন।  জানা যায়, গত ২৩ জুন বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে মনোফর আলীর মালিকানাধীন রাস্তার ওপর বেড়া দিয়ে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করা হয়। বিষয়টি নিয়ে প্রতিবাদ করতে গেলে তার আপন ভাতিজা রাহিম আলীর নেতৃত্বে কয়েকজন সংঘবদ্ধ হয়ে মনোফর আলীর বাড়ির উঠানে গিয়ে হামলা চালায়। হামলার একপর্যায়ে রাহিম আলী ধারালো দা দিয়ে মনোফর আলীর মাথায় কোপ দেন। এতে মনোফর আলী মাটিতে লুটিয়ে পড়লে প্রতিবেশীরা তাকে  উদ্ধার করে প্রথমে সিলেটের আখালিয়াস্থ মাউন্ট এডোরা হাসপাতালে ভর্তি করেন সেখানে ১৬ দিন চিকিৎসা শেষে। পরে সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়। দীর্ঘদিন চিকিৎসা চললেও অবস্থার উন্নতি না হওয়ায় চিকিৎসকদের পরামর্শে তাকে বাড়িতে নিয়ে আসা হয়। বাড়িতে চিকিৎসাধীন অবস্থায় রোববার সকালে তিনি মৃত্যুবরণ করেন। জৈন্তাপুর মডেল থানার ওসি (তদন্ত) আল আমিন বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, খবর পেয়ে পুলিশ মনোহর আলীর মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠিয়েছে। হামলার ঘটনায় নিহতের পুত্রবধূ মোছা. শিপা বেগম বাদী হয়ে জৈন্তাপুর মডেল থানায় মামলা দায়ের করেছেন বলেও জানান ওসি)। 

২৬ই জুলাই, ২০২৬
সান্তানকে সুপথে রাখতে অভিভাবককে নজরদারি বাড়াতে হবে: এমপি এমরান চৌধুরী

সান্তানকে সুপথে রাখতে অভিভাবককে নজরদারি বাড়াতে হবে: এমপি এমরান চৌধুরী

সিলেট-৬ (গোলাপগঞ্জ-বিয়ানীবাজার) আসনের সংসদ সদস্য ও জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট এমরান আহমদ চৌধুরী বলেছেন, তথ্যপ্রযুক্তির উৎকর্ষতায় আমরা এগিয়ে যাচ্ছি ঠিকই, কিন্তু এর কিছু নেতিবাচক দিকও আছে। ইন্টারনেট ও স্মার্টফোনের সহজলভ্যতায় খারাপ জিনিসগুলোও আমাদের সন্তানদের সামনে আসছে। তারা কোমলমতি হওয়ায় ঠিক-বেঠিক সহজে বুঝে উঠতে পারছে না। অনেক সময়  অপ্রাপ্ত বয়স্ক ছেলে-মেয়েরা স্ক্যান্ডালে জড়িয়ে পড়ছে। তাই আমরা অভিভাবকদের নিজ সন্তানকে খেয়াল রাখতে হবে। পড়ালেখার পাশাপাশি খেলাধুলা, সুস্থ সংস্কৃতি ও ভালো কাজের প্রতি উৎসাহিত করতে হবে।    রোববার (২৬ জুলাই) দুপুরে খাড়াবরা সপ্তগ্রাম উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে ‘শিক্ষার মানউন্নয়ন ও নৈতিকতাসম্পন্ন ভবিষ্যৎ প্রজন্ম গঠনে সচেতন অভিভাবকই প্রধান শক্তি’ শীর্ষক এ অভিভাবক সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। বিয়ানীবাজার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা উম্মে হাবিবা মজুমদারের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন, থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) আবু জাফর মাহফুজুল কবির, সিলেট জেলা বিএনপির সহসভাপতি নজমুল হোসেন পুতুল, উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার মৌলুদুর রহমান, জেলা বিএনপির যুগ্ম-সম্পাদক ওলি চৌধুরী, উপজেলা বিএনপির সভাপতি অ্যাডভোকেট আহমদ রেজা ও ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক গিয়াস উদ্দিন এবং সিলেট মহানগর জাসাস নেতা শাহজাহান আহমদ। অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য রাখেন, বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মীর মোহাম্মদ, মারজানুল উলুম কাড়াবরা মাদরাসার নায়েবে মুহতামিম মাওলানা জামাল উদ্দিন, সাবেক ভাইস চেয়ারম্যান শাব্বির আহমদ, ৩নং ওয়ার্ড বিএনপির সভাপতি কয়ছর আহমদ, তরুণ সমাজসেবী ফুরকান আহমদ, কেএসপির পক্ষ থেকে দেলোয়ার হোসেন, উপজেলা যুবদলের আহবায়ক আব্দুল করিম তাজুল, সিনিয়র যুগ্ম-আহবায়ক দৌলা হোসেন সুভাষ, নুরুল কিবরিয়া, নুরুল আমিন, সাব্বির আহমদ, ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি হারুন রশিদ ও সহসাধারণ সম্পাদক মতিউর রহমান সানু প্রমুখ। শুরুতে মানপত্র পাঠ করেন দশম শ্রেণির ছাত্রী মাহমুদা আক্তার শীলা। শেষে এমপি এমরান আহমদ চৌধুরী খাড়াবরা কওমি মাদরাসা এবং স্থানীয় মাইয়াখালি পয়েন্ট ও জিরো পয়েন্টে চলমান উন্নয়ন কাজ পরিদর্শন করেন। পরে সিলেট জেলা বিএনপির উপদেষ্টা মরহুম আম্বিয়া চৌধুরীর কবর জিয়ারত করেন এমপি এমরান আহমদ চৌধুরী।

২৬ই জুলাই, ২০২৬
সোমবার হতে শুরু হচ্ছে হজের প্রাথমিক নিবন্ধন

সোমবার হতে শুরু হচ্ছে হজের প্রাথমিক নিবন্ধন

এ বছরের ২৭ জুলাই হতে শুরু হচ্ছে ২০২৭ সালের হজের প্রাথমিক নিবন্ধন। ২৪ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত চলবে এ নিবন্ধন কার্যক্রম।  এ সময়ের মধ্যেই হজে গমনেচ্ছু ব্যক্তিদেরকে প্রাথমিক নিবন্ধন সম্পন্ন করতে হবে। ই-হজ সিস্টেমের মাধ্যমে যে কেউ নিবন্ধন করতে পারবেন। অর্থ পরিশোধ করে চূড়ান্ত নিবন্ধন করতে হবে। সৌদি হজ ও ওমরাহ মন্ত্রণালয় কর্তৃক ঘোষিত হজ কার্যক্রমের রোডম্যাপ অনুযায়ী এই সময়সূচি ঘোষণা করেছে ধর্ম বিষয়ক মন্ত্রণালয়। হজে গমনেচ্ছু ব্যক্তিদের অবশ্যই মেয়াদ সম্বলিত পাসপোর্ট থাকতে হবে। জটিল রোগে আক্রান্ত বা শারীরিকভাবে ঝুঁকিপূর্ণ ব্যক্তিরা হজে যেতে পারবেন না। নিবন্ধনের জন্য প্রয়োজনীয় অর্থ: সাড়ে তিন লক্ষ টাকা জমা দিয়ে সরকারি ও বেসরকারি যেকোনো মাধ্যমে হজের প্রাথমিক নিবন্ধন করা যাবে। প্রাথমিক নিবন্ধিত ব্যক্তিদেরকে চলতি বছরের ১০ ডিসেম্বরের মধ্যে প্যাকেজ মূল্যের অবশিষ্ট অর্থ পরিশোধ করে চূড়ান্ত নিবন্ধন করতে হবে। প্রাথমিক নিবন্ধনের পূর্বে হজযাত্রীদের আবশ্যিকভাবে ৩০ হাজার টাকা দিয়ে প্রাক-নিবন্ধন করতে হবে। যে সকল স্থানে নিবন্ধন করা যাবে:  সরকারি মাধ্যমে ই-হজ সিস্টেমে (যধলল.মড়া.নফ) ইউজার তৈরি করে যে কেউ নিজেই নিবন্ধন করতে পারবে। এছাড়া, ইউনিয়ন ডিজিটাল সেন্টার, ইসলামিক ফাউন্ডেশনের বিভাগীয় ও জেলা কার্যালয়, জেলা ও উপজেলা মডেল মসজিদ, ইসলামিক ফাউন্ডেশনের বায়তুল মোকাররম অফিস ও ঢাকা হজ অফিসে হজের নিবন্ধন করা যাবে।  সরকারি মাধ্যমে হজে গমনেচ্ছু ব্যক্তিদেরকে সোনালী ব্যাংকের যেকোনো শাখায় ভাউচারের মাধ্যমে টাকা জমা দিয়ে প্রাথমিক নিবন্ধন করতে হবে।  তবে, বেসরকারি মাধ্যমের হজযাত্রীদেরকে হজ কার্যক্রম সংশ্লিষ্ট ব্যাংকে এজেন্সির নির্ধারিত হিসাবে টাকা জমা দিতে হবে। এজেন্সির ব্যাংক হিসাবের তথ্য হজ পোর্টালে সংশ্লিষ্ট এজেন্সির প্রোফাইলে পাওয়া যাবে।   যে সকল ব্যক্তি হজে যেতে পারবে না: ১৫ বছরের কম বয়সী কেউ হজে যেতে পারবে না। এছাড়া, দুরারোগ্য ব্যাধি যেমন: হৃদযন্ত্র, ফুসফুস, লিভার বা কিডনি রোগ, স্নায়ুবিক বা মানসিক ব্যাধিতে আক্রান্ত ও ডিমনেশিয়া রোগী, কেমোথেরাপি বা বায়োলজিক্যাল থেরাপি বা রেডিওথেরাপি নিচ্ছেনÑ এমন ক্যান্সার আক্রান্ত রোগী হজে যেতে পারবে না।  এছাড়া, জনস্বাস্থ্যের ওপর প্রভাব ফেলে এমন সক্রিয় সংক্রামক রোগ যেমন- যক্ষ্মা ও হেমোরেজিক ফিভারে আক্রান্ত ব্যক্তি হজে যেতে পারবে না। গর্ভাবস্থার শেষ দুই মাস ও ঝুঁকিপূর্ণ গর্ভাবস্থায় কোনো মহিলা হজযাত্রী ফিটনেস সনদ পাবে না। উল্লেখ্য, প্রাথমিক নিবন্ধনের সময় হজযাত্রীদেরকে আবশ্যিকভাবে প্রশিক্ষণ ও টিকা গ্রহণের জেলা, হজের ধরণ ও হজ প্যাকেজ নির্বাচন করতে হবে।  এছাড়া, ২০২৭ সালের ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত মেয়াদ সম্বলিত পাসপোর্ট প্রয়োজন হবে।

২৬ই জুলাই, ২০২৬
মুক্তাদির-আরিফসহ ১৮ মন্ত্রীর পুলিশ এসকর্ট প্রত্যাহার

মুক্তাদির-আরিফসহ ১৮ মন্ত্রীর পুলিশ এসকর্ট প্রত্যাহার

মন্ত্রিসভার ১৮ সদস্যের জন্য দেওয়া পুলিশের বিশেষ প্রোটেকশন এসকর্ট প্রত্যাহার করেছে সরকার। এই তালিকায় রয়েছেন সিলেট থেকে নির্বাচিত দুজন সংসদ সদস্য- বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির এবং প্রবাসীকল্যানমন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরীও। তবে দায়িত্বের গুরুত্ব বিবেচনায় ৬ জ্যেষ্ঠ মন্ত্রী ও প্রধানমন্ত্রীর এক উপদেষ্টার ক্ষেত্রে এই সুবিধা বহাল রাখা হয়েছে। রাষ্ট্রীয় ব্যয় সংকোচন, জ্বালানি সাশ্রয় এবং পুলিশের জনবল ও যানবাহনের সংকট বিবেচনায় এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। গত সপ্তাহে প্রধানমন্ত্রীও নিজের নিরাপত্তা বহরের আকার ছোট করার সিদ্ধান্ত নেন। একাধিক মন্ত্রীর ব্যক্তিগত কর্মকর্তা এবং ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন। তারা জানিয়েছেন, গত সপ্তাহ থেকে ধাপে ধাপে এই সিদ্ধান্ত কার্যকর করা হয়েছে। জানতে চাইলে পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের একজন কর্মকর্তা বলেন, গত সপ্তাহে সরকার মন্ত্রিসভার অনেক সদস্যের পুলিশের বিশেষ প্রোটেকশন এসকর্ট প্রত্যাহার করার আদেশ জারি করেছে। আদেশ জারির দিন থেকেই এই সিদ্ধান্ত কার্যকর করা হয়েছে। এখন মন্ত্রীর শুধু গানম্যান রয়েছে। সরকারি সূত্র জানায়, বর্তমান সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকেই ঢাকায় চলাচলের সময় অধিকাংশ মন্ত্রী পুলিশের বিশেষ প্রোটেকশন এসকর্ট পেয়ে আসছিলেন। বর্তমানে মন্ত্রিসভায় ২৪ জন পূর্ণমন্ত্রী রয়েছেন। এসকর্ট প্রত্যাহার করা হলেও সরকারি বিধি অনুযায়ী সংশ্লিষ্ট মন্ত্রীরা আগের মতোই গানম্যান, হাউস গার্ড এবং ঢাকার বাইরে সফরকালে বিশেষ পুলিশি নিরাপত্তা পাবেন। সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনার পর স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ভিআইপি নিরাপত্তা ব্যবস্থায় ব্যয় কমানোর বিষয়ে পুলিশ সদর দপ্তরকে নির্দেশ দেয়। পাশাপাশি দীর্ঘদিনের জনবল ও যানবাহনের সংকটও এই সিদ্ধান্তের পেছনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে। একজন মন্ত্রীর এসকর্ট দলে সাধারণত একজন উপপরিদর্শক (এসআই) ও চারজন কনস্টেবল থাকেন। তাদের জন্য একটি পুলিশ পিকআপ ভ্যান বরাদ্দ থাকে এবং সদস্যদের বেতন-ভাতা ও যানবাহনের জ্বালানি ব্যয় সরকারি কোষাগার থেকে বহন করা হয়। যেসব মন্ত্রী এখনো পুলিশের প্রোটেকশন এসকর্ট পাচ্ছেন তারা হলেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, অর্থ ও পরিকল্পনা মন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ, বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ, মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রী ডা. আবু জাফর মো. জাহিদ হোসেন, পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান এবং প্রধানমন্ত্রীর অর্থ ও পরিকল্পনা বিষয়ক উপদেষ্টা ড. রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর। অন্যদিকে ধর্মমন্ত্রী কাজী শাহ মোফাজ্জল হোসাইন কায়কোবাদ, পরিবেশ, বন ও জলবায়ু বিষয়ক মন্ত্রী আবদুল আউয়াল মিন্টু, মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রী আহমেদ আযম খান, সংস্কৃতিমন্ত্রী নিতাই রায় চৌধুরী, ভূমিমন্ত্রী মিজানুর রহমান মিনু, বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রী আফরোজা খানম, শিল্প, বস্ত্র, পাট ও বাণিজ্য মন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির, শ্রম ও কর্মসংস্থান এবং প্রবাসীকল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রী আরিফুল হক, তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন, কৃষি, মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রী মোহাম্মদ আমিন উর রশিদ, পানিসম্পদমন্ত্রী মো. শহীদ উদ্দীন চৌধুরী অ্যানি, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রী আসাদুল হাবিব দুলু, আইন, বিচার ও সংসদবিষয়ক মন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান, গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রী জাকারিয়া তাহের, শিক্ষা, প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন, স্বাস্থ্য ও পরিবারকল্যাণ মন্ত্রী সরদার সাখাওয়াত হোসেন, ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রী ফকির মাহবুব আনাম এবং সড়ক পরিবহন, সেতু, রেলপথ ও নৌপরিবহন মন্ত্রী শেখ রবিউল আলমের এসকর্ট প্রত্যাহার করা হয়েছে। ডিএমপির তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে শুধু ঢাকাতেই ৪৯ জন মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রীসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তির নিরাপত্তায় ১ হাজার ৬৯১ জন পুলিশ সদস্য দায়িত্ব পালন করছেন। অথচ প্রয়োজন ২ হাজার ৫৭৫ জন। অর্থাৎ, প্রায় ৯০০ সদস্যের ঘাটতি রয়েছে। এই ঘাটতির কারণে দায়িত্বে থাকা সদস্যদের অতিরিক্ত সময় কাজ করতে হচ্ছে এবং তাদের ওপর শারীরিক ও মানসিক চাপ বাড়ছে। পুলিশ কর্মকর্তারা জানান, জনবল সংকটের পাশাপাশি যানবাহনের অভাবও পরিস্থিতিকে জটিল করে তুলেছে। ২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টের আন্দোলনের সময় বিভিন্ন থানা ও পুলিশ স্থাপনায় হামলায় প্রোটেকশন ইউনিটের বেশ কয়েকটি গাড়ি পুড়ে যায়। ফলে বর্তমানে একটি গাড়ি দিয়ে একাধিক ভিআইপির নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হচ্ছে। এ অবস্থায় সীমিত জনবল ও যানবাহন দিয়েই দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে পুলিশকে হিমশিম খেতে হচ্ছে।

২৬ই জুলাই, ২০২৬
কানাইঘাট যুবকের ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার

কানাইঘাট যুবকের ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার

সিলেটের কানাইঘাট উপজেলার লক্ষীপ্রসাদ পূর্ব ইউনিয়নের মিকিরপাড়া গ্রামে একটি গাছের মগডাল থেকে সৈয়দ আহমদ (শারীফ) (২২) নামের এক যুবকের ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ।   ওই যুবক উপজেলার লক্ষীপ্রসাদ পূর্ব ইউনিয়নের মিকিরপাড়া গ্রামের মৃত কুটু মনির ছেলে। রোববার (২৬ জুলাই) সকালে উপজেলার মিকিরপাড়া গ্রামের একটি গাছের ডালে ঝুলে থাকা অবস্থায় তার মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। পুলিশ ও স্থানীয়রা জানান, রোববার সকালে শারীফের মা বাড়ির পাশের একটি গাছের মগডালে গলায় রশি পেঁচানো অবস্থায় ছেলেকে ঝুলতে দেখেন। পরে তিনি বিষয়টি স্থানীয় ইউপি সদস্য নাজিম উদ্দিনকে জানান। খবর পেয়ে কানাইঘাট থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে স্থানীয়দের সহযোগিতায় গাছের মগডাল থেকে মরদেহটি উদ্ধার করে। কানাইঘাট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আমিনুল ইসলাম বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, মিকিরপাড়া গ্রামের একটি গাছের মগডাল থেকে এক যুবকের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। প্রাথমিকভাবে এটি আত্মহত্যার ঘটনা বলে ধারণা করা হচ্ছে। তবে ময়না তদন্তের রিপোর্ট পাওয়ার পর মৃত্যুর প্রকৃত কারণ জানা যাবে।

২৬ই জুলাই, ২০২৬
সিলেটে পুলিশ ফিরিয়ে দিলো উদ্ধারকৃত আরও মোবাইল ফোন

সিলেটে পুলিশ ফিরিয়ে দিলো উদ্ধারকৃত আরও মোবাইল ফোন

সিলেট মহানগর এলাকায় বিভিন্ন সময় চুরি, ছিনতাই ও হারিয়ে যাওয়া মোবাইল ফোন সেট উদ্ধার করে আরেক দফা প্রকৃত মালিকদের কাছে হস্তান্তর করেছে পুলিশ।  এবার ৪৪টি মোবাইল ফোন সেট ফিরিয়ে দেওয়া হয়েছে। এগুরো উদ্ধার করে ডিবি-সাইবার ক্রাইম ইউনিট।  এসব মোবাইল ফোন সেট রোববার (২৬ জুলাই) প্রকৃত মালিকদের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। সিলেট মেট্রোপলিটন পুলিশ কমিশনার আবদুল কুদ্দুছ চৌধুরী শেষ কর্মদিবসে উদ্ধার করা মোবাইল ফোন সেটগুলো প্রকৃত মালিকদের কাছে হস্তান্তর করেন। লিকদের সাধারণ ডায়েরির (জিডি) ও অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় ডিবির সাইবার ক্রাইম ইউনিট ও জিনিয়া অ্যাপসের মাধ্যমে মোবাইল ফোন সেটগুলো উদ্ধার করা হয়। এসএমপির তথ্যমতে, সিলেট মহানগর এলাকার ছয়টি থানা থেকে পাওয়া সর্বমোট ৫৭০টি জিডি পর্যালোচনা করে ৪৪টি মোবাইল ফোন সেট উদ্ধার করা সম্ভব হয়েছে। মোবাইল ফোন উদ্ধারে পুলিশ কমিশনার গত ২২ ফেব্রুয়ারি টিম গঠন করেন। তারপর থেকে এ পর্যন্ত সর্বমোট ২৭৪টি মোবাইল ফোন উদ্ধার করা হয়েছে। মোবাইল ফোন ফিরে পাওয়া ব্যবহারকারীরা সিলেট মেট্রোপলিটন পুলিশের প্রতি কৃতজ্ঞতা জ্ঞাপন করেন।

২৬ই জুলাই, ২০২৬
১৫ দিনে ২০০ মার্কিন সেনা হত্যার দাবি ইরানের

১৫ দিনে ২০০ মার্কিন সেনা হত্যার দাবি ইরানের

ইরানের সঙ্গে ১৫ দিনের সংঘাতে ২০০ জনেরও বেশি মার্কিন সেনা নিহত হয়েছে বলে দাবি করছে দেশটির ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি)। তারা বলছে, পেন্টাগনের প্রকাশিত হতাহতের তথ্য পুরোটাই ভুল। তাসনিম নিউজ এজেন্সিকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে আইআরজিসির মুখপাত্র হোসেইন মোহেবি বলেন, ‘অপারেশন ভিক্টরি–২’-এ ইরানের পাল্টা হামলায় যুক্তরাষ্ট্রের ক্ষয়ক্ষতি ও হতাহতের সংখ্যা ওয়াশিংটন যেটি প্রকাশ করেছে, প্রকৃত সংখ্যা তার চেয়ে অনেক বেশি। মোহেবির দাবি, আমেরিকার নিহত সেনার সংখ্যা ২০০ জনের বেশি এবং আহতের সংখ্যা আরও অনেক বেশি। তিনি অভিযোগ করে বলেছেন, পেন্টাগন প্রকৃত ক্ষয়ক্ষতির তথ্য গোপন করছে।  মোহেবি চাচ্ছেন, যেসব মার্কিন ঘাঁটিতে ইরান ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছে, সেখানে যুক্তরাষ্ট্র যেন সাংবাদিকদের প্রবেশের অনুমতি দেয়। এতে সঠিক তথ্য প্রমাণিত হয়ে যাবে। আইআরজিসির দাবি, অপারেশন ভিক্টরি–২-এ আটটি মার্কিন সামরিক ঘাঁটিতে হামলা চালানো হয়। এর মধ্যে একটি ঘাঁটির ২০টি স্থাপনা ও বিমান হ্যাঙ্গারে ক্ষেপণাস্ত্র আঘাত হানে। এসব হামলায় ধ্বংস হয়েছে— ১১টি মার্কিন যুদ্ধবিমান ও হেলিকপ্টার, ১৭টি গোয়েন্দা ও অপারেশনাল ড্রোন, একটি এফ-১৫ যুদ্ধবিমান, একটি পি-৮ সামুদ্রিক টহল বিমান, একটি সি-১৭ পরিবহন বিমান এবং আটটি আকাশে জ্বালানি সরবরাহকারী বিমান। এর আগে পেন্টাগন জানিয়েছিল, সংঘাতে ১৮ জন মার্কিন সেনা নিহত হয়েছেন। তবে পরে আন্তর্জাতিক কয়েকটি গণমাধ্যম জানায়, সংশোধিত হিসাবে নিহতের সংখ্যা ১৪ জন। এরমধ্যে কয়েকজনের ছবি ও নাম প্রকাশ করেছিল যুক্তরাষ্ট্র। তবে মার্কিনিদের পক্ষ থেকে এখন পর্যন্ত আইআরজিসির সর্বশেষ দাবির বিষয়ে প্রকাশ্যে কোনো মন্তব্য করেনি। বার্তা সংস্থা রয়টার্সও ইরানের দাবি করা হতাহতের সংখ্যা বা সামরিক সরঞ্জাম ধ্বংসের তথ্য স্বাধীনভাবে যাচাই করতে পারেনি।

২৬ই জুলাই, ২০২৬
বঙ্গভবন ছাড়লেন সাবেক রাষ্ট্রপতি

বঙ্গভবন ছাড়লেন সাবেক রাষ্ট্রপতি

রাষ্ট্রপতির পদ থেকে পদত্যাগের একদিন পর বঙ্গভবন ছাড়লেন মো. সাহাবুদ্দিন। রোববার (২৬ জুলাই) বেলা ২টা ২৫ মিনিটে সপরিবারে বঙ্গভবন ছাড়েন তিনি। বঙ্গভবন থেকে সাবেক রাষ্ট্রপতির গাড়িবহর বের হতে দেখা গেছে। রাষ্ট্রপতির গাড়িসহ আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর ১৮টি গাড়ি এই বহরে রয়েছে। দুপুর থেকেই বিভিন্ন গণমাধ্যমকর্মীরা বঙ্গভবনের সামনে অপেক্ষায় ছিলেন। উৎসুক জনতাও বঙ্গভবনের সামনের রাস্তায় জড়ো হন। দুপুর থেকেই বঙ্গভবনের সামনে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যদের তৎপর দেখা গেছে। রাজধানীর গুলশানের ১২৩ নম্বর সড়কে মো. সাহাবুদ্দিনের বাসায় চলছে পরিচ্ছন্নতার কাজ। গতকাল শনিবার দেখা গেছে বাড়ির নিচতলার বসার জায়গাটি নতুন করে রং করা হয়েছে। পরিষ্কার করা হচ্ছে আসবাবপত্র। মো. সাহাবুদ্দিন রাষ্ট্রপতি হওয়ার আগে বাড়িটির পঞ্চম তলার ফ্ল্যাটে থাকতেন। সাবেক রাষ্ট্রপতির গুলশানের বাড়িটিতেও নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে। সকাল থেকেই পুলিশ, র্যাবসহ বিভিন্ন আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা সেখানে অবস্থান করছেন। বঙ্গভবন ছাড়ার পর সেখানে দাপ্তরিক কার্যক্রম পরিচালনা করবেন ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতি হাফিজ উদ্দিন আহমদ। তবে তিনি জাতীয় সংসদের স্পিকারের সরকারি বাসভবনেই থাকবেন। গত শুক্রবার বিকেলে জাতীয় সংসদের স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদের কাছে স্বাক্ষরযুক্ত পদত্যাগপত্র পাঠান মো. সাহাবুদ্দিন। পদত্যাগপত্র হাতে পাওয়ার পর সংসদ ভবনের শপথকক্ষে সংবাদ সম্মেলন করে বিষয়টি জানান স্পিকার। একই সঙ্গে সংবিধান অনুযায়ী রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব গ্রহণের কথাও ঘোষণা করেন স্পিকার। মেয়াদ শেষ হওয়ার প্রায় পৌনে দুই বছর আগেই রাষ্ট্রপতির পদ ছাড়লেন মো. সাহাবুদ্দিন। অসুস্থতাকে পদত্যাগের কারণ হিসেবে দেখিয়েছেন তিনি। আওয়ামী লীগের মনোনয়নে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হয়ে ২০২৩ সালের ২৪ এপ্রিল দেশের ২২তম রাষ্ট্রপতি হিসেবে শপথ নিয়েছিলেন মো. সাহাবুদ্দিন। রাষ্ট্রপতির মেয়াদ পাঁচ বছর। সে হিসাবে তাঁর মেয়াদ শেষ হওয়ার কথা ছিল ২০২৮ সালের এপ্রিলে। তবে মেয়াদ শেষ হওয়ার প্রায় ২১ মাস আগে বঙ্গভবন ছাড়ছেন তিনি।

২৬ই জুলাই, ২০২৬
আধুনিক ও প্রযুক্তিনির্ভর সেনাবাহিনী গড়তে সরকার বদ্ধপরিকর : প্রধানমন্ত্রী

আধুনিক ও প্রযুক্তিনির্ভর সেনাবাহিনী গড়তে সরকার বদ্ধপরিকর : প্রধানমন্ত্রী

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন, সময়ের চাহিদানুযায়ী আধুনিক এবং প্রযুক্তিনির্ভর সেনাবাহিনী গড়ে তুলতে সরকার বদ্ধপরিকর। রোববার (২৬ জুলাই) ঢাকা সেনানিবাসে সেনাসদর দপ্তরে আয়োজিত ‘সেনাসদর নির্বাচনী পর্ষদ-২০২৬’-এর উদ্বোধনী সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন। প্রধানমন্ত্রী বলেন, বর্তমানে বাংলাদেশ সামুদ্রিক নিরাপত্তা, সীমান্ত নিরাপত্তা, আন্তঃরাষ্ট্রীয় ও আন্তঃসীমান্ত হুমকি, সাইবার ও তথ্যভিত্তিক নিরাপত্তা, দুর্যোগ মোকাবিলা এবং মানবিক সহায়তা কার্যক্রমসহ বহুমাত্রিক ও জটিল নিরাপত্তা চ্যালেঞ্জের সম্মুখীন। ফলে বাংলাদেশের ভৌগোলিক অবস্থান, অর্থনৈতিক সক্ষমতা, জাতীয় নিরাপত্তার প্রয়োজনীয়তা এবং জনগণের প্রত্যাশা ও সহনশীলতাকে বিবেচনায় রেখে প্রতিরক্ষা আধুনিকায়নের একটি বাস্তবসম্মত ও টেকসই মডেল অনুসরণ করা এখন সময়ের দাবি। তারেক রহমান বলেন, ‘সরকারপ্রধান এবং একই সঙ্গে প্রতিরক্ষামন্ত্রী হিসেবে আমার বিশ্বাস, বাংলাদেশের প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার মূল শক্তি কেবল সশস্ত্র বাহিনীর সক্ষমতায় নয়, বরং সমগ্র জাতির ঐক্য, প্রস্তুতি ও সহনশীলতায় নিহিত।’ তিনি বলেন, ‘সে লক্ষ্যেই শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের ধারণার আলোকে একটি আধুনিক নীতিমালা প্রণয়ন করা হবে। যেখানে সশস্ত্র বাহিনী, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী, বেসামরিক প্রশাসন, শিল্প, প্রযুক্তি, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান এবং সাধারণ জনগণ একটি সমন্বিত জাতীয় নিরাপত্তা কাঠামোর অংশ হিসেবে কাজ করবে। এই নীতিমালার উদ্দেশ্য যুদ্ধকে উৎসাহিত করা নয়, বরং সম্ভাব্য যে কোনো সংকট, আগ্রাসন বা দুর্যোগ মোকাবিলায় সদাপ্রস্তুত, স্থিতিশীল এবং আত্মনির্ভরশীল সশস্ত্র বাহিনী গড়ে তোলা, যাতে দেশের সার্বভৌমত্ব, স্বাধীনতা ও জাতীয় স্বার্থ সর্বতোভাবে সুরক্ষিত থাকে।’ উপস্থিত জেনারেলদের উদ্দেশে প্রধানমন্ত্রী বলেন, বর্তমান সময়ে যুদ্ধের ধরণ বদলেছে। নিরাপত্তা মানে কেবল ভৌগোলিক সীমান্ত রক্ষা নয়। এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে সাইবার স্পেস, তথ্যযুদ্ধ, ড্রোন প্রযুক্তি, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা এবং আঞ্চলিক ভূ-কৌশলগত প্রতিযোগিতা। তাই ড্রোন প্রযুক্তি, স্যাটেলাইট নজরদারি, সাইবার এবং ইলেকট্রনিক যুদ্ধের সক্ষমতা বৃদ্ধির মাধ্যমে সরকার প্রতিরক্ষা ব্যবস্থাকে আরও শক্তিশালী করে গড়ে তুলতে চায়। তিনি বলেন, এরই ধারাবাহিকতায় সরকার সশস্ত্র বাহিনীর আধুনিকায়ন ও উন্নয়নের জন্য একটি রূপরেখা প্রণয়নের কাজ করছে। আমাদের লক্ষ্য হলো বাহিনীর ভবিষ্যৎ উন্নয়ন। যেখানে গুরুত্ব পাবে সংখ্যার পরিবর্তে সক্ষমতা, সম্প্রসারণের পাশাপাশি কার্যকারিতা, প্ল্যাটফর্ম বৃদ্ধির পরিবর্তে প্রযুক্তিগত উদ্ভাবন এবং একক বাহিনীকেন্দ্রিক উন্নয়নের পরিবর্তে যৌথতার ওপর গুরুত্বারোপ। তিনি আরো বলেন, সশস্ত্র বাহিনীর উন্নয়নে সরকারের মূল প্রতিপাদ্য বিষয়সমূহ হলো: সুশৃঙ্খল, আধুনিক ও শক্তিশালী সশস্ত্র বাহিনী গঠন, সমন্বিত প্রতিরক্ষা পরিকল্পনা জোরদার, যুগোপযোগী প্রতিরক্ষা নীতি ও কৌশল প্রণয়ন, দেশীয় প্রতিরক্ষা শিল্পের বিকাশ এবং গণতান্ত্রিক সামরিক-বেসামরিক সম্পর্ক সুদৃঢ়করণ। প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘মেধা, যোগ্যতা, দক্ষতা ও সততার মূল্যায়নে যথানিয়মে যোগ্যদের বাছাই করে স্বীকৃতি প্রদানের লক্ষ্যে গঠিত এই সিলেকশন বোর্ডের মাধ্যমেই পদায়ন কিংবা পদোন্নতির ক্ষেত্রে শৃঙ্খলা পুনঃপ্রতিষ্ঠিত হবে। একইসঙ্গে সেনাবাহিনীতে আগামী দিনের দূরদর্শী এবং পেশাদার নেতৃত্বের সুদৃঢ় ভিত্তি স্থাপিত হবে বলে বিশ্বাস করি।’ তিনি বলেন, ‘সেনাবাহিনীর যে কোনো সাফল্যে আমি একধরনের গৌরববোধ করি। আবার সেনাবাহিনীর কোনো নেতিবাচক খবরে অস্বস্তি অনুভব করি।’ প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘ক্যান্টনমেন্ট আমার গভীর আবেগ এবং স্মৃতিময় স্থান। আপনারা জানেন, ঘরে-বাইরে সেনা পরিবেশেই আমার কিশোর ও তারুণ্যের দিনগুলি কেটেছে। ফলে স্বাভাবিকভাবেই সেনাবাহিনীর নিয়ম-শৃঙ্খলা এবং বিধিবিধান সম্পর্কেও আমি অনেকটা ওয়াকিবহাল। এসব কারণে সেনাবাহিনী সম্পর্কে কিছু বলতে গেলে আমি কিছুটা স্মৃতিকাতর হই।’ তিনি বলেন, ‘সেনা পরিবেশে অনুসৃত শৃঙ্খলা এবং নিয়মতান্ত্রিক অনুশাসনের মধ্যেই আমি আমার বাবা-মা এবং একমাত্র ছোট ভাইয়ের সঙ্গে বেড়ে উঠেছি। সেনাবাহিনীকে বরাবরই আমার বৃহত্তর পরিবারের অংশ বলেই মনে করি’। তিনি আরও বলেন, ‘আজকের এই অনুষ্ঠানে স্বাধীনতার ঘোষক, বীর মুক্তিযোদ্ধা শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানকে শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করছি। একজন সেনা কর্মকর্তা হিসেবে স্বাধীনতার ঘোষণা দিয়ে তৎকালীন মেজর জিয়া সেনাবাহিনীকে বাংলাদেশের স্বাধীনতা এবং মুক্তিযুদ্ধের অবিচ্ছেদ্য ইতিহাসে পরিণত করেছেন। নিঃসন্দেহে দেশের সেনাবাহিনীর জন্য এটি একটি গৌরবময় অধ্যায়।’ প্রধানমন্ত্রী বলেন, মুক্তিযুদ্ধে সেনাবাহিনীর গৌরবোজ্জ্বল ভূমিকা থাকলেও স্বাধীনতার পরপরই সেনাবাহিনীর ইমেজ বিনষ্ট এবং সেনাবাহিনীতে অস্থিরতা সৃষ্টির একধরনের অপপ্রয়াস লক্ষ্যণীয় ছিল। সেই অস্থির সময়েও সাবেক সেনাপ্রধান শহীদ লেফটেন্যান্ট জেনারেল জিয়াউর রহমানের দৃঢ় ও দূরদর্শী নেতৃত্বের মাধ্যমেই সেনাবাহিনীতে শৃঙ্খলা ও পেশাদারিত্বের এক নতুন যুগের সূচনা হয়েছিল। তিনি বলেন, ‘স্বাধীনতার সূচনালগ্ন থেকেই সেনাবাহিনীর সদস্যগণ পার্বত্য চট্টগ্রামের নিরাপত্তা ও স্থিতিশীলতা রক্ষায় নিরলসভাবে কাজ করছেন। পার্বত্য ও সীমান্তবর্তী অঞ্চলে চলমান প্রায় ১ হাজার ৩৬ কিলোমিটার দীর্ঘ ‘বর্ডার রোড’ প্রকল্প শুধু সীমান্ত নিরাপত্তাই নিশ্চিত করছে না, বরং দুর্গম এলাকার মানুষের জীবনযাত্রা ও অর্থনৈতিক কার্যক্রমে নতুন সম্ভাবনার দ্বার উন্মোচন করেছে।’ এছাড়া পার্বত্য এলাকায় সেনাবাহিনীর মাধ্যমে ১২শ’ বর্গমিটার এলাকা মাইন ও বিস্ফোরকমুক্ত করার কাজ চলমান রয়েছে জানিয়েছে প্রধানমন্ত্রী বলেন, পার্বত্য চট্টগ্রামে শান্তিরক্ষা ও সন্ত্রাস দমনে নিয়োজিত থেকে শাহাদাতবরণকারী ২১৭ জন বীর সেনা সদস্যের পরিবারের প্রতি আমি গভীর সমবেদনা ও কৃতজ্ঞতা জ্ঞাপন করছি। তিনি বলেন, ‘আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর সুনাম আজ সুপ্রতিষ্ঠিত। জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা মিশনে দক্ষতা, পেশাদারিত্ব ও নিষ্ঠার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করে বাংলাদেশ বিগত বছরগুলোতে সর্বোচ্চ শান্তিরক্ষী প্রেরণকারী দেশ হিসেবে বিশ্বদরবারে বিশেষ গৌরব ও মর্যাদা অর্জন করেছে।’ তারেক রহমান বলেন, সম্প্রতি সেন্ট্রাল আফ্রিকান রিপাবলিক, দক্ষিণ সুদান এবং মালিতে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর সদস্যরা অত্যন্ত দক্ষতা ও পেশাদারিত্বের সঙ্গে দায়িত্ব পালন করে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে দেশের সম্মান সমুন্নত রেখেছেন। তবে এই গৌরবময় অর্জনের পেছনে রয়েছে আত্মোৎসর্গের ইতিহাস। তিনি বলেন, ২০২৫ সালের ১৩ ডিসেম্বর দক্ষিণ সুদানে সংঘটিত ড্রোন হামলায় বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর ছয়জন শান্তিরক্ষী সদস্য শহীদ হন। আমি শহীদদের আত্মার মাগফিরাত কামনা করছি এবং তাঁদের শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা জানাচ্ছি। তারেক রহমান বলেন, ২০২৪ সালের ঐতিহাসিক ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানে এবং ৫ আগস্ট-পরবর্তী সংকটময় মুহূর্তে সেনাবাহিনী যে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করেছে, গণতন্ত্রকামী জনগণ সেটি ইতিবাচকভাবেই মূল্যায়ন করবে বলে বিশ্বাস করি। একই সঙ্গে অন্তর্র্বতীকালীন সরকারের পুরো সময়জুড়ে আইনশৃঙ্খলা রক্ষা, শিল্পাঞ্চলের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা, স্থবির হয়ে পড়া অর্থনীতির চাকা সচল রাখার ক্ষেত্রেও সেনাবাহিনী প্রশংসনীয় ভূমিকা পালন করেছে। তিনি বলেন, ‘গত ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত অবাধ ও নিরপেক্ষ নির্বাচন সম্পন্ন করার ক্ষেত্রে সেনাবাহিনীর অকুণ্ঠ সহায়তা ছিল মূলত গণতান্ত্রিক বিধি-বিধানের প্রতি গভীর প্রাতিষ্ঠানিক বিশ্বাসের অনন্য বহিঃপ্রকাশ। এ ছাড়াও বৈশ্বিক জ্বালানি তেলের সংকটময় পরিস্থিতিতেও তেল সংরক্ষণাগারগুলোতে দক্ষতা ও বিচক্ষণতার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করে পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে সেনাবাহিনী অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে।’ দেশের সার্বভৌমত্ব রক্ষা, পার্বত্য চট্টগ্রামে সন্ত্রাস দমন এবং জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা মিশনে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর ভূমিকা অত্যন্ত প্রশংসনীয় বলে উল্লেখ করেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, দেশের অবকাঠামোগত উন্নয়ন, দুর্যোগ-পরবর্তী উদ্ধার অভিযান এবং জুলাই গণজাগরণ ও বন্যা পরিস্থিতি মোকাবিলাসহ যে কোনো জাতীয় সংকটে সেনাবাহিনী সর্বদা অগ্রণী ভূমিকা পালন করছে। তিনি আরও বলেন, ফ্যাসিস্ট শাসনের সময় দেশের প্রতিটি প্রতিষ্ঠান তাদের পেশাদারিত্ব হারিয়েছিল। সেনাবাহিনীকেও অনাকাঙ্ক্ষিত বিরূপ পরিস্থিতির মুখোমুখি হতে হয়েছিল। বর্তমানে গণতান্ত্রিক পরিবেশে সেনাবাহিনীকে পুনরায় নিজেদের যোগ্যতা, দক্ষতা এবং পেশাদারিত্ব দিয়ে জনগণের আস্থায় থাকতে হবে। প্রধানমন্ত্রী বলেন, পদোন্নতি কিংবা পদায়নের ক্ষেত্রে কিছু সুনির্দিষ্ট নীতিমালা অনুসরণ করলে পেশাদারিত্ব প্রতিষ্ঠার ক্ষেত্রে ‘সেনাসদর সিলেকশন বোর্ড’ যুগান্তকারী ভূমিকা পালন করতে পারে। মেধা এবং যোগ্যতাই হয়ে উঠুক একজন সেনা অফিসারের পদোন্নতি অর্জনের প্রধান মাপকাঠি। তিনি বলেন, পদোন্নতির জন্য একজন অফিসারের শারীরিক যোগ্যতা এবং ফিজিক্যাল এপিয়ারেন্স অন্যতম প্রধান বিবেচ্য বিষয় হওয়া উচিত। ফিজিক্যাল ফিটনেস তথা নিয়মিত শারীরিক কসরতের প্রসঙ্গটি উল্লেখ করতে গিয়ে প্রয়াত মার্কিন জেনারেল ‘নরম্যান সোয়ার্জকফ’-এর একটি মন্তব্য বেশ প্রাসঙ্গিক মনে হয়েছে বলে জানান প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, জেনারেল এইচ নরম্যান সোয়ার্জকফ বলেছিলেন ‘দ্যা মোর ইউ সোয়েট ইন পিস, দ্যা লেস ইউ ব্লিড ইন ওয়্যার।’ তাই সেনাবাহিনীতে নিয়মানুবর্তিতা আর ফিটনেসের ব্যাপারে কোনো পর্যায়েই আপসের সুযোগ নেই। প্রধানমন্ত্রী বলেন, এই নির্বাচন পর্ষদের মাধ্যমে নির্বাচিত কর্মকর্তাগণ ভবিষ্যতে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর সাফল্য, গৌরব ও পেশাদারিত্বের ধারাবাহিকতা আরও সুদৃঢ় করবেন। বর্তমান সরকারের দর্শন হচ্ছে, দেশের স্বার্থ রক্ষায় ‘সবার আগে বাংলাদেশ’। জনগণের স্বার্থ রক্ষায় ‘সবার জন্য বাংলাদেশ’। -বাসস

২৬ই জুলাই, ২০২৬
জানা গেল এসএসসির ফল প্রকাশের সম্ভাব্য তারিখ

জানা গেল এসএসসির ফল প্রকাশের সম্ভাব্য তারিখ

এসএসসি ও সমমান পরীক্ষার ফল পেতে অধীর অপেক্ষায় সাড়ে ১৮ লাখ শিক্ষার্থী। তাদের ফল নিয়ে উদ্বেগ-উৎকণ্ঠায় অভিভাবক-শিক্ষক এবং শুভাকাঙ্ক্ষীরাও। বিশেষ করে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে ফল প্রকাশ না করায় এ উদ্বেগ আরও বাড়ছে। অবশ্য শিক্ষা মন্ত্রণালয় সূত্র বলছে, পরীক্ষার্থীদের এ অপেক্ষা ও অভিভাবকদের উদ্বেগ খুব বেশি দীর্ঘ হবে না। চলতি মাসেই এসএসসি পরীক্ষার ফল প্রকাশ করবে শিক্ষা বোর্ডগুলো। তবে ঠিক কবে ফল প্রকাশ করা হবে, তার দিনক্ষণ এখনো ঠিক করা হয়নি।  শিক্ষা বোর্ড কর্মকর্তারা বলছেন, তারা ২৭ থেকে ২৮ জুলাইয়ের মধ্যে ফল প্রস্তুত করতে কাজ করছেন। আর শিক্ষা মন্ত্রণালয় সূত্র বলছে, ৩০ জুলাই বৃহস্পতিবার এসএসসির ফল প্রকাশের তারিখ নির্ধারণ করা হতে পারে। বাংলাদেশ আন্তঃশিক্ষা বোর্ড সমন্বয় কমিটির সভাপতি ও ঢাকা বোর্ডের চেয়ারম্যান অধ্যাপক সৈয়দ আক্তারুজ্জামান গণমাধ্যমকে বলেন, ‘আমরা ২০ তারিখের (জুলাই) মধ্যে ফল প্রকাশের চেষ্টা করেছিলাম। সেটা সম্ভব হয়নি। এখন ২৭ থেকে ২৮ তারিখের মধ্যে ফল রেডি করে ফেলব। এরপর শিক্ষা মন্ত্রণালয় যেদিন বলবে, সেদিন ফল প্রকাশ করা হবে।’ শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক বিভাগের এক কর্মকর্তা জানান, ‘বোর্ড যদি ২৮ তারিখের মধ্যে ফল প্রস্তুত করে তাহলে চলতি মাসেই ফল প্রকাশ করা সম্ভব। সেটা হতে পারে ৩০ জুলাই।’ তিনি বলেন, ‘২৭ জুলাই নতুন কুঁড়ি ক্রীড়ার উদ্বোধন হবে, প্রধানমন্ত্রী থাকবেন। ওই প্রোগ্রাম নিয়ে এখন মন্ত্রী, সচিবসহ শিক্ষা প্রশাসনে ব্যস্ততা। আবার ৩১ জুলাই শুক্রবার। সে ক্ষেত্রে ৩০ জুলাই ফল প্রকাশের সম্ভাবনা বেশি।’

২৬ই জুলাই, ২০২৬
প্রবাসীদের যে নতুন সুখবর দিলেন মন্ত্রী আরিফ

প্রবাসীদের যে নতুন সুখবর দিলেন মন্ত্রী আরিফ

প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী বলেছেন, বিদেশে গমনেচ্ছু কর্মীদের সুবিধার্থে বর্তমানে প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয় কর্তৃক পরিচালিত 'ওয়েজ আর্নার্স সেন্টার'-এ ৪৯ জনের থাকার ব্যবস্থা রয়েছে। তবে যেকোনো সংকটকালীন মুহূর্তে কিংবা আকস্মিক ফ্লাইট বাতিল হলে প্রবাসীদের ভোগান্তি কমাতে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের নিকটবর্তী হজ্জ ক্যাম্পে প্রবাসীদের জন একশত শয্যা আবাসনের ব্যবস্থা করা হবে। এর মধ্যে পুরুষদের জন্য ৫০টি এবং নারীদের জন্য পৃথক ৫০টি বেড থাকবে। প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের অধীনস্থ 'ওয়েজ আর্নার্স কল্যাণ বোর্ড' সার্বিক অর্থায়ন করবে। রোববার (২৬ জুলাই) সকালে রাজধানীর আশকোনাস্থ 'হজ্জ ক্যাম্প' পরিদর্শনকালে মন্ত্রী এ সবকথা বলেন। বর্তমান সরকারের প্রবাসীবান্ধব নীতির কথা উল্লেখ করে মন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী আরও বলেন, বর্তমান সরকার প্রবাসীদের সুযোগ-সুবিধা বৃদ্ধি করতে সম্পূর্ণ বদ্ধপরিকর। যুদ্ধবিগ্রহ বা বৈরী আবহাওয়াসহ নানা কারণে অনেক সময় ফ্লাইট বিলম্ব বা বাতিল হয়। এমন মুহূর্তে বিমানবন্দরে প্রবাসীরা যে আবাসন সংকটে পড়েন, হজ্জ ক্যাম্পে এই শয্যা ব্যবস্থা প্রবাসীদের সেই দুর্ভোগ অনেকাংশে লাঘব করবে। মন্ত্রী বলেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নির্দেশক্রমে এবং ধর্মমন্ত্রীর প্রস্তবে প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগে একশত শয্যার হজ্জ ক্যাম্পটি নির্মাণ করা হবে। পরিদর্শনকালে অন্যান্যের মধ্যে আরও উপস্থিত ছিলেন, প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. মোখতার আহমেদ, ধর্ম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সচিব মুন্সী আলাউদ্দিন আল আজাদসহ হজ্জ ক্যাম্পের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাবৃন্দ।

২৬ই জুলাই, ২০২৬
জাতীয় স্মৃতিসৌধে ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতির শ্রদ্ধা

জাতীয় স্মৃতিসৌধে ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতির শ্রদ্ধা

মহান মুক্তিযুদ্ধের বীর শহীদদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জানিয়ে জাতীয় স্মৃতিসৌধে পুষ্পস্তবক অর্পণের মধ্য দিয়ে রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ সাংবিধানিক দায়িত্ব পালনের আনুষ্ঠানিক যাত্রা শুরু করলেন ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতি মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন আহমদ (বীর বিক্রম)। রোববার (২৬ জুলাই) বেলা সাড়ে ১১টার দিকে নির্ধারিত রাষ্ট্রীয় কর্মসূচি অনুযায়ী জাতীয় স্মৃতিসৌধে পৌঁছে তিনি প্রথমে শহীদ বেদীতে পুষ্পস্তবক অর্পণ করেন। পরে কিছুক্ষণ নীরবে দাঁড়িয়ে মহান মুক্তিযুদ্ধে আত্মোৎসর্গকারী বীর শহীদদের স্মৃতির প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জানান। এ সময় তিন বাহিনীর একটি চৌকস দল রাষ্ট্রীয় সালাম প্রদান করে এবং বিউগলে করুণ সুর বেজে ওঠে। পরে তিনি স্মৃতিসৌধ প্রাঙ্গণে সংরক্ষিত দর্শনার্থী বইয়ে স্বাক্ষর করেন এবং শহীদদের আত্মার মাগফিরাত ও দেশের শান্তি-সমৃদ্ধি কামনায় বিশেষ মোনাজাতে অংশ নেন। ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতি হিসেবে এটিই ছিল তার প্রথম আনুষ্ঠানিক রাষ্ট্রীয় কর্মসূচি।

২৬ই জুলাই, ২০২৬
শহীদ সাংবাদিক তুরাবের কবর জিয়ারত করলেন বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান

শহীদ সাংবাদিক তুরাবের কবর জিয়ারত করলেন বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান

বিয়ানীবাজারে শহীদ সাংবাদিক এ টি এম তুরাবের কবর জিয়ারত করেছেন জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় নেতা ও বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমীর ডা. শফিকুর রহমান।  রোববার (২৬ জুলাই) সকালে বিয়ানীবাজার পৌর শহরের ফতেহপুরস্থ কবরস্থানে গিয়ে তিনি জিয়ারত ও দুআ করেন। এসময় ডা. শফিকুর রহমান শহীদ সাংবাদিক তুরাবের বড় ভাই আবু আজরফ মো. জাবুর ও পরিবারের সদস্যদের প্রতি গভীর সমবেদনা জানান।  জিয়ারত শেষে তিনি বলেন, "শহীদ সাংবাদিক তুরাবদের রক্তের বিনিময়েই আজ দেশ ফ্যাসিজম মুক্ত হয়েছে।" কবর জিয়ারতকালে উপস্থিত ছিলেন, মহানগর জামায়াতের আমীর ফখরুল ইসলাম, জেলা জামায়াতের আমীর মাওলানা হাবিবুর রহমান, জেলা সেক্রেটারি জয়নাল আবেদীন, সমাজসেবা সম্পাদক মাওলানা ফয়জুল ইসলাম, উপজেলা জামায়াতের আমীর মোস্তফা উদ্দিন, নায়েবে আমীর আবুল খায়ের, পৌর জামায়াতের আমীর জমির হোসাইন, নায়েবে আমীর সৈয়দ আবু কয়ছর কাজল, সেক্রেটারি ছাদ উদ্দিন ও উপজেলা জামায়াতের অ্যাসিস্ট্যান্ট সেক্রেটারি রুকন উদ্দিন। এছাড়াও আরও উপস্থিত ছিলেন, বিয়ানীবাজার প্রেস ক্লাবের সহ-সভাপতি আব্দুল হামিদ, দপ্তর সম্পাদক আহমদ রেজা চৌধুরী, উপজেলা শিবিরের সভাপতি আব্দুল মুমিন ও বিয়ানীবাজার সরকারি কলেজ শিবিরের সভাপতি আবু সাইদ প্রমুখ। উল্লেখ্য, তুরাবের কবর জিয়ারতের আগে বিরোধীদলীয় নেতা তাঁর মরহুম শ্বশুর ডা. আজিজুর রহমানসহ অন্যান্যদের কবর জিয়ারত ও দুআ করেন।

২৬ই জুলাই, ২০২৬
চা শ্রমিক আশালতার ওপর হামলাকারিদের বিচারের দাবিতে হবিগঞ্জে মানববন্ধন

চা শ্রমিক আশালতার ওপর হামলাকারিদের বিচারের দাবিতে হবিগঞ্জে মানববন্ধন

হবিগঞ্জের চুনারুঘাটের দেউন্দি চা বাগানের শ্রমিক আশালতা গোয়ালার (৬০) ওপর নৃশংস হামলার ঘটনায় জড়িতদের দ্রুত গ্রেফতার, সুষ্ঠু বিচার এবং দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতে মানববন্ধন করেছেন চা শ্রমিকরা। শনিবার (২৫ জুলাই) সকাল ১১টায় দেউন্দি চা বাগানের ফ্যাক্টরির সামনে আয়োজিত মানববন্ধনে বাগানের নারী-পুরুষসহ বিপুলসংখ্যক চা শ্রমিক অংশ নেন। মানববন্ধনে বক্তারা বলেন, আশালতা গোয়ালার ওপর সংঘটিত নৃশংস হামলার ঘটনায় দায়ীদের দ্রুত আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে। তারা অভিযোগ করেন, এ ধরনের বর্বরোচিত ঘটনার সুষ্ঠু বিচার না হলে শ্রমিকদের মধ্যে নিরাপত্তাহীনতা আরও বৃদ্ধি পাবে। তাই নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে দ্রুত বিচার সম্পন্ন করার জন্য সংশ্লিষ্ট আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর প্রতি আহ্বান জানান তারা। এ সময় অংশগ্রহণকারীরা বিভিন্ন প্রতিবাদী প্ল্যাকার্ড ও স্লোগান প্রদর্শন করেন। প্ল্যাকার্ডে লেখা ছিল— “আশালতার বিচার চাই”, “বিচার চাই, প্রতিশোধ নয়”, “দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক বিচার চাই” এবং “দোষীদের দ্রুত গ্রেপ্তার করতে হবে”। মানববন্ধনে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ চা শ্রমিক ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক নিপেন পাল, নারী সংগঠনের নেত্রী খাইরুন আক্তার, চা শ্রমিক প্রতিনিধি উজ্জ্বল দাশ, ইউপি সদস্য কার্তিক বাক্তি এবং লস্করপুর ভ্যালির ছাত্র, যুবক ও নারী চা শ্রমিকরা।

২৬ই জুলাই, ২০২৬
সিলেটজুড়ে র‌্যাবের অভিযান, জালে ৯ জন

সিলেটজুড়ে র‌্যাবের অভিযান, জালে ৯ জন

সিলেট বিভাগজুড়ে অভিযান চালিয়ে অনলাইন জুয়াড়ি, বিপুল পরিমাণ মাদকদ্রব্যসহ ব্যবসায়ী এবং হত্যা মামলার দুই আসামিসহ মোট ৯ জনকে গ্রেফতার করেছে এলিট ফোর্স র‍্যাপিড এ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র‍্যাব)। সিলেট মেট্রোপলিটন এলাকার শাহপরাণ ও দক্ষিণ সুরমা এবং যৌথ অভিযানে নেত্রকোনা থেকে তাদের গ্রেফতার করা হয়। শাহপরাণে চার অনলাইন জুয়াড়ি গ্রেফতার : শনিবার (২৫ জুলাই) সন্ধ্যায় র‍্যাব-৯, সদর কোম্পানীর একটি আভিযানিক দল সিলেট নগরীর শাহপরাণ (রহ.) থানাধীন ৩৩ নম্বর ওয়ার্ডের খাদিম চৌমহনী পয়েন্ট এলাকায় অভিযান চালায়। গোপন সংবাদের ভিত্তিতে চালানো এ অভিযানে অনলাইন জুয়া খেলার চক্রের ৪ সদস্যকে আটক করা হয়। গ্রেফতারকৃতরা হলেন- বিমানবন্দর থানার খাদিম চা বাগান এলাকার দীপ্ত চাষা (২১), অজয় কল (২৬), পাপলু তন্তবায় (২৬) এবং অন্তর নায়েক (২০)। র‍্যাব জানায়, আসামিরা বিভিন্ন অনলাইন জুয়ার অ্যাপস ব্যবহার করে দীর্ঘদিন ধরে জুয়া খেলে আসছিল। তাদের কাছ থেকে উদ্ধার করা ৪টি স্মার্টফোনে জুয়া খেলার প্রচুর আলামত পাওয়া গেছে। তাদের বিরুদ্ধে জুয়া প্রতিরোধ আইন, ২০২৬ অনুযায়ী মামলা দায়ের করে শাহপরাণ থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে। দক্ষিণ সুরমায় মাদকসহ ৩ কারবারি আটক : শনিবার দিবাগত (২৬ জুলাই) রাত সাড়ে ১২টার দিকে র‍্যাব-৯ এর আরেকটি দল দক্ষিণ সুরমার ভার্থখলা মসজিদ মার্কেটের পেছনে নদীর তীরে অভিযান পরিচালনা করে। সেখান থেকে ২৯০ পিস ইয়াবা ট্যাবলেট ও ১.৫৫ কেজি গাঁজাসহ ৩ মাদক ব্যবসায়ীকে গ্রেফতার করা হয়। গ্রেফতারকৃতরা হলেন- দক্ষিণ সুরমার ভার্থখলা এলাকার মো. আকবর হোসেন (৩৮), হবিগঞ্জের চুনারুঘাট এলাকার মো. মোতালিব মিয়া (২২) এবং ময়মনসিংহের ভালুকা এলাকার মো. সাহিন (৩০)। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে গ্রেফতারকৃতরা জানায়, তারা সীমান্তবর্তী এলাকা থেকে ইয়াবা ও গাঁজা সংগ্রহ করে বিক্রয়ের উদ্দেশ্যে নিজেদের জিম্মায় রেখেছিল। তাদের বিরুদ্ধে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইন, ২০১৮ অনুযায়ী মামলা দিয়ে দক্ষিণ সুরমা থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে। কুমিল্লার ক্লুলেস হত্যা মামলার আরও ২ আসামি নেত্রকোনা থেকে গ্রেফতার : ব্যবসায়িক বিরোধের জেরে কুমিল্লার বুড়িচংয়ে আগুনে পুড়িয়ে এনামুল হক (২৯) নামের এক ব্যবসায়ীকে হত্যার ঘটনায় জড়িত ২ আসামিকে গ্রেফতার করেছে র‍্যাব। শনিবার দিবাগত (২৬ জুলাই) রাত ৩টার দিকে র‍্যাব-৯ (শ্রীমঙ্গল ক্যাম্প) ও র‍্যাব-১৪ (ময়মনসিংহ) যৌথ অভিযান চালিয়ে নেত্রকোনার কেন্দুয়া থানার দলপা এলাকা থেকে তাদের গ্রেফতার করে। গ্রেফতারকৃতরা হলেন- নেত্রকোনার কেন্দুয়া উপজেলার বেখৈরহাটী এলাকার কনক মিয়া ও তার স্ত্রী সাগরিকা হিজরা। জানা যায়, ব্যবসায়িক বিরোধের জেরে গত ১৩ মে আসামিরা এনামুলকে ডেকে নিয়ে বুড়িচংয়ের একটি টিনশেড ঘরে হাত-পা বেঁধে গায়ে কেরোসিন ঢেলে আগুন ধরিয়ে দেয়। পরবর্তীতে ঢাকা জাতীয় বার্ন অ্যান্ড প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ১৭ মে তিনি মারা যান। এ ঘটনায় নিহতের বাবা বুড়িচং থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেন। এদিকে, গতরাতে গ্রেফতারের পর দুই আসামিকে সংশ্লিষ্ট থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে। এর আগে ১০ জুলাই এই মামলার এজাহারনামীয় ১ জন আসামিকে গ্রেফতার করেছিল র‍্যাব-৯।

২৬ই জুলাই, ২০২৬
শ্রীমঙ্গলে রিসোর্টে তরুণ-তরুণীর গোপন ভিডিও করে ব্ল্যাকমেল চেষ্টার অভিযোগ

শ্রীমঙ্গলে রিসোর্টে তরুণ-তরুণীর গোপন ভিডিও করে ব্ল্যাকমেল চেষ্টার অভিযোগ

মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গল উপজেলার রাধানগর এলাকার একটি রিসোর্টে অতিথির গোপনীয়তা লঙ্ঘন ও ছবি পাঠিয়ে ব্ল্যাকমেলের অভিযোগ নিয়ে উত্তেজনা ও মারামারির ঘটনা ঘটেছে। এ ঘটনার পর বিতর্কিত সেই রিসোর্টটির নাম পরিবর্তন করা হয়েছে। অভিযোগ উঠেছে, ‘মেঘ মালতি’ নামের ওই রিসোর্টে অবস্থান করা এক যুবকের হোয়াটসঅ্যাপে আপত্তিকর ছবি পাঠিয়ে টাকা দাবি করা হয়। তবে রিসোর্ট কর্তৃপক্ষের দাবি, তাদের বিরুদ্ধে ওঠা ব্ল্যাকমেলের অভিযোগ ভিত্তিহীন এবং উল্টো ওই যুবক সঙ্গীদের নিয়ে এসে রিসোর্ট কর্মীদের মারধর ও অর্থ দাবি করেছেন। এমন পরিস্থিতিতে রিসোর্টটির নাম ‘মেঘ মালতি’ থেকে পরিবর্তন করে ‘বেলা শেষে’ রাখা হয়েছে। ঘটনার বিবরণে জানা গেছে, গত ৮ জুলাই মৌলভীবাজারের বাসিন্দা অপূর্ব সূত্রধর নামে এক যুবক এক তরুণীকে নিয়ে ওই রিসোর্টের ১০১ নম্বর কক্ষে ওঠেন। সেখানে তাঁরা বেলা ১২টা থেকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত অবস্থান করেন। অপূর্ব সূত্রধরের অভিযোগ, রিসোর্ট ত্যাগ করার পর তাঁর হোয়াটসঅ্যাপে তাঁদের আপত্তিকর ছবি পাঠিয়ে দফায় দফায় টাকা দাবি করা হয়। পরদিন ৯ জুলাই অপূর্ব বেশ কয়েকজন যুবককে সঙ্গে নিয়ে বিষয়টি সমাধান করতে ওই রিসোর্টে যান। সেখানে রিসোর্ট ব্যবস্থাপক মো. জাহাঙ্গীর আলমের সঙ্গে কথা বলার একপর্যায়ে উভয় পক্ষের মধ্যে তর্কাতর্কি ও মারামারি শুরু হয়। অপূর্বের দাবি- একটি নির্দিষ্ট নম্বর থেকে ছবি পাঠিয়ে তাঁর কাছে ১ লাখ ৬০ হাজার টাকা দাবি করা হয়েছিল। তবে পরবর্তীতে প্রশাসনের উপস্থিতিতে উভয় পক্ষ আলোচনায় বসলে তিনি টাকা দেননি বলে জানান। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, যে নম্বর থেকে হোয়াটসঅ্যাপে ছবি ও ভিডিও পাঠিয়ে টাকা দাবি করা হয়েছিল, সেটি জেরিন চা বাগানের ‘নাসির’ নামে এক যুবকের। তিনি ওই রিসোর্টে কাজ করতেন। ঘটনার পর থেকে নাসির আত্মগোপনে রয়েছেন এবং তাঁর মোবাইল নম্বর বন্ধ পাওয়া যাচ্ছে। রিসোর্টের ব্যবস্থাপক মো. জাহাঙ্গীর আলম ব্ল্যাকমেলের অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, ‘৯ জুলাই অপূর্ব এসে একটি স্ক্রিনশট দেখিয়ে ব্ল্যাকমেলের কথা বলেন। আমরা আলোচনার প্রস্তাব দিলে তারা এসে আমাদের গালাগাল ও মারধর শুরু করেন। একপর্যায়ে ১ লাখ ৬০ হাজার টাকা দাবি করেন। তবে পরে স্থানীয়দের উপস্থিতিতে টাকা দেয়নি বলে স্বীকার করে।’ রিসোর্টের নাম পরিবর্তনের বিষয়ে ব্যবস্থাপক জানান, তিনি বাড়িতে থাকার সময় মালিকপক্ষ নামটি পরিবর্তন করেছে। এদিকে ঘটনার বিষয়ে জানতে চাইলে অপূর্ব সূত্রধর বলেন, ‘বিষয়টি নিয়ে এখন পরিবারের আত্মীয়রা কথা বলছেন। পূর্বে মিডিয়ার সামনে আমি যা বলার বলেছি। এ নিয়ে আমার নতুন করে কিছু বলার মানসিকতা নেই।’ তবে তিনি থানায় কোনো লিখিত অভিযোগ করেননি বলে জানান। ঘটনাস্থলে উপস্থিত রাধানগর ট্যুরিজম এন্টারপ্রেনার অ্যাসোসিয়েশনের সহসভাপতি তাপস দাশ বলেন, ‘আমরা প্রশাসন ও পুলিশ নিয়ে ঘটনাস্থলে গিয়ে বিস্তারিত তদন্তের দাবি জানিয়েছি। অপূর্ব যে ছবিটি দেখিয়েছিলেন, সেটির দেয়ালের রঙের সঙ্গে রিসোর্টের দেয়ালের মিল নেই। ছবিটিকে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই দিয়ে তৈরি বলে মনে হয়েছে।’ শ্রীমঙ্গল ট্যুরিস্ট পুলিশ জোনের ইনচার্জ মো. কামরুল হোসেন চৌধুরী জানান, ঘটনার দিন পুলিশ পৌঁছানোর পর স্থানীয়দের উপস্থিতিতে একটি আপসনামার মাধ্যমে বিষয়টি সমাধান করা হয়। সেখানে কোনো পক্ষ চাইলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার সুযোগ রাখা হয়েছে। শ্রীমঙ্গল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সরকার আব্দুর রাজ্জাক বলেন, ‘এ ঘটনায় লিখিত বা মৌখিক কোনো অভিযোগ পাওয়া যায়নি। অপূর্ব নামের ওই যুবকের সঙ্গে কথা বললে তিনি জানিয়েছেন এটি একটি ভুল-বোঝাবুঝি ছিল এবং তাঁর কোনো অভিযোগ নেই।’ 

২৬ই জুলাই, ২০২৬
সচিত্র সিলেট এর ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক  কবি  সৈয়দ আছলাম হোসেনকে ফুলেল শুভেচ্ছা

সচিত্র সিলেট এর ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক কবি সৈয়দ আছলাম হোসেনকে ফুলেল শুভেচ্ছা

গনপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার  অনুমোদিত বেসরকারি স্বেচ্ছাসেবী সমাজকল্যাণ সংস্থা‘ সুবাস’ এর প্রতিষ্ঠাতা ও নির্বাহী পরিচালক, যুব উন্নয়ন অধিদপ্তরের নিবন্ধিত ‘সুবাস যুব সংস্থা ‘জকিগন্জ এর প্রধান উপদেষ্টা,  কারিগরি আইসিটি বাংলাদেশ এর সদস্য,   মাসিক শাহজালাল পত্রিকার সাহিত্য সম্পাদক, গ্রামবাংলা যুব উন্নয়ন সংস্থা এর সাধারণ সম্পাদক , কেন্দ্রীয় মুসলিম সাহিত্য সংসদ এর জীবন সদস্য,  সিলেট মোবাইল পাঠাগার এর জীবন সদস্য,  কেন্দ্রীয় হাওর সাহিত্য গনপাঠাগার সুনামগঞ্জ এর জীবন সদস্য, বহুগ্রন্থপ্রণেতা বিশিষ্ট কবি ও কলামিস্ট সৈয়দ আছলাম হোসেন গণতন্রের মুখপত্র  দৈনিক সচিত্র সিলেট পত্রিকার ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক নিযুক্ত হওয়ায় ফুলেল শুভেচ্ছা জানিয়েছেন সড়কের বাজার মহিলা কলেজ বাস্তবায়ন কমিটির  নেতৃবৃন্দ।  এ সময় উপস্থিত ছিলেন কলেজ বাস্থবায়ন কমিটির সভাপতি, সিলেট ডেভেলপমেন্ট ফাউন্ডেশন এর প্রতিষ্ঠাতা বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ রোটারিয়ান এস এম জাহাঙ্গীর আলম এবং সড়কের বাজার মহিলা কলেজের বাস্তবায়ন কমিটির সাধারণ সম্পাদক, বিশিষ্ট সাংবাদিক মিসবাহুল ইসলাম চৌধুরী।   শুক্রবার  (২৪  জুলাই) দিনগত রাত ১০ টায় সিলেটের  জে আর   ট্রেভেল্স এ অনুষ্ঠিত ফুলেল  শুভেচ্ছা প্রদান  অনুষ্ঠানে বক্তারা বলেন,  নবনিযুক্ত ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক এর আন্তরিক প্রচেষ্টায়  দৈনিক সচিত্র সিলেট পত্রিকাটি সুনামের সাথে আরো এগিয়ে যাবে বলে আমাদের  বিশ্বাস।  উপস্থিত সবাই প্রত্রিকার সফলতা এবং   সম্পাদক ও প্রকাশকের সুস্বাস্থ্য ও দীর্ঘায়ু কামনা করেন।

২৫ই জুলাই, ২০২৬
‘হাসপাতাল নয়, যেন উত্তর কোরিয়ায় আছি’ সোনম ওয়াংচুক

‘হাসপাতাল নয়, যেন উত্তর কোরিয়ায় আছি’ সোনম ওয়াংচুক

ভারতের সফদারজং হাসপাতালে চিকিৎসা চলাকালীন ‘বন্দির মতো’ রাখা হয়েছিল বলে অভিযোগ করেছেন দেশটির পরিবেশ আন্দোলনকর্মী ও বিজ্ঞানী সোনম ওয়াংচুক। ১৮ জুলাই ভোরে চিকিৎসকদের পরামর্শ ও দিল্লি হাইকোর্টের নির্দেশিকা উল্লেখ করে তাকে দিল্লির যন্তর-মন্তর থেকে পুলিশ ‘জোরপূর্বক’ হাসপাতালে নিয়ে যায়।  ৫৯ বছর বয়সি এই আন্দোলনকারী দেশটির ব্যঙ্গাত্বক রাজনৈতিক দল ‘কাকরোচ জনতা পার্টি’ (সিজেপি)-র সমর্থনে গত ২৮ জুন থেকে অনশন শুরু করেছিলেন।  শুক্রবার (২৪ জুলাই) গভীর রাতে একটি ভিডিওবার্তায় ওয়াংচুক বলেন, ‘এটি কেবল একটি হাসপাতাল ছিল না; এটি ছিল একটি ক্যান্টনমেন্ট, একটি কারাগার। আমাকে এমনভাবে রাখা হয়েছিল যেভাবে হয়তো কোনো বন্দিকেও রাখা হয় না।’  পরে দিল্লি হাইকোর্টের অনুমতি নিয়ে মঙ্গলবার তাকে গুরুগ্রামের মেদান্তা হাসপাতালে স্থানান্তরিত করা হয়। সেখান থেকেই ২৪ মিনিটের ভিডিওতে তিনি বলেন, ‘সবকিছুর ওপর নিষেধাজ্ঞা ছিল। আমি ঘরের বাইরে এক পা ফেলার অনুমতি পাইনি। আমাদের ঘরের কাছে একটা পাখিও ডানা মেলতে পারেনি। কারো সঙ্গে দেখা করার অনুমতি ছিল না, কেবল তিনজন আত্মীয়কে থাকার অনুমতি দেওয়া হয়েছিল।’  লাদাখের এই সমাজকর্মী আরও দাবি করেন যে, তাকে মোবাইল ফোন বা ল্যাপটপ কাছে রাখতে দেওয়া হয়নি। তিনি জানান, সমর্থকদের জন্য তিনি কোনোমতে কাগজের ন্যাপকিনে নোট লিখে পাঠাতেন, তবে কখনো কখনো সেগুলোও বাজেয়াপ্ত করা হতো।  পরিস্থিতির বর্ণনা দিতে গিয়ে তিনি বলেন, ‘মনে হচ্ছিল যেন উত্তর কোরিয়ায় আছি।’  মেদান্তা হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার অনুমতি পাওয়ার পরও বেশ কয়েক ঘণ্টা তাকে সফদারজং হাসপাতাল থেকে বের হতে বাধা দেওয়া হয় বলে তিনি অভিযোগ করেন। পরে বেসরকারি হাসপাতাল মেদান্তাকেও একটি ‘ক্যান্টনমেন্টে’ পরিণত করা হয় বলে দাবি করেন তিনি।  তিনি জানান, তার ঘরের বাইরে প্রায় পাঁচ থেকে ১০ জন এবং নিচে দুই থেকে তিনশ পুলিশ কর্মী মোতায়েন ছিল। ‘পুরো হাসপাতালটিকে এক ধরণের ক্যান্টনমেন্ট বা সামরিক ক্যাম্পে রূপান্তর করা হয়েছিল। এখানেও কারো সঙ্গে দেখা করার অনুমতি ছিল না। বের হওয়ার ক্ষেত্রে এখনো নানা নিষেধাজ্ঞা রয়েছে।’  অন্যদিকে, শনিবার (২৫ জুলাই) সকালে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্স-এ (সাবেক টুইটার) পুলিশি পাহারা নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেন তার স্ত্রী গীতাঞ্জলি অ্যাংমো।  তিনি লেখেন, ‘সফদারজং এবং মেদান্তা—উভয় হাসপাতালেই চারপাশে পুলিশ। প্রধান ফটক, রিসেপশন, লিফ্ট থেকে শুরু করে সোনম ওয়াংচুকের আইসিইউর বাইরেও তারা রয়েছে। সোনমের সঙ্গে কে দেখা করতে পারবে আর কে পারবে না, তা পুলিশ ঠিক করছে। আদালত যদি স্পষ্ট করে থাকে যে তিনি কোনো আটক বন্দি নন, তবে কোন কর্তৃত্ববলে এমনটা ঘটছে?’  প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষায় অনিয়ম, শিক্ষা ব্যবস্থার সংস্কার এবং শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগের দাবিতে যন্তর মন্তরে সিজেপি-র আন্দোলনের সমর্থনে গত ২৮ জুন থেকে অনির্দিষ্টকালের জন্য অনশনে বসেছিলেন সোনম ওয়াংচুক।  বৃহস্পতিবার গভীর রাতে কেন্দ্র সরকারের লিখিত আশ্বাস পাওয়ার পর তিনি তার অনশন ভঙ্গ করেন। সরকার লিখিতভাবে আশ্বাস দিয়েছে যে, সোমবার সিজেপি-র ‘সংসদ চলো’ অভিযানে অংশ নেওয়া আন্দোলনকারীদের বিরুদ্ধে কোনো মামলা করা হবে না, শিক্ষা সংস্কার ও প্রশ্নফাঁস নিয়ে সংসদে বিস্তারিত আলোচনা হবে এবং নিট পরীক্ষার প্রশ্নফাঁস কেন্দ্রিক ছাত্র আত্মহত্যার শিকার পরিবারগুলোকে ক্ষতিপূরণ দেওয়ার বিষয়টিও বিবেচনায় রাখা হবে।  সূত্র: এনডিটিভি

২৫ই জুলাই, ২০২৬
জনগণের ভালোবাসাই আমার পথচলার শক্তি : কয়েস লোদী

জনগণের ভালোবাসাই আমার পথচলার শক্তি : কয়েস লোদী

সিলেট সিটি কর্পোরেশনের ৪ বারের নির্বাচিত কাউন্সিলর, সাবেক প্যানেল মেয়র, মহানগর বিএনপির ভারপ্রাপ্ত সভাপতি রেজাউল হাসান কয়েস লোদী নবগঠিত সিলেট উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান নিযুক্ত হওয়ায় তাঁকে এক সংবর্ধনা প্রদান করা হয়েছে। শুক্রবার (২৪ জুলাই) দিনগত রাতে সিলেটের ২৭নং ওয়ার্ডের গোটাটিকর এলাকাবাসীর উদ্যোগে এই সংবর্ধনা অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। সংবর্ধনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে সিলেট উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান রেজাউল হাসান কয়েস লোদী বলেন, “জনগণের ভালোবাসা ও বিশ্বাসই আমার রাজনীতি ও পথচলার প্রধান শক্তি।” তিনি সিলেটের সর্বাঙ্গীন উন্নয়ন ও নাগরিক সেবা নিশ্চিতকরণে সর্বাত্মক ভূমিকা রাখার অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন। গোটাটিকর কেন্দ্রীয় জামে মসজিদের মুতাওয়াল্লী হাজী তুরণ মিয়ার সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানটি যৌথভাবে পরিচালনা করেন মনজুর আহমদ চৌধুরী ও লিমন আহমদ। অনুষ্ঠানের শুরুতে পবিত্র কোরআন থেকে তেলাওয়াত করেন আরিজ আহমদ। সভায় এলাকাবাসীর পক্ষে স্বাগত বক্তব্য রাখেন ২৭নং ওয়ার্ড বিএনপির সাধারণ সম্পাদক নজরুল ইসলাম। সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন মহানগর বিএনপির সহ-সাধারণ সম্পাদক মুর্শেদ আহমদ মুকুল। অনুষ্ঠানে অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন গোটাটিকর কেন্দ্রীয় জামে মসজিদের সহ-সাধারণ সম্পাদক চুনু চৌধুরী, ক্যাশিয়ার জাবু আহমদ, মহানগর বিএনপির উপদেষ্টা লুৎফুর রহমান, ২৭নং ওয়ার্ড বিএনপির সভাপতি নাজিম উদ্দিন, কাউন্সিলর পদপ্রার্থী বাবর আহমদ, শ্রমিক নেতা ইউনুস আহমদ, আব্দুল মুকিত ভুলু, মইন উদ্দিন, মুজিবুর রহমান মুকুল, মুজিব আহমদ, নুরউদ্দিন কন্টাই, ছদরুল মিয়া, সেলিম আহমদ, মাসুক মিয়া, আব্দুল কাদির, সোহেল আহমদ, জয়নাল আহমদ, শঙ্কু আচার্য, কালিদাস আচার্য, বাচ্চু আচার্য, আব্দুল হাসিব, উজ্জল রঞ্জন চন্দ, শাহরিয়ার মুর্শেদ খান শাকিল, খছরুজাম্মান খছরু, রাসেল চৌধুরী, জাবেদ আহমদ, কবির আহমদ, গুলজার আহমদ, শাহিন আহমদ, জুয়েল আহমদ, ছায়েম আহমদ, ফখরুল ইসলাম, রফিকুজাম্মান রফিক, শফি আহমদ, সৌরভ আহমদ, আফজল খান, আবেদ আহমদ, ওবায়দুর রহমান মাহিন, জুবের আহমদ, নাহিদ চৌধুরী, নাদির আহমদ, সাজু আহমদ, ফয়েজ আহমদ, জাকির আহমদ, শাকিল আহমদসহ এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ ও সর্বস্তরের জনগণ।

২৫ই জুলাই, ২০২৬
মজুরি বৃদ্ধির দাবিতে সিলেটে চা-শ্রমিকদের সড়ক অবরোধ

মজুরি বৃদ্ধির দাবিতে সিলেটে চা-শ্রমিকদের সড়ক অবরোধ

দৈনিক মজুরি ৫০০ টাকা নির্ধারণ, ৫% মূল্যবৃদ্ধির বিতর্কিত গেজেট বাতিল, ভূমির মালিকানা প্রদান এবং চা-শ্রমিক ইউনিয়নের (সিবিএ) নির্বাচনের দাবিতে রাজপথে নেমেছেন সিলেটে চা-শ্রমিকরা।  শনিবার (২৫ জুলাই) সকাল সাড়ে ৯টায় চা-শ্রমিক ট্রেড ইউনিয়ন কেন্দ্র'র উদ্যোগে সিলেটের খাদিম চা-বাগানে এক বিশাল বিক্ষোভ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়।  সমাবেশ চলাকালে শ্রমিকরা দুই ঘণ্টা কর্মবিরতি পালন করেন এবং সিলেট-তামাবিল মহাসড়ক অবরোধ করেন। চা-শ্রমিক ট্রেড ইউনিয়ন কেন্দ্রের সভাপতি সবুজ তাঁতীর সভাপতিত্বে ও সংগঠনের সমন্বয়ক মনীষা ওয়াহিদের সঞ্চালনায় আয়োজিত সমাবেশে বক্তব্য রাখেন, সংগঠনের প্রধান সমন্বয়ক এস এম শুভ, উপদেষ্টা সৈয়দ ফরহাদ হোসেন, দপ্তর সম্পাদক দীপ্ত নায়েক ও বুরজান চা-কারখানার শ্রমিকনেতা সুশান্ত চাষা প্রমুখ।  সমাবেশে বক্তারা চরম ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, বর্তমান দ্রব্যমূল্যের উর্ধ্বগতির সাথে চা-শ্রমিকদের বর্তমান মজুরি কাঠামো অত্যন্ত অমানবিক। প্রতি বছর মাত্র ৮ টাকা করে মূল্য বৃদ্ধি চা-শ্রমিকদের সাথে এক ধরনের প্রহসন ও তামাশা। বর্তমানে নির্ধারিত দৈনিক মাত্র ১৮৭ টাকা মজুরিতে পরিবার নিয়ে বেঁচে থাকা অসম্ভব হয়ে পড়েছে। বেঁচে থাকার জন্য সম্মানজনক ন্যায্য মজুরি আজ দেশের প্রতিটি চা-শ্রমিকের প্রাণের দাবি। ভূমির অধিকার বিষয়ে বক্তারা আরও বলেন, এই ভূখণ্ডে চা-শ্রমিকদের বসবাসের ২০০ বছর হতে চললেও তারা আজও ভূমিহীন। ভূমির নিজস্ব মালিকানা না থাকায় নাগরিক সকল মৌলিক সুযোগ-সুবিধা ও সাংবিধানিক অধিকার থেকে তারা বঞ্চিত হচ্ছেন। তাই ভূমির মালিকানা নিশ্চিত করা সময়ের দাবিতে পরিণত হয়েছে। বক্তব্য বলেন, চা-শ্রমিকরা আজও চরম রাষ্ট্রীয় বৈষম্যের শিকার। স্বাধীন দেশের নাগরিক হয়েও এই জনগোষ্ঠী আধুনিক দাসত্বের জীবনযাপন করছেন। দেশের সবচেয়ে অবহেলিত শ্রমজীবী মানুষ হয়েও তারা সবচেয়ে কম মজুরিতে কাজ করেন। দৈনিক ৫০০ টাকা মজুরি আদায়ের জন্য সব বাগানের শ্রমিকদের ঐক্যবদ্ধ হয়ে লড়াই চালিয়ে যেতে হবে। কঠোর হুশিয়ারি দিয়ে বক্তারা বলেন, আজকে আমরা স্বল্প সময়ের জন্য রাজপথে নেমে সড়ক ছেড়ে দিলেও সরকারকে স্পষ্ট বার্তা দিচ্ছি, পরবর্তী কর্মসূচিতে দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত আর রাজপথ ছাড়বো না। এর আগে খাদিম চা-বাগানের লোহার পুল এলাকা থেকে একটি বিশালাকার বিক্ষোভ মিছিল শুরু হয়ে বাগানের বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ করে। মিছিল শেষে চা-শ্রমিকরা সিলেট-তামাবিল মহাসড়কে অবস্থান নিয়ে অবরোধ সৃষ্টি করেন। পরবর্তীতে দাবি বাস্তবায়নের আহ্বান জানিয়ে নির্দিষ্ট সময় পর শ্রমিকরা সড়ক অবরোধ প্রত্যাহার করে নেন।

২৫ই জুলাই, ২০২৬
হোমিওপ্যাথির প্রতি মন্ত্রী আরিফুল হকের ‘গভীর আস্থা’

হোমিওপ্যাথির প্রতি মন্ত্রী আরিফুল হকের ‘গভীর আস্থা’

সিলেটের জালালাবাদ হোমিওপ্যাথি মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালের ডিএইচএমএস (ডিপ্লোমা ইন হোমিওপ্যাথি মেডিসিন অ্যান্ড সার্জারি) কোর্সে উত্তীর্ণ শিক্ষার্থীদের সনদ বিতরণ অনুষ্ঠান সম্পন্ন হয়েছে।  অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে শ্রম ও কর্মসংস্থান এবং প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী ঐতিহ্যবাহী এই প্রতিষ্ঠানটিকে ডিপ্লোমা থেকে ব্যাচেলর (ডিগ্রি) পর্যায়ে উন্নীত করার ঘোষণা দেন। শনিবার (২৫ জুলাই) বেলা ১১টায় সিলেট মহানগরের একটি অভিজাত হোটেলের সম্মেলন কক্ষে এ সনদ বিতরণ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। প্রধান অতিথির বক্তব্যে মন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী কলেজের দীর্ঘদিনের দাবি মেনে নিয়ে প্রতিষ্ঠানের নামে সরকারি ভেস্টেড প্রোপার্টির জমি বরাদ্দের আশ্বাস প্রদান করেন। তিনি বলেন, প্রথমে জমি বরাদ্দের আইনি প্রক্রিয়া সম্পন্ন হওয়ার পরপরই কলেজটিকে ডিপ্লোমা পর্যায় থেকে ব্যাচেলর পর্যায়ে উন্নীত করার প্রয়োজনীয় যাবতীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। ১৯৬৮ সালে প্রতিষ্ঠিত এই ঐতিহ্যবাহী কলেজটি দীর্ঘদিন যাবৎ সরকারি জমির ওপরেই পরিচালিত হয়ে আসছে বলে উল্লেখ করেন তিনি। হোমিওপ্যাথি চিকিৎসার প্রতি নিজের গভীর আস্থার কথা পুনর্ব্যক্ত করে মন্ত্রী আরও বলেন, ১৯৯৯ সালে এক সড়ক দুর্ঘটনার পর থেকে আমি নিজেও নিয়মিত হোমিওপ্যাথি চিকিৎসা গ্রহণ করে আসছি। মূলত কোনো ধরনের পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া না থাকাই এই চিকিৎসা পদ্ধতির বিশ্বব্যাপী জনপ্রিয়তার মূল কারণ। অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন, সিলেটের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সাধারণ) সায়েদা পারভীন  জালালাবাদ হোমিওপ্যাথি মেডিকেল কলেজের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ ডা. আবদুল্লাহ আল মুজাহিদ খানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের উপসচিব মোহাম্মদ শামসুল ইসলাম, কলেজের উপাধ্যক্ষ ডা. এমদাদুল হক, ম্যানেজিং কমিটির অন্যতম সদস্য অধ্যাপক ফরিদ আহমদ, ডা. আসমা বেগমসহ কলেজের শিক্ষকমণ্ডলী, শিক্ষার্থীবৃন্দ ও সুশীল সমাজের প্রতিনিধিগণ। অনুষ্ঠানের শেষ পর্বে ডিএইচএমএস কোর্সে সফলভাবে উত্তীর্ণ শিক্ষার্থীদের মেধার স্বীকৃতিস্বরূপ আনুষ্ঠানিকভাবে সনদপত্র প্রদান করা হয়। প্রধান অতিথির এমন যুগান্তকারী ঘোষণার পর কলেজ কর্তৃপক্ষের মাঝে নতুন আশার সঞ্চার হয়েছে। প্রতিষ্ঠানটিকে দ্রুত পূর্ণাঙ্গ ডিগ্রি কলেজে রূপান্তরের প্রক্রিয়ায় সরকারের সার্বিক সহযোগিতা কামনা করেছেন সংশ্লিষ্টরা।

২৫ই জুলাই, ২০২৬
এবার গোলাপগঞ্জ-বিয়ানীবাজারের স্বাস্থ্যে চোখ এমপি এমরান আহমদ চৌধুরীর

এবার গোলাপগঞ্জ-বিয়ানীবাজারের স্বাস্থ্যে চোখ এমপি এমরান আহমদ চৌধুরীর

সিলেট-৬ আসনের সংসদ সদস্য ও জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট এমরান আহমদ চৌধুরী এবার গোলাপগঞ্জ ও বিয়ানীবাজার উপজেলায় জনগণের স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করতে নজর দিয়েছেন। গতকাল শনিবার (২৫ জুলাই) গোলাপগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের মানোন্নয়ন ও অবকাঠামোগত উন্নয়নকল্পে মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। এতে প্রধান অতিথি ছিলেন এমরান আহমদ চৌধুরী। শনিবার দুপুর ১২টায় কমপ্লেক্স হলরুমে আয়োজিত অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্মা ডা. সুদর্শন সেন। প্রধান অতিথির বক্তব্যে অ্যাডভোকেট এমরান আহমদ চৌধুরী এমপি বলেন-  সাধারণ মানুষের স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করতে খুবই আন্তরিকভাবে কাজ করছে সরকার। এবারের বাজেটে শিক্ষার পর সবচেয়ে বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে স্বাস্থ্য খাতে। আমিও নির্বাচনের আগে প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলাম- গোলাপগঞ্জ-বিয়ানীবাজারের সর্বস্তরের মানুষের স্বাস্থসেবা নিশ্চিত করতে কাজ করবো। সবার সহযোগিতায় ধাপে ধাপে আমরা তা করবো ইনশা আল্লাহ। বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন বিভাগীয় পরিচালক (সাস্থ) ডা. মাহবুবুল আলম। তিনি বলেন- এ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ডিজিটাল এক্সরে মেশিনের ব্যবস্থা করা হবে। সিলেট জেলা সিভিল সার্জন ডা. মো. নাসির উদ্দিন বিশেষ অতিথির বক্তব্যে গোলাপগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের সমস্যাগুলো সমাধানে আমরা আন্তরিকতার সঙ্গে কাজ করছি। আরও বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন এবং উপস্থিত ছিলেন- জেলা বিএনপির উপদেষ্টা গোলাম কিবরিয়া চৌধুরী শাহিন ও ছালিক চৌধুরী, উপজেলা বিএনপির সভাপতি নোমান উদ্দিন মুরাদ, পৌর বিএনপির সভাপতি মুশিকুর রহমান মুহি, উপজেলা বিএনপির সিনিয়র সহ-সভাপতি ও সাবেক কাউন্সিলর হেলালুজ্জামান, উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মনিরুজ্জামান উজ্জ্বল, পৌর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক নজরুল ইসলাম, জেলা বিএনপি নেতা মিনহাজ চৌধুরী, ঢাকা দক্ষিণ ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আব্দুর রহিম ও সাবেক কাউন্সিলর জামিল আহমদ প্রমুখ। মতবিনিময় সভায় বিভিন্ন এলাকার জনপ্রতিনিধি এবং ব্যক্তিরা তাদের মতামত ও অভিযোগ তুলে ধরে বলেন। শুরুতে স্বাগত বক্তব্য রাখেন উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের দায়িত্বরত চিকিৎসক ডা. হিমেল পাল। সভায় হাসপাতাল-সংশ্লিষ্টরা উপস্থিত ছিলেন। এ অনুষ্ঠানের পর শনিবার বিকেলে এমপি এমরান আহমদ চৌধুরী সিলেট কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের স্নাতক লেভেল-২ এর সেমিস্টার-১ এর নবীন শিক্ষার্থীদের ওরিয়েন্টেশন অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তব্যে রাখেন। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন শ্রম ও কর্মসংস্থান এবং প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী। এদিকে, অ্যাডভোকেট এমপি এমরান আহমদ চৌধুরীর পরামর্শে গোলাপগঞ্জের মতো বিয়ানীবাজার উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের মানোন্নয়ন এবং অবকাঠামোগত উন্নয়নকল্পেও শীঘ্রই মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হবে।   (রিপোর্ট : রিমন আহমদ)

২৫ই জুলাই, ২০২৬
এআইয়ের দায়িত্বশীল ব্যবহার বড় চ্যালেঞ্জ: তথ্যমন্ত্রী

এআইয়ের দায়িত্বশীল ব্যবহার বড় চ্যালেঞ্জ: তথ্যমন্ত্রী

কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাকে (এআই) সঠিকভাবে বোঝা এবং দীর্ঘমেয়াদি কীভাবে কার্যকর ও দায়িত্বশীলভাবে ব্যবহার করা যায়; এটাই এখন বড় চ্যালেঞ্জ বলে মন্তব্য করেছেন তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন। শনিবার (২৫ জুলাই) প্যান প্যাসিফিক সোনারগাঁও হোটেলে গ্লোবাল কনফারেন্স এআই লিডারশিপ অ্যান্ড ফ্ল্যাগশিপ প্রেস্টিজ অ্যাওয়ার্ড-২০২৬ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে  তিনি এসব কথা বলেন।  তথ্যমন্ত্রী বলেন, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার জ্ঞান না থাকলে যে কোনো সময় বুমেরাং হয়ে যেতে পারে। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাকে বন্ধু হিসেবে নেওয়ার কথাও বলেন তিনি। তিনি বলেন, দীর্ঘদিন ধরে মানবজাতিই সভ্যতার উন্নয়ন এবং কখনো কখনো তার অবক্ষয়ের জন্য দায়ী ছিল। কিন্তু এখন থেকে সভ্যতার পথচলায় মানুষ একা নয়, মানুষের পাশাপাশি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাও একটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে।

২৫ই জুলাই, ২০২৬
সব বক্তার মুখেই হুমকি-হুংকার

সব বক্তার মুখেই হুমকি-হুংকার

গণভোটের রায় বাস্তবায়ন এবং জুলাই সনদের আলোকে রাষ্ট্রীয় সংস্কারের দাবিতে সিলেটে শনিবার (২৫ জুলাই) ১০ দলীয় জোটের বিভাগীয় সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়েছে। সমাবেশের প্রধান অতিথি জামায়াতে ইসলামীর আমির ও বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমানসহ সব বক্তাই সরকারের প্রতি হুমকি-ধমকি আর হুঁশিয়ারি প্রদান করেন। তারা বলেন- গণভোটের গণরায় ও জুলাই সনদ বাস্তবায়ন না করলে বর্তমান সরকার পাঁচ বছরের মেয়াদ পূর্ণ করতে পারবে না। (২৫ জুলাই) দুপুর দেড়টায় সিলেট সরকারি আলিয়া মাদরাসা ময়দানে আয়োজিত এই সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তৃতায় জামায়াতে ইসলামীর আমির বলেন- জামায়াতে ইসলামীর আমির বলেন, দেশে আর কোনো ধরনের ফ্যাসিবাদ প্রতিষ্ঠা হতে দেওয়া হবে না। তাঁর অভিযোগ, বর্তমান সরকারও ফ্যাসিবাদী আওয়ামী লীগের পথ অনুসরণ করছে এবং বিভিন্ন ক্ষেত্রে দলীয়করণ ও দুর্নীতিকে প্রশ্রয় দিচ্ছে। তিনি বলেন- হাসিনাকে তাড়িয়েছি। যদি আবার ফ্যাসিবাদ কায়েমের চেষ্টা করা হয়, জনগণ আপনাদেরও ক্ষমতা থেকে সরিয়ে দেবে। আমরা আমাদের শহীদ, জুলাই যোদ্ধা ও আহত পরিবারের সঙ্গে কোনো বেইমানি করব না। তিনি আরও বলেন, দেশের মানুষ আন্দোলনের মাধ্যমে অধিকার আদায় করতে শিখেছে। প্রয়োজনে জীবন দিয়ে হলেও আমরা আমাদের অঙ্গীকার রক্ষা করব। গণভোটের প্রসঙ্গ তুলে জামায়াতের আমির বলেন, পরিবর্তন ও সংস্কারের পক্ষে দেশের প্রায় ৭০ শতাংশ মানুষ মত দিয়েছেন। সেই গণরায় বাস্তবায়ন না হলে জনগণের আকাঙ্ক্ষাকে অসম্মান করা হবে। তিনি বলেন, ‘আমরা গণভোটকে অপমান করতে দেব না। গণভোটের গণরায় বাস্তবায়নের মধ্য দিয়েই আমাদের আন্দোলন সফলতার দ্বারপ্রান্তে পৌঁছাবে। বাংলাদেশে আর কোনো ফ্যাসিবাদ চাই না।’ সিলেটবাসীর প্রতি আন্দোলনের জন্য প্রস্তুত থাকার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, সামনে আন্দোলনের ডাক আসবে। ঘরে ঘরে দুর্গ গড়ে তুলতে হবে। দেশ থেকে ফ্যাসিবাদ, চাঁদাবাজি ও দুর্নীতি দূর না হওয়া পর্যন্ত আন্দোলন অব্যাহত থাকবে। কর্মীদের উদ্দেশে জামায়াত আমির বলেন- দেশ থেকে ফ্যাসিবাদ, চাঁদাবাজি, দুর্নীতি ও চরিত্রহীন রাজনীতির অবসান না হওয়া পর্যন্ত আন্দোলন চলবে। মুক্তির লক্ষ্যে পৌঁছানো পর্যন্ত আমরা থামব না। ডা. শফিকুর রহমান সিলেট ওসমানী বিমানবন্দরকে পূর্ণাঙ্গ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে রূপান্তর, ঢাকা-সিলেট মহাসড়কের কাজ দ্রুত সম্পন্ন করে জনদুর্ভোগ লাঘব, স্থানীয় ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজকে পূর্ণাঙ্গ বিশ্ববিদ্যালয়ে উন্নীতকরণ এবং সিলেট মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের গতিশীলতা ফিরিয়ে আনার জোর দাবি জানান। তিনি অঙ্গীকার করেন, ভবিষ্যতে দেশ পরিচালনার সুযোগ পেলে এই ১১ দলীয় জোট অগ্রাধিকার ভিত্তিতে সিলেটের এসব দাবি বাস্তবায়ন করবে। সমাবেশে সভাপতিত্ব করেন লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টির (এলডিপি) চেয়ারম্যান বীর মুক্তিযোদ্ধা ড. কর্নেল (অব.) অলি আহমদ (বীর বিক্রম)। গণভোটের গণরায় অনুযায়ী ‘জুলাই সনদ’ বাস্তবায়ন এবং সংবিধান সংস্কার করা না হলে বর্তমান সরকার তাদের পূর্ণাঙ্গ ৫ বছরের মেয়াদ শেষ করতে পারবে না বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছেন সমাবেশে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপির) আহ্বায়ক নাহিদ ইসলামও। সরকারের প্রতি চরম অসন্তোষ প্রকাশ করে নাহিদ ইসলাম প্রধানমন্ত্রীকে উদ্দেশ্য করে বলেন, তিনি কি পাঁচ বছর নির্বাচিতভাবে ক্ষমতায় থাকতে চান, নাকি শেখ হাসিনাসহ পৃথিবীর বিভিন্ন দেশের স্বৈরাচারদের মতো জনগণের রায়কে উপেক্ষা করার করুণ পরিণতি ভোগ করতে চান—সেই সিদ্ধান্ত তারেক রহমানকেই নিতে হবে। নাহিদ ইসলাম অভিযোগ করেন, দেশের ৭০ শতাংশ মানুষ গণভোটে সংস্কারের পক্ষে ‘হ্যাঁ’ রায় দিলেও বর্তমান সরকার তা উপেক্ষা করছে। তিনি বলেন, জুলাই বিপ্লবের পর বিশ্বের অন্যান্য দেশ ছাত্র-জনতার প্রতি সতর্ক ও শ্রদ্ধাশীল হলেও বাংলাদেশের সরকার সম্পূর্ণ উল্টো পথে হাঁটছে। ভারতে ছাত্র আন্দোলনের মুখে শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগের প্রসঙ্গ টেনে তিনি সেখানে আন্দোলনরত ছাত্র-জনতাকে অভিনন্দন জানান এবং দেশের সরকারকে সতর্ক করেন। বিএনপির কঠোর সমালোচনা করে এনসিপি আহ্বায়ক বলেন, দলটি দীর্ঘ ১৬ বছর ধরে '৩১ দফা'র মুলা ঝুলিয়ে জনগণের সঙ্গে প্রতারণা করেছে। ক্ষমতার আসার পর তারা সংস্কারের প্রশ্ন ভুলে কেবল সংবিধান সংশোধনের কথা বলছে। অথচ ঐকমত্য কমিশনে সিদ্ধান্ত হয়েছিল যে, শুধু সংশোধনের মাধ্যমে সংবিধানের মৌলিক কাঠামো পরিবর্তন সম্ভব নয়; তার জন্য সংস্কার পরিষদ বা গণপরিষদ প্রয়োজন। তিনি সতর্ক করে বলেন, বিএনপি যদি জুলাই বিপ্লব, ছাত্র-তরুণদের রক্ত ও হাজারো মানুষের আত্মত্যাগকে ভুলে যায়, তবে এর নির্মম পরিণতি তাদেরকেই ভোগ করতে হবে। দেশের বর্তমান গ্যাস সংকট, বিদ্যুৎ ও জ্বালানির মূল্যবৃদ্ধি এবং সাম্প্রতিক বাজেটে মধ্যবিত্তের ওপর অতিরিক্ত করের বোঝার কঠোর সমালোচনা করেন নাহিদ ইসলাম। তিনি দাবি করেন, প্রয়োজনীয় রাষ্ট্রীয় সংস্কার না করার কারণে আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলোর পর্যাপ্ত সহায়তাও পাওয়া যাচ্ছে না। একই সঙ্গে আসন্ন স্থানীয় সরকার নির্বাচনের আগেই নির্বাচন কমিশন পুনর্গঠন অথবা বর্তমান কমিশনকে অবিলম্বে পদত্যাগের দাবি জানান তিনি। সরকারের বিরুদ্ধে নির্বাচন কমিশনসহ বিভিন্ন রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানকে দলীয়করণের অভিযোগ এনে তিনি বলেন, এমন পরিস্থিতিতে সুষ্ঠু নির্বাচন ব্যবস্থা গড়ে তোলা অসম্ভব। গণভোটের রায় বাস্তবায়ন, সংবিধান সংস্কার এবং আওয়ামী লীগ সরকারের সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও তার সহযোগীদের বিচারের দাবিতে রাজশাহী থেকে শুরু হওয়া ১১ দলীয় জোটের বিভাগীয় সমাবেশ কর্মসূচির সমাপনী আয়োজন ছিল সিলেটের এ সমাবেশ। লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টির (এলডিপি) চেয়ারম্যান ও সাবেক মন্ত্রী কর্নেল (অব.) অলি আহমদ বীর বিক্রমের সভাপতিত্বে সমাবেশে আরও বক্তব্য দেন- বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের আমির মাওলানা মামুনুল হক, জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল হামিদুর রহমান আজাদ, নেজামে ইসলাম পার্টির ভারপ্রাপ্ত আমির আব্দুল কাইয়ুম সুবহানী, খেলাফত আন্দোলনের আমির হাবিবুল্লাহ মিয়াজী, এবি পার্টির চেয়ারম্যান মুজিবুর রহমান মঞ্জু, লেবার পার্টির চেয়ারম্যান ডা. মোস্তাফিজুর রহমান ইরান, জাগপার মুখপাত্র রাশেদ প্রধান এবং বাংলাদেশ ডেভেলপমেন্ট পার্টির চেয়ারম্যান এ কে এম আমজাদুল ইসলাম চান। এছাড়াও সমাবেশে জামায়াতে ইসলামি এবং তাদের সহযোগী ১০ দলের কেন্দ্রীয় ও স্থানীয় নেতারা বক্তব্য দেন। সমাবেশ বেলা ২টা থেকে শুরু হয়ে শেষ হয় বিকাল ৫টায়।

২৫ই জুলাই, ২০২৬
হাসিনার ইচ্ছা পূরণে অপচয় ৪৪ কোটি টাকা

হাসিনার ইচ্ছা পূরণে অপচয় ৪৪ কোটি টাকা

হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের থার্ড টার্মিনাল প্রকল্পে ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার আংশিক উদ্বোধনের ইচ্ছা পূরণে শুধু ফিতা কাটা ও আনুষ্ঠানিক আয়োজনেই ৪৪ কোটি টাকা ব্যয়ের অভিযোগ উঠেছে। একই প্রকল্পে অনুমোদনহীন ব্যয়, অতিমূল্যে গাছ কেনা, ভুয়া ভেরিয়েশনসহ হাজার হাজার কোটি টাকার অনিয়মের তথ্য উঠে এসেছে মহাহিসাব নিরীক্ষক ও নিয়ন্ত্রকের (সিএজি) বিশেষ নিরীক্ষা প্রতিবেদনে।  সংশ্লিষ্টরা বলছেন, থার্ড টার্মিনাল প্রকল্পের এই ব্যয়ের ধরন ২০১৯ সালের বহুল আলোচিত রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের ‘বালিশ-কাণ্ডের’ কথা মনে করিয়ে দেয়। ওই প্রকল্পে প্রতিটি বালিশের দাম ৫ হাজার থেকে ৮৯ হাজার টাকা ধরা হয়েছিল। ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশের (টিআইবি) নির্বাহী পরিচালক ড. ইফতেখারুজ্জামান বলেন, ‘চিহ্নিত অনিয়মগুলো যদি পোস্ট-ফ্যাক্টো (পরবর্তী সময়ে) অনুমোদনের মাধ্যমে বৈধতা দেওয়া হয়, তাহলে সেটি হবে আরেকটি দুর্নীতির শামিল। এখন এসব অনিয়মকে বৈধতা দেওয়ার কোনো সুযোগ নেই। তাহলে বিষয়টি এমন দাঁড়াবে যে অনিয়ম করেছি, এখন সেটিকে সেটেলমেন্ট কমিটির মাধ্যমে সেটেল করে নিই।’ এভিয়েশন বিশেষজ্ঞ কাজী ওয়াহিদুল আলম বলেন, পোস্ট-ফ্যাক্টো অনুমোদনের পরিবর্তে স্বাধীন তদন্ত করে অনিয়মের দায় নির্ধারণ, অতিরিক্ত অর্থ আদায় এবং সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নিতে হবে। অন্যথায় সরকারি প্রকল্পে এ ধরনের পুকুরচুরি বন্ধ হবে না। বেসামরিক বিমান পরিবহণ ও পর্যটন প্রতিমন্ত্রী এম রশিদুজ্জামান মিল্লাত বলেন, থার্ড টার্মিনাল প্রকল্পে যেসব অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ উঠেছে, সেগুলো তদন্ত করে দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তিনি বলেন, কারা ভুয়া ভেরিয়েশন করেছে, কত টাকা অনিয়ম বা আত্মসাৎ হয়েছে এবং কারা এর সঙ্গে জড়িত-সব খতিয়ে দেখা হবে। বিষয়টি নিষ্পত্তির জন্য একটি অ্যামিকেবল সেটেলমেন্ট কমিটি গঠন করা হয়েছে। তবে দুর্নীতির বিষয় নিয়ে অ্যামিকেবল সেটেলমেন্ট করা যাবে না। যাদের সম্পৃক্ততা পাওয়া যাবে, তাদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে। সূত্রমতে, থার্ড টার্মিনালের সৌন্দর্যবর্ধনের জন্য ঝাউ, কৃষ্ণচূড়া, কাঠগোলাপসহ বিভিন্ন গাছ লাগানো হয়েছে। প্রকল্প নথিতে এসব গাছের একেকটির মূল্য ৫ হাজার থেকে ১ লাখ টাকা ধরা হয়েছে। অথচ বিমানবন্দরের আশপাশের বিভিন্ন নার্সারিতে একই ধরনের গাছ ২০০ থেকে ৫০০ টাকায় পাওয়া যায়। আবার এ গাছ কেনায় ব্যয় দেখানো হয়েছে প্রায় ২০ কোটি টাকা। এর সঙ্গে পরিচর্যার জন্য আরও ৪ কোটি ৮০ লাখ টাকা যোগ করা হয়েছে। বিমানবন্দরসংলগ্ন নার্সারি মালিক রবিউল ইসলাম  বলেন, এই গাছগুলোর দাম ২০০-৫০০ টাকার বেশি নয়। লাখ টাকার গাছ এগুলো নয়। জানা যায়, আওয়ামী লীগ সরকারের সময় থার্ড টার্মিনাল প্রকল্পের প্রাথমিক ব্যয় ধরা হয়েছিল প্রায় ১৩ হাজার ৫০০ কোটি টাকা। পরে একাধিক দফায় সংশোধনের মাধ্যমে ব্যয় বেড়ে দাঁড়ায় প্রায় ২২ হাজার কোটি টাকা। নিরীক্ষা প্রতিবেদনে উঠে আসা তথ্য বলছে, প্রকল্প বাস্তবায়নের বিভিন্ন পর্যায়ে অতিরিক্ত বিল, অনুমোদনহীন ভেরিয়েশন এবং প্রশ্নবিদ্ধ ব্যয়ের মাধ্যমে হাজার হাজার কোটি টাকা পরিশোধ করা হয়েছে। এখন সেই ব্যয়কে বৈধতা দেওয়ার উদ্যোগ ঘিরে নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। নিরীক্ষা প্রতিবেদনের তথ্যানুযায়ী, থার্ড টার্মিনালে পুকুর নির্মাণে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানকে ১০ কোটি টাকা পরিশোধ করা হয়েছে। তবে গুগল আর্থের পুরোনো স্যাটেলাইট চিত্র বিশ্লেষণে দেখা যায়, প্রকল্প এলাকায় আগে থেকেই একটি জলাশয় ছিল। সেটিকে কিছুটা সংস্কার করে পুকুরে রূপ দেওয়া হয়েছে। চুক্তি অনুযায়ী প্রকল্প এলাকা থেকে মাটি প্রায় সাড়ে ছয় কিলোমিটার দূরে ফেলার কথা ছিল। কিন্তু অনুসন্ধানে দেখা যায়, অধিকাংশ মাটি দুই কিলোমিটারের মধ্যেই ফেলা হয়েছে। তবুও ঠিকাদারকে দীর্ঘ দূরত্বে পরিবহণের বিল দেওয়া হয়েছে। এতে ব্যয় হয় ৮৩ কোটি টাকা। প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, প্রকল্পের কাজ শেষ হওয়ার আগেই চুক্তির বাইরে শেখ হাসিনার ইচ্ছা পূরণ করতে সীমিত পরিসরে উদ্বোধন (সফট ওপেনিং) করার জন্য অর্থ দেওয়া হয়। থার্ড টার্মিনালের আংশিক উদ্বোধনের অনুষ্ঠানে শুধু ফিতা কাটা এবং সংশ্লিষ্ট আয়োজনের জন্য ৪৪ কোটি টাকা ব্যয় দেখানো হয়েছে। অথচ এ ধরনের ব্যয়ের কোনো উল্লেখ মূল চুক্তিতে ছিল না। এছাড়া ডিজেল পাম্প সরবরাহে প্রায় ১২ কোটি টাকা, ইউপিএস সরবরাহে ৪৮ কোটি টাকার বেশি, জ্বালানি তেলে ৪১ কোটি টাকা ব্যয় করা হয়েছে। ডিজাইন না করা ভবনের জন্য অর্থ প্রদান, অনিশ্চিত খাত (কনটিনজেন্সি) ও মূল্য বৃদ্ধিজনিত ব্যয় (প্রাইস এসকেলেশন) থেকে প্রাপ্যতাবহির্ভূতভাবে পরামর্শকদের ওভারটাইম বিল প্রদান, অপসারণযোগ্য মাটি বিক্রি করে সরকারের কোষাগারে জমা না দেওয়ার মতো অনিয়মের কথা বলা হয়েছে প্রতিবেদনে। চুক্তির বাইরে আগাম কাজের খরচ (মুভ ফরোয়ার্ড কস্ট) হিসাবে বিল পরিশোধ ও নির্মাণকাজের গতি বাড়ানোর নামে ঠিকাদারকে ২১৭ কোটি টাকা পরিশোধ করা হয়েছে। বিশেষ নিরীক্ষা প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, অতিরিক্ত কাজের জন্য প্রকল্প কর্তৃপক্ষের অনুমোদন ছাড়া সর্বোচ্চ ১ শতাংশ ব্যয় করার সুযোগ থাকলেও এই প্রকল্পে প্রায় ২৩ শতাংশ অর্থ ব্যয় করা হয়েছে। ৬৩০টি আইটেম পরিবর্তন করে (ভেরিয়েশন) প্রায় ৩ হাজার ২০০ কোটি টাকা কোনো যথাযথ অনুমোদন ছাড়াই পরিশোধ করা হয়েছে। ২০১৭ সালে গ্রহণ করা থার্ড টার্মিনাল প্রকল্পের নির্মাণকাজ শুরু হয় ২০১৯ সালের ডিসেম্বরে। জাপানের মিতসুবিশি ও ফুজিটা এবং দক্ষিণ কোরিয়ার স্যামসাংয়ের সমন্বয়ে গঠিত অ্যাভিয়েশন ঢাকা কনসোর্টিয়াম (এডিসি) ছিল এ প্রকল্পের ঠিকাদার। প্রকল্পের মোট প্রাক্কলিত ব্যয় ছিল প্রায় ২১ হাজার ৩৯৮ কোটি টাকা, যার একটি বড় অংশ জাইকার অর্থায়ন। অনিয়মের অভিযোগ সামনে আসার পর গত বছর সিভিল এভিয়েশন কর্তৃপক্ষ ডিসপিউট বোর্ড ও অ্যামিকেবল সেটেলমেন্ট কমিটি গঠন করে। তবে অভিযোগ উঠেছে, যাদের বিরুদ্ধে অনিয়মের অভিযোগ, তাদেরই কয়েকজনকে এসব কমিটিতে রাখা হয়েছে। ফলে সরষের মধ্যে ভূত থাকায় এ তদন্ত সঠিকভাবে হওয়ার সম্ভাবনা ক্ষীণ। বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষের (বেবিচক) সাবেক চেয়ারম্যান এয়ার ভাইস মার্শাল (অব.) মোহাম্মদ মফিদুর রহমান  বলেন, এ প্রকল্পের নকশা, ব্যয়ের প্রাক্কলন, ভেরিয়েশন এবং মূল্য নির্ধারণের দায়িত্ব ছিল জাপানি পরামর্শক প্রতিষ্ঠানের। এসব ব্যয় ও ভেরিয়েশন তাদের সুপারিশ এবং জাইকার অনুমোদনের ভিত্তিতেই হওয়ার কথা। তাই নিরীক্ষায় উত্থাপিত প্রতিটি বিষয় প্রকল্পের নথি ও চুক্তির আলোকে যাচাই করা প্রয়োজন।  তিনি বলেন, যদি কোনো অনিয়ম হয়ে থাকে তবে জবাবদিহি নিশ্চিত করতে নিরপেক্ষ তদন্ত হওয়া উচিত। তদন্তের নামে প্রকল্প বাস্তবায়ন বা পরিচালনায় অযথা প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করা ঠিক হবে না। কারণ, দীর্ঘসূত্রতায় রাষ্ট্রের আর্থিক ক্ষতি বেড়েছে। একই সঙ্গে প্রত্যাশিত রাজস্ব থেকেও দেশ বঞ্চিত হচ্ছে। এদিকে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষের একজন দায়িত্বশীল কর্মকর্তা বলেন, যথাযথ তদন্ত হলে পর্দাল আড়ালে থাকা অনেক রাঘববোয়ালের নাম বেরিয়ে আসবে। এজন্য কেউ কেউ বলতে চান, বিষয়টি নিয়ে অহেতুক টানাহেঁচড়া করলে টার্মিনালের বাকি কাজ শেষ করতে বিলম্ব হবে।  তিনি মনে করেন, বাকি কাজ শেষ করার সঙ্গে তদন্তের কোনো সম্পর্ক নেই। কাজ তার আপন গতিতে এগিয়ে যাবে; কিন্তু নিরপক্ষে তদন্তের মাধ্যমে এই লুটপাটের মহোৎসবের সঙ্গে জড়িত রাঘববোয়ালদের শাস্তির আওতায় আনতেই হবে। তবে দুর্ভাগ্য হলো-আমাদের দেশে কেন জানি শেষ পর্যন্ত আসল রাঘববোয়ালরা পার পেয়ে যায়।

২৫ই জুলাই, ২০২৬
করাচির আরেক হাসপাতালে এইচআইভি আক্রান্ত ১৫ শিশু

করাচির আরেক হাসপাতালে এইচআইভি আক্রান্ত ১৫ শিশু

পাকিস্তানের করাচিতে শিশুদের মধ্যে এইচআইভি সংক্রমণের বিস্তার নিয়ে চরম আতঙ্ক ও উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। করাচির ‘সোশ্যাল সিকিউরিটি লান্ধি হাসপাতালে’ সম্প্রতি অন্তত ১৫টি শিশুর শরীরে এইচআইভি পজিটিভ শনাক্ত হয়েছে।  এর মাত্র কয়েক মাস আগেই শহরের ‘কুলসুম বাই ভালিকা হাসপাতালে’ প্রায় একশত শিশু এই প্রাণঘাতী ভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছিল। দেশটির গণমাধ্যমের প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, লান্ধি হাসপাতালে আক্রান্ত শিশুদের বয়স ৪ মাস থেকে ৮ বছরের মধ্যে।  হাসপাতালের নথি অনুযায়ী, চলতি বছরের জানুয়ারিতে চারজন, ফেব্রুয়ারিতে দুজন, মার্চে একজন, এপ্রিলে পাঁচজন এবং মে মাসে তিনজন শিশুর দেহে এইচআইভি পজিটিভ ধরা পড়ে।  সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, মাসের পর মাস এই সংক্রমণের খবর গোপন রাখা হয়েছিল। ফলে আরও অনেক শিশু ইতোমধ্যে এতে আক্রান্ত হয়ে থাকতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।  জানা যায়, সমাজের নেতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গি ও লোকলজ্জার ভয়ে আক্রান্ত শিশুদের বাবা-মা বা অভিভাবকেরা বিষয়টি নিয়ে প্রকাশ্যে মুখ খুলতে সাহস পাচ্ছেন না। এর আগে কুলসুম বাই ভালিকা হাসপাতালে প্রায় ১০০ শিশু এইচআইভিতে আক্রান্ত হয়েছিল, যার মধ্যে ৯ জন শিশু মারাও গেছে।  সরকারি সহায়তার আকুল আবেদন  আক্রান্ত এক শিশুর বাবা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে কান্নাজড়িত কণ্ঠে আকুতি জানিয়ে বলেন, সন্তানের চিকিৎসার জন্য প্রয়োজনীয় দামী ওষুধ কেনার সামর্থ্য তার নেই। চিকিৎসার খরচ বহনে তিনি পাকিস্তান সরকারের কাছে জরুরি আর্থিক সহায়তার আহ্বান জানান।  এদিকে, একের পর এক হাসপাতালে শিশুদের এইচআইভি সংক্রমণের তথ্য প্রকাশ্যে এলেও দেশটির স্বাস্থ্য কর্তৃপক্ষ এখন পর্যন্ত কোনো আনুষ্ঠানিক বিবৃতি দেয়নি। সংক্রমণের মূল উৎস কোথায় কিংবা এ নিয়ে কোনো তদন্ত শুরু হয়েছে কিনা—তাও নিশ্চিত করা হয়নি। 

২৫ই জুলাই, ২০২৬
প্রবাসী-বান্ধব সেবা নিশ্চিত করতে আন্তঃমন্ত্রণালয় কমিটি গঠন

প্রবাসী-বান্ধব সেবা নিশ্চিত করতে আন্তঃমন্ত্রণালয় কমিটি গঠন

সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়, বিভাগ, দপ্তর, সংস্থা ও কর্তৃপক্ষের মধ্যে কার্যকর সমন্বয়ের মাধ্যমে প্রবাসী-বান্ধব সেবা নিশ্চিত করতে সরকার একটি আন্তঃমন্ত্রণালয় কমিটি গঠন করেছে। শনিবার জারি করা এক প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, সম্ভাব্য অভিবাসীকর্মীদের বৈধ অভিবাসনে উৎসাহিত করা, বিদেশে কর্মসংস্থান বৃদ্ধি, অভিবাসন প্রক্রিয়ায় বিদ্যমান চ্যালেঞ্জ চিহ্নিত করা, বিদেশে কর্মরত অভিবাসী কর্মীদের কল্যাণ ও অধিকার সুরক্ষা নিশ্চিত করা এবং তাদের ঝামেলামুক্ত ও মর্যাদাপূর্ণ সেবা প্রদান নিশ্চিত করতে এ কমিটি সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়, বিভাগ, দপ্তর, সংস্থা ও কর্তৃপক্ষের মধ্যে কার্যকর সমন্বয় সাধন করবে। কমিটি বিমানবন্দরসহ বিভিন্ন সেবা কেন্দ্রে প্রবাসী-বান্ধব সেবা ও সুবিধা সহজীকরণ, নিশ্চিতকরণ ও সম্প্রসারণে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ গ্রহণ করবে। পাশাপাশি বিদ্যমান সেবা প্রদান ব্যবস্থার সমস্যা ও সীমাবদ্ধতা চিহ্নিত করে সেগুলোর উপযুক্ত সমাধানের সুপারিশ করবে। কমিটির সভাপতি থাকবেন প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থানমন্ত্রী। প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী এবং উপদেষ্টা কমিটির সহ-সভাপতির দায়িত্ব পালন করবেন। কমিটির সদস্য হিসেবে থাকবেন স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়, পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, স্বাস্থ্যসেবা বিভাগ, বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়, প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয় এবং মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সচিব; জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)-এর চেয়ারম্যান; বাংলাদেশ বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান; জনশক্তি, কর্মসংস্থান ও প্রশিক্ষণ ব্যুরোর (বিএমইটি) মহাপরিচালক; এবং ওয়েজ আর্নার্স কল্যাণ বোর্ডের মহাপরিচালক। প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের প্রশাসন ও অর্থ উইংয়ের প্রধান কমিটির সদস্যসচিব হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন। -বাসস

২৫ই জুলাই, ২০২৬
ভারতের কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগ

ভারতের কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগ

ভারতের কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধান পদত্যাগ করেছেন। শনিবার (২৫ জুলাই) প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির কাছে তিনি পদত্যাগপত্র জমা দেন। বহুল আলোচিত ন্যাশনাল এলিজিবিলিটি কাম এন্ট্রান্স টেস্ট (নিট) পরীক্ষার প্রশ্নফাঁসের অভিযোগ, শিক্ষা ব্যবস্থায় অনিয়ম এবং জবাবদিহির দাবিতে চলমান ছাত্র আন্দোলনের মুখে তিনি এ সিদ্ধান্ত নেন। পদত্যাগপত্রে ধর্মেন্দ্র প্রধান বলেন, গত ১০ দিনের ঘটনাপ্রবাহ তাকে গভীরভাবে ব্যথিত করেছে। তার ভাষায়, বিষয়টি ব্যক্তিগত সম্মান বা ভাবমূর্তির নয়; বরং দেশের শিক্ষার্থী ও তরুণদের স্বার্থ রক্ষার প্রশ্ন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে প্রকাশিত চিঠিতে তিনি লেখেন, দেশের গণতন্ত্রের শক্তি এবং তরুণদের স্বপ্ন ও আকাঙ্ক্ষার প্রতি তার অটল বিশ্বাস রয়েছে। তরুণরাই ভারতের ভবিষ্যৎ এবং একটি উন্নত ভারতের নির্মাতা। তিনি আরও বলেন, দেশের তরুণদের শক্তি যেন বিভ্রান্তির জালে আটকে না পড়ে, সেই বিবেচনা থেকেই তিনি পদত্যাগের সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। দিল্লির যন্তর-মন্তরসহ বিভিন্ন স্থানে চলমান আন্দোলনের প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, পরিস্থিতির সুযোগ যেন কোনো রাষ্ট্রবিরোধী শক্তি নিতে না পারে, দেশের ঐক্য অক্ষুণ্ন থাকতে হবে এবং কোনো শিক্ষার্থী যেন আইনি জটিলতায় না জড়ায়। এসব বিষয় বিবেচনায় রেখেই তিনি প্রধানমন্ত্রীর কাছে পদত্যাগপত্র জমা দিয়েছেন বলে উল্লেখ করেন। বিদায়ী শিক্ষামন্ত্রী প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি, কেন্দ্রীয় মন্ত্রিসভার সহকর্মী, শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। একই সঙ্গে তিনি বলেন, দেশের সেবা করাই সবসময় তার জীবনের সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার ছিল এবং ভবিষ্যতেও ওডিশার জনগণ ও দেশের তরুণদের কল্যাণে কাজ করে যাবেন। এক মাসের বেশি সময় ধরে আন্দোলন গত জুনের শুরু থেকে ককরোচ জনতা পার্টির (সিজেপি) নেতৃত্বে আন্দোলন শুরু হয়। গত ২০ জুলাই আন্দোলন বড় আকার ধারণ করে, যখন হাজারো শিক্ষার্থী ও তরুণ পেশাজীবী দিল্লির যন্তর মন্তরে সমবেত হয়ে সংসদ অভিমুখে পদযাত্রার ঘোষণা দেন। আয়োজকদের দাবি, সাম্প্রতিক বছরগুলোর সবচেয়ে বড় ছাত্র-যুব আন্দোলনগুলোর একটি ছিল এটি। আন্দোলনের মূল দাবিগুলোর মধ্যে ছিল শিক্ষা ব্যবস্থায় জবাবদিহি নিশ্চিত করা, নিট পরীক্ষায় অনিয়মের সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ এবং শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগ। পরবর্তী সময়ে দিল্লির বাইরে মুম্বাইসহ ভারতের বিভিন্ন শহরে বিক্ষোভ ও সংহতি মিছিল ছড়িয়ে পড়ে। আন্দোলনের সময় কয়েকটি স্থানে পুলিশ ও বিক্ষোভকারীদের মধ্যে সংঘর্ষ, আন্দোলনকারীদের আটক এবং শান্তিপূর্ণ কর্মসূচি অব্যাহত রাখার আহ্বান জানান সিজেপি নেতারা। নিট প্রশ্নফাঁসকে ঘিরে ক্ষোভ ভারতের মেডিকেল কলেজে স্নাতক পর্যায়ের ভর্তি পরীক্ষার অন্যতম বড় পরীক্ষা নিটে প্রশ্নফাঁস ও বিভিন্ন অনিয়মের অভিযোগ ওঠার পর শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের মধ্যে দেশজুড়ে তীব্র ক্ষোভ সৃষ্টি হয়। অভিযোগের তদন্তে কেন্দ্রীয় সংস্থাগুলো একাধিক তদন্ত শুরু করে এবং বিষয়টি আদালতেরও নজরে আসে। গত ২১ জুলাই প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি বলেন, সরকারি পরীক্ষার পবিত্রতা নষ্টকারীদের বিরুদ্ধে ‘সবচেয়ে কঠোর শাস্তি’ নিশ্চিত করা হবে। তিনি শিক্ষার্থীদের আশ্বস্ত করে বলেন, দায়ীদের বিচারের আওতায় আনতে সরকার সর্বোচ্চ চেষ্টা করবে। জাতীয় গণতান্ত্রিক জোট (এনডিএ) সংসদীয় দলের বৈঠকের পর কেন্দ্রীয় মন্ত্রী কিরেন রিজিজু প্রধানমন্ত্রীর এই বার্তা গণমাধ্যমে তুলে ধরেন। আন্দোলনে নতুন মাত্রা যোগ করেন শিক্ষা সংস্কারক সোনম ওয়াংচুক। শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগের দাবিতে শিক্ষার্থীদের সঙ্গে সংহতি জানিয়ে তিনি অনির্দিষ্টকালের অনশন শুরু করেন। পরবর্তীতে তার শারীরিক অবস্থার অবনতি, হাসপাতালে ভর্তি হওয়া এবং অনশন ভাঙার আহ্বান দেশজুড়ে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দেয়। এদিকে আন্দোলন তীব্র হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে বিভিন্ন বিরোধী রাজনৈতিক দলও বিভিন্ন মাত্রায় সমর্থন জানায়। তবে কেন্দ্রীয় সরকার জানায়, নিট পরীক্ষার অনিয়মের অভিযোগের তদন্ত এগিয়ে চলছে এবং দোষী প্রমাণিত হলে আইন অনুযায়ী কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। সিজেপির দাবি, তাদের আন্দোলন শুধু নিট পরীক্ষার অনিয়মের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়; বরং শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোর জবাবদিহি নিশ্চিত করা এবং দেশের তরুণদের বিভিন্ন সমস্যার কার্যকর সমাধানের বৃহত্তর দাবির অংশ।

২৫ই জুলাই, ২০২৬
সব বাধা অতিক্রম করে দেশকে এগিয়ে নিতে চায় সরকার: প্রধানমন্ত্রী

সব বাধা অতিক্রম করে দেশকে এগিয়ে নিতে চায় সরকার: প্রধানমন্ত্রী

দেশের অগ্রযাত্রা অব্যাহত রাখতে সব ধরনের বাধা মোকাবিলা করে এগিয়ে যাওয়ার প্রত্যয় ব্যক্ত করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। একই সঙ্গে প্রযুক্তিনির্ভর ও স্বনির্ভর বাংলাদেশ গড়ে তুলতে সেমিকন্ডাক্টর শিল্পকে জাতীয় অগ্রাধিকার খাত হিসেবে এগিয়ে নেওয়ার ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন তিনি। শনিবার (২৫ জুলাই) সকালে রাজধানীর তেজগাঁওয়ের নভো থিয়েটারে আয়োজিত দুই দিনব্যাপী ‘ন্যাশনাল সেমিকন্ডাক্টর সিম্পোজিয়াম অ্যান্ড বিইএআর সামিট’-এর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন প্রধানমন্ত্রী। প্রধানমন্ত্রী বলেন, দেশে ইতোমধ্যে সেমিকন্ডাক্টর ডিজাইন, ভেরিফিকেশন, এমবেডেড সিস্টেম, পাওয়ার ইলেকট্রনিক্স এবং অ্যাডভান্স প্যাকেজিংয়ের মতো গুরুত্বপূর্ণ খাতে কাজ শুরু হয়েছে। দেশের কয়েকটি প্রতিষ্ঠান আন্তর্জাতিক বাজারেও প্রবেশ করতে সক্ষম হয়েছে। তিনি জানান, এই শিল্পকে সরকার জাতীয় অগ্রাধিকারভিত্তিক খাত হিসেবে বিবেচনা করছে এবং এর বিকাশে সমন্বিত উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। তিনি আরও বলেন, সেমিকন্ডাক্টর খাতের প্রসারে সরকার ইতোমধ্যে বেশ কিছু নীতিগত পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে। চলতি বাজেটে এ শিল্পের কাঁচামাল আমদানিতে সব ধরনের কর ও শুল্ক প্রত্যাহার করা হয়েছে। পাশাপাশি সেমিকন্ডাক্টর ডিজাইন সেবার রপ্তানি আয়ের ওপর নগদ প্রণোদনা চালুর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। নতুন উদ্যোক্তা তৈরিতে প্রথমবারের মতো বছরে ৫০০ কোটি টাকার স্টার্টআপ অনুদানও রাখা হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী জানান, বিনিয়োগবান্ধব নীতি, কর-সুবিধা, বন্ড সুবিধা এবং প্রয়োজনীয় অবকাঠামো নিশ্চিত করে সেমিকন্ডাক্টর শিল্পের জন্য অনুকূল পরিবেশ গড়ে তুলতে সরকার কাজ করছে। বাংলাদেশ সেমিকন্ডাক্টর ইন্ডাস্ট্রি অ্যাসোসিয়েশন (বিএসআইএ) এবং সিলিকন রিভার বাংলাদেশের যৌথ আয়োজনে অনুষ্ঠিত এ সামিটে নীতিনির্ধারক, উদ্যোক্তা, গবেষক, শিল্পপ্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধি, বিনিয়োগকারী এবং প্রবাসী বাংলাদেশি প্রযুক্তি বিশেষজ্ঞরা অংশ নিচ্ছেন। দুই দিনের এ আয়োজনের কর্মসূচিতে রয়েছে ১১টি প্লেনারি সেশন, সাতটি কৌশলগত প্যানেল আলোচনা এবং প্রযুক্তি প্রদর্শনী। সামিটে আন্তর্জাতিক প্রযুক্তি বিশেষজ্ঞদের মধ্যে বক্তব্য দেবেন টেক্সাস ইনস্ট্রুমেন্টসের প্রধান প্রযুক্তি কর্মকর্তা (সিটিও) ড. আহমেদ বাহাই এবং পারডু বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক দিমিত্রিওস পেরুলিস। এছাড়া গ্লোবালফাউন্ড্রিজ, এনএক্সপি, অ্যাপলাইড ম্যাটেরিয়ালস, স্যান্ডিস্ক, ক্রেডো এবং ভিয়েতনাম সেমিকন্ডাক্টর অ্যালায়েন্সের প্রতিনিধিরাও এতে অংশ নিচ্ছেন। সামিটের অংশ হিসেবে ‘বিইএআর ইনোভেশন এক্সপো ২০২৬’-এরও আয়োজন করা হয়েছে। সেখানে শিক্ষার্থী ও স্টার্টআপ উদ্যোক্তাদের উদ্ভাবিত সেমিকন্ডাক্টর, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই), রোবোটিক্স, স্বাস্থ্যপ্রযুক্তিসহ বিভিন্ন ডিপ-টেক খাতের উদ্ভাবন ৩৫টি স্টলে প্রদর্শন করা হচ্ছে।

২৫ই জুলাই, ২০২৬
সেপ্টেম্বরের সংসদ অধিবেশনে নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচন: আইনমন্ত্রী

সেপ্টেম্বরের সংসদ অধিবেশনে নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচন: আইনমন্ত্রী

আগামী সেপ্টেম্বরে জাতীয় সংসদের নিয়মিত অধিবেশনেই দেশের নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হবেন। এই নির্বাচনের জন্য আলাদা করে কোনো বিশেষ অধিবেশন ডাকার মতো পরিস্থিতি তৈরি হয়নি বলে জানিয়েছেন আইন, বিচার ও সংসদবিষয়ক মন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান। শনিবার (২৫ জুলাই) রাজধানীর সিরডাপ মিলনায়তনে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে এ কথা বলেন তিনি। অনুষ্ঠানে রাষ্ট্রপতি নির্বাচন ছাড়াও সমসাময়িক বিভিন্ন আইনি ও রাজনৈতিক ইস্যু নিয়ে কথা বলেন আইনমন্ত্রী। চট্টগ্রামের জুলাই আন্দোলনে আহত আটজনের বিরুদ্ধে দায়ের করা মামলার প্রসঙ্গ উঠলে তিনি বলেন, চট্টগ্রামে জুলাই আন্দোলনে আহত আটজনের বিরুদ্ধে করা মামলা যদি মিথ্যা হয়, তাহলে তা প্রত্যাহার করা হবে। রাজনৈতিক পরিচয় বিবেচনায় কোনো মামলার সুবিধা দেওয়া হবে কি না—এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি কঠোর অবস্থান ব্যক্ত করেন। মন্ত্রী স্পষ্ট জানিয়ে দেন, অভিযুক্ত ব্যক্তি যত বড় রাজনৈতিক নেতাই হোন না কেন, ধর্ষণের মতো গুরুতর অভিযোগে দায়ের করা কোনো মামলা প্রত্যাহার করা হবে না। এ ছাড়া দেশের সীমান্ত পরিস্থিতির অগ্রগতি তুলে ধরে মন্ত্রী জানান, বর্তমানে সীমান্তে বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ড (এক্সট্রা জুডিশিয়াল কিলিং) শূন্যের কোঠায় নেমে এসেছে। অন্যদিকে, সদ্য পদত্যাগ করা সাবেক রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিনের বিরুদ্ধে মামলা হওয়ার বিষয়ে আইনমন্ত্রীর দৃষ্টি আকর্ষণ করেন সাংবাদিকেরা। তবে সাবেক এই রাষ্ট্রপতির আইনি বিষয়ে এখনই কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি তিনি। স্বাস্থ্যগত কারণ দেখিয়ে সম্প্রতি রাষ্ট্রপতির পদ থেকে ইস্তফা দেন মো. সাহাবুদ্দিন। ২০২৩ সালের ২৪ এপ্রিল দেশের ২২তম রাষ্ট্রপতি হিসেবে বঙ্গভবনের দায়িত্ব নিয়েছিলেন তিনি। স্বাভাবিক নিয়মে ২০২৮ সালের এপ্রিলে তার পাঁচ বছরের মেয়াদ শেষ হওয়ার কথা থাকলেও নির্ধারিত সময়ের আগেই তিনি পদত্যাগ করেন। সংবিধানের বিধান অনুযায়ী, রাষ্ট্রপতির পদ শূন্য হলে নতুন কেউ নির্বাচিত না হওয়া পর্যন্ত জাতীয় সংসদের স্পিকার সেই দায়িত্ব পালন করেন। সেই ধারাবাহিকতায় বর্তমান স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমেদ এখন ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। আইন অনুযায়ী, পদ শূন্য হওয়ার পরবর্তী ৯০ দিনের মধ্যে জাতীয় সংসদের সংসদ সদস্যদের ভোটে নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের বাধ্যবাধকতা রয়েছে। মো. সাহাবুদ্দিনের প্রায় তিন বছরের দায়িত্বকাল বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে অন্যতম ঘটনাবহুল সময় হিসেবে বিবেচিত। তার মেয়াদকালেই ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানে আওয়ামী লীগ সরকারের পতন ঘটে। এরপর অন্তর্র্বতী সরকারের শাসনকাল ও সবশেষ ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। দেশের ইতিহাসে স্বল্প সময়ের ব্যবধানে তিনজন সরকারপ্রধানকে শপথ পড়ানোর বিরল দৃষ্টান্তও রয়েছে তার নামের সঙ্গে।

২৫ই জুলাই, ২০২৬
হামের উপসর্গ নিয়ে আরও ৬ প্রাণহানি

হামের উপসর্গ নিয়ে আরও ৬ প্রাণহানি

দেশে গত ২৪ ঘণ্টায় (আজ সকাল ৮টা পর্যন্ত) হামের উপসর্গ নিয়ে ৬ শিশুর মৃত্যু হয়েছে। এই সময়ে হাম ও হামের উপসর্গ নিয়ে আক্রান্ত হয়েছে ৬৯১টি শিশু। শনিবার (২৫ জুলাই) বিকেলে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হাম-বিষয়ক হালনাগাদ প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে। বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, গত ২৪ ঘণ্টায় দেশে হামের উপসর্গ নিয়ে আরও ৬ শিশুর মৃত্যু হয়েছে। তবে নিশ্চিতভাবে হামে আক্রান্ত হয়ে কোনো শিশুর মৃত্যু হয়নি। এ নিয়ে গত ১৫ মার্চ থেকে এখন পর্যন্ত সারা দেশে হামের উপসর্গ নিয়ে মৃত্যু হয়েছে মোট ৭২১টি শিশুর। আর হামে আক্রান্ত হয়ে আরও ৯৫টি শিশু প্রাণ হারিয়েছে। অর্থাৎ হাম ও হামের উপসর্গ নিয়ে এই সময়ে মোট ৮১৬টি শিশু মারা গেছে। এছাড়া ২৪ ঘণ্টায় ৭৮ শিশু হামে আক্রান্ত হয়েছে, আর হামের উপসর্গজনিত রোগীর সংখ্যা ৬১৩। এই সময়ে ৫৮১ শিশু নতুন করে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে, আর হাসপাতাল থেকে ছাড়া পেয়েছে ৪৭৯ শিশু। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য বলছে, ১৫ মার্চ থেকে আজ পর্যন্ত মোট সন্দেহজনক হাম রোগীর সংখ্যা ১ লাখ ২২ হাজার ৭৬৩, আর নিশ্চিত হাম রোগীর সংখ্যা ১৫ হাজার ২৭২। এর মধ্যে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে মোট ১ লাখ ৫ হাজার ২৯৮ রোগী, যাদের মধ্যে ১ লাখ ১ হাজার ৫৩৫ জন ছাড়পত্র পেয়ে ইতোমধ্যে বাড়ি ফিরেছে।

২৫ই জুলাই, ২০২৬
জগন্নাথপুরের ছিলিমপুরে চিতা বাঘ আতঙ্ক

জগন্নাথপুরের ছিলিমপুরে চিতা বাঘ আতঙ্ক

সুনামগঞ্জের জগন্নাথপুর পৌরসভার ছিলিমপুর এলাকায় চিতা বাঘ সদৃশ একটি প্রাণী দেখা যাওয়ার খবরে স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে আতঙ্ক ও উৎকণ্ঠা দেখা দিয়েছে। স্থানীয়রা জানান, পৌরসভার ছিলিমপুর এলাকার নির্জন ও ঝোপঝাড় বেষ্টিত স্থানে হঠাৎ চিতা বাঘের মতো একটি প্রাণীকে ঘোরাফেরা করতে দেখেন কয়েকজন বাসিন্দা। বিষয়টি মুহূর্তের মধ্যে জানাজানি হয়ে গেলে পুরো এলাকায় আতঙ্ক দেখা দিয়েছে। নিরাপত্তার স্বার্থে সন্ধ্যার পর সাধারণ মানুষ ঘর থেকে বের হতে ভয় পাচ্ছেন এবং গবাদিপশু রক্ষা করা নিয়ে চরম বিপাকে পড়েছেন। স্থানীয় বাসিন্দা কামাল হোসেন জানান, চিতা বাঘের দেখা মেলার পর থেকেই পুরো এলাকার রাস্তাঘাট ফাঁকা হয়ে পড়েছে। বিশেষ করে শিশু ও গবাদিপশুর নিরাপত্তা নিয়ে তারা সবচেয়ে বেশি দুশ্চিন্তায় রয়েছেন। তিনি দ্রুত বন বিভাগের হস্তক্ষেপ এবং প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক পদক্ষেপ গ্রহণের দাবি জানান। জগন্নাথপুর পৌরসভার সাবেক প্যানেল চেয়ারম্যান সাফরুজ ইসলাম জানান, এলাকায় বাঘ দেখা গেছে এমন খবর পেয়ে বন বিভাগের কর্মকর্তারা এসেছেন। প্রাণীটিকে নিরাপদে উদ্ধার করার চেষ্টা চালানো হচ্ছে। সুনামগঞ্জ বন বিভাগের রেঞ্জ কর্মকর্তা সিরাজ উদ্দিন জানান, প্রাণীটি গত কয়েক দিন ধরেই এই এলাকায় অবস্থান করছে এবং বর্তমানে একটি গাছের ওপর রয়েছে। তবে উৎসুক লোকজনের ভিড়ের কারণে উদ্ধারকাজ ব্যাহত হচ্ছে। এলাকা থেকে মানুষজন না সরলে এটিকে নিরাপদে উদ্ধার করা সম্ভব হচ্ছে না।

২৫ই জুলাই, ২০২৬
গোয়াইনঘাটে সড়ক পরিদর্শনে মন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী

গোয়াইনঘাটে সড়ক পরিদর্শনে মন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী

সিলেটের গোয়াইনঘাট উপজেলার হাকুরবাজার-মানিকগঞ্জ সড়কের সংস্কার কাজ পরিদর্শন করেছেন প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান এবং শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী। শুক্রবার (২৪ জুলাই) সকাল ১০টায় সড়কটি পরিদর্শনকালে স্থানীয়দের উদ্দেশ্যে মন্ত্রী বলেন, আপনারা যদি রাস্তার দুই পাশ থেকে জায়গা ছাড়েন, তাহলে আমরা পুরো রাস্তা আরসিসি করবো। সড়ক পরিদর্শকালে সড়কটি দীর্ঘস্থায়ী ও টেকসই করতে আরসিসি নির্মাণের কোনো বিকল্প নেই। একই সঙ্গে কাপনা নদীর ওপর বিদ্যমান সেতুটি ভেঙে আরও প্রশস্ত ও আধুনিক সেতু নির্মাণের উদ্যোগ নিতে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের নির্দেশনা দেন মন্ত্রী।  এছাড়াও এই সড়কের জলাবদ্ধতা নিরসনের বিষয়ে মন্ত্রী স্থানীয়দের রাস্তার দুই পাশের গাছপালা পরিষ্কার রাখা এবং পর্যাপ্ত পানি নিষ্কাশনের ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে নির্দেশনা দেন মন্ত্রী। এসময় মন্ত্রী সড়ক টেকসই রাখতে নির্মাণকাজের পাশাপাশি কার্যকর ড্রেনেজ ব্যবস্থাও সচল রাখার নির্দেশনাও দেন। এ সময় উপস্থিত ছিলেন, সিলেট এলজিইডির নির্বাহী প্রকৌশলী মো. মামুন খান, গোয়াইনঘাট উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রতন কুমার অধিকারী, উপজেলা প্রকৌশলী হাসিব আহামেদ, গোয়াইনঘাট থানার অফিসার ইনচার্জ মো. ওমর ফারুক, উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মো. জসিম উদ্দিন,  উপজেলা যুবদলের আহ্বায়ক অ্যাডভোকেট শাহজাহান সিদ্দিকীসহ সাংবাদিক ও স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ। উল্লেখ্য, হাকুরবাজার-মানিকগঞ্জ সড়কের সংস্কার কাজ নিয়ে সচিত্র সিলেটে সংবাদ প্রকাশের শুক্রবার মন্ত্রী সড়কটির সংস্কার কাজ পরিদর্শন করেন।

২৫ই জুলাই, ২০২৬
জকিগঞ্জে পুলিশের অভিযান: গ্রেফতার ৫

জকিগঞ্জে পুলিশের অভিযান: গ্রেফতার ৫

সিলেটের জকিগঞ্জ উপজেলায় পৃথক অভিযানে ৫জনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। শুক্রবার (২৪ জুলাই) দিনগত রাতে জকিগঞ্জ থানা পুলিশ পৃথক অভিযান চালিয়ে উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাঁদের গ্রেফতার করে।  অভিযানের নেতৃত্ব দেন জকিগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মুহাম্মদ আব্দুর রাজ্জাক।  পুলিশ জানায়, জেলার অপরাধ দমন, মাদক ও চোরাচালান প্রতিরোধ এবং আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে পরিচালিত বিশেষ অভিযানের অংশ হিসেবে এ অভিযান চালানো হয়। গ্রেফতারকৃতরা হচ্ছে, একটি মামলার সন্দেহভাজন আসামি রাজিব বিশ্বাস (২১), শাহজাহান আহমদ (২২) ও এনাম আহমদ (৩০)। একটি সিআর মামলার পরোয়ানাভুক্ত আসামি মো. শিবুল আহমদ এবং পুলিশ আইন, ১৮৬১-এর ৩৪ ধারায় রনি আহমদ (১৯)।  গ্রেফতারকৃত রাজিব বিশ্বাসের বাড়ি কানাইঘাট উপজেলার দর্পনগর (পশ্চিম নালুহারা) গ্রামের বাসিন্দা। বর্তমানে তিনি জকিগঞ্জ উপজেলার খাসেরা এলাকায় বসবাস করেন। শাহজাহান আহমদের বাড়ি মানিকপুর ইউনিয়নের খলাদাপনিয়া গ্রামে, এনাম আহমদের বাড়ি একই ইউনিয়নের ব্রাহ্মণগ্রাম গ্রামে। শিবুল আহমদের বাড়ি গন্ধদত্ত গ্রামে এবং রনি আহমদের বাড়ি জকিগঞ্জ পৌরসভার পঙ্গবট এলাকায়। জকিগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মুহাম্মদ আব্দুর রাজ্জাক বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, গ্রেফতারকৃত পাঁচজনকে আদালতে পাঠানো হয়েছে। 

২৫ই জুলাই, ২০২৬
বিশ্বনাথে উল্টো রথযাত্রা সম্পন্ন

বিশ্বনাথে উল্টো রথযাত্রা সম্পন্ন

সিলেটের বিশ্বনাথে ব্যাপক উৎসাহ-উদ্দীপনা ও কড়া নিরাপত্তার মধ্য দিয়ে সনাতন ধর্মাবলম্বীদের উল্টো রথযাত্রা উৎসব সম্পন্ন হয়েছে। শুক্রবার (২৪ জুলাই) উপজেলার বিভিন্ন মন্দিরে বর্ণাঢ্য আয়োজনে এ রথযাত্রা অনুষ্ঠিত হয়। জানাগেছে, শুক্রবার দুপুর সোয়া তিনটায় থেকে বিকাল ৪টায় পর্যন্ত উপজেলার জানাইয়া মডেল মন্দির ,দিঘলী মন্দির ধীতপুর মন্দিরে ভক্তদের অংশ গ্রহনে রথযাত্রা সম্পন্ন হয়। ভক্তদের ঢল বিকাল গড়াতেই মন্দিরগুলোর সামনের সড়কগুলোতে রথ দর্শন ও টানার জন্য ভক্তবৃন্দের ঢল নামে। রথগুলো উপজেলা শহরের প্রধান সড়কগুলো প্রদক্ষিণ করে পুনরায় নিজ নিজ মন্দিরে গিয়ে শেষ হয়।  বিশ্বনাথ থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) গাজী মাহবুবুর  রহমান বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, উৎসবমুখর পরিবেশে উল্টো রথযাত্রা সম্পন্ন হয়েছে।

২৫ই জুলাই, ২০২৬
গোয়াইনঘাটে ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযান:  ড্রেজার ধ্বংস

গোয়াইনঘাটে ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযান: ড্রেজার ধ্বংস

সিলেটের গোয়াইনঘাট উপজেলার হাদারপাড় বালুমহালের নতুন ভাঙা হাওড় এলাকায় ভ্রাম্যমাণ আদালত অভিযান চালিয়ে একটি ড্রেজার মেশিন ভেঙ্গে অকেজো করা হয়েছে এবং একজনকে ৫০ হাজার টাকা অর্থদ- প্রদান করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার (২৩ জুলাই) বিকালে উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও ভ্রাম্যমাণ আদালতের বিচারক মো. জাকারিয়া হোসেন এ অভিযান চালান। সূত্র জানায়, বৃহস্পতিবার বিকালে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে উপজেলার হাদারপাড় বালুমহালের নতুন ভাঙা হাওড় এলাকায় অভিযান চালিয়ে অবৈধভাতে বালু ও পাথর উত্তোলনের সময় ভ্রাম্যমাণ আদালত অভিযান চালিয়ে একটি ড্রেজার মেশিন ধ্বংস ও ৫০ হাজার টাকা জরিমানা করেন। ভ্রাম্যমাণ আদালতকে গোয়াইনঘাট থানার একদল পুলিশ সদস্য সহযোগিতা করে। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রতন কুমার অধিকারী বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, অবৈধভাবে বালু ও পাথর উত্তোলন বন্ধে এ ধরনের ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযান নিয়মিত পরিচালনা করা হচ্ছে। জনস্বার্থে এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে।

২৫ই জুলাই, ২০২৬
সিলেটে সমাবেশের দিন ভাঙলো জামায়াত নেতৃত্বাধীন ‘১১ দলীয় জোট’

সিলেটে সমাবেশের দিন ভাঙলো জামায়াত নেতৃত্বাধীন ‘১১ দলীয় জোট’

গুঞ্জন সত্য করে ভাঙলো বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় জোট। আজ শনিবার (২৫ জুলাই) ১১ দলীয় জোট থেকে বেরিয়ে যায় দেশের অন্যতম ইসলামী রাজনৈতিক দল খেলাফত মজলিস। রাজধানীর ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ার্স ইন্সটিটিউট মিলনায়তনে দলটির কেন্দ্রীয় মজলিসে শূরার তৃতীয় সাধারণ অধিবেশনে এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয় বলে জানিয়েছেন প্রচার সম্পাদক প্রকৌশলী আব্দুল হাফিজ খসরু। এই ‘জোট’ ছাড়ার দিনে সিলেটে চলছে ১১ দলের বিভাগীয় সমাবেশ। খেলাফত মজলিসের বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে- এখন থেকে ১১ দলীয় ঐক্যের যাবতীয় কর্মসূচি থেকে খেলাফত মজলিস বিরত থাকবে। তবে ভবিষ্যতে বৃহত্তর ঐক্য গড়ে তোলার প্রয়োজন হলে বিষয়টি তারা বিবেচনা করবে। ওই বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়, ১১ দলীয় ঐক্য ছিলো মূলত নির্বাচনী সমঝোতা। নির্বাচন শেষ হয়ে যাওয়ায় এ ঐক্যের কার্যকারিতা বস্তুত শেষ হয়ে যায়। তবুও নির্বাচন শেষ হওয়ার পর ১১ দলীয় কিছু কর্মসূচিতে খেলাফত মজলিস অংশ নেয়। এখন থেকে ১১ দলীয় ঐক্যের যাবতীয় কর্মসূচি থেকে খেলাফত মজলিস বিরত থাকার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। ভবিষ্যতে দেশ, জাতি ও ইসলামের জন্য প্রয়োজন হলে বৃহত্তর ঐক্য গড়ে তোলার প্রয়াস-প্রচেষ্টা অব্যাহত থাকবে। খেলাফত মজলিসের আমির মাওলানা আব্দুল বাছিত আজাদের সভাপতিত্বে ও মহাসচিব ড. আহমদ আবদুল কাদেরের পরিচালনায় অধিবেশনে নায়েবে আমির মাওলানা সাখাওয়াত হোসাইন, মাওলানা আহমদ আলী কাসেমী, অধ্যাপক আবদুল্লাহ ফরিদ, অধ্যাপক সিরাজুল হক, মাওলানা সাইয়্যেদ ফেরদাউস বিন ইসহাক, মুফতি আবদুল হামিদ, যুগ্মমহাসচিব অ্যাডভোকেট জাহাঙ্গীর হোসাইন, মুহাম্মদ মুনতাসির আলী, এবিএম সিরাজুল মামুন, ড. মোস্তাফিজুর রহমান ফয়সল, অধ্যাপক মো. আব্দুল জলিল, সাংগঠনিক সম্পাদক অ্যাডভোকেট মিজানুর রহমান, মুফতি আবুল হাসান এমপিসহ কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদের সদস্য ও কেন্দ্রীয় মজলিসে শূরার সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।   এর আগে ১৩ জুন চট্টগ্রামে ১১ দলের বিভাগীয় সমাবেশের পর খেলাফত মজলিস আনুষ্ঠানিকভাবে জোটকে জানিয়ে দেয়, ভবিষ্যতে কোনো সমাবেশের ব্যানার বা প্রচারণায় যেন দলের নাম কিংবা নেতাদের নাম ব্যবহার না করা হয়। পরে রংপুরের একটি সমাবেশে নাম ব্যবহার করা হলে আপত্তির মুখে তা প্রত্যাহার করা হয়। এরপর থেকে জোটের কোনো কর্মসূচিতে খেলাফত মজলিসের নাম ব্যবহার করা হয়নি। এরপর গত বৃহস্পতিবার সিলেট জেলা শাখার সভাপতি মাওলানা নেহাল আহমদ জানিয়েছেন- শনিবার ঢাকায় খেলাফত মজলিসের কেন্দ্রীয় শূরা সদস্যদের বৈঠক অনুষ্ঠিত হবে। এ বৈঠকে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে- তারা ১১ দলের সঙ্গে থাকবে কী না।

২৫ই জুলাই, ২০২৬
লাক্কাতুরা থেকে টিবিগেট পর্যন্ত হচ্ছে বিকল্প সড়ক

লাক্কাতুরা থেকে টিবিগেট পর্যন্ত হচ্ছে বিকল্প সড়ক

শিল্প, বাণিজ্য, বস্ত্র ও পাটমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির এমপি জানিয়েছেন- সিলেট মহানগরের আম্বরখানা এলাকার যানজট নিরসনে লাক্কাতুরা থেকে টিবিগেট পর্যন্ত একটি বিকল্প সড়ক নির্মাণের পরিকল্পনা রয়েছে।  শনিবার (২৫ জুলাই) সকালে সিলেট সার্কিট হাউসে সিলেট সিটি কর্পোরেশন ও সড়ক ও জনপথ বিভাগের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী এ তথ্য জানান। এসময় তিনি আরও বলেন- সড়ক ও জনপথ (সওজ) বিভাগের আওতাধীন এবং আন্তঃজেলা সংযোগের সব গুরুত্বপূর্ণ সড়ক পর্যায়ক্রমে এ গ্রেডে উন্নীত করা হবে। জরাজীর্ণ সড়ক দ্রুত সংস্কার করা হবে। মন্ত্রী বলেন, “সিলেটের চলমান উন্নয়ন প্রকল্পগুলো নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে। পাশাপাশি নতুন কয়েকটি সড়ক নির্মাণের পরিকল্পনাও গ্রহণ করা হয়েছে। নগরীর ভেতরে সওজের আওতাধীন যেসব সড়ক দীর্ঘদিন ধরে জরাজীর্ণ অবস্থায় রয়েছে, সেগুলো দ্রুত সংস্কারের বিষয়ে প্রয়োজনীয় সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।” তিনি বলেন, “বর্ষা মৌসুম শেষ হওয়ার পরপরই এসব সড়ক পূর্ণমানে উন্নীত করার কাজ শুরু হবে। সিলেট-ফেঞ্চুগঞ্জ-রাজনগর-মৌলভীবাজার সড়ক প্রশস্তকরণের প্রকল্প গ্রহণ করা হচ্ছে। এছাড়া সাহেবের বাজার হয়ে খাদিম-কালাগুল সড়ক সংস্কারের উদ্যোগও নেওয়া হচ্ছে। বৈঠকে সিসিক প্রশাসক আব্দুল কাইয়ুম চৌধুরী বলেন- “আমরা নগরবাসীকে উন্নত নাগরিক সেবা দিতে চাই। কিন্তু সওজের আওতাধীন কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ সড়কের বেহাল অবস্থার কারণে মানুষ দীর্ঘদিন ধরে দুর্ভোগ পোহাচ্ছেন। এ সমস্যা সমাধানে মাননীয় মন্ত্রীর নেতৃত্বে আজকের বৈঠক অত্যন্ত ফলপ্রসূ হয়েছে।” আব্দুল কাইয়ুম চৌধুরী বলেন, “মাননীয় মন্ত্রী সিটি কর্পোরেশন এলাকার সওজের আওতাধীন সব গুরুত্বপূর্ণ সড়ক দ্রুত সংস্কারের নির্দেশ দিয়েছেন। সড়ক ও জনপথ বিভাগের কর্মকর্তারাও দ্রুত কাজ শুরু করার আশ্বাস দিয়েছেন। সিটি কর্পোরেশনের পক্ষ থেকে এ কাজে প্রয়োজনীয় সব ধরনের সহযোগিতা করা হবে।” পরিচ্ছন্ন, আধুনিক ও বাসযোগ্য নগর গঠনে নগরবাসীর সহযোগিতা কামনা করে সিসিক প্রশাসক বলেন- “ইতোমধ্যে আমরা অনেক সড়ক নির্মাণ, প্রশস্তকরণ ও সংস্কার করেছি। আরও কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ প্রকল্প অনুমোদনের প্রক্রিয়ায় রয়েছে। আগামী সেপ্টেম্বর থেকে এসব প্রকল্পের বাস্তবায়ন কাজ শুরু হবে।  বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন সিলেট উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান রেজাউল হাসান কয়েস লোদী, সিলেট জেলা পরিষদের প্রশাসক আবুল কাহের চৌধুরী শামীম, সুনামগঞ্জ জেলা পরিষদের প্রশাসক মিজানুর রহমান চৌধুরী, সিলেট সিটি কর্পোরেশনের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ রেজাই রাফিন সরকার, জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ আব্দুল্লাহ আল মামুন, সিলেট মহানগর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক ইমদাদ হোসেন চৌধুরী, সওজ সিলেট জোনের অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী আবু সাঈদ মো. নাজমুল হুদা, সিলেট সড়ক সার্কেলের তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী উৎপল সামন্ত, সিলেট, সুনামগঞ্জ ও মৌলভীবাজারের নির্বাহী প্রকৌশলীবৃন্দ এবং সিসিকের প্রধান প্রকৌশলী (ভারপ্রাপ্ত) মো. আলী আকবরসহ সংশ্লিষ্ট  কর্মকর্তারা।

২৫ই জুলাই, ২০২৬
সিলেটের জরাজীর্ণ সড়কগুলো দ্রুত সংস্কার : বাণিজ্যমন্ত্রী

সিলেটের জরাজীর্ণ সড়কগুলো দ্রুত সংস্কার : বাণিজ্যমন্ত্রী

শিল্প, বাণিজ্য, বস্ত্র ও পাটমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির এমপি বলেছেন- সিলেট নগরীতে সড়ক ও জনপথ (সওজ) বিভাগের আওতাধীন এবং আন্তঃজেলা সংযোগের সব গুরুত্বপূর্ণ সড়ক পর্যায়ক্রমে এ গ্রেডে উন্নীত করা হবে। জরাজীর্ণ সড়ক দ্রুত সংস্কার করা হবে। শনিবার (২৫ জুলাই) সকালে সিলেট সার্কিট হাউসে সিলেট সিটি কর্পোরেশন ও সড়ক ও জনপথ বিভাগের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব কথা বলেন। বৈঠকে সিলেট সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসক আব্দুল কাইয়ুম চৌধুরী উপস্থিত ছিলেন। মন্ত্রী বলেন, “সিলেটের চলমান উন্নয়ন প্রকল্পগুলো নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে। পাশাপাশি নতুন কয়েকটি সড়ক নির্মাণের পরিকল্পনাও গ্রহণ করা হয়েছে। নগরীর ভেতরে সওজের আওতাধীন যেসব সড়ক দীর্ঘদিন ধরে জরাজীর্ণ অবস্থায় রয়েছে, সেগুলো দ্রুত সংস্কারের বিষয়ে প্রয়োজনীয় সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।” তিনি আরও বলেন, “বর্ষা মৌসুম শেষ হওয়ার পরপরই এসব সড়ক পূর্ণমানে উন্নীত করার কাজ শুরু হবে। সিলেট-ফেঞ্চুগঞ্জ-রাজনগর-মৌলভীবাজার সড়ক প্রশস্তকরণের প্রকল্প গ্রহণ করা হচ্ছে। এছাড়া আম্বরখানা এলাকার যানজট নিরসনে লাক্কাতুরা থেকে টিবিগেট পর্যন্ত একটি বিকল্প সড়ক নির্মাণের পরিকল্পনা রয়েছে। সাহেবের বাজার হয়ে খাদিম-কালাগুল সড়ক সংস্কারের উদ্যোগও নেওয়া হচ্ছে।” সিসিক প্রশাসক আব্দুল কাইয়ুম চৌধুরী বলেন, “আমরা নগরবাসীকে উন্নত নাগরিক সেবা দিতে চাই। কিন্তু সওজের আওতাধীন কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ সড়কের বেহাল অবস্থার কারণে মানুষ দীর্ঘদিন ধরে দুর্ভোগ পোহাচ্ছেন। এ সমস্যা সমাধানে মাননীয় মন্ত্রীর নেতৃত্বে আজকের বৈঠক অত্যন্ত ফলপ্রসূ হয়েছে।” আব্দুল কাইয়ুম চৌধুরী বলেন, “মাননীয় মন্ত্রী সিটি কর্পোরেশন এলাকার সওজের আওতাধীন সব গুরুত্বপূর্ণ সড়ক দ্রুত সংস্কারের নির্দেশ দিয়েছেন। সড়ক ও জনপথ বিভাগের কর্মকর্তারাও দ্রুত কাজ শুরু করার আশ্বাস দিয়েছেন। সিটি কর্পোরেশনের পক্ষ থেকে এ কাজে প্রয়োজনীয় সব ধরনের সহযোগিতা করা হবে।” পরিচ্ছন্ন, আধুনিক ও বাসযোগ্য নগর গঠনে নগরবাসীর সহযোগিতা কামনা করে সিসিক প্রশাসক বলেন, “ইতোমধ্যে আমরা অনেক সড়ক নির্মাণ, প্রশস্তকরণ ও সংস্কার করেছি। আরও কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ প্রকল্প অনুমোদনের প্রক্রিয়ায় রয়েছে। আগামী সেপ্টেম্বর থেকে এসব প্রকল্পের বাস্তবায়ন কাজ শুরু হবে।” বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন সিলেট উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান রেজাউল হাসান কয়েস লোদী, সিলেট জেলা পরিষদের প্রশাসক আবুল কাহের চৌধুরী শামীম, সুনামগঞ্জ জেলা পরিষদের প্রশাসক মিজানুর রহমান চৌধুরী, সিলেট সিটি কর্পোরেশনের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ রেজাই রাফিন সরকার, জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ আব্দুল্লাহ আল মামুন, সিলেট মহানগর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক ইমদাদ হোসেন চৌধুরী, সওজ সিলেট জোনের অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী আবু সাঈদ মো. নাজমুল হুদা, সিলেট সড়ক সার্কেলের তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী উৎপল সামন্ত, সিলেট, সুনামগঞ্জ ও মৌলভীবাজারের নির্বাহী প্রকৌশলীবৃন্দ এবং সিসিকের প্রধান প্রকৌশলী (ভারপ্রাপ্ত) মো. আলী আকবরসহ সংশ্লিষ্ট  কর্মকর্তারা।

২৫ই জুলাই, ২০২৬
সিলেটে ওসি পরিচয়ে টাকা দাবি, পুলিশের জরুরি সতর্কবার্তা

সিলেটে ওসি পরিচয়ে টাকা দাবি, পুলিশের জরুরি সতর্কবার্তা

সিলেট মেট্রোপলিটন পুলিশের (এসএমপি) কোতোয়ালী মডেল থানার অফিসার ইনচার্জের (ওসি) ভুয়া পরিচয় দিয়ে একটি চক্র বিভিন্ন ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের কাছ থেকে টাকা দাবি করছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। এ বিষয়ে সাধারণ মানুষকে সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়েছে সিলেট মেট্রোপলিটন পুলিশ। শনিবার (২৫ জুলাই) এক বিজ্ঞপ্তিতে এসএমপি জানায়, 01870370935 নম্বরটি ব্যবহার করে কোতোয়ালী মডেল থানার অফিসার ইনচার্জের পরিচয় দিয়ে প্রতারক চক্র আর্থিক সুবিধা হাসিলের চেষ্টা করছে। এসএমপি স্পষ্ট করে জানিয়েছে- উক্ত মোবাইল নম্বরটি কোতোয়ালী মডেল থানার অফিসার ইনচার্জের (ওসি) নয়। বিজ্ঞপ্তিতে আরও অনুরোধ জানানো হয়েছে- উক্ত নম্বরটি থেকে কোনো ফোনকল বা বার্তা (SMS) পেলে সকলকে সর্বোচ্চ সতর্ক থাকতে হবে এবং কোনো ধরনের আর্থিক লেনদেন করা থেকে বিরত থাকতে হবে। প্রতারণার কৌশল হিসেবে কেউ টাকা দাবি করলে বা এ ধরনের ঘটনায় শিকার হলে দ্রুত নিকটস্থ থানায় যোগাযোগ করার নির্দেশ দিয়েছে পুলিশ প্রশাসন। পুলিশ জানায়- আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কোনো কর্মকর্তা ফোনে কখনোই টাকা দাবি করেন না। এমন ভুয়া কল বা মেসেজ পেলে দ্রুত ৯৯৯-এ অথবা নিকটস্থ থানায় অবহিত করুন।

২৫ই জুলাই, ২০২৬
জকিগঞ্জে মধ্যরাতে গ্রেফতার ৫

জকিগঞ্জে মধ্যরাতে গ্রেফতার ৫

সিলেটের জকিগঞ্জ উপজেলায় পৃথক অভিযানে একটি চুরির মামলার তিন সন্দেহভাজন আসামি, একটি মামলার পরোয়ানাভুক্ত এক আসামি এবং পুলিশ আইনে একজনসহ মোট পাঁচজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। শুক্রবার (২৪ জুলাই) দিবাগত মধ্যরাতে জকিগঞ্জ থানার একাধিক দল উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাঁদের গ্রেপ্তার করে। অভিযানের নেতৃত্ব দেন জকিগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মুহাম্মদ আব্দুর রাজ্জাক। পুলিশ জানায়- জেলার অপরাধ দমন, মাদক ও চোরাচালান প্রতিরোধ এবং আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে পরিচালিত বিশেষ অভিযানের অংশ হিসেবে এ অভিযান চালানো হয়। গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের মধ্যে চুরির একটি মামলার সন্দেহভাজন তিনজন হলেন- রাজিব বিশ্বাস (২১), শাহজাহান আহমদ (২২) ও এনাম আহমদ (৩০)। এছাড়া জকিগঞ্জ সিআর মামলার পরোয়ানাভুক্ত আসামি মো. শিবুল আহমদকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। পৃথক অভিযানে অভিযুক্ত রনি আহমদ (১৯)-কে আটক করে পুলিশ।  গ্রেপ্তার রাজিব বিশ্বাসের বাড়ি কানাইঘাট উপজেলার দর্পনগর (পশ্চিম নালুহারা) গ্রামে। বর্তমানে তিনি জকিগঞ্জ উপজেলার খাসেরা এলাকায় বসবাস করেন। শাহজাহান আহমদের বাড়ি মানিকপুর ইউনিয়নের খলাদাপনিয়া গ্রামে, এনাম আহমদের বাড়ি একই ইউনিয়নের ব্রাহ্মণগ্রাম গ্রামে। শিবুল আহমদের বাড়ি গন্ধদত্ত গ্রামে এবং রনি আহমদের বাড়ি জকিগঞ্জ পৌরসভার পঙ্গবট এলাকায়। জকিগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মুহাম্মদ আব্দুর রাজ্জাক বলেন- গ্রেফতারকৃত পাঁচজনকে আইনগত প্রক্রিয়া শেষে আদালতে পাঠানো হয়েছে। (রিপোর্ট : জুবায়ের আহমদ)

২৫ই জুলাই, ২০২৬
সাম্প্রদায়িক সম্পৃতির ঐতিহ্য রক্ষায় সবাইকে কাজ করতে হবে : এমপি এমরান চৌধুরী

সাম্প্রদায়িক সম্পৃতির ঐতিহ্য রক্ষায় সবাইকে কাজ করতে হবে : এমপি এমরান চৌধুরী

ইতিহাস, ঐতিহ্য ও পরম্পরার ধারাবাহিকতায় সিলেটের বিয়ানীবাজার পৌর এলাকার সুপাতলা গ্রামের প্রাচীন দেবপীঠ শ্রীশ্রী বাসুদেব মন্দির প্রাঙ্গণে ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্য ও উৎসবমুখর পরিবেশে পবিত্র উল্টো রথযাত্রা উৎসব অনুষ্ঠিত হয়েছে। শুক্রবার (২৪ জুলাই) বিকেলে বাসুদেব রথযাত্রা উদযাপন কমিটির আয়োজনে এই উল্টো রথযাত্রা সম্পন্ন হয়।  বিয়ানীবাজার সরকারি কলেজের অবসরপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ প্রফেসর দ্বারকেশ চন্দ্র নাথের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন সিলেট-৬ (বিয়ানীবাজার-গোলাপগঞ্জ) আসনের সংসদ সদস্য ও জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক অ‍্যাডভোকেট এমরান আহমদ চৌধুরী। তিনি বলেন, শ্রীশ্রী বাসুদেব মন্দিরের রথযাত্রা ও উল্টো রথযাত্রা বিয়ানীবাজারের অন্যতম প্রাচীন ধর্মীয় ও সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য। সম্প্রীতি, সৌহার্দ্য ও পারস্পরিক সহাবস্থানের এই উৎসব যুগ যুগ ধরে সকল সম্প্রদায়ের মানুষের মিলনমেলায় পরিণত হয়েছে। এ ঐতিহ্য রক্ষায় সবাইকে সম্মিলিতভাবে কাজ করার আহ্বান করছি। অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন বাংলাদেশ হিন্দু-বৌদ্ধ-খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদের কেন্দ্রীয় কমিটির সাংগঠনিক সম্পাদক মলয় পুরকায়স্থ, জেলা বিএনপির সহ-সভাপতি নজমুল হোসেন পুতুল, শিশু-বিষয়ক সম্পাদক সিদ্দিক আহমদ, উপজেলা বিএনপির সভাপতি অ্যাডভোকেট আহমদ রেজা, সহ-সভাপতি হারুনুর রশিদ, ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক গিয়াস উদ্দিন, সাংগঠনিক সম্পাদক ও তিলপাড়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মাহবুবুর রহমান, সাবেক পৌর কাউন্সিলর মিসবাহ উদ্দিন। পূজারি বিপ্লব দেবের পরিচালনায় অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য দেন পূজারি অমিতাভ পাল চৌধুরী ও শুভেচ্ছা বক্তব্য দেন উদযাপন কমিটির সদস্য সচিব বিপ্লব ধর।   (রিপোর্ট : আহমদ রেজা)

২৫ই জুলাই, ২০২৬
সিলেটে খানিকটা স্বস্তি

সিলেটে খানিকটা স্বস্তি

গত ৪৮ ঘণ্টায় সিলেট বিভাগে হাম বা উপসর্গে কোনো শিশু মারা যায়নি। এতে সিলেটজুড়ে কিছু কিছুটা স্বস্তি বিরাজ করছে। এছাড়া সর্বশেষ ২৪ ঘণ্টায় (গতকাল শুক্রবার সকাল থেকে আজ শনিবার সকাল পর্যন্ত) নতুন করে কোনো ল্যাব নিশ্চিত রোগীও শনাক্ত হননি। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সিলেট বিভাগের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী- গত ২৪ ঘণ্টায় বিভাগে হামের উপসর্গ নিয়ে নতুন করে ৪৭ জন রোগী হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। এদের মধ্যে শহীদ শামসুদ্দিন আহমদ হাসপাতালে ২৭ জন, ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ১৫ জন, মৌলভীবাজার জেলা সদর হাসপাতালে ৩ জন এবং সুনামগঞ্জ জেলা সদর হাসপাতালে ২ জন নতুন রোগী ভর্তি হন। বর্তমানে হামের উপসর্গ নিয়ে সিলেট বিভাগের বিভিন্ন হাসপাতালে মোট ২২৯ জন রোগী চিকিৎসাধীন রয়েছেন। এদের মধ্যে সিলেটে ডা. শহিদ শামসুদ্দিন আহমদ হাসপাতালে ৭২ জন, ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ৭৯ জন, সুনামগঞ্জ জেলা সদর হাসপাতালে ৩০ জন, মৌলভীবাজার জেলা সদর হাসপাতালে ১৬ জন, সিলেটের রাগীব রাবেয়া মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ১০ জন, সিলেট নর্থ ইস্ট হাসপাতালে ৮ জন, মাউন্ট এডোরা হাসপাতালে ৩ জন, সিলেট লায়ন্স হাসপাতালে ৩ জন, হবিগঞ্জের লাখাই উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ৩ জন, সিলেটের ফেঞ্চুগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ২ জন, হবিগঞ্জ জেলা সদর হাসপাতালে ২ জন ও সিলেটের গোলাপগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ১ জন। এদিকে, চলতি বছরের শুরু থেকে অদ্যাবধি সিলেট বিভাগে মোট ল্যাব নিশ্চিত কেসের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৫৯১ জনে। এর মধ্যে সিলেট জেলায় ১৯৬ জন, হবিগঞ্জে ৬১ জন (যার মধ্যে ২ জন রুবেলা আক্রান্ত), মৌলভীবাজারে ২৭ জন এবং সবচেয়ে বেশি সুনামগঞ্জ জেলায় ৩০৭ জন আক্রান্ত হয়েছেন। অপরদিকে, এখন পর্যন্ত হাম ও উপসর্গ নিয়ে সিলেট বিভাগে মারা গেছেন ১০৮ জন। এদের মধ্যে সরাসরি হাম রোগে ৪ ও বাকিরা উপসর্গে মারা গেছেন।

২৫ই জুলাই, ২০২৬
সচিত্র সিলেটে প্রতিবেদন : সংস্কার হচ্ছে গোলাপগঞ্জ চৌমুহনীর সড়ক

সচিত্র সিলেটে প্রতিবেদন : সংস্কার হচ্ছে গোলাপগঞ্জ চৌমুহনীর সড়ক

সিলেটের গোলাপগঞ্জ উপজেলার চৌমুহনী এলাকার ঝুঁকিপূর্ণ সড়কের গর্তগুলোতে অবশেষে সংস্কারকাজ শুরু করেছে সড়ক ও জনপথ (সওজ) বিভাগ। দীর্ঘদিন ধরে বেহাল অবস্থায় পড়ে থাকা সড়কটি নিয়ে জনদুর্ভোগ, দুর্ঘটনার ঝুঁকি এবং ব্যবসা-বাণিজ্যের ক্ষতির বিষয়টি তুলে ধরে দৈনিক সচিত্র সিলেটে সংবাদ প্রকাশের পর এ সংস্কার কাজ শুরু হয়। দেখা যায়- চৌমুহনীতে প্রবেশমুখ, ফুলবাড়ী সংযোগ সড়ক এবং চৌমুহনী পয়েন্টের ক্ষতিগ্রস্ত অংশে বড় বড় গর্তে ভাঙা ইট, খোয়া ও রাস্তার নির্মাণসামগ্রী ফেলে অস্থায়ীভাবে ভরাটের কাজ চলছে। কয়েকজন শ্রমিককে সড়কের ক্ষতিগ্রস্ত অংশ মেরামতে ব্যস্ত দেখা যায়। চৌমুহনী জামে মসজিদ-এর কোষাধ্যক্ষ আনছার আহমদ জানান, টানা বর্ষণে সড়কের বিভিন্ন স্থানে বড় গর্ত সৃষ্টি হওয়ায় প্রতিদিন যানবাহন চলাচলে জামের সৃষ্টি হয়। আর তীব্র যনজট লেগে গেলে মসজিদ-এর পাশে অতিরিক্ত হর্ণ-এর জন্য নামাজীদের সমস্যা হতো। তবে আশা করছি- সমস্যাটি এখন দুর হবে। স্হানীয় ব্যবসায়ী শরিফ আহমদ বলেন,"সড়কের বেহাল অবস্থার কারণে বিয়ানীবাজার, জকিগঞ্জ, কানাইঘাট ও আশপাশের এলাকার অনেক ক্রেতা গোলাপগঞ্জ বাজারে আসতে চায় না। এতে ব্যবসা-বাণিজ্যেও নেতিবাচক প্রভাব পড়ছিলো। তবে বর্তমানের অস্থায়ী সংস্কার কতদিন টিকবে তা জানা নেই। ভাঙা ইট আর রাস্তার ডাস্ট ফেলে আর কতটুকু ভরসা করা যাবে।" স্হানীয় সচেতন মহলের দাবি, আপাতত গর্ত ভরাটের উদ্যোগ ইতিবাচক হলেও বর্ষা শেষে দ্রুত টেকসইভাবে পুরো সড়ক সংস্কার করতে হবে। অন্যথায় অল্প দিনের মধ্যেই একই সমস্যা আবার দেখা দিতে পারে। এ বিষয়ে গোলাপগঞ্জ সড়ক উপ-বিভাগ-এর উপবিভাগীয় প্রকৌশলী মোহাম্মদ ইকবাল আহমেদ সচিত্র সিলেটকে জানান- সড়কটিতে মেরামতের কাজ চলমান রয়েছে।এটা একটি মহাসড়ক উন্নয়ন প্রকল্পের অন্তর্ভুক্ত বিধায় পরবর্তীতে স্থায়ী মেরামতের জন্য নতুন প্রকল্প ও বরাদ্দ লাগবে। এর আগে মঙ্গলবার (২১ জুলাই) "গোলাপগঞ্জ চৌমুহনী বেহাল" শিরোনামে দৈনিক সচিত্র সিলেটে একটি প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়। এতে টনক নড়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের।

২৪ই জুলাই, ২০২৬
সিলেটের স্বাস্থ্যসেবা সম্প্রসারণে বিভিন্ন পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে : মন্ত্রী মুক্তাদির

সিলেটের স্বাস্থ্যসেবা সম্প্রসারণে বিভিন্ন পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে : মন্ত্রী মুক্তাদির

সরকারের অগ্রাধিকারে স্বাস্থ্য খাত শীর্ষে রয়েছে জানিয়ে বাণিজ্য, শিল্প, পাট ও বস্ত্র মন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির এমপি বলেছেন, “আগামী দিনে ধাপে ধাপে এবং পর্যায়ক্রমে স্বাস্থ্যখাতে জিডিপির ৫ শতাংশ এবং শিক্ষাখাতেও ৫ শতাংশ করে বরাদ্দ দেওয়া হবে।” শুক্রবার (২৪ জুলাই) সিলেট সদর উপজেলার লাক্কাতুরাস্থ সিলেট সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ে চা শ্রমিকদের জন্য আয়োজিত দিনব্যাপী বিনামূল্যে মেডিক্যাল ক্যাম্প, পরিবার পরিকল্পনা, মা ও শিশু সেবা এবং চক্ষু ক্যাম্পের শুভ উদ্বোধন অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন। বর্তমান সরকারের বিগত পাঁচ মাসের বিভিন্ন উদ্যোগের কথা তুলে ধরে মন্ত্রী বলেন, “সিলেটের স্বাস্থ্যসেবা সম্প্রসারণে ইতিমধ্যে একাধিক পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। এর অংশ হিসেবে ২৫০ শয্যার হাসপাতাল চালুকরণের বিষয়টি অনুমোদিত হয়েছে এবং তা বর্তমানে প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। অচিরেই চা বাগান এলাকাগুলোতেও স্বাস্থ্যকেন্দ্র স্থাপন করা হবে, যাতে স্থানীয় বাসিন্দাদের সাধারণ চিকিৎসার জন্য আর শহরে ছুটতে না হয়।” যুক্তরাষ্ট্রের শুল্ক নীতি এবং পেট্রোলিয়াম পণ্যের দাম প্রসঙ্গে মন্ত্রী স্পষ্ট করে বলেন, “মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের পূর্বঘোষিত শুল্ক আইন অনুযায়ী ১৫০ দিনের মেয়াদ শেষ হওয়ায় নতুন নামে একই শুল্ক পুনর্বহাল করা হয়েছে। এটি মূলত পুরোনো শুল্কেরই একটি ‘রিপ্লেসমেন্ট’ বা প্রতিস্থাপন, নতুন কোনো অতিরিক্ত শুল্ক চাপানো হয়নি। ফলে শুল্ক পরিস্থিতিতে বাস্তবে কোনো পরিবর্তন আসছে না।”  তেলের দাম প্রসঙ্গে তিনি যোগ করেন, আন্তর্জাতিক বাজারে ওঠানামা সত্ত্বেও সরকার ভর্তুকি দিয়ে জ্বালানি সরবরাহ করছে এবং বর্তমানে তেলের দাম বাড়ানোর কোনো পরিকল্পনা সরকারের নেই। সিলেটের জেলা প্রশাসক আব্দুল আল মামুনের সভাপতিত্বে ও সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) খোশনূর রুবাইয়াৎ-এর পরিচালনায় অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন সিলেট-৬ আসনের সংসদ সদস্য এডভোকেট এমরান আহমদ চৌধুরী, সিলেট সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসক আব্দুল কাইয়ুম চৌধুরী, সিলেট উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান রেজাউল হাসান কয়েস লোদী, সিলেট জেলা পরিষদের প্রশাসক আবুল কাহের চৌধুরী শামীম, সুনামগঞ্জ জেলা পরিষদের প্রশাসক মিজানুর রহমান চৌধুরী, সিলেট মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি ডা. জিয়াউর রহমান চৌধুরী, মহানগর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক ইমদাদ হোসেন চৌধুরী, সদর উপজেলা বিএনপির সভাপতি আবুল কাশেম, সাধারণ সম্পাদক আজিজুর রহমান ও টুকেরবাজার ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান শফিকুর রহমান। দিনব্যাপী এই চিকিৎসা ক্যাম্পে সিলেটের বিভিন্ন চা বাগানের বিপুল সংখ্যক শ্রমিক ও সাধারণ মানুষ উপস্থিত হয়ে বিনামূল্যে স্বাস্থ্যসেবা, চোখের চিকিৎসা এবং পরিবার পরিকল্পনা সংক্রান্ত পরামর্শ গ্রহণ করেন।

২৪ই জুলাই, ২০২৬
কুশিয়ারার ভাঙ্গনে ক্ষতিগ্রস্তদের মাঝে অনুদান প্রদান

কুশিয়ারার ভাঙ্গনে ক্ষতিগ্রস্তদের মাঝে অনুদান প্রদান

সিলেটের গোলাপগঞ্জে নদীভাঙ্গনে ক্ষতিগ্রস্ত অসহায় মানুষদের মধ্যে অনুদান প্রদান করা হয়েছে। সিলেট -৬ আসনের সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট এমরান আহমদ চৌধুরীর সুপারিশে বৃহস্পতিবার (২৩ জুলাই) দুর্গযোগ ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের থেকে উপজেলার শরিফগঞ্জ ইউনিয়নের ১১জন ক্ষতিগ্রস্ত লোকদের মধ্যে ৫ হাজার টাকা করে অনুদানের চেক বিতরণ করা হয়। অনুদানের এই চেক ক্ষতিগ্রস্তদের হাতে আনুষ্ঠানিক ভাবে তুলে দেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. রফিকুল ইসলাম। এসময় উপস্থিত ছিলেন- উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা (পিআইও) মুহম্মদ হিরণ, উপজেলা প্রকৌশলী (এলজিইডি) মোহাম্মদ ইউসুফ হোসাইন খান, উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার দেওয়ান নাজমুল আলম, এমপি মহোদয়ের প্রতিনিধি উপজেলা বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আমিন উদ্দিন আহমদ,জেলা যুবদলের সহ সাংগঠনিক সম্পাদক আব্দুল আজিজ, উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা দলের যুগ্ম আহবায়ক শিপন মিয়া, শরিফগঞ্জ ইউনিয়ন বিএনপি নেতা সাবুল মিয়া ও বেলাল আহমদ প্রমুখ।  

২৪ই জুলাই, ২০২৬
সাংবাদিকদের সঙ্গে এমদাদ হোসেন টিপুর মতবিনিময়

সাংবাদিকদের সঙ্গে এমদাদ হোসেন টিপুর মতবিনিময়

গোলাপগঞ্জে কর্মরত সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময় করেছেন গোলাপগঞ্জ উপজেলা পরিষদের সম্ভাব্য চেয়ারম্যান প্রার্থী ও গোলাপগঞ্জ হ্যাল্পিং হ্যান্ডস ইউকের সভাপতি এমদাদ হোসেন টিপু। বৃহস্পতিবার (২৩ জুলাই) রাত ৮টায় জিবি টেলিভিশনের কার্যালয়ে এ মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়। মতবিনিময় সভায় এমদাদ হোসেন টিপু বলেন, গোলাপগঞ্জের বিভিন্ন সমস্যা কীভাবে সমাধান করা যায় এবং একটি সুস্থ, সুন্দর ও মানবিক সমাজ গড়ে তোলা যায়—এ লক্ষ্যেই তিনি কাজ করতে চান। নতুন প্রজন্মকে সঙ্গে নিয়ে তারেক রহমানের দৃষ্টিভঙ্গি অনুযায়ী একটি নতুন বাংলাদেশ গঠনে ভূমিকা রাখার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন তিনি। তিনি বলেন, ‘আমি সহজ-সরল ও সাধারণ জীবনযাপনে বিশ্বাসী। অবৈধ পয়সা আমার রক্তে নেই। দেশ ও জাতির কল্যাণে একটি সুন্দর সমাজ গঠন করতে চাই। দুর্নীতি ও মাদকমুক্ত সমাজ প্রতিষ্ঠা করতে চাই। টিপু বলেন, সমাজে বৈষম্য না করে সুষম বণ্টন নিশ্চিত করতে হবে। নতুন প্রজন্মকে মানবিক গুণাবলিতে সমৃদ্ধ করে গড়ে তুলতে হবে। এ জন্য প্রত্যেককে নিজের বিবেককে কাজে লাগিয়ে সমাজ, দেশ ও জাতি গঠনে ভূমিকা রাখতে হবে। তিনি আরও বলেন, ‘আমার দ্বারা কোনো মানুষের ক্ষতি হলে সাংবাদিকরা তা লেখালেখির মাধ্যমে তুলে ধরবেন। আমি চাই, সাংবাদিকরা স্বাধীনভাবে সমাজের অসঙ্গতি ও সমস্যাগুলো তুলে ধরুন। গোলাপগঞ্জের উন্নয়ন ও মানুষের কল্যাণে গণমাধ্যমের সহযোগিতা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।’ মতবিনিময় সভায় তিনি তার রাজনৈতিক ও সামাজিক কর্মকাণ্ডের বিভিন্ন দিক তুলে ধরেন। এ সময় গোলাপগঞ্জে শিক্ষা, স্বাস্থ্য, মাদক, দুর্নীতি, বেকারত্বসহ বিভিন্ন সামাজিক সমস্যা নিয়ে আলোচনা হয়। সভায় গোলাপগঞ্জে কর্মরত বিভিন্ন গণমাধ্যমের সাংবাদিকরা উপস্থিত ছিলেন।

২৪ই জুলাই, ২০২৬
যে কাজ করে প্রশংসায় ভাসছেন সিলেটের নারী ইউএনও

যে কাজ করে প্রশংসায় ভাসছেন সিলেটের নারী ইউএনও

অহেতুক অর্থ ব্যয় না হওয়া পৌনে দুই কোটি টাকা সরকারি কোষাগারে ফেরত দিয়ে প্রশংসায় ভাসছেন সিলেট বিভাগের মৌলভীবাজার জেলার কুলাউড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সানজিদা আক্তার। খাল খনন প্রকল্পের কাজ শেষে বেঁচে যাওয়া এক কোটি ৭৩ লাখ টাকা সরকারি কোষাগারে ফেরত দিয়েছেন তিনি।  বৃহস্পতিবার (২৩ জুলাই) বিকেলে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সানজিদা আক্তার বিষয়টি নিশ্চিত করেন। উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা (পিআইও) রাজু চন্দ্র পাল জানান- উপজেলা প্রশাসন ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা অধিদপ্তরের বাস্তবায়নে ভূকশিমইল, বরমচাল ও ভাটেরা ইউনিয়নের চকিরমোড়া এলাকা থেকে উত্তরমুখী আন ফানাই পর্যন্ত প্রায় আট কিলোমিটার দীর্ঘ খাল খননের উদ্যোগ নেওয়া হয়। প্রকল্পের আওতায় ৩ দশমিক ০৯ কিলোমিটার খাল খননের জন্য দুই কোটি ৬ লাখ ৩ হাজার ৮০ টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়। নির্ধারিত মান বজায় রেখে ৭৫০ মিটার খননকাজ সম্পন্ন করতে প্রায় ৩২ লাখ টাকা ব্যয় হয়। টানা বৃষ্টিপাতের কারণে প্রকল্পের অবশিষ্ট অংশের কাজ সম্পন্ন করা সম্ভব হয়নি। ফলে অব্যয়িত এক কোটি ৭৩ লাখ টাকা সরকারি আর্থিক বিধিমালা অনুযায়ী কোষাগারে ফেরত দেওয়া হয়েছে। এর বিষেয়ে ইউএনও সানজিদা আক্তার বলেন- ‌‘সরকারি অর্থ জনগণের আমানত। প্রকল্পের প্রয়োজনীয় ব্যয় নিশ্চিত করে কাজ বাস্তবায়ন করা হয়েছে। কাজ শেষে যে অর্থ অব্যয়িত ছিল সরকারি বিধি অনুযায়ী তা কোষাগারে ফেরত দেওয়া হয়েছে।’ তিনি আরও জানান- বৃষ্টির কারণে অসমাপ্ত খননকাজ শেষ করার জন্য সংশ্লিষ্ট দপ্তরে পুনরায় বরাদ্দ চেয়ে আবেদন করা হয়েছে।

২৪ই জুলাই, ২০২৬
সিলেটে তুহিন হত্যাকাণ্ড : ৭ বছরেও বিচার পায়নি পরিবার

সিলেটে তুহিন হত্যাকাণ্ড : ৭ বছরেও বিচার পায়নি পরিবার

একটি পরিবারের সব স্বপ্নকে ঘিরে ছিল একমাত্র ছেলে তানভীর হোসেন তুহিনকে। পড়াশোনা শেষ করে পুলিশ কর্মকর্তা হওয়ার স্বপ্ন দেখতেন ১৯ বছর বয়সী এই তরুণ। কিন্তু একটি জুতাকে কেন্দ্র করে সহপাঠীদের সঙ্গে বিরোধের জেরে সেই স্বপ্নের অকাল সমাপ্তি ঘটে। ২০১৯ সালের ২৪ জুলাই সিলেট কারিগরি প্রশিক্ষণ কেন্দ্রে হত্যাকান্ডে প্রাণ হারান তুহিন। এরপর কেটে গেছে দীর্ঘ সাত বছর। কিন্তু আজও বিচার পায়নি তার পরিবার। একমাত্র ছেলেকে হারানোর শোকে কিছুদিন পর স্ট্রোক করে শয্যাশায়ী হয়ে পড়েন বাবা মানিক মিয়া। আর মা ও বোনের কণ্ঠে আজও একটাই দাবি—তুহিন হত্যায় জড়িতদের দ্রুত আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করা হোক। তানভীর হোসেন তুহিন গোলাপগঞ্জ উপজেলার হেতিমগঞ্জের কোনাচর দক্ষিণভাগ পলিতাফর গ্রামের প্রবাসী মানিক মিয়ার ছেলে। এক মেয়ে ও এক ছেলেকে নিয়ে ছিল মানিক মিয়া ও রিনা বেগমের সংসার। ছেলে ও মেয়েকে ঘিরে ছিল পরিবারের নানা স্বপ্ন। তবে সেই স্বপ্ন আর পূরণ হয়নি। ২০১৯ সালের ২৪ জুলাই দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে সিলেট কারিগরি প্রশিক্ষণ কেন্দ্রে ঘটে যায় নির্মম ওই হত্যাকাণ্ড।  জানা যায়, তুহিন সিলেট এমসি কলেজের ডিগ্রি প্রথম বর্ষের শির্ক্ষাথী ছিল। সিলেট কারিগরি প্রশিক্ষণ কেন্দ্রে ছয় মাস মেয়াদী বেসিক কম্পিউটার প্রশিক্ষণ কোর্সে ২৮তম ব্যাচে ভর্তি হয় সে। ঘটনার দিন প্রশিক্ষণ কেন্দ্রে প্রবেশের সময় নির্ধারিত স্থানে জুতা রেখে কম্পিউটার ল্যাবে প্রবেশ করেন তুহিন। ল্যাব থেকে বের হয়ে নির্ধারিত স্থানে জুতা না পেয়ে খোঁজ করতে থাকেন। একপর্যায়ে রাহাত সাদী কামরান নামে অন্য এক প্রশিক্ষণার্থীর পায়ে দেখতে নিজের দাবি করেন। প্রশিক্ষকের মধ্যস্থতায় জুতা ফেরত প্রদান করা হয়। এ ঘটনার রেশ ধরেই পরিকল্পিতভাবে প্রশিক্ষণ কেন্দ্রের ভেতরে কেন্টিনের সামনে পিঠিয়ে গুরুতর আহত করা হয়। তাৎক্ষনিক সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসা শেষে গুরুতর আহত অবস্থায় উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকায় নেয়ার সময় ভৈরব এলাকায় মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়ে। এ ঘটনায় তুহিনের চাচা নাজিম উদ্দিন বাদী হয়ে ১০ জনের নাম উল্লেখ করে অজ্ঞাত আরও ২-৩ জনকে আসামি করে মোগলাবাজার থানায় মামলা (নং-৮ তারিখ-২৪/০৭/২০১৯) করেন। আসামীরা হলেন, দক্ষিণ সুরমার আলমপুর গ্রামের মজিবুর রহমানের ছেলে এমদাদুর রহমান, গোলাপগঞ্জের হাজীপুর এওলাটিকর গ্রামের সেলিম উদ্দিনের ছেলে রাহাত সাদী কামরান, দক্ষিণ সুরমার কদমতলী গ্রামের আব্দুল হালিমের ছেলে আবু কুদরত তায়েফ, আলমপুর গ্রামের আবুল হোসেনের ছেলে কামরুল ইসলাম, একই গ্রামের সজ্জাদ আলীর ছেলে আজাদ আল রাহি, ময়মনসিংহ জেলার গৌরীপুর উপজেলার বারাকান্দি গ্রামের হারুনুর রশীদের ছেলে ফারুক আহমদ, গোয়াইনঘাট উপজেলার রাজনগর গ্রামের সাহাব উদ্দিনের ছেলে ফেরদৌস মাহমুদ, দক্ষিণ সুরমার মির্জানগর গ্রামের দুলু মিয়ার ছেলে সায়েম আহমদ, জকিগঞ্জ উপজেলার বলরামেরচক গ্রামের দেলু নাথের ছেলে বাবুল নাথ এবং পালপুর গ্রামের আলমাছ হোসেনের ছেলে শিহাব হোসেন। মামলার ৪ আসামিকে গ্রেফতার করা হলেও রহস্যজনক কারনে অধিকাংশকেই গ্রেফতার করা হয়নি। গ্রেফতারকৃত ৪ আসামীই বর্তমানে জামিনে বেরিয়ে পালিয়ে রয়েছেন।  তাদের অনেকের বিরুদ্ধে জারি হয়েছে গ্রেফতারী পরোয়ানা। কেউ হাজিরা দিচ্ছেন শুনানির দিনে। ঘটনার ইতিমধ্যে পেরিয়ে গেছে ৭বছর। এখনো বিচার পায়নি নিহত তুহিনের পরিবার। অধরা রয়ে গেছেন আসামীরা। ঘটনার সাথে জড়িতদের আইনের আওতায় এনে বিচারের দাবি জানিয়েছে ভুক্তভোগী পরিবার। এদিকে নিহত তুহিনের পিতা মানিক মিয়া দীর্ঘ ৭ বছর থেকে ছেলে হারাবার শোকে স্ট্রোক করে শয্যাশয়ী রয়েছেন। ঘটনার সময় তিনি সৌদি আরবে ছিলেন। প্রায় সপ্তাহ খানেক পরে দেশে ফিরে আসেন তিনি। একমাত্র ছেলে কে হারিয়ে নিস্তব্দ হয়ে পড়েন। কিছুদিন পর স্ট্রোক করেন। বর্তমানে শয্যাশয়ী অবস্থায় রয়েছেন। তুহিন হত্যাকান্ডের সাথে জড়িতদের আইনের আওতায় এনে ফাঁসির দাবি করেন তিনি। মা রিনা বেগম দ্রুত হত্যাকারীদের বিচারের আওতায় এনে শাস্তি নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্টদের প্রতি দাবি জানান তিনি। নিহত তুহিনের বোন ও কাওছারাবাদ কলেজের শিক্ষিকা সাবেরা খানম উর্মী জানান, ‘৭বছর পার হয়ে গেল, একমাত্র ভাই হত্যার বিচার আজও পেলাম না। বোন হিসেবে আমার একটাই চাওয়া আসামিদের দ্রত গ্রেফতার করে বিচারের আওতায় আনা হোক।’ মামলার বাদীপক্ষের আইনজীবী অ্যাডভোকেট ইয়ামিন চৌধুরী বলেন, ‘মামলাটির সাক্ষ্যগ্রহণ চলছে। দীর্ঘ সময় পেরিয়ে গেলেও মামলার বিচারিক কার্যক্রম এখনো শেষ হয়নি। আমরা আশা করছি, সাক্ষ্যগ্রহণসহ মামলার অন্যান্য কার্যক্রম দ্রুত সম্পন্ন করে বিচারিক প্রক্রিয়া এগিয়ে নেওয়া হবে।’

২৩ই জুলাই, ২০২৬
দুই উপজেলায় শিক্ষার হারানো গৌরব ফেরাতে মরিয়া এমপি এমরান চৌধুরী

দুই উপজেলায় শিক্ষার হারানো গৌরব ফেরাতে মরিয়া এমপি এমরান চৌধুরী

নির্বাচনের আগে অ্যাডভোকেট এমরান আহমদ চৌধুরীর অঙ্গীকার ছিলো- বিজয়ী হলে গোলাপগঞ্জ ও বিয়ানীবাজারের শিক্ষার হারানো গৌরব ফেরাতে সচেষ্ট হবেন। সেই পথেই এখন হাঁটছেন সিলেট-৬ আসনের সাংসদ। এমপি হওয়ার ৬ মাসের মাথায় তাঁর নির্বাচনি এলাকাধীন বিয়ানীবাজার উপজেলার খাসা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় অর্জন করে দেশসেরা পদক।  জাতীয় পর্যায়ে ‘প্রাথমিক শিক্ষা পদক-২০২৬’ অর্জন করায় খাসা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়কে উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে বৃহস্পতিবার (২৩ জুলাই) সংবর্ধনা দেওয়া হয়। এতে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সিলেট-৬ আসনের সংসদ সদস্য ও জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট এমরান আহমদ চৌধুরী। প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি বলেন- জাতীয় পর্যায়ে বিয়ানীবাজারের একটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের এই অর্জন শুধু উপজেলার নয়, সমগ্র সিলেটবাসীর জন্য গর্বের।  তিনি আরও বলেন- একটি বিদ্যালয়ের জাতীয় শ্রেষ্ঠত্ব অর্জনের পেছনে শিক্ষক, শিক্ষার্থী, অভিভাবক এবং স্থানীয় জনগণের সম্মিলিত প্রচেষ্টা রয়েছে। মানসম্মত শিক্ষা নিশ্চিত করতে সবাইকে একইভাবে কাজ করে যেতে হবে। এই সাফল্য অন্য শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোকেও অনুপ্রাণিত করবে এবং শিক্ষার মানোন্নয়নে ইতিবাচক প্রতিযোগিতার পরিবেশ সৃষ্টি করবে। ​উপজেলা নির্বাহী অফিসার উম্মে হাবিবা মজুমদার-এর সভাপতিত্বে এবং শিক্ষক তন্ময় পাল চৌধুরী ও প্রাক্তন শিক্ষার্থী রায়হান আলম সাজুর যৌথ সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন- বিয়ানীবাজার আদর্শ মহিলা কলেজের অধ্যক্ষ মুজিবুর রহমান, বিয়ানীবাজার থানার অফিসার ইনচার্জ আবু জাফর মো. মাহফুজুল কবির, প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা নৃপেন্দ্র নাথ তালুকদার, জেলা বিএনপির শিশু-বিষয়ক সম্পাদক ছিদ্দিক আহমদ, উপজেলা বিএনপির সভাপতি আহমেদ রেজা, উপজেলা জামায়াতের আমির মোস্তফা উদ্দিন, বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক হাফসা বেগম, সমাজকর্মী হুমায়ুন কবির আখিল, সহকারী প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা পারভেজ তালুকদার, অভিভাবক সদস্য সারোয়ার হোসেন ও হোসাইন আহমদ।  ​অনুষ্ঠানের শুরুতে বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণে জাতীয় সংগীত পরিবেশন, বিতর্ক প্রতিযোগিতা, নাচ-গান সহ এক মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান পরিবেশিত হয়। অপরদিকে, বৃহস্পতিবার বিকালে সুদমুক্ত ক্ষুদ্রঋণ, ভিক্ষুক পুনর্বাসন কর্মসূচির আওতায় বিয়ানীবাজারে সমাজসেবা অধিদপ্তরের উদ্যোগে ছাগল, সুবর্ণ নাগরিক কার্ড এবং প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের মাঝে হুইলচেয়ার বিতরণ করেন অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি এমপি এমরান আহমদ চৌধুরী। উপজেলা পরিষদ মিলনায়তনে এই অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।  বিয়ানীবাজার উপজেলা নির্বাহী অফিসার উম্মে হাবিবা মজুমদারের সভাপতিত্বে ও উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা অনুজ চক্রবর্তীর পরিচালনায় অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন- বিয়ানীবাজার থানার ওসি আবু জাফর মো. মাহফুজুল কবির, উপজেলা বিএনপির সভাপতি আহমদ রেজা, সিনিয়র সহ-সভাপতি আব্দুর সবুর, ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক গিয়াস উদ্দিন।  উপজেলা সমাজসেবা কার্যালয়ের বাস্তবায়নে অনুষ্ঠিত এ কর্মসূচীতে এলাকার সুবিধাবঞ্চিত ও বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন জনগণের মাঝে আত্মকর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং জীবনযাত্রার মানোন্নয়নের লক্ষ্যে এসব সহায়তা সামগ্রী ও ঋণ হস্তান্তর করা হয়।

২৩ই জুলাই, ২০২৬
সিলেটে স্কুল প্রাঙ্গণেই প্রধান শিক্ষিকার রিল ভিডিও! সমালোচনার ঝড়

সিলেটে স্কুল প্রাঙ্গণেই প্রধান শিক্ষিকার রিল ভিডিও! সমালোচনার ঝড়

সিলেটের ফেঞ্চুগঞ্জ উপজেলায় স্কুল প্রাঙ্গণেই প্রধান শিক্ষিকা গানসম্বলিত রিল ভিডিও করে ফেসবুকে আপলোড করায় বইছে সমালোচনার ঝড়। ওই শিক্ষিকার নাম বিউটি পাল। তিনি ফেঞ্চুগঞ্জ উপজেলার পিটাইটিকর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষিকা হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। জানা যায়, বিউটি পাল নিজের ফেইসবুক একাউন্ট (annabel Li Li) থেকে বৃহস্পতিবার (২৩ জুলাই) দুপুরের দিকে কয়েক সেকেন্ডের  একটি রিল ভিডিও পোস্ট করেন।  ভিডিওতে দেখা যায়, বিউটি পাল বিদ্যালয় প্রাঙ্গনেই শাড়ি পরে খোলা চুলে বিভিন্ন অঙ্গ-ভঙ্গি করছেন এবং ব‍্যাকগ্রাউন্ডে "আজ কেন মন উদাসী হয়ে/ দূর অজানায় চায় হারাতে..." গানটি বাজতেছে। প্রধান শিক্ষিকার এমন ভিডিও দেখে স্থানীয় সচেতন মহল এবং শিক্ষার্থীদের অভিভাবকের মধ্যে তীব্র প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি হয়েছে। অনেকেই বলছেন- প্রধান শিক্ষিকাই যদি বিদ‍্যালয়ে এমন করেন তবে কোমলমতি ছাত্রছাত্রীরা তো লেখাপড়া বাদ দিয়ে এসবের দিকেই ঝুঁকে পড়বে। মোবাইল আসক্তি বাড়বে এবং খারাপ পথে যাওয়ার সমূহ আশঙ্কা রয়েছে। সচেতন মহল সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণ করে প্রয়োজনীয় ব‍্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন। তবে বিষয়টিকে 'দোষ'র দেখছেন না প্রধান শিক্ষিকা বিউটি পাল। তিনি বৃহস্পতিবার রাত সাড়ে ৮টার দিকে মুঠোফোনে সচিত্র সিলেটকে বলেন- এটা আর এমন কী? মানুষের ব‍্যক্তিগত লাইফ থাকতে পারে না? তিনি আরও প্রশ্ন রেখে বলেন- এটা নিয়ে নিউজ করলে কি চাকরি চলে যাবে? ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে 'সরি' বলবো- আর কিছু হবে না। বিষয়টি নিয়ে তাঁকে ফেঞ্চুগঞ্জের এক সাংবাদিক হয়রানি করছেন- এমন অভিযোগও করেন বিউটি পাল।

২৩ই জুলাই, ২০২৬
মেটার প্রশংসনীয় নতুন পদক্ষেপ

মেটার প্রশংসনীয় নতুন পদক্ষেপ

কোনো কিশোর ব্যবহারকারী মেটার এআই চ্যাটবটের সঙ্গে কথোপকথনের সময় আত্মহত্যা বা আত্মক্ষতির ইঙ্গিত দিলে বিষয়টি আর শুধু ব্যক্তিগত চ্যাটের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকবে না। নতুন নিরাপত্তা ব্যবস্থার অংশ হিসেবে এমন পরিস্থিতিতে অভিভাবকদের সতর্ক করার উদ্যোগ নিয়েছে মেটা। ঝুঁকি গুরুতর বলে মনে হলে প্রয়োজন অনুযায়ী জরুরি সেবার সঙ্গেও যোগাযোগ করা হতে পারে। মেটা জানিয়েছে, তাদের এআই সিস্টেম কোনো কিশোরের কথোপকথনে আত্মহানি-সংক্রান্ত সংকেত শনাক্ত করলে প্রথমে তা মানব পর্যালোচনার মধ্য দিয়ে যাবে। এরপর পরিস্থিতির গুরুত্ব বিবেচনা করে অভিভাবকদের কাছে সতর্কবার্তা পাঠানো হবে। কোনো বার্তার অর্থ পুরোপুরি নিশ্চিত না হলেও সম্ভাব্য ঝুঁকি এড়াতে সতর্কতামূলক ব্যবস্থা নেওয়া হতে পারে। এর ফলে কিছু ক্ষেত্রে অপ্রয়োজনীয় সতর্কবার্তা যাওয়ার সম্ভাবনা থাকলেও কিশোরদের নিরাপত্তাকে অগ্রাধিকার দিচ্ছে প্রতিষ্ঠানটি। বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, অস্ট্রেলিয়া ও কানাডায় ইনস্টাগ্রাম প্যারেন্টাল সুপারভিশন ব্যবহারকারী পরিবারগুলোর জন্য এই সুবিধা চালু করা হয়েছে। মেটার পরিকল্পনা অনুযায়ী, চলতি বছরের শেষের দিকে এটি অন্যান্য দেশেও চালু করা হবে। নতুন এই উদ্যোগ মেটার বিদ্যমান নিরাপত্তা ব্যবস্থার সম্প্রসারিত রূপ। এর আগে ইনস্টাগ্রামে কিশোর ব্যবহারকারীরা বারবার আত্মহত্যা বা আত্মক্ষতি-সংক্রান্ত বিষয় খুঁজলে অভিভাবকদের সতর্ক করা হতো। এখন অভিভাবকেরা গত সাত দিনে তাদের সন্তানের মেটা এআইয়ের সঙ্গে হওয়া আলোচনার বিষয় সম্পর্কেও ধারণা পেতে পারবেন। এ ছাড়া কিশোরদের জন্য চালু থাকা সীমিত কনটেন্ট ব্যবস্থার আওতা বাড়িয়ে মেটা এআইয়ের ক্ষেত্রেও কার্যকর করা হচ্ছে। এর ফলে চ্যাটবট সংবেদনশীল বা অনুপযুক্ত কিছু অনুরোধের ক্ষেত্রে আরও নিয়ন্ত্রিতভাবে প্রতিক্রিয়া জানাবে। মেটা আরও জানিয়েছে, কিশোর বা প্রাপ্তবয়স্ক—যে কোনো ব্যবহারকারীর কথোপকথনে যদি তাৎক্ষণিক আত্মহানির ঝুঁকি শনাক্ত হয়, তাহলে প্রয়োজন অনুযায়ী জরুরি সহায়তা ব্যবস্থার সঙ্গে যোগাযোগ করা হতে পারে। এর আগে ফেসবুক ও ইনস্টাগ্রামে ঝুঁকিপূর্ণ পোস্ট শনাক্তের ক্ষেত্রে যে ধরনের ব্যবস্থা নেওয়া হতো, এখন একই ধরনের সুরক্ষা ব্যবস্থা মেটা এআই চ্যাটেও যুক্ত করা হচ্ছে। সূত্র: টেকক্রাঞ্চ   আপলোড : আব্দুল খালিক

২৩ই জুলাই, ২০২৬
মেসিকেই বিশ্বকাপের সেরা খেলোয়াড় ঘোষণা

মেসিকেই বিশ্বকাপের সেরা খেলোয়াড় ঘোষণা

বিশ্বকাপের ফাইনালে স্পেনের কাছে ১-০ গোলে হেরে চ্যাম্পিয়নের খেতাব হারিয়েছে আর্জেন্টিনা। ফিফার গোল্ডেন বলের দৌড়ে লিওনেল মেসিকে এগিয়ে রাখা হলেও শেষ পর্যন্ত ব্যক্তিগত সেরার মুকুটটি উঠেছিল স্পেন অধিনায়ক রদ্রির হাতে। যা নিয়ে আলোচনা-সমালোচনার কমতি নেই।  এরই মধ্যে ফুটবলের সর্বোচ্চ নিয়ন্ত্রক সংস্থার সেই সিদ্ধান্তকে ছাপিয়ে লিওনেল মেসিকেই টুর্নামেন্টের সেরা ফুটবলার হিসেবে ঘোষণা করেছে আন্তর্জাতিক ফুটবল ইতিহাস ও পরিসংখ্যান সংস্থা (আইএফএফএইচএস)।  ডেটা-পারফরম্যান্স সূচক বিশ্লেষণ করে আর্জেন্টিনা অধিনায়ককেই সদ্য সমাপ্ত বিশ্বকাপের সেরা খেলোয়াড় হিসেবে বেছে নিয়েছে সংস্থাটি। আইএফএফএইচএস জানিয়েছে, তাদের নিজস্ব পারফরম্যান্স ইনডেক্সের ওপর ভিত্তি করে এই খেতাব দেওয়া হয়েছে। এটি একটি আধুনিক ডেটাভিত্তিক পদ্ধতি, যেখানে টুর্নামেন্টজুড়ে একজন খেলোয়াড়ের গোল, অ্যাসিস্ট, প্রতিটি ম্যাচের রেটিং এবং নকআউট পর্বের প্রভাবকে সুনির্দিষ্ট সমীকরণের মাধ্যমে হিসাব করা হয়। ২০২৬ বিশ্বকাপের প্রতিটি ম্যাচের বিস্তারিত তথ্য পুঙ্খানুপুঙ্খ বিশ্লেষণের পরেই এমন সিদ্ধান্তে পৌঁছেছে সংস্থাটির কারিগরি প্যানেল।  নিজেদের সিদ্ধান্ত সমর্থনের পেছনে মেসিকে দেওয়া রেটিংয়ের খতিয়ান তুলে ধরেছে আইএফএফএইচএস। পুরো আসরে খেলা আটটি ম্যাচে আটটি গোল করার পাশাপাশি চারটি গোলে অ্যাসিস্ট ছিল মেসির। টুর্নামেন্টজুড়ে তার গড় ম্যাচ রেটিং ছিল ৮.৩৩।  পরিসংখ্যান সংস্থার মূল্যায়নে বিশেষ গুরুত্ব পেয়েছে নকআউট পর্বের পারফরম্যান্স। বিদায়ের শঙ্কায় থাকা ম্যাচগুলোতে দলকে খানের কিনারা থেকে টেনে তোলার ক্ষমতাই একজন খেলোয়াড়ের প্রকৃত মাহাত্ম্য প্রকাশ করে। নকআউট পর্বে আর্জেন্টিনার অগ্রগতিতে মেসির অবদান ছিল অবিসংবাদিত।  আইএফএফএইচএস স্পষ্ট করে জানিয়েছে, কোনো ব্যক্তিগত পরিচিতি বা আবেগের বশবর্তী হয়ে নয়, বরং শতভাগ তথ্য-উপাত্ত আর পারফরম্যান্সের পরিসংখ্যান বিশ্লেষণ করেই মেসিকে বিশ্বকাপের সেরা খেলোয়াড় ঘোষণা করা হয়েছে।   আপলোড : আব্দুল খালিক

২৩ই জুলাই, ২০২৬
সাংবাদিক এটিএম তুরাব হত্যা মামলা : ন্যায়বিচারের গতি যেন থমকে না যায়

সাংবাদিক এটিএম তুরাব হত্যা মামলা : ন্যায়বিচারের গতি যেন থমকে না যায়

পেশাগত দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে সিলেটে সাংবাদিক এটিএম তুরাব পুলিশের হাতে হত্যার শিকার হওয়ার ঘটনাটি কেবল সংবাদমাধ্যমের স্বাধীনতার ওপর আঘাত নয়, বরং সামগ্রিক বিচার ব্যবস্থার জন্যও একটি বড় পরীক্ষা। চাঞ্চল্যকর এই হত্যাকাণ্ডের পর একটি দীর্ঘ সময় পার হতে চললেও মামলার অগ্রগতি যেভাবে থমকে আছে বা মন্থর গতিতে চলছে, তা গভীরভাবে উদ্বেগজনক। একটি স্বাধীন ও গণতান্ত্রিক সমাজে সত্য প্রকাশের দায়ে একজন সাংবাদিককে প্রাণ দিতে হবে এবং তার বিচার পেতে বছরের পর বছর অপেক্ষা করতে হবে- তা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। আমরা প্রায়শই দেখি, দেশে সাংবাদিক নির্যাতনের বা হত্যাকাণ্ডের মামলাগুলো এক সময় ফাইলবন্দি হয়ে পড়ে কিংবা তদন্তের নামে বছরের পর বছর কালক্ষেপণ করা হয়। সাগর-রুনি হত্যাকাণ্ড যার সবচেয়ে বড় ও লজ্জাজনক উদাহরণ। সাংবাদিক তুরাব হত্যা মামলাটির ভবিষ্যৎ যেন সেই একই গোলকধাঁধায় হারিয়ে না যায়, তা নিশ্চিত করা এখন সময়ের দাবি। তদন্তের দীর্ঘসূত্রতা অনেক সময় অপরাধীদের পার পেয়ে যাওয়ার সুযোগ করে দেয়, আবার অনেক ক্ষেত্রে আলামত নষ্ট বা সাক্ষীদের ভয়ভীতি দেখানোর পথ সুগম করে। তুরাবের পরিবার যেখানে আজও শোক ও নিরাপত্তাহীনতার মধ্যে দিন কাটাচ্ছে, সেখানে বিচার প্রক্রিয়ার এই ধীরগতি তাদের ক্ষতকে আরও বাড়িয়ে তুলছে। সিলেটের সাংবাদিক সমাজসহ সর্বস্তরের নাগরিকেরা শুরু থেকেই এই হত্যাকাণ্ডের সুষ্ঠু ও দ্রুত বিচার দাবি করে আসছেন। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী এবং সংশ্লিষ্ট বিচারিক কর্তৃপক্ষের মনে রাখা উচিত, সাংবাদিক খুনের বিচার দ্রুত ও দৃষ্টান্তমূলকভাবে সম্পন্ন করা না গেলে তা অপরাধীদের আরও বেশি দুঃসাহসী করে তুলবে। এতে মাঠপর্যায়ে কর্মরত সাংবাদিকদের নিরাপত্তা চরম হুমকির মুখে পড়বে, যা পরোক্ষভাবে দেশের মুক্ত গণমাধ্যম ও বাকস্বাধীনতার কণ্ঠরোধ করার শামিল। আমরা মনে করি, এই মামলার তদন্তে কোনো ধরনের শৈথিল্য বা প্রভাব খাটানোর সুযোগ দেওয়া উচিত নয়। সব আইনি প্রক্রিয়া ও সুষ্ঠু তদন্ত বজায় রেখেই বিশেষ অগ্রাধিকারের ভিত্তিতে সাংবাদিক তুরাব হত্যা মামলাটি দ্রুত নিষ্পত্তি করা দরকার। প্রকৃত অপরাধী, পরিকল্পনাকারী ও নির্দেশদাতাদের দ্রুততম সময়ে আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করা হোক। রাষ্ট্র ও বিচার বিভাগ দ্রুত এই মামলার রায় ঘোষণা করে প্রমাণ করুকÑএ দেশে সাংবাদিকদের জীবন ও পেশার নিরাপত্তা এখনো হারিয়ে যায়নি।   আপলোড : আব্দুল খালিক

২৩ই জুলাই, ২০২৬
ভারতে ছড়িয়ে পড়া স্টুডেন্ট আন্দোলনের নেপথ্য কী?

ভারতে ছড়িয়ে পড়া স্টুডেন্ট আন্দোলনের নেপথ্য কী?

শিক্ষার্থীদের নিয়ে চলমান ককরোচ জনতা পার্টির আন্দোলনে হাজারো সমর্থক নয়াদিল্লিতে অবস্থান নিয়েছে। তাদের প্রধান দাবি, ভারতের কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগ। দেশটির প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির তৃতীয় মেয়াদে এটিকে তার সরকারের বিরুদ্ধে সবচেয়ে বড় জনচ্যালেঞ্জ হিসেবে দেখা হচ্ছে। কেন ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগ দাবি? ভারতজুড়ে ছড়িয়ে পড়া এ বিক্ষোভের তাৎক্ষণিক কারণ ছিল ন্যাশনাল এলিজিবিলিটি কাম এন্ট্রান্স টেস্ট (নিট)-এর প্রশ্নপত্র ফাঁস। প্রশ্নপত্র ফাঁসের অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় ভারতের মেডিকেল কলেজে ভর্তি পরীক্ষাটি বাতিল করা হয়। গত ৩ মে অনুষ্ঠিত এ পরীক্ষায় প্রায় ২০ লাখ শিক্ষার্থী অংশ নিয়েছিল। পরে পরীক্ষা বাতিল হওয়ার পর হতাশা থেকে অন্তত এক ডজন শিক্ষার্থী আত্মহত্যা করেছে বলে অভিযোগ ওঠে। জুন মাসে পুনরায় পরীক্ষা নেওয়া হয়। কেন নিট এত গুরুত্বপূর্ণ? ভারতে স্নাতক পর্যায়ে মেডিকেল শিক্ষায় ভর্তি হওয়ার একমাত্র জাতীয় পরীক্ষা হলো নিট। প্রতি বছর লাখো শিক্ষার্থী এতে অংশ নিলেও আসন রয়েছে দেড় লাখেরও কম। ফলে এটি ভারতের সবচেয়ে প্রতিযোগিতামূলক ভর্তি পরীক্ষাগুলোর একটি। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, সীমিত আসনের কারণে শিক্ষার্থীদের দীর্ঘ সময় ধরে প্রস্তুতি নিতে হয়। এতে মানসিক চাপ, হতাশা এবং অনেক ক্ষেত্রে ঋণের বোঝাও বেড়ে যায়। এর আগে কি প্রশ্নপত্র ফাঁস হয়েছে? ভারতে বিভিন্ন সরকারি পরীক্ষা ও নিয়োগ পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁস নতুন ঘটনা নয়। ২০২৪ সালেও কিছু এলাকায় নিট-এর প্রশ্নপত্র ফাঁসের অভিযোগ উঠেছিল, যদিও তখন পুনঃপরীক্ষা নেওয়া হয়নি। এ ছাড়া পুলিশ কনস্টেবল, শিক্ষকসহ বিভিন্ন সরকারি চাকরির নিয়োগ পরীক্ষার প্রশ্নপত্রও অতীতে ফাঁস হয়েছে। এবার কেন বিষয়টিতে এত আলোচনা? এবারের প্রশ্নপত্র ফাঁসের ঘটনাকে কেন্দ্র করেই আত্মপ্রকাশ করে ‘ককরোচ জনতা পার্টি’ নামে একটি ব্যঙ্গধর্মী যুব আন্দোলন। মে মাসের মাঝামাঝি গঠিত এই আন্দোলন কয়েক দিনের মধ্যেই ইনস্টাগ্রামে লাখো অনুসারী অর্জন করে। বিশেষজ্ঞদের মতে, ৩০ বছরের কম বয়সী তরুণদের মধ্যে উচ্চ বেকারত্ব, শিক্ষা ব্যবস্থার সংকট এবং প্রশ্নপত্র ফাঁসের মতো ঘটনায় জমে থাকা ক্ষোভই এই আন্দোলনের মূল শক্তি। সরকারের প্রতিক্রিয়া শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধান বলেছেন, সরকার শিক্ষার্থীদের উদ্বেগ দূর করতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ এবং পরীক্ষা ব্যবস্থায় সংস্কার আনা হবে। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিও প্রশ্নপত্র ফাঁসের সঙ্গে জড়িতদের কঠোর শাস্তির আশ্বাস দিয়েছেন। এদিকে স্বাস্থ্যমন্ত্রী জে.পি. নাড্ডা বিক্ষোভকারীদের সঙ্গে বৈঠক করে তাদের দাবিগুলো নিয়ে আলোচনা করার আশ্বাস দিয়েছেন। বিক্ষোভকারীদের অন্যান্য দাবির মধ্যে রয়েছে—অনশনরত সমাজকর্মী সোনম ওয়াংচুকের মুক্তি। প্রশ্নপত্র ফাঁসের ঘটনায় আত্মহত্যা করা শিক্ষার্থীদের পরিবারকে প্রতি পরিবার ১ কোটি রুপি ক্ষতিপূরণ প্রদান। আন্দোলনের বর্তমান পরিস্থিতি ভারতের সংসদ অভিমুখে বিক্ষোভ মিছিলের সময় পুলিশ টিয়ার গ্যাস ও লাঠিচার্জ করলেও হাজারো বিক্ষোভকারী এখনও দিল্লির অবস্থানস্থলে অবস্থান করছেন। আন্দোলনের নেতারা জানিয়েছেন, দাবি পূরণ না হওয়া পর্যন্ত তারা আন্দোলন চালিয়ে যাবেন। এদিকে প্রধান বিরোধী দল কংগ্রেসসহ অন্যান্য বিরোধী দলও সংসদের ভেতরে ও বাইরে এই ইস্যুতে সরকারকে চাপে রাখার ঘোষণা দিয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, তরুণ ভোটারদের ওপর বড় প্রভাব ফেলতে পারে এমন এই ইস্যু মোদি সরকারের জন্য গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক চ্যালেঞ্জ হয়ে উঠেছে।   আপলোড : আব্দুল খালিক

২৩ই জুলাই, ২০২৬
বাংলাদেশ সবসময় মেরুকরণের পরিবর্তে অংশীদারিত্বকেই বেছে নেবে : পররাষ্ট্রমন্ত্রী

বাংলাদেশ সবসময় মেরুকরণের পরিবর্তে অংশীদারিত্বকেই বেছে নেবে : পররাষ্ট্রমন্ত্রী

পারস্পরিক শ্রদ্ধা ও অভিন্ন সমৃদ্ধির ভিত্তিতে আঞ্চলিক সহযোগিতা জোরদারে বাংলাদেশের অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করে পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান বলেছেন, ‘বাংলাদেশ সবসময় বিভক্তির পরিবর্তে সংলাপ এবং মেরুকরণের পরিবর্তে অংশীদারিত্বকেই বেছে নেবে।’ বৃহস্পতিবার (২৩ জুলাই) পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে একথা জানানো হয়। ফিলিপাইনের রাজধানী ম্যানিলায় অনুষ্ঠিত ৩৩তম আসিয়ান রিজিওনাল ফোরামের (এআরএফ) মন্ত্রী পর্যায়ের বৈঠকে বক্তব্য রাখতে গিয়ে খলিলুর রহমান দীর্ঘস্থায়ী রোহিঙ্গা সংকটের টেকসই সমাধান নিশ্চিতে আঞ্চলিক সহযোগিতা জোরদার এবং এ লক্ষ্যে সম্মিলিত উদ্যোগ নিতে আসিয়ান রিজিওনাল ফোরাম (এআরএফ)-এর সদস্য দেশগুলোর প্রতি আহ্বান জানান। তিনি ক্রমবর্ধমান ভূরাজনৈতিক ও আঞ্চলিক নিরাপত্তা চ্যালেঞ্জের প্রেক্ষাপটে সংলাপ, বহুপাক্ষিকতা এবং নিয়মভিত্তিক আন্তর্জাতিক ব্যবস্থার প্রতি বাংলাদেশের অবিচল অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেন। বাংলাদেশের মানবিক দায়িত্বের বিষয়টি তুলে ধরে পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশ প্রায় এক দশক ধরে মিয়ানমার থেকে বাস্তুচ্যুত ১৩ লাখেরও বেশি রোহিঙ্গাকে আশ্রয় দিয়ে আসছে। তিনি সতর্ক করে বলেন, দীর্ঘস্থায়ী এই সংকটের কারণে বাংলাদেশ মাদক পাচার, মানবপাচার এবং অবৈধ অস্ত্রের চোরাচালানসহ বিভিন্ন আন্তঃসীমান্ত অপরাধের ঝুঁকির মুখে পড়েছে, যা বৃহত্তর আঞ্চলিক নিরাপত্তার জন্যও উদ্বেগের কারণ। খলিলুর রহমান বলেন, ‘রোহিঙ্গারা পরিস্থিতির কারণে রাষ্ট্রহীন নয়, পরিকল্পিতভাবেই তাদের রাষ্ট্রহীন করা হয়েছে। এটি একটি রাজনৈতিক ব্যর্থতা এবং এর রাজনৈতিক সমাধান প্রয়োজন।’ তিনি রাখাইন রাজ্যে রোহিঙ্গাদের নিরাপদ, স্বেচ্ছাপ্রণোদিত, মর্যাদাপূর্ণ ও টেকসই প্রত্যাবাসনের উপযোগী পরিবেশ সৃষ্টিতে সম্মিলিতভাবে সহযোগিতা করার জন্য এআরএফভুক্ত দেশগুলোর প্রতি আহ্বান জানান। পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় বর্তমানে নজিরবিহীন ভূরাজনৈতিক চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি এবং উদীয়মান বৈশ্বিক ও আঞ্চলিক নিরাপত্তা সংকট মোকাবিলায় টেকসই সংলাপ ও কূটনীতিই সবচেয়ে কার্যকর উপায়। তিনি সামুদ্রিক বিরোধ নিষ্পত্তিতে সব রাষ্ট্রকে সর্বোচ্চ সংযম প্রদর্শন, জাতিসংঘের সমুদ্র আইন সনদ (ইউএনক্লস)সহ আন্তর্জাতিক আইন মেনে চলা এবং শান্তিপূর্ণ সংলাপের মাধ্যমে মতপার্থক্য নিরসনের আহ্বান জানান। জলবায়ুজনিত নিরাপত্তা চ্যালেঞ্জ প্রসঙ্গে খলিলুর রহমান বলেন, জলবায়ু পরিবর্তন ও প্রাকৃতিক দুর্যোগে সবচেয়ে ঝুঁকিপূর্ণ দেশগুলোর একটি হিসেবে বাংলাদেশ দুর্যোগ প্রস্তুতি এবং আগাম সতর্কীকরণ ব্যবস্থায় আঞ্চলিক সহযোগিতা জোরদারে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। দুর্যোগ ত্রাণবিষয়ক এআরএফ আন্তঃসেশনাল বৈঠকের সহ-সভাপতি হিসেবে বাংলাদেশ এআরএফ কাঠামোর আওতায় আঞ্চলিক সক্ষমতা বৃদ্ধির পক্ষে কাজ চালিয়ে যাবে বলেও তিনি জানান। পররাষ্ট্রমন্ত্রী কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) ও অন্যান্য উদীয়মান প্রযুক্তির সম্ভাবনা এবং ঝুঁকির বিষয়টিও তুলে ধরেন। তিনি সাইবার নিরাপত্তা হুমকি, ভ্রান্ত তথ্যের প্রচার এবং উন্নত প্রযুক্তির অপব্যবহার মোকাবিলায় আরও ঘনিষ্ঠ আঞ্চলিক সহযোগিতার আহ্বান জানান। তিনি এ অঞ্চলের বিশেষ ভূরাজনৈতিক ও উন্নয়ন বাস্তবতার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ একটি আঞ্চলিক প্রযুক্তি সুশাসন কাঠামো প্রণয়নের বিষয়টি বিবেচনারও প্রস্তাব দেন। এ সময় পররাষ্ট্রমন্ত্রী জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের (ইউএনজিএ) ৮১তম অধিবেশনের সভাপতির পদে বাংলাদেশের প্রার্থিতাকে সমর্থন দেওয়ায় অংশগ্রহণকারী দেশগুলোর প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।   আপলোড : আব্দুল খালিক

২৩ই জুলাই, ২০২৬
জগন্নাথপুরে ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযানে ৪০টি রিং জাল পুড়িয়ে ধ্বংস

জগন্নাথপুরে ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযানে ৪০টি রিং জাল পুড়িয়ে ধ্বংস

সুনামগঞ্জের জগন্নাথপুর উপজেলার মিরপুর ইউনিয়নের শ্রীরামসী এলাকায় মৎস্য অধিদপ্তরের উদ্যোগে হাওরে এক বিশেষ মোবাইল কোর্ট অভিযান পরিচালনা করা হয়েছে। ​আজ বৃহস্পতিবার (২৩ জুলাই) বিকেল ৪টায় উপজেলার সরাল বিল, চিতলী হাওর এবং কাটা গাং ডোরে এ অভিযান চালানো হয়। জগন্নাথপুর উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা আল আমিনের নেতৃত্বে পরিচালিত এই অভিযানে দেশীয় প্রজাতির মাছ রক্ষায় নিষিদ্ধ ঘোষিত ৪০টি ক্ষতিকর রিং জাল আটক করা হয়। ​পরে সন্ধ্যায় উপজেলা পরিষদ চত্বরে জগন্নাথপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মোঃ ইসলাম উদ্দিন, সহকারী কমিশনার (ভূমি) মহসীন উদ্দিন এবং উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা আল আমিনের উপস্থিতিতে উদ্ধারকৃত সবকটি রিং জাল আগুনে  পুড়িয়ে জনসম্মুখে ধ্বংস করা হয়। ​উপজেলা প্রশাসন ও মৎস্য বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, মৎস্য সম্পদ রক্ষা এবং অবৈধ জালের ব্যবহার বন্ধে উপজেলায় এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে। জগন্নাথপুর উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা আল আমিন বলেন, ​“ক্ষতিকর রিং জাল ব্যবহারের ফলে হাওরের ছোট-বড় সব ধরনের মাছ ও পোনা ধ্বংস হয়ে যাচ্ছে, যা আমাদের দেশীয় মৎস্য সম্পদের জন্য মারাত্মক হুমকি। দেশীয় প্রজাতির মাছ রক্ষায় এবং অবাধ প্রজনন নিশ্চিত করতে আমরা নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করছি। অবৈধ উপায়ে মাছ শিকার রোধে মৎস্য বিভাগ জিরো টলারেন্স নীতি গ্রহণ করেছে এবং মৎস্য সম্পদ সুরক্ষায় আমাদের এই তৎপরতা চলমান থাকবে।” জগন্নাথপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মোঃ ইসলাম উদ্দিন বলেন, ​“হাওরাঞ্চলের প্রাকৃতিক মৎস্য সম্পদ রক্ষা ও দেশীয় প্রজাতির মাছের বংশবৃদ্ধিতে অবৈধ জালের ব্যবহার রোধ করা অত্যন্ত জরুরি। নিষিদ্ধ রিং জাল দিয়ে মাছ শিকার করলে মৎস্য সম্পদের মারাত্মক ক্ষতি হয়। দেশীয় মাছের প্রজনন ও উৎপাদন বাড়াতে উপজেলা  প্রশাসনের পক্ষ থেকে এ ধরনের অভিযান ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে। অবৈধ জাল ব্যবহারকারীদের বিরুদ্ধে কোনো ধরনের ছাড় দেওয়া হবে না।”   আপলোড : আব্দুল খালিক

২৩ই জুলাই, ২০২৬
গোপন বিয়ে মাকরুহ নাকি অবৈধ, ইসলাম কী বলে?

গোপন বিয়ে মাকরুহ নাকি অবৈধ, ইসলাম কী বলে?

বিয়ে ইসলামে একটি পবিত্র ইবাদত এবং সামাজিকভাবে স্বীকৃত একটি চুক্তি। এর মাধ্যমে শুধু দুজন মানুষের মিলনই নয়, বরং দুটি পরিবারের মধ্যে নতুন সম্পর্কের সূচনা হয়। তাই ইসলাম বিয়েকে গোপন রাখার পরিবর্তে যথাসম্ভব প্রকাশ করার নির্দেশনা দিয়েছে, যাতে স্বামী-স্ত্রীর অধিকার সংরক্ষিত হয়, সমাজে কোনো সন্দেহ বা অপবাদ সৃষ্টি না হয় এবং হালাল ও হারামের সীমারেখা স্পষ্ট থাকে। কিন্তু বর্তমানে নানা কারণে ‘গোপন বিয়ে’ নিয়ে প্রশ্ন ওঠে— এ ধরনের বিয়ে কি বৈধ, নাকি শরিয়তে অপছন্দনীয়? এ বিষয়ে ইসলামী শরিয়তের নির্দেশনা ও ফকীহদের মতামত জানা জরুরি। বিয়ের বৈধতার মৌলিক শর্ত যদি গোপন বিয়ে বলতে এমন বিয়েকে বোঝানো হয়, যেখানে কোনো সাক্ষী ছাড়াই নির্জনে বর-কনে ইজাব-কবুল করেছেন, তাহলে ইসলামী আইনজ্ঞদের সর্বসম্মত মত অনুযায়ী এ ধরনের বিয়ে সম্পূর্ণ বাতিল ও অকার্যকর। কারণ সাক্ষী ছাড়া বিয়ে শরিয়তসম্মত হয় না। রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন— لَا نِكَاحَ إِلَّا بِوَلِيٍّ وَشَاهِدَيْ عَدْلٍ ‘অভিভাবক ও দুইজন ন্যায়পরায়ণ সাক্ষী ছাড়া বিয়ে (সম্পূর্ণ) হয় না।’ (বায়হাকি ১৪৭৩৯) সাক্ষী থাকলে বিয়ে কি গোপন থাকে? যদি দুইজন সাক্ষীর উপস্থিতিতে বিয়ে সম্পন্ন হয় এবং পরে তা প্রকাশ করার ক্ষেত্রে কোনো নিষেধাজ্ঞা না থাকে, তাহলে ইসলামের দৃষ্টিতে এটিকে গোপন বিয়ে বলা হয় না। এ ধরনের বিয়ের বৈধতা নিয়ে ফকীহদের মধ্যে কোনো মতভেদ নেই। তবে যদি বিয়ের সময় সাক্ষীদের বলে দেওয়া হয় যে তারা যেন কারও কাছে এ বিয়ের কথা প্রকাশ না করেন, তাহলে এ বিষয়ে ইসলামী আইনজ্ঞদের মধ্যে মতভেদ রয়েছে। ফকীহদের মতামত— জামিয়া আল-আজহারের সাবেক গ্র্যান্ড ইমাম শায়খ মাহমুদ শালতুত (রহ.) বলেন, সাক্ষীর উপস্থিতিতে বিয়ে হলেও যদি সাক্ষীদের গোপন রাখার শর্ত দেওয়া হয়, তাহলে অধিকাংশ ফকীহ এটিকে অপছন্দনীয় (মাকরুহ) বলেছেন। তবে এর বৈধতা নিয়ে দুটি মত রয়েছে। প্রথম মত অনুযায়ী— দুইজন সাক্ষী উপস্থিত থাকলেই বিয়ে বৈধ হয়ে যায়। পরে গোপন রাখার শর্ত বিয়ের বৈধতাকে নষ্ট করে না। কিন্তু ইমাম মালিক (রহ.) এবং তার মতের অনুসারী একদল আলেমের মতে— সাক্ষীদের গোপন রাখার শর্ত সাক্ষ্য প্রদানের মূল উদ্দেশ্যই নষ্ট করে দেয়। কারণ বিয়েতে সাক্ষী রাখার উদ্দেশ্যই হলো সমাজে বিয়ের ঘোষণা পৌঁছে দেওয়া, যাতে মানুষের অধিকার রক্ষিত হয় এবং কোনো সন্দেহ সৃষ্টি না হয়। বিয়ে প্রকাশ করার নির্দেশনা রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন— أَعْلِنُوا هَذَا النِّكَاحَ ‘তোমরা এই বিয়ে প্রকাশ কর।’ (মুসনাদ আহমদ ১৬১৩০, তিরমিজি ১০৮৯) এছাড়া আল্লাহ তাআলা বলেন— وَمِنْ آيَاتِهِ أَنْ خَلَقَ لَكُمْ مِنْ أَنْفُسِكُمْ أَزْوَاجًا لِتَسْكُنُوا إِلَيْهَا وَجَعَلَ بَيْنَكُمْ مَوَدَّةً وَرَحْمَةً ‘আর তার নিদর্শনসমূহের মধ্যে রয়েছে, তিনি তোমাদের জন্য তোমাদের মধ্য থেকেই তোমাদের সঙ্গিনী সৃষ্টি করেছেন, যাতে তোমরা তাদের কাছে প্রশান্তি লাভ কর। আর তিনি তোমাদের মধ্যে ভালোবাসা ও দয়া স্থাপন করেছেন।’ (সুরা আর-রূম: আয়াত ২১) গোপন বিয়ে কেন নিরুৎসাহিত? যে বিয়ে করার পর সারাক্ষণ পরিবার, সমাজ কিংবা আত্মীয়স্বজনের কাছে প্রকাশ হয়ে যাওয়ার ভয় কাজ করে, সেই বিয়ে কুরআনে বর্ণিত ‘প্রশান্তির’ আদর্শের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়। ইসলাম সততা, স্বচ্ছতা ও সামাজিক দায়বদ্ধতাকে গুরুত্ব দেয়। গোপন বিয়া অনেক সময় পারিবারিক বিরোধ, অধিকারহানি, উত্তরাধিকার জটিলতা এবং সামাজিক বিভ্রান্তির কারণ হয়ে দাঁড়ায়। এ কারণেই ইসলামের নির্দেশনা হলো— বিয়েকে এমনভাবে সম্পন্ন করা, যাতে তা সামাজিকভাবে স্বীকৃত হয় এবং কোনো সন্দেহের অবকাশ না থাকে। ইসলামের দৃষ্টিতে সাক্ষী ছাড়া গোপন বিয়ে সর্বসম্মতিক্রমে অবৈধ। আর সাক্ষী উপস্থিত থাকলেও যদি বিয়েকে গোপন রাখার শর্ত দেওয়া হয়, তাহলে এর বৈধতা নিয়ে ফকীহদের মধ্যে মতভেদ রয়েছে। তাই দ্বীনের নিরাপত্তা, পারিবারিক স্থিতি এবং সামাজিক মর্যাদা রক্ষার স্বার্থে বিয়ে যথাসম্ভব প্রকাশ্যে সম্পন্ন করাই উত্তম। একজন মুমিনের জন্য সংশয়পূর্ণ পথ এড়িয়ে সুস্পষ্ট ও নিরাপদ পথ অনুসরণ করাই তাকওয়ার পরিচয়। সাময়িক সংকোচ বা পার্থিব অসুবিধার চেয়ে ইমান, সম্মান এবং শরিয়তের নির্দেশনার মূল্য অনেক বেশি।   আপলোড : আব্দুল খালিক

২৩ই জুলাই, ২০২৬
জকিগঞ্জের সেই তিন ছিনতাইকারী দুই দিনের রিমান্ডে

জকিগঞ্জের সেই তিন ছিনতাইকারী দুই দিনের রিমান্ডে

সিলেটের জকিগঞ্জে একটি ডিস্ট্রিবিউশন প্রতিষ্ঠানের পণ্যবাহী টমটম গাড়ি আটকে নগদ টাকা ও মোবাইল ফোন ছিনতাইয়ের ঘটনায় বৃহস্পতিবার ভোররাতের দিকে তিনজনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। গ্রেফতারকৃত ব্যক্তিরা হলেন, ৯নং মানিকপুর ইউনিয়নের মানিকপুর গ্রামের সিরাজ উদ্দিনের ছেলে পাপলু আহমদ (২৭), একই ইউনিয়নের খাসেরা গ্রামের শরবেশর ওরফে আব্দুর রহমানের ছেলে জয়দেব বিশ্বাস ওরফে টেঙ্গা (২৮) এবং কসকনকপুর ইউপির মামরখানী গ্রামের মৃত খলিলুর রহমানের ছেলে বেলাল আহমদ (৪০)। বৃহস্পতিবার তাদেরকে জকিগঞ্জ সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে পাঠিয়ে পুলিশ ৭ দিনের রিমান্ড আবেদন করে। পরে শুনানি শেষে সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট ইব্রাহিম সরকার প্রত্যেক আসামির দুই দিন করে রিমান্ড মঞ্জুর করেন। পুলিশ জানায়, গত ১৯ জুলাই রাত প্রায় ১০টার দিকে জকিগঞ্জ-কালীগঞ্জ কেরাইয়া সড়কের সদরখাল ব্রিজ এলাকায় মেসার্স সজিব ডিস্ট্রিবিউশন প্রতিষ্ঠানের আকিজ বেক্সার্স, রিদিশা ফুডস ও আড়ং ডেইরিসহ বিভিন্ন কোম্পানির পণ্য পরিবহনে ব্যবহৃত দুটি টমটমের গতিরোধ করে মুখোশধারী তিন ব্যক্তি। তারা ধারালো অস্ত্রের ভয় দেখিয়ে প্রতিষ্ঠানের কর্মচারীদের কাছ থেকে পণ্য বিক্রির নগদ অর্থ এবং চারটি মোবাইল ফোন ছিনিয়ে নিয়ে পালিয়ে যায়। এ ঘটনায় ডিস্ট্রিবিউটর মো. শিব্বির আহমদ বাদী হয়ে ২৩ জুলাই জকিগঞ্জ থানায় মামলা দায়ের করেন। পরে পুলিশ দণ্ডবিধির ৩৯২ ধারায় মামলা রুজু করে। মামলা রুজুর পরপরই পুলিশ ২৩ জুলাই দিবাগত রাত প্রায় সাড়ে ৩টার দিকে কালীগঞ্জ বাজারের রাজমহল, চৌধুরী প্লাজা এবং গরুর বাজার এলাকায় অভিযান পরিচালনা করে। এ সময় ছিনতাই হওয়া একটি স্যামসাং গ্যালাক্সি এ৫০ মোবাইল ফোন এবং নগদ তিন হাজার টাকা উদ্ধার করাসহ পাপলু আহমদ (২৭), জয়দেব বিশ্বাস ওরফে টেঙ্গা (২৮) এবং বেলাল আহমদ (৪০) কে গ্রেফতার করে।  জকিগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মুহাম্মদ আব্দুর রাজ্জাক জানান, গ্রেফতার আসামিদের সাত দিনের পুলিশ রিমান্ড আবেদন করে আদালতে পাঠানো হলে আদালত প্রত্যেক আসামির দুই দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন। রিমান্ডে এই চক্রের অন্য সহযোগীদের নামসহ গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পাওয়া যেতে পারে।   আপলোড : আব্দুল খালিক

২৩ই জুলাই, ২০২৬
পুরুষত্ব কি কেবলই টেস্টোস্টেরন হরমোন? দেখুন বিজ্ঞান কী বলে-

পুরুষত্ব কি কেবলই টেস্টোস্টেরন হরমোন? দেখুন বিজ্ঞান কী বলে-

পুরুষদের শক্তি, আগ্রাসন এবং শক্তিমত্তার পেছনে মূল কারিগর হিসেবে প্রায়শই টেস্টোস্টেরন হরমোনকে চিহ্নিত করা হয়। সাধারণ ধারণা হলো, শরীরে টেস্টোস্টেরনের মাত্রা যত বেশি, একজন পুরুষ তত বেশি শক্তিশালী ও লড়াইয়ে সক্ষম।  তবে পুরুষত্ব নিয়ে গবেষণারত মনোবিজ্ঞানীদের মতে, এই ধারণাটি বৈজ্ঞানিক গবেষণার আলোকেই অধিকাংশ ক্ষেত্রে ভুল। টেস্টোস্টেরনের আসল কাজ কী?  টেস্টোস্টেরনকে সাধারণত ‘পুরুষ হরমোন’ হিসেবে মনে করা হলেও সকল লিঙ্গের মানুষের শরীরেই নির্দিষ্ট মাত্রায় এটি তৈরি হয়। বয়ঃসন্ধিকালে কিশোরদের শরীরে টেস্টোস্টেরন বেড়ে মাংসপেশি গঠন, চুল গজানো ও শুক্রাণু উৎপাদনে সাহায্য করে।  ৩০ বছর বয়সের পর এটি প্রাকৃতিক নিয়মে কমতে থাকে। যখন রক্তে এর মাত্রা অস্বাভাবিক কমে গিয়ে চরম ক্লান্তি, কামবাসনা হ্রাস বা দ্রুত মাংসপেশি ক্ষয়ের মতো উপসর্গ দেখা দেয়, তখন কেবল চিকিৎসকের তত্ত্বাবধানে ‘টেস্টোস্টেরন রিপ্লেসমেন্ট থেরাপি’র প্রয়োজন হয়। স্বাস্থ্যসেবায় একজন সুস্থ পুরুষের রক্তে টেস্টোস্টেরনের স্বাভাবিক মাত্রা ধরা হয় প্রতি ডেসিলিটারে ৩০০ থেকে ১,০০০ ন্যানোগ্রাম। একজন পুরুষের রক্তে টেস্টোস্টেরনের মাত্রা ৭০০ হলেও তিনি ৩০০ মাত্রা থাকা পুরুষের চেয়ে বেশি ‘পুরুষালী’ বা শারীরিক দিক থেকে শক্তিশালী—এমন ধারণার কোনো বৈজ্ঞানিক ভিত্তি নেই।  শরীরে মাংসপেশি গঠনে হরমোনের ভূমিকা থাকলেও শারীরিক শক্তির আসল চাবিকাঠি হলো উপযুক্ত অনুশীলন, ঘুম ও খাদ্যাভ্যাস।  অতিরিক্ত টেস্টোস্টেরন সেবনের ঝুঁকি সুস্থ মানুষের শরীরে বাইরে থেকে অতিরিক্ত টেস্টোস্টেরন প্রয়োগ করার বিষয়টি বেশ বিপজ্জনক। বাইরে থেকে হরমোন গ্রহণ করলে শরীরের নিজস্ব টেস্টোস্টেরন উৎপাদন বন্ধ হয়ে যায়, যার ফলে অণ্ডকোষ সংকুচিত হতে পারে এবং শুক্রাণু উৎপাদন ব্যাহত হয়।  এছাড়া অতিরিক্ত টেস্টোস্টেরন তৈলাক্ত গ্রন্থি ও চুলের ফলিকেলগুলোকে উত্তেজিত করে এবং শরীরে ইস্ট্রোজেনে রূপান্তরিত হয়। ফলে ব্রণ, চুল পড়া এবং পুরুষদের স্তনের টিস্যু বৃদ্ধির (গাইনেকোমাস্টিয়া) মতো গুরুতর শারীরিক সমস্যা দেখা দিতে পারে।  মনস্তাত্ত্বিক গবেষণা ও মিথ  দীর্ঘ চার দশকের গবেষণা বলছে, রক্তে উচ্চমাত্রার টেস্টোস্টেরন মানেই একজন মানুষ হিংস্র বা প্রভাবশালী হবেন—এমন কথার জোরালো প্রমাণ নেই। ২০০১ সালে ১০,০০০ মানুষের ওপর পরিচালিত ৪৫টি গবেষণার বিশ্লেষণে দেখা যায়, টেস্টোস্টেরন ও আগ্রাসী আচরণের মধ্যে সম্পর্ক খুবই সামান্য। প্রকৃতপক্ষে, হরমোন মানুষকে নির্দেশ করে না, বরং মানুষের আচরণ ও পরিবেশ হরমোনের ওপর প্রভাব ফেলে। এক গবেষণায় দেখা গেছে, কাঠের বোর্ড গেম স্পর্শ করার চেয়ে ১৫ মিনিট হাতে আগ্নেয়াস্ত্র ধরে রাখা পুরুষদের শরীরে টেস্টোস্টেরনের মাত্রা দ্রুত বৃদ্ধি পায় এবং তারা আক্রমণাত্মক আচরণ করে। আবার নতুন বাবা হওয়া পুরুষদের ক্ষেত্রে দেখা গেছে, তারা সন্তানকে যত বেশি লালন-পালন ও স্পর্শ করেন, তাদের শরীরে টেস্টোস্টেরনের মাত্রা তত কমে আসে। গবেষকদের মতে, পুরুষদের আগ্রাসী আচরণের মূল অনুঘটক হলো সামাজিক চাপ। পুরুষত্ব হুমকির মুখে পড়লে কিংবা সমাজে ‘আদর্শ পুরুষ’ হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হওয়ার বাহ্যিক চাপ থেকে সিংহভাগ পুরুষ আক্রমণাত্মক প্রতিক্রিয়া দেখায়। সামরিক জীবন ও টেস্টোস্টেরন হ্রাস একটি অমূলক ধারণার বিপরীতে সামরিক জীবনের কঠোর পরিশ্রম পুরুষদের শরীরে টেস্টোস্টেরনের মাত্রা বাড়িয়ে দেওয়ার বদলে তা কমিয়ে দেয়। ২০২০ সালে মার্কিন সেনাসদস্যদের ওপর চালানো এক গবেষণায় দেখা যায়, প্রশিক্ষণকালীন চরম ঘুমহীনতা ও তীব্র স্ট্রেসের কারণে পুরুষদের হরমোন নিঃসরণ ব্যাপক হারে কমে যায়। একে চিকিৎসা পরিভাষায় ‘অপারেটর সিন্ড্রোম’ বলা হয়।  দীর্ঘস্থায়ী মানসিক চাপ, পুষ্টির অভাব এবং ঘুমহীনতার ফলে অনেক ক্ষেত্রে ৩৫ বছর বয়সি সৈনিকের শরীরের টেস্টোস্টেরনের মাত্রা কমে ৮০ বছরের প্রবীণ মানুষের সমপর্যায়ে নেমে আসে। এই সমস্যার সমাধান হিসেবে অতিরিক্ত হরমোন ইনজেকশন দেওয়া ক্ষতিকর; বরং উপযুক্ত বিশ্রাম ও স্ট্রেস কমানোই হলো একমাত্র সঠিক উপায়।  সবশেষে, যুদ্ধ কিংবা কঠিন পরিস্থিতিতে কোনো পুরুষের প্রকৃত সহনশীলতা ও দক্ষতা একটি হরমোনের ওপর নির্ভর করে না। টেস্টোস্টেরন মানবদেহের একটি দরকারি জৈবিক উপাদান হতে পারে, তবে এটি একজন মানুষের সামর্থ্য বা আদর্শ পুরুষত্বের মাপকাঠি নয়।    আপলোড : আব্দুল খালিক

২৩ই জুলাই, ২০২৬
সালমান শাহ হত্যা মামলা: তদন্ত প্রতিবেদন দাখিল ৩০ আগস্ট

সালমান শাহ হত্যা মামলা: তদন্ত প্রতিবেদন দাখিল ৩০ আগস্ট

চিত্রনায়ক মোহাম্মদ শাহরিয়ার (ইমন) ওরফে সালমান শাহর মৃত্যুর ঘটনায় হত্যা মামলার তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের জন্য নতুন তারিখ ধার্য করেছেন আদালত। বৃহস্পতিবার (২৩ জুলাই) মামলাটির তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের জন্য দিন ধার্য ছিল। তবে মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা সিআইডির পরিদর্শক জিয়াউল মোর্শেদ নির্ধারিত দিনে প্রতিবেদন দাখিল করতে না পারায় ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট জুয়েল রানা নতুন তারিখ আগামী ৩০ আগস্ট দিন নির্ধারণ করেন। প্রসিকিউশন বিভাগের উপপরিদর্শক (এসআই) শাহ আলম বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। এর আগে, গত ২০ মে সালমান শাহর মৃত্যুর প্রকৃত কারণ উদঘাটনের লক্ষ্যে তার লাশ কবর থেকে উত্তোলনের অনুমতি চেয়ে আদালতে আবেদন করেন তদন্ত কর্মকর্তা। ২৪ মে আদালত নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের উপস্থিতিতে মরদেহ উত্তোলন, সুরতহাল প্রতিবেদন প্রস্তুত এবং ময়নাতদন্তের অনুমতি দেন। পরে ওই আদেশ বাতিল চেয়ে বাদীপক্ষ আবেদন করলে আদালত আবেদনটি নথিভুক্ত করেন। পরে গত ২২ জুন সালমান শাহর মৃত্যুর প্রকৃত কারণ নির্ণয়ে তার দেহাবশেষ উত্তোলনের প্রক্রিয়ায় সিলেট জেলা ম্যাজিস্ট্রেট কার্যালয়ের অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট পিংকি সাহাকে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়। এ-সংক্রান্ত অফিস আদেশের অনুলিপি ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে পাঠানো হলে তা নথিভুক্ত করা হয়। ১৯৯৬ সালের ৬ সেপ্টেম্বর মারা যান জনপ্রিয় চিত্রনায়ক সালমান শাহ। ওই সময় তার বাবা প্রয়াত কমরউদ্দিন আহমদ চৌধুরী রমনা থানায় একটি অপমৃত্যুর মামলা করেন। পরে ১৯৯৭ সালের ২৪ জুলাই ছেলেকে হত্যা করা হয়েছে অভিযোগ তুলে মামলাটিকে হত্যা মামলা হিসেবে গ্রহণের আবেদন জানান তিনি। আদালতের নির্দেশে অপমৃত্যুর মামলার সঙ্গে হত্যার অভিযোগও তদন্ত করে সিআইডি। ১৯৯৭ সালের ৩ নভেম্বর সংস্থাটি আদালতে চূড়ান্ত প্রতিবেদনে সালমান শাহর মৃত্যুকে আত্মহত্যা বলে উল্লেখ করে। ওই বছরের ২৫ নভেম্বর আদালত সেই চূড়ান্ত প্রতিবেদন গ্রহণ করেন। তবে সিআইডির প্রতিবেদন প্রত্যাখ্যান করে সালমান শাহর বাবা রিভিশন মামলা করেন। তার মৃত্যুর পর মামলাটি পরিচালনা করেন সালমান শাহর মামা মোহাম্মদ আলমগীর। সবশেষ আদালত বাদীপক্ষের রিভিশন মঞ্জুর করে ঘটনাটি হত্যা মামলা হিসেবে গ্রহণের নির্দেশ দেন। এর পরিপ্রেক্ষিতে রাজধানীর রমনা থানায় সালমান শাহর স্ত্রী সামীরা হক, তার মা লতিফা হক লিও (লুসি), অভিনেতা আশরাফুল হক ডন, শিল্পপতি ও সাবেক চলচ্চিত্র প্রযোজক আজিজ মোহাম্মদ ভাইসহ ১১ জনের বিরুদ্ধে হত্যা মামলা দায়ের করা হয়। মামলায় তাদের বিরুদ্ধে দণ্ডবিধির ৩০২/৩৪ ধারায় অভিযোগ আনা হয়েছে। বর্তমানে মামলাটির তদন্ত করছে সিআইডি।   আপলোড : আব্দুল খালিক

২৩ই জুলাই, ২০২৬
ইনস্টাগ্রাম অ্যাকাউন্ট নিরাপদ রাখতে যে ৫টি সেটিংস পরিবর্তন করা জরুরি

ইনস্টাগ্রাম অ্যাকাউন্ট নিরাপদ রাখতে যে ৫টি সেটিংস পরিবর্তন করা জরুরি

অনলাইন জগতের ক্রমবর্ধমান সাইবার ঝুঁকি, ডাটা চুরি, অনলাইন ট্র্যাকিং এবং অপ্রয়োজনীয় বার্তা থেকে রক্ষা পেতে ইনস্টাগ্রাম ব্যবহারকারীদের দ্রুত তাদের অ্যাকাউন্টের প্রাইভেসির সেটিংস পর্যালোচনার পরামর্শ দিয়েছেন সাইবার নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞরা।  নিজস্ব তথ্যের ওপর পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ বজায় রাখতে এবং প্ল্যাটফর্মটিতে নিরাপদ থাকতে ব্যবহারকারীদের নির্দিষ্ট পাঁচটি গুরুত্বপূর্ণ সেটিংস অবিলম্বে পরিবর্তনের তাগিদ দেওয়া হয়েছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, মেটা তাদের নিজস্ব এআই মডেল ও ফিচারের মানোন্নয়নে ব্যবহারকারীদের পাবলিক অ্যাকাউন্টের ছবি ও ভিডিও ব্যবহার করে থাকে। যেসব ব্যবহারকারী নিজেদের কনটেন্ট এআই তৈরিতে ব্যবহার করতে দিতে চান না, তারা ইনস্টাগ্রামের Settings থেকে Sharing and Reuse অপশনে গিয়ে AI features সংক্রান্ত রিইউজ অপশনটি বন্ধ করতে পারেন। এছাড়া ইনস্টাগ্রামের বাইরে অন্যান্য ওয়েবসাইটে ব্যবহারকারীর অনলাইন কার্যক্রম পর্যবেক্ষণ বন্ধ করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। মেটা প্রযুক্তি ব্যবহার করে অন্যান্য সাইটে আপনি কী ব্রাউজ করছেন তা ট্র্যাক করে বিজ্ঞাপন দেখায়। এটি বন্ধ করতে ব্যবহারকারীদের Accounts Center থেকে Your Information and Permissions-এ গিয়ে Your Activity Off Meta Technologies অংশটি নিষ্ক্রিয় করতে হবে। অ্যাকাউন্টের সার্বিক সুরক্ষায় সাধারণ পাবলিক অ্যাকাউন্টের পরিবর্তে অ্যাকাউন্টটিকে Private করার আহ্বান জানানো হয়েছে। এর ফলে কেবল অনুমোদিত অনুসারীরাই প্রকাশিত পোস্ট ও স্টোরি দেখতে পাবেন, যা ভুয়া প্রোফাইল ও স্প্যাম অ্যাকাউন্ট থেকে রক্ষা পেতে সাহায্য করে। একই সঙ্গে অনাকাঙ্ক্ষিত মেসেজ, স্ক্যাম বা স্প্যাম লিংক থেকে বাঁচতে ডিরেক্ট মেসেজ রিকোয়েস্ট পাওয়ার সুবিধাটি কেবল পরিচিতদের মধ্যে সীমাবদ্ধ রাখার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। ব্যক্তিগত আপডেটগুলোর ক্ষেত্রেও গোপনীয়তা রক্ষা করতে বিশেষ ফিচার ব্যবহারের কথা বলা হয়েছে। গল্প বা স্টোরি শেয়ার করার ক্ষেত্রে নির্দিষ্ট ফলোয়ারদের থেকে তা লুকিয়ে রাখা কিংবা Close Friends ফিচার ব্যবহার করার সুপারিশ করা হয়েছে।  শেষ পর্যন্ত, ব্যবহারকারী কখন অনলাইনে সক্রিয় আছেন তা যেন অন্য কেউ দেখতে না পায়, সে জন্য Settings and activity থেকে Messages and story replies-এ গিয়ে Show Activity Status অপশনটি বন্ধ রাখার নির্দেশ দিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা। নিয়ম করে এই সাধারণ বিষয়গুলো পরীক্ষা করলে অনলাইন জগতে ব্যক্তিগত তথ্যের ঝুঁকি অনেকাংশে কমানো সম্ভব। সূত্র: সামা টিভি।   আপলোড : আব্দুল খালিক

২৩ই জুলাই, ২০২৬
স্পেন-আর্জেন্টিনা ফাইনাল পুনরায় আয়োজনের দাবি

স্পেন-আর্জেন্টিনা ফাইনাল পুনরায় আয়োজনের দাবি

ফাইনাল পুনরায় আয়োজনের দাবিতে আর্জেন্টিনায় একটি অনলাইন প্রচারণায় ইতোমধ্যে ৬১ হাজার ৫০০-এর বেশি মানুষের স্বাক্ষর। ১৯ জুলাই পর্দা নেমেছে ইতিহাসের সবচেয়ে বড় ফুটবল বিশ্বকাপের। নিউজার্সির মেটলাইফ স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত ফাইনালে আর্জেন্টিনাকে ১-০ গোলে হারিয়ে শিরোপা জেতে স্পেন। তবে ম্যাচ শেষ হলেও ফাইনাল ঘিরে বিতর্ক থামেনি। রেফারিং ও ভিএআর সিদ্ধান্ত নিয়ে প্রশ্ন তুলে ফাইনাল পুনরায় আয়োজনের দাবিতে আর্জেন্টিনায় একটি অনলাইন প্রচারণা শুরু হয়েছে, যেখানে ইতোমধ্যে ৬১ হাজার ৫০০-এর বেশি মানুষ স্বাক্ষর করেছেন। চেঞ্জডটওআরজি প্ল্যাটফর্মে গিসেলা সানচেজ নামে এক আর্জেন্টাইন ফুটবল সমর্থক এই পিটিশন চালু করেন। আবেদনে ফিফার কাছে ফাইনালের দায়িত্বে থাকা স্লোভেনিয়ান রেফারি স্লাভকো ভিনচিচের পারফরম্যান্স এবং ম্যাচে ব্যবহৃত ভিএআর সিদ্ধান্তগুলো পুনর্মূল্যায়নের দাবি জানানো হয়েছে। পিটিশনের উদ্যোক্তার অভিযোগ, ম্যাচে এমন কিছু রেফারিং সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে যা খেলার গতিপথে প্রভাব ফেলতে পারে। পাশাপাশি তিনি কয়েকটি অনিয়মের কথাও উল্লেখ করেছেন। তবে এসব দাবির পক্ষে কোনো যাচাইকৃত প্রমাণ উপস্থাপন করা হয়নি। তবুও তিনি পুরো বিষয়টি তদন্ত করে দেখার জন্য ফিফার প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন।    তবে ক্রীড়া আইন ও ফিফার প্রচলিত বিধিমালা অনুযায়ী, কোনো ম্যাচ পুনরায় আয়োজনের জন্য বিশেষ ও ব্যতিক্রমী পরিস্থিতি প্রয়োজন হয়। শুধুমাত্র অনলাইন পিটিশন বা জনমত কোনো আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতার ফলাফল পরিবর্তন করতে পারে না এবং এমন আবেদনের কোনো বাধ্যতামূলক আইনি বা আনুষ্ঠানিক বৈধতাও নেই। বিশ্বকাপ চলাকালে এটিই প্রথম এমন উদ্যোগ নয়। এর আগে ফ্রান্সেও একটি অনলাইন ক্যাম্পেইনে ৮২ হাজারের বেশি মানুষ স্বাক্ষর করেছিলেন। সেখানে দাবি করা হয়েছিল, স্পেনের বিপক্ষে সেমিফাইনালে একটি বিতর্কিত ঘটনার পর ম্যাচটি পুনরায় আয়োজন করা হোক। তবে সেই আবেদনও কোনো ফল বয়ে আনেনি। উল্লেখ্য, ১৯ জুলাইয়ের ফাইনালে অতিরিক্ত সময়ে ফেররান তোরেসের একমাত্র গোলে জয় নিশ্চিত করে স্পেন। শিরোপা হাতছাড়া হলেও আর্জেন্টিনাজুড়ে সমর্থকেরা রাস্তায় নেমে লিওনেল মেসি ও দলের প্রতি সমর্থন ও কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। তবে রাজধানী বুয়েন্স আয়ার্সে ম্যাচ পরবর্তী সময়ে কিছু স্থানে পুলিশের সঙ্গে সমর্থকদের সংঘর্ষের ঘটনাও ঘটে।   আপলোড : আব্দুল খালিক

২৩ই জুলাই, ২০২৬
চলছে জেলা তথ্য অফিসের প্রচারণা, জেলা প্রশাসনের যেসব প্রস্তুতি

চলছে জেলা তথ্য অফিসের প্রচারণা, জেলা প্রশাসনের যেসব প্রস্তুতি

উজানে ভারি বৃষ্টির প্রভাবে সিলেটের নিম্নাঞ্চলে স্বল্পমেয়াদী বন্যা পরিস্থিতি সৃষ্টির আশঙ্কা করা হচ্ছে। এ পরিস্থিতে বন্যা ও যে কোন দুর্যোগ মোকাবেলায় সচেতনতামূলক প্রচার কার্যক্রম জোরদার করেছে সিলেট জেলা তথ্য অফিস। পাশাপাশি জেলা প্রশাসন যে কোনো পরিস্থিতি মোকাবেলায় প্রস্তুত রয়েছে বলে জানা গেছে। সিলেট পানি উন্নয়ন বোর্ডের তথ্য অনুসারে- সিলেটের সুরমা ও কুশিয়ারা নদীর কানাইঘাট, আমলশিদ, শেওলা ও ফেঞ্চুগঞ্জ পয়েন্টে পানি সমতলে বৃদ্ধি পাচ্ছে। তবে সবকটি পয়েন্টে পানি এখনও বিপদসীমার নিচে প্রবাহিত হচ্ছে। গত কয়েকদিনে উজানে উল্লেখযোগ্য পরিমাণ বৃষ্টিপাত হওয়ায় নদ-নদীতে পাহাড়ি ঢলের চাপ তীব্র হয়েছে। এতে সিলেট জেলার নিম্নাঞ্চলে নতুন করে স্বল্পমেয়াদী বন্যা পরিস্থিতি সৃষ্টি হতে পারে কিংবা বিদ্যমান পরিস্থিতির অবনতি হতে পারে। সিলেট জেলা তথ্য অফিস জানিয়েছে, পাহাড়ি ঢল ও অতিবৃষ্টিজনিত সম্ভাব্য বন্যা, ভূমিধস ও পাহাড়ধস মোকাবিলায় সচেতনতামূলক প্রচার কার্যক্রম জোরদার করেছে তারা। ঝুঁকিপূর্ণ প্রতিটি এলাকায় নিয়মিত সড়ক প্রচার ও মাইকিং অব্যহত আছে। সময়মত আশ্রয়কেন্দ্রে যাওয়া এবং বন্যা ও বন্যা পরবর্তী সময়ে করণীয় সম্পর্কে সচেতন করতে এ প্রচার কার্যক্রম চালানো হচ্ছে। এছাড়াও জেলা তথ্য অফিসের উদ্যোগে বন্যা পরবর্তী ডেঙ্গু প্রতিরোধ ও নিয়ন্ত্রণে জনসচেতনতামূলক বার্তা প্রচার এবং চলচ্চিত্র প্রদর্শন করা হচ্ছে। পাশাপাশি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ও জেলা তথ্য অফিসের অফিশিয়াল ফেসবুক পেজ এবং ওয়েবসাইটে দুর্যোগ মোকাবিলা, ডেঙ্গু প্রতিরোধ এবং অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ জনসচেতনতামূলক কনটেন্ট প্রচার করা হচ্ছে। সিলেটে যে কোনো বন্যা পরিস্থিতি মোকাবিলায় জেলা প্রশাসনও প্রস্তুত রয়েছে। বন্যা পরিস্থিতি মোকাবিলায় জেলার ১৩ টি উপজেলায় ৫৭৫টি আশ্রয়কেন্দ্র প্রস্তুত রাখা হয়েছে। এছাড়া ১০ হাজার ৩১৯ প্যাকেট শুকনা খাবার, ১ হাজার ২৫০ প্যাকেট শিশুখাদ্য, ৪৮ বান্ডিল ঢেউটিন, জিআর চাল ১৭৫ মেট্রিক টন, নগদ অর্থ ১০ লাখ টাকা মজুদ রয়েছে। এ পর্যন্ত ৪১০ প্যাকেট শুকনা খাবার ও ১৫০ প্যাকেট শিশুখাদ্য বিতরণ করা হয়েছে। স্বাস্থ্য বিভাগের তথ্য অনুসারে- সিলেট জেলার মোট ১০৫টি মেডিকেল টিম প্রস্তুত রাখা হয়েছে, যা প্রয়োজনে তাৎক্ষণিকভাবে দুর্গত এলাকায় স্বাস্থ্যসেবা প্রদান করবে। এছাড়া জেলার ১৩টি উপজেলায় জরুরী ওষুধ, খাবার স্যালাইন (২ লাখ ৯৫ হাজার ৬০০ প্যাকেট), পানি বিশুদ্ধকরণ ট্যাবলেট (১ লাখ ৪২ হাজার ২০০), কলেরা স্যালাইন (১০ হাজার ২১৫ প্যাকেট), এন্টি-স্নেকভেনম (১৭৬ ভায়াল) সহ প্রয়োজনীয় চিকিৎসা সামগ্রী পর্যাপ্ত পরিমাণে মজুদ রয়েছে। জরুরি স্বাস্থ্যসেবা নির্বিঘ্ন রাখতে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা-কর্মচারীদের ছুটি বাতিল করা হয়েছে এবং সকলকে কর্মস্থলে থেকে দায়িত্ব পালনের নির্দেশনা প্রদান করা হয়েছে। সম্ভাব্য বন্যা পরিস্থিতি মোকাবিলায় জেলা প্রশাসন ও সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন দপ্তর সমন্বিতভাবে কাজ করে যাচ্ছে। উদ্ভূত বন্যা পরিস্থতিতে সিলেট জেলায় এখন পর্যন্ত উল্লেখযোগ্য কোনো ক্ষয়ক্ষতি সংগঠিত হয়নি। এছাড়া জেলার কোথাও পাহাড়ধস, ভূমিধসের ঘটনা ঘটেনি। অতিবৃষ্টি, পাহাড়ধস কিংবা ভূমিধসে কেউ আহত বা নিহত হয়নি।

২৩ই জুলাই, ২০২৬
ভালো নেই সিলেটের সড়কগুলো : জনদুর্ভোগ লাঘবে দ্রুত পদক্ষেপ চাই

ভালো নেই সিলেটের সড়কগুলো : জনদুর্ভোগ লাঘবে দ্রুত পদক্ষেপ চাই

সিলেট অঞ্চলের যোগাযোগ ব্যবস্থার বর্তমান চিত্র অত্যন্ত উদ্বেগজনক ও হতাশাজনক। আধ্যাত্মিক নগরী, চায়ের রাজধানী কিংবা পর্যটন নগরী- যে নামেই সিলেটকে ডাকা হোক না কেন, এখানকার সড়কগুলোর বর্তমান দশা এই চেনা রূপকে মলিন করে দিচ্ছে। বর্তমানে সিলেটের প্রায় প্রতিটি প্রধান ও আঞ্চলিক সড়কই খানাখন্দ আর ছোট-বড় গর্তে সয়লাব। ফলে প্রতিদিন লাখ লাখ যাত্রীকে চরম ভোগান্তি ও জীবনের ঝুঁকি নিয়ে যাতায়াত করতে হচ্ছে। এই পরিস্থিতি শুধু দুঃখজনকই নয়, বরং চরম অবহেলারও বহিঃপ্রকাশ। একটি অঞ্চলের অর্থনৈতিক ও সামাজিক উন্নয়নের মূল চালিকাশক্তি হলো তার যোগাযোগ ব্যবস্থা। কিন্তু সিলেটের সড়কগুলোর দিকে তাকালে বোঝার উপায় নেই যে এগুলো কোনো বিভাগীয় শহরের রাস্তা নাকি কোনো পরিত্যক্ত পথ। সামান্য বৃষ্টি হলেই গর্তগুলো মিনি পুকুরে পরিণত হয়, আর শুকনা মৌসুমে ধুলোবালিতে অন্ধকার হয়ে যায় চারপাশ। এই ভাঙাচোরা রাস্তার কারণে প্রতিদিন ঘটছে ছোট-বড় দুর্ঘটনা, বিকল হচ্ছে শত শত যানবাহন। সবচেয়ে বেশি বিপদে পড়ছেন গর্ভবতী নারী, শিশু এবং জরুরি রোগীরা। সময়মতো হাসপাতালে পৌঁছানো যেখানে জীবন-মরণের প্রশ্ন, সেখানে ভাঙা রাস্তার ঝাঁকুনি আর যানজটে আটকা পড়ে রোগীদের অবস্থা আরও শোচনীয় হয়ে উঠছে। নিয়মিত সংস্কার ও রক্ষণাবেক্ষণের অভাব, নিম্নমানের নির্মাণসামগ্রীর ব্যবহার এবং সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলোর মধ্যে সমন্বয়হীনতার কারণেই আজ সিলেটের রাস্তাঘাটের এই কঙ্কালসার দশা। জোড়াতালির মেরামত যে কোনো স্থায়ী সমাধান নয়, তা বারবার প্রমাণিত হয়েছে। আজ মেরামত করলে কয়েকদিন পরই তা আবার আগের অবস্থায় ফিরে যাচ্ছে, যা জনগণের ট্যাক্সের পয়সার অপচয় ছাড়া আর কিছুই নয়। সিলেটের সড়কগুলোর এই মরণদশা আর কতদিন চলবে? এই চরম জনদুর্ভোগ কোনোভাবেই আর দীর্ঘায়িত হতে দেওয়া যায় না। জনগণের ট্যাক্সের টাকায় নির্মিত সড়কের এই বেহাল দশা সংশ্লিষ্টদের জবাবদিহিতার আওতায় আনা জরুরি। আমরা আশা করি, বিষয়টি দ্রুত সংশ্লিষ্ট উচ্চপদস্থ মহলের নজরে আসবে। ভাঙা রাস্তাগুলোর টেকসই ও স্থায়ী মেরামতের জন্য এখনই একটি সুনির্দিষ্ট ও সমন্বিত মহাপরিকল্পনা গ্রহণ করা প্রয়োজন। ঠিকাদারি কাজের গুণগত মান কঠোরভাবে পর্যবেক্ষণ করতে হবে এবং কাজে গাফিলতি বা দুর্নীতির প্রমাণ মিললে কঠোর আইনি ব্যবস্থা নিতে হবে। সিলেটের মানুষের এই নিত্যদিনের দুর্ভোগ লাঘবে এবং যোগাযোগ ব্যবস্থা সচল রাখতে অনতিবিলম্বে কার্যকর ও দৃশ্যমান পদক্ষেপ গ্রহণ করার জন্য আমরা সরকারের সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রণালয়, স্থানীয় সরকার বিভাগ এবং সিটি কর্পোরেশনসহ সংশ্লিষ্ট সকল কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণ করছি। জনগণের জানমালের নিরাপত্তা ও স্বস্তিদায়ক যাতায়াত নিশ্চিত করা রাষ্ট্রের অন্যতম মৌলিক দায়িত্বÑকর্তৃপক্ষ তা দ্রুত অনুধাবন করবেন, এটাই আমাদের প্রত্যাশা।     আপলোড : আব্দুল খালিক

২৩ই জুলাই, ২০২৬
মোদির পুরোনো কৌশলেরই অংশ হলো শিক্ষামন্ত্রীকে বরখাস্ত না করা

মোদির পুরোনো কৌশলেরই অংশ হলো শিক্ষামন্ত্রীকে বরখাস্ত না করা

ভারতে একের পর এক পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁসের ঘটনাকে কেন্দ্র করে শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগের দাবিতে উত্তাল হয়ে উঠেছে দেশটির রাজনৈতিক ও সামাজিক অঙ্গন। তরুণদের নতুন সামাজিক আন্দোলন ‘ককরোচ মুভমেন্ট’-এর হাজার হাজার সমর্থক দেশের রাজধানী নয়া দিল্লিতে মাসব্যাপী অবস্থান ধর্মঘট পালন করছেন।  পুলিশি লাঠিচার্জ এবং টিয়ার গ্যাসের জবাবে শতাধিক আন্দোলনকারী আহত হওয়ার পরও পিছু হটেননি বিক্ষোভকারীরা। তবে দেশজুড়ে তীব্র বিক্ষোভ ও বিরোধী দলগুলোর টানা চাপের মুখেও স্বস্থানে অটল রয়েছেন শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধান। আপাতদৃষ্টিতে এটি নজিরবিহীন মনে হলেও, নরেন্দ্র মোদির ১২ বছরের শাসনকালের রাজনৈতিক ধারা বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়—চাপের মুখে সহকর্মীদের বরখাস্ত না করার এই অবস্থান তার পুরনো কৌশলেরই একটি অংশ। খবর আল-জাজিরার। রাজপথের তীব্র গণবিক্ষোভ ও রাজনৈতিক চাপ জেন-জি প্রজন্মের তরুণদের পরিচালিত এই আন্দোলন মোদির টানা তৃতীয় মেয়াদের শাসনের জন্য এখন পর্যন্ত সবচেয়ে বড় জন চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। ভারতের প্রধান বিরোধী দলগুলোও এই রাজপথের আন্দোলনে পূর্ণ সমর্থন জানিয়ে রাজপথে নেমেছে এবং শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগের দাবিকে জোরালো করেছে। বিভিন্ন গণতান্ত্রিক দেশে সাধারণত বড় ধরণের গণবিক্ষোভ বা বিতর্ক তৈরি হলে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রী কিংবা সরকারপ্রধান পদত্যাগ করেন। কিন্তু ভারতে এ চিত্র সম্পূর্ণ বিপরীত। ধর্মেন্দ্র প্রধান নিজের পদে বহাল রয়েছেন এবং সরকারও তার বিরুদ্ধে কোনো কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া থেকে বিরত রয়েছে। ১২ বছরের চেনা রাজনৈতিক ধাঁচ রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, চাপের মুখে কাউকেই সরান না মোদি—এটি তার শাসনের ১২ বছরে বারবার দেখা গেছে। এর আগে একাধিক বড় বিতর্ক ও ঘটনার পরও তিনি কোনো মন্ত্রীর বিরুদ্ধে গণদাবির মুখে পদত্যাগের সিদ্ধান্ত নেননি। যেমন, ২০১৫ সালে উত্তর প্রদেশের দাদরিতে গোমাংস রাখার গুজবে মোহাম্মদ আখলাক নামের এক ব্যক্তিকে পিটিয়ে হত্যার ঘটনায় ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি হয়। তৎকালীন সংস্কৃতি ও পর্যটন মন্ত্রী মহেশ শর্মা ওই হত্যাকাণ্ডকে একটি ‘দুর্ঘটনা’ বলে অভিহিত করেন।  পরবর্তীতে তিনি ঘটনার অন্যতম অভিযুক্ত ব্যক্তির কফিনে জাতীয় পতাকা জড়ানো অবস্থায় শ্রদ্ধাও জানান। দেশজুড়ে পদত্যাগের তীব্র দাবি উঠলেও মোদি তাকে বহাল রাখেন। অবশেষে ২০১৯ সালে দ্বিতীয় মেয়াদে সরকার গঠনের পরই তাকে মন্ত্রিসভা থেকে বাদ দেওয়া হয়। একইভাবে ২০১৬ সালে হায়দ্রাবাদ বিশ্ববিদ্যালয়ে দলিত ছাত্র রোহিত ভেমুলার আত্মহত্যাকে কেন্দ্র করে দেশজুড়ে ছাত্র বিক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ে। তৎকালীন মানবসম্পদ উন্নয়ন মন্ত্রী স্মৃতি ইরানি ও শ্রম মন্ত্রী বান্দারু দত্তাত্রেয়ের বিরুদ্ধে বৈষম্যমূলক আচরণের অভিযোগ ওঠে। তা সত্ত্বেও দুজনকেই মন্ত্রিসভায় রেখে দেওয়া হয়, পরবর্তীতে স্মৃতি ইরানিকে অন্য মন্ত্রণালয়ে স্থানান্তরিত করা হয়েছিল। অন্যদিকে ২০২১ সালে উত্তর প্রদেশের লখিমপুর খেরিতে আন্দোলনরত কৃষকদের ওপর গাড়ি চালিয়ে দেওয়ার ঘটনায় স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী অজয় মিশ্র তেনির ছেলে আশিস মিশ্রের নাম আসে। ৪ জন কৃষকসহ একাধিক মানুষের প্রাণহানির ঘটনায় তেনির পদত্যাগের দাবি উঠলেও ২০২৪ সালের নির্বাচনে পরাজিত হওয়ার আগ পর্যন্ত তিনি স্বস্থানে বহাল ছিলেন। একমাত্র ব্যতিক্রম ও বিরোধীদের সঙ্গে বৈপরীত্য নরেন্দ্র মোদির পুরো শাসনকালে পদত্যাগের একমাত্র বড় ব্যতিক্রম ছিল করোনা মহামারীর দ্বিতীয় ঢেউয়ের পর। কোভিড ব্যবস্থাপনা নিয়ে তীব্র সমালোচনার মুখে তৎকালীন স্বাস্থ্যমন্ত্রী ড. হর্ষ বর্ধন পদত্যাগ করতে বাধ্য হন এবং পরে রাজনীতি থেকেও বিদায় নেন। মোদির দল ভারতীয় জনতা পার্টির (বিজেপি) এই নীতি তাদের পূর্ববর্তী কংগ্রেস সরকারের শাসনের থেকে সম্পূর্ণ আলাদা। কংগ্রেস আমলে সরকারের বিরুদ্ধে গণদাবি উঠলে কিংবা কোনো বড় বিতর্ক দেখা দিলে স্বরাষ্ট্র বা পররাষ্ট্রের মতো গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রীদের পদত্যাগ করতে দেখা যেত। কিন্তু মোদির শাসনব্যবস্থায় রাজপথের চাপের মুখে নতি স্বীকার না করার এই মনোভাবকেই রাজনৈতিক শক্তি হিসেবে প্রতিষ্ঠা করার চেষ্টা চালানো হচ্ছে।   আপলোড : আব্দুল খালিক

২৩ই জুলাই, ২০২৬
রাষ্ট্রপতি-শেখ হাসিনার ফোনালাপের কোনো তথ্য পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কাছে নেই : শামা ওবায়েদ

রাষ্ট্রপতি-শেখ হাসিনার ফোনালাপের কোনো তথ্য পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কাছে নেই : শামা ওবায়েদ

পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম বলেছেন, চিকিৎসার জন্য সিঙ্গাপুরে গিয়ে ক্ষমতাচ্যুত সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এবং রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিনের মধ্যে ফোনালাপের কোনো তথ্য পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কাছে নেই। এরকম যদি কিছু হয়ে থাকে তাহলে তা তদন্ত করে দেখা হবে। বৃহস্পতিবার (২৩ জুলাই) বিকালে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি একথা বলেন। শামা ওবায়েদ বলেন, এ বিষয়ে কোনো সুনির্দিষ্ট খবর পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় পায়নি। যদি সেটা সত্যি হয়ে থাকে অবশ্যই পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় তদন্ত করবে, সরকারও সেটা তদন্ত করবে। মার্কিন দূতের ঢাকা সফর প্রসঙ্গে তিনি বলেন, আমাদের বহুপাক্ষিক সম্পর্ক আছে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে। সেগুলো আরও সুগম হবে এবং আমরা আমাদের বাণিজ্যিক সম্পর্ক আমাদের ডিপ্লোমেসি, ইকোনমিক ডিপ্লোমেসি সব কীভাবে সামনের দিকে এগিয়ে নিয়ে যেতে চাই, নিয়ে যাওয়া হবে, সেটাই আলোচনা হবে বলে আমার আমি মনে করি। ভারতে ছাত্র আন্দোলন চলছে। দেশটিতে অনেক বাংলাদেশি রয়েছে। এ নিয়ে বাংলাদেশের উদ্বেগ আছে কি না? জানতে চাইলে শামা ওবায়েদ বলেন, বাংলাদেশ একটি গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র ও গণতান্ত্রিক সরকার হিসেবে আমাদের এই অঞ্চলে স্থিতিশীলতা ও শান্তি বজায় থাকুক সেটাই আমরা চাই। একটি গণতান্ত্রিক সরকার ও রাষ্ট্র হিসেবে আমরা আশা করব, ভারত বিশ্বের বৃহত্তম গণতান্ত্রিক সরকার হিসেবে; তারা তাদের জনগণের অবস্থান দেখবে এবং সমস্যা সমাধানের দিকে দ্রুত আগাবে। বাংলাদেশি পাসপোর্টের মানের কোনো অবনমন হয়নি বলে দাবি করেছেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম। তিনি জানান, ভিসা সমস্যার সঙ্গে অবৈধ পথে বিদেশ যাওয়া সম্পর্কিত। সাংবাদিকদের শামা ওবায়েদ বলেন, ‘বাংলাদেশি পাসপোর্টের মানের কোনো অবনমন হয়নি। আমরা সাড়ে ৪ মাস হয়েছে সরকার গঠন করেছি। এর আগের থেকেই ভিসার সমস্যাগুলো বিশেষ করে আমাদের যারা বাংলাদেশি ভাইয়েরা যেসব যেসব দেশগুলোতে তারা কর্মরত আছে, সেসব দেশে যেমন- আরব আমিরাত, মালয়েশিয়া; এসব দেশগুলোতে ভিসা বন্ধ আছে।’ ভিসা বন্ধ থাকার বিভিন্ন কারণ আছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘এগুলো নিয়ে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে জরুরি ভিত্তিতে স্বরাষ্ট্র ও প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে গত দুই তিন সপ্তাহের মধ্যে আমরা একাধিকবার মিটিং করেছি।’ ভিসা সংক্রান্ত ব্যাপারগুলো কীভাবে সমাধান করা যায়, তা নিয়ে সংশ্লিষ্ট দেশগুলোর সঙ্গে আলোচনা চলছে বলেও জানান প্রতিমন্ত্রী।    আপলোড : আব্দুল খালিক

২৩ই জুলাই, ২০২৬
জগন্নাথপুর নির্বাচন অফিসের দিকে অভিযোগের যত তির

জগন্নাথপুর নির্বাচন অফিসের দিকে অভিযোগের যত তির

সুনামগঞ্জের জগন্নাথপুর উপজেলা নির্বাচন কার্যালয় যেন অনিয়ম ও ঘুষ  বাণিজ্যের আখড়ায় পরিণত হয়েছে। নতুন ভোটার তালিকার নাম তোলা, তথ্য সংশোধন কিংবা ফিঙ্গারপ্রিন্ট প্রদানের ক্ষেত্রে অনাবাসী ও প্রবাসী বাংলাদেশিরা পদে পদে চরম ভোগান্তি ও অর্থ দাবির শিকার হচ্ছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। কোনো কাজই নির্ধারিত নিয়মে সহজভাবে হচ্ছে না; প্রতিটি ধাপে দালালদের মোটা অঙ্কের টাকা না দিলে আটকে যাচ্ছে সাধারণ প্রবাসীদের প্রয়োজনীয় নথিপত্র। স্থানীয় ভুক্তভোগীদের সাথে কথা বলে জানা গেছে, বিদেশফেরত প্রবাসীরা ভোটার তালিকাভুক্ত হতে কিংবা প্রবাসে অবস্থানরতদের প্রসেসিং সংক্রান্ত কাজ করতে আসলেই একশ্রেণির দালাল চক্র সক্রিয় হয়ে ওঠে। একজন প্রবাসীকে ভোটার তালিকাভুক্ত করা কিংবা ফিঙ্গারপ্রিন্ট প্রদানের সুযোগ করে দিতে ৪ থেকে ৫ হাজার টাকা পর্যন্ত দাবি করা হচ্ছে। টাকা না দিলে নানাবিধ অজুহাতে দিন পার করলেও মিলছে না প্রয়োজনীয় সেবা। সবচেয়ে মর্মান্তিক বিষয় হলো, জীবিকার তাগিদে মধ্যপ্রাচ্য বা সৌদি আরবগামী নারী শ্রমিকরাও এই সিন্ডিকেটের হাত থেকে রেহাই পাচ্ছেন না। বিদেশে যাওয়ার পূর্বশর্ত হিসেবে দ্রুততম সময়ে ফিঙ্গারপ্রিন্ট বা ভোটার সংক্রান্ত প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে গিয়ে নারী প্রবাসীদেরও বাধ্য হয়ে হাজার হাজার টাকা দিতে হচ্ছে দালাল চক্রের হাতে। প্রতি মঙ্গলবার ভোট তোলার কথা থাকলেও টাকা দিলে সাথে সাথে ফিঙ্গার দেওয়া যায়, টাকা না দিলে এক সাপ্তাহ অপেক্ষা করতে হয়। ভুক্তভোগী এক প্রবাসীর স্বজন জানান, ‘প্রবাসী স্বজনের ভোটার সংক্রান্ত কাজ করতে এসে দেখি সোজা পথে কোনো কাজ হয় না। বাইরে ঘুরতে থাকা দালালদের টাকা দিলে ভেতরে দ্রুত কাজ হয়ে যায়। আর না দিলে কাগজপত্রে ভুল ধরে হয়রানি করা হয়। অফিস কর্মকর্তা ও বাইরের দালাল চক্রের গভীর যোগাযোগের কারণেই এই অনিয়ম দিনে দিনে বেপরোয়া হয়ে উঠেছে। অফিসে কর্মচারী ও বাহিরের দালালদের যোগাযোগ ফোনে রয়েছে। দালালরা  আগে ফাইল অফিসের লোক জনের কাছে জমা দিয়ে আসে, পরে ফোনে ফোনে যোগাযোগ চলে। অভিযোগ রয়েছে, নির্বাচন অফিসের ভেতরকার কিছু অসাধু কর্মচারী ও বাইরের চিহ্নিত দালাল সিন্ডিকেটের সমন্বয়ে একটি শক্তিশালী ‘কমিশন নেটওয়ার্ক’ গড়ে উঠেছে। অফিসের নির্দিষ্ট কয়েকজন ব্যক্তির অঘোষিত ইশারাতেই দালালরা সেবাগ্রহীতাদের কাছ থেকে বেপরোয়া টাকা আদায় করছে।  প্রবাসীদের অভিযোগ, প্রবাসে অর্জিত কষ্টে অর্জিত অর্থ দিয়ে দেশের অর্থনীতি সচল রাখলেও নিজ জন্মভূমিতে সরকারি সেবামূলক প্রতিষ্ঠানে তাদের এভাবে জিম্মি হতে হচ্ছে, যা অত্যন্ত দুঃখজনক। এই ভোগান্তি থেকে মুক্তি পেতে এবং জগন্নাথপুর উপজেলা নির্বাচন অফিসের দালাল সিন্ডিকেট ভেঙে দিয়ে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে জেলা প্রশাসন ও সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের আশু হস্তক্ষেপ ও কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের জোর দাবি জানিয়েছেন ভুক্তভোগী সাধারণ প্রবাসী ও স্থানীয় সচেতন মহল। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন জানান, এই দালাদ গুলো জগন্নাথপুর সাব রেজিস্ট্রার, ভুমি অফিস,ও নির্বাচন অফিসে ঘোরাঘুরি করতে দেখা যায় প্রতিনিয়ত, এই দালালদের নাম তালিকা করেন আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হোক। জগন্নাথপুর উপজেলার একজন সচেতন নাগরিক বলেন, যখন প্রবাসী ভোট তুলতে অফিসে যায়, নির্বাচন কর্মকর্তা ভালো করে জিজ্ঞেস করলে দালালদের নাম পাওয়া যাবে। এ ব্যাপারে জগন্নাথপুর নির্বাচন কর্মকর্তা মোহাম্মদ আবুল খায়ের বলেন, আমার অফিসে ভোট তুলতে টাকা লাগে না, কাগজপত্র সঠিক থাকলে সাথে সাথে ভোট তোলা যায়। দালালরা আমাদের এখানে আসে না।   আপলোড : আব্দুল খালিক

২৩ই জুলাই, ২০২৬
জকিগঞ্জে সাড়ে ৭ মাসে উদ্ধার ৪১ হাজার ইয়াবা, গ্রেফতার ১১৩

জকিগঞ্জে সাড়ে ৭ মাসে উদ্ধার ৪১ হাজার ইয়াবা, গ্রেফতার ১১৩

সীমান্তবর্তী সিলেটের জকিগঞ্জ থানায় নতুন অফিসার ইনচার্জ (ওসি) হিসেবে মোহাম্মদ আব্দুর রাজ্জাক দায়িত্ব গ্রহণের পর মাদক, চোরাচালান ও বিভিন্ন অপরাধ দমনে ধারাবাহিক অভিযান চালিয়ে যাচ্ছে পুলিশ। অপরাধ দমনে জিরো টলারেন্স নীতি ঘোষণা করে বিভিন্ন স্পটে তৎপরতা বৃদ্ধি করা হয়েছে। ফলে পুলিশের জালে আটকা পড়ছে সীমান্ত পেরিয়ে আসা মাদকের বিভিন্ন চালান। থানা পুলিশের হিসেব মতে- গত বছরের ৭ ডিসেম্বর ২০২৫ থেকে চলতি বছরের ১৭ জুলাই ২০২৬ পর্যন্ত প্রায় সাড়ে সাত মাসে পরিচালিত অভিযানে ৪১ হাজার ৩৪৯ পিস ইয়াবাসহ বিপুল পরিমাণ মাদক উদ্ধার এবং বিভিন্ন মামলায় মোট ১১৩ জন আসামিকে গ্রেফতার করা হয়েছে। এ সময়ে ৩২টি মাদক মামলায় ৪১ হাজার ৩৪৯ পিস ইয়াবা, প্রায় ১ হাজার ৮৭৫ গ্রাম গাঁজা, ৭৬ বোতল ভারতীয় ‘অফিসার্স চয়েস’ মদ ও ১৫ বোতল বিদেশি মদ জব্দ করা হয়। উদ্ধার হওয়া মাদকের আনুমানিক বাজারমূল্য প্রায় ১ কোটি ৫৩ লাখ টাকার বেশি। চোরাচালানবিরোধী অভিযানে তিনটি মামলায় চারজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। এ সময় ৩৮ হাজার ১৮০ শলাকা বিদেশি নাসিরউদ্দিন বিড়ি এবং ১৫ বোতল বিদেশি মদ জব্দ করা হয়, যার আনুমানিক মূল্য প্রায় ৮৩ হাজার ৮৬০ টাকা। এ ছাড়া ডাকাতি, হত্যা ও অন্যান্য মামলায় ৪৬ জনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। একই সময়ে বিভিন্ন মামলার ৬৫ জন সাজাপ্রাপ্ত আসামিকে গ্রেফতার করে আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে। তাঁদের মধ্যে দুজন যাবজ্জীবন সাজাপ্রাপ্ত আসামিও রয়েছেন। পুলিশের দাবি, নিয়মিত টহল, গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে অভিযান এবং সীমান্ত এলাকায় নজরদারি জোরদারের ফলে মাদক ও চোরাচালান নিয়ন্ত্রণে ইতিবাচক অগ্রগতি এসেছে। অপরাধ দমনে এ ধরনের অভিযান ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে। স্থানীয় বাসিন্দা আব্দুল মুকিত জানান, সাম্প্রতিক সময়ে পুলিশের মাদক ও অপরাধবিরোধী অভিযান আগের তুলনায় বেশি দৃশ্যমান হয়েছে, যা সাধারণ মানুষের মধ্যে স্বস্তি তৈরি করেছে। তবে তাঁরা নিরপেক্ষভাবে আইন প্রয়োগ, নির্দোষ মানুষকে হয়রানি থেকে বিরত রাখা এবং সব ধরনের অপরাধীর বিরুদ্ধে সমানভাবে ব্যবস্থা নেওয়ার ওপর গুরুত্বারোপ করেন। জকিগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মোহাম্মদ আব্দুর রাজ্জাক বলেন, “আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখা, মাদক ও চোরাচালান নির্মূল এবং সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে জকিগঞ্জ থানা পুলিশ নিরলসভাবে কাজ করছে। কোনো অপরাধীকে ছাড় দেওয়া হবে না। জনসাধারণের সহযোগিতা নিয়ে ভবিষ্যতেও এ অভিযান আরও জোরদার করা হবে।”   আপলোড : আব্দুল খালিক

২৩ই জুলাই, ২০২৬
আন্দোলনের মুখে সিলেটের যে বিধ্বস্ত সড়ক পরিদর্শনে এলজিইডি’র নির্বাহী প্রকৌশলী

আন্দোলনের মুখে সিলেটের যে বিধ্বস্ত সড়ক পরিদর্শনে এলজিইডি’র নির্বাহী প্রকৌশলী

সিলেটের গোয়াইনঘাট উপজেলার চরম জনদুর্ভোগে থাকা পিরোজপুর-সোনারহাট সড়কটি পরিদর্শন করেছেন এলজিইডি সিলেটের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. মামুন খান।  গোয়াইনঘাট সরকারি কলেজের সাধারণ শিক্ষার্থীদের টানা আন্দোলনের মুখে বুধবার (২২ জুলাই) তিনি সড়কটির বিভিন্ন ক্ষতিগ্রস্ত অংশ ঘুরে দেখেন। পরে তিনি সালুটিকর-বঙ্গবীর সড়কের চলমান উন্নয়ন কাজও পরিদর্শন করেন। এর আগে, গত ২০ জুলাই গোয়াইনঘাট সরকারি কলেজ ফটকের সামনে গোয়াইনঘাট-বঙ্গবীর সড়কে এক বিশাল মানববন্ধন ও প্রতিবাদ সভার আয়োজন করেন সাধারণ শিক্ষার্থীরা। উক্ত কর্মসূচি থেকে তারা সড়কটি দ্রুত সংস্কারসহ চার দফা দাবিতে স্থানীয় প্রশাসনকে ৩ দিনের আল্টিমেটাম দেন। শিক্ষার্থীদের এই কঠোর আল্টিমেটামের পরিপ্রেক্ষিতেই এলজিইডির ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা দ্রুত সড়কটি পরিদর্শনে আসেন। সড়ক পরিদর্শনকালে নির্বাহী প্রকৌশলীর সঙ্গে আরও উপস্থিত ছিলেন গোয়াইনঘাট উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রতন কুমার অধিকারী, উপজেলা প্রকৌশলী হাসিব আহমেদ এবং উপজেলা যুবদলের আহ্বায়ক এডভোকেট শাহজাহান সিদ্দিকী। পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে এলজিইডির নির্বাহী প্রকৌশলী মো. মামুন খান বলেন, পিরোজপুর-সোনারহাট সড়কের কাজের নির্ধারিত মেয়াদ ইতোমধ্যেই শেষ হয়ে গেছে। বর্তমানে কার্পেটিং উঠে গিয়ে রাস্তায় বড় বড় গর্তের সৃষ্টি হয়েছে, যা সাধারণ মানুষের চলাচলের অনুপযোগী। শিক্ষার্থীদের যৌক্তিক দাবির প্রেক্ষিতে আমরা দ্রুত পদক্ষেপ নিচ্ছি এবং আগামী ডিসেম্বরের মধ্যেই সড়কটির কাজ সম্পন্ন করে হ্যান্ডওভার করা হবে। তিনি আরও ঘোষণা দিয়ে বলেন, মাননীয় মন্ত্রী মহোদয়ের নির্দেশনা অনুযায়ী, গোয়াইনঘাটের রাস্তাগুলোতে টেকসই উন্নয়নের স্বার্থে আর নতুন করে কার্পেটিং করা হবে না। এই অঞ্চলের সড়কগুলোকে পর্যায়ক্রমে আরসিসি (রোড কাস্টিং) সড়কে রূপান্তর করা হবে। এদিকে এলজিইডির নির্বাহী প্রকৌশলীর এই ঝটিকা পরিদর্শন এবং সড়কটি আরসিসিতে উন্নীত করার আশ্বাসের খবর ছড়িয়ে পড়লে স্থানীয় বাসিন্দা ও আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের মাঝে ইতিবাচক সাড়া দেখা গেছে। তবে আশ্বাসের পাশাপাশি অতি দ্রুত মাঠপর্যায়ে সংস্কারকাজ শুরু করে দীর্ঘদিনের মরণফাঁদে পরিণত হওয়া এই সড়কের দুর্ভোগ থেকে স্থায়ী মুক্তি চান ভুক্তভোগী এলাকাবাসী। (রিপোর্ট : তানজিল হোসেন)

২৩ই জুলাই, ২০২৬
এসএমপি’র সাবেক ডিসিসহ ১৭ পুলিশ কর্মকর্তা বাধ্যতামূলক অবসরে

এসএমপি’র সাবেক ডিসিসহ ১৭ পুলিশ কর্মকর্তা বাধ্যতামূলক অবসরে

পুলিশের ডিআইজি, অতিরিক্ত ডিআইজি ও পুলিশ সুপার পদমর্যাদার ১৭ উর্ধ্বতন কর্মকর্তাকে বাধ্যতামূলক অবসরে পাঠিয়েছে সরকার। এর মধ্যে রয়েছেন সিলেট মেট্রোপলিটন পুলিশের ‎(এসএমপি) সাবেক ট্রাফিক ডিসি ফয়সল মাহমুদ। তাঁর বাড়ি সিলেটে ও তিনি বর্তমানে পুলিশ অধিদফতরের অতিরিক্ত ডিআইজি। ‎বৃহস্পতিবার (২৩ জুলাই) স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের পুলিশ শাখা-১ জারি করা এক প্রজ্ঞাপনে সিনিয়র সচিব মনজুর মোর্শেদ চৌধুরী স্বাক্ষরিত এক আদেশে তাদেরকে অবসরে পাঠানো হয়। ‎ ‎প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, বিসিএস (পুলিশ) ক্যাডারের নিম্নবর্ণিত কর্মকর্তাগণকে সরকারি চাকরি আইন, ২০১৮ (২০১৮ সালের ৫৭ নং আইন) এর ৪৫ ধারার বিধান অনুযায়ী জনস্বার্থে সরকারি চাকরি থেকে অবসর প্রদান করা হলো। ‎ ‎অবসরে যাওয়া কর্মকর্তারা হলো- হাইওয়ে পুলিশের ডিআইজি মোহাম্মদ আব্দুল্লাহিল বাকী, সিআইডির অতিরিক্ত ডিআইজি মোহাম্মদ সরোয়ার হোসেন, ট্যুরিস্ট পুলিশের অতিরিক্ত ডিআইজি বিধান ত্রিপুরা, পুলিশ স্টাফ কলেজের অতিরিক্ত ডিআইজি ড. এ কে এম ইকবাল হোসেন, বাংলাদেশ পুলিশ একাডেমি (বিপিএ) সারদার ডিআইজি মো. ওয়ালিদ হোসেন, এপিবিএনের অতিরিক্ত ডিআইজি সহেলী ফেরদৌস, সিআইডির অতিরিক্ত ডিআইজি রেবেকা সুলতানা, সারদার অতিরিক্ত ডিআইজি মোহাম্মদ তবারক উল্লাহ, রংপুর মেট্রোপলিটন পুলিশের উপপুলিশ কমিশনার মো. হাবিবুর রহমান, পুলিশ টেলিকমের অতিরিক্ত ডিআইজি হাসিনা রহমান, পুলিশ অধিদফতরের অতিরিক্ত ডিআইজি ফয়সল মাহমুদ ও কানিজ ফাতেমা, ট্যুরিস্ট পুলিশের অতিরিক্ত ডিআইজি সুলতানা নাজমা হোসেন, নৌ পুলিশের অতিরিক্ত ডিআইজি জেসমিন বেগম, টিডিএস ঢাকার পুলিশ সুপার আব্দুর রহিম শাহ চৌধুরী, সিআইডির ডিআইজি সানা শামীনুর রহমান এবং ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) যুগ্ম পুলিশ কমিশনার (অতিরিক্ত ডিআইজি) ফরিদা ইয়াসমিন। ‎ ‎প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, অবসরে যাওয়া কর্মকর্তারা বিধি অনুযায়ী অবসরজনিত সব সুবিধা পাবেন।

২৩ই জুলাই, ২০২৬
সুদমুক্ত ঋণ, হুইলচেয়ার ও সুবর্ণ নাগরিক কার্ড বিতরণ করলেন এমপি এমরান চৌধুরী 

সুদমুক্ত ঋণ, হুইলচেয়ার ও সুবর্ণ নাগরিক কার্ড বিতরণ করলেন এমপি এমরান চৌধুরী 

বিয়ানীবাজারে সমাজসেবা অধিদপ্তরের উদ্যোগে সুদমুক্ত ক্ষুদ্রঋণ, ভিক্ষুক পুনর্বাসন কর্মসূচীর আওতায় ছাগল বিতরণ, সুবর্ণ নাগরিক কার্ড এবং প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের মাঝে হুইলচেয়ার বিতরণ করলেন সিলেট-৬ আসনের এমপি এমরান আহমদ চৌধুরী। বৃহস্পতিবার (২৩ জুলাই) বিকেলে উপজেলা পরিষদ মিলনায়তনে এই অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।  বিয়ানীবাজার উপজেলা নির্বাহী অফিসার উম্মে হাবিবা মজুমদার-এর সভাপতিত্বে ও উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা অনুজ চক্রবর্তীর পরিচালনায় প্রধান অতিথি ছিলেন সিলেট-০৬ আসনের মাননীয় সংসদ সদস্য এডভোকেট এমরান আহমদ চৌধুরী। বিশেষ অতিথি ছিলেন বিয়ানীবাজার থানার ওসি আবু জাফর মো: মাহফুজুল কবির, উপজেলা বিএনপির সভাপতি আহমদ রেজা, সিনিয়র সহ সভাপতি আব্দুর সবুর, ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক গিয়াস উদ্দিন সহ আরো অনেকে। প্রধান অতিথির বক্তব্যে এডভোকেট এমরান আহমদ চৌধুরী বলেন, সমাজসেবা অধিদপ্তরের এই মানবিক উদ্যোগ তৃণমূলের পিছিয়ে পড়া মানুষকে স্বাবলম্বী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। সরকার সবসময় অবহেলিত ও প্রতিবন্ধী জনগোষ্ঠীর পাশে রয়েছে।.... উপজেলা সমাজসেবা কার্যালয়ের বাস্তবায়নে অনুষ্ঠিত এ কর্মসূচীতে এলাকার সুবিধাবঞ্চিত ও বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন জনগণের মাঝে আত্মকর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং জীবনযাত্রার মানোন্নয়নের লক্ষ্যে এসব সহায়তা সামগ্রী ও ঋণ হস্তান্তর করা হয়। (রিপোর্ট : আহমদ রেজা)

২৩ই জুলাই, ২০২৬
সিসিকে জন্ম-মৃত্যু নিবন্ধন, এখন থেকে করতে হবে যা

সিসিকে জন্ম-মৃত্যু নিবন্ধন, এখন থেকে করতে হবে যা

জন্ম ও মৃত্যু নিবন্ধন কার্যক্রমে স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা ও নাগরিকবান্ধব সেবা নিশ্চিত করতে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বিভিন্ন নির্দেশনা দিয়েছেন সিলেট সিটি কর্পোরেশনের (সিসিক) প্রশাসক আব্দুল কাইয়ুম চৌধুরী।বৃহস্পতিবার (২৩ জুলাই) সিসিকের স্বাস্থ্য শাখার কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় তিনি এসব নির্দেশনা দেন। সভায় সিসিকের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ রেজাই রাফিন সরকার সহ উর্ধ্বতন কর্মকর্তারা এ সময় উপস্থিত ছিলেন। সভায় সিসিক প্রশাসক বলেন- জন্ম ও মৃত্যু নিবন্ধন সনদ নাগরিকের মৌলিক অধিকার। সনদ গ্রহণের ক্ষেত্রে কোনো নাগরিক যাতে হয়রানির শিকার না হন, সে বিষয়ে সংশ্লিষ্ট সবাইকে সতর্ক থাকতে হবে। সরকার নির্ধারিত ফির বিনিময়ে দ্রুত ও সহজভাবে সেবা প্রদান নিশ্চিত করতে হবে।তিনি আরও বলেন, “সেবাগ্রহীতাদের সঙ্গে সদাচরণ করতে হবে এবং কোনো ধরনের অনিয়ম বা অতিরিক্ত অর্থ আদায়ের অভিযোগ পাওয়া গেলে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। নাগরিকসেবা সহজ, স্বচ্ছ ও সময়োপযোগী করাই আমাদের লক্ষ্য।” সভায় সিসিকের প্রধান স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা. মো. জাহিদুল ইসলাম জন্ম ও মৃত্যু নিবন্ধন সংক্রান্ত আইন ও বিধিমালার বিভিন্ন দিক তুলে ধরেন। তিনি জানান, ১৮ বছর বা তদূর্ধ্ব ব্যক্তিদের জন্ম নিবন্ধনের জন্য আবেদনকারীকে নিজেই আবেদন করতে হবে। আর ১৮ বছরের কম বয়সীদের ক্ষেত্রে তাদের আইনানুগ অভিভাবক আবেদন করবেন। স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে আবেদনকারীকে স্বশরীরে অফিসে উপস্থিত হয়ে আবেদন জমা দিতে হবে।তিনি আরও জানান, জন্ম নিবন্ধনের ক্ষেত্রে ৫ বছরের কম বয়সী শিশুদের জন্য সরকার নির্ধারিত ফি ২৫ টাকা এবং ৫ বছরের বেশি বয়সীদের জন্য ৫০ টাকা। জন্ম সনদ সংশোধনের জন্য নির্ধারিত ফি ১০০ টাকা।প্রবাসীদের জন্ম ও মৃত্যু নিবন্ধনের বিষয়ে তিনি বলেন, আইন অনুযায়ী সংশ্লিষ্ট দূতাবাসের মাধ্যমে আবেদন করা উচিত। তবে বাংলাদেশে অবস্থানরত প্রবাসীরা উপযুক্ত প্রমাণপত্রসহ আবেদন করলে বিষয়টি বিবেচনা করা হবে।মৃত্যু নিবন্ধনের ক্ষেত্রে কেবল আইনগতভাবে গ্রহণযোগ্য তথ্য ও প্রমাণের ভিত্তিতেই সনদ প্রদান করা হবে বলেও তিনি জানান। তিনি বলেন, সিলেট সিটি কর্পোরেশন এলাকার স্থায়ী বাসিন্দা অথবা সিসিক এলাকায় জন্মগ্রহণকারী ব্যক্তিরাই সিলেট সিটি কর্পোরেশন থেকে জন্ম বা মৃত্যু সনদ পাওয়ার উপযুক্ত বলে বিবেচিত হবেন।এ ছাড়া ৫ বছরের কম বয়সী শিশুদের জন্ম নিবন্ধনের সময় টিকাকার্ড প্রদর্শন বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। সিসিকের আঞ্চলিক কার্যালয়ের আওতাধীন ওয়ার্ডের বাসিন্দারা সংশ্লিষ্ট আঞ্চলিক কার্যালয় থেকেই জন্ম ও মৃত্যু নিবন্ধনের আবেদন করতে পারবেন। সভায় সিসিকের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ রেজাই রাফিন সরকার, সচিব মো. আশিক নূর, প্রধান রাজস্ব কর্মকর্তা বিশ্বজিত দেব, প্রধান সম্পত্তি কর্মকর্তা পদ্মাসন সিংহ, প্রধান স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা. মো. জাহিদুল ইসলাম, আঞ্চলিক নির্বাহী কর্মকর্তা (অঞ্চল-২) সুমন চন্দ্র দাশ, আঞ্চলিক নির্বাহী কর্মকর্তা (অঞ্চল-৫) নূসরাত লায়লা নীরা, এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট মোহাম্মদ শফিকুল ইসলাম, প্রধান বর্জ্য ব্যবস্থাপনা কর্মকর্তা মোহাম্মদ একলিম আবদীনসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা-কর্মচারীরা উপস্থিত ছিলেন।

২৩ই জুলাই, ২০২৬
সিলেটের সমাবেশে থাকছে না খেলাফত মজলিস, ‘জোট’ ছাড়ারও গুঞ্জন

সিলেটের সমাবেশে থাকছে না খেলাফত মজলিস, ‘জোট’ ছাড়ারও গুঞ্জন

আগামী শনিবার (২৫ জুলাই) সিলেট সরকারি আলিয়া মাদরাসা মাঠে অনুষ্ঠিত হবে জামায়াতে ইসলামীর নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় ঐক্যের বিভাগীয় সমাবেশ। এ উপলক্ষ্যে স্থানীয় জামায়াত ও এনসিপিসহ শরিক দলগুলো প্রচারণা ও গণসংযোগ চালাচ্ছে।  তবে এ ‘জোট’র অন্যতম শরিক দল খেলাফলত মজলিস শনিবারের সমাবেশে থাকবে না বলে জানা গেছে। এছাড়া দলটি ঐক্যে থাকবে কি না সেটি নিয়েও দেখা দিয়েছে প্রশ্ন।  সংশ্লিষ্ট সূত্র সচিত্র সিলেটকে জানিয়েছে, আগামী শনিবার ঢাকায় খেলাফত মজলিসের কেন্দ্রীয় শূরা সদস্যদের বৈঠক রয়েছে। এ বৈঠকে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে- তারা ১১ দলের সঙ্গে থাকবে কী না। জানা গেছে, জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের দ্বিতীয় বর্ষপূর্তীতে চলমান জুলাইয়ে সিলেটজড়ে সমাবেশ ও গণমিছিলসহ নানা কর্মসূচি পালন করছে খেলাফত মজলিস। আজ বৃহস্পতিবারও ছিলো তাদের কর্মসূচি। বিকেল ৩টায় সিলেট মহানগরের রেজিস্ট্রি মাঠে তাদের সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। এতে প্রধান অতিথির বক্তব্য রাখেন সিলেট-৫ আসনের সাংসদ ও দলের কেন্দ্রীয় শূরা সদস্য মুফতি আবুল হাসান এমপি। সমাবেশে সভাপতিত্ব করেন সংগঠনটির জেলা শাখার সভাপতি মাওলানা নেহাল আহমদ। মাওলানা নেহাল আহমদ জানিয়েছেন- শনিবার ঢাকায় খেলাফত মজলিসের কেন্দ্রীয় শূরা সদস্যদের বৈঠক অনুষ্ঠিত হবে। ওই বৈঠকে নির্ধারিত হবে খেলাফত মজলিস ১১ দলের সঙ্গে থাকবে কী না। এ ছাড়া সিলেটের সমাবেশের দিন ঢাকায় তাদের শূরা বৈঠক থাকায় নেতৃবৃন্দ ঢাকায় অবস্থান করবেন বলে জানান তিনি। উল্লেখ্য, গণভোটের রায় বাস্তবায়ন এবং জুলাই গণহত্যায় জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক বিচারের দাবিতে সিলেটে বিভাগীয় সমাবেশ করছে ১১ দল। এতে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন জামায়াতের আমির ও সংসদীয় বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান। সমাবেশে সভাপতিত্ব করবেন এলডিপির চেয়ারম্যান ড. কর্নেল (অব.) অলি আহমদ বীরবিক্রম। এতে বিশেষ অতিথি হিসেবে অংশ নেবেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম এমপি, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের আমির আল্লামা মামুনুল হক এবং এবি পার্টির চেয়ারম্যান মুজিবুর রহমান মঞ্জুসহ জোটের শীর্ষ নেতারা। সমাবেশকে কেন্দ্র করে সিলেট নগরজুড়ে ব্যানার, পোস্টার ও মাইকিংয়ের মাধ্যমে প্রচারণা চালানো হচ্ছে।

২৩ই জুলাই, ২০২৬
বিয়ানীবাজারের প্রাইমারির জাতীয় পর্যায়ে শিক্ষা পদক, যা বললেন এমপি এমরান

বিয়ানীবাজারের প্রাইমারির জাতীয় পর্যায়ে শিক্ষা পদক, যা বললেন এমপি এমরান

জাতীয় পর্যায়ে ‘প্রাথমিক শিক্ষা পদক-২০২৬’ অর্জন করায় বিয়ানীবাজারের খাসা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়কে সংবর্ধনা দেওয়া হয়েছে। এ উপলক্ষে বৃহস্পতিবার (২৩ জুলাই) দুপুরে বিদ্যালয় প্রাঙ্গণ আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্য রাখেন সিলেট-৬ আসনের সংসদ সদস্য ও জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট এমরান আহমদ চৌধুরী।  তিনি বলেন- জাতীয় পর্যায়ে বিয়ানীবাজারের একটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের এই অর্জন শুধু উপজেলার নয়, সমগ্র সিলেটবাসীর জন্য এটি গর্বের।  এমপি আরও বলেন- একটি বিদ্যালয়ের জাতীয় শ্রেষ্ঠত্ব অর্জনের পেছনে শিক্ষক, শিক্ষার্থী, অভিভাবক এবং স্থানীয় জনগণের সম্মিলিত প্রচেষ্টা রয়েছে। মানসম্মত শিক্ষা নিশ্চিত করতে সবাইকে একইভাবে কাজ করে যেতে হবে। এই সাফল্য অন্য শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোকেও অনুপ্রাণিত করবে এবং শিক্ষার মানোন্নয়নে ইতিবাচক প্রতিযোগিতার পরিবেশ সৃষ্টি করবে। ​উপজেলা নির্বাহী অফিসার উম্মে হাবিবা মজুমদার-এর সভাপতিত্বে এবং শিক্ষক তন্ময় পাল চৌধুরী ও প্রাক্তন শিক্ষার্থী রায়হান আলম সাজুর যৌথ সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন- বিয়ানীবাজার আদর্শ মহিলা কলেজের অধ্যক্ষ মুজিবুর রহমান, বিয়ানীবাজার থানার অফিসার ইনচার্জ আবু জাফর মো. মাহফুজুল কবির, প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা নৃপেন্দ্র নাথ তালুকদার, জেলা বিএনপির শিশু-বিষয়ক সম্পাদক ছিদ্দিক আহমদ, উপজেলা বিএনপির সভাপতি আহমেদ রেজা, উপজেলা জামায়াতের আমির মোস্তফা উদ্দিন, বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক হাফসা বেগম, সমাজকর্মী হুমায়ুন কবির আখিল, সহকারী প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা পারভেজ তালুকদার, অভিভাবক সদস্য সারোয়ার হোসেন ও হোসাইন আহমদ।  ​অনুষ্ঠানের শুরুতে বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণে জাতীয় সংগীত পরিবেশন, বিতর্ক প্রতিযোগিতা, নাচ-গান সহ এক মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান পরিবেশিত হয়। (রিপোর্ট : আহমদ রেজা)

২৩ই জুলাই, ২০২৬
জগন্নাথপুরে দুই মাদকসেবীকে কারাদণ্ড, ৫ দোকানিকে অর্থদণ্ড

জগন্নাথপুরে দুই মাদকসেবীকে কারাদণ্ড, ৫ দোকানিকে অর্থদণ্ড

সুনামগঞ্জের জগন্নাথপুরে ভ্রাম্যমান আদালতের অভিযানে দুই মাদকসেবীকে ১৫ দিন করে কারাদণ্ডসহ ৫ দোকানিকে মোট ১৮ হাজার ২০০ টাকা অর্থদণ্ড প্রদান করা হয়েছে। বুধবার (২২ জুলাই) বিকেল ৫ টায়  উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) মহসীন উদ্দীনের নেতৃত্বে উপজেলার রানীগঞ্জ ইউনিয়নে ও জগন্নাথপুর বাজারে এ অভিযান পরিচালনা করা হয়। আজ বৃহস্পতিবার (২৩ জুলাই) দণ্ডপ্রাপ্তদের সুনামগঞ্জ জেলহাজতে পাঠানো হয়েছে। অভিযানে উপজেলার রানীগঞ্জ ইউনিয়নে রানীনগর গ্রামের মনাই মাহিস্য দাস (৬০) ও ইসলামপুর গ্রামের জালাল উদ্দিনকে (৪৫) মাদক সেবনের অপরাধে ১৫ দিনের কারাদণ্ড ও ১০০ টাকা করে অর্থদণ্ড প্রদান করা হয়। অন্যদিকে, ফুটপাত দখলসহ বিভিন্ন অপরাধে ৫টি দোকানে মোট ১৮ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে। বিষয়টি নিশ্চিত করে জগন্নাথপুর উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) মহসীন উদ্দীন বলেন, দণ্ডপ্রাপ্তদের থানা পুলিশে দেওয়া হয়েছে। এছাড়াও আরেক মাদকসেবীর বাড়িতে মদের বোতল পাওয়া গেছে। তবে ওই মাদকসেবীকে পাওয়া যায়নি। এ বিষয়ে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। জগন্নাথপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শফিকুল ইসলাম বলেন, দণ্ডপ্রাপ্তদের আজ সকালে  সুনামগঞ্জ কারাগারে পাঠানো হয়েছে। এবং পলাতক একজনের বিরুদ্ধে মামলার প্রস্তুতি চলছে। (রিপোর্ট : গোবিন্দ দেব)

২৩ই জুলাই, ২০২৬
বিশ্বনাথে গ্রেফতার ৬

বিশ্বনাথে গ্রেফতার ৬

সিলেটের বিশ্বনাথ উপজেলায় বিভিন্ন মামলার ওয়ারেন্টভুক্ত ৬ জন পলাতক আসামিকে গ্রেপ্তার করেছে থানা পুলিশ। বুধবার (২৩ জুলাই) দুপুরে তাদের আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। পুলিশ জানায়, মঙ্গলবার দিবাগত রাতে উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় বিশেষ অভিযান পরিচালনা করে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়। গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন- রাজনগর মোল্লারগাঁও গ্রামের বর্তমান বাসিন্দা এবং নোয়াখালীর কবিরহাট থানার নরসিংপুর গ্রামের মৃত হুমায়ুন কবিরের ছেলে একরামুল করিম সজিব (২৮), পশ্চিম কৃষ্ণপুর গ্রামের মৃত সিদ্দেক আলীর ছেলে আবদুল গফুর (৪০), তার ছেলে কাউসার মিয়া (২১), একই গ্রামের সুহান মিয়ার ছেলে আল-আমিন মিয়া (২২), উপজেলার দশঘর ইউনিয়নের বল্লভপুর গ্রামের আবদুল মনাফের ছেলে আবদুস সালাম (৪৭) এবং তার স্ত্রী সোহেনা বেগম (৪০)। পুলিশ সূত্রে জানা যায়, গ্রেফতারকৃতরা বিভিন্ন মামলার ওয়ারেন্টভুক্ত আসামি হিসেবে দীর্ঘদিন ধরে পলাতক ছিলেন। গোপন সংবাদের ভিত্তিতে মঙ্গলবার রাতে একযোগে অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়। বিশ্বনাথ থানার পরিদর্শক (তদন্ত) মনোজ প্রভাকর রায় জানান, গ্রেপ্তারকৃতরা বিভিন্ন মামলার পরোয়ানাভুক্ত আসামি। আইনগত প্রক্রিয়া শেষে বুধবার তাদের আদালতে প্রেরণ করা হয়েছে। (রিপোর্ট : এস এ সাব্বির আহমদ)

২৩ই জুলাই, ২০২৬
বিশ্বনাথে ফ্রি মেডিকেল ক্যাম্প

বিশ্বনাথে ফ্রি মেডিকেল ক্যাম্প

সিলেটের বিশ্বনাথে নবপ্রতিষ্ঠিত কেয়ার পয়েন্ট ডায়াগনস্টিক এন্ড কনসালটেশন সেন্টার-এর আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন উপলক্ষে দুটি পৃথক স্থানে ফ্রি মেডিকেল ক্যাম্পের আয়োজন করা হয়। এতে বিদেশি ও দেশি বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকদের সমন্বয়ে প্রায় সাড়ে ৭ শতাধিক হতদরিদ্র ও অসহায় মানুষকে বিনামূল্যে চিকিৎসা সেবা এবং প্রয়োজনীয় ওষুধ প্রদান করা হয়। আয়োজক সূত্রে জানা যায়, যুক্তরাজ্যভিত্তিক Selfless Global Health Leadership Charity Organization দীর্ঘদিন ধরে বাংলাদেশের বিভিন্ন এলাকায় বিদেশি বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকদের মাধ্যমে মানবিক চিকিৎসাসেবা প্রদান করে আসছে। এরই ধারাবাহিকতায় কেয়ার পয়েন্ট ডায়াগনস্টিক এন্ড কনসালটেশন সেন্টারের উদ্বোধন উপলক্ষে এ বিশেষ মেডিকেল ক্যাম্পের আয়োজন করা হয়। বুধবার (২২ জুলাই) বিশ্বনাথ পৌর শহরের পুরান বাজার এলাকায় অবস্থিত কেয়ার পয়েন্ট ডায়াগনস্টিক এন্ড কনসালটেশন সেন্টারে আয়োজিত ফ্রি মেডিকেল ক্যাম্পে প্রায় দেড় শতাধিক রোগীকে বিনামূল্যে চিকিৎসা সেবা প্রদান করা হয়। একই দিনে উপজেলার দেওকলস দ্বিপাক্ষিক উচ্চ বিদ্যালয় ও কলেজে, দেওকলস ইউনিয়ন হেলপিং হ্যান্ডস ইউকে-এর আয়োজনে অনুষ্ঠিত পৃথক আরেকটি ফ্রি মেডিকেল ক্যাম্পে প্রায় সাড়ে ৬ শতাধিক মানুষকে বিনামূল্যে চিকিৎসাসেবা ও প্রয়োজনীয় ওষুধ বিতরণ করা হয়। কেয়ার পয়েন্ট ডায়াগনস্টিক এন্ড কনসালটেশন সেন্টারের চেয়ারম্যান সাহেদ আহমদ কয়েস-এর সভাপতিত্বে এবং ম্যানেজিং ডিরেক্টর শফিউল ইসলাম মামুন-এর পরিচালনায় আয়োজিত উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে দেশি-বিদেশি চিকিৎসকরা রোগীদের সেবা প্রদান করেন। বিদেশি চিকিৎসকদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন যুক্তরাজ্যের Selfless Global Health Leadership Charity Organization-এর সদস্য ডা. নাঈম আহমেদ, ডা. জাহাঙ্গীর আলম, এনিনা আইম্যাকন, ডা. কাউলান কানিংহাম, ডা. আনা ফারওয়াহ, ডা. বারিদা পিউ, ডা. নাওমি পটস, ডা. সাবেইন হোসাইন, অ্যাশ গুগনানি ও এলিসা জ্যাকসন। বাংলাদেশের চিকিৎসকদের মধ্যে চিকিৎসাসেবা প্রদান করেন ডা. মাহমুদুল আমিন, ডা. তাসনিয়া আক্তার সুইটি এবং ডা. তৌফিকুর রহমান। এ সময় যুক্তরাজ্য প্রবাসী খলিলুর রহমান, কেয়ার পয়েন্ট ডায়াগনস্টিক এন্ড কনসালটেশন সেন্টারের ডিরেক্টর ফখরুল ইসলাম সুমেল, জেনারেল ম্যানেজার মাহবুব আলমসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ উপস্থিত ছিলেন। (রিপোর্ট : এস এ সাব্বির আহমদ)

২৩ই জুলাই, ২০২৬
গোলাপগঞ্জের ওসি বদল, আসলেন বিয়ানীবাজারের ছাবেদ

গোলাপগঞ্জের ওসি বদল, আসলেন বিয়ানীবাজারের ছাবেদ

সিলেটের গোলাপগঞ্জ মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ আরিফুল ইসলামকে অন্যত্র বদলি করা হয়েছে। তাঁর স্থলে পদায়ন করা হয়েছে বিয়ানীবাজার থানার পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) ছবেদ আলীকে। জানা গেছে, দীর্ঘদিন ধরে বিয়ানীবাজার থানায় পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) হিসেবে দায়িত্ব পালনকালে ছবেদ আলী বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ মামলার তদন্ত, আইন-শৃঙ্খলা রক্ষা এবং জনসেবামূলক কার্যক্রমে পেশাদারিত্বের পরিচয় দিয়েছেন। দায়িত্ব পালনে সততা, দক্ষতা ও নিষ্ঠার জন্য তিনি সহকর্মী ও সাধারণ মানুষের কাছে প্রশংসিত ছিলেন। গোলাপগঞ্জ মডেল থানার ওসি হিসেবে নতুন দায়িত্ব পাওয়ায় তাঁকে অভিনন্দন জানিয়েছেন বিয়ানীবাজার থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) আবু জাফর। তিনি বলেন, ছবেদ আলীর অভিজ্ঞতা ও নেতৃত্বের গুণাবলি নতুন কর্মস্থলেও ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে। এদিকে, গোলাপগঞ্জের ওসি আরিফুল ইসলাম জেলা পুলিশ লাইনসে সংযুক্ত করা হয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র সচিত্র সিলেটকে জানিয়েছে।   (রিপোর্ট: আহমদ রেজা)

২৩ই জুলাই, ২০২৬
লন্ডনে সমুদ্র সৈকতে ডুবে মকন চেয়ারম্যানের পুত্রবধূ ও নাতনিসহ ৩ জনের মৃত্যু

লন্ডনে সমুদ্র সৈকতে ডুবে মকন চেয়ারম্যানের পুত্রবধূ ও নাতনিসহ ৩ জনের মৃত্যু

যুক্তরাজ্যের এসেক্স অঞ্চলের সমুদ্র সৈকতে পানিতে ডুবে মা-মেয়েসহ সিলেটি একই পরিবারের দুইজনসহ তিনজনের মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছে। ​নিহতরা হলেন- যুক্তরাজ্য যুবদলের সহ-সভাপতি শেখ মনসুর রহমানের সহধর্মিনী সেলিনা রহমান (৪২) তাঁদের কন্যা সামিয়া রহমান (১৫) এবং মনসুরের শ‍্যালিকার ছেলে মুসা আহমেদ (৯)। শেখ মনসুর রহমান সিলেট জেলার দক্ষিণ সুরমা উপজেলার মোল্লারগাঁও ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান মরহুম শেখ মকন মিয়ার ছেলে। মৃত্যুর বিষয়টি সচিত্র সিলেটকে নিশ্চিত করেছেন শেখ মকন মিয়ার ছেলে শেখ মাহফুজুর রহমান মুন্না। তিনি জানান, লন্ডনের কলচেস্টার সিটির নিকটবর্তী ওয়েস্ট মার্সি (West Mersea) সমুদ্র সৈকতে বাংলাদেশ সময় গত মধ্যরাতে ঘুরতে গিয়ে তারা দুর্ঘটনার কবলে পড়েন। পানিতে তলিয়ে যাওয়ার পর উদ্ধারকারী দল স্থানীয় পুলিশ, লাইফবোট, কোস্টগার্ড হেলিকপ্টার এবং এয়ার অ্যাম্বুলেন্সের সহায়তায় দ্রুত উদ্ধার অভিযান পরিচালনা করে। উদ্ধারকাজে সর্বাত্মক চেষ্টা চালানো হলেও শেষ পর্যন্ত তিন জনকেই বাঁচানো সম্ভব হয়নি। তিনি জানান- মরদেহগুলো দেশে নিয়ে আসার বিষয়ে এখনো সিদ্ধান্ত হয়নি।

২৩ই জুলাই, ২০২৬
টিলাগড়ে যৌথ অভিযান, সোয়া ৩ কোটি টাকার অবৈধ পণ্য জব্দ

টিলাগড়ে যৌথ অভিযান, সোয়া ৩ কোটি টাকার অবৈধ পণ্য জব্দ

সিলেটে র‌্যাব-৯ ও বিজিবির যৌথ অভিযানে আনুমানিক ৩ কোটি ২৫ লাখ টাকা মূল্যের বিপুল পরিমাণ চোরাচালানকৃত ভারতীয় ওষুধ, কসমেটিকস ও শাড়ি উদ্ধার করা হয়েছে। গতকাল বুধবার (২২ জুলাই) সকালে মহানগরীর টিলাগড় ও সুরমা আবাসিক এলাকায় এই অভিযান চালানো হয়। আইনশৃঙ্খলা বাহিনী সূত্র জানায়- শাহপরাণ (রহ.) থানাধীন টিলাগড় এলাকা দিয়ে একটি কাভার্ডভ্যানে করে বিপুল পরিমাণ অবৈধ ভারতীয় শাড়ি, ওষুধ ও কসমেটিকস নেওয়া হচ্ছে—এমন গোপন সংবাদের ভিত্তিতে র‌্যাব-৯ (সিপিএসসি, সিলেট) এবং বিজিবির একটি যৌথ দল অভিযানে নামে। সকাল সাড়ে আটটার দিকে টিলাগড় এলাকায় সন্দেহভাজন কাভার্ডভ্যানটিকে পিছু ধাওয়া করে যৌথ বাহিনী। পরবর্তীতে কাভার্ডভ্যানটি কোতোয়ালী থানাধীন সুরমা আবাসিক এলাকার একটি ভবনের নিচতলায় মালামাল আনলোড করে পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করলে আভিযানিক দল সেটিকে আটক করে। পরে চালকের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে ওই ভবনের নিচতলার একটি কক্ষে তল্লাশি চালিয়ে আনুমানিক ৩ কোটি ২৪ লাখ ৯৪ হাজার ৫০ টাকা মূল্যের চোরাচালানকৃত মালামাল উদ্ধার করা হয়। জব্দকৃত পণ্যের মধ্যে রয়েছে ১ লাখ ৭৭ হাজার ৬৩০ পিস বিভিন্ন ধরনের ভারতীয় ট্যাবলেট, ১০০ পিস শাড়ি, ৮০ পিস ফেসওয়াশ, ১০০ পিস শ্যাম্পু, ২৯ পিস সিরাম এবং ১ হাজার ৭৮৭ পিস বিভিন্ন ব্র্যান্ডের সিরাপ। আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া হিসেবে উদ্ধারকৃত এসব জব্দকৃত আলামত ৫২ বিজিবি, সিলেটের নিকট হস্তান্তর করা হয়েছে বলে জানিয়েছে র‌্যাব।

২৩ই জুলাই, ২০২৬
ফাহিমার ‘হত্যাকারী’ জাকিরকে আদালত প্রাঙ্গণে মারধর

ফাহিমার ‘হত্যাকারী’ জাকিরকে আদালত প্রাঙ্গণে মারধর

শিশু ফাহিমা ধর্ষণচেষ্টা ও হত্যা মামলার প্রধান আসামি জাকির হোসেনকে সিলেটের আতদালত চত্বরে মারধর করা হয়েছে। পরে পুলিশ লাঠিচার্জ করে তাদের সরিয়ে দেয়। বৃহস্পতিবার (২৩ জুলাই) সকাল সাড়ে ১০টার দিকে সিলেট নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের নেওয়ার পথে এ ঘটনা ঘটে। এর আগে ২৩ জুন একইভাবে আদালত চত্বরে জাকিরকে মারধর করা হয়। জানা যায়, আজ সকাল ১০ টার দিকে পুলিশের প্রিজন ভ্যানে করে কারাগার থেকে জাকিরকে আদালতে আনা হয়। আগে থেকেই আদালত চত্বরে অপেক্ষায় ছিলেন শিশু ফাহিমার স্বজন ও প্রতিবেশিরা। প্রিজন ভ্যান থেকে জাকিরকে আদালত ভবনে নেওয়ার সময় তারা মারধর শুরু করেন।  এসময পুলিশ লাঠিচার্জ করে হামলাকারীদের সরিয়ে দেয়। এ বিষয়ে সিলেট মেট্রোপলিটন পুলিশের মিডিয়া অফিসার অতিরিক্ত উপ-কমিশনার মো. মনজুরুল আলম বলেন, জাকিরকে যথেষ্ট পুলিশি পাহারায় আদালতে আনা নেওয়া করা হয়েছে। গত ১১ মে রাতে ফাহিমাকে ধর্ষনচেষ্টা ও হত্যার অভিযোগে তার প্রতিবেশী জাকির হোসেনকে (৩০) গ্রেপ্তার করে পুলিশ। গ্রেপ্তারের পর থেকে তিনি সিলেট কেন্দ্রীয় কারাগারে আটক রয়েছেন। এর আগে ৬ মে বাড়ি থেকে নিখোঁজ হয় শিশু ফাহিমা। এর দুদিন পর গত ৮ মে রাত ৪টার দিকে ফাহিমার লাশ ঘরের সামনে নুরুল হক নামের একজনের মালিকানাধীন ডোবায় ফেলে পানিতে ডুবিয়ে রাখার চেষ্টা করেন জাকির। ফাহিমা আক্তার (৪) সিলেট সদর উপজেলার কান্দির গাঁও ইউনিয়নের সোনাতলা গ্রামের দিনমজুর রাইসুল হকের মেয়ে। ভিকটিমের লাশ ডোবার পানিতে ভেসে ওঠায় আসামি ভিকটিমের লাশ পানি থেকে তুলে ডোবার পশ্চিম পাশে উঠানের পূর্ব পাশে বাঁশ ও নারিকেল গাছের নিচে রেখে দেন। এরপর স্থানীয়দের সহযোগিতায় পুলিশ লাশ উদ্ধার করে ওসমানী মেডিকেল কলেজ মর্গে পাঠায়। গ্রেপ্তারের পর পুলিশের কাছে ও আদালতে ১৬৪ ধারায় এ ঘটনার লোমহর্ষক বর্ণনা দেন জাকির। এদিকে, শিশু ফাহিমা ধর্ষণচেষ্টা ও হত্যার ঘটনার মাত্র এক মাস পাঁচ দিনের মাথায় আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করা হয়েছে। অভিযোগপত্রে প্রধান আসামি জাকির হোসেন ও তার দুই সহোদর জয়নাল আহমদ ও আবুল কালামকে অভিযুক্ত করা হয়েছে। অভিযোগপত্রে ধর্ষণচেষ্টা ও হত্যার দায়ে জাকির হোসেনকে অভিযুক্ত করা হয়েছে। আর লাশ গুমে সহযোগিতার অভিযোগে আসামী করা হয়েছে তার দুই ভাই জয়নাল ও কালামকে। হত্যার ঘটনায় গ্রেপ্তার মো. জাকির হোসেন (৩০) একই গ্রামের পশ্চিম পাড়া ধন রায়ের চক এলাকার বাসিন্দা মৃত তোতা মিয়ার ছেলে। অভিযুক্তরা ফাহিমার প্রতিবেশী ও সম্পর্কে চাচা। তাদের মধ্যে জাকিরকে ঘটনার পরই গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। পরে বিক্ষুব্ধ এলাকাবাসী দুই দফা জাকিরদের বাড়ি ভাঙচুর করে।

২৩ই জুলাই, ২০২৬
ঘটনাস্থলে না থাকায় সিলেটে চার পরিবহন শ্রমিক নেতাকে মামলা থেকে অব্যাহতির সুপারিশ

ঘটনাস্থলে না থাকায় সিলেটে চার পরিবহন শ্রমিক নেতাকে মামলা থেকে অব্যাহতির সুপারিশ

সিলেটের কেন্দ্রীয় বাস টার্মিনালে মারামারি ও পরে আহত ব্যক্তির মৃত্যুর ঘটনায় দায়েরকৃত মামলা থেকে চারজনকে অব্যাহতির সুপারিশ করেছে পুলিশ।  চলতি বছরের ২৭ এপ্রিল সিলেট-জগন্নাথপুর রুটের বাস মালিক সমিতির আহ্বায়ক কমিটি গঠনকে কেন্দ্র করে কদমতলিস্থ বাস টার্মিনাল এলাকায় পরিবহন শ্রমিকরা দুই গ্রুপ হয়ে সংঘর্ষে জড়ান। এসময় ভাঙচুর করা হয় বাস ও টিকিট কাউন্টার। আহতদের মধ্যে বাস হেলপার রিপন আহমদ ও চালক দেলওয়ার হোসেন চিকিৎসাধীন অবস্থায় পরে হাসপাতালে মারা যান। ঘটনার পর রিপন আহমদের বাবা ছাবলু মিয়া ও নিহত দেলওয়ার হোসেনের বাবা আজির উদ্দিন পৃথক দুটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। এর মধ্যে রিপন হত্যা মামলায় সিলেট জেলা বাস-মিনিবাস-কোচ-মাইক্রোবাস শ্রমিক ইউনিয়নের সভাপতি ময়নুল ইসলামকে প্রধান আসামি করে ২৯ জনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাতনামা ৫০ থেকে ৬০ জনকে আসামি করা হয়। এ মামলায় গত ১০ জুন দক্ষিণ সুরমা থানার উপপরিদর্শক (এসআই) মো. মফিজুর রহমান ফৌজদারি কার্যবিধির ১৭৩এ ধারায় আদালতে একটি অন্তর্বর্তী তদন্ত প্রতিবেদন দাখিল করেন। প্রতিবেদনে মামলার প্রধান আসামি শ্রমিক সংগঠনের জেলা সভাপতি ময়নুল ইসলাম, দ্বিতীয় আসামি ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক আলী আকবর রাজন, ষষ্ঠ আসামি আব্দুস শহিদ এবং সপ্তম আসামি সামসুল হক মানিককে ঘটনার সঙ্গে সম্পৃক্ততার প্রমাণ না পাওয়ার কথা উল্লেখ করে তাদের অব্যাহতির সুপারিশ করা হয়। প্রতিবেদনটি অগ্রবর্তী করেন দক্ষিণ সুরমা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আশরাফ উজ্জামান। এ বিষয়ে তদন্ত কর্মকর্তা এসআই মফিজুর রহমান বলেন, সিসিটিভি ফুটেজ ও মোবাইল কল ডিটেইলস রেকর্ড (সিডিআর) বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে, সংশ্লিষ্ট চারজন ঘটনাস্থলে উপস্থিত ছিলেন না। তারা পুলিশ কমিশনারের কাছে লিখিতভাবে নিজেদের নির্দোষ দাবি করেন। কমিশনারের নির্দেশে তথ্য-উপাত্ত যাচাই করে আদালতে অন্তর্বর্তী প্রতিবেদন দেওয়া হয়েছে। এই বিষয়টি বাদিকেও অবহিত করা হয়েছে।  দক্ষিণ সুরমা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আশরাফ উজ্জামান বলেন, ফৌজদারি কার্যবিধির ১৭৩এ ধারায় প্রাথমিকভাবে অব্যাহতির সুপারিশ করার সুযোগ রয়েছে। পুলিশ কমিশনারের নির্দেশে তদন্ত করে আদালতে প্রতিবেদন পাঠানো হয়েছে।

২৩ই জুলাই, ২০২৬
সিলেটে হাম-উপসর্গে আরও মৃত্যু, ২৪ ঘণ্টায় ৭১ জন হাসপাতালে

সিলেটে হাম-উপসর্গে আরও মৃত্যু, ২৪ ঘণ্টায় ৭১ জন হাসপাতালে

সিলেট বিভাগে হাম ও হামের উপসর্গ নিয়ে নতুন রোগী ভর্তির সংখ্যা বাড়ছে। গত ২৪ ঘণ্টায় নতুন করে ল্যাব পরীক্ষায় কোনো রোগী শনাক্ত না হলেও হামের উপসর্গ নিয়ে সিলেট বিভাগের বিভিন্ন হাসপাতালে ৭১ জন নতুন রোগী ভর্তি হয়েছেন। একই সময়ে সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ২ বছরের এক শিশুর মৃত্যু হয়েছে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর বিভাগীয় কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী- মারা যাওয়া শিশুর নাম আয়ান (২)। সে সুনামগঞ্জের ভাদেশ্বর এলাকার নাসির মিয়ার ছেলে। ওসমানী মেডিকেলে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়। তাকে নিয়ে বিভাগে এখন পর্যন্ত মারা গেছেন ১০৮ জন। সব মিলিয়ে সিলেট বিভাগে চলতি বছরের শুরু থেকে এ পর্যন্ত হামে ও হামের উপসর্গে মৃত্যু এবং মোট আক্রান্তের পরিসংখ্যানে উদ্বেগজনক চিত্র ফুটে উঠেছে। জানা গেছে, চলতি বছরের ১ জানুয়ারি থেকে এ পর্যন্ত বিভাগে মোট ৫৮০ জন হাম রোগী শনাক্ত হয়েছেন। এর মধ্যে জেলাভিত্তিক হিসাবে হবিগঞ্জে সর্বোচ্চ ২৯৬ জন, সিলেটে ১৯৬ জন (মৃত্যু ২), সুনামগঞ্জে ৬১ জন এবং মৌলভীবাজারে ২৭ জন শনাক্ত হয়েছেন। বর্তমানে সিলেটের বিভাগীয় সদর ও বিভিন্ন উপজেলার জেলা-উপজেলা হাসপাতালে মোট ২৪৮ জন হামে আক্রান্ত ও সন্দেহজনক রোগী ভর্তি থেকে চিকিৎসা নিচ্ছেন। এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি ৯১ জন রোগী ভর্তি রয়েছেন সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে। এ ছাড়া শহীদ শামসুদ্দিন আহমদ হাসপাতালে ৭৯ জন এবং সুনামগঞ্জ জেলা সদর হাসপাতালে ৩০ জন রোগী ভর্তি আছেন। অবশিষ্ট চিকিৎসাধীন রোগীদের মধ্যে মৌলভীবাজার জেলা সদর হাসপাতালে ১৬ জন, পার্কভিউ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ১০ জন, নর্থ ইস্ট হাসপাতালে ৮ জন, মাউন্ট এডোরা, আইডি হাসপাতাল ও স্মার্ট উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ৩ জন করে, ফেঞ্চুগঞ্জ ও হবিগঞ্জ জেলা সদর হাসপাতালে ২ জন করে এবং গোলাপগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ১ জন রোগী ভর্তি রয়েছেন।

২৩ই জুলাই, ২০২৬
সওজ’র কাছে ১৪ কিমি চায় সিসিক, মিলছে না সাড়া

সওজ’র কাছে ১৪ কিমি চায় সিসিক, মিলছে না সাড়া

সিলেট সিটি কর্পোরেশনের (সিসিক) প্রশাসক আব্দুল কাইয়ুম চৌধুরী জানিয়েছেন- সিলেট কেন্দ্রীয় বাস টার্মিনাল থেকে হুমায়ুন রশীদ চত্বর হয়ে মেন্দিবাগ-কুমারপাড়া-এয়ারপোর্ট পর্যন্ত সড়কটি সড়ক ও জনপথ বিভাগের আওতাধীন। সড়কটি সিটি কর্পোরেশনের কাছে হস্তান্তরের জন্য আমরা একাধিকবার আবেদন করেছি, কিন্তু এখন পর্যন্ত কোনো সাড়া পাইনি। বুধবার (২২ জুলাই) সকালে সিলেট কেন্দ্রীয় বাস টার্মিনাল এলাকা পরিদর্শনে গিয়ে সাংবাদিকদের কাছে এ তথ্য তুলে ধরেন তিনি। এসময় টার্মিনাল এলাকার এই গুরুত্বপূর্ণ সড়কটি দ্রুত সংস্কার করার দাবি জানান। সড়কটি বর্তমানে বেহাল। সিসিকের প্রশাসকের পরিদর্শনের সময় পরিবহন মালিক ও শ্রমিকরা প্রশাসককে সড়কের বেহাল অবস্থা দেখিয়ে দীর্ঘদিনের দুর্ভোগের কথা তুলে ধরেন। তারা জানান, বড় বড় গর্ত ও ভাঙাচোরা সড়কের কারণে যান চলাচলে চরম সমস্যা হচ্ছে এবং বৃষ্টির সময় জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়ে পরিস্থিতি আরও খারাপ হয়ে পড়ে। এ অবস্থায় তারা অবিলম্বে সড়কটি মেরামতের দাবি জানান। এ সময় সিসিক প্রশাসক বলেন- সিটি কর্পোরেশন নগরবাসীর দুর্ভোগ কমাতে বিভিন্ন সড়ক মেরামত ও সম্প্রসারণের কাজ করছে। পাশাপাশি জলাবদ্ধতা নিরসনে ড্রেনেজ ব্যবস্থার উন্নয়নকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। সীমাবদ্ধতার কথা উল্লেখ করে তিনি আরও বলেন, “আইনগতভাবে এই সড়কের পূর্ণাঙ্গ কাজ আমরা করতে পারি না। তারপরও পরিবহন মালিক-শ্রমিক ও সাধারণ মানুষের দুর্ভোগ বিবেচনায় সিসিকের পক্ষ থেকে বড় বড় গর্তগুলো দ্রুত ভরাট ও প্রয়োজনীয় সংস্কারের উদ্যোগ নেওয়া হবে। খুব শিগগিরই এ কাজ শুরু হবে।” সড়কটির গুরুত্ব তুলে ধরে আব্দুল কাইয়ুম চৌধুরী বলেন, “এটি সিলেটের অন্যতম ব্যস্ত প্রবেশপথ। প্রতিদিন হাজার হাজার যাত্রী এই সড়ক ব্যবহার করেন। দীর্ঘদিন ধরে সড়কটি অবহেলিত থাকায় মানুষের ক্ষোভ বাড়ছে। জনগণ ভোট দিয়ে এই সরকারকে নির্বাচিত করেছে, তাই তাদের প্রত্যাশাও অনেক। দ্রুত ব্যবস্থা না নিলে জনদুর্ভোগ আরও বাড়বে।” তিনি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে অবিলম্বে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানিয়ে বলেন, “আমরা কোনোভাবেই জনগণের দুর্ভোগ সহ্য করব না। সওজকে দ্রুত সড়কটি সংস্কারের উদ্যোগ নিতে হবে।”

২২ই জুলাই, ২০২৬
সিলেট-ঢাকা মহাসড়কের কাজ নিয়ে যা বললেন নতুন ডিসি

সিলেট-ঢাকা মহাসড়কের কাজ নিয়ে যা বললেন নতুন ডিসি

সিলেটের জেলা প্রশাসক ও ম্যাজিস্ট্রেট আবদুল্লাহ আল মামুন বলেছেন- বর্তমান সরকার প্রবাসীদের সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিয়ে কাজ করছে। প্রবাসীদের বিভিন্ন সমস্যা সমাধানে ইতোমধ্যে নানা উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এরই ধারাবাহিকতায় জেলা প্রশাসন প্রবাসীদের নিরাপত্তাজনিত পাহারার জন্য আনসার সদস্য দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।  বুধবার (২২ জুলাই) দিনব্যাপী ওসমানীনগর উপজেলা সফরের সময় সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এসব কথা বলেন। জেলা প্রশাসক বলেন, প্রবাসীদের হয়রানি ও নিরাপত্তাজনিত উদ্বেগ কমাতে আনসার সদস্য নিয়োগের বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এ বিষয়ে আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনীর (ভিডিপি) ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সঙ্গে আলোচনা করে শিগগিরই পূর্ণাঙ্গ সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হবে। সিলেট-ঢাকা মহাসড়কের উন্নয়ন কাজের অগ্রগতি সম্পর্কে জানতে চাইলে আবদুল্লাহ আল মামুন বলেন- মহাসড়কের নির্মাণকাজ চলমান রয়েছে। ইতোমধ্যে অধিকাংশ জায়গায় জমি অধিগ্রহণ সম্পন্ন হয়েছে। বর্তমানে ওসমানীনগর উপজেলার দয়ামীর ইউনিয়নের নিজ করুয়া এবং সাদিপুর ইউনিয়নের গজিয়া এলাকার জমি অধিগ্রহণের কাজ চলছে। যেসব জমির মালিক ক্ষতিপূরণের আবেদন করবেন, তারা জেলা প্রশাসকের কার্যালয় থেকে তাদের প্রাপ্য মূল্য পাবেন। এর আগে বুধবার সকাল ১০টায় উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) কার্যালয় পরিদর্শন করেন জেলা প্রশাসক। এরপর সকাল সাড়ে ১০টায় উপজেলা সমাসেবা অফিসের আয়োজনে প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের মধ্যে সহায়ক উপকরণ বিতরণ এবং উপজেলা প্রশাসন ও উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসের আয়োজনে এ্যাসিসটিভ ডিভাইস বিতরণে অংশ নেন। বেলা ১১টায় বিভিন্ন সরকারি দপ্তরের প্রধান ও সুধীজনদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় অংশ নেন। দুপুর ১২টায় উপজেলা ভূমি অফিস, সাড়ে ১২টায় তাজপুর ইউনিয়ন ভূমি অফিস এবং বেলা ১টায় ওসমানীনগরের এসওএস শিশু পল্লী পরিদর্শন করেন। পরিদর্শনকালে উপজেলার বিভিন্ন সরকারি কার্যক্রমের অগ্রগতি পর্যালোচনা, জনসেবার মানোন্নয়ন এবং সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের সঙ্গে মতবিনিময়ের মাধ্যমে প্রশাসনিক কার্যক্রম আরও গতিশীল করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন জেলা প্রশাসক। (রিপোর্ট : জুবেল আহমদ সেকেল)

২২ই জুলাই, ২০২৬
দিরাইয়ে মেয়র প্রার্থী রিপনের শিক্ষা উপকরণ বিতরণ

দিরাইয়ে মেয়র প্রার্থী রিপনের শিক্ষা উপকরণ বিতরণ

সুনামগঞ্জের দিরাইয়ে শিক্ষার্থীদের মধ্যে শিক্ষা উপকরণ বিতরণ করেছেন আসন্ন পৌরসভার নির্বাচনে মেয়র পদপ্রার্থী ও দিরাই ডিগ্রি কলেজ ছাত্রদলের সাবেক সভাপতি আবুল হাসনাত রিপন। বুধবার (২২জুলাই ) বিকালে  পৌর শহরের শুকুরনগর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের মধ্যে এ শিক্ষা উপকরণ বিতরণ করেনে তিনি। শিক্ষা উপকরণ বিতরণকালে আবুল হাসনাত রিপন বলেন, শহিদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের সুযোগ্য উত্তরসূরী, বিএনপির চেয়ারম্যান ও বর্তমান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান দেশের শিক্ষাখাতকে সর্বাধিক অগ্রাধিকার দিয়ে একটি শিক্ষিত ও সুন্দর দেশ বিনির্মাণের লক্ষ্যে কাজ করে যাচ্ছেন।  তিনি বলেন, দেশের প্রতিটি স্কুলেই শিক্ষা উপকরণ বিতরণ করার পরিকল্পনা রয়েছে তাঁর। তিনি আরও বলেন, যেহেতু এখন রাষ্ট্রীয়ভাবে এসব কাজে শরিক হতে পারছি না, তাই ব্যক্তিগত উদ্যোগে আজ এই ছোট সোনামণিদের মধ্যে কিছু শিক্ষা উপকরণ উপহার হিসেবে নিয়ে এসেছি।  ভবিষ্যতেও আমার এ ধরনের জনকল্যাণমূলক কাজ অব্যাহত থাকবে। আমি আশা করি, পৌরবাসী আমার এসব উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়ে আমার পাশে থাকবেন।

২২ই জুলাই, ২০২৬
সিসিক প্রশাসককে সংবর্ধনা দিলেন ব্যবসায়ীরা

সিসিক প্রশাসককে সংবর্ধনা দিলেন ব্যবসায়ীরা

সিলেট সিটি কর্পোরেশনের (সিসিক) প্রশাসক ও বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) পরিচালক আব্দুল কাইয়ুম চৌধুরীকে সংবর্ধনা জানিয়েছেন ব্যবসায়ীরা। নয়াসড়ক বিজনেস অ্যাসোসিয়েশন ও নয়াসড়ক এলাকাবাসীর উদ্যোগে মঙ্গলবার (২১ জুলাই) বিকেলে নগরের নয়াসড়কে এ সংবর্ধনা অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন নয়াসড়ক বিজনেস অ্যাসোসিয়েশনের সহ-সভাপতি নিহার কুমার রায়। অনুষ্ঠানটি যৌথভাবে সঞ্চালনা করেন সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক হোসেন আহমদ এবং যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক তাহমিদুল হাসান জাবেদ। সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে বক্তব্য দিতে গিয়ে সিসিক প্রশাসক আব্দুল কাইয়ুম চৌধুরী বলেন, “নগরবাসীর সেবা করতেই আমি দায়িত্ব নিয়েছি। সিলেটকে একটি পরিচ্ছন্ন, বাসযোগ্য ও আধুনিক নগরীতে রূপান্তর করতে আমরা কাজ করছি। জলাবদ্ধতা নিরসনকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেওয়া হয়েছে। ড্রেন ও ছড়া পরিষ্কার, পানি নিষ্কাশন ব্যবস্থার উন্নয়ন এবং অবৈধ দখলমুক্ত করতে ধারাবাহিকভাবে কাজ চলছে।” তিনি আরও বলেন, “পরিচ্ছন্ন নগর গড়ে তুলতে শুধু সিটি কর্পোরেশনের উদ্যোগই যথেষ্ট নয়। নগরবাসীকেও দায়িত্বশীল হতে হবে। ড্রেন ও ছড়ায় ময়লা-আবর্জনা না ফেলে নির্ধারিত স্থানে বর্জ্য ফেলতে হবে। সবার সম্মিলিত সহযোগিতা ছাড়া সুন্দর ও জলাবদ্ধতামুক্ত সিলেট গড়ে তোলা সম্ভব নয়।” অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন এলাকার মুরুব্বি আওলাদ হোসেন, বিনীত কুমার চক্রবর্তী বলাই, সুব্রত রঞ্জন সেন, আশরাফ হোসেন সাহেদ, নজরুল হোসেন, আমিনুল আহাদ চৌধুরী ফাহিম, রুম্মা আহমদ এবং ইসমাইল হোসেন খোকন। এ ছাড়া উপস্থিত ছিলেন মহানগর ব্যবসায়ী ঐক্য কল্যাণ পরিষদের নবনির্বাচিত সভাপতি আব্দুল মুনিম মল্লিক মুন্না, নয়াসড়ক অ্যাসোসিয়েশনের রতন রায়, শহিদুল হক সোহেল, কাজী হাসান মাহি, জুনেদ আহমদ, সাইদুর রহমান রাজ, সাদ্দাম হোসেনসহ স্থানীয় ব্যবসায়ী নেতৃবৃন্দ ও এলাকাবাসী। অনুষ্ঠানের শুরুতে ব্যবসায়ীরা ফুলেল শুভেচ্ছা ও সম্মাননা স্মারক তুলে দিয়ে সিসিক প্রশাসককে সংবর্ধনা জানান। পরে নয়াসড়ক এলাকার সার্বিক উন্নয়ন, যানজট নিরসন, পরিচ্ছন্নতা এবং ব্যবসাবান্ধব পরিবেশ নিশ্চিত করার বিষয়ে ব্যবসায়ী নেতৃবৃন্দ প্রশাসকের কাছে বিভিন্ন প্রস্তাব তুলে ধরেন। প্রশাসক সেগুলো গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনার আশ্বাস দেন।

২২ই জুলাই, ২০২৬
অক্টোবরে স্থানীয় সরকার নির্বাচন, আগস্টে তফসিলের প্রস্তুতি ইসির

অক্টোবরে স্থানীয় সরকার নির্বাচন, আগস্টে তফসিলের প্রস্তুতি ইসির

স্থানীয় সরকারের প্রথম ধাপের নির্বাচন আগামী অক্টোবরে অনুষ্ঠানের লক্ষে এবং আগস্টে এই নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার প্রস্তুতি নিয়ে এগিয়ে যাচ্ছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)।  নির্বাচন কমিশনার মো. আনোয়ারুল ইসলাম সরকার বুধবার (২২ জুলাই) রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা বাসস’কে এ তথ্য জানিয়ে বলেছেন, ‘ইসি ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পর থেকেই স্থানীয় সরকার নির্বাচনগুলো অনুষ্ঠানের প্রস্তুতি নিচ্ছে। আশাকরি, আগামী অক্টোবরে প্রথম ধাপের নির্বাচন করতে পারবো।’ আগস্টের মধ্যে স্থানীয় সরকার নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করা যাবে বলে তিনি আশা ব্যক্ত করেন।  আনোয়ারুল ইসলাম বলেন, কয়টি ধাপে স্থানীয় সরকার নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে তা এখনো নির্ধারণ করা হয়নি।  তবে কম সময়ে বেশি নির্বাচন যাতে করা যায় সেভাবে ব্যবস্থা নেয়া হবে বলে উল্লেখ করেন তিনি।  স্থানীয় সরকার নির্বাচন পেছানো বা বিলম্বিত হওয়ার কোনো সুযোগ নেই উল্লেখ করে তিনি বলেন, প্রথম দিকে ইউনিয়ন পরিষদ নাকি পৌরসভা বা উপজেলা কোনটা আগে আসতে পারে  সেটা সুনির্দিষ্টভাবে এখনই বলা সম্ভব নয়। আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতিসহ সার্বিক বিষয়াবলী বিবেচনায় নিয়েই স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানের নির্বাচনসমূহ অনুষ্ঠিত হবে।  আনোয়ারুল ইসলাম বলেন,‘নির্বাচন ব্যবস্থাপনার সুবিধার্থে হয়তো স্থানীয় সরকারের যে প্রতিষ্ঠানের নির্বাচন শুরু করা হবে সেটা শেষ করা হবে। যেমন-ইউনিয়ন পরিষদ যদি ধরি তাহলে ইউনিয়ন পরিষদ, পৌরসভা যদি ধরি পৌরসভা, সিটি করপোরেশন যদি ধরি সিটি করপোরেশন নির্বাচন শেষ করা হবে। এর মধ্যে আইনগত বাধ্যবাধকতার কারণে যদি আদালতের কোন রায় বা কোন নির্দেশনা থাকে- সেই বিষয়টিকেও গুরুত্ব দেয়া হবে।’ স্থানীয় সরকার নির্বাচনে প্রার্থীর শিক্ষাগত যোগ্যতা নির্ধারণের কোন চিন্তাভাবনা আছে কি না- এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন,  ‘এখন পর্যন্ত নির্বাচন কমিশন এ বিষয়ে কোন সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেনি।’  ‘প্রবাসী ভোটাররা স্থানীয় সরকার নির্বাচনে অংশ নিতে পারবেন কি না’- এমন প্রশ্নের জবাবে নির্বাচন কমিশনার আনোয়ারুল ইসলাম সরকার  বলেন, এ বিষয়ে এখনো কমিশন কোন সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেনি।  তিনি বলেন, যেহেতু জাতীয় সংসদ নির্বাচন খুব ভালোভাবে অনুষ্ঠিত হয়েছে অর্থাৎ সুষ্ঠু ও সুন্দর হয়েছে। এটা জাতীয়-আন্তর্জাতিকভাবে প্রশংসিত হয়েছে। অতএব সেই নির্বাচন সফলতার ক্ষেত্রে যে পদক্ষেপগুলো নেয়া হয়েছিল, সেগুলো এই নির্বাচনেও নেয়ার চিন্তাভাবনা করা হচ্ছে।  তিনি বলেন, ‘স্থানীয় সরকার নির্বাচনে সহিংসতার মাত্রা কমিয়ে আনতে সর্বাত্মক প্রস্তুতি থাকবে কমিশনের। নির্বাচন কমিশন মনে করে, রাজনৈতিক যে সংস্কৃতি গত নির্বাচন থেকে শুরু হয়েছে, এটা অব্যাহত থাকবে।  এটা অব্যাহত রাখার জন্য নির্বাচন কমিশন সকল ধরণের ব্যবস্থা গ্রহণ করবে।’ স্থানীয় সরকার নির্বাচনের আচরণবিধি প্রসঙ্গে এই নির্বাচন কমিশনার বলেন, আচরণবিধি নিয়ে অনেক কাজ হয়েছে এবং এটা প্রায় চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে। অল্প সময়ের মধ্যেই এটা সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হবে।  অপর এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘এই মুহূর্তে স্থানীয় সরকারের যে আইন রয়েছে, এই আইনটা একবারে দুর্বল নয়। এ আইন দিয়েই নির্বাচন করা সম্ভব। তবে অবজারভেশনের পরিপ্রেক্ষিতে যদি আইন সংশোধন হয়, তাহলে সেই আইন অনুযায়ী নির্বাচন হবে। আর যদি আইন সংশোধন না হয় তাহলে বিদ্যমান আইন অনুযায়ী নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। এতে করে নির্বাচন পেছানোর কোনো সুযোগ আছে বলে আমি মনে করি না।’ -সূত্র বাসস

২২ই জুলাই, ২০২৬
বাস টার্মিনাল এলাকায় সড়ক পরিদর্শনে সিসিক প্রশাসক

বাস টার্মিনাল এলাকায় সড়ক পরিদর্শনে সিসিক প্রশাসক

দক্ষিণ সুরমা কেন্দ্রীয় বাস টার্মিনালের সামনের জরাজীর্ণ সড়ক দ্রুত সংস্কারের জন্য সড়ক ও জনপথ (সওজ) বিভাগের কর্মকর্তাদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন সিলেট সিটি কর্পোরেশনের (সিসিক) প্রশাসক আব্দুল কাইয়ুম চৌধুরী। বুধবার (২২ জুলাই) সকালে সিলেট কেন্দ্রীয় বাস টার্মিনাল এলাকা পরিদর্শনকালে তিনি এ আহ্বান জানান। পরিদর্শনের সময় পরিবহন মালিক ও শ্রমিকরা প্রশাসককে সড়কের বেহাল অবস্থা দেখিয়ে দীর্ঘদিনের দুর্ভোগের কথা তুলে ধরেন। তারা জানান, বড় বড় গর্ত ও ভাঙাচোরা সড়কের কারণে যান চলাচলে চরম সমস্যা হচ্ছে এবং বৃষ্টির সময় জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়ে পরিস্থিতি আরও খারাপ হয়ে পড়ে। এ অবস্থায় তারা অবিলম্বে সড়কটি মেরামতের দাবি জানান। এ সময় সিসিক প্রশাসক বলেন, সিটি কর্পোরেশন নগরবাসীর দুর্ভোগ কমাতে বিভিন্ন সড়ক মেরামত ও সম্প্রসারণের কাজ করছে। পাশাপাশি জলাবদ্ধতা নিরসনে ড্রেনেজ ব্যবস্থার উন্নয়নকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। তিনি বলেন, “আমরাও চাই টার্মিনাল এলাকার এই গুরুত্বপূর্ণ সড়কটি দ্রুত সংস্কার হোক। তবে টার্মিনাল থেকে হুমায়ুন রশীদ চত্বর হয়ে মেন্দিবাগ-কুমারপাড়া-এয়ারপোর্ট পর্যন্ত সড়কটি সড়ক ও জনপথ বিভাগের আওতাধীন। সড়কটি সিটি কর্পোরেশনের কাছে হস্তান্তরের জন্য আমরা একাধিকবার আবেদন করেছি, কিন্তু এখন পর্যন্ত কোনো সাড়া পাইনি।” সীমাবদ্ধতার কথা উল্লেখ করে তিনি আরও বলেন, “আইনগতভাবে এই সড়কের পূর্ণাঙ্গ কাজ আমরা করতে পারি না। তারপরও পরিবহন মালিক-শ্রমিক ও সাধারণ মানুষের দুর্ভোগ বিবেচনায় সিসিকের পক্ষ থেকে বড় বড় গর্তগুলো দ্রুত ভরাট ও প্রয়োজনীয় সংস্কারের উদ্যোগ নেওয়া হবে। খুব শিগগিরই এ কাজ শুরু হবে।” সড়কটির গুরুত্ব তুলে ধরে আব্দুল কাইয়ুম চৌধুরী বলেন, “এটি সিলেটের অন্যতম ব্যস্ত প্রবেশপথ। প্রতিদিন হাজার হাজার যাত্রী এই সড়ক ব্যবহার করেন। দীর্ঘদিন ধরে সড়কটি অবহেলিত থাকায় মানুষের ক্ষোভ বাড়ছে। জনগণ ভোট দিয়ে এই সরকারকে নির্বাচিত করেছে, তাই তাদের প্রত্যাশাও অনেক। দ্রুত ব্যবস্থা না নিলে জনদুর্ভোগ আরও বাড়বে।” তিনি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে অবিলম্বে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানিয়ে বলেন, “আমরা কোনোভাবেই জনগণের দুর্ভোগ সহ্য করব না। সওজকে দ্রুত সড়কটি সংস্কারের উদ্যোগ নিতে হবে।” পরিদর্শনকালে সিসিকের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাবৃন্দ এবং পরিবহন মালিক-শ্রমিক নেতারা উপস্থিত ছিলেন।

২২ই জুলাই, ২০২৬