সিলেটে অস্ত্রের তথ্য দিলে পরিচয় গোপন রেখে পুরস্কার

সিলেটে অস্ত্রের তথ্য দিলে পরিচয় গোপন রেখে পুরস্কার

সারা দেশে হারানো সরকারি অস্ত্র উদ্ধারে বিশেষ যৌথ অভিযান পরিচালনার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এ অভিযানে র‍্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়নকে (র‍্যাব) প্রধান সমন্বয়কারী সংস্থা হিসেবে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। সিলেটেও অচীরেই সেই অভিযান শুরু হবে। তথ্যটি দৈনিক সচিত্র সিলেটকে নিশ্চিত করেছেন র‍্যাব-৯ এর মিডিয়া অফিসার ও অতিরিক্ত পুলিশ সুপার কে এম  শহিদুল ইসলাম সোহাগ। তিনি বুধবার (৯ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যায় জানান- হারানো সরকারি অস্ত্রের তথ্য দিয়ে গোপনে ও নিরাপদে পুরস্কার নেওয়া যাবে। অস্ত্র উদ্ধারে পরিচালিত বিশেষ যৌথ অভিযানে সঠিক তথ্য দিয়ে সহযোগিতা করার জন্য গণমাধ্যমকর্মীসহ সংশ্লিষ্ট সবার সহযোগিতা কামনা করছি আমরা। তিনি জানিয়েছেন- হারানো সরকারি অস্ত্রের তথ্য দিতে সিলেটের র‍্যাবের হটলাইন নম্বর হচ্ছে- ০১৭৭৭৭১০৯৯৯ (কন্ট্রোল রুম) ও 0 1777-710956 (মিডিয়া অফিসার)। এছাড়া সারা দেশের জন্য হটলাইন নম্বরগুলো হচ্ছে- ০১৭৭৭৭১১৪৪১, ০১৭৭৭৭১১৪৪২, ০১৭৭৭৭১১৪৪৩, ০১৭৭৭৭১১৪৪৪ এবং ০২৫৫৬৬৯৯৯৯।  র‍্যাব কর্মকর্তা কে এম  শহিদুল ইসলাম সোহাগ আরও জানান- এসব নম্বরে ইমো, হোয়াটসঅ্যাপ, টেলিগ্রাম ও ভাইবার ব্যবহার করেও তথ্য দেওয়া যাবে। র‍্যাবের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, তথ্যদাতার পরিচয় গোপন রাখা হবে এবং নিরাপদে তথ্য দেওয়ার সুযোগ রয়েছে। এদিকে, সর্বশেষ অভিযান চালিয়ে ৪টি পরিত্যক্ত এয়ারগান উদ্ধার করেছে র‍্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র‍্যাব-৯)। মঙ্গলবার (৮ সেপ্টেম্বর) রাতে এ অভিযান পরিচালিত হয়। কে এম শহিদুল ইসলাম সোহাগ জানান- মঙ্গলবার রাত সাড়ে ১০টার দিকে র‍্যাব-৯, সদর কোম্পানির একটি আভিযানিক দল গোলাপগঞ্জ উপজেলা পরিষদ এলাকায় অবস্থানকালে গোপন সংবাদ পায় যে, ঢাকাদক্ষিণ ইউনিয়নস্থ দক্ষিণ সড়কের পূর্ব পাশের জঙ্গলে এয়ারগান রয়েছে। প্রাপ্ত সংবাদের ভিত্তিতে এ পাহাড়ি জঙ্গলে তল্লাশি চালিয়ে পরিত্যক্ত অবস্থায় ৪টি এয়ারগান উদ্ধার করা হয়। এ সময় কাউকে আটক করা না গেলেও র‍্যাবের তদন্ত কার্যক্রম চলমান রয়েছে। তিনি আরও জানান- ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর থেকে এ পর্যন্ত র‍্যাব-৯ সিলেট বিভাগ ও ব্রাহ্মণবাড়িয়া এলাকা থেকে ৫১টি আগ্নেয়াস্ত্র, ১০৪ রাউন্ড গুলি, ৬টি ম্যাগাজিন, বিপুল পরিমাণ বিস্ফোরক এবং ১৫৫টি এয়ারগান উদ্ধার করেছে।

০৯ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬
রাষ্ট্রপতির এপিএস হলেন সিলেটের তৈমোর হোসেন

রাষ্ট্রপতির এপিএস হলেন সিলেটের তৈমোর হোসেন

রাষ্ট্রপতির সহকারী একান্ত সচিব (এপিএস) হিসেবে চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ পেয়েছেন মো. তৈমোর হোসেন খান (বিপুল)। তার বাড়ি সিলেটের ফেঞ্চুগঞ্জে। মঙ্গলবার জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের এক প্রজ্ঞাপনে তৈমোর হোসেন খানকে রাষ্ট্রপতির এপিএস হিসেবে নিয়োগ প্রদান করা হয়। প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, অন্য কোনো পেশা, ব্যবসা কিংবা সরকারি, আধা সরকারি ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠান বা সংগঠনের সঙ্গে কর্মসম্পর্ক না রাখার শর্তে তৈমোর হোসেন খানকে এ নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। যোগদানের তারিখ থেকে রাষ্ট্রপতির মেয়াদকাল অথবা রাষ্ট্রপতির সন্তুষ্টি সাপেক্ষে যেটি আগে ঘটে তার নিয়োগ কার্যকর থাকবে। নিয়োগের অন্যান্য শর্ত চুক্তিপত্রের মাধ্যমে নির্ধারণ করা হবে বলে প্রজ্ঞাপনে উল্লেখ করা হয়েছে। রাষ্ট্রপতির আদেশক্রমে এতে সই করেছেন জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের উপসচিব মো. গোলাম রব্বানী। তৈমোর হোসেন খানের বাড়ি সিলেটের ফেঞ্চুগঞ্জ উপজেলায়। আশির দশকে তিনি ফেঞ্চুগঞ্জ উপজেলা ছাত্রদল ও যুবদলের প্রতিষ্ঠাকালীন পর্যায়ে নেতৃত্ব দেন। পরে সিলেট জেলা ছাত্রদলের সহসভাপতি হিসেবে তিনবার দায়িত্ব পালন করেন।

০৯ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬
সুনামগঞ্জের তিন যুবককে কাশ্মীরে পাচার, মুক্তিপণ আদায়

সুনামগঞ্জের তিন যুবককে কাশ্মীরে পাচার, মুক্তিপণ আদায়

ভারতের কাশ্মীরে কাজের কথা বলে নিয়ে যাওয়ার পর থেকে সুনামগঞ্জের ছাতক উপজেলার তিন যুবক নিখোঁজ রয়েছেন বলে জানা গেছে। তাদের আটকে রেখে মুক্তিপণ দাবি করা হচ্ছে বলেও অভিযোগ উঠেছে। নিখোঁজ তিন যুবক হলেন—ছাতক উপজেলার সৈদেরগাঁও গ্রামের মৃত মনোহর আলীর ছেলে সোহেল মিয়া, মৃত রুসমত আলীর ছেলে আয়াছ আলী এবং জালিয়ারপাড় গ্রামের আনছার আলীর ছেলে আলা উদ্দিন। গত ২৮ জুলাই ওই তিন যুবককে ছাতকের নিজ বাড়ি থেকে ভারতের কাশ্মীরের উদ্দেশে নিয়ে যাওয়া হয়। কাশ্মীরে নেওয়ার পর তাদের আটকে রেখে মুক্তিপণ দাবি করা হচ্ছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। এ ঘটনায় সোহেল মিয়ার মা মোছা. সামতেরা বেগম একই গ্রামের বাসিন্দা ফারুক মিয়া ও তার ছেলে ফাহিমের বিরুদ্ধে ছাতক থানায় এবং বাংলাদেশ আইনগত সহায়তা অধিদপ্তরের সুনামগঞ্জ জেলা লিগ্যাল এইড অফিসে লিখিত অভিযোগ করেছেন। গত মাসের শেষ দিকে তিনি থানায় অভিযোগ করেন। সোমবার জেলা লিগ্যাল এইড অফিসে লিখিত অভিযোগ দেন। এ ছাড়া তিনি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা এবং স্থানীয় সংসদ সদস্য কলিম উদ্দিন আহমেদ মিলনের সঙ্গে দেখা করে আটক তিন যুবককে মুক্ত করতে সহযোগিতা চেয়েছেন। অভিযোগে বলা হয়, তিন যুবকই দিনমজুর। তারা এলাকায় কাজ করে জীবিকা নির্বাহ করেন। অভিযুক্তরা একই গ্রামের বাসিন্দা হওয়ায় পূর্বপরিচয়ের সুবাদে তাদের ভারতের কাশ্মীরে কাজ দেওয়ার কথা বলেন। পরে আলাপ-আলোচনা করে গত ২৮ জুলাই ওই তিন যুবককে বাড়ি থেকে ভারতের উদ্দেশে নিয়ে যাওয়া হয়। এরপর তাদের সঙ্গে পরিবারের সদস্যদের যোগাযোগ বন্ধ হয়ে যায়। অভিযোগে আরও বলা হয়, ঘটনার এক সপ্তাহ পর ফারুক মিয়া ও তার ছেলে ফাহিম যুবকদের স্বজনদের জানান, তারা কারাগারে আছেন। তাদের কারাগার থেকে বের করতে ৩০ হাজার টাকা দিতে হবে। স্বজনরা তাদের মুক্তির জন্য ১৫ হাজার টাকা দেন। পরবর্তীতে আরও ৪০ হাজার টাকা দাবি করা হয়। কথামতো টাকা না দেওয়ায় একপর্যায়ে ১ লাখ ৩০ হাজার টাকা মুক্তিপণ দাবি করা হয়। টাকা না দিলে তাদের হত্যা করার হুমকি দেওয়া হয়েছে বলেও অভিযোগে উল্লেখ করা হয়। লিখিত অভিযোগে বলা হয়েছে, ফাহিম নামের এক ব্যক্তি ভালো বেতনে কাজ দেওয়ার কথা বলে সোহেল, আয়াছ আলী ও আলা উদ্দিনকে কাশ্মীরে নিয়ে যাওয়ার ব্যবস্থা করেন। ভারতে যাওয়ার পর প্রথমদিকে পরিবারের সঙ্গে তাদের যোগাযোগ ছিল। একপর্যায়ে তাদের সঙ্গে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। অভিযোগকারী সামতেরা বেগম জানান, নিখোঁজ তিন যুবককে আটকে রেখে তাদের মুক্তির বিনিময়ে ১ লাখ ৩০ হাজার টাকা দাবি করা হয়েছে। টাকা না দিলে তাদের ক্ষতি করার হুমকিও দেওয়া হয়েছে। অভিযুক্ত ফারুক মিয়া বলেন, তার ছেলে ফাহিম ভারতে রয়েছে। বর্তমানে তিনিও ফাহিমের সঙ্গে যোগাযোগ করতে পারছেন না। ছাতক থানার পরিদর্শক (তদন্ত) ঝলক মোহন্ত বলেন, সৈদেরগাঁও গ্রামের তিন যুবককে কাজের উদ্দেশ্যে ভারতে নিয়ে যাওয়া এবং সেখানে আটকে রেখে টাকা চাওয়ার অভিযোগ উঠেছে। বিষয়টি একজন কর্মকর্তা তদন্ত করছেন। অভিযোগটি গভীরভাবে তদন্ত করা হচ্ছে।

০৯ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬
সিলেটে রেলের টিকিট কালোবাজারি দুজন জেলহাজতে

সিলেটে রেলের টিকিট কালোবাজারি দুজন জেলহাজতে

সিলেটে অবৈধভাবে অনলাইনে রেলওয়ের টিকিট সংগ্রহ করে কালোবাজারে বিক্রির অভিযোগে রেলওয়ে নিরাপত্তা বাহিনীর (আরএনবি) দুই সদস্যকে আটক করার পর আজ বুধবার আদালতের নির্দেশে তাদের জেলহাজতে প্রেরণ করা হয়েছে। আটকের সময় তাদের কাছ থেকে অসংখ্য রেলের টিকিট ও মোবাইল ফোন জব্দ করা হয়। মঙ্গলবার (৮ সেপ্টেম্বর) রাত আনুমানিক ১১টার দিকে সিলেট রেলস্টেশন এলাকায় এই অভিযান চালায় জেলা প্রশাসন। অভিযানে আটককৃতরা হলেন- সুনামগঞ্জের দিরাই উপজেলার মজলিসপুর এলাকার সঞ্জীব দাসের ছেলে সজীব দাস সঞ্জয় এবং সুনামগঞ্জ সদর উপজেলার জলিলপুর এলাকার মো. আব্দুল হান্নানের ছেলে মো. আবু তাহের। তারা দুজনই রেলওয়ে নিরাপত্তা বাহিনীর (আরএনবি) সদস্য বলে জানা যায়। অভিযানের নেতৃত্ব দেন জেলা প্রশাসনের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ও সহকারী কমিশনার মো. রাকিবুল আলম। এসময় অভিযানে সহযোগিতা করেন রেলওয়ে থানা পুলিশ, দক্ষিণ সুরমা থানা পুলিশ এবং আনসার বাহিনীর সদস্যরা। জানা যায়, মঙ্গলবার (৮ সেপ্টেম্বর) রাত আনুমানিক ১১টার দিকে জেলা প্রশাসনের নিয়মিত অভিযানের অংশ হিসেবে সিলেট রেলস্টেশন এলাকায় অভিযান পরিচালনা করা হয়। এসময় গোপন সংবাদের ভিত্তিতে টিকিট কালোবাজারির সক্রিয় দুইজনকে আটক করা হয়। তারা অনলাইনে অবৈধভাবে রেলের টিকিট ক্রয় ও ডাউনলোড করে বিভিন্ন স্থানে বিক্রি করতেন বলে অভিযোগ রয়েছে। আটকের সময় তাদের কাছে থাকা টিকিট এবং ব্যবহৃত মোবাইল ফোনগুলো জব্দ করা হয়েছে।

০৯ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬
জাতীয় জনতা পার্টির নতুন কমিটি, চেয়ারম্যান সিলেটের তাহমিনুল

জাতীয় জনতা পার্টির নতুন কমিটি, চেয়ারম্যান সিলেটের তাহমিনুল

শনিবার শাহজালাল-শাহপরাণ মাজার জিয়ারত মহান মুক্তিযুদ্ধের সর্বাধিনায়ক বঙ্গবীর জেনারেল এম. এ. জি. ওসমানীর প্রতিষ্ঠিত জাতীয় জনতা পার্টির নতুন কেন্দ্রীয় কার্যকরী কমিটি গঠন করা হয়েছে। এতে চেয়ারম্যান হিসেবে এডভোকেট মোঃ তাহমিনুল ইসলাম খান এবং সাধারণ সম্পাদক হিসেবে মো. মুজিবুর রহমান চৌধুরী (হিরু) মনোনীত হয়েছেন। গত ৬ সেপ্টেম্বর ঢাকার ওয়ারীস্থ ‘জনতা ভবন’ কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত দলের সাধারণ সভায় সর্বসম্মতিক্রমে এ কমিটি গঠন করা হয়। কমিটির অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ পদে দায়িত্বপ্রাপ্তরা হলেন- সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান মোঃ জামাল উদ্দিন খান (অতিরিক্ত দায়িত্ব: কোষাধ্যক্ষ); ভাইস চেয়ারম্যানবৃন্দ যথাক্রমে মোঃ শহিদুল ইসলাম, রোকশানা ইসলাম চৌধুরী, বীর মুক্তিযোদ্ধা আলতাফ মাহমুদ ও মীর আহমেদ ভূইয়া। সাংগঠনিক সম্পাদক মোহাম্মদ আমিনুল হক ভূইয়া, যুগ্ম সাংগঠনিক সম্পাদক আকলিছ আহমদ চৌধুরী, দপ্তর ও প্রচার সম্পাদক মফিজ এম মহিউদ্দিন, মহিলা সম্পাদিকা তাসলিমা চৌধুরী জুলি, সহ-মহিলা সম্পাদিকা রেহানা সুলতানা, আইন বিষয়ক সম্পাদক তারিফুর রহমান চৌধুরী প্রিন্স, আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদক শাহিন মাহমুদ খান, সহ-আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদক তাহরিনুল ইসলাম খান, মুক্তিযোদ্ধা বিষয়ক সম্পাদক দেলোয়ার হোসেন খান, শ্রম ও শিল্প বিষয়ক সম্পাদক গোলাম মোস্তফা ভূইয়া, কৃষি ও পল্লী উন্নয়ন সম্পাদক মো. নাজমুল হক বুলবুল, শিক্ষা ও সাংস্কৃতিক সম্পাদক জিসান আরা জামাল, সহ-শিক্ষা ও সাংস্কৃতিক সম্পাদক এ.কে মাইদুল ইসলাম খান এবং কার্যনির্বাহী সদস্য মো. শফিকুর রহমান। এদিকে, দায়িত্ব গ্রহণের পর জাতীয় জনতা পার্টির নবনিযুক্ত চেয়ারম্যান অ্যাডভোকেট তাহমিনুল ইসলাম খান আগামী ১২ সেপ্টেম্বর (শনিবার) প্রথম সিলেট সফর করবেন। ওই দিন বেলা সাড়ে ১১টায় তিনি হযরত শাহজালাল (রহ.) ও বঙ্গবীর জেনারেল এম. এ. জি. ওসমানীর মাজার জিয়ারত করবেন এবং বঙ্গবীরের সমাধিতে পুষ্পস্তবক অর্পণ করে শ্রদ্ধা নিবেদন করবেন। এ সময় মাজার প্রাঙ্গণে সিলেটবাসীর পক্ষ থেকে তাঁকে সংবর্ধনা ও শুভেচ্ছা জানানো হবে। মাজার জিয়ারত শেষে তিনি পৈতৃক নিবাস সিলেট জেলার বিশ্বনাথ উপজেলার শ্রীধরপুর গ্রামে গমন করবেন। সেখানে পারিবারিক কবরস্থানে তাঁর পিতা, জাতীয় জনতা পার্টির সাবেক চেয়ারম্যান ও সাবেক সংসদ সদস্য মরহুম এডভোকেট নুরুল ইসলাম খানের কবরে শ্রদ্ধা নিবেদন ও জিয়ারত করবেন। পরবর্তীতে স্থানীয় মসজিদে যোহরের নামাজ আদায় শেষে এলাকাবাসীর সাথে কুশল বিনিময় করবেন। এসব কর্মসূচিতে জাতীয় জনতা পার্টির কেন্দ্রীয়, সিলেট জেলা ও মহানগর শাখার নেতৃবৃন্দ উপস্থিত থাকবেন। দলীয় সকল স্তরের নেতাকর্মী, শুভাকাঙ্ক্ষী ও বঙ্গবীর ওসমানীপ্রেমীদের যথাসময়ে উপস্থিত থাকার আহ্বান জানিয়েছেন পার্টির সিলেট বিভাগীয় সমন্বয়কারী ও সিলেট জেলা সভাপতি আকলিছ আহমদ চৌধুরী।

০৯ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬
প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী : সিলেটে মহিলা দলের র‌্যালি-সমাবেশ

প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী : সিলেটে মহিলা দলের র‌্যালি-সমাবেশ

সিলেটে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী মহিলা দলের ৪৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে বর্ণাঢ্য র‌্যালি ও সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়েছে। বুধবার বিকেলে সিলেট মহানগর মহিলা দলের উদ্যোগে নগরীর কোর্ট পয়েন্ট থেকে র‌্যালি বের হয়ে বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ করে সিলেট কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে গিয়ে সমাপ্ত হয়। র‌্যালির উদ্বোধন করেন সিলেট মহানগর বিএনপির সভাপতি নাসিম হোসাইন। এর আগে কোর্ট পয়েন্টে অনুষ্ঠিত র‌্যালিপূর্ব সমাবেশে সিলেট মহানগর মহিলা দলের সভানেত্রী নিগার সুলতানা ডেইজির সভাপতিত্বে ও সাধারণ সম্পাদক ফাতেমা জামান রোজীর সঞ্চালনায় বক্তব্য রাখেন সাংগঠনিক সম্পাদক রেহেনা ফারুক শিরীন, সিনিয়র সহ-সভাপতি আসমা আলম, সিনিয়র সহ সাধারণ সম্পাদক সাফিয়া খাতুন মনি, রিনা আক্তার প্রমুখ এ ছাড়া ও ৪২ টি ওয়ার্ডের সভাপতি, সাধারণ সম্পাদকসহ অন্যান্য নেতৃবৃন্দ। সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে নাসিম হোসাইন বলেন, “শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের হাতে গড়া বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী মহিলা দল দেশের নারীশক্তির অন্যতম প্রধান সংগঠন। প্রতিষ্ঠার পর থেকে এই সংগঠন দেশের গণতন্ত্র, মানুষের অধিকার এবং নারীর ক্ষমতায়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখে আসছে। সমাজের প্রতিটি ক্ষেত্রে নারীদের সফলতা ও অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতে মহিলা দলের নেতাকর্মীরা কাজ করে যাচ্ছেন।” তিনি বলেন, “নারীদের বাদ দিয়ে একটি সমৃদ্ধ ও গণতান্ত্রিক বাংলাদেশ গড়ে তোলা সম্ভব নয়। তাই দেশের নারীসমাজকে ঐক্যবদ্ধ করে তাদের অধিকার প্রতিষ্ঠা এবং মানুষের ভোটাধিকার ও গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের আন্দোলনে মহিলা দলকে আরও সক্রিয় ভূমিকা পালন করতে হবে।” সভাপতির বক্তব্যে নিগার সুলতানা ডেইজি বলেন, “দেশের নারীদের আত্মনির্ভরশীল ও অর্থনৈতিকভাবে সক্ষম করে তুলতে বিএনপি নানা ধরনের পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে বর্তমান সরকার। ভবিষ্যতে নারীদের সামনে রেখে প্রতিটি পরিবারকে স্বাবলম্বী করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। ফ্যামিলি কার্ডের মাধ্যমে পরিবারের নারীদের অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডে সম্পৃক্ত করে তাদের ক্ষমতায়নের পাশাপাশি পরিবার ও সমাজের উন্নয়নে ভূমিকা রাখার সুযোগ সৃষ্টি করা হচ্ছে।” তিনি বলেন, “দেশের গণতান্ত্রিক আন্দোলনে মহিলা দলের নেতাকর্মীরা অতীতের মতো ভবিষ্যতেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবেন। নারী নির্যাতন, বৈষম্য ও অধিকারহীনতার বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার প্রত্যয় ব্যক্ত করছি।” পরে নেতাকর্মীরা ব্যানার, ফেস্টুন ও বিভিন্ন স্লোগান নিয়ে বর্ণাঢ্য র‌্যালিতে অংশ নেন। র‌্যালিতে মহানগর মহিলা দলের বিভিন্ন ওয়ার্ড ও ইউনিটের নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।

০৯ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬
টানা তৃতীয় দিন সিকৃবির উপাচার্যের অপসারণ দাবি

টানা তৃতীয় দিন সিকৃবির উপাচার্যের অপসারণ দাবি

সিলেট কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের (সিকৃবি) উপাচার্য অধ্যাপক মো. আলিমুল ইসলামের অপসারণ দাবিতে টানা তৃতীয় দিনের মতো প্রতিবাদ সমাবেশ করেছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের বিএনপিপন্থী সাদা দলের শিক্ষক ও কর্মকর্তারা। বুধবার দুপুরে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনিক ভবনের সামনে অবস্থান নিয়ে এ কর্মসূচি পালন করেন তারা। এ সময় উপাচার্যের বিরুদ্ধে নিয়োগ প্রক্রিয়াসহ বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন কার্যক্রমে অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ তুলে ধরেন আন্দোলনকারীরা। সমাবেশে সাদা দলের শিক্ষক ও কর্মকর্তারা অভিযোগ করেন, বর্তমান উপাচার্যের দায়িত্বকালে নিয়োগসহ বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন ক্ষেত্রে অনিয়ম ও নানা ধরনের অপকর্ম সংঘটিত হয়েছে। এসব অভিযোগের সুষ্ঠু তদন্তের পাশাপাশি উপাচার্যের পদত্যাগ দাবি করেন তারা। আন্দোলনকারীরা বলেন, অবিলম্বে উপাচার্য পদত্যাগ না করলে আরও কঠোর কর্মসূচি দেওয়া হবে। একই সঙ্গে উপাচার্যের অপসারণ চেয়ে জেলা প্রশাসকের মাধ্যমে রাষ্ট্রপতি বরাবর লিখিত আবেদন পাঠানোর কথাও জানান তারা। এর আগে উপাচার্যের বিরুদ্ধে অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ তুলে বিশ্ববিদ্যালয়ের ১১টি প্রশাসনিক পদ থেকে ৯ শিক্ষক-কর্মকর্তা পদত্যাগ করেন। তবে শুরু থেকেই এসব অভিযোগ ভিত্তিহীন ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলে দাবি করে আসছেন উপাচার্য অধ্যাপক মো. আলিমুল ইসলাম। তার দাবি, তাকে হেয় করা এবং প্রশাসনিক কার্যক্রমকে বাধাগ্রস্ত করার উদ্দেশ্যেই এসব অভিযোগ তোলা হচ্ছে। এদিকে উপাচার্যের অপসারণের দাবিতে ধারাবাহিক কর্মসূচি অব্যাহত রাখার ঘোষণা দিয়েছেন আন্দোলনকারীরা। তাদের দাবি, অভিযোগগুলোর নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত ঘটনা উদঘাটন এবং বিশ্ববিদ্যালয়ে স্বাভাবিক পরিবেশ ফিরিয়ে আনতে দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নিতে হবে।

০৯ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬
অবশেষে এমপি লুনার সুপারিশে জাতীয়করণ হচ্ছে তাজপুর কলেজ

অবশেষে এমপি লুনার সুপারিশে জাতীয়করণ হচ্ছে তাজপুর কলেজ

সিলেটের ওসমানীনগর উপজেলার প্রাচীনতম ও সর্ববৃহৎ উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠান ‘তাজপুর কলেজ’ জাতীয়করণের সুপারিশ করেছেন সিলেট-২ (বিশ্বনাথ-ওসমানীনগর) আসনের সংসদ সদস্য মোছা. তাহসিনা রুশদীর লুনা। সম্প্রতি শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী বরাবর প্রেরিত এক আধা-সরকারিপত্রে (ডিডিও) তিনি এ দাবি জানান। সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, শীঘ্রই এটি কলেজটি জাতীয়করণের তালিকাভুক্ত হচ্ছে।  এমপি ডিডিও-তে উল্লেখ করেন- ১৯৭২ সালে প্রতিষ্ঠিত এই ঐতিহ্যবাহী কলেজে বর্তমানে উচ্চমাধ্যমিক (মানবিক, বিজ্ঞান ও ব্যবসায় শিক্ষা), স্নাতক (পাশ) এবং রাষ্ট্রবিজ্ঞান ও বাংলা বিষয়ে স্নাতক (সম্মান) কোর্সে প্রায় আড়াই হাজার শিক্ষার্থী পড়াশোনা করছে। উপজেলা সদরে অবস্থিত এ কলেজে রয়েছে খেলার মাঠ, আইসিটি ল্যাব ও আধুনিক ডিজিটাল শ্রেণিকক্ষ। কলেজটিতে স্নাতক (সম্মান) কোর্সে পাসের হার ৯১%, স্নাতক (পাশ) কোর্সে প্রায় ৬০% এবং উচ্চমাধ্যমিকেও সন্তোষজনক ফলাফল রয়েছে। এটি সিলেট জেলার বালাগঞ্জ, বিশ্বনাথ, ওসমানীনগর, দক্ষিণ সুরমা এবং হবিগঞ্জের নবীগঞ্জ ও সুনামগঞ্জের জগন্নাথপুর উপজেলার শিক্ষার্থীদের শিক্ষার আলো ছড়িয়ে দিচ্ছে। সাবেক সংসদ সদস্য ও বিএনপির সাবেক কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক এম ইলিয়াস আলী এই কলেজের গর্ভনিং বডির সভাপতি হিসেবে এর উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখেছেন। এমপি তাহসিনা রুশদীর আরও উল্লেখ করেন- "বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান জাতীয়করণ নীতিমালা" অনুযায়ী উপজেলা সদরে অবস্থিত, প্রাচীনতম, আয়তন ও শিক্ষার্থী সংখ্যায় সর্ববৃহৎ প্রতিষ্ঠান হওয়া সত্ত্বেও বিগত সরকারের আমলে কলেজটি চরম বৈষম্যের শিকার হয়েছে। নীতিমালার শর্ত পূরণ করা সত্ত্বেও তাজপুর কলেজকে জাতীয়করণ থেকে বঞ্চিত রাখা হয়, যার ফলে স্থানীয় শিক্ষার্থীরা সরকারি সুবিধার সুফল পাওয়া থেকে পিছিয়ে পড়েছে। এদিকে, এ খবরে সিলেট-২ আসনের এমপির প্রতি ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছেন সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিবর্গ এবং স্থানীয় শিক্ষানুরাগী ও সচেতন মহল। তারা বলছেন- বর্তমান সরকার তাজপুর কলেজ জাতীয়করণের মাধ্যমে এই দীর্ঘদিনের বৈষম্য দূর করবে। 

০৯ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬
সিলেটের ইয়াবার বড় চালান জব্দ

সিলেটের ইয়াবার বড় চালান জব্দ

সিলেট মহানগরের মোগলাবাজার এলাকায় অভিযান চালিয়ে ৯ হাজার ৬৭০ পিস ইয়াবাসহ তিন মাদককারবারিকে আটক করেছে মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)। এ সময় মাদক পরিবহনে ব্যবহৃত একটি নম্বরবিহীন পিকআপ ও একটি নোহা মাইক্রোবাস জব্দ করা হয়। মঙ্গলবার দিবাগত (৮ সেপ্টেম্বর) দিবাগত মধ্যরাতে মোগলাবাজার থানাধীন নৈখাই খালেরমুখ বাজারে এ অভিযান পরিচালনা করা হয়। অভিযানকালে পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে কয়েকজন পালিয় যেতে সক্ষম হয়। অভিযানে আটকরা হলেন- কুড়িগ্রামের রৌমারী উপজেলার চর নতুন বন্দর গ্রামের মৃত লাল মিয়ার ছেলে মো. নুর হাকিম (৩০), শৌলমারী গ্রামের আজবাহার মিয়ার ছেলে মো. রুবেল মিয়া (৩০) এবং নতুনবন্দর গ্রামের আব্দুল খালেকের ছেলে মো. এহসানুল হক (২৬)। এসব তথ্য দৈনিক সচিত্র সিলেটকে নিশ্চিত করেছেন সিলেট মেট্রোপলিটন পুলিশের (এসএমপি) মিডিয়া অফিসার অতিরিক্ত উপ-কমিশনার মো. মঞ্জুরুল আলম। তিনি জানান- প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে আটকরা০ স্বীকার করেছে যে, তারা পলাতক আসামিদের সহায়তায় সিলেটের সীমান্তবর্তী এলাকা থেকে ইয়াবা সংগ্রহ করে দেশের বিভিন্ন স্থানে পরিবহন ও বেচাকেনা করে আসছিল। এ ঘটনায় এ তিনজনের বিরুদ্ধে মোগলাবাজার থানায় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে মামলা দায়েরের পর আজ বুধবার তাদের আদালতের নির্দেশে জেলহাজতে প্রেরণ করেছে পুলিশ।  এ ঘটনার সাথে জড়িত অন্যদের ধরতে অভিযান অব্যাহত রয়েছে বলে জানিয়েছেন এসএমপির মিডিয়া অফিসার মো. মঞ্জুরুল আলম।

০৯ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬
হাম-উপসর্গ : সিলেটে হাসপাতালে ভর্তি প্রায় ৫০০ রোগী

হাম-উপসর্গ : সিলেটে হাসপাতালে ভর্তি প্রায় ৫০০ রোগী

সিলেট বিভাগে হামের প্রকোপ কিছুতেই থামানো যাচ্ছে না। গত ২৪ ঘণ্টায় (গতকাল সকাল থেকে আজ বুধবার সকাল পর্যন্ত) বিভাগে এ রোগে কোনো প্রাণহানি না ঘটলেও এই সময়ে ১৮০ জন রোগী হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। বুধবার (৯ সেপ্টেম্বর) সকালে সিলেট বিভাগীয় পরিচালক (স্বাস্থ্য)-এর কার্যালয় থেকে হালনাগাদ প্রতিবেদনে এসব তথ্য জানানো হয়েছে। সূত্র বলছে- গত ২৪ ঘণ্টায় ভর্তি হওয়া ১৮০ জনের মধ্যে শহীদ শামসুদ্দিন আহমদ হাসপাতালে ৫৭ জন, সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ৬৩ জন, সুনামগঞ্জ জেলা সদর হাসপাতালে ৩১ জন, মৌলভীবাজার জেলা সদর হাসপাতালে ১০ জন, পার্কভিউ মেডিকেলে ১০ জন এবং বিয়ানীবাজার উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ৪ জন। তাদের নিয়ে বর্তমানে সিলেট বিভাগের বিভিন্ন সরকারি ও বেসরকারি হাসপাতালে সর্বমোট ৪৯৮ জন সন্দেহজনক হাম আক্রান্ত রোগী চিকিৎসাধীন রয়েছেন। এর মধ্যে ওসমানী মেডিকেলে ১৮৮ জন, শামসুদ্দিন হাসপাতালে ১৬১ জন, সুনামগঞ্জ সদর হাসপাতালে ৪৪ জন এবং মৌলভীবাজার সদর হাসপাতালে ৩৫ জন ভর্তি রয়েছেন। চলতি বছরের শুরু থেকে আজ পর্যন্ত সিলেট বিভাগের চার জেলায় মোট ১ হাজার ৪৪ জন নিশ্চিত হাম ও রুবেলা রোগী শনাক্ত হয়েছেন। একই সময়ে হাম ও উপসর্গে প্রাণ হারিয়েছেন মোট ১৫৯ জন।

০৯ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬
জকিগঞ্জে কৃতী শিক্ষার্থীদের সংবর্ধনা

জকিগঞ্জে কৃতী শিক্ষার্থীদের সংবর্ধনা

সিলেটের জকিগঞ্জ উপজেলার বীরশ্রী ইউনিয়নের গুরুসদয় স্কুল অ্যান্ড কলেজে সুরমা বিজনেস গ্রুপের চেয়ারম্যান ও সিলেট জেলা বিএনপির সহ-অর্থনৈতিক বিষয়ক সম্পাদক শাহেদ আহমদ রাসেলের সার্বিক সহযোগিতায় বিনামূল্যে রক্তের গ্রুপ নির্ণয় ও এসএসসি ও দাখিল পরীক্ষায় উত্তীর্ণ কৃতী শিক্ষার্থীদের সংবর্ধনা অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়েছে। শাহেদ আহমদ রাসেলের পৃষ্ঠপোষকতায় মানবিক ও শিক্ষাবান্ধব এ কর্মসূচির আয়োজন করে স্থানীয় তিনটি স্বেচ্ছাসেবী সামাজিক সংগঠন— মানবসেবা ফাউন্ডেশন জকিগঞ্জ, সোনাপুর-সুপ্রাকান্দি ডেভেলপমেন্ট সোসাইটি এবং ‘মুক্তমন’ বীরশ্রী। মঙ্গলবার (৭ সেপ্টেম্বর) দিনব্যাপী আয়োজিত কর্মসূচিতে ছয় শতাধিক শিক্ষার্থীর বিনামূল্যে রক্তের গ্রুপ নির্ণয় করা হয়। পাশাপাশি এসএসসি ও দাখিল পরীক্ষায় উত্তীর্ণ অর্ধশতাধিক কৃতী শিক্ষার্থীকে সংবর্ধনা স্মারক প্রদান করা হয়। এ সময় শিক্ষার্থীদের লেখাপড়ার খরচ বহনে সহায়তার লক্ষ্যে শাহেদ আহমদ রাসেল কয়েকজন শিক্ষার্থীকে নগদ আর্থিক সহায়তা প্রদান করেন। এছাড়া শিক্ষার্থীদের খেলাধুলা ও শারীরিক বিকাশের সুযোগ বৃদ্ধির লক্ষ্যে প্রতিষ্ঠানের খেলার মাঠ প্রশস্ত ও সংস্কারের জন্য বিশেষ উদ্যোগ গ্রহণের ঘোষণা দেন তিনি। গুরুসদয় স্কুল অ্যান্ড কলেজের অধ্যক্ষ শ্রী বিবেক বিহারি বিশ্বাসের সভাপতিত্বে এবং মানবসেবা ফাউন্ডেশন জকিগঞ্জের সদস্য গাউছুল আলমের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সুরমা বিজনেস গ্রুপের চেয়ারম্যান ও সমাজসেবক শাহেদ আহমদ রাসেল। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন মানবসেবা ফাউন্ডেশন জকিগঞ্জের সিনিয়র সদস্য ও জকিগঞ্জ প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক এনামুল হক মুন্না, মানবসেবা ফাউন্ডেশন জকিগঞ্জের সিনিয়র সদস্য রুজেল আহমদ চৌধুরী এবং সংগঠক দুহা আহমদ। অনুষ্ঠানে মানবসেবা ফাউন্ডেশন জকিগঞ্জের পক্ষে উপস্থিত ছিলেন জামিল আহমদ জামাল, কামরুল ইসলাম, মাহবুব আহমদ, কাজী হামিদুর রহমান, রাহিম আহমদ, মাহফুজ চৌধুরী, মিলাদ আহমদ, জিদান আহমদ ও সাত্তার আহমদ। ‘মুক্তমন’ বীরশ্রীর পক্ষে উপস্থিত ছিলেন সংগঠনের কোষাধ্যক্ষ সুলতান মাহমুদ, জামাল আহমদ, গাউছুল আলম, রাহিম চৌধুরী ও দিদারুল ইসলাম। এ ছাড়া সোনাপুর-সুপ্রাকান্দি ডেভেলপমেন্ট সোসাইটির পক্ষে সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক সুলতান আহমদ, সাংগঠনিক সম্পাদক হেলাল আহমদ, প্রবাসী সদস্য আব্দুস সবুর এবং উপদেষ্টা মখলিছুর রহমানসহ স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন। আয়োজকরা জানান, এলাকার শিক্ষা, সামাজিক উন্নয়ন, ক্রীড়ার বিকাশ ও মানবসেবায় শাহেদ আহমদ রাসেলের অব্যাহত সহযোগিতা এবং তিনটি সংগঠনের যৌথ উদ্যোগ স্থানীয়দের মধ্যে ব্যাপক প্রশংসা অর্জন করেছে।

০৯ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬
যারা দুর্নীতি প্রতিরোধে কাজ করবেন তাদের পাশে দুদক : উপপরিচালক

যারা দুর্নীতি প্রতিরোধে কাজ করবেন তাদের পাশে দুদক : উপপরিচালক

দুর্নীতি দমন কমিশন, জেলা সম্বন্নিত কার্যালয় উপ-পরিচালক মো. সুহেব আহমেদ বলেছেন- দুর্নীতির বিরুদ্ধে সবাইকে  একযোগে কাজ করতে হবে। আর সেই কাজ পরিবার এবং  শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান থেকে শুরু করতে হবে। দুদক দুর্নীতির বিরুদ্ধে কাজ করে যাচ্ছে, যারা দুর্নীতি প্রতিরোধে কাজ করবেন, তাদের পাশে দুদক সব সময় থাকবে। তিনি বুধবার (৯ সেপ্টেম্বর) দুপুরে ওসমানীনগর উপজেলা দুর্নীতি প্রতিরোধ কমিটি (দুপ্রক)এর উদ্যোগে মাধ্যমিক পর্যায়ে বির্তক প্রতিযোগিতা পুরস্কার বিতরনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসাবে বক্তব্য রাখেন।  সিনিয়র সাংবাদিক বদরুল আলম চৌধুরীর সভাপতিত্বে এবং সমাজকর্মী আবুল বাশারের পরিচালনায় এ সময় উপস্থিত ছিলেন উপজেলা দুর্নীতি প্রতিরোধ কমিটি, বালাগঞ্জ উপজেলা শাখার সাধারণ সম্পাদক শাহাব উদ্দিন শাহিন, জকিগনজ কমিটি সভাপতি সৈয়দ আছলাম হোসেন,  দয়ামীর সদরুননেচ্ছা উচ্চ বিদ্যালয় প্রধান শিক্ষক মোঃ আনোয়ার হোসেন, ইয়াহইয়া চৌধুরী উচ্চ বিদ্যালয় প্রধান শিক্ষক নুর মোহাম্মদ সাইফ উদ্দিন, সমাজ সেবক আব্দুর রব, ডাঃ আলা উদ্দিন,সাব্বির আহমদ, ক্রীড়া সংগঠক মোঃ আব্দুল কাদির  লাকসন,শিক্ষক লুৎফুর রহমান, আসাদুল ইসলাম সজিব,  নারী নেত্রী রুমানা বেগম,  স্কুল শিক্ষিকা ফারজানা বেগম, মারজানা বেগম, লিমা বেগম, ছাত্রী মিতু রানী দেবনাথ।   বির্তকে ইযাহইয়া চৌধুরী উচ্চ বিদ্যালয় কে পরাজিত করে সদরুননেচ্ছা উচ্চ বিদ্যালয় চ্যাম্পিয়ান হয়। শ্রেষ্ঠ বক্তা হয়েছেন তায়িবা জান্নাত। প্রধান অতিথি বির্তকে অংশ গ্রহনকারীদের মধ্যে সনদ, ক্রেষ্ট, বুক ব্যাচ, ব্যাগ জামিতি বক্স প্রদান করেন।  উপ পরিচালক বিদ্যালয়ে উপস্থিত হলে দুপ্রক ওসমানীনগর কমিটি এবং দয়ামীর সদরুননেচ্ছা উচ্চ বিদ্যালয় সততা সংঘ সদস্যরা তাকে আনুষ্টানিক ভাবে বরন করেন। উপ পরিচালক বিদ্যালয়ের সততা ষ্টোর পরিদর্শন করেন। 

০৯ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬
জগন্নাথপুরে সড়ক দুর্ঘটনায় আহত বৃদ্ধের মৃত্যু

জগন্নাথপুরে সড়ক দুর্ঘটনায় আহত বৃদ্ধের মৃত্যু

সুনামগঞ্জের জগন্নাথপুরে সড়ক দুর্ঘটনায় গুরুতর আহত হয়ে চিকিৎসাধীন অবস্থায় আদেশ দাস (৬০) নামে এক বৃদ্ধের মৃত্যু হয়েছে। তিনি উপজেলার পাইলগাঁও ইউনিয়নের পাইলগাঁও গ্রামের বাসিন্দা। ​স্থানীয় ও প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা যায়, গত ৪ সেপ্টেম্বর সন্ধ্যা ৭টার দিকে আদেশ দাস ইনাতগঞ্জ থেকে টমটম চালিয়ে রানীগঞ্জ যাচ্ছিলেন। পথিমধ্যে পাইলগাঁও ইউনিয়নের আমিনপুর এলাকায় পৌঁছালে একই দিশা থেকে আসা একটি অনিয়ন্ত্রিত সিএনজি চালিত অটোরিকশা পেছন থেকে টমটমটিকে সজোড়ে ধাক্কা দেয়। এতে টমটমটি উল্টে গিয়ে আদেশ দাস গুরুতর আহত হন। ​দুর্ঘটনার পর স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে প্রথমে জগন্নাথপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। সেখানে তার শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে সিলেট এম এ জি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে প্রেরণ করেন। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়। ​ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ময়নাতদন্ত শেষে নিহতের মরদেহ স্বজনরা গ্রামে নিয়ে আসলে এক হৃদয়বিদারক দৃশ্য ও শোকের ছায়ার সৃষ্টি হয়। ​অভিযোগ রয়েছে- দুর্ঘটনাটি ঘটে রানীগঞ্জ ইউনিয়নের গন্ধর্বপুর গ্রামের আব্দুল ওয়াহিদের ছেলে সিএনজি চালক তালেব মিয়ার বেপরোয়া ড্রাইভিংয়ের কারণে। এ ঘটনায় জগন্নাথপুর থানায় লিখিত অভিযোগ দায়েরের প্রস্তুতি চলছে বলে স্বজনরা জানিয়েছেন। (রিপোর্ট : গোবিন্দ দেব)

০৯ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬
কয়লা আনতে গিয়ে ভারতে সুনামগঞ্জের যুবকের মৃত্যু

কয়লা আনতে গিয়ে ভারতে সুনামগঞ্জের যুবকের মৃত্যু

সুনামগঞ্জের তাহিরপুর সীমান্তে দিয়ে ভারতে অনুপ্রবেশ করে কয়লা আনতে গিয়ে বাংলাদেশি এক যুবকের মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে। ‎বুধবার (৯ সেপ্টেম্বর) উপজেলার চারাগাঁও সীমান্তের ভারতের অভ্যন্তরে কয়লা কোয়ারির ভেতরে মাটি ধসে তাতে চাপা পড়ে এ দুর্ঘটনা ঘটে। নিহত যুবক ইউনুছ আলী (২২) উপজেলার শ্রীপুর উত্তর ইউনিয়নের লালঘাট গ্রামের ছমির উদ্দিনের ছেলে। ‎জানা গেছে, বুধবার ভোরে ১০/১৫ জনের একটি শ্রমিকের দল কয়লা আনতে চারাগাঁও সীমান্ত দিয়ে গোপন পথে ভারতের অভ্যন্তরে অনুপ্রবেশ করে। একপর্যায়ে গুহার ভেতরে ঢুকে কয়লা কুড়ানোর সময় মাটি ধসে তাতে চাপা পড়ে এবং সেখানেই তাঁর মৃত্যু হয়। খবর পেয়ে পরিবার ও স্থানীয়দের সহযোগিতায় ইউনুছ আলীর মরদেহ গুহার ভেতর থেকে উদ্ধার করে বাড়িতে নিয়ে আসা হয়। মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন তাহিরপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ফারুক আহমেদ।

০৯ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬
সিলেটে ৬ বিষয়ে যৌথ অভিযান

সিলেটে ৬ বিষয়ে যৌথ অভিযান

পরিবেশ অধিদপ্তর সিলেট বিভাগীয় কার্যালয়ের পরিচালক মো. আবুল কালাম আজাদ জানিয়েছেন- বিভাগের ৪ জেলায় শব্দদূষণকারী ও অবৈধ উচ্চ শব্দযুক্ত হাইড্রোলিক হর্ন ব্যবহারকারী যানবাহনের বিরুদ্ধে কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। একইসঙ্গে পর্যায়ক্রমে বায়ুদূষণ, পাহাড়-টিলা কর্তন, অবৈধ ইটভাটা এবং নিষিদ্ধ ঘোষিত পলিথিনের বিরুদ্ধে নিয়মিত মোবাইল কোর্ট অভিযান অব্যাহত থাকবে। গতকাল মঙ্গলবার সিলেট জেলার গোয়াইনঘাট উপজেলার জাফলং-ডাউকি ইকোলজিক্যালি ক্রিটিক্যাল এরিয়া (ইসিএ)-এর বিভিন্ন এলাকায় অভিযান পরিচালনা শেষে তিনি এসব কথা বলেন। গতকাল দুপুর থেকে বিকাল পর্যন্ত পরিবেশ অধিদপ্তর, সিলেট বিভাগীয় ও সিলেট জেলা কার্যালয়ের উদ্যোগে বিভাগীয় কার্যালয়ের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট তানিয়া আক্তারের নেতৃত্বে এ মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করা হয়। অভিযানকালে জাফলং-ডাউকি ইসিএ এলাকার বাউড়ভাগ হাওড়, নন্দিরভাগ হাওড়, চা বাগান, ঝুমপাড় ও জিরো পয়েন্ট এলাকায় পরিবেশের জন্য ক্ষতিকর ও অবৈধভাবে ব্যবহৃত ১০টি ড্রেজার মেশিন, ৬টি এক্সকেভেটর, ৫টি জেনারেটর, ৪৪টি বারকি নৌকা, ১৩টি কনভেয়ার বেল্ট, ১৫টি শ্যালো মেশিন এবং ৫টি ব্যাটারি ধ্বংস করা হয়েছে। এছাড়া জব্দ করা হয়েছে ৪টি ব্যাটারি। মোবাইল কোর্ট পরিচালনাকালে পরিবেশ অধিদপ্তর, সিলেট জেলা কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক ফাইজুল কবির, সিলেট বিভাগীয় কার্যালয়ের সিনিয়র টেকনিশিয়ান আল মামুনসহ অন্যান্য কর্মকর্তা-কর্মচারী উপস্থিত ছিলেন। অভিযানে গোয়াইনঘাট উপজেলা প্রশাসন ও পুলিশ সদস্যরা সহযোগিতা করেন।

০৯ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬
সংশ্লিষ্টদের প্রতি মন্ত্রী আরিফের যত নির্দেশ

সংশ্লিষ্টদের প্রতি মন্ত্রী আরিফের যত নির্দেশ

মহামান্য রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের আগামী ১৫ সেপ্টেম্বর সিলেট জেলা সফর উপলক্ষ্যে বিশেষ প্রস্তুতিমূলক সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। আজ বুধবার (৯ সেপ্টেম্বর) সিলেট সার্কিট হাউজে জেলা প্রশাসনের আয়োজনে অনুষ্ঠিত সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন শ্রম ও কর্মসংস্থান এবং প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী। সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে মন্ত্রী বলেন- মহামান্য রাষ্ট্রপতির সিলেট সফর একটি গুরুত্বপূর্ণ ও তাৎপর্যপূর্ণ বিষয়। তিনি হযরত শাহজালাল (রহ.) ও হযরত শাহপরান (রহ.)- এর মাজার জিয়ারতের পাশাপাশি নাগরিক ও সুধীজনদের সঙ্গে মতবিনিময় করবেন। এ আয়োজনে সিলেটের বিশিষ্ট নাগরিক, বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক, সাংবাদিক, ব্যবসায়ী, বিভিন্ন পেশাজীবী এবং রাজনৈতিক দলের নেতৃবৃন্দসহ সর্বস্তরের প্রতিনিধিদের সম্পৃক্ত করার বিষয়ে গুরুত্বারোপ করেন তিনি। মন্ত্রী বলেন- মহামান্য রাষ্ট্রপতির কার্যালয় থেকে সফর উপলক্ষ্যে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা পাওয়া যাবে এবং সে অনুযায়ী জেলা প্রশাসন সার্বিক প্রস্তুতি গ্রহণ করবে। রাষ্ট্রপতির আগমন থেকে শুরু করে সফর শেষে বিদায় পর্যন্ত পুরো কার্যক্রম সুশৃঙ্খলভাবে সম্পন্ন করতে সংশ্লিষ্ট সকলকে সমন্বিতভাবে কাজ করতে হবে। এ ক্ষেত্রে স্থানীয় প্রশাসনকে প্রয়োজনীয় সহযোগিতা করার জন্য তিনি সংশ্লিষ্ট সকলের প্রতি আহ্বান জানান। পাশাপাশি সিলেটের বিশিষ্ট ব্যক্তি, রাজনৈতিক দলের নেতৃবৃন্দ, বিভিন্ন পেশাজীবী, বিশ্ববিদ্যালয়, ব্যবসায়ী ও সামাজিক সংগঠনের প্রতিনিধিদের সমন্বয়ে প্রয়োজনীয় তালিকা প্রস্তুত এবং আমন্ত্রণের বিষয়টি যথাযথভাবে সম্পন্ন করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন মন্ত্রী। জেলা প্রশাসক আবদুল্লাহ আল মামুনের সভাপতিত্বে সভায় অতিরিক্ত বিভাগীয় কমিশনার আশরাফুর রহমান, অতিরিক্ত রেঞ্জ ডিআইজি মোহাম্মদ আনোয়ারুল হক, অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার মোহাম্মদ এনামুল হক, সিলেট সিটি কর্পোরেশনের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ রেজাই রাফিন সরকার, সিলেট ওয়াসার চেয়ারম্যান মিফতাহ সিদ্দিকী, জেলা পরিষদের প্রশাসক আবুল কাহের চৌধুরী শামীম, জালালাবাদ গ্যাসের পরিচালক বদরুজ্জামান সেলিম, মহানগর বিএনপির সভাপতি নাসিম হোসাইন ও সাধারণ সম্পাদক এমদাদ হোসেন  চৌধুরীসহ সরকারি বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তা, বিভিন্ন প্রেসক্লাব ও সামাজিক সংগঠনের প্রতিনিধিবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।  

০৯ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬
সেপটিক ট্যাংকের বর্জ্য ছড়ায়, সিলেটে ৬ জনকে অর্থদণ্ড

সেপটিক ট্যাংকের বর্জ্য ছড়ায়, সিলেটে ৬ জনকে অর্থদণ্ড

সিলেট মহানগরের ফাজিলচিশত এলাকায় ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযান পরিচালনা করেছে সিলেট সিটি কর্পোরেশন (সিসিক)। এ সময় সেপটিক ট্যাংক নির্মাণ না করে পাইপের মাধ্যমে টয়লেটের বর্জ্য সরাসরি ছড়ায় ফেলায় ছয় ব্যক্তিকে জরিমানা করা হয়েছে। বুধবার (৯ সেপ্টেম্বর) সকালে সিসিকের প্রধান রাজস্ব কর্মকর্তা ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট বিশ্বজিত দেবের নেতৃত্বে এ অভিযান পরিচালিত হয়। সিলেট সিটি কর্পোরেশন আইন-২০০৯-এর ৯২ ধারায় ছয়জনকে মোট ১৫ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়। একই সঙ্গে ভবিষ্যতে ছড়া ও ড্রেনে কোনো ধরনের বর্জ্য না ফেলা এবং দ্রুত সেপটিক ট্যাংক নির্মাণের অঙ্গীকার করে তাদের কাছ থেকে মুচলেকা নেওয়া হয়। এদিকে, অভিযান চলাকালে সিসিক প্রশাসক আব্দুল কাইয়ুম চৌধুরী ফাজিলচিশত এলাকা পরিদর্শন করেন। এ সময় তিনি টয়লেটের বর্জ্য ছড়া ও ড্রেনে না ফেলার জন্য এলাকাবাসীর প্রতি আহ্বান জানান। আব্দুল কাইয়ুম চৌধুরী বলেন, নগরীর ১ নম্বর ওয়ার্ডের মধ্য দিয়ে মালনীছড়া প্রবাহিত হয়েছে। ছড়ার পানি স্বচ্ছ থাকার কথা থাকলেও সেপটিক ট্যাংক না থাকায় অনেক বাসাবাড়ি থেকে পাইপের মাধ্যমে সরাসরি টয়লেটের বর্জ্য ছড়ায় ফেলা হচ্ছে। এমনকি একটি মাদ্রাসার টয়লেটের বর্জ্যও ছড়ায় গিয়ে পড়ছে। তিনি বলেন, টয়লেটের বর্জ্য সরাসরি ছড়ায় ফেলার কারণে শুধু ওই এলাকার পরিবেশই দূষিত হচ্ছে না, এর প্রভাব পুরো নগরীতে পড়ছে। ছড়ার পানি কালো ও দুর্গন্ধযুক্ত হয়ে গেছে। এতে নগরবাসীর স্বাস্থ্য ও পরিবেশ মারাত্মকভাবে হুমকির মুখে পড়ছে। সিসিক প্রশাসক বলেন, পরিবেশ ও জনস্বাস্থ্যের বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে সংশ্লিষ্ট সবাইকে দ্রুত সেপটিক ট্যাংক নির্মাণ করতে হবে এবং ছড়ার সঙ্গে টয়লেটের সংযোগ বিচ্ছিন্ন করতে হবে। নগরীর পরিবেশ রক্ষায় সিটি কর্পোরেশনের পাশাপাশি নগরবাসীকেও দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে। তিনি আরও বলেন, ছড়া, ড্রেন ও জলাশয়ে বর্জ্য ফেলে পরিবেশ দূষণ করা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। পরিবেশ দূষণ রোধে সবাইকে সচেতন ও সোচ্চার হওয়ার পাশাপাশি সিটি কর্পোরেশনের নিয়মকানুন মেনে চলার আহ্বান জানান তিনি।

০৯ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬
সিলেটে র‍্যাবের জালে ৫, ‘আ গ্নে য়া স্ত্র’ উদ্ধার

সিলেটে র‍্যাবের জালে ৫, ‘আ গ্নে য়া স্ত্র’ উদ্ধার

সিলেটে পৃথক অভিযান চালিয়ে ৪টি পরিত্যক্ত এয়ারগান উদ্ধার এবং অনলাইন জুয়া চক্রের ৫ সদস্যকে গ্রেপ্তার করেছে র‍্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র‍্যাব-৯)। মঙ্গলবার (৮ সেপ্টেম্বর) রাতে ও দুপুরে সিলেটের গোলাপগঞ্জ, কোতয়ালী ও শাহপরান থানা এলাকায় এসব অভিযান পরিচালিত হয়। বুধবার (৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬) র‍্যাব-৯ এর গণমাধ্যম শাখা থেকে পাঠানো পৃথক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এসব তথ্য নিশ্চিত করেছেন মিডিয়া অফিসার ও অতিরিক্ত পুলিশ সুপার কে  এম  শহিদুল ইসলাম সোহাগ। তিনি জানান- মঙ্গলবার রাত সাড়ে ১০টার দিকে র‍্যাব-৯, সদর কোম্পানির একটি আভিযানিক দল গোলাপগঞ্জ উপজেলা পরিষদ এলাকায় অবস্থানকালে গোপন সংবাদ পায় যে, ঢাকাদক্ষিণ ইউনিয়নস্থ দক্ষিণ সড়কের পূর্ব পাশের জঙ্গলে এয়ারগান রয়েছে। প্রাপ্ত সংবাদের ভিত্তিতে এ পাহাড়ি জঙ্গলে তল্লাশি চালিয়ে পরিত্যক্ত অবস্থায় ৪টি এয়ারগান উদ্ধার করা হয়। এ সময় কাউকে আটক করা না গেলেও র‍্যাবের তদন্ত কার্যক্রম চলমান রয়েছে। অপরদিকে, র‍্যাব-৯, সিপিএসসি ও সদর কোম্পানির পৃথক দুটি দল সিলেট মহানগরের বন্দরবাজার ও শাহপরাণ এলাকার মুরাদপুর বাজারে অভিযান চালিয়ে অনলাইন জুয়া চক্রের ৫ সদস্যকে গ্রেপ্তার করেছে। মঙ্গলবার বিকাল সাড়ে ৩টার দিকে বন্দরবাজার এলাকার ‘ত্রীবেদী’ নামক দোকানের সামনে থেকে অনলাইনে জুয়া খেলারত অবস্থায় ২ জনকে আটক করা হয়। তারা হলেন- মহানগরের মাছিমপুরের মৃত আলাউদ্দিন আহম্মদের ছেলে মোঃ নান্নু আহম্মেদ (৩৮) এবং সুনামগঞ্জ সদর উপজেলার ব্রাহ্মণগাঁওয়ের মৃত মঞ্জু ভট্টাচার্যের ছেলে মোহন ভট্টাচার্য (২৮)। একই দিন রাত সাড়ে ৯টার দিকে শাহপরাণ থানাধীন মুরাদপুর বাজারের একটি চায়ের দোকান থেকে আরও ৩ অনলাইন জুয়ারিকে আটক করা হয়। তারা হলেন- পীরের চকের সাজ্জাদ আলীর ছেলে এহিয়া আহমদ (৩০), মুরাদপুরের তেরা মিয়ার ছেলে কয়ছর মিয়া (৩৩) এবং ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নাসিরনগর উপজেলার নয়াবাড়ির বাচ্চু মিয়ার ছেলে আল ইসলাম (৩৭)। আটককালে তাদের কাছ থেকে জুয়া খেলায় ব্যবহৃত ৫টি স্মার্টফোন জব্দ করা হয়। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে তারা জানায়, তারা বিভিন্ন অনলাইন অ্যাপ ও জুয়ার ওয়েবসাইটে তারা জুয়া খেলে আসছিল। আটকাদের পরবর্তীতে সংশ্লিষ্ট থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে।

০৯ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬
উপশহরে কিশোরীকে শিকল বেঁধে হাঁটানোর ঘটনায় ৩ জনকে আটক

উপশহরে কিশোরীকে শিকল বেঁধে হাঁটানোর ঘটনায় ৩ জনকে আটক

চুরির অভিযোগে সিলেট মহানগরের শাহজালাল উপশহরে রাস্তায় কিশোরীকে শিকল বেঁধে হাঁটানোর ঘটনায় ৩ জনকে আটক করেছে পুলিশ।  আটকরা হলেন- শাহজালাল উপশহর এলাকার সি ব্লকের ৪৪নং রোডের ৫১নং বাসার মৃত জালাল উদ্দিনের দুই ছেলে মো. জাকির হোসেন (৪৩) ও মো. মোজাক্কির হোসেন (৪০) এবং একই এলাকার ৫৪নং বাসার মো. মজিবুর রহমানের ছেলে মো. বুরহান উদ্দিন (৪৫)। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন সিলেট মেট্রোপলিটন পুলিশের মিডিয়া অফিসার অতিরিক্ত উপ-কমিশনার মো. মঞ্জুরুল আলম। তাদের তিনজনের বিরুদ্ধে মামলা দায়েরপূূর্বক করে আদালতে সোপর্দের প্রক্রিয়া চলছে বলে জানান তিনি।  এর আগে মঙ্গলবার (৮ সেপ্টেম্বর) রাত সোয়া ১১টার দিকে দৈনিক সচিত্র সিলেটকে সিলেট মেট্রোপলিটন পুলিশের (এসএমপি) সারোয়ার মুর্শেদ শামীম জানান- কিশোরীকে আটক করে শেকল দিয়ে বেঁধে রাস্তায় ঘুরানোর সঙ্গে জড়িত তাদের দ্রুত চিহ্নিত করে আইনের নিয়ে আসা হবে। মঙ্গলবার ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে দেখা যায়- শাহজালাল উপশহর এলাকায় এক কিশোরীকে কোমড়ে শিকল বেঁধে টেনে নিয়ে চলছেন এক যুবক। এসময় ওই কিশোরীটি অঝোরে কেঁদে চলছেন। তাকে বেশ কিছুটা পথ শিকল বেঁধে টেনে নিয়ে যাওয়া হয়। ভিডিওতে টেনে নেওয়া ব্যক্তির চেহারা স্পষ্ট দেখা যায়নি। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, সোমবার (৭ সেপ্টেম্বর) রাত ১১টার দিকে উপশহর ডি-ব্লক মসজিদ মার্কেট এলাকার সড়কে শেকল বেঁধে ওই মেয়েকে টেনে নেওয়া হয়। এর আগে মসজিদ মার্কেট এলাকা থেকে তাকে আটক করেন স্থানীয় ব্যবসায়ীসহ কয়েকজন। মসজিদ মার্কেট এলাকার ব্যবসায়ীদের অভিযোগ- সোমবার সন্ধ্যা ৭টার দিকে উপশহর ডি-ব্লক মসজিদ মার্কেট এলাকার একটি দোকানে ক্যাশ বাক্স চুরির চেষ্টা করেন এক কিশোরী। এ সময় ব্যবসায়ী ও স্থানীয়রা মিলে ওই কিশোরীকে আটক করেন। এসময় প্রথমে তাকে মারধর করে শেকল বেঁধে সড়কে হাঁটানো হয়।এরপর রাক ১১টার দিকে শাহপরাণ থানাপুলিশ এসে নিয়ে যায় ওই কিশোরীকে।

০৯ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬
বালাগঞ্জের তরুণ সমাজকর্মী সিরাজুল ইসলামের দাফন সম্পন্ন

বালাগঞ্জের তরুণ সমাজকর্মী সিরাজুল ইসলামের দাফন সম্পন্ন

সিলেটের বালাগঞ্জ উপজেলার দেওয়ান বাজার ইউনিয়নের নশিওরপুর (হাজীবাড়ি) নিবাসী প্রয়াত হোমিও চিকিৎসক আব্দুল লতিফ’র ২য় ছেলে, তরুণ সমাজকর্মী, শিক্ষানুরাগী, সদা পরোপকারী মো. সিরাজুল ইসলামের জানাজা ও দাফন সম্পন্ন হয়েছে। বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতৃবৃন্দ, আলেম, শিক্ষক, সাংবাদিকসহ বিভিন্ন সামাজিক সংগঠনের নেতৃবৃন্দসহ শত শত শোকাহত এলাকাবাসীর অংশগ্রহণে গতকাল মঙ্গলবার (০৮ সেপ্টেম্বর) বিকাল ২টায় স্থানীয় নশিওরপুর ঈদগাহ মাঠে জানাজা শেষে তার পারিবারিক কবরস্থানে দাফন সম্পন্ন হয়। জানাজার পূর্বে মরহুমের কর্মময় জীবনের স্মৃতিচারণ করেন জামিয়া ইসলামীয়া হোসানিয়া গহরপুর মাদ্রাসার মুহতামিম হাফিজ মাওলানা মুসলেহ উদ্দিন রাজু, দক্ষিণ সুরমা উপজেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান ও বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর নেতা মাওলানা লোকমান আহমদ, দেওয়ান বাজার ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান নাজমুল আলম, বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী বালাগঞ্জ উপজেলা শাখার আমীর মুহাম্মদ আব্দুল জলিল, নায়েবে আমীর হাফিজ কুতুব উদ্দিন আহমদ, বালাগঞ্জ উপজেলা বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক তোফায়েল আহমদ সুহেল, স্থানীয় ইউপি সদস্য মো. বাবরু মিয়া, শিক্ষানুরাগী আব্দুল শাহাদাত রুকন, বালাগঞ্জ প্রেসক্লাবের সভাপতি মো. জিল্লুর রহমান জিলু এবং মরহুমের পরিবারের পক্ষে তার চাচা বিশিষ্ট সমাজকর্মী হাজী সাইস্তা মিয়া প্রমুখ। উল্লেখ্য : মো. সিরাজুল ইসলাম গত সোমবার (০৭ সেপ্টেম্বর) বিকাল ৩টা ৪৫ মিনিটে ঢাকার বিআরবি হাসপাতালের আইসিইউতে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ইন্তেকাল করেন (ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাহি রাজিউন)। মৃত্যুকালে তাঁর বয়স হয়েছিল আনুমানিক ৪৪ বছর। পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, মো. সিরাজুল ইসলাম মৃত্যুকালে লিভার ও কিডনিজনিত জটিলরোগে ভুগছিলেন। তিনি স্ত্রী, ১ভাই, ৫বোনসহ অসংখ্য গুণগ্রাহী রেখে গেছেন। মো. সিরাজুল ইসলাম নশিওরপুর জাগরণী যুব সংঘ (রেজি.-৫০৩/৯৭)সহ বিভিন্ন সামাজিক সংগঠনের সাথে জড়িত ছিলেন। তিনি জাগরণী যুব সংঘের সাধারণ সম্পাদক ও পরবর্তীতে সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। এছাড়া বালাগঞ্জ উপজেলার দেওয়ান বাজার ইউনিয়ন যুব জামায়াতের সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। এদিকে দলমত নির্বিশেষে পরোপকারী, সদালাপী মো. সিরাজুল ইসলাম’র মৃত্যুতে এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে।

০৮ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬
‘হোল্ডিং ট্যাক্স আদায় চাদাবাজী নয়, আইনি বিধান’ স্লোগানে খাদিমনগর ইউনিয়ন পরিষদে প্রতিবাদ

‘হোল্ডিং ট্যাক্স আদায় চাদাবাজী নয়, আইনি বিধান’ স্লোগানে খাদিমনগর ইউনিয়ন পরিষদে প্রতিবাদ

সিলেট সদর উপজেলার ৩ নং খাদিমনগর ইউনিয়ন পরিষদের হোল্ডিং ট্যাক্স আদায় ও উন্নয়ন কর্মকাণ্ড নিয়ে সম্প্রতি অনুষ্ঠিত একটি মানববন্ধনে পরিষদের বিরুদ্ধে আনা চাঁদাবাজির অভিযোগকে সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন, উদ্দেশ্যপ্রণোদিত ও কাল্পনিক বলে প্রত্যাখান করেছে ইউনিয়ন পরিষদ। সোমবার সংবাদমাধ্যমে পাঠানো এক প্রতিবাদ বিবৃতিতে খাদিমনগর ইউনিয়ন পরিষদের পক্ষে চেয়ারম্যান মো. দিলোয়ার হোসেন এই অপপ্রচারের তীব্র ক্ষোভ ও প্রতিবাদ জানান। বিবৃতিতে চেয়ারম্যান দিলোয়ার হোসেন স্পষ্ট করেন যে, হোল্ডিং ট্যাক্স কোনো ব্যক্তিগত চাঁদা নয়। এটি স্থানীয় সরকার (ইউনিয়ন পরিষদ) আইন এবং ‘ইউনিয়ন পরিষদ আদর্শ কর তফসিল, ২০১৩’ গেজেটের ৩ নং ধারা অনুযায়ী ধার্যকৃত একটি সম্পূর্ণ আইনি ও সরকারি বিধান। গেজেট অনুযায়ী, পরিষদের এলাকাভুক্ত যেকোনো ইমারত ও ভূমির বার্ষিক মূল্যের সর্বোচ্চ ৭ শতাংশ হারে কর আরোপের সুযোগ রয়েছে। তিনি আরও বলেন, ইউনিয়নের রাস্তাঘাট নির্মাণ, ড্রেনেজ ব্যবস্থা সংস্কার ও সার্বিক জনসেবামূলক কার্যক্রম পরিচালনার স্বার্থেই সরকারি বিধিমালা মেনে এই ট্যাক্স সংগ্রহ করা হয়। জেলা ও উপজেলা প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নির্দেশনা ও চাপ থাকা সত্ত্বেও একটি স্বার্থান্বেষী মহল আইনের অপব্যাখ্যা দিয়ে সাধারণ মানুষকে বিভ্রান্ত করার চেষ্টা চালাচ্ছে। ইউনিয়ন পরিষদ সূত্রে জানা যায়, দেশজুড়ে বহু আগে থেকে হোল্ডিং ট্যাক্স আদায় চালু থাকলেও খাদিমনগর ইউনিয়নে ২০২২-২৩ অর্থবছরে এসেসমেন্টের মাধ্যমে এই কার্যক্রম শুরু হয়। এই পুরো প্রক্রিয়াটি পরিষদের নিজস্ব ওয়েবসাইটের মাধ্যমে অত্যন্ত স্বচ্ছতার সাথে পরিচালিত হচ্ছে। খাদিমনগর ইউনিয়নের সর্বস্তরের জনগণকে কোনো প্রকার বিভ্রান্তিকর তথ্য বা গুজবে কান না দেওয়ার অনুরোধ জানানো হয়েছে। একই সাথে যেকোনো তথ্যের সত্যতা যাচাইয়ে সরাসরি ইউনিয়ন পরিষদ কার্যালয়ে যোগাযোগের আহ্বান জানিয়েছেন চেয়ারম্যান মো. দিলোয়ার হোসেন।

০৮ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬
জিন্দাবাজারের সড়কে প্রাণ গেলো দুই বছরের আব্দুল্লাহ’র

জিন্দাবাজারের সড়কে প্রাণ গেলো দুই বছরের আব্দুল্লাহ’র

সিলেট মহানগরের জিন্দাবাজার এলাকায় সড়ক দুর্ঘটনায় এক শিশু নিহত হয়েছে। মঙ্গলবার (৮ সেপ্টেম্বর) সকাল ৮টার দিকে এ দুর্ঘটনা ঘটে। নিহত শিশুর নাম আব্দুল্লাহ (২)। সে মহানগরের এয়ারপোর্ট থানাধীন খাসদবীর এলাকার রাকিবুল ইসলামের ছেলে। পুলিশ জানায়, মঙ্গলবার সকালে আব্দুল্লাহকে নিয়ে তার বাবা মোটরসাইকেলযোগে জিন্দাবাজার হয়ে বন্দরবাজার যাচ্ছিলেন। এসময় উল্টো দিক থেকে আসা বেপরোয় গতির সিএনজিচালিত একটি অটোরিকশার সঙ্গে মোটরসাইকেলের মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়। এতে আব্দুল্লাহ মোটরসাইকেল ছিটকে পড়ে গুরুতর আহত হয়। তাৎক্ষণিক তাকে উদ্ধার করে সিলেট এম এ জি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন। মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন সিলেট কোতোয়ালি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) খান মো. মাঈনুল জাকির।  

০৮ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬
উপশহরে কিশোরীকে শিকলে বেঁধে হাঁটানো, যা বললেন এসএমপি কমিশনার

উপশহরে কিশোরীকে শিকলে বেঁধে হাঁটানো, যা বললেন এসএমপি কমিশনার

মহানগরের শাহজালাল উপশহর এলাকায় চুরির অভিযোগে গতকাল সোমবার (৭ সেপ্টেম্বর) রাতে এক কিশোরীকে আটক করে শেকল দিয়ে বেঁধে রাস্তায় ঘুরানোর সঙ্গে জড়িত তাদের দ্রুত চিহ্নিত করে আইনের নিয়ে আসার কথা জানিয়েছেন সিলেট মেট্রোপলিটন পুলিশের (এসএমপি) সারোয়ার মুর্শেদ শামীম। তিনি মঙ্গলবার (৮ সেপ্টেম্বর) রাত সোয়া ১১টার দিকে দৈনিক সচিত্র সিলেটকে বলেন- আমি একটি জরুরি কাজে ঢাকায়। তবে বিষয়টি আমরা জেনেছি, এ ঘটনায় জড়িতদের দ্রুত চিহ্নিত করে আইনের নিয়ে আসা হবে। মঙ্গলবার ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে দেখা যায়- শাহজালাল উপশহর এলাকায় এক কিশোরীকে কোমড়ে শিকল বেঁধে টেনে নিয়ে চলছেন এক যুবক। এসময় ওই কিশোরীটি অঝোরে কেঁদে চলছেন। তাকে বেশ কিছুটা পথ শিকল বেঁধে টেনে নিয়ে যাওয়া হয়। ভিডিওতে টেনে নেওয়া ব্যক্তির চেহারা স্পষ্ট দেখা যায়নি। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, সোমবার (৭ সেপ্টেম্বর) রাত ১১টার দিকে উপশহর ডি-ব্লক মসজিদ মার্কেট এলাকার সড়কে শেকল বেঁধে ওই মেয়েকে টেনে নেওয়া হয়। এর আগে মসজিদ মার্কেট এলাকা থেকে তাকে আটক করেন স্থানীয় ব্যবসায়ীসহ কয়েকজন। মসজিদ মার্কেট এলাকার ব্যবসায়ীদের অভিযোগ- সোমবার সন্ধ্যা ৭টার দিকে উপশহর ডি-ব্লক মসজিদ মার্কেট এলাকার একটি দোকানে ক্যাশ বাক্স চুরির চেষ্টা করেন এক কিশোরী। এ সময় ব্যবসায়ী ও স্থানীয়রা মিলে ওই কিশোরীকে আটক করেন। এসময় প্রথমে তাকে মারধর করে শেকল বেঁধে সড়কে হাঁটানো হয় বলে জানা গেছে। এ বিষয়ে সিলেট শাহপারাণ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. ফৌরদোস আহমদ বলেন, গত রাত সাড়ে ১১টার দিকে স্থানীয়দেরর কাছ থেকে খবর পেয়ে পুলিশ ওই মেয়েকে ধরে নিয়ে আসে। তার বয়স ১৫/১৬ বছর হবে। স্থানীয়দের অভিযোগ ছিলো- মেয়েটি দোকানের ক্যাশবাক্স চুরি করেছে। তবে তারা কেউই আমাদের কাছে কোনো লিখিত অভিযোগ করননি। এমনকি মেয়েকে থানায় নিয়ে আসার পর তারা কোন সহযোগিতাও করেননি। পরে মেয়েটিকে সিলেট মেট্রোপলিটন পুলিশ আইন, ২০০৯ (SMP Act)-এর ৮৯ ধারায় আদালতে সোপর্দ করা হয়।  

০৮ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬
অবৈধ যানবাহনের বিরুদ্ধে কঠোর হচ্ছেন এসএমপি কমিশনার

অবৈধ যানবাহনের বিরুদ্ধে কঠোর হচ্ছেন এসএমপি কমিশনার

সিলেট নগরের যানজট কমাতে অনিবন্ধিত সিএনজিচালিত থ্রিহুইলার, ব্যাটারিচালিত রিকশা ও অবৈধ যানবাহনের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন সিলেট মহানগর পুলিশ (এসএমপি) কমিশনার সারোয়ার মুর্শেদ শামীম। মঙ্গলবার সকাল সাড়ে ৮ টায় সিলেট মেট্রোপলিটন পুলিশ লাইন্সের সম্মেলনকক্ষে ট্রাফিক বিভাগের কল্যাণ সভায় সভাপতিত্ব করার সময় পুলিশ সদস্যদের এ নির্দেশ দেন তিনি। সভায় পুলিশ কমিশনার ট্রাফিক বিভাগের সদস্যদের বিভিন্ন সমস্যা ও অসুবিধার কথা শোনেন। পরে কিছু সমস্যা তাৎক্ষণিকভাবে সমাধানের উদ্যোগ নেন এবং কয়েকটি বিষয়ে দ্রুত পদক্ষেপ নিতে সংশ্লিষ্ট দপ্তরকে নির্দেশনা দেন। সভায় পুলিশ কমিশনার বলেন, সিলেট মহানগরের জনদুর্ভোগ কমাতে এবং নগরবাসীর নির্বিঘ্ন যাতায়াত নিশ্চিত করতে ট্রাফিক বিভাগের সদস্যদের আন্তরিকতার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করতে হবে। নগরকে যানজটমুক্ত রাখতে অনিবন্ধিত সিএনজিচালিত থ্রিহুইলার, ব্যাটারিচালিত রিকশা ও অবৈধ যানবাহনের বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নিতে হবে। এছাড়া যানবাহন নিয়ন্ত্রণ ও নগরের যাতায়াতব্যবস্থা শৃঙ্খল রাখার পাশাপাশি বিভিন্ন উদ্ধার কার্যক্রমে সফলতার স্বীকৃতি হিসেবে ট্রাফিক বিভাগের ১৬ সদস্যকে বিশেষ পুরস্কার দেওয়া হয়। সভায় উপস্থিত ছিলেন অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার (ক্রাইম অ্যান্ড অপারেশন; অতিরিক্ত দায়িত্বে সদর ও প্রশাসন) এবং ডিআইজি পদে পদোন্নতিপ্রাপ্ত মোহাম্মদ এনামুল হক, উপ-পুলিশ কমিশনার (ট্রাফিক; অতিরিক্ত দায়িত্বে ডিসি-সদর) সুদীপ্ত রায়সহ অতিরিক্ত উপ-পুলিশ কমিশনার, সহকারী পুলিশ কমিশনার এবং ট্রাফিক বিভাগের টিআই, সার্জেন্ট ও টিএসআই, এএসআই ও এটিএসআইসহ অন্যান্য সদস্য।

০৮ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬
সিলেটের শতবর্ষী ও ঐতিহাসিক ভবনগুলো সংরক্ষণে উদ্যোগ নেবে সিউক

সিলেটের শতবর্ষী ও ঐতিহাসিক ভবনগুলো সংরক্ষণে উদ্যোগ নেবে সিউক

সিলেটকে একটি আধুনিক, সুপরিকল্পিত ও টেকসই নগরী হিসেবে গড়ে তোলার পাশাপাশি শহরের শতবর্ষী ও ঐতিহাসিক ভবন সংরক্ষণে সিলেট উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (সিউক) বিশেষ উদ্যোগ নেবে। মঙ্গলবার (৮ সেপ্টেম্বর) বেলা সাড়ে ১১টায় সিউক-এর সভাকক্ষে আয়োজিত চার দিনব্যাপী অংশীজন সভার দ্বিতীয় দিনে ইনস্টিটিউট অব আর্কিটেক্টস বাংলাদেশ (আইএবি)-এর প্রতিনিধিদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে এ কথা জানান সিউক চেয়ারম্যান (অতিরিক্ত সচিব পদমর্যাদা) রেজাউল হাসান কয়েস লোদী। সভাপতির বক্তব্যে কয়েস লোদী বলেন, "সিলেট আমাদের প্রাণের শহর। এ নগরীকে দৃষ্টিনন্দন ও ভবিষ্যৎ প্রজন্মের উপযোগী করে গড়ে তোলার জন্য পরিকল্পিত নগর অবকাঠামোর মূল ভিত্তিই হলো নিখুঁত ইঞ্জিনিয়ারিং ও পরিবেশবান্ধব স্থাপত্য নকশা। সিলেটের ঐতিহ্য রক্ষায় শতবর্ষী ও ঐতিহাসিক স্থাপত্যসমূহ সংরক্ষণ এবং পরিবেশবান্ধব নগর পরিকল্পনা বাস্তবায়নে সিউক কাজ করছে। আইএবি-র স্থপতিদের সুচিন্তিত প্রস্তাবনাসমূহকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে সিউকের মূল মাস্টারপ্ল্যানে অন্তর্ভুক্ত করা হবে।" সিউক-এর নির্বাহী পরিচালক মো. সাদি উর রহিম জাদিদের সঞ্চালনায় সভায় আইএবি প্রতিনিধিরা সিলেটের ঐতিহাসিক ভবন রক্ষা, পরিবেশ সংরক্ষণ ও নান্দনিক নগর বিনির্মাণে বিভিন্ন গঠনমূলক সুপারিশ তুলে ধরেন। সিউক কর্তৃপক্ষ পর্যায়ক্রমে এসব সুপারিশ বাস্তবায়নের আশ্বাস দেয়। সভায় অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন অধ্যাপক মোহাম্মদ শামসুল আরেফিন, সহযোগী অধ্যাপক সুব্রত দাস, সহযোগী অধ্যাপক তানভীর হাসান, সহকারী অধ্যাপক গৌরপদ দে, প্রভাষক ফারহা মুন, লিডিং ইউনিভার্সিটির স্থাপত্য বিভাগের বিভাগীয় প্রধান সহযোগী অধ্যাপক সৈয়দ মহসিন আলী, সহকারী অধ্যাপক তানজিমা সিদ্দিকা চাঁদনী, আইএবি ঢাকা-এর কোষাধ্যক্ষ চৌধুরী সাইদুজ্জামান, আইএবি সিলেটের সম্পাদক স্থপতি রাজন দাস, সিউকের সহকারী প্রকৌশলী মোহাম্মদ আবু নাছের এবং আইএবি-র বিভিন্ন পর্যায়ের স্থপতি ও প্রতিনিধিগণ।

০৮ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬
জকিগঞ্জে দুর্নীতি প্রতিরোধ বিষয়ক বিতর্ক প্রতিযোগিতা

জকিগঞ্জে দুর্নীতি প্রতিরোধ বিষয়ক বিতর্ক প্রতিযোগিতা

‎সিলেটের জকিগঞ্জ উপজেলার জোবেদ আলী মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে ‘দুর্নীতি প্রতিরোধ বিষয়ক বিতর্ক প্রতিযোগিতা ২০২৬’-এর পুরস্কার বিতরণী, আলোচনা সভা ও সততা স্টোরের শুভ উদ্বোধন অনুষ্ঠিত হয়েছে। মঙ্গলবার (৮ সেপ্টেম্বর) সকাল ১২টায় জকিগঞ্জের বাবুর বাজারস্থ বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে জকিগঞ্জ উপজেলা দুর্নীতি প্রতিরোধ কমিটির উদ্যোগে এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। ‎ ‎​অনুষ্ঠানে “শুধু প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষাই দুর্নীতিমুক্ত মনোভাব গঠনের জন্য যথেষ্ট নয়” শীর্ষক বিষয় নিয়ে এক মনোগ্রাহী বিতর্ক প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হয়। এতে গণীপুর কামালগঞ্জ স্কুল অ্যান্ড কলেজকে পরাজিত করে বিজয়ী হওয়ার গৌরব অর্জন করে আয়োজক প্রতিষ্ঠান জোবেদ আলী উচ্চ বিদ্যালয়। প্রতিযোগিতা শেষে বিজয়ী ও বিজিত দলের প্রত্যেক প্রতিযোগীকেই উৎসাহিত করতে উপহার হিসেবে দেওয়া হয় স্কুল ব্যাগ, খাতা, কলম, টি শার্ট ও আকর্ষণীয় ক্রেস্ট। ‎ ‎​অনুষ্ঠানে বক্তারা দুর্নীতিমুক্ত সমাজ গঠনে নৈতিক শিক্ষা ও পারিবারিক সচেতনতার ওপর বিশেষ গুরুত্ব আরোপ করেন। তারা বলেন, দুর্নীতি প্রতিরোধে কেবল প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষাই যথেষ্ট নয়, এর পাশাপাশি পারিবারিক সচেতনতা ও ধর্মীয় মূল্যবোধের অনুশাসন মেনে চলার অভ্যাস গড়ে তুলতে হবে। এ মূল্যবোধগুলো চর্চা করলে সমাজ থেকে দুর্নীতি অনেকাংশেই বিলুপ্ত করা সম্ভব। ‎ ‎​"সুবাস" সিলেটের প্রতিষ্ঠাতা ও নির্বাহী পরিচালক, সুবাস যুব সংস্থা জকিগঞ্জের প্রধান উপদেষ্টা এবং দৈনিক সচিত্র সিলেটের ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক সৈয়দ আছলাম হোসেনের সভাপতিত্বে ও বিশিষ্ট সাংবাদিক জকিগঞ্জ প্রেসক্লাবের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক  মোর্শেদ আলম লস্করের সঞ্চালনায় ​অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক), সমন্বিত জেলা কার্যালয়, সিলেটের উপপরিচালক সুবেল আহমেদ। বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন জকিগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মোহাম্মদ আবদুর রাজ্জাক এবং জোবেদ আলী উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক জয়েদ আহমদ। ‎ ‎এছাড়াও ​অন্যান্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন বিশিষ্ট সামাজিক ব্যক্তিত্ব ও সাংবাদিক কোহেল রানা চৌধুরী, দৈনিক শুভ প্রতিদিনের জকিগঞ্জ প্রতিনিধি সাংবাদিক আব্দুস শহীদ সাকির এবং জকিগঞ্জ বাজারের বিশিষ্ট ব্যবসায়ী মইনুদ্দিন,কবির আল মাহমুদ, মিনারা বেগমসহ বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষক ও শিক্ষার্থীবৃন্দ।

০৮ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬
গবেষণা : শাবির ৪ শিক্ষক পেলেন ডিনস অ্যাওয়ার্ড

গবেষণা : শাবির ৪ শিক্ষক পেলেন ডিনস অ্যাওয়ার্ড

গবেষণায় বিশেষ অবদান রাখায় সিলেটের শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (শাবিপ্রবি) চার শিক্ষককে ‘ডিনস অ্যাওয়ার্ড ফর রিসার্চ এক্সিলেন্স’ প্রদান করা হয়েছে। এছাড়া ধারাবাহিক গবেষণা উৎকর্ষতার ভিত্তিতে ‘ডিনস অ্যাওয়ার্ড ফর রিসার্চার অব দ্য ইয়ার-২০২৬’ প্রদান করা হয়েছে। মঙ্গলবার (৮ সেপ্টেম্বর) বেলা ১১টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের আইআইসিটি ভবনের সভাকক্ষে এই অ্যাওয়ার্ড প্রদান করা হয়। অনুষ্ঠানে স্কুল অব অ্যাপ্লাইড সায়েন্সেস অ্যান্ড টেকনোলজির অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ মস্তাবুর রহমানের সভাপতিত্বে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন হবিগঞ্জ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. মোজাম্মেল হক এবং শাবিপ্রবির উপ উপাচার্য অধ্যাপক ড. রবিউল ইসলাম। অ্যাওয়ার্ড প্রাপ্তদের মধ্যে রয়েছেন সিইই বিভাগের আয়েশা ফেরদৌস মিতা। তার গবেষণার বিষয় ‘অপ্টিমাইজিং প্রোপার্টিজ অব কংক্রিট কনটেইনিং স্টোন ডাস্ট অ্যান্ড সিরামিক টাইলস অ্যা রেসপন্স সারফেস মেথডোলজি অ্যাপ্রোচ’। তিনি সিভিল অ্যান্ড এনভায়রনমেন্টাল ইঞ্জিনিয়ারিং এবং আর্কিটেকচার ক্যাটাগরিতে অ্যাওয়ার্ড পেয়েছেন। কেমিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং অ্যান্ড পলিমার সায়েন্স, পেট্রোলিয়াম অ্যান্ড মাইনিং ইঞ্জিনিয়ারিং ও ফুড ইঞ্জিনিয়ারিং অ্যান্ড টি টেকনোলজি ক্যাটাগরিতে এফইটি বিভাগের জাহিদ হাসান শৌরভ ও ড. মো. জহুরুল ইসলাম অ্যাওয়ার্ড পেয়েছেন। জাহিদ হাসান শৌরভের গবেষণার বিষয় ‘এক্সট্রাকশন অব পেকটিন ফ্রম ওয়াটারমেলন রাইন্ডস ইউজিং সিকুয়েনশিয়াল আল্ট্রাসাউন্ড-মাইক্রোওয়েভ টেকনিক, অপ্টিমাইজেশন ইউজিং আরএসএম অ্যান্ড এএনএন মডেলিং অ্যান্ড ক্যারেক্টারাইজেশন’। একই ক্যাটাগরিতে ড. মো. জহুরুল ইসলাম পুরস্কার পেয়েছেন ‘ডেভেলপমেন্ট অ্যান্ড ক্যারেক্টারাইজেশন অব অ্যান ইনোভেটিভ ইউভি-রেজিস্ট্যান্ট বায়োকম্পোজিট ফিল্ম বেজড অন হিপটিস সুয়াভিওলেনস মিউসিলেজ, ব্ল্যাক গ্রাম হাস্ক লিগনিন, অ্যান্ড সিট্রাস ম্যাক্রোপটেরা এসেনশিয়াল অয়েল’ শীর্ষক গবেষণার জন্য। আর মেকানিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং এবং ইন্ডাস্ট্রিয়াল অ্যান্ড প্রোডাকশন ইঞ্জিনিয়ারিং ক্যাটাগরিতে পুরস্কার পেয়েছেন ইন্ডাস্ট্রিয়াল অ্যান্ড প্রোডাকশন ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের ড. মিসেস নাসিমা বেগম। এছাড়া, গবেষণা উৎকর্ষতার ভিত্তিতে ‘ডিনস অ্যাওয়ার্ড ফর রিসার্চার অব দ্য ইয়ার-২০২৬’ প্রদান করা হয় কম্পিউটার সাইন্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের অধ্যাপক ড শাহিদুর রহমানকে। পুরস্কারের মূল্যায়নে জার্নাল আর্টিকেল, কিউ ইনডেক্স, কনফারেন্স পেপার, গুগল স্কলারের সাইটেশন, পিএইচডি, এমএসসি ও বিএসসি পর্যায়ের সুপারভিশন, জাতীয় ও আন্তর্জাতিক রিসার্চ গ্রান্ট এবং জাতীয় স্বার্থে গবেষণায় অবদানের মতো বিষয়গুলো বিবেচনা করা হয়। অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তব্যে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ উপাচার্য রবিউল ইসলাম বলেন, শুধু গবেষণাপত্র প্রকাশ করলেই গবেষণার কাজ শেষ হয় না; গবেষণার ফলাফল কীভাবে বাস্তবে কাজে লাগানো যায়, এখন সেদিকেও আমাদের গুরুত্ব দিতে হবে। সময়ের সঙ্গে তাল মিলিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষণায় আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স ও মেশিন লার্নিংয়ের ব্যবহার বাড়াতে হবে। গবেষণার ফলাফল পেটেন্ট করার ওপর গুরুত্ব দিয়ে তিনি বলেন, আমাদের গবেষণা যেন শুধু প্রকাশনার মধ্যেই আটকে না থাকে। একটি ভালো গবেষণা থেকে যদি পেটেন্ট বা বাস্তব কোনো উদ্ভাবন তৈরি করা যায়, সেটিই হবে গবেষণার সবচেয়ে বড় সার্থকতা। এ ক্ষেত্রে বিশ্ববিদ্যালয়ে পেটেন্টিং ও প্রযুক্তি হস্তান্তরের কার্যক্রম আরও শক্তিশালী করা প্রয়োজন। তরুণ গবেষকদের প্রসঙ্গে তিনি বলেন, যারা পিএইচডি বা পোস্টডক্টরাল গবেষণা শেষ করে বিশ্ববিদ্যালয়ে ফিরছেন, তারা নতুন নতুন প্রযুক্তি ও গবেষণার ধারণা নিয়ে আসছেন। এসব জ্ঞান অন্য শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের সঙ্গে ভাগ করে নেওয়ার জন্য নিয়মিত সেমিনারের আয়োজন করা যেতে পারে। এতে নতুন গবেষণার সুযোগ তৈরি হবে এবং শিক্ষার্থীরাও গবেষণায় আরও আগ্রহী হবে।

০৮ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬
সিলেটে সন্ন্যাসীর ছদ্মবেশি ‘মাছচোরা রাজীব’ গ্রেফতার

সিলেটে সন্ন্যাসীর ছদ্মবেশি ‘মাছচোরা রাজীব’ গ্রেফতার

সিলেট মহানগরীতে ‘সন্ন্যাসী’ সেজে আত্মগোপনে থাকলেও শেষ পর্যন্ত গ্রেফতার এড়াতে পারেননি শীর্ষ ছিনতাইকারী রাজীব ওরফে ‘মাছচোরা রাজীব’। তার কাছ থেকে একটি সুইচ গিয়ার চাকু উদ্ধার করেছে পুলিশ। সোমবার (৭ সেপ্টেম্বর) বিকেল ৫টার দিকে কোতোয়ালী মডেল থানাধীন কাষ্টঘর এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেফতার করা হয়। বন্দর বাজার পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ উপপরিদর্শক শহিদুল ইসলাম ও গোয়েন্দা পুলিশের সিআরটি বিশেষ দলের ইনচার্জ উপপরিদর্শক মিজানুর রহমানের নেতৃত্বে যৌথ এই অভিযান পরিচালিত হয়। পুলিশ জানায়, গ্রেফতার রাজীব কোতোয়ালী মডেল থানার একটি পুলিশ এসল্ট মামলার প্রধান আসামি। এছাড়া তার বিরুদ্ধে অস্ত্র আইন, দস্যুতা ও বিশেষ ক্ষমতা আইনসহ পাঁচটির বেশি গুরুতর মামলা রয়েছে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর চোখ ফাঁকি দিতে দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন ছদ্মবেশে আত্মগোপনে ছিলেন রাজীব। গ্রেফতারের আগ মুহূর্তেও তিনি ‘সন্ন্যাসী’ সেজে অবস্থান করছিলেন। তবে পুলিশের নজরদারি এড়াতে পারেননি তিনি। সিলেট মহানগর পুলিশ জানিয়েছে, নগরীকে অপরাধমুক্ত রাখতে এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে।

০৮ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬
সিলেটে ট্যুরিস্ট পুলিশ কর্মকর্তা পরিচয়ে ভুয়া ফেসবুক অ্যাকাউন্ট, সতর্কবার্তা

সিলেটে ট্যুরিস্ট পুলিশ কর্মকর্তা পরিচয়ে ভুয়া ফেসবুক অ্যাকাউন্ট, সতর্কবার্তা

সুনামগঞ্জের মধ্যনগর উপজেলার বাসিন্দা ও সিলেটে কর্মরত এক ট্যুরিস্ট পুলিশ কর্মকর্তার পরিচয় ব্যবহার করে ভুয়া ফেসবুক অ্যাকাউন্ট খোলার অভিযোগ উঠেছে। ওই অ্যাকাউন্ট থেকে ধর্মীয় বিষয়ে আপত্তিকর পোস্ট দেওয়ার ঘটনায় পুলিশ কর্মকর্তা বিশ্বজিৎ রায় গোয়াইনঘাট থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেছেন। বিশ্বজিৎ রায় মধ্যনগর পূর্বপাড়ার বেণু মাধব রায় ও অঞ্জনা রানী রায়ের ছেলে। তিনি বর্তমানে গোয়াইনঘাটের জাফলং ট্যুরিস্ট পুলিশ জোনে দায়িত্ব পালন করছেন। পুলিশ কর্মকর্তা জানান, সোমবার (৭ সেপ্টেম্বর) বেলা পৌনে ১২টার দিকে পরিচিত এক সাংবাদিকের কাছ থেকে তিনি ভুয়া ফেসবুক অ্যাকাউন্টটির বিষয়ে জানতে পারেন। পরে লিংকে প্রবেশ করে দেখতে পান, তার নাম এবং ভেরিফায়েড ফেসবুক অ্যাকাউন্টের ছবি ব্যবহার করে একটি নকল আইডি তৈরি করা হয়েছে। তার অভিযোগ, ওই অ্যাকাউন্ট থেকে পবিত্র কোরআন, ইসলাম ধর্ম, মহানবী হজরত মুহাম্মদ (সা.) ও হজরত ফাতেমা (রা.) সম্পর্কে আপত্তিকর ও বিভ্রান্তিকর বক্তব্য প্রকাশ করা হয়েছে। তবে এসব পোস্টের সঙ্গে তার কোনো সম্পৃক্ততা নেই। বিশ্বজিৎ রায় বলেন, তার আসল ফেসবুক অ্যাকাউন্ট থেকে কখনো এ ধরনের কোনো পোস্ট দেওয়া হয়নি। নকল আইডিটিতে বিভিন্ন ধরনের বানান ভুলও রয়েছে। তাকে সামাজিকভাবে হেয় করা এবং তার পরিবার ও পুলিশ বাহিনীর ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ণ করার উদ্দেশ্যে পরিকল্পিতভাবে অ্যাকাউন্টটি তৈরি করা হয়েছে বলে তিনি মনে করেন। ঘটনার বিষয়টি জাফলং ট্যুরিস্ট পুলিশ জোনের ইনচার্জ তপন তালুকদারকে জানানোর পর তিনি গোয়াইনঘাট থানায় জিডি করেন। গোয়াইনঘাট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. ওমর ফারুক বলেন, বিষয়টি তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। ভুয়া অ্যাকাউন্টটির পেছনে কারা রয়েছে, তা শনাক্ত করে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

০৮ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬
সিলেটে ২৪ ঘণ্টায় পুলিশের জালে ৬৩ জন

সিলেটে ২৪ ঘণ্টায় পুলিশের জালে ৬৩ জন

সিলেট মহানগরীতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষা, অপরাধ নিয়ন্ত্রণ ও জননিরাপত্তা নিশ্চিত করতে গত ২৪ ঘণ্টায় জোরদার অভিযান চালিয়েছে সিলেট মেট্রোপলিটন পুলিশ (এসএমপি)। অভিযানে বিভিন্ন অপরাধের অভিযোগে মোট ৬৩ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। একই সময়ে ট্রাফিক আইনের আওতায় ১৬৮টি যানবাহনের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে ট্রাফিক বিভাগ। এসএমপি সূত্রে জানা যায়, রবিবার দিবাগত (৭ সেপ্টেম্বর) মধ্যরাত রাত সোমবার মধ্যরাত পর্যন্ত মহানগরীর বিভিন্ন থানা এলাকায় এই সমন্বিত অভিযান পরিচালিত হয়। গ্রেপ্তারকৃত ৬৩ জনের মধ্যে নিয়মিত মামলার আসামি, পরোয়ানাভুক্ত (ওয়ারেন্ট) আসামি, মাদক ব্যবসায়ী, ম্যাজিস্ট্রেট কর্তৃক সাজাপ্রাপ্ত এবং মেট্রোপলিটন অধ্যাদেশ অনুযায়ী গ্রেপ্তার হওয়া বিভিন্ন অপরাধী রয়েছে। এছাড়া অভিযানকালে আসামিদের কাছ থেকে ৭৩ পিস ইয়াবা ট্যাবলেট উদ্ধার করা হয়েছে। এদিকে মহানগরীর ট্রাফিক ব্যবস্থার শৃঙ্খলা রক্ষায় ট্রাফিক পুলিশের পরিচালিত অভিযানে মোট ১৬৮টি যানবাহনের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে ৮৫টি যানবাহনের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা হয় এবং প্রয়োজনীয় কাগজ ও নিয়ম ভঙ্গের কারণে ৮৩টি যানবাহন আটক করে পুলিশ হেফাজতে নেওয়া হয়েছে। এসএমপি জানায়, গ্রেপ্তারকৃত আসামিদের বিরুদ্ধে আইনানুগ প্রক্রিয়া শেষ করে আদালতে সোপর্দ করা হচ্ছে। নগরবাসীর নিরাপত্তা ও একটি ‘নিরাপদ সিলেট’ গঠনে মেট্রোপলিটন পুলিশের এ ধরনের অভিযান নিয়মিত অব্যাহত থাকবে।

০৮ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬
হবিগঞ্জে বনফুলসহ ৫ প্রতিষ্ঠানকে জরিমানা

হবিগঞ্জে বনফুলসহ ৫ প্রতিষ্ঠানকে জরিমানা

নকল পণ্য, খাদ্যে বিষ, মোড়ক ও যথাযত কর্তৃপক্ষের অনুমোদন না থাকার প্রমাণ পাওয়ায় ৫ প্রতিষ্ঠানকে জরিমানা করেছে হবিগঞ্জ ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর। মঙ্গলবার (৮ সেপ্টেম্বর) সকালে বিষয়টি জানিয়েছে র‌্যাবের গণমাধ্যম শাখা। তারা জানায়, সোমবার (৭ সেপ্টেম্বর) দুপুর দেড়টা থেকে বিকাল ৪টা পর্যন্ত হবিগঞ্জের বাহুবল থানার মিরপুর বাজারে অভিযান চালিয়ে এই জরিমানা আদায় করা হয়। এসময় আলী এন্টারপ্রাইজের মালিককে ১০, যমুনা রেস্টুরেন্টের মালিককে ১০, চামেলি ভেরাইটিজ স্টোরকে ৬, মায়ের দোয়া ফলভান্ডারকে ২, বনফুল অ্যান্ড কোম্পানীকে ১০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়। অভিযানে র‌্যাব-৯  এর একটি দল সার্বিক সহযোগীতা করে। জনস্বার্থে এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে বলে জানিয়েছেন র‌্যাবের গণমাধ্যম কর্মকর্তা ও অতিরিক্ত পুলিশ সুপার কে এম শহিদুল ইসলাম সোহাগ।

০৮ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬
গোলাপগঞ্জ প্রেসক্লাবে ভোটের হাওয়া, কাল তফসিল

গোলাপগঞ্জ প্রেসক্লাবে ভোটের হাওয়া, কাল তফসিল

দীর্ঘদিন পর নির্বাচনের পথে এগোচ্ছে সিলেটের গোলাপগঞ্জ প্রেসক্লাব। আগামী বুধবার আনুষ্ঠানিকভাবে নির্বাচনী তফসিল ঘোষণা করবে নির্বাচন কমিশন। আর সম্ভাব্য ৩ অক্টোবর ভোটগ্রহণের তারিখ নির্ধারণ করা হয়েছে। তফসিল ঘোষণার মধ্য দিয়ে শুরু হবে প্রেসক্লাবের নির্বাচনী কার্যক্রম। সোমবার (৭ সেপ্টেম্বর) প্রেসক্লাবে বাদ পড়া সদস্যদের রিভিউ শুনানি অনুষ্ঠিত হয়। শুনানি শেষে নির্বাচন কমিশনের পক্ষ থেকে তফসিল ঘোষণার বিষয়টি জানানো হয়। প্রধান নির্বাচন কমিশনার অ্যাডভোকেট দেলওয়ার হোসেন দিলু জানান, আগামী বুধবার নির্বাচনী তফসিল ঘোষণা করা হবে। নির্বাচন অনুষ্ঠানের সম্ভাব্য তারিখ ৩ অক্টোবর নির্ধারণ করা হয়েছে। তবে চূড়ান্ত তারিখ ও নির্বাচনের অন্যান্য বিষয় তফসিল ঘোষণার সময় বিস্তারিত জানানো হবে। ১৯৯৪ সালে প্রতিষ্ঠিত গোলাপগঞ্জ প্রেসক্লাব সিলেটের গোলাপগঞ্জে কর্মরত সাংবাদিকদের ঐতিহ্যবাহী সংগঠন। প্রতিষ্ঠার পর থেকে সাংবাদিকদের পেশাগত ঐক্য ও স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন বিষয়ে সংগঠনটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে আসছে। দীর্ঘদিন পর নির্বাচনকে ঘিরে গোলাপগঞ্জে কর্মরত মূলধারার সাংবাদিকদের মধ্যে ইতোমধ্যে উৎসাহ-উদ্দীপনা তৈরি হয়েছে। সম্ভাব্য প্রার্থীদের নিয়েও চলছে আলোচনা। নির্বাচনকে সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ ও উৎসবমুখর পরিবেশে সম্পন্ন করার প্রত্যাশা সংশ্লিষ্টদের। এ সময় নির্বাচন কমিশনের সদস্য আনোয়ার শাহজাহান, আব্দুল আহাদ ও শহীদুর রহমান সুহেদ উপস্থিত ছিলেন।

০৮ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬
কানাইঘাটে অন্যায়ের প্রতিবাদ করায় হত্যা, গ্রেফতার ১

কানাইঘাটে অন্যায়ের প্রতিবাদ করায় হত্যা, গ্রেফতার ১

সিলেটের কানাইঘাটে আজিজুর রহমান নামে এক ব্যক্তিকে কুপিয়ে হত্যার ঘটনায় এজাহারনামীয় ৮ নম্বর পলাতক আসামি নাহিয়ানকে (৩০) গ্রেফতার করেছে র‌্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র‌্যাব-৯)।  মঙ্গলবার (৮ সেপ্টেম্বর) দুপুরে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে সিলেট জেলার জৈন্তাপুর থানাধীন চিকনাগুল বাজার এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেফতার করা হয়। নাহিয়ান কানাইঘাট উপজেলার আগস্টৌড় (নারায়ণপুর) গ্রামের বিটি মড়ার ছেলে। র‌্যাব-৯ এর মিডিয়া অফিসার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার কে. এম. শহিদুল ইসলাম সোহাগ জানান- আজিজুর রহমান ও আসামিরা একই এলাকার প্রতিবেশী। অভিযুক্তরা এলাকায় বিভিন্ন অপকর্মের সাথে জড়িত থাকায় আজিজুর রহমান তাতে বাধা-নিষেধ প্রদান করেন। এতে ক্ষিপ্ত হয়ে তারা আজিজুরকে হত্যার হুমকি দিয়ে আসছিলো তারা। গত ১৭ জুলাই জুম্মার নামাজ আদায় শেষে মসজিদ থেকে বের হওয়ার পর আসামিরা দেশীয় অস্ত্রশস্ত্রে সজ্জিত হয়ে আজিজুর রহমানের উপর হামলা চালান। এ সময় চাইনিজ কুড়াল দিয়ে তার পেটে সজোরে আঘাত করা হলে তিনি গুরুতর জখম হন। আশঙ্কাজনক অবস্থায় তাকে প্রথমে স্থানীয় ক্লিনিক এবং পরে সিলেট এম. এ. জি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখানে নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে (আইসিইউ) চিকিৎসাধীন অবস্থায় ৩১ জুলাই আজিজুরের মৃত্যু হয়। এ ঘটনায় পরে আজিজুর রহমানের মা বাদী হয়ে কানাইঘাট থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। ঘটনার পর থেকে ছায়া তদন্ত শুরু করে র‌্যাব-৯। পরে ২ আগস্ট এই মামলার ৪ নম্বর আসামি এবং মঙ্গলবার (৮ সেপ্টেম্বর) আসামি নাহিয়ানকে গ্রেফতার করতে সক্ষম হয় র‌্যাব। গ্রেফতারের পর তাকে কানাইঘাট থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে।  

০৮ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬
ফের ডেঙ্গুতে মৃত্যু দেখলো সিলেট

ফের ডেঙ্গুতে মৃত্যু দেখলো সিলেট

সিলেটে ডেঙ্গু আক্রান্ত একজনের মৃত্যু হয়েছে। গতকাল সোমবার সিলেটের জালালাবাদ রাগীব-রাবেয়া মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় কৃষ্ণ দাস (৪৫) নামের এক ব্যক্তি মৃত্যু হয়। তিনি হবিগঞ্জ জেলার বানিয়াচং উপজেলার বাসিন্দা ছিলেন। আজ মঙ্গলবার (৮ সেপ্টেম্বর) বিকালে এ তথ্য জানিয়েছে সিলেট বিভাগীয় স্বাস্থ্য পরিচালকের কার্যালয় সূত্র।  জানা গেছে, গত ২৪ ঘণ্টায় (গতকাল সকাল থেকে আজ সকাল ৮টা পর্যন্ত) সিলেট বিভাগে নতুন করে ৮ জনের শরীরে ডেঙ্গু ভাইরাস শনাক্ত হয়েছে। এই ৮ জন ডেঙ্গু রোগীর মধ্যে সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ২ জন, জালালাবাদ রাগীব রাবেয়া মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ১ জন, মৌলভীবাজার সদর হাসপাতালে ৩ জন এবং লাখাই উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ২ জন শনাক্ত হয়েছেন। বর্তমানে বিভাগের বিভিন্ন সরকারি ও বেসরকারি হাসপাতালে মোট ২৪ জন ডেঙ্গু রোগী ভর্তি থেকে চিকিৎসা নিচ্ছেন। এর মধ্যে সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ৬ জন, হবিগঞ্জ সদর হাসপাতালে ৪ জন, মৌলভীবাজার সদর হাসপাতালে ৩ জন, সুনামগঞ্জ সদর হাসপাতালে ৩ জন, রাগীব রাবেয়া মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ৩ জন, লাখাই উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ৩ জন, মাধবপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ১ জন এবং নর্থ ইস্ট মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ১ জন চিকিৎসাধীন। বিভাগীয় স্বাস্থ্য পরিচালকের কার্যালয় সূত্র জানিয়েছে, চলতি বছরের শুরু থেকে এখন পর্যন্ত সিলেট বিভাগে মোট শনাক্ত হওয়া ডেঙ্গু রোগীর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ২৩৮ জনে।  এছাড়া এখন পর্যন্ত বিভাগে ২ জনের মৃত্যু হয়েছে। গত ২ আগস্ট সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান আফিয়া খানম (৫৪) নামের ডেঙ্গু আক্রান্ত এক নারী। এটি ছিলো এ বছরের  সিলেট বিভাগে ডেঙ্গুতে প্রথম মৃত্যুর ঘটনা।

০৮ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬
ওসমানী হাসপাতালে দুদকের এনফোর্সমেন্ট টিম

ওসমানী হাসপাতালে দুদকের এনফোর্সমেন্ট টিম

সিলেট এম. এ. জি. ওসমানী মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালে চিকিৎসকদের নির্ধারিত কর্মঘণ্টা পালনে অনিয়ম, রোগীদের চিকিৎসাসেবা প্রদানে হয়রানি, অবহেলা এবং দায়িত্ব পালনে নানাবিধ অনিয়মের মারাত্মক অভিযোগ উঠেছে। এসব অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে বিষয়টির সরেজমিন সত্যতা যাচাই ও ব্যবস্থা নিতে এনফোর্সমেন্ট অভিযান পরিচালনায় একটি বিশেষ টিম প্রেরণ করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। আজ মঙ্গলবার (৮ সেপ্টেম্বর)  দুর্নীতি দমন কমিশনের ঢাকাস্থ প্রধান কার্যালয়ের এনফোর্সমেন্ট ইউনিট থেকে এ সংক্রান্ত এক নির্দেশ জারির পর হাসপাতালটিতে টিম পাঠানো হয়। অভিযোগ রয়েছে- দেশের অন্যতম শীর্ষ এই সরকারি হাসপাতালে চিকিৎসকদের একটি অংশ সঠিক সময়ে ডিউটিতে উপস্থিত থাকেন না এবং নির্ধারিত কর্মঘণ্টা পুরোপুরি পালন করেন না। এছাড়া দূর-দূরান্ত থেকে আসা রোগীদের চিকিৎসাসেবা পেতে চরম ভোগান্তি ও অবহেলার শিকার হতে হয়। এ অবস্থায় হাসপাতালটিতে শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনতে এবং রোগীদের হয়রানি বন্ধে দুদকের সিলেট বিভাগীয়/সমন্বিত জেলা কার্যালয়ের সমন্বয়ে এনফোর্সমেন্ট টিমটিকে দ্রুত সরেজমিন তদারকি ও তদন্তের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। দুর্নীতি দমন কমিশন সমন্বিত জেলা কার্যালয়ের উপ-পরিচালক সুবেল আহমেদ মঙ্গলবার বিকালে দৈনিক সচিত্র সিলেটকে জানান- দুই সদস্যবিশিষ্ট একটি টিম আজ ওসমানি হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। এই এনফোর্সমেন্ট টিম তথ্য-উপাত্ত সংগ্রহ করেছে এবং আরও কিছু তথ্য চেয়েছে। তথ্য-উপাত্ত বিশ্লেষণ করে কমিশনের পরবর্তী সিদ্ধান্তের জন্য প্রতিবেদন দাখিল করা হবে। চিকিৎসাক্ষেত্রে পুরো সিলেট বিভাগসহ আশপাশ অঞ্চলের মানুষের ভরসা এম এ জি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল। তবে সদ্যবিদায়ী পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল উমর রাশেদ মুনিরের একটি নোটিশে ফুটে উঠেছে এ হাসপাতালে কর্মরত চিকিৎসকদের দায়িত্বের দৈন্যদশার চিত্র। হাসপাতালটির বেশিরভাগ চিকিৎসক নির্ধারিত সময়ে কর্মস্থলে আসেন না। আবার দেরি করে এসেও নির্ধারিত সময়ের আগেই হাসপাতাল ছেড়ে চলে যান অনেকে। এতে চরমভাবে সেবাবঞ্চিত হচ্ছেন রোগীরা। রোগীদের পক্ষ থেকে বিভিন্ন সময় এমন অভিযোগ জানানো গেলেও তা ছিলো ধোয়াশায়। তবে এবার হাসপাতাল পরিচালকের একটি নোটিশে একেবারে সামনে চলে এসেছে বিষয়টি। মঙ্গলবার (১ আগস্ট) ওসমানী হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল উমর রাশেদ মুনির স্বাক্ষরিত এক নোটিশে চিকিৎসকদের নির্ধারিত সময়ে হাসপাতালে উপস্থিতি ও প্রস্থান নিশ্চিতের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। চিকিৎসকদের দায়িত্বশীলতার সঙ্গে নির্ধারিত কর্মঘণ্টা অনুসরণ করে রোগীদের চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করার উপর গুরুত্ব দেওয়া হয় ওই নোটিশে। নোটিশে বলা হয়, চিকিৎসকদের জন্য হাসপাতালে প্রবেশের নির্ধারিত সময় সকাল ৮টা এবং প্রস্থানের বেলা আড়াইটা। তবে সাম্প্রতিক বায়োমেট্রিক উপস্থিতির তথ্য পর্যালোচনায় উপস্থিতি ও প্রস্থানের ক্ষেত্রে অসঙ্গতি পাওয়া গেছে। বায়োমেট্রিক তথ্য অনুযায়ী- সকাল ৯টার পর কর্মস্থলে উপস্থিত হওয়ার হার বহির্বিভাগে ৪৮ শতাংশ এবং অন্তর্বিভাগে ৬৫ শতাংশ। অর্থাৎ নির্ধারিত সময় সকাল ৮টার এক ঘণ্টা পরও উল্লেখযোগ্যসংখ্যক চিকিৎসক কর্মস্থলে উপস্থিত হচ্ছেন। অন্যদিকে, নির্ধারিত সময় দুপুর ২টা ৩০ মিনিটের আগেই কর্মস্থল ত্যাগের প্রবণতাও অনেক বেশি। তথ্য অনুযায়ী, বহির্বিভাগের ৯৬ শতাংশ এবং অন্তর্বিভাগের ৯০ শতাংশ চিকিৎসক নির্ধারিত সময়ের আগেই কর্মস্থল ত্যাগ করছেন। এ নোটিশ প্রদানের পরপরই ওসমানী হাসপাতাল পরিদর্শন করে গেছেন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন।

০৮ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬
সিলেট সীমান্তে বিজিবির অভিযান

সিলেট সীমান্তে বিজিবির অভিযান

সিলেট সীমান্তে পৃথক অভিযান চালিয়ে বিপুল পরিমাণ ভারতীয় মালামাল এবং অবৈধভাবে পাথর ও বালু উত্তোলনে ব্যবহৃত বারকী নৌকা আটক করেছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (৪৮ বিজিবি)। জব্দকৃত মালামালের আনুমানিক সিজার মূল্য প্রায় ৩৬ লাখ ৫৩ হাজার ৩০০ টাকা। মঙ্গলবার (৮ সেপ্টেম্বর) ভোররাতে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে সিলেট ব্যাটালিয়ন (৪৮ বিজিবি)-এর অধীনস্থ সীমান্ত এলাকায় এসব অভিযান পরিচালিত হয়। বিজিবি সূত্র জানায়, ব্যাটালিয়নের দায়িত্বাধীন লাফার্জ, সোনালীচেলা, কালাইরাগ, পাথরকোয়ারী, দমদমিয়া, সোনারহাট এবং প্রতাপপুর বিওপি সীমান্ত এলাকায় একযোগে চোরাচালানবিরোধী অভিযান চালায়। অভিযানে বিপুল পরিমাণ ভারতীয় গরু, জিরা, শাড়ী, কসমেটিকস, গাড়ীর পার্টস, সুপারি, বিড়ি, জুস, ফুচকা উদ্ধার করা হয়। এছাড়া সীমান্ত নদী হতে অবৈধভাবে বালু ও পাথর উত্তোলনে ব্যবহৃত বারকী নৌকাও আটক করে বিজিবি টহল দল। এ বিষয়ে সিলেট ব্যাটালিয়নের (৪৮ বিজিবি) অধিনায়ক জানান, সীমান্তে নিরাপত্তা নিশ্চিত করা, সীমান্ত অপরাধ দমন এবং চোরাচালান ও মাদকদ্রব্য পাচার প্রতিরোধে বিজিবির আভিযানিক কার্যক্রম ও গোয়েন্দা নজরদারি জোরদার করা হয়েছে। এরই ধারাবাহিকতায় এই বিপুল পরিমাণ মালামাল উদ্ধার সম্ভব হয়েছে। তিনি আরও জানান, আটককৃত এসব চোরাচালানি মালামালের বিষয়ে আইন ও প্রচলিত বিধি মোতাবেক পরবর্তী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

০৮ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬
সিলেটে হাম-উপসর্গে ফের মৃত্যু

সিলেটে হাম-উপসর্গে ফের মৃত্যু

হামের উপসর্গে সিলেটে আরও এক শিশুর মৃত্যু হয়েছে। গতকাল সিলেটের ডা. শহিদ শামসুদ্দিন আহমেদ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মৃত্যুবরণকারী ২ বছর বয়েসি আউলাদ মিয়ার বাড়ি হবিগঞ্জ জেলার বাহুবল উপজেলায়। এ নিয়ে সিলেট বিভাগে অদ্যবধি হাম ও উপসর্গে মোট মৃত্যুর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১৫৯ জনে। মঙ্গলবার (৮ সেপ্টেম্বর) সিলেট বিভাগীয় স্বাস্থ্য পরিচালকের কার্যালয় থেকে দেওয়া এক প্রতিবেদনে এসব তথ্য জানা গেছে। এদিকে, গত ২৪ ঘণ্টায় (গতকাল সকাল থেকে আজ সকাল ৮টা পর্যন্ত) বিভাগে নতুন করে ১৩ জন নিশ্চিত হাম রোগী শনাক্ত হয়েছেন। একই সময়ে বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন ১৪৬ জন রোগী।  জানা গেছে, বর্তমানে বিভাগের বিভিন্ন সরকারি-বেসরকারি ও উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে মোট ৪৫৭ জন সন্দেহজনক হাম রোগী চিকিৎসাধীন রয়েছেন। এর মধ্যে সিলেট ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ১৬৫ জন, শহীদ শামসুদ্দিন আহমদ হাসপাতালে ১৪৬ জন, সুনামগঞ্জ জেলা সদর হাসপাতালে ৪২ জন এবং মৌলভীবাজার জেলা সদর হাসপাতালে ৩৫ জন রোগী ভর্তি রয়েছেন।

০৮ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬
সিলেটে আন্তর্জাতিক সাক্ষরতা দিবস পালিত

সিলেটে আন্তর্জাতিক সাক্ষরতা দিবস পালিত

‘মানুষ, পৃথিবী ও সমৃদ্ধির জন্য সাক্ষরতা’ প্রতিপাদ্যে আন্তর্জাতিক সাক্ষরতা দিবস উপলক্ষ্যে সিলেটে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। আজ মঙ্গলবার (৮ সেপ্টেম্বর) জেলা প্রশাসন ও জেলা উপানুষ্ঠানিক শিক্ষা ব্যুরোর আয়োজনে জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে এ আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। এতে সভাপতিত্ব করেন সিলেটের জেলা প্রশাসক আবদুল্লাহ আল মামুন। সভাপতির বক্তব্যে জেলা প্রশাসক বলেন, আন্তর্জাতিক সাক্ষরতা দিবসের মূল উদ্দেশ্য শুধু সাক্ষরতার হার বাড়ানো নয়; বরং মানুষকে পড়তে, লিখতে এবং দৈনন্দিন জীবনে প্রয়োজনীয় মৌলিক জ্ঞান প্রয়োগে সক্ষম করে তোলা। আমাদের প্রত্যেকের দায়িত্ব হলো যারা এখনো সাক্ষরতার বাইরে রয়েছে, তাদেরকে শিক্ষা কার্যক্রমের আওতায় নিয়ে আসা।  তিনি বলেন, বিদ্যালয়ে শিক্ষার্থীদের ধরে রাখা এবং ঝরে পড়া রোধ করা এখন বড় চ্যালেঞ্জ। অনেক অভিভাবককে বারবার আহ্বান জানানো সত্ত্বেও বিদ্যালয়ের অভিভাবক সমাবেশে তাদের উপস্থিতি কম থাকে। শিক্ষার্থীদের বিদ্যালয়মুখী রাখতে শিক্ষক, অভিভাবক, জনপ্রতিনিধি, ধর্মীয় নেতা ও সমাজের বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষকে সমন্বিতভাবে কাজ করতে হবে। তিনি এ ক্ষেত্রে মসজিদের ইমাম ও স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিদেরও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালনের আহ্বান জানান। তিনি আরও বলেন, শিক্ষার সঙ্গে মাদকাসক্তি প্রতিরোধের বিষয়টিও নিবিড়ভাবে সম্পৃক্ত। শিশু-কিশোরদের বিদ্যালয় থেকে ঝরে পড়া এবং লেখাপড়ার বাইরে থাকা তাদের নানা ধরনের ঝুঁকির মধ্যে ফেলতে পারে। তাই সন্তানরা কোথায় যাচ্ছে, কী করছে এবং তাদের শিক্ষাজীবন ঠিকমতো চলছে কি না- অভিভাবকদের সেদিকে নজর দিতে হবে। শিক্ষার্থীদের বিদ্যালয়ে ধরে রাখা এবং ঝরে পড়া রোধে সংশ্লিষ্ট সব বিভাগকে সমন্বিতভাবে উদ্যোগ নেওয়ার আহ্বান জানান তিনি। আলোচনা সভায় অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (শিক্ষা ও আইসিটি) সাঈদা পারভীন, সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা খোশনূর রুবাইয়াৎ, জেলা শিক্ষা কর্মকর্তা আবু সাঈদ মোঃ আব্দুল ওয়াদুদ, জেলা উপানুষ্ঠানিক শিক্ষা ব্যুরোর সহকারী পরিচালক মোহাম্মদ নজরুল ইসলাম, সিলেট প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক মোঃ সিরাজুল ইসলাম, অনলাইন প্রেসক্লাবের সভাপতি গুলজার আহমদ হেলালসহ বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষকবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন। এর আগে আন্তর্জাতিক সাক্ষরতা দিবস উপলক্ষ্যে জেলা প্রশাসক আবদুল্লাহ আল মামুনের নেতৃত্বে একটি বর্ণাঢ্য র‍্যালি বের করা হয়। র‍্যালিটি নগরীর বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সড়ক প্রদক্ষিণ করে।

০৮ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬
ছেলেকে নিয়ে বাড়ি ফেরা হলো না করিম উদ্দিনের, দিতে পারলেন না বিয়ে

ছেলেকে নিয়ে বাড়ি ফেরা হলো না করিম উদ্দিনের, দিতে পারলেন না বিয়ে

দীর্ঘদিন পর প্রিয়জনদের কাছে দেশে ফেরার স্বপ্ন নিয়ে সৌদি আরব থেকে বিমানবন্দরের উদ্দেশ্যে রওনা দিয়েছিলেন সিলেটের কানাইঘাটের প্রবাসী করিম উদ্দিন (৫৫), সঙ্গে ছিলেন তার ছেলে মোহাম্মদ আলী (২৬)।  ছেলের বিয়ের জন্য ফিরছিলেন দেশে। কিন্তু বিমানবন্দরে পৌঁছানোর আগেই মর্মান্তিক সড়ক দুর্ঘটনায় প্রাণ হারান করিম উদ্দিন। আহত অবস্থায় বেঁচে গেছেন তার ছেলে। গতকাল সোমবার (৭ সেপ্টেম্বর) স্থানীয় সময় বেলা ২টার দিকে সৌদি আরবের তায়েফ থেকে জেদ্দা যাওয়ার পথে আল-খুরমা এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে। জানা গেছে, বিমানবন্দরের উদ্দেশ্যে যাত্রা করা গাড়িটিতে চালকসহ পাঁচজন বাংলাদেশি ছিলেন। দুর্ঘটনায় গাড়িচালক খালিদ আহমদ (৬০)-সহ চারজন নিহত হন। আহত অবস্থায় বেঁচে যান করিম উদ্দিনের ছেলে। নিহতদের মধ্যে করিম উদ্দিন ও গাড়িচালক খালিদ আহমদ সিলেটের কানাইঘাট উপজেলার বাসিন্দা। তাদের বাড়ি উপজেলার ৭ নম্বর দক্ষিণ বাণীগ্রাম ইউনিয়নের গাছবাড়ী এলাকার লামার তালুক গ্রামে। বাকিত দুজনের মধ্যে একজনের বাড়ি সুনামগঞ্জ জেলায় ও অপরজনের বাড়ি কুমিল্লা । করিম উদ্দিনের পারিবারিক সূত্র জানায়, তিনি দীর্ঘদিন সৌদি আরবে প্রবাসজীবন কাটানোর পর ছেলের বিয়েকে সামনে রেখে দেশে ফিরছিলেন। দেশে ফেরার টিকিট হাতে নিয়ে ছেলেকে সঙ্গে করে বিমানবন্দরের পথে রওনা হলেও বাড়ি ফেরা আর হলো না। বিমানবন্দরে পৌঁছানোর আগেই সড়ক দুর্ঘটনায় তার মৃত্যু হয়। অন্যদিকে, খালিদ আহমদ ছিলেন ওই গাড়ির চালক। তিনি নিজে দেশে ফেরার জন্য নয়, অন্য চার বাংলাদেশিকে বিমানবন্দরে পৌঁছে দিতে গাড়ি চালিয়ে নিয়ে যাচ্ছিলেন। কিন্তু সেই যাত্রাই তার জীবনের শেষ যাত্রা হয়ে যায়। দুই প্রবাসীর মৃত্যুর খবর দেশে পৌঁছালে কানাইঘাটে নিহতের স্বজন ও এলাকাবাসীর মধ্যে শোকের ছায়া নেমে আসে। প্রিয়জনদের দেশে ফেরার অপেক্ষায় থাকা পরিবারগুলোর আনন্দ মুহূর্তেই পরিণত হয় কান্নায়। দুই প্রবাসীর মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করে স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান লোকমান উদ্দিন জানান, খবরটি অত্যন্ত মর্মান্তিক। তিনি নিহতদের পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে দেখা করে সমবেদনা জানিয়েছেন। উল্লেখ্য, চলতি বছরের জুনে কাতারে সড়ক দুর্ঘটনায় কানাইঘাটের পাঁচ প্রবাসীর মৃত্যু হয়। এর রেশ কাটতে না কাটতেই জুলাইয়ে সৌদি আরবে সড়ক দুর্ঘটনায় আরও এক কানাইঘাট প্রবাসীর মৃত্যু হয়। এবার সৌদি আরবেই আবারও কানাইঘাটের দুই প্রবাসীর মৃত্যুতে এলাকায় নতুন করে শোকের মাতম শুরু হয়েছে।  

০৮ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬
সিলেট জেলা ক্রীড়া সংস্থার অ্যাডহক কমিটি, সদস্যসচিব নাচন

সিলেট জেলা ক্রীড়া সংস্থার অ্যাডহক কমিটি, সদস্যসচিব নাচন

সিলেট জেলা ক্রীড়া সংস্থার নতুন অ্যাডহক কমিটি অনুমোদন দিয়েছে জাতীয় ক্রীড়া পরিষদ। জাতীয় ক্রীড়া পরিষদ আইন, ২০১৮-এর ধারা অনুযায়ী পরিষদের চেয়ারম্যান কর্তৃক এই কমিটির সদয় অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। গতকাল সোমবার (৭ সেপ্টেম্বর) জাতীয় ক্রীড়া পরিষদের নির্বাহী পরিচালক মো. দৌলতুজ্জামান খান স্বাক্ষরিত এক প্রজ্ঞাপনে বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়। অনুমোদিত এডহক কমিটির নেতৃবৃন্দ হলেন- সভাপতি জেলা প্রশাসক, সদস্য পুলিশ সুপার, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক), জেলা সমাজসেবা উপ-পরিচালক, জেলা ক্রীড়া অফিসার, স্থানীয় ক্রীড়াবিদ মকসুদ আহমদ ও সদস্যসচিব রেজাউল করিম নাচন। প্রজ্ঞাপনে আরও উল্লেখ করা হয়- অনুমোদিত এই অ্যাডহক কমিটি স্থানীয় ক্রীড়া সংস্থার গঠনতন্ত্র মোতাবেক নির্ধারিত সময়ের মধ্যে গঠনতন্ত্রে উল্লেখিত পদ্ধতিতে নির্বাচন আয়োজনের ব্যবস্থা গ্রহণ করবে। উল্লেখ্য, সদস্যসচিবের দায়িত্বপ্রাপ্ত রেজাউল করিম নাচন সিলেট ক্রিকেটার্স এসোসিয়েশনের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক দায়িত্ব পালন ছাড়াও, সিলেট বিভাগীয় ক্রিকেট দলের ম্যানেজারের দায়িত্ব পালন করেছেন একাধিকবার। বর্তমানে তিনি ভিক্টোরিয়া স্পোর্টিং ক্লাবের সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্বে আছেন। এছাড়া সিলেট জেলা দলের হয়ে ফুটবল ও ক্রিকেট খেলার সমৃদ্ধ ক্যারিয়ার রয়েছে তাঁর।  রেজাউল করিম নাচন ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় কমিটির সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক ও সিলেট মহানগর বিএনপির ক্রীড়া সম্পাদক হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেছেন। 

০৮ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬
বিদেশ যাত্রীদের সঙ্গে প্রতারণা, সিলেটের হিলভিউ মেডিকেল সেন্টারকে অর্থদণ্ড

বিদেশ যাত্রীদের সঙ্গে প্রতারণা, সিলেটের হিলভিউ মেডিকেল সেন্টারকে অর্থদণ্ড

বিদেশ যাত্রীদের সাথে প্রতারণা, ব্লাড সেম্পলে ভুয়া রিপোর্টসহ বিভিন্ন অনিয়ম-দুর্নীতির অভিযোগে সিলেট মহানগরের আম্বরখানা এলাকার হিলভিউ মেডিকেল সেন্টারকে ১ লাখ টাকা জরিমানা করেছেন ভ্রাম্যমাণ আদালত। মঙ্গলবার (৮ সেপ্টেম্বর) বেলা আড়াইটার দিকে আম্বরখানা এলাকার এয়ারপোর্ট রোডের এ মেডিকেল সেন্টারে এ অভিযান চালায় জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর সিলেট জেলা শাখা। অভিযানে নেতৃত্ব দেন জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর সিলেট জেলা শাখার সহকারী পরিচালক মোহাম্মদ আরিফ মিয়া। অভিযানকালে বিদেশ যাত্রীদের সাথে প্রতারণাসহ বিভিন্ন অভিযোগের প্রমাণ পাওয়া গেছে।

০৮ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬
জগন্নাথপুরে নার্সের অবহেলায় রোগীর মৃত্যুর অভিযোগ

জগন্নাথপুরে নার্সের অবহেলায় রোগীর মৃত্যুর অভিযোগ

সুনামগঞ্জের জগন্নাথপুরে দায়িত্বরত নার্সের অবহেলা ও দায়িত্বহীনতায় ছায়ারুন নেছা (৪৫) নামের এক রোগীর মৃত্যুর অভিযোগ উঠেছে। ওই নারী উপজেলার চিলাউড়া হলদিপুর ইউনিয়নের চিলাউড়া মাঝপাড়া গ্রামের আব্দুস শহীদের স্ত্রী।  রোববার (৬ সেপ্টেম্বর) রাত সাড়ে ৯টার দিকে উপজেলা স্বাস্থ্য কেন্দ্রে এ ঘটনাটি ঘটেছে। এঘটনায় নিহতের স্বজনদের মধ্যে ক্ষোভের সৃষ্টি হলে পরিস্থিতি উত্তেজিত হয়ে উঠে। পরে পুলিশ ঘন্টাস্থলে পৌছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রনে আনে।  নিহতের স্বজনরা জানান, রোববার সন্ধ্যার দিকে জ্বর,শ্বাসকষ্ট ও ডায়রিয়াজনিত রোগে আক্রান্ত হয়ে ৫ সন্তানের জননী ছায়ারুন নেছা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়। রাত সাড়ে ৯টার দিকে রোগীর শারিরীক অবস্থার অবনতি হলে হাসপাতালের ওয়ার্ডের দায়িত্বরত নার্সদের একাধিকবার বিষয়টি জানানো হলেও তারা রোগীকে দেখতে আসেননি। এক পযার্য়ে তিনি মারা যান।  ছায়ারুন নেছার স্বামী আব্দুস শহীদের বলেন, রোগীর শরীরে ইনজেকশন দেয়ার পর হঠাৎ করে তাঁর শরীর শীতল হয়ে আসে। তাৎক্ষনিকভাবে আমি কর্তব্যরত ্র নার্সকে বিষয়টি জানিয়ে রোগী দেখার জন্য অনুরোধ করি। কিন্তু তিনি আসেনি। রোগীর অবস্থা আশঙ্কাজনক দেখে আমি কমপক্ষে ১০ বার নার্সের কাছে ছুটে গিয়ে আকুতি বিনতি করি রোগীকে দেখার জন্য। কিন্তু তিনি কোন কর্নপাত করেননি। তার অভিযোগ নার্সের চরম অবহেলায় ও দায়িত্বহীনতায় চোখের সামনে আমার স্ত্রী মারা গেছেন। আমি এর বিচার চাই। নিহতের স্বজন আব্দুস সালাম বলেন, ওয়ার্ডের দায়িত্বরত দুই নার্সকে একাধিকবার রোগীর শারীরিক অবস্থার কথা বলার পরও তারা রোগীকে দেখতে আসেননি। এটি দায়িত্বের চরম অবহেলা। আমরা তাদের বিচার দাবী করছি। তবে ওই ওয়ার্ডের দায়িত্বর নার্স জান্নাতুল ফেরদৌস এবং সানজিদা অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, আমাদের দায়িত্বে কোন অবহেলা ছিল না।  জগন্নাথপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আবাসিক মেডিকেল অফিসার(আরএমও) ডা. বদরুদ্দোজা উজ্জ্বল বলেন, হাসপাতালে দায়িত্বরত কারও অবহেলায় রোগী মারা যাননি। তিনি বলেন, পাতলা পায়খানা বন্ধের জন্য রোগীকে একটি ইনজেকশন দেওয়ার কিছুসময় পর রোগীর কিছুটা অস্থিরতা শুরু হয়। এক পযার্য়ে তিনি মারা যান।  তিনি আরও বলেন, আমরা প্রাথমিকভাবে ধারণ করছি, কার্ডিয়াক অ্যারেস্টে মৃত্যু হতে পারে। এধরণের ঘটনা সাধারণত ঘটতে পারে। রোগীর স্বজনদের অভিযোগ, ইনজেকশন দেওয়ার কারণে এটি হয়েছে। পরবর্তীতে তাঁরা তাদের ভুল বুঝতে পেয়ে হাসপাতাল থেকে মরদেহ নিয়ে গেছেন।

০৭ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬
১৭ সেপ্টেম্বর কার্ড পাবেন এক লাখ কৃষক

১৭ সেপ্টেম্বর কার্ড পাবেন এক লাখ কৃষক

বর্তমান সরকারের একটি বড় উদ্যোগ কৃষক কার্ড। গত ১৪ এপ্রিল বাংলা নববর্ষের দিন প্রি-পাইলটিং পর্যায়ে কৃষক কার্ড বিতরণ শুরু হয়। এবার কৃষক কার্ড কার্যক্রমের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন হবে ১৭ সেপ্টেম্বর। ফেনীর ফুলগাজী উপজেলায় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান প্রধান অতিথি হিসেবে এ কার্যক্রম উদ্বোধন করবেন বলে কৃষি মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে। ওইদিন একই সঙ্গে ৫০ জেলায় উদ্বোধনী কর্মসূচি আয়োজন করা হবে। সারাদেশের এক লাখ কৃষককে প্রণোদনার অর্থ দেওয়া হবে। এরই মধ্যে নিবন্ধনের আওতায় আসা ১৬ লাখ ৩০ হাজার কৃষকের মধ্যে এক লাখ কৃষকের ব্যাংক হিসাব খোলা হয়েছে বলেও জানিয়েছে মন্ত্রণালয়। কৃষক কার্ড কৃষকদের ডিজিটাল পরিচয়পত্র এবং কৃষিসেবা পাওয়ার একটি সমন্বিত মাধ্যম হিসেবে তৈরি করা হয়েছে। এর আগে প্রি-পাইলটিংয়ে প্রাথমিকভাবে ১০ জেলার ১১টি ব্লকে কার্ড দেওয়া হয়েছিল। শুধু ফসল উৎপাদনকারী কৃষকের নয়, মৎস্য ও প্রাণিসম্পদসহ কৃষি উৎপাদনের সঙ্গে যুক্ত বিভিন্ন শ্রেণির মানুষকে এর আওতায় আনার হচ্ছে। এসব পর্যায়ে ফসল উৎপাদক, বর্গাচাষি, ইজারা চাষি, মৎস্যচাষি ও প্রাণিসম্পদ খামারিরা এই কার্ডের সুবিধা পাবেন। এর মাধ্যমে সার, বীজ ও কীটনাশকসহ কৃষি উপকরণে ভর্তুকি, কৃষিঋণ, সেচ, কৃষিযন্ত্র, সরকারি প্রণোদনা, কৃষিবিমা, প্রশিক্ষণ, আবহাওয়া ও বাজারসংক্রান্ত তথ্য দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে।   এদিকে জানা গেছে, মূল পর্বে কৃষক কার্ডে যুক্ত হচ্ছে কিউআর কোড। কার্ডধারী কৃষকদের শনাক্ত করতে ও তাদের সরকারি সুবিধা পাওয়ার প্রক্রিয়া আরও সহজ করতে কার্ডে কিউআর কোড যুক্ত হচ্ছে। ফলে কার্ড স্ক্যান করলেই কার্ডধারী কৃষককে সহজে শনাক্ত করা যাবে। এ পর্যন্ত নিবন্ধনের আওতায় আসা ১৬ লাখ ৩০ হাজার কৃষকের মধ্যে এক লাখের ব্যাংক হিসাব খোলা হয়েছে। উদ্বোধনের দিন প্রায় এক লাখ কৃষকের হাতে প্রণোদনার অর্থ পৌঁছে যাবে। এছাড়া ব্যাংক হিসাব খোলার জন্য আরও পাঁচ লাখ কৃষকের তথ্য যাচাই-বাছাই করে অনুমোদন করা হয়েছে। কার্ডের আওতায় ভূমিহীন, প্রান্তিক ও ক্ষুদ্র কৃষকেরা ২ হাজার ৫০০ টাকা নগদ প্রণোদনাসহ অন্যান্য সুবিধা পান। কৃষি মন্ত্রণালয়ের আওতাধীন ‘প্রোগ্রাম অন অ্যাগ্রিকালচার অ্যান্ড রুরাল ট্রান্সফরমেশন ফর নিউট্রিশন এন্ট্রাপ্রেনিউরশিপ অ্যান্ড রেসিলিয়েন্স ইন বাংলাদেশ’ প্রকল্পের আওতায় কৃষক কার্ডের কার্যক্রম চলছে। বিশ্বব্যাংক, ইফাদ ও বাংলাদেশ সরকারের অর্থায়নে পরিচালিত এ প্রকল্পটি সংক্ষেপে ‘পার্টনার’ প্রকল্প নামে পরিচিত। পার্টনার প্রকল্পের তথ্য অনুযায়ী, এ পর্যন্ত ১৬ লাখ ৩০ হাজার কৃষক নিবন্ধনের আওতায় এসেছেন। নিবন্ধিত কৃষকদের প্রায় ৯৬ শতাংশ জমিতে ফসল চাষের সঙ্গে যুক্ত। মৎস্য চাষ করেন দেড় শতাংশ এবং গবাদিপশু পালন করেন প্রায় ২ দশমিক ৫৫ শতাংশ। লবণচাষি রয়েছেন মাত্র ১৫৭ জন, যা মোট নিবন্ধিত কৃষকের শূন্য দশমিক ১ শতাংশ।  জমির মালিকানার হিসাবে নিবন্ধিত কৃষকদের ৪৩ শতাংশের বেশি ক্ষুদ্র কৃষক। তাদের মালিকানাধীন জমির পরিমাণ ৫০ থেকে ২৪৯ শতক। ৫ থেকে ৪৯ শতক জমির মালিক প্রান্তিক কৃষক রয়েছেন প্রায় ৪০ শতাংশ। শূন্য থেকে ৫ শতক জমির মালিক কৃষক রয়েছেন প্রায় ৮ শতাংশ। ২৫০ থেকে ৭৪৯ শতক জমির মালিক মাঝারি কৃষক রয়েছেন ৮ দশমিক ৩১ শতাংশ। ৭৫০ শতকের বেশি জমির মালিক বড় কৃষক রয়েছেন শূন্য দশমিক ৮১ শতাংশ। এছাড়া চলতি অর্থবছরে ৪৩ লাখ কৃষককে কার্ড দেওয়ার লক্ষ্য রয়েছে বলে কৃষি মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে। পার্টনার প্রকল্পের ডিপিপি অনুযায়ী, দেশে কৃষকের সংখ্যা প্রায় ২ কোটি ২৭ লাখ। তবে ২০২৬-২৭ অর্থবছরে ৪৩ লাখ কৃষকের মধ্যে কৃষক কার্ড বিতরণের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছে সরকার। পর্যায়ক্রমে বাকি কৃষকদেরও এ কর্মসূচির আওতায় আনা হবে।

০৭ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬
জগন্নাথপুরে যুবকের অর্ধগলিত মরদেহ উদ্ধার

জগন্নাথপুরে যুবকের অর্ধগলিত মরদেহ উদ্ধার

সুনামগঞ্জের জগন্নাথপুরে নিজ ঘর থেকে বাবুল মিয়া (৩৫) নামের এক যুবকের অর্ধগলিত মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। সোমবার (৭ সেপ্টেম্বর) দুপুর ১টার দিকে উপজেলার পাটলী ইউনিয়নের কামিনিপুর গ্রামের নতুন আগলা বাড়ি থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়। নিহত বাবুল মিয়া কিশোরগঞ্জের তারাইল উপজেলার গজিনপুর গ্রামের দোলাল মিয়ার ছেলে। তবে দীর্ঘদিন ধরে তিনি পরিবারের সঙ্গে উপজেলার পাটলী ইউনিয়নের ৪ নম্বর ওয়ার্ডের চানপুর গ্রামে বসবাস করে আসছিলেন। পুলিশ ও স্থানীরা জানান, সোমবার দুপুরের দিকে বাড়ি থেকে দুর্গন্ধ ছড়িয়ে পড়লে বিষয়টি স্থানীয়দের নজরে আসে। পরে জগন্নাথপুর থানায় খবর দেন স্থানীয়রা। খবর পেয়ে মরদেহ উদ্ধার করেছে। পাটলী ইউনিয়ন পরিষদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান নজরুল ইসলাম জানান, ‘বাবুল মিয়ার স্ত্রী  ২/৩ দিন আগে রাগ করে চলে যায় বলে শুনেছি। বাড়িটি আগলা বাড়ি (গ্রাম থেকে কিছুটা দূরে অবস্থিত) থাকায় লোকজন কম আসা যাওয়া করে। তিনি দাবি করেন, মরদেহটি দুই-একদিন আগের হবে। দুর্গন্ধ ছড়িয়ে পড়ায় এলাকাবাসী তা জানতে পারে এবং পুলিশকে খবর দেয়। জগন্নাথপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো.  শফিকুল ইসলাম বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, মরদেহ উদ্ধার করে ময়না তদন্তের জন্য সুনামগঞ্জ ২৫০ শয্যা জেলা সদর হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়েছে। ময়না তদন্তের রিপোর্ট প্রকৃত রহস্য জানা যাবে।

০৭ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬
দেশে চালু ১৯ কোটি ১০ লাখ সিম, জানালেন তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রী

দেশে চালু ১৯ কোটি ১০ লাখ সিম, জানালেন তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রী

দেশে মোবাইল ফোনের ১৯ কোটি ১০ লাখ সিম চালু থাকার তথ্য দিয়েছেন ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রী ফকির মাহবুব আনাম। তার দেওয়া হিসাব অনুযায়ী, ১৯ কোটি ১০ লাখের মধ্যে ১০ কোটি ৮০ লাখ সিমে ‘ফোর জি’ ইন্টারনেট ব্যবহার করা হয়। সোমবার ঢাকার রেডিসন ব্লু ওয়াটার গার্ডেন হোটেলে এক অনুষ্ঠানে মন্ত্রী এসব তথ্য তুলে ধরেন বলে ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়। এশিয়া-প্যাসিফিক টেলিকমিউনিটি ওয়্যারলেস গ্রুপের ৩৭তম সভার উদ্বোধন উপলক্ষে এ অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। মন্ত্রী বলেন, “দেশে ৪৯ হাজারের বেশি ফোর জি সাইট, প্রায় ৪৬ হাজার টাওয়ার এবং ১ লাখ ৭৩ হাজার কিলোমিটার ফাইবার অপটিক নেটওয়ার্ক রয়েছে।” শুধু সংযোগ বাড়ানো নয়, গুণগত মান, সাশ্রয়ী মূল্য, নির্ভরযোগ্যতা ও অর্থবহ কানেক্টিভিটি নিশ্চিত করাই সরকারের প্রধান লক্ষ্য বলে মন্তব্য করেন তিনি। মন্ত্রীর ভাষ্য, “এআই, সাইবার নিরাপত্তা, সফটওয়্যার, হার্ডওয়্যার ও ফাইভ জিসহ ভবিষ্যৎ প্রযুক্তিতে বাংলাদেশের সক্ষমতা বাড়াতে হবে।” অনুষ্ঠানে ডাক ও টেলিযোগাযোগ বিভাগের সচিব বিলকিস জাহান রিমিও বক্তব্য রাখেন। সভাপতিত্ব করেন বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশনের (বিটিআরসি) চেয়ারম্যান মো. এমদাদ উল বারী।

০৭ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬
নৃত্যরত দুই যুবকের মৃত্যু, আড়াই বছর পর লাশ উত্তোলন

নৃত্যরত দুই যুবকের মৃত্যু, আড়াই বছর পর লাশ উত্তোলন

হবিগঞ্জের নবীগঞ্জ উপজেলার ইনাতগঞ্জ ইউনিয়নের কাকুড়া গ্রামে ওরসের আসরে নাচতে নাচতে দুই যুবকের মৃত্যুর ঘটনার দীর্ঘ ২ বছর ৭ মাস পর মামলার তদন্তের স্বার্থে কবর থেকে লাশ উত্তোলন করা হয়েছে। সোমবার (৭ সেপ্টেম্বর) সকালে আদালতের নির্দেশনা অনুযায়ী নবীগঞ্জ থানার পুলিশ ও উপজেলা প্রশাসনের কর্মকর্তাদের উপস্থিতিতে নিহত আব্দুল কালামের লাশ কবর থেকে উত্তোলন করা হয়। সকাল থেকেই কাকুড়া গ্রামের কবরস্থান এলাকায় উৎসুক জনতার উপস্থিতি ছিল লক্ষণীয়। ২০২৪ সালের ২৫ জানুয়ারি উপজেলার ইনাতগঞ্জ ইউনিয়নের কাকুড়া গ্রামের হযরত নবীন শাহ (রহ.) মাজারে ১৫৬তম বার্ষিক ওরস অনুষ্ঠিত হয়। ওরসকে কেন্দ্র করে মাজারের সামনে বসে নাচ-গানের আসর। বিভিন্ন স্থান থেকে আসা মানুষের ঢল নামে এই আসরে। নাচের তালে তালে একপর্যায়ে মাটিতে লুটিয়ে পড়েন কাকুড়া গ্রামের মৃত গেদা মিয়ার ছেলে আব্দুল কালাম (৪৫) এবং একই ইউনিয়নের ঘোলডুবা গ্রামের আব্দুল আজিজ (৪২)। ঘটনাস্থলেই তাদের মৃত্যু হয়। পরদিন (২৬ জানুয়ারি) দুপুরে ও বিকেলে পৃথক স্থানে জানাজা শেষে দাফন সম্পন্ন হয়। এ  ঘটনায়  নিহত আব্দুল কালামের ভাই সুমন মিয়া বাদী হয়ে হবিগঞ্জ আদালতে হ’ত্যা মামলা দায়ের করেন। মামলার অভিযোগে বলা হয়, ওরসের আসরে পানের সঙ্গে বিষ মিশিয়ে আব্দুল কালামকে হ’ত্যা করা হয়েছে। মামলায় কাকুড়া গ্রামের ইউপি সদস্য ও ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সভাপতি ফজলু মিয়াসহ কয়েকজনকে আসামি করা হয়। আদালত মামলাটি তদন্তের দায়িত্ব হবিগঞ্জ পিবিআইকে দেন। পিবিআইয়ের আবেদনের প্রেক্ষিতে ময়নাতদন্তের জন্য কবর থেকে লাশ উত্তোলনের নির্দেশ দেন আদালত। আদালতের সেই নির্দেশনা অনুযায়ী সোমবার সকালে নবীগঞ্জ উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) প্রত্যয় হাশেমসহ উপজেলা প্রশাসনের কর্মকর্তা ও নবীগঞ্জ থানার একদল পুলিশ কাকুড়া-করিমপুর গ্রামে যান। তাদের উপস্থিতিতে আব্দুল কালামের লাশ কবর থেকে উত্তোলন করা হয়। সকাল থেকেই কবরস্থানের চারপাশে উৎসুক জনতার ভিড় জমে ওঠে; নিহতের স্বজন ও এলাকাবাসী নীরবে পুরো প্রক্রিয়া পর্যবেক্ষণ করেন। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন হাতে পেলে মৃত্যুর প্রকৃত কারণ, বিষ প্রয়োগ নাকি অন্য কিছু, সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়া যাবে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে। এ প্রসঙ্গে উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) প্রত্যয় হাশেম বলেন, আদালতের নির্দেশনা অনুযায়ী মামলার তদন্তের স্বার্থে আইনানুগ প্রক্রিয়ায় লাশ উত্তোলন সম্পন্ন করা হয়েছে। ময়নাতদন্ত সুষ্ঠুভাবে শেষ করে পরবর্তী আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। (রিপোর্ট : গৌছুজ্জামান)

০৭ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬
জকিগঞ্জে যাত্রী ছাউনি ও গোলচত্বর থেকে ‘গণিপুর’ মুছে দেয়ার অভিযোগ

জকিগঞ্জে যাত্রী ছাউনি ও গোলচত্বর থেকে ‘গণিপুর’ মুছে দেয়ার অভিযোগ

সিলেটের জকিগঞ্জে একটি যাত্রী ছাউনির নামফলক ও পাশের গোলচত্বর থেকে ‘গণিপুর’ শব্দটি কালো কালি দিয়ে মুছে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। এ নিয়ে স্থানীয়দের মধ্যে ক্ষোভ ও উত্তেজনা বিরাজ করছে।  এ ঘটনায় সোমবার জকিগঞ্জ থানায় লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন সুলতানপুর ইউনিয়নের গণিপুর গ্রামের বাসিন্দা মো. শাহাদত হোসেন চৌধুরী (৪৪)।  অজ্ঞাতনামা ব্যক্তিদের আসামি করে তিনি অভিযোগে দায়ের করেছেন। অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, গণিপুর কামালগঞ্জ বাজারে সিলেট-জকিগঞ্জ সড়কের পাশে ‘গণিপুর কামালগঞ্জ বাজার যাত্রী ছাউনী’ নামে একটি যাত্রী ছাউনি নির্মাণ করা হয়। সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান ইকবাল আহমদ চৌধুরীর সময়ে এটি নির্মাণের পর ২০১৬ সালে উদ্বোধন করা হয়। পাশাপাশি গণিপুর বয়েজ ক্লাবের অর্থায়নে যাত্রী ছাউনির সামনে একটি গোলচত্বর নির্মাণ করা হয়। অভিযোগে বলা হয়, গত ৫ সেপ্টেম্বর রাত ১২টার পর থেকে ৬ সেপ্টেম্বর সকাল ৬টার মধ্যে কোনো একসময় কে বা কারা যাত্রী ছাউনিতে স্থাপিত পাথরে খোদাই করা নামফলক থেকে ‘গণিপুর’ শব্দটি এবং গোলচত্বরের ‘গণিপুর’ লেখা কালো কালি দিয়ে মুছে দিয়েছে। স্থানীয়রা বিষয়টি দেখতে পেয়ে লেখা পরিষ্কার করার চেষ্টা করলেও তা সম্ভব হয়নি। অভিযোগকারী শাহাদত হোসেন চৌধুরী বলেন, গণিপুর একটি ঐতিহ্যবাহী গ্রাম। এ গ্রামের সঙ্গে বিভিন্ন বিশিষ্ট ব্যক্তির পারিবারিক ও সামাজিক সম্পর্ক রয়েছে। দীর্ঘদিন ধরে জনসাধারণের ব্যবহৃত একটি স্থাপনার নামফলক থেকে গ্রামের নাম মুছে দেওয়ার ঘটনায় স্থানীয়দের মধ্যে ক্ষোভ সৃষ্টি হয়েছে। তিনি ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত করে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান। জকিগঞ্জ থানা ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মুহাম্মদ আব্দুর রাজ্জাক বলেন, এ বিষয়ে খোঁজখবর নিচ্ছি।

০৭ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬
ঘুরে দাঁড়ানোর নামই জীবন : আদিবা

ঘুরে দাঁড়ানোর নামই জীবন : আদিবা

সিলেট জেলা বিএনপির নেত্রী সৈয়দা আদিবা হোসেন বলেছেন, খেলাধুলা শুধু শারীরিক ও মানসিক সুস্থতার মাধ্যমই শুধু নয়, এটি মানুষের মধ্যে ভ্রাতৃত্ববোধ, সহমর্মিতা ও নেতৃত্বের গুণাবলি তৈরি করে। খেলাধুলা আমাদের শেখায় সাময়িক হার মানেই সব শেষ নয়, বরং ঘুরে দাঁড়ানোর নামই জীবন। রোববার (৬ সেপ্টেম্বর) সরকারি এমসি একাডেমি স্কুল অ্যান্ড কলেজ মাঠে এমসি গ্রাউন্ড ক্রিকেটার্স আয়োজিত ক্রিকেট লীগের সেমিফাইনাল খেলায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। সৈয়দা আদিবা হোসেন আরও বলেন, জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগে বিএনপির ঘোষিত ইশতেহারে দেশের খেলাধুলার উন্নয়নে বেশ কিছু পরিকল্পনার কথা তুলে ধরা হয়েছে। এর মধ্যে প্রতিটি জেলা ও উপজেলায় মানসম্পন্ন ইনডোর স্টেডিয়াম নির্মাণ এবং ৬৪ জেলায় ইনডোর সুবিধাসম্পন্ন স্পোর্টস ভিলেজ নির্মাণের পরিকল্পনাও রয়েছে। তিনি বলেন, তারেক রহমানের নেতৃত্বে বিএনপি সরকার খেলাধুলার উন্নয়নে এসব পরিকল্পনা বাস্তবায়নে বিশেষ গুরুত্ব দিচ্ছে। নতুন প্রজন্মকে দক্ষ ও যোগ্য ক্রীড়াবিদ হিসেবে গড়ে তুলতে সরকার কাজ করে যাচ্ছে। তিনি আরও বলেন, খেলাধুলাকে শুধু বিনোদন হিসেবে দেখলে হবে না; এটিকে পরিপূর্ণ পেশা হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করতে হবে। একজন খেলোয়াড় যখন খেলাধুলাকে ক্যারিয়ার হিসেবে নিতে পারবেন, তখন তার পরিবারও তার ওপর আস্থা রাখতে পারবে। একই সঙ্গে একজন ক্রীড়াবিদ নিজের মেধা ও পরিশ্রমের মাধ্যমে কাঙ্ক্ষিত লক্ষ্যে সফলভাবে পৌঁছাতে পারবেন। ক্রিকেটারদের উদ্দেশে তিনি বলেন, খেলাধুলায় জয়-পরাজয় থাকবেই। পরাজয় থেকে শিক্ষা নিয়ে সামনে এগিয়ে যাওয়ার মানসিকতা তৈরি করতে হবে। নিয়মিত অনুশীলন, শৃঙ্খলা ও কঠোর পরিশ্রমের মাধ্যমে একজন খেলোয়াড় নিজেকে সফলতার জন্য প্রস্তুত করতে পারেন। সেমিফাইনাল খেলায় বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন- গোলাপগঞ্জ উপজেলা বিএনপির সিনিয়র সহসভাপতি হেলালুজ্জামান হেলাল, সহসভাপতি আব্দুল কাদির সেলিম, আমুড়া ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক ও ইউপি সদস্য কুটি মিয়া, লক্ষিপাশা ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক ফখরুল ইসলাম ও উপজেলা জাসাসের সাংগঠনিক সম্পাদক তাজির আহমদ তাজ।

০৭ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬
দুর্নীতিমুক্ত দেশ গড়তে তরুণদের এগিয়ে আসতে হবে: বিভাগীয় কমিশনার

দুর্নীতিমুক্ত দেশ গড়তে তরুণদের এগিয়ে আসতে হবে: বিভাগীয় কমিশনার

সিলেটের বিভাগীয় কমিশনার মো. মশিউর রহমান বলেছেন, দুর্নীতি প্রতিরোধে সামাজিক সচেতনতা বৃদ্ধি এবং তরুণ সমাজের সক্রিয় অংশগ্রহণ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। একটি দুর্নীতিমুক্ত, ন্যায়ভিত্তিক ও সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়ে তুলতে তরুণ প্রজন্মকে সততা, নৈতিকতা ও মূল্যবোধে বলীয়ান হয়ে এগিয়ে আসতে হবে। তিনি বলেন, দুর্নীতিবিরোধী সচেতনতা পরিবার ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠান থেকেই শুরু করা প্রয়োজন। শিশু-কিশোরদের ছোটবেলা থেকেই ন্যায়-অন্যায়, সততা ও দায়িত্ববোধ সম্পর্কে শিক্ষা দিতে হবে। শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোতে প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষার পাশাপাশি নৈতিক শিক্ষা ও মূল্যবোধের চর্চা বাড়াতে হবে। এতে ভবিষ্যৎ প্রজন্ম দেশ ও সমাজের প্রতি আরও দায়িত্বশীল হয়ে উঠবে। সোমবার (৭ সেপ্টেম্বর) সকালে নগরীর শাহী ঈদগাহস্থ স্কলার্সহোম স্কুল অ্যান্ড কলেজ অডিটোরিয়ামে জেলা দুর্নীতি প্রতিরোধ কমিটি সিলেটের উদ্যোগে ও দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) সিলেটের সার্বিক সহযোগিতায় দুর্নীতি প্রতিরোধ বিষয়ক বিতর্ক প্রতিযোগিতার পুরস্কার বিতরণ ও আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।  ‘দুর্নীতির বিরুদ্ধে তারুণ্যের একতা, গড়বে আগামীর শুদ্ধতা’ এই প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে আলোচনা সভা ও বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের বিতর্ক দলের অংশগ্রহণে প্রতিযোগিতা শেষে বিজয়ীদের মাঝে পুরস্কার বিতরণ করা হয়। জেলা দুর্নীতি প্রতিরোধ কমিটি সিলেটের সভাপতি (অব.) লে. কর্নেল মুনির আহমদ কাদেরীর সভাপতিত্বে ও স্কলার্সহোম স্কুল অ্যান্ড কলেজের প্রভাষক কামরুল হক জুয়েলের পরিচালনায় অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য রাখেন, জেলা দুর্নীতি প্রতিরোধ কমিটির সাধারণ সম্পাদক রোটারিয়ান বেলাল আহমেদ। বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) সিলেটের উপ-পরিচালক সুবেল আহমেদ। বিতর্ক প্রতিযোগিতায় মডারেটরের দায়িত্ব পালন করেন নাজমা পারভিন। প্রতিযোগিতায় সিলেট জেলার ৮টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান অংশ নেয়। এরমধ্যে ফাইনালে স্কলার্সহোম স্কুল অ্যান্ড কলেজতে হারিয়ে চ্যাম্পিয়ন হওয়ার গৌরব অর্জন করে সরকারি অগ্রগামি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় ও কলেজ। প্রধান অতিথির বক্তব্যে বিভাগীয় কমিশনার আরও বলেন, দুর্নীতির বিরুদ্ধে শুধু বক্তব্য বা প্রচার-প্রচারণার মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকলে হবে না; প্রত্যেককে নিজ নিজ অবস্থান থেকে দায়িত্ব পালন করতে হবে। সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারী, শিক্ষক, শিক্ষার্থী, জনপ্রতিনিধি, গণমাধ্যমকর্মীসহ সমাজের সর্বস্তরের মানুষকে দুর্নীতির বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধ ভূমিকা রাখতে হবে।  অনুষ্ঠানে সিলেটের বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ, সুশীল সমাজের প্রতিনিধি, বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক-শিক্ষার্থী ও দুর্নীতি দমন কমিশনের কর্মকর্তাবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।

০৭ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬
সিলেট উইমেন চেম্বারের নির্বাচিত পর্ষদের বর্ষপূর্তিতে ব্যাপক কর্মসূচি

সিলেট উইমেন চেম্বারের নির্বাচিত পর্ষদের বর্ষপূর্তিতে ব্যাপক কর্মসূচি

সিলেট উইমেন চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির ইতিহাসে প্রথমবারের মতো প্রত্যক্ষ ভোটে নির্বাচিত পরিচালনা পর্ষদের সফল এক বছর পূর্ণ হয়েছে। ২০২৫ সালের ৭ সেপ্টেম্বর আয়োজিত ঐতিহাসিক নির্বাচনে ১১ সদস্যের পরিচালনা পর্ষদে সভাপতি নির্বাচিত হন লুবানা ইয়াসমীন শম্পা। প্রথম বর্ষপূর্তি উপলক্ষে সংগঠনের পক্ষ থেকে ব্যাপক ও বর্ণাঢ্য কর্মসূচি গ্রহণ করা হয়েছে। এসব কর্মসূচিতে সিলেটের বিভিন্ন ব্যবসায়ী সংগঠনের নেতৃবর্গ, প্রশাসনের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা এবং চেম্বারের সাধারণ সদস্যদের অংশ গ্রহণের কথা রয়েছে। প্রথম বর্ষপূর্তির এই মাহেন্দ্রক্ষণে পর্ষদের বিগত এক বছরের অর্জন, সাধারণ সদস্যদের প্রাপ্তি এবং নতুন নারী উদ্যোক্তা তৈরিতে চেম্বারের ভূমিকা নিয়ে কথা বলেছেন সভাপতি লুবানা ইয়াসমীন শম্পা। শুরুতেই তিনি পর্ষদের পক্ষ থেকে সিলেটবাসীকে শুভেচ্ছা জানান এবং আয়োজিত কর্মসূচিতে যোগদানের আমন্ত্রণ জানান। অতীতের পটভূমি স্মরণ করে লুবানা ইয়াসমীন শম্পা বলেন, "২০২৪ সালের ৫ আগস্টের রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর এক ক্রান্তিলগ্নে চেম্বারের সদস্য ও সাবেক পরিচালকদের অনুরোধে আমি ভারপ্রাপ্ত সভাপতির দায়িত্ব নিই। পরবর্তীতে সংগঠনে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে প্রশাসক নিয়োগ থেকে শুরু করে পুরো নির্বাচন প্রক্রিয়া সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করি। দায়িত্ব নেওয়ার পর একটি প্রতিষ্ঠানকে শক্ত ভিতের ওপর দাঁড় করাতে সহ-সভাপতি ও ৯ জন পরিচালকসহ পুরো ১১ সদস্যের পর্ষদ একযোগে কাজ করেছি।" তিনি জানান, গত এক বছরে সদস্যদের উন্নয়ন ও সক্ষমতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে উদ্যোক্তা প্রশিক্ষণ, হস্তশিল্প তৈরি, সহজ শর্তে ঋণদান বিষয়ক সেমিনারসহ একাধিক কার্যকর পদক্ষেপ বাস্তবায়ন করা হয়েছে। পাশাপাশি এসএমই ফাউন্ডেশনের উদ্যোগে আয়োজিত বিভিন্ন সেমিনার ও প্রশিক্ষণ কর্মশালায় সদস্যদের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করা হয়েছে। এইসব কর্মসূচী শুধু শহরেকন্দ্রীক সীমাবদ্ধ ছিল না বরং সিলেটের বেশ কয়েকটি জেলায় প্রান্তিক নারীদের নিয়ে প্রশিক্ষণ কর্মসূচীর মাধ্যমে তাদের উদ্যোক্তা হওয়ার দ্বার উন্মুক্ত করে দেওয়া হয়েছে। তিনি বলেন, চেম্বারের ফান্ড গঠনেও আমি এবং পরিষদ একযোগে কাজ করেছি এবং সফলতা লাভ করেছি। এদিকে পরিষদেরে এক বছর পূর্তি উপলক্ষে লুবানা ইয়াসমীন শম্পা চেম্বারের অগ্রগতিতে অবদান রাখায় সরকারের দুজন মন্ত্রীর প্রতি বিশেষ কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। তারা হলেন, সিলেট-১ আসনের সংসদ সদস্য ও বাণিজ্য মন্ত্রী খন্দকার আবদুল মুক্তাদির এবং সিলেট-৪ আসনের সংসদ সদস্য ও প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী।  সভাপতি বলেন, "তাদের অব্যাহত সহযোগিতা ও দিকনির্দেশনা ছাড়া আমাদের গৃহীত পদক্ষেপগুলো বাস্তবায়ন করা সম্ভব হতো না। বিশেষ করে প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রী শুরু থেকেই আমাদের এই অগ্রযাত্রায় সহায়কের ভূমিকা পালন করেছেন। আশা করি, ভবিষ্যতেও উইমেন চেম্বারের প্রতি তাদের এই সমর্থনের ধারা বজায় থাকবে।" সাম্প্রতিক কিছু অপপ্রচারের বিষয়ে দৃষ্টি আকর্ষণ করা হলে সভাপতি স্পষ্ট ভাষায় বলেন, "সিলেট উইমেন চেম্বার কারো ব্যক্তিগত বা সামাজিক প্রাইভেট প্রতিষ্ঠান নয়। এটি বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের নীতিমালা অনুযায়ী পরিচালিত একটি প্রাতিষ্ঠানিক সংস্থা। বিগত দিনেও সিলেটের মন্ত্রী, সংসদ সদস্য কিংবা সিটি করপোরেশনের মেয়রের উপস্থিতিতে আয়োজিত সরকারি বা প্রাতিষ্ঠানিক প্রোগ্রামে চেম্বারের প্রতিনিধিত্ব করতে হয়েছে। এর অর্থ কোনো রাজনৈতিক দলের সঙ্গে যুক্ত হওয়া নয়; বরং সরকারের উন্নয়ন কর্মকাণ্ডকে গতিশীল করা এবং দেশের আর্থ-সামাজিক পরিবর্তনের অংশ হওয়া।" তিনি আরও যোগ করেন, "গঠনতন্ত্র অনুযায়ী একক সিদ্ধান্তের কোনো সুযোগ এখানে নেই। প্রতিটি সিদ্ধান্ত পরিচালনা পর্ষদের সংখ্যাগরিষ্ঠের মতামতের ভিত্তিতে রেজুলেশন আকারে গৃহীত হয়। ব্যক্তিগতভাবে আমি কোনোদিন কোনো রাজনৈতিক দলের সাথে সম্পৃক্ত ছিলাম না। অথচ আমাকে রাজনৈতিকভাবে বিকৃত করার উদ্দেশ্যে পরিবারকে টেনে এনে কালিমা লেপনের চেষ্টা করা হচ্ছে, যা চরম হীন মানসিকতার পরিচয়।" চেম্বারের বাণিজ্য মেলা সংক্রান্ত বিতর্ক নিয়ে তিনি বলেন, "মন্ত্রণালয়ের বাৎসরিক ক্যালেন্ডার অনুযায়ী বাণিজ্য মেলা আয়োজনের বৈধ অধিকার সিলেট উইমেন চেম্বারের রয়েছে। এই প্রক্রিয়ায় পুরো পরিচালনা পর্ষদ যুক্ত থাকে। পর্ষদের বাইরে কোনো ব্যক্তির সঙ্গে মেলার নামে আর্থিক লেনদেন বা গোপন চুক্তির সুযোগ নেই। মেলার গোপন চুক্তির বিষয়টি সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন ও রটনা।" যেমন চেম্বারের সহ-সভাপতি ও একজন পরিচালকের বক্তব্য বিকৃত করে অপপ্রচার বিষয়ে তিনি বলেন, "তাদের নিয়ে মিথ্যাচার করা হয়েছে। কারণ নাম উল্লেখ করাদের মধ্যে জাকিয়া ফাতেমা লিমি চৌধুরী দেশের বাহিরে অবস্থান করছেন।  গণমাধ্যমে তাঁর নামে বক্তব্য প্রকাশ করায় তিনি বিস্ময় প্রকাশ করেছেন। একইসাথে তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ লিখিতে আকারে জানিয়েছেন। অপরদিকে সহ-সভাপতি চেম্বার সভাপতির কোন অনিয়ম বা স্বেচ্চাচারীতা বিষয়ে কিছু বলেন নি। তিনি বলেছেন, মেলা অনুমোদনের বিষয়টি তিনি জানেনি। ইতোমধ্যে তাদের দু’জনের পক্ষ থেকে লিখিতভাবে ওই মিথ্যাচারের তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছেন। তিনি বলেন, অপপ্রচার চালিয়ে উইমেন চেম্বারের অগ্রযাত্রাকে কখনো থামানো যাবে না। সত্যের জয় নিশ্চিতভাবেই হবে।"

০৭ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬
সাড়ে ১১ হাজার ডাক্তার নিয়োগ দেবে সরকার: স্বাস্থ্যমন্ত্রী

সাড়ে ১১ হাজার ডাক্তার নিয়োগ দেবে সরকার: স্বাস্থ্যমন্ত্রী

স্বাস্থ্য ও পরিবারকল্যাণমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন জানিয়েছেন, দেশের সরকারি হাসপাতালগুলোতে চিকিৎসকের অনুমোদিত ৪১ হাজার ৮০৬টি পদের মধ্যে ১১ হাজার ৪৯৫টি পদ শূন্য রয়েছে। এসব শূন্যপদে যত দ্রুত সম্ভব চিকিৎসক নিয়োগ দিয়ে জনগণের স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করা হবে। সোমবার (৭ সেপ্টেম্বর) জাতীয় সংসদের অধিবেশনে প্রশ্নোত্তর পর্বে সংসদ সদস্য মো. মোশারফ হোসেনের এক প্রশ্নের উত্তরে তিনি এ তথ্য জানান। এ সময় স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ বীরবিক্রম অধিবেশনে সভাপতিত্ব করেন। স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, বর্তমানে দেশের সরকারি হাসপাতালগুলোতে চিকিৎসকের অনুমোদিত মোট ৪১ হাজার ৮০৬টি পদের বিপরীতে ৩০ হাজার ৩১১ জন চিকিৎসক কর্মরত রয়েছেন। ফলে ১১ হাজার ৪৯৫টি পদ শূন্য রয়েছে। ‘দেশের জনসংখ্যার অনুপাতে চিকিৎসকের প্রয়োজনীয়তা নির্ধারণে আন্তর্জাতিক ও জাতীয় স্বাস্থ্য জনবল মানদণ্ড বিবেচনা করা হয়’ উল্লেখ করে তিনি আরও বলেন, ২০২৬ সালের একটি সরকারি অর্থায়নে পরিচালিত গবেষণা অনুযায়ী, বিশ্ব স্বাস্থ্যসংস্থার ন্যূনতম মানদণ্ড-প্রতি এক হাজার জনে দশমিক ৫০ জন চিকিৎসক-অনুসারে ২০২৬ সালে বাংলাদেশে প্রায় ৮৮ হাজার ৯০৯ জন চিকিৎসকের প্রয়োজন হবে। স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, দেশে চিকিৎসকের সামগ্রিক সংখ্যা এবং সরকারি স্বাস্থ্যসেবা ব্যবস্থায় কর্মরত চিকিৎসকের সংখ্যা এক নয়। সরকারি স্বাস্থ্যসেবা প্রতিষ্ঠানে চিকিৎসকের শূন্যপদ পূরণ এবং জনগণের প্রয়োজন অনুযায়ী চিকিৎসকের সংখ্যা বাড়ানোর লক্ষ্যে সরকার ইতিমধ্যে বিভিন্ন নিয়োগ কার্যক্রম গ্রহণ করেছে। তিনি জানান, ৪৪তম ও ৪৮তম বিশেষ বিসিএসের মাধ্যমে উল্লেখযোগ্যসংখ্যক চিকিৎসক নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। এ ছাড়া ৪৫তম, ৪৬তম, ৪৭তম ও ৫০তম বিসিএসের মাধ্যমেও সহকারী সার্জন নিয়োগের কার্যক্রম চলমান রয়েছে। সরকারের চলমান নিয়োগ কার্যক্রমের মাধ্যমে সরকারি স্বাস্থ্যসেবা প্রতিষ্ঠানের শূন্য পদগুলো পর্যায়ক্রমে পূরণ এবং প্রয়োজন অনুযায়ী নতুন পদ সৃষ্টির মাধ্যমে দেশের জনগণের জন্য সহজলভ্য, মানসম্মত ও জনবান্ধব স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করার কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে বলেও জানান স্বাস্থ্যমন্ত্রী।

০৭ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬
সিলেটে বেঙ্গল লাউঞ্জ ও পাঁচ ভাই রেস্টুরেন্টকে জরিমানা

সিলেটে বেঙ্গল লাউঞ্জ ও পাঁচ ভাই রেস্টুরেন্টকে জরিমানা

সিলেটে চারটি রেস্টুরেন্টে অভিযান চালিয়েছে জেলা প্রশাসন ও সিভিল সার্জন কার্যালয়ের সমন্বয়ে গঠিত ভ্রাম্যমাণ আদালত। এ সময় রান্নাঘরের অপরিচ্ছন্নতা ও অস্বাস্থ্যকর পরিবেশের কারণে দুটি রেস্টুরেন্টকে মোট ৩০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে। সোমবার (৭ সেপ্টেম্বর) বিকালে নগরের বিভিন্ন রেস্টুরেন্টে এ অভিযান চালানো হয়। অভিযানে পাঁচ ভাই, বেঙ্গল লাউঞ্জ, পানসী ও রাজবাড়ি রেস্টুরেন্টের রান্নাঘর, ফ্রিজ, নিবন্ধনসহ বিভিন্ন বিষয় পরিদর্শন ও যাচাই করা হয়। অভিযানে নেতৃত্ব দেন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মাসুম আহমেদ লুনা। অভিযানকালে রান্নাঘর নোংরা ও অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে খাবার প্রস্তুতের অভিযোগে বেঙ্গল লাউঞ্জ ও পাঁচ ভাই রেস্টুরেন্টকে ১৫ হাজার টাকা করে মোট ৩০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়। একই সঙ্গে ভবিষ্যতে স্বাস্থ্যসম্মত পরিবেশ নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্টদের সতর্ক করা হয়। অন্যদিকে, পানসী রেস্টুরেন্টে অভিযানকালে উল্লেখযোগ্য কোনো অসঙ্গতি পাওয়া যায়নি। তবে রাজবাড়ি রেস্টুরেন্টের নিবন্ধন নিয়ে জটিলতার বিষয়টি সামনে আসে। প্রতিষ্ঠানটির পক্ষ থেকে জানানো হয়, নিবন্ধনের জন্য প্রয়োজনীয় কাগজপত্র প্রায় দুই বছর আগে জমা দেওয়া হলেও এখনো জেলা প্রশাসনের নিবন্ধন সনদ পাওয়া যায়নি। অভিযান পরিচালনাকারী কর্মকর্তারা জানান, খাবারের মান, রান্নাঘরের পরিবেশ, সংরক্ষণ ব্যবস্থা, ফ্রিজ ও প্রয়োজনীয় নিবন্ধনসহ বিভিন্ন বিষয় নিয়মিত নজরদারির আওতায় আনা হচ্ছে।

০৭ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬
মৌলভীবাজারে পুকুরের পানিতে ডুবে শিশুর মৃত্যু

মৌলভীবাজারে পুকুরের পানিতে ডুবে শিশুর মৃত্যু

মৌলভীবাজারের বড়লেখায় খেলতে গিয়ে পুকুরের পানিতে ডুবে সৃজয়ী দাস নামের ২ বছর বয়সী এক শিশুর মৃত্যু হয়েছে। মৃত সৃজয়ী দাস ওই গ্রামের শাওন দাসের একমাত্র কন্যা। সোমবার (৭ সেপ্টেম্বর) দুপুরের দিকে উপজেলার দাসেরবাজার ইউনিয়নের পূর্ব লঘাটি গ্রামে এ দুর্ঘটনা ঘটে। স্থানীয়রা জানান,, সোমবার বেলা ১১টার দিকে সৃজয়ী বাড়ির আঙিনায় খেলছিল। এ সময় তার মা রান্নাঘরে এবং বাবা শাওন দাস বাথরুমে ছিলেন। কিছু সময় পর বাবা ফিরে এসে মেয়েকে দেখতে না পেয়ে বাড়ির চারপাশে খোঁজ শুরু করেন। একপর্যায়ে বাড়ির পাশের পুকুরে শিশুটিকে ভেসে থাকতে দেখে দ্রুত তাকে উদ্ধার করে পার্শ্ববর্তী বিয়ানীবাজার উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে চিকিৎসক শিশুটিকে মৃত ঘোষণা করেন।  বড়লেখা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মনিরুজ্জামান খান জানান, খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। এ ব্যাপারে থানায় একটি অপমৃত্যু (ইউডি) মামলা করা হয়েছে।

০৭ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬
মন্ত্রী আরিফ চৌধুরীর সিলেটে ‘লম্বা’ সফর

মন্ত্রী আরিফ চৌধুরীর সিলেটে ‘লম্বা’ সফর

প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয় এবং শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বপ্রাপ্ত মন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী এমপি আগামী ৮ সেপ্টেম্বর থেকে ১৪ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত সাতদিনের সরকারি ও পারিবারিক সফরে সিলেটে অবস্থান করবেন।  সোমবার (৭ সেপ্টেম্বর) মন্ত্রীর দপ্তর থেকে বিজন কুমার সিংহ (উপসচিব) স্বাক্ষরিত এক সফরসূচিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে।   সফরসূচি অনুযায়ী, মঙ্গলবার (৮ সেপ্টেম্বর) বিকালে ঢাকা সচিবালয় থেকে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর হয়ে বিমানযোগে সিলেট পৌঁছাবেন মন্ত্রী। বিমানবন্দরে উপস্থিতি শেষে তিনি সরাসরি সিলেটের নিজ বাসভবনে যাবেন এবং রাত্রিযাপন করবেন। সফরের দ্বিতীয় দিন বুধবার (৯ সেপ্টেম্বর) সকালে তিনি কোম্পানীগঞ্জ উপজেলার উদ্দেশ্যে রওয়ানা হবেন। সেখানে স্থানীয় বিভিন্ন উন্নয়নমূলক প্রকল্প পরিদর্শনের পাশাপাশি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের স্বাস্থ্যসেবা কার্যক্রম পর্যবেক্ষণ ও মতবিনিময় করবেন। পরে কোম্পানীগঞ্জ উপজেলা পরিষদ সম্মেলন কক্ষে বাংলাদেশ শ্রমিক কল্যাণ ফাউন্ডেশন হতে শ্রমজীবী ও তাঁদের পরিবারের মাঝে চিকিৎসা ও শিক্ষার আর্থিক সহায়তার চেক বিতরণ করবেন। একইদিন বিকেলে গোয়াইনঘাট উপজেলা পরিষদেও অনুরূপ চেক বিতরণ শেষে সন্ধ্যায় সিলেটে নিজ বাসভবনে ফিরবেন।   বৃহস্পতিবার (১০ সেপ্টেম্বর) জৈন্তাপুর উপজেলা সফর করবেন মন্ত্রী। সেখানে বিভিন্ন সরকারি দপ্তরের প্রধানদের সঙ্গে মতবিনিময় এবং উপজেলা পরিষদ সম্মেলন কক্ষে শ্রমিক কল্যাণ ফাউন্ডেশনের আর্থিক সহায়তার চেক বিতরণ কার্যক্রম সম্পন্ন করবেন। সফরসূচি অনুযায়ী, আগামী ১১ থেকে ১৩ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত তিনি সিলেটে নিজ বাসভবনে অবস্থান করে বিভিন্ন পারিবারিক অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণ করবেন।  সফর শেষে সোমবার (১৪ সেপ্টেম্বর) সকালে সিলেট ওসমানী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে বিমানযোগে ঢাকার উদ্দেশ্যে রওয়ানা দিয়ে সচিবালয়ে দাপ্তরিক কাজে যোগ দেওয়ার কথা রয়েছে।

০৭ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬
ইমাম-মুয়াজ্জিন-পুরোহিতদের সম্মানী দেবে সরকার

ইমাম-মুয়াজ্জিন-পুরোহিতদের সম্মানী দেবে সরকার

মসজিদ, মন্দির, বৌদ্ধ বিহার ও গির্জায় কর্মরত ইমাম, মুয়াজ্জিন, খাদেম, পুরোহিত, সেবাইত, বিহার অধ্যক্ষ, বিহার উপাধ্যক্ষ, যাজক ও সহকারী যাজকদের জন্য মাসিক সম্মানী দেওয়ার উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। এ সুবিধা পেতে নির্ধারিত শর্ত পূরণ করে আবেদন করতে হবে। আবেদনের সঙ্গে জাতীয় পরিচয়পত্র, ছবি, নিয়োগপত্রসহ নির্ধারিত কিছু কাগজপত্র জমা দিতে হবে। রোববার (৬ সেপ্টেম্বর) ধর্ম বিষয়ক মন্ত্রণালয় ‘মসজিদ ও অন্যান্য ধর্মীয় উপাসনালয়ে কর্মরত ব্যক্তিবর্গের আর্থিক ও সামাজিক মূল্যবোধ নিশ্চিতে সম্মানি ও প্রশিক্ষণভিত্তিক কল্যাণ ব্যবস্থা নীতিমালা, ২০২৬’ শীর্ষক নীতিমালা জারি করে। নীতিমালাটি সরকারি গেজেটে প্রকাশের দিন থেকেই কার্যকর হয়েছে। কারা কত সম্মানী পাবেন নীতিমালা অনুযায়ী, নির্বাচিত ধর্মীয় উপাসনালয়ে কর্মরত ব্যক্তিদের পদ অনুযায়ী মাসিক সম্মানী দেওয়া হবে। ইমাম, পুরোহিত, বিহার অধ্যক্ষ ও যাজক/পালক: মাসে ৫ হাজার টাকা মুয়াজ্জিন, সেবাইত বিহার উপাধ্যক্ষ ও সহকারী যাজক/পালক: মাসে ৩ হাজার টাকা খাদেম : মাসে ২ হাজার টাকা তবে এই সম্মানী কোনো সরকারি বেতন বা ভাতা হিসেবে গণ্য হবে না। এটি রাষ্ট্রীয় সম্মানী হিসেবে বিবেচিত হবে। সম্মানিভোগীরা এ সুবিধার ভিত্তিতে কোনোভাবেই স্থায়ী সরকারি নিয়োগের দাবি করতে পারবেন না। কারা সম্মানী পাওয়ার জন্য যোগ্য সম্মানী পেতে আবেদনকারীকে বাংলাদেশের স্থায়ী নাগরিক হতে হবে। পাশাপাশি উপজেলা কমিটি বা সিটি কর্পোরেশনের অঞ্চলভিত্তিক কমিটি কর্তৃক নির্বাচিত মসজিদ, মন্দির, বৌদ্ধ বিহার বা গির্জায় কর্মরত থাকতে হবে। সংশ্লিষ্ট ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানে কর্মরত ব্যক্তির নিয়োগপত্র থাকাও বাধ্যতামূলক। সরকারি, স্বায়ত্তশাসিত, রাষ্ট্রায়ত্ত বা ট্রাস্ট পরিচালিত এবং স্থায়ী অনুদানপ্রাপ্ত যেসব ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানে কর্মরত ব্যক্তিরা ইতোমধ্যে বেতন-ভাতা পান, তারা এই সুবিধার আওতায় থাকবেন না। এ ছাড়া অন্য কোনো সরকারি, স্বায়ত্তশাসিত, রাষ্ট্রায়ত্ত, ট্রাস্ট, বিদেশি সংস্থা বা উন্নয়ন প্রকল্প থেকে কোনো ধরনের বেতন-ভাতা গ্রহণ করলেও এই কর্মসূচির আওতায় সম্মানী পাওয়া যাবে না। কোন উপাসনালয় অগ্রাধিকার পাবে যেসব ধর্মীয় উপাসনালয়ের আয় তুলনামূলক কম এবং যেগুলো প্রত্যন্ত বা দুর্যোগপ্রবণ এলাকায় অবস্থিত, সেগুলোকে অগ্রাধিকার দেওয়া হবে। জুমার নামাজ অনুষ্ঠিত হয় এমন মসজিদ এ সুবিধার আওতায় আসবে। তবে হাওর, পার্বত্য ও চরাঞ্চলের মসজিদের ক্ষেত্রে এ শর্ত শিথিল করা যাবে। এ ছাড়া সংশ্লিষ্ট ধর্মীয় উপাসনালয়ের স্থায়ী অবকাঠামো এবং নিয়মিত পরিচালনা কার্যক্রম চালু থাকতে হবে। আবেদনে যেসব কাগজ লাগবে সম্মানীর জন্য নির্ধারিত ফরমে আবেদন করতে হবে। আবেদনপত্রের সঙ্গে যেসব কাগজপত্র দিতে হবে— ১. জাতীয় পরিচয়পত্রের (এনআইডি) ফটোকপি ২. ২ কপি পাসপোর্ট সাইজের রঙিন ছবি ৩. সর্বশেষ শিক্ষাগত যোগ্যতার সনদপত্র ৪. ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানের পরিচালনা কমিটির দেওয়া নিয়োগপত্রের কপি ৫. ব্যাংক স্টেটমেন্ট অথবা এমআইসিআর চেকের পাতার স্পষ্ট কপি ৬. ব্যাংক হিসাবের ক্ষেত্রে প্রয়োজনীয় রাউটিং নম্বর ও হিসাবসংক্রান্ত তথ্য ৭. মোবাইল ব্যাংকিংয়ের মাধ্যমে অর্থ গ্রহণ করলে নিজের জাতীয় পরিচয়পত্র দিয়ে খোলা ব্যক্তিগত মোবাইল ব্যাংকিং হিসাবের নম্বর নীতিমালা অনুযায়ী, আবেদনকারীর ব্যাংক হিসাব বা মোবাইল ব্যাংকিং হিসাবটি তাঁর নিজের নামে হতে হবে। কোথায় আবেদন করতে হবে আগ্রহী ব্যক্তিদের নির্ধারিত ফরমে আবেদন করতে হবে। সিটি করপোরেশন এলাকার আবেদনকারীদের সংশ্লিষ্ট সিটি করপোরেশনের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তার কার্যালয়ে এবং উপজেলা পর্যায়ের আবেদনকারীদের উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কার্যালয়ে আবেদন জমা দিতে হবে। আবেদন পাওয়ার পর সংশ্লিষ্ট সিটি করপোরেশনের অঞ্চলভিত্তিক কমিটি বা উপজেলা কমিটি আবেদন ও কাগজপত্র যাচাই করবে। কীভাবে যাচাই হবে সিটি করপোরেশন এলাকায় প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তাকে আহ্বায়ক করে অঞ্চলভিত্তিক কমিটি এবং উপজেলা পর্যায়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে আহ্বায়ক করে কমিটি গঠন করা হবে। কমিটি আবেদন যাচাই-বাছাই করে যোগ্য ব্যক্তিদের তথ্য ডিজিটাল ডাটাবেজ বা বেনিফিশিয়ারি ম্যানেজমেন্ট ইনফরমেশন সিস্টেমে অন্তর্ভুক্ত করার ব্যবস্থা করবে। প্রতিটি নির্বাচিত ধর্মীয় উপাসনালয়ের জন্য একটি ইউনিক পরিচিতি নম্বরও সংরক্ষণ করা হবে। কীভাবে টাকা দেওয়া হবে সম্মানীর অর্থ সরাসরি সুবিধাভোগীর ব্যাংক হিসাব অথবা মোবাইল ব্যাংকিং হিসাবের মাধ্যমে দেওয়া হবে। ইলেকট্রনিক ফান্ড ট্রান্সফারের মাধ্যমে অর্থ পাঠানো হবে এবং অর্থ বিভাগের আইবাস++ ব্যবস্থায় তা প্রক্রিয়াকরণ করা হবে। কোন কারণে সম্মানী বাতিল হতে পারে নীতিমালায় বেশ কিছু কারণে সম্মানী বাতিলের বিধান রাখা হয়েছে। নৈতিক স্খলন বা ফৌজদারি অপরাধে দণ্ডিত হলে, সংশ্লিষ্ট ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান থেকে চাকরিচ্যুত বা স্বেচ্ছায় পদত্যাগ করলে এবং তথ্যে জালিয়াতি প্রমাণিত হলে সম্মানী বাতিল হবে। এ ছাড়া রাষ্ট্রবিরোধী বা অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকা, সংশ্লিষ্ট ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানে কর্মরত না থাকা এবং কোনো রাজনৈতিক দলের সদস্য হওয়া সম্মানী বাতিলের কারণ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। কোনো সম্মানিভোগী মারা গেলেও তার সম্মানী বাতিল হবে। সিদ্ধান্তে আপত্তি থাকলে কী করবেন আবেদন যাচাইয়ের পর কমিটির সিদ্ধান্তে কোনো আবেদনকারী সংক্ষুব্ধ হলে সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে ৩০ দিনের মধ্যে সংশ্লিষ্ট সিটি করপোরেশনের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা বা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কাছে পুনর্বিবেচনার আবেদন করতে পারবেন। কমিটিকে আবেদন পাওয়ার সর্বোচ্চ ১৫ দিনের মধ্যে অভিযোগ নিষ্পত্তি করতে হবে। নিয়মিত তদারকিও হবে সম্মানী প্রদানের কার্যক্রম স্বচ্ছ রাখতে নিয়মিত তদারকি ও অডিটের ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। মাঠপর্যায়ে প্রতি তিন মাস অন্তর অন্তত ১০ শতাংশ মসজিদ ও অন্যান্য ধর্মীয় উপাসনালয় সরেজমিনে পরিদর্শন করে সম্মানিভোগীদের উপস্থিতি ও তথ্য যাচাই করা হবে। যোগ্য ব্যক্তি সম্মানী থেকে বঞ্চিত হলে বা কোনো অনিয়ম দেখা দিলে ডাকযোগে, অনলাইনে অভিযোগ প্রতিকার ব্যবস্থায় (জিআরএস) অথবা সরাসরি ধর্ম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ে অভিযোগ করা যাবে। সরকারের এ উদ্যোগের আওতায় ধর্মীয় উপাসনালয়ে কর্মরত ব্যক্তিদের আর্থিক সহায়তার পাশাপাশি প্রশিক্ষণের মাধ্যমে দক্ষতা উন্নয়নের ব্যবস্থাও রাখা হয়েছে। এর লক্ষ্য তাদের আর্থ-সামাজিক অবস্থার উন্নয়ন, ধর্মীয় ও নৈতিক শিক্ষায় অবদানের স্বীকৃতি এবং ধর্মীয় সম্প্রীতি ও সামাজিক শৃঙ্খলা জোরদার করা।

০৭ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬
সিলেটে নিষিদ্ধ সংগঠনের আরও ৪ কর্মী গ্রেফতার

সিলেটে নিষিদ্ধ সংগঠনের আরও ৪ কর্মী গ্রেফতার

সিলেটে নিষিদ্ধঘোষিত ছাত্রলীগের আরও ৪ সক্রিয় কর্মীকে গ্রেফতার করেছে কোতোয়ালি মডেল থানাপুলিশ। রবিবার (৬ সেপ্টেম্বর) দিবাগত মধ্যরাতে মহানগরের রিকাবীবাজার পয়েন্ট এলাকা থেকে তাঁদের গ্রেফতার করা হয়। গ্রেফতারকৃতরা হলেন- বিয়ানীবাজার উপজেলা ছাত্রলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক এসএইচ উবায়েদ প্রকাশ সুফিয়ান হোসেন (২৭), এহসান হোসেন (২৫), আব্দুল্লাহ আল রাহি (২৫) এবং শাহ তাহমিদ আহমদ (৩৩)। গ্রেফতারকৃতদের মধ্যে সুফিয়ান হোসেন শাহপরাণ থানার স্প্রিং টাওয়ারের বাসিন্দা এবং বাকি তিনজন বিয়ানীবাজারের বিভিন্ন এলাকার বাসিন্দা বলে জানা গেছে। সিলেট মেট্রোপলিটন পুলিশের (এসএমপি) মিডিয়া অফিসার অতিরিক্ত উপ-কমিশনার মো. মঞ্জুরুল আলম জানান- গ্রেফতারকৃত আসামিরা সিলেট মহানগরের বিভিন্ন স্থানে সংগঠিত হয়ে রাষ্ট্রবিরোধী স্লোগান ও ঝটিকা মিছিলের চেষ্টা চালিয়ে আসছিলো। এসব ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে সন্ত্রাসবিরোধী আইনে কোতোয়ালী মডেল থানায় ইতিপূর্বে দুটি মামলা দায়ের করা হয়। এ মামলার তদন্তে প্রাপ্ত তথ্যের ভিত্তিতে রিকাবীবাজার এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেফতার করা হয়। জানা গেছে, গ্রেফতারকৃত ছাত্রলীগ নেতা সুফিয়ান হোসেনের বিরুদ্ধে বিয়ানীবাজার থানায় পূর্বের আরও তিনটি ফৌজদারি মামলা রয়েছে। গ্রেফতারকৃত চারজনকে আজ সোমবার (৭ সেপ্টেম্বর) আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ শেষে বিজ্ঞ আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে। এর আগে নিষিদ্ধ ছাত্রলীগের একজনকে শুক্রবার (৪ সেপ্টেম্বর) মহানগরের জল্লারপাড় এলাকা থেকে এবং আরেকজনকে রবিবার (৬ সেপ্টেম্বর) দুপুরে নেহারীপাড়া এলাকা থেকে গ্রেফতার করা হয়। গ্রেফতারকৃত ওই দুজন ছিলেন- ময়মনসিংহ জেলার ধোবাউড়া থানার কামালপুর গ্রামের মো. আবু বক্কর সিদ্দিকের ছেলে মো. সোহেল আহমদ (২০) ও সুনামগঞ্জ জেলার ছাতক থানার দিঘলী রামপুর গ্রামের আব্দুস শহীদের ছেলে রবিউল ইসলাম হৃদয় (২৬)। তারা দুজনই সিলেট মহানগরে বসবাস করতেন।

০৭ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬
গোলাপগঞ্জ সাংবাদিক কল্যাণ সমিতির নতুন কমিটি

গোলাপগঞ্জ সাংবাদিক কল্যাণ সমিতির নতুন কমিটি

২০০৮ সালে প্রতিষ্ঠিত গোলাপগঞ্জ সাংবাদিক কল্যাণ সমিতির আগামী দুই বছরের জন্য (২০২৬-২৮ সাল) কমিটি গঠন করা হয়েছে। এটি সমিতির ৬ষ্ঠ তম কমিটি। শনিবার (৫ সেপ্টেম্বর) রাতে পৌর শহরের মর্তুজা মার্কেটে সমিতির অস্থায়ী কার্যালয়ে ১৩ সদস্য বিশিষ্ট এ কমিটি ঘোষণা করা হয়। এর আগে গোলাপগঞ্জ সাংবাদিক কল্যাণ সমিতির সাধারণ সভা অনুষ্ঠিত হয়। সংগঠনের সভাপতি মাহবুবুর রহমান চৌধুরীর সভাপতিত্বে ও সাধারণ সম্পাদক ফখরুল ইসলাম শাকিলের পরিচালনায় সভা অনুষ্ঠিত হয়। নবগঠিত কমিটিতে দেলোয়ার হোসেন মাহমুদকে সভাপতি (দৈনিক পূণ্যভূমি) ও ফাহাদ হোসাইনকে সাধারণ সম্পাদক (দৈনিক সিলেটের সংবাদ) নির্বাচিত করা হয়। কমিটির অন্যান্যরা হলেন, সিনিয়র সহসভাপতি সুলতান মাহমুদ (দৈনিক ভোরের আওয়াজ), সহসভাপতি আব্দুল্লাহ আহমদ (যায়যায়দিন), সহসভাপতি দেলওয়ার হোসেন মান্না (ইনকিলাব), সহসাধারণ সম্পাদক ওলিউর রহমান তামিম (আরটিভি), সাংগঠনিক সম্পাদক রিমন আহমদ (দৈনিক সচিত্র সিলেট), দপ্তর সম্পাদক তামিম আহমদ (আমার কুলাউড়া), কোষাধ্যক্ষ সাকেল উদ্দিন (এশিয়া বাণী), প্রচার সম্পাদক জাবেদ আহমদ (জিবি সময়), নির্বাহী সদস্য সালমান কাদের দিপু (কুশিয়ারা নিউজ), ইমন আহমদ (সাপ্তাহিক হলি সিলেট) ও শিপন আহমদ (ফটো সাংবাদিক দৈনিক সংগ্রাম প্রতিদিন)।

০৭ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬
সিকৃবির ৯ শিক্ষক-কর্মকর্তার পদত্যাগ

সিকৃবির ৯ শিক্ষক-কর্মকর্তার পদত্যাগ

সিলেট কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের (সিকৃবি) বিভিন্ন প্রশাসনিক দায়িত্ব থেকে ৫ শিক্ষকসহ ৯ শিক্ষক-কর্মকর্তা পদত্যাগ করেছেন। বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. আলিমুল ইসলামের বিরুদ্ধে অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ তুলে সোমবার দুপুরে তারা রেজিস্ট্রারের কাছে পদত্যাগপত্র জমা দেন। এদিকে এ ঘটনার পর পরই উপাচার্যের অপসারণের দাবিতে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনিক ভবনের সামনে মানববন্ধন ও অবস্থান কর্মসূচি পালন করেন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক, কর্মকর্তা, কর্মচারী ও শিক্ষার্থীদের একটি অংশ। পদত্যাগকারীদের মধ্যে বিভিন্ন আবাসিক হলের প্রভোস্টসহ বিশ্ববিদ্যালয়ের গুরুত্বপূর্ণ প্রশাসনিক দায়িত্বে থাকা শিক্ষক-কর্মকর্তারা রয়েছেন। তারা হলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের এমএজি ওসমানী হলের প্রভোস্ট অধ্যাপক ড. মো. কাওছার হোসেন, শহীদ জিয়া হলের প্রভোস্ট অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ ইউসুফ মিয়া, হযরত শাহজালাল (র.) হলের প্রভোস্ট অধ্যাপক ড. মো. নাজমুল হক, হযরত শাহপরান (র.) হলের প্রভোস্ট অধ্যাপক ড. মো. জসিম উদ্দিন, দূররে সামাদ রহমান হলের প্রভোস্ট অধ্যাপক ড. মো. শাহজাহান মজুমদার, ঢাকার গেস্ট হাউসের অফিসার ইনচার্জ মো. বাসির উদ্দিন, পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক গাজী মো. জহিরুল ইসলাম, শরীরচর্চা শিক্ষা বিভাগের পরিচালক মোহাম্মদ নেয়ামত উল্যাহ, অতিরিক্ত রেজিস্ট্রার মো. আশরাফুজ্জামান, ক্যাম্পাসের গেস্ট হাউসের অফিসার ইনচার্জ গাজী মোহাম্মদ জহিরুল ইসলাম ও ডেপুটি রিজিস্ট্রার মো. বাসির উদ্দিন। তাদের অভিযোগ, বর্তমান প্রশাসন দায়িত্ব নেওয়ার পর বিশ্ববিদ্যালয়ের উন্নয়ন ও নির্মাণকাজ, ক্রয়প্রক্রিয়া এবং শিক্ষক নিয়োগে বিভিন্ন অনিয়ম হয়েছে। এসব বিষয়ে আপত্তি জানিয়েও কার্যকর ব্যবস্থা না পাওয়ায় তারা প্রশাসনিক দায়িত্ব থেকে সরে দাঁড়ানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। পদত্যাগকারী শিক্ষক-কর্মকর্তারা জানান, বিশ্ববিদ্যালয়ের উন্নয়ন কার্যক্রম একটি প্রতিষ্ঠানের জন্য গুরুত্বপূর্ণ। কিন্তু বর্তমান প্রশাসন দায়িত্ব নেওয়ার পর বড় কোনো উন্নয়ন প্রকল্প গ্রহণ করতে পারেনি। ফলে নির্মাণ ও উন্নয়নকাজ অনেকটা স্থবির হয়ে আছে। এর মধ্যে রাজস্ব খাতের অর্থে কিছু উন্নয়ন ও মেরামতের কাজ করা হলেও এসব কাজে সরকারি ক্রয়বিধি (পিপিআর) যথাযথভাবে অনুসরণ করা হয়নি বলে তাদের অভিযোগ। তারা আরও অভিযোগ করেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের অডিটোরিয়াম আনুষ্ঠানিকভাবে টেকওভার করার আগেই সেখানে কিছু মেরামতকাজ করা হয়েছে। এসব কাজের প্রয়োজনীয়তা ও বাস্তবায়নপ্রক্রিয়া নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে। কয়েকটি ক্ষেত্রে যথাযথ দরপত্র প্রক্রিয়াও অনুসরণ করা হয়নি। ক্রয়প্রক্রিয়া নিয়েও অভিযোগ তুলে পদত্যাগকারীরা জানান, ইলেকট্রনিকস ও আসবাবপত্র কেনার ক্ষেত্রে সরকারি ক্রয়বিধি অনুযায়ী যোগ্যতা ও প্রয়োজনীয় কাগজপত্র ঠিক থাকলে সর্বনিম্ন দরদাতাকে কাজ দেওয়ার নিয়ম রয়েছে। কিন্তু কয়েকটি ক্ষেত্রে সর্বনিম্ন দরদাতাকে বাদ দিয়ে পছন্দের ব্যক্তিকে কাজ দেওয়ার অভিযোগ করেন তারা। শিক্ষক নিয়োগের ক্ষেত্রেও অনিয়ম ও পক্ষপাতিত্বের অভিযোগ করেছেন পদত্যাগকারী শিক্ষক-কর্মকর্তারা। সাম্প্রতিক নিয়োগে সিলেট কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের নিজস্ব গ্র্যাজুয়েটদের তুলনামূলকভাবে কম গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। তারা জানান, আটজন শিক্ষক নিয়োগের ক্ষেত্রে অন্য বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রার্থীদের অধিকাংশকে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। এ ক্ষেত্রে স্বজনপ্রীতি ও পক্ষপাতিত্বের অভিযোগও তোলা হয়েছে। পদত্যাগকারী এক শিক্ষক বলেন, ‘আমাদের বিশ্ববিদ্যালয়ের গ্র্যাজুয়েটদের যোগ্যতা সঠিকভাবে মূল্যায়ন করা হয়নি।’ নিয়োগ পাওয়া কয়েকজন প্রার্থী উপাচার্যের নিজ এলাকা বা পরিচিতজন এমন অভিযোগও করেছেন পদত্যাগকারীদের একজন। পদত্যাগকারী শিক্ষক-কর্মকর্তারা আরও জানান, তারা প্রশাসনিক দায়িত্বে থাকা অবস্থায় এসব সিদ্ধান্ত ও কার্যক্রম হয়নি। তাদের দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি দেওয়ার পরই এসব কার্যক্রম হয়েছে বলে দাবি করেন তারা। এদিকে পদত্যাগের পরপরই প্রশাসনিক ভবনের সামনে মানববন্ধন ও অবস্থান কর্মসূচিতে অংশ নেন শিক্ষক, কর্মকর্তা-কর্মচারী ও শিক্ষার্থীদের একটি অংশ। সেখানে বক্তারা উপাচার্যের বিরুদ্ধে স্বেচ্ছাচারিতা, হয়রানি, নিয়োগে অনিয়ম ও আর্থিক দুর্নীতির অভিযোগ তোলেন। পদত্যাগকারী শিক্ষক ও বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক প্রক্টর অধ্যাপক মোজাম্মেল হক বলেন, বর্তমান প্রশাসনের কর্মকাণ্ডে বিশ্ববিদ্যালয়ের স্বাভাবিক পরিবেশ ও কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে। তিনি উপাচার্যের অপসারণ দাবি করেন। পদত্যাগকারী শিক্ষক অধ্যাপক ড. মো. কাউছার হোসেন বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের বর্তমান প্রশাসনিক পরিস্থিতিতে শিক্ষার পরিবেশ ও শৃঙ্খলা রক্ষা করা কঠিন হয়ে পড়েছে। এ কারণে তারা প্রশাসনিক দায়িত্ব থেকে সরে দাঁড়াতে বাধ্য হয়েছেন। কর্মসূচিতে অংশ নেওয়া শিক্ষার্থীরাও উপাচার্যের অপসারণ দাবি করে বলেন, সাম্প্রতিক কয়েকটি নিয়োগে নিয়মনীতি যথাযথভাবে অনুসরণ করা হয়নি এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের নিজস্ব গ্র্যাজুয়েটদের যথাযথ গুরুত্ব দেওয়া হয়নি। তবে শিক্ষক-কর্মকর্তাদের তোলা এসব অভিযোগ ভিত্তিহীন বলে দাবি করেছেন সিলেট কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. আলিমুল ইসলাম। তিনি বলেন, একটি পক্ষ বিশ্ববিদ্যালয়ের চলমান শান্তিপূর্ণ পরিবেশকে অস্থিতিশীল করতে এবং ব্যক্তিগত স্বার্থ হাসিলের উদ্দেশ্যে এ ধরনের অভিযোগ তুলছে। যাঁদের নিয়োগ দেওয়া হয়েছে, তারা যোগ্যতা সম্পন্ন। নিয়োগে কোনো অনিয়ম বা দুর্নীতি হয়নি বলেও দাবি করেন তিনি।

০৭ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬
হবিগঞ্জে একসঙ্গে নিখোঁজ চার শিশু

হবিগঞ্জে একসঙ্গে নিখোঁজ চার শিশু

হবিগঞ্জের মাধবপুর উপজেলার ধর্মঘর ইউনিয়নের বিজয়নগর গ্রাম (বড়জ্বালা বিজিবি ক্যাম্প) এলাকা থেকে একসঙ্গে চার শিশু নিখোঁজ হয়েছে। নিখোঁজ হওয়ার তিন দিন পেরিয়ে গেলেও তাদের খোঁজ পাওয়া যায়নি। আর এতে করে নিখোঁজ শিশুদের পরিবারের সদস্যদের মধ্যে চরম উদ্বেগ ও উৎকণ্ঠা বিরাজ করছে। নিখোঁজ শিশুরা হলো, উজেলার ধর্মঘর ইউনিয়নের বিজয়নগর গ্রামের মনির হোসেনের ছেলে খায়রুল ইসলাম (১১), আবুল কাশেমের ছেলে কুদ্দুস মিয়া (১০), সালেহ আহমেদের ছেলে অনিক মিয়া (১০) এবং রিপন মিয়া (১২)।  জানাগেছে, গত শনিবার (৫ সেপ্টেম্বর) সকাল ১০টার দিকে চার শিশু নিজ নিজ বাড়ি থেকে বের হয়। এরপর তারা আর বাড়িতে ফিরে আসেনি। পরিবারের সদস্যরা আত্মীয় স্বজনসহ সম্ভাব্য সকল স্থানে খোঁজাখুঁজি করেও তাদের সন্ধান পায়নি। নিখোঁজের স্বজনরা জানান, দীর্ঘ সময় ধরে তাদের কোনো সন্ধান না পাওয়ায় পরিবারের সবাই উদ্বেগ-উৎকন্ঠায় রয়েছেন। আত্মীয়-স্বজন, পরিচিতজন ও স্থানীয় বিভিন্ন স্থানে খোঁজ নেওয়া হলেও এখন পর্যন্ত কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি। মাধবপুর থানা ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি সোহেল রানা জানান, নিখোঁজ শিশুদের পরিবারের পক্ষ থেকে থানায় এখনও কোনো সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করা হয়নি। তবে পুলিশ তাদের উদ্ধারে চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে।

০৭ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬
সিলেটে দরজা ভেঙে চিকিৎসকের লাশ উদ্ধার

সিলেটে দরজা ভেঙে চিকিৎসকের লাশ উদ্ধার

সিলেট মহানগরের মির্জাজাঙ্গাল এলাকার একটি বাসা থেকে দরজা ভেঙে পদ্যজিত চক্রবর্তী প্রান্ত (৩১) নামে এক চিকিৎসকের লাশ উদ্ধার করেছে কোতোয়ালি থানাপুলিশ। সোমবার (৭ সেপ্টেম্বর) দুপুরে মির্জাজাঙ্গাল স্বপ্নিল আবাসিক এলাকার ২০ নম্বর বাসা থেকে লাশটি উদ্ধার করা হয়। পদ্যজিত চক্রবর্তী প্রান্ত মৌলভীবাজার সদর উপজেলার ৭ নম্বর চাঁদনী ঘাট ইউনিয়নের সাবিয়া গ্রামের পূর্ণেন্দ্র চক্রবর্তীর ছেলে। তিনি ব্রাহ্মণবাড়িয়া মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতাল থেকে এমবিবিএস পাশ করেন।  পুলিশ জানিয়েছে, খবর পেয়ে তাদের ঘটনাস্থলে গিয়ে দরজা ভেঙে ভেতরে প্রবেশ করে পদ্যজিত চক্রবর্তীর দেহ জানালার গ্রিলের সঙ্গে ঝুলন্ত অবস্থায় দেখতে পায়। পরে তাকে উদ্ধার করে সিলেট এম এ জি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন। নিহতের পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, প্রান্ত দীর্ঘদিন ধরে মানসিকভাবে অসুস্থতায় ভুগছিলেন। যার কারণে বিগত চার মাস ধরে তিনি কোনো চেম্বারে বসতেন না এবং চিকিৎসাসেবা প্রদান থেকেও বিরত ছিলেন। জানা গেছে, তাঁর ছোট বোন প্রাপ্তি চক্রবর্তীও (২৫) এক বছর আগে আত্মহত্যার চেষ্টা করেছিলেন; পরবর্তীতে চিকিৎসার মাধ্যমে তাঁকে সুস্থ করে তোলা হয়। নিহত চিকিৎসকের স্ত্রী সুবর্ণা চক্রবর্তী (২৫) টাঙ্গাইলের কুমুদিনী মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালের ছাত্রী। তিনি ভোলা জেলার তমুজ উদ্দিন থানার আড়ালিয়া গ্রামের সন্তোষ চক্রবর্তীর মেয়ে। বর্তমানে তিনি সিলেট সোবহানীঘাট এলাকার পপুলার মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে শিক্ষানবিশ (ইন্টার্ন) চিকিৎসক হিসেবে কর্মরত। সিলেট মেট্রোপলিটন পুলিশের (এসএমপি) মিডিয়া অফিসার অতিরিক্ত উপকমিশনার মো. মঞ্জুরুল আলম দৈনিক সচিত্র সিলেটকে এসব তথ্য নিশ্চিত করে জানান- পুলিশ লাশ উদ্ধার করে ময়না তদন্তের জন্য সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠিয়েছে। প্রাথমিকভাবে এটি আত্মহত্যা বলে ধারণা করছে পুলিশ। 

০৭ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬
 পরিকল্পিত ও টেকসই সিলেট গড়তে বিশেষজ্ঞদের মতামতকে প্রাধান্য দেয়া হবে : সিউক চেয়ারম্যান

পরিকল্পিত ও টেকসই সিলেট গড়তে বিশেষজ্ঞদের মতামতকে প্রাধান্য দেয়া হবে : সিউক চেয়ারম্যান

সিলেটকে একটি আধুনিক, সুপরিকল্পিত ও বাসযোগ্য নগরী হিসেবে গড়ে তোলার লক্ষ্যে শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (শাবিপ্রবি)-এর বিশেষজ্ঞ শিক্ষক, পেশাজীবী প্রকৌশলী ও স্থপতি এবং সংশ্লিষ্ট সংস্থাসমূহের প্রতিনিধিদের নিয়ে এক গুরুত্বপুর্ণ অংশীজন সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। সোমবার (৭ সেপ্টেম্বর) বেলা সাড়ে ১১টায় সিলেট উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (সিউক) সভাকক্ষে এ সভার আয়োজন করা হয়। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন সিলেট উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান (অতিরিক্ত সচিব পদমর্যাদা) রেজাউল হাসান কয়েস লোদী। সভাপতির বক্তব্যে সিউক চেয়ারম্যান রেজাউল হাসান কয়েস লোদী বলেন, “সিলেটের ভৌগোলিক বাস্তবতায় টেকসই অবকাঠামো নির্মাণ, জলবদ্ধতা নিরসন এবং ঝুঁকিমুক্ত নগরায়ণ নিশ্চিত করা এখন সময়ের দাবি। শাবিপ্রবির পুরকৌশল ও স্থাপত্য বিভাগসহ আইইবি, আইএবি, আইডিইবি এবং আবাসন খাতের অভিজ্ঞ প্রতিনিধিদের গঠনমূলক পরামর্শ সিউকের ভবিষ্যৎ উন্নয়ন পরিকল্পনা ও মাস্টারপ্ল্যান বাস্তবায়নে অনন্য ভূমিকা রাখবে। সকলের সমন্বিত প্রচেষ্টাতেই আমরা একটি আধুনিক ও নিরাপদ সিলেট উপহার দিতে পারবো।” সভায় নগরীর পরিকল্পিত আবাসন ব্যবস্থা, বহুতল ভবনের ন্যাশনাল বিল্ডিং কোড মেনে চলা, ভূমিকম্প ও অগ্নিনির্বাপণ ঝুঁকি হ্রাস, গ্যাস ও ড্রেনেজ ব্যবস্থার সঠিক ইউটিলিটি ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করতে বিস্তারিত আলোচনা করা হয়। সভায় উপস্থিত বিশেষজ্ঞ ও অংশীজনরা সিলেট শহরের বিভিন্ন অবকাঠামোগত সমস্যা তুলে ধরেন এবং সিউক-এর সার্বিক উন্নয়ন কার্যক্রমে পূর্ণ সহযোগিতার আশ্বাস দেন। সিউক’র নির্বাহী পরিচালক মো. সাদিউর রহমান জাদিদের পরিচালনায় অংশীজন সভায় অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন, শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের পুরকৌশল (সিইই) বিভাগের অধ্যাপক ড. মুশতাক আহমেদ এবং অধ্যাপক ড. মো. শাহিদুর রহমান। ইনস্টিটিউশন অব ইঞ্জিনিয়ার্স বাংলাদেশ (আইইবি) সিলেট কেন্দ্রের চেয়ারম্যান ইঞ্জিনিয়ার মো. জয়নাল আবেদীন এবং সাধারণ সম্পাদক ইঞ্জিনিয়ার মোহাম্মদ শাহজাহান মাহমুদ। গণপূর্ত অধিদপ্তরের (পিডব্লিউডি) নির্বাহী প্রকৌশলী মো: আবু জাফর, সহকারী স্থপতি প্রকৌশলী রায়হান আহমেদ, জালালাবাদ গ্যাসের ডিএম সুহেদুর রহমান এবং সিলেট উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের সহকারী প্রকৌশলী মাহমুদ আবু নাসের। আকাশ অ্যাসোসিয়েটসের প্রধান নির্বাহী ইঞ্জিনিয়ার মো. মুখলেছুর রহমান, জেনিথ ইঞ্জিনিয়ার্স অ্যান্ড আর্কিটেক্টসের এমডি ইঞ্জিনিয়ার আবু আহমদ আবদুল্লাহ, অ্যাক্সিস ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের এমডি ইঞ্জিনিয়ার মোঃ মাকসুদ আহমেদ, নকশা ইঞ্জিনিয়ার্সের এমডি শেখ জামিল আহমেদ, এসইই কনসালট্যান্টের বসন্ত কুমার সিংহ, প্রকৌশলী দেবাশীষ ভট্টাচার্য, প্রকৌশলী মমতাজউদ্দিন চৌধুরী, প্রকৌশলী নিজাম উদ্দিন, অমিত চক্রবর্তীসহ আইএবি, আইডিইবি, সিলেট এপার্টমেন্ট অ্যান্ড রিয়েল এস্টেট গ্রুপ এবং বিভিন্ন কনসাল্টিং ফার্মের ঊর্ধ্বতন প্রতিনিধিবৃন্দ।

০৭ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬
ধর্মপাশায় পরিত্যক্ত কালিজানা ব্রিজ, দুর্ভোগে হাজারো মানুষ

ধর্মপাশায় পরিত্যক্ত কালিজানা ব্রিজ, দুর্ভোগে হাজারো মানুষ

সুনামগঞ্জের ধর্মপাশা উপজেলার সেলবরষ ইউনিয়নের মনাই নদীর ওপর দীর্ঘদিন ধরে পরিত্যক্ত অবস্থায় পড়ে আছে কালিজানা ব্রিজ। সংস্কার ও পুনর্র্নিমাণের অভাবে ব্রিজটি বর্তমানে অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়েছে। দুই পাশে নেই প্রয়োজনীয় সংযোগ সড়ক, ফলে স্থানীয়দের যাতায়াতে চরম দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে। জানা গেছে,  ১৯৯৫-৯৬ অর্থবছরে মনাই নদীর ওপর কালিজানা ব্রিজটি পুনর্র্নিমাণ করা হয়। পরবর্তীতে রেলিং ভেঙে যাওয়া এবং বন্যার পানির চাপে ব্রিজটি একদিকে হেলে পড়েছে। দুই পাশের মাটিও সরে যাওয়ায় এটি দীর্ঘদিন ধরে ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় রয়েছে।  বর্ষা মৌসুমে ব্রিজের আশপাশ পানিতে তলিয়ে যায়। আর শুকনো মৌসুমে কোথাও কোথাও বাঁশের মই বা সাঁকোর মাধ্যমে স্থানীয়রা ব্রিজটি পারাপারের চেষ্টা করেন। এতে দুর্ঘটনার আশঙ্কা রয়েছে। বিশেষ করে শিক্ষার্থী, বয়স্ক মানুষ ও অসুস্থ রোগীদের চলাচলে ভোগান্তি আরও বেড়ে যায়। স্থানীয়দের দাবি, গাবী, সরিষাম, মির্জাপুর, কাকিয়াম, শিংপুরসহ আশপাশের কয়েকটি গ্রামের মানুষের উপজেলা সদরে যাতায়াতের জন্য কালিজানা ব্রিজটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। ব্রিজটি ব্যবহারযোগ্য থাকলে উপজেলা সদরে দ্রুত পৌঁছানো সম্ভব হলেও বর্তমানে বিকল্প পথে অনেক বেশি সময় লাগে।  এলাকাবাসীর অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে ব্রিজটি পুনর্র্নিমাণের দাবি জানানো হলেও কার্যকর উদ্যোগের অভাবে সমস্যার সমাধান হচ্ছে না। তারা দ্রুত একটি নতুন ও টেকসই ব্রিজ নির্মাণের পাশাপাশি সংযোগ সড়ক সংস্কারের দাবি জানান। এর আগে ২০২৫ সালে ব্রিজটি পুনর্র্নিমাণের দাবিতে স্থানীয়রা মানববন্ধনও করেন। উপজেলা প্রকৌশলী মোহাম্মদ শাহাবউদ্দিন তখন জানান, ব্রিজটি ২০২২ সালের বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত সড়ক ও সেতু মেরামত প্রকল্পের আওতায় তালিকাভুক্ত হয়েছে এবং পুনর্র্নিমাণের আশা রয়েছে।  স্থানীয়দের প্রত্যাশা, কালিজানা ব্রিজের দুরবস্থা বিবেচনা করে দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নিয়ে নতুন ব্রিজ নির্মাণ করা হবে। এতে কয়েকটি গ্রামের মানুষের দীর্ঘদিনের দুর্ভোগের অবসান হবে এবং শিক্ষা, চিকিৎসা ও ব্যবসা-বাণিজ্যে যোগাযোগব্যবস্থা আরও সহজ হবে।  ধর্মপাশা উপজেলা এলজিডির প্রকৌশলী শাহাবউদ্দিন বলেন, আমরা এই ব্রীজ ভেঙ্গে নতুন ব্রীজ করার জন্য প্রস্তাব দিয়েছি। অচিরেই ব্রীজের কাজ শুরু হবে আশা।

০৭ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬
ফ্রান্সে বিএনপির প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উদযাপিত

ফ্রান্সে বিএনপির প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উদযাপিত

উৎসাহ-উদ্দীপনা ও গাম্ভীর্যের মধ্য দিয়ে ফ্রান্সে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) ৪৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উদযাপিত হয়েছে। এ উপলক্ষে তুলুজ বিএনপির উদ্যোগে স্থানীয় এক অভিজাত রেস্টুরেন্টে এক আলোচনা সভা ও দোয়া মাহফিলের আয়োজন করা হয়। তুলুজ বিএনপি নেতা বকুল মিয়ার সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এ সভায় যৌথ সঞ্চালনা করেন বড়লেখা উপজেলা ছাত্রদলের সাবেক যুগ্ম আহ্বায়ক আব্দুল মুহিত শাকিল এবং বিয়ানীবাজার উপজেলা ছাত্রদলের সাবেক যুগ্ম আহ্বায়ক ইসলাম আজাদ। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন ফ্রান্স বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক ও ফ্রান্স যুবদলের সাবেক সাধারণ সম্পাদক তারেক আহমদ তাজ। বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য উপস্থাপন করেন তুলুজ বিএনপি নেতা ফখরুল ইসলাম, নুরুল ইসলাম, সিলেট জেলা যুবদলের সহ-সাধারণ সম্পাদক জুবের আহমেদ, সিলেট মহানগর ছাত্রদলের সাবেক সদস্য জামাল উদ্দিন, ছাতক উপজেলা কৃষক দলের সাবেক যুগ্ম আহ্বায়ক লিক্সন মিয়া, বিয়ানীবাজার ডিগ্রি কলেজ ছাত্রদলের সাবেক যুগ্ম সম্পাদক রাসেল হক, বড়লেখা ডিগ্রি কলেজ ছাত্রদলের সাবেক সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক মেহেদী হাসান, পাবনা ঈশ্বরদী উপজেলা ছাত্রদলের সাবেক প্রচার সম্পাদক রায়হান আহমেদ এবং বিএনপি নেতা সামাদ হোসেন ও রিপন মিয়া। এ সময় অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন বিএনপি নেতা হাবিব মিয়া, তারেক হোসেন, সাইদুল ইসলাম, ইসলাম উদ্দিন, রুবেল আহমদ ও সাজু আহমেদসহ দলটির বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীরা। আলোচনা সভায় বক্তারা বলেন, একটি সুখী, সমৃদ্ধ ও স্বনির্ভর বাংলাদেশ গড়ার লক্ষ্যে তারেক রহমান ঘোষিত রাষ্ট্র মেরামতের ৩১ দফা পরিকল্পনা বাস্তবায়নের কোনো বিকল্প নেই। এই লক্ষ্য অর্জনে দেশ ও বিদেশে অবস্থানরত জাতীয়তাবাদী শক্তিকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার আহ্বান জানান তারা। বক্তারা দলের ভেতরের রাজনৈতিক মতানৈক্য ও বিরোধ ভুলে গিয়ে একযোগে দেশবিরোধী সকল ষড়যন্ত্র প্রতিহত করার দৃঢ় অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন। সংক্ষিপ্ত আলোচনা শেষে বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা, শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান এবং সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার রুহের মাগফিরাত কামনা করে বিশেষ দোয়া করা হয়। একই সঙ্গে দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের সুস্বাস্থ্য ও দীর্ঘায়ু কামনা করা হয়।

০৭ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬
রাষ্ট্রপতিকে সিলেটে ১৫ সেপ্টেম্বর দেওয়া হবে নাগরিক সংবর্ধনা

রাষ্ট্রপতিকে সিলেটে ১৫ সেপ্টেম্বর দেওয়া হবে নাগরিক সংবর্ধনা

আগামী ১৫ সেপ্টেম্বর রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের সিলেট জেলা সফর উপলক্ষ্যে প্রস্তুতিমূলক সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। সোমবার (৭ সেপ্টেম্বর) জেলা প্রশাসক কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত সভায় সভাপতিত্ব করেন সিলেটের জেলা প্রশাসক আবদুল্লাহ আল মামুন। সভায় সিলেট উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান রেজাউল হাসান কয়েস লোদী, জেলা পরিষদের প্রশাসক আবুল কাহের চৌধুরী শামীম, মহানগর বিএনপির সভাপতি নাসিম হোসাইন ও সাধারণ সম্পাদক এমদাদ হোসেন চৌধুরী, সিলেট সিটি কর্পোরেশনের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ রেজাই রাফিন সরকার, সিভিল সার্জন ডা. মো. নাসির উদ্দিন, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার জাকির হোসাইনসহ সরকারি বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তা ও রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন। সভায় জানানো হয়- মহামান্য রাষ্ট্রপতি আগামী ১৫ সেপ্টেম্বর সিলেট জেলা সফর করবেন। সফরকালে তিনি হযরত শাহজালাল (রহ.) ও হযরত শাহপরাণ (রহ.)-এর মাজার জিয়ারত করবেন। একই দিন বিকেলে সিলেট সিটি কর্পোরেশন আয়োজিত নাগরিক সংবর্ধনায় অংশগ্রহণ শেষে সন্ধ্যায় তিনি ঢাকার উদ্দেশ্যে সিলেট ত্যাগ করবেন। রাষ্ট্রপতির সফরকে কেন্দ্র করে সিলেটের সকল সরকারি অফিসের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের যথাসময়ে অফিসে উপস্থিত থাকা এবং অফিসের চারপাশ ও আঙিনা পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখাসহ সৌন্দর্যবর্ধনের ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশনা দেওয়া হয়। পাশাপাশি নগরীর রাস্তাসমূহ চলাচল উপযোগী রাখা, বিভিন্ন ব্যানার, ফেস্টুন ও পোস্টার অপসারণ এবং রাস্তার পাশের অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদের বিষয়ে সংশ্লিষ্টদের প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশ দেওয়া হয়। সভায় নগরীর রাস্তার পাশের সিএনজি স্টেশনগুলো লালদিঘীর পাড়ে স্থানান্তরের নির্দেশনাও প্রদান করা হয়। এছাড়া রাষ্ট্রপতির সফর নির্বিঘ্ন করতে বহরে জরুরি চিকিৎসা সহায়তার জন্য মেডিকেল টিম ও ফায়ার সার্ভিসের গাড়ি প্রস্তুত রাখা, নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহ নিশ্চিত করা এবং সিলেটজুড়ে নিশ্ছিদ্র নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করার জন্য সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলোকে নির্দেশনা প্রদান করা হয়।  

০৭ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬
সরকারি চাকরিজীবী পাবেন মোবাইল ভাতা

সরকারি চাকরিজীবী পাবেন মোবাইল ভাতা

নতুন জাতীয় বেতনস্কেল কার্যকর হলে প্রথমবারের মতো সব গ্রেডের সরকারি কর্মচারীকে মোবাইল ভাতার আওতায় আনার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এতদিন মূলত পঞ্চম গ্রেড পর্যন্ত সরকারি কর্মচারীরা এ সুবিধা পেতেন। ইন্টারনেট ও ডিজিটাল যোগাযোগে বাড়তি ব্যয়ের বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে ভাতার পরিধি বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। গত ৩১ আগস্ট অনুষ্ঠিত মন্ত্রিসভার বৈঠকে জাতীয় বেতনস্কেল ২০২৬ অনুমোদনের পর অর্থ মন্ত্রণালয়ের এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে মোবাইল ভাতার আওতা সম্প্রসারণের বিষয়টি জানানো হয়। কোন গ্রেডে কত মোবাইল ভাতা সচিব কমিটির সূত্র অনুযায়ী, বর্তমানে প্রথম থেকে তৃতীয় গ্রেডের কর্মকর্তারা মাসে ১ হাজার ৫০০ টাকা এবং চতুর্থ ও পঞ্চম গ্রেডের কর্মকর্তারা ১ হাজার টাকা করে মোবাইল ভাতা পাচ্ছেন। জাতীয় বেতন কমিশন ২০২৫-এর প্রস্তাবে নতুন করে ষষ্ঠ থেকে দশম গ্রেডের কর্মচারীদের জন্য মাসে ৫০০ টাকা এবং একাদশ থেকে বিংশ গ্রেডের কর্মচারীদের জন্য ৪০০ টাকা মোবাইল ভাতা দেওয়ার কথা বলা হয়েছিল। কমিশনের প্রস্তাব অনুযায়ী ভাতার হার ছিল—১ম থেকে ৩য় গ্রেড: মাসে ১,৫০০ টাকা; ৪র্থ ও ৫ম গ্রেড: মাসে ১,০০০ টাকা; ৬ষ্ঠ থেকে ১০ম গ্রেড: মাসে ৫০০ টাকা এবং ১১তম থেকে ২০তম গ্রেড: মাসে ৪০০ টাকা। এই হারে ভাতা দিতে হলে স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠান ও করপোরেশন বাদে সরকারের অতিরিক্ত বার্ষিক আর্থিক সংশ্লেষ প্রায় ৬০৬ কোটি টাকা হতো। সুপারিশ কমিটির সূত্রে জানা গেছে, মোবাইল ভাতার আওতা সব গ্রেডে রাখার বিষয়ে একমত হলেও ভাতার হার কিছুটা যৌক্তিকীকরণের সুপারিশ করেছে সচিব কমিটি। কমিটির সুপারিশ অনুযায়ী, প্রথম থেকে পঞ্চম গ্রেডের কর্মচারীরা মাসে ৫০০ টাকা এবং ষষ্ঠ থেকে বিংশ গ্রেডের কর্মচারীরা মাসে ১৫০ টাকা মোবাইল ভাতা পাবেন। অর্থাৎ, জাতীয় বেতন কমিশনের প্রস্তাবের তুলনায় নিম্ন গ্রেডের কর্মচারীদের জন্য ভাতার হার কমানোর সুপারিশ করা হয়েছে। তবে সব গ্রেডকে ভাতার আওতায় রাখার বিষয়টি বহাল থাকছে। সচিব কমিটির এক কর্মকর্তা জানান, সরকারি দাপ্তরিক যোগাযোগে মোবাইল ব্যবহারের প্রয়োজনীয়তা এখন সব স্তরের কর্মচারীর ক্ষেত্রেই রয়েছে। ফলে সব গ্রেডকে মোবাইল ভাতার আওতায় আনার প্রস্তাবটি যৌক্তিক। তবে এর ফলে সরকারের অতিরিক্ত ব্যয়ের বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে ভাতার হার যৌক্তিক করার প্রয়োজন রয়েছে। ধাপে ধাপে কার্যকর হবে নতুন বেতনস্কেল জাতীয় বেতনস্কেল ২০২৬ আগামী ১ জুলাই ২০২৬ থেকে সরকারি কর্মচারীদের জন্য ধাপে ধাপে বাস্তবায়ন করা হবে। বেতনস্কেল বাস্তবায়নের আর্থিক সংশ্লেষ এবং সামগ্রিক মূল্যস্ফীতির ওপর এর প্রভাব বিবেচনায় নিয়ে চলতি ২০২৬-২৭ এবং আগামী ২০২৭-২৮ অর্থবছরে পর্যায়ক্রমে এটি বাস্তবায়নের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। নতুন বেতনস্কেলের আওতায় প্রায় ২৪ লাখ সামরিক ও অসামরিক সরকারি কর্মচারী উপকৃত হবেন। পাশাপাশি প্রায় সোয়া ৯ লাখ অবসরপ্রাপ্ত কর্মচারী ও অন্যান্য যোগ্য সুবিধাভোগীও এর সুফল পাবেন। বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন সন্তানের জন্যও ভাতা শুধু মোবাইল ভাতাই নয়, নতুন জাতীয় বেতনস্কেলে সরকারি কর্মচারীদের জন্য আরও কিছু নতুন সুবিধা যুক্ত করার সিদ্ধান্ত হয়েছে। এর মধ্যে প্রথমবারের মতো বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন সন্তানের জন্য প্রতিবন্ধী সন্তান ভাতা চালুর সিদ্ধান্ত রয়েছে। নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন প্রতি সন্তানের জন্য মাসে ৩ হাজার টাকা করে ভাতা দেওয়া হবে।

০৭ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬
বৈধভাবে বছরে ১০ হাজার শ্রমিক ইতালিতে যাওয়ার সুযোগ

বৈধভাবে বছরে ১০ হাজার শ্রমিক ইতালিতে যাওয়ার সুযোগ

প্রতিবছর ১০ হাজার বৈধ শ্রমিক যাওয়ার সুযোগ আছে ইতালিতে। পরিবারসহ এই সংখ্যা ১২ হাজার বলে জানিয়েছেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম। সোমবার (৭ সেপ্টেম্বর) সচিবালয়ে স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রী ড. আবদুল মঈন খানের কার্যালয়ে বাংলাদেশে নিযুক্ত ইতালির রাষ্ট্রদূত আন্তনিও আলেসান্দ্রো সাক্ষাৎ করেন। বৈঠকে প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম ও সচিব মো. শহিদুল হাসান উপস্থিত ছিলেন। পরে সাংবাদিকদের সাথে প্রতিমন্ত্রী ও রাষ্ট্রদূত কথা বলেন। প্রতিমন্ত্রী বলেন, বহুসংখ্যক অবৈধ অভিবাসী আছে ইতালিতে। ইতালিতে অবস্থানরত আড়াই লাখ বাংলাদেশির প্রায় ৬০ থেকে ৭০ শতাংশই শরীয়তপুর ও মাদারীপুর অঞ্চলের। সমুদ্রপথে অবৈধভাবে ইতালি যাওয়ার ঝুঁকি কমাতে স্থানীয় প্রশাসন ও জনপ্রতিনিধিদের নিয়ে শরীয়তপুর, মাদারীপুর ও ফরিদপুর অঞ্চলে যৌথ ওয়ার্কশপ আয়োজনের প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। প্রতিমন্ত্রী বলেন, অবৈধভাবে যারা আছে, তাদের বৈধ করার বিষয়ে আলোচনা হয়নি। আর দালালের মাধ্যমে যারা অবৈধভাবে যাচ্ছে, তাদের বিষয়ে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ব্যবস্থা নেবে। মালয়েশিয়ার শ্রমিক নেওয়া বিষয়ে তিনি বলেন, মালোয়েশিয়ার হাইকমিশনারকে ২ লাখ শ্রমিক নেওয়ার বিষয়ে অনুরোধ করা হয়েছে। প্রতিমন্ত্রী বলেন, ২০১৫ সাল থেকে খাদ্য অপচয় রোধ ও ফুড সিকিউরিটিতে কাজ করা ইতালির মিলান শহরের মডেলে  দেশটি বাংলাদেশেও কাজ করতে সম্মত হয়েছে। ইতালির সাথে মিল রেখে এক্ষেত্রে খুলনা সিটি কর্পোরেশনকে বেছে নেওয়া হয়েছে। প্রতিমন্ত্রী বলেন, বৈঠকে বাংলাদেশি কর্মীদের দক্ষতা বৃদ্ধি, ভাষায় প্রশিক্ষণ এবং পরিবেশগত ব্যবস্থাপনায় পারস্পরিক সহযোগিতা বাড়াতে একমত হয়েছে দুই দেশ। বাংলাদেশি স্থপতিদের দক্ষতা বাড়াতে ইতালিতে প্রশিক্ষণের আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। নির্দিষ্ট তালিকা পাঠালে সিটি কর্পোরেশনের মেয়র ও স্থপতিদের এই সফরে পাঠানো হবে। দক্ষ জনশক্তি রপ্তানির অংশ হিসেবে বাংলাদেশি কর্মী ও প্রশিক্ষকদের ইতালীয় ভাষা শেখাতে প্রতিনিধি পাঠাবে ইতালি। দেশের যেকোনো একটি ইনস্টিটিউটের মাধ্যমে এই প্রশিক্ষণ প্রদান করা হবে। রাষ্ট্রদূত সাংবাদিকদের বলেন, আমরা বাণিজ্য, অভিবাসন, দুই দেশের শহরগুলোর মধ্যে বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক (টুইনশিপ) নিয়ে আলোচনা করেছি। যদিও এটি সৌজন্যমূলক সাক্ষাৎ ছিল, তার পরেও  ইতালি ও বাংলাদেশের সম্পর্ক আরো সুদৃঢ় করতে কীভাবে একসাথে কাজ করা যায়, সে বিষয়ে ফলপ্রসূ আলোচনা হয়েছে। স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয় স্বাভাবিকভাবেই অনেক গুরুত্বপূর্ণ, তাই এই ধরনের মন্ত্রণালয়ের সাথে সাক্ষাৎ করতে এবং সহযোগিতার নতুন নতুন ক্ষেত্র তৈরি ও উৎসাহিত করতে ইতালি সবসময়ই আগ্রহী।

০৭ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬
এক উপজেলার সব ইউপির ভোট একসঙ্গে: ইসি সচিব

এক উপজেলার সব ইউপির ভোট একসঙ্গে: ইসি সচিব

ইউনিয়ন পরিষদ (ইউপি) নির্বাচন উপজেলাভিত্তিক হবে বলে জানিয়েছেন নির্বাচন কমিশন সচিব আখতার আহমেদ। এক্ষেত্রে একটি উপজেলার যতগুলো ইউনিয়ন আছে, সবগুলোয়ে একই সঙ্গে নির্বাচন হবে। সোমবার (৭ সেপ্টেম্বর) নির্বাচন ভবনে সাংবাদিকদের এ কথা বলেন তিনি। আখতার আহমেদ বলেন, ইউপি নির্বাচন কয়েক ধাপে হবে। এক্ষেত্রে পাঁচ ধাপে নাকি ছয় ধাপে হবে তা এখনও ঠিক হয়নি। তবে আমি এটুকু বলতে পারি উপজেলাভিত্তিক নির্বাচন হবে। এক্ষেত্রে একটি উপজেলার যতগুলো ইউনিয়ন আছে সেগুলো একই সঙ্গে হবে। তার কথায়, এক উপজেলার কয়েকটি ইউনিয়ন একসঙ্গে হলে, বাকিগুলো অন্য ধাপে হলে একটা বিশৃঙ্খলা হয়ে যাবে। তাই একই সঙ্গে এক উপজেলার সবগুলোতে নির্বাচন হবে এবং কয়েক ধাপে হবে নির্বাচন। এসব নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার বিষয়টি কমিশন নির্ধারণ করবে বলেও জানিয়েছেন ইসি সচিব। সকালে আগারগাঁওয়ে নির্বাচন ভবনে স্থানীয় সরকার নির্বাচনে সাংবাদিক ও পর্যবেক্ষকদের কার্ড ইস্যু প্রসঙ্গে বৈঠক করেন ইসি সচিব। এরপর সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে ইউপি নির্বাচন নিয়ে কথা বলেন তিনি। স্থানীয় নির্বাচনের বিধিমালা নিয়ে ইসি সচিব বলেন, এই ভোটে পোস্টার থাকবে না। এছাড়াও কিছু পরিবর্তন এসেছে। সিইসি এ এম এম নাসির উদ্দিন ইতোমধ্যে বলেছেন, সেপ্টেম্বরে তফসিল দিয়ে নভেম্বরে ইউপি নির্বাচনের মাধ্যমে স্থানীয় নির্বাচন শুরু করার পরিকল্পনা রয়েছে। পরবর্তীতে সিটি করপোরেশন, উপজেলা, পৌরসভা এবং জেলা পরিষদের নির্বাচন হবে। রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের ছেড়ে দেওয়া ঠাকুরগাঁও-১ আসনে উপ-নির্বাচনের তফসিল চলতি সপ্তাহেই ঘোষণা হবে বলে জানিয়েছেন সচিব আখতার আহমেদ। এর আগে নির্বাচন কমিশনার আনোয়ারুল ইসলাম সরকার রোববার বলেছিলেন, এই নির্বাচনের জন্য আমরা প্রস্তুত। সেটার আইটি সাপোর্টেড পোস্টাল ভোটিং এর প্রস্তুতি নিচ্ছি। আশা রাখি, অল্প কিছুদিনের মধ্যেই আমরা সিডিউলটা ডিক্লেয়ার করতে পারব। নির্বাচন পূজা, পরীক্ষা ইত্যাদি বিবেচনায় নিয়ে তারিখ নির্ধারণ করা হবে। গত ২১ অগাস্ট মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব গ্রহণের দিন থেকে ওই আসনটি শূন্য হয়েছে।

০৭ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬
প্রাথমিক শিক্ষকদের বদলি কার্যক্রম স্থগিত

প্রাথমিক শিক্ষকদের বদলি কার্যক্রম স্থগিত

নতুন করে নিয়োগ পাওয়া ১৪ হাজারের বেশি সহকারী শিক্ষকের পদায়নের কাজ শেষ না হওয়া পর্যন্ত সরকারি প্রাথমিক শিক্ষকদের বদলি অনির্দিষ্টকালের জন্য স্থগিত করা হয়েছে। সোমবার (৭ সেপ্টেম্বর) সচিবালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানিয়েছে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ। আগামীকাল মঙ্গলবার (৮ সেপ্টেম্বর) আন্তর্জাতিক সাক্ষরতা দিবস উপলক্ষে এ সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়েছিল। প্রতিমন্ত্রী জানান, সরকারি প্রাথমিক শিক্ষকদের বদলি কার্যক্রমের স্থগিত প্রত্যাহারের পর নতুন করে যখন বদলি শুরু হবে তখন বিদ্যামান নীতিমালা থাকব না নতুন করে হবে তা পরে ঠিক করা হবে। এদিকে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক নিয়োগ ২০২৫–এর শূন্য পদে সুপারিশ পাওয়া ১৪ হাজার ৩৮৪ জন শিক্ষকের যোগদান ১ অক্টোবর ২০২৬। আর ৪ অক্টোবরে তাঁদের পদায়ন করা হবে। গত ২ আগস্ট প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের এক বিজ্ঞপ্তিতে এ কথা জানানো হয়েছে। নির্বাচিত প্রার্থীরা আগামী ১ অক্টোবর সংশ্লিষ্ট জেলার জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসে যোগদান করবেন। নির্বাচিত প্রার্থীদের যথাসময়ে নিয়োগপত্র প্রেরণ করা হবে। যোগদানের পর ৪ অক্টোবর পদায়নের পর পরবর্তী সময়ে প্রশিক্ষণে অংশগ্রহণের জন্য পাঠানো হবে।

০৭ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬
কোম্পানীগঞ্জে ফ্রাইডিলসহ আটক ১

কোম্পানীগঞ্জে ফ্রাইডিলসহ আটক ১

সিলেটের কোম্পানীগঞ্জে মাদকবিরোধী অভিযান চালিয়ে ভারতীয় ফ্রাইডিল সিরাপ ও স্কাফ সিরাপসহ সাজুল মিয়া (২৮) নামের এক যুবককে আটক পুলিশ। এসময় রেজিস্ট্রেশনবিহীন একতটি ট্রাক জব্দ করা হয়েছে। জব্দকৃত ফ্রাইডিল সিরাপ ও স্কাফ সিরাপের আনুমানিক মূল্য প্রায় ১২ লাখ টাকা। রোববার (৬ সেপ্টেম্বর) দিনগত রাত  ১টার দিকে সিলেট-কোম্পানীগঞ্জ-ভোলাগঞ্জ সড়কের লাচুখাল এলাকা থেকে ভারতীয় ৬৯৩ বোতল ফ্রাইডিল সিরাপ ও স্কাফ সিরাপসহ সাজুল মিয়াকে আটক করা হয়।   আটককৃত সাজুল মিয়া বিশ্বনাথ উপজেলার রামপাশা উত্তরপাড়ার শফিক মিয়ার ছেলে। পুলিশ জানায়, রোববার দিনগত রাত ১ টার দিকে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে সিলেট-কোম্পানীগঞ্জ-ভোলাগঞ্জ সড়কের লাছুখাল এলাকায় অভিযান চালিয়ে ভারতীয় ৬৯৩ বোতল ফ্রাইডিল সিরাপ ও স্কাফ সিরাপসহ সাজুল মিয়াকে আটক করে পুলিশ। এসব মাদক পরিবহনে ব্যবহৃত একটি রেজিস্ট্রেশনবিহীন ট্রাক জব্দ করা হয়েছে। জব্দকৃত কোম্পানীগঞ্জ থানা ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) উছমান গনি বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, আটক সাজুল মিয়ার বিরুদ্ধে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে থানায় মামলা দায়ের করা হয়েছে। আপলোড : এমএসসি

০৭ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬
সিলেটে হামের প্রকোপ: একদিনে হাসপাতালে দেড় শতাধিক

সিলেটে হামের প্রকোপ: একদিনে হাসপাতালে দেড় শতাধিক

সিলেটে ২৪ ঘণ্টায় হাম-উপসর্গে কোনো মৃত্যুর ঘটনা না ঘটলেও এই সময়ে বিভাগের বিভিন্ন হাসপাতালে ১৫১ জন সন্দেহজনক হাম রোগী ভর্তি হয়েছেন। বর্তমানে পুরো বিভাগের বিভিন্ন সরকারি ও বেসরকারি হাসপাতালে ভর্তি আছেন ৪২১ জন রোগী। এর মধ্যে সিলেট ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ১৪৯ জন, শহীদ শামসুদ্দিন আহমদ হাসপাতালে ১৪৮ জন এবং সুনামগঞ্জ জেলা সদর হাসপাতালে ৪০ জন রোগী চিকিৎসাধীন। এছাড়া মৌলভীবাজার সদর হাসপাতাল, হবিগঞ্জ সদর হাসপাতালসহ বিভিন্ন উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ও বেসরকারি মেডিকেল কলেজগুলোতে রোগীরা চিকিৎসা নিচ্ছেন। বিভাগীয় স্বাস্থ্য পরিচালকের কার্যালয় সূত্র আজ সোমবার (৭ সেপ্টেম্বর) সকালে এসব তথ্য জানিয়েছে। সূত্র জানায়, চলতি বছরের শুরু থেকে আজ পর্যন্ত সিলেট বিভাগে মোট ১ হাজার ৩১ জন নিশ্চিত হাম রোগী শনাক্ত হয়েছেন। একই সময়ে হামে আক্রান্ত হয়ে ও সন্দেহভাজন হিসেবে মোট ১৫৮ জন মারা গেছেন। স্বাস্থ্য বিভাগের হিসাব অনুযায়ী, সিলেট বিভাগে জানুয়ারি থেকে এ পর্যন্ত নিশ্চিত হাম রোগী শনাক্ত হওয়া ১ হাজার ৩১ জনের মধ্যে সর্বোচ্চ রোগী শনাক্ত হয়েছে সিলেটে ৩৬৩ জন ও দ্বিতীয় সর্বোচ্চ সুনামগঞ্জে ৩৫৭ জন। এছাড়া মৌলভীবাজারে ১৫৮ জন এবং হবিগঞ্জে ১৫৩ জন নিশ্চিত হাম রোগী শনাক্ত করা হয়েছেন।  অপরদিকে, চলতি বছর বিভাগে মোট মৃত্যু হওয়া ১৫৮ জনের মধ্যে ১০ জনের নিশ্চিত হামে মৃত্যু হয়েছে এবং ১৪৮ জনের মৃত্যু হয়েছে হামের লক্ষণ বা সন্দেহজনক কারণে।  

০৭ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬
অনিয়মের আঁতুড়ঘর সিলেট মহিলা কারিগরি প্রশিক্ষণ কেন্দ্র

অনিয়মের আঁতুড়ঘর সিলেট মহিলা কারিগরি প্রশিক্ষণ কেন্দ্র

সিলেট মহিলা কারিগরি প্রশিক্ষণ কেন্দ্রে ভর্তি থেকে শুরু করে প্রশিক্ষণ কার্যক্রম, হাজিরা এবং ভাতা বিতরণ পর্যন্ত নানা অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। সরকারি অর্থায়নে নারীদের দক্ষতা উন্নয়ন ও কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরির লক্ষ্যে পরিচালিত এই প্রতিষ্ঠানে দুর্নীতির চিত্র ফুটে উঠেছে। বিশেষ করে ড্রাইভিং উইথ মেকানিক্স কোর্সের ১৭তম ব্যাচের কয়েকজন শিক্ষার্থী অফিস সহকারী শেখ মোহাম্মদ আজাদ ও প্রশিক্ষক আব্দুল কলিমের বিরুদ্ধে অর্থ লেনদেন, প্রশিক্ষণে অব্যবস্থাপনা, অনুপস্থিত শিক্ষার্থীর হাজিরা, দুর্ব্যবহার এবং ভাতা আটকে রাখার মতো গুরুতর অভিযোগ তুলেছেন। ভুক্তভোগী শিক্ষার্থীদের অভিযোগ- সরকারি প্রতিষ্ঠানে বিনামূল্যে বা নির্ধারিত নিয়মে প্রশিক্ষণের সুযোগ পাওয়ার কথা থাকলেও ভর্তি নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে অর্থ লেনদেন করতে হচ্ছে। টাকা ছাড়া ভর্তি হাওয়া যেন দুষ্কর হয়ে পড়েছে। কয়েকজন শিক্ষার্থী দাবি করেছেন- অফিস সহকারী শেখ মোহাম্মদ আজাদের মাধ্যমে তাদের কাছ থেকে টাকা নেওয়া হয়েছে। জনপ্রতি ১৫০০ টাকা থেকে ৩০০০ টাকা নেওয়ার অভিযোগ করছেন ভুক্তভোগী শিক্ষার্থীরা। ভর্তি প্রক্রিয়ায় এমন অর্থ লেনদেনের অভিযোগ সরকারি প্রশিক্ষণ কার্যক্রমের স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিয়ে প্রশ্ন তৈরি করে। ১৭তম ব্যাচের শিক্ষার্থী সাইম ইবনে আব্বাস দৈনিক সচিত্র সিলেটকে বলেন- ‘আমাকে ভর্তি হতে ১৫০০ টাকা দিতে হয়েছে। প্রশিক্ষণ শেষে ৭০০০ টাকা করে দেওয়ার কথা কিন্তু ৩৫০০ টাকা দিয়ে বাকি টাকা দেয়া হচ্ছে না। আমরা ১৭তম ব্যাচে ছিলাম, এখন ২০তম ব্যাচের প্রশিক্ষণ চলছে। এতোটা সময় অতিবাহিত হওয়ার পরও কোন সুরাহা নেই। তিনি বলেন, অফিস সহকারী আজাদ বারবার ‘আজ পাবেন, কাল পাবেন’ বলে সময় পার করছেন।’ শুধু ভর্তি নয়, ড্রাইভিং লাইসেন্সের চূড়ান্ত পরীক্ষায় পাস করিয়ে দেওয়ার কথা বলেও অর্থ দাবি করা হয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন কয়েকজন শিক্ষার্থী। হাসান আহমদ নামের শিক্ষার্থী দৈনিক সচিত্র সিলেটকে বলেন- ‘যেখানে সরকারিভাবে প্রশিক্ষণ দেওয়ার কথা, সেখানে অর্থ ছাড়া কোন কাজ হয় না। ভর্তির পরেই ৪০ জন শিক্ষার্থীর কাছ থেকে ২৫০টাকা করে নেয়া হয়। ফাইনাল পরীক্ষার সময় ৪০০০ টাকা করে দাবি করা হয়। টাকা না দিলে পরীক্ষা দিতে দেওয়া হবে না বলে হুমকি দেন প্রশিক্ষকরা। পরে ৩৫০০টাকা করে দিতে বাধ্য হই আমরা।’ তিনি বলেন- ‘এসব বিষয়ে তারা নীরব থাকিনি। প্রশিক্ষকের বিরুদ্ধে লিখিতভাবে প্রতিষ্ঠানের অধ্যক্ষের কাছে অভিযোগও করেছিলেন। কিন্তু তিনি তাদের কিছু না বলে আমাদেরকে শাষান।’ তিনি এসব বিষয়ে সুরাহা না করায় তাঁর ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। এসব অর্থ বাণিজ্যের সাথে তিনি জড়িত কি না তা তদন্ত করে দেখার দাবি জানিয়েছেন শিক্ষার্থীরা। এদিকে, প্রশিক্ষণ কার্যক্রম নিয়েও শিক্ষার্থীদের মধ্যে ক্ষোভ রয়েছে। তাদের অভিযোগ- ব্যবহারিক ড্রাইভিং প্রশিক্ষণে পর্যাপ্ত সময় দেওয়া হয়নি। প্রায় ২০ জন শিক্ষার্থীর জন্য ৪০ থেকে ৫০ মিনিটের মধ্যেই ব্যবহারিক প্রশিক্ষণ শেষ করা হতো বলে দাবি তাদের। এতে একজন শিক্ষার্থী পর্যাপ্ত সময় গাড়ি চালানোর সুযোগ না পাওয়ায় কাঙ্ক্ষিত দক্ষতা অর্জন নিয়ে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। এছাড়াও প্রশিক্ষকের আচরণ নিয়েও গুরুতর অভিযোগ করেছেন ভুক্তভোগী শিক্ষার্থীরা। এক নারী শিক্ষার্থী বলেন- গাড়ি চালানোর সময় কোনো শিক্ষার্থী ভুল করলে তাকে গালাগাল করা হতো। এমনকি মারধরের ঘটনাও ঘটেছে বলে দাবি করেন তিনি। প্রশিক্ষক আব্দুল কলিমের আচরণ নিয়ে নারী শিক্ষার্থীদের মধ্যেও অসন্তোষ রয়েছে তাদের মধ্যে। অনেক সময় নারী প্রশিক্ষনার্থীদের গায়ে হাত তোলা, অকথ্য ভাষায় গালাগাল, বেড টাচ করারও নজির আছে। অন্যদিকে প্রশিক্ষণ কেন্দ্রে হাজিরা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন ১৭তম ব্যাচের শিক্ষার্থীরা। কয়েকজন শিক্ষার্থীর অভিযোগ- তারা প্রশিক্ষণে উপস্থিত না থাকলেও হাজিরা খাতায় তাদের উপস্থিত দেখানো হয়েছে। শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, অনিয়মের বিষয়ে প্রকাশ্যে কথা বললে ব্যাচ থেকে বহিষ্কার কিংবা প্রশিক্ষণ থেকে বাদ দেওয়ার হুমকি দেওয়া হতো। ভুক্তভোগী শিক্ষার্থীরা অভিযোগগুলো নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ করতে দাবি জানিয়েছেন। অফিস সহকারী শেখ মোহাম্মদ আজাদ, ‘আমি এই বিষয়ে কিছু জানিনা’ বলে সদুত্তর দিতে নানান টালবাহানা করতে থাকেন। তিনি বলেন ‘আমি এখানে স্কিল ওয়ার্কার হিসেবে কাজ করি। মাঝে মধ্যে ইন্সট্রাকটরদের সহযোগিতা করি,। কোন অভিযোগ থাকলে প্রিন্সিপাল স্যারের সাথে কথা বলুন।’ প্রশিক্ষক আব্দুল কলিম বলেন, ‘আমি বর্তমানে এখানে নেই। চাকুরী ছেড়ে দিয়েছি। গালাগাল ও মারধরের বিষয়টি তিনি স্বীকার করে বলেন আমি পেশাদার ড্রাইভিং শেখাইছি। এখানে টুকটাক একটু গরম হইতে হয়। এই যে কায়দা আমরা এটাকে কৌশল হিসেবে ব্যবহার করি। ক্লাশ শেষে আমরা আবার হাত মিলিয়ে নেই। কিছু শিক্ষার্থী উশৃঙ্খল থাকায় উল্টোপাল্টো অভিযোগ করছে। আমি চাকরিটা ছেড়ে চলে এসেছি।’ সিলেট মহিলা কারিগরি প্রশিক্ষণ কেন্দ্রের অধ্যক্ষ প্রকৌশলী আসিফ আজিজ দৈনিক সচিত্র সিলেট বলেন- প্রশিক্ষণ কোর্সে ভর্তি হতে কোনো ফি লাগে না। অভিযোগগুলো সম্পুর্ণ ভিত্তিহীন। শিক্ষার্থীরা লিখিত অভিযোগ দিলেও কোনো পদক্ষেপ নেননি কেন এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন- এটা আমরা দেখতেছি, তদন্ত কমিটি হয়েছে, তদন্ত কমিটি রিপোর্ট দেবে।

০৬ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬
ভালোবাসার মধ্য দিয়ে সমাজ গড়তে চাই: রাষ্ট্রপতি

ভালোবাসার মধ্য দিয়ে সমাজ গড়তে চাই: রাষ্ট্রপতি

ঠাকুরগাঁওয়ে নাগরিক সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন— সংঘাত নয়, সংঘর্ষ নয়, প্রতিশোধ নয়; আমরা ভালোবাসা এবং ভালোবাসার মধ্য দিয়ে সত্যিকার অর্থে একটা সমাজ গড়ে তুলতে চাই।  রোববার (৬ সেপ্টেম্বর) বিকাল ৩টায় ঠাকুরগাঁও সরকারি বালক উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে আয়োজিত নাগরিক সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব গ্রহণের পর নিজ জেলায় এটিই তার প্রথম আনুষ্ঠানিক সংবর্ধনা। মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, গণতন্ত্রের জন্য দীর্ঘ সংগ্রাম ও রক্তপাতের পর দেশ এক নতুন পথচলার সুযোগ পেয়েছে। এখন আমাদের মূল দায়িত্ব হলো, এই গণতন্ত্রকে রক্ষা করা এবং গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠানগুলোকে শক্তিশালী করা। রাজনৈতিক মতপার্থক্য থাকবে, তবে সংঘাত-সংঘর্ষে না জড়িয়ে পারস্পরিক আলাপ-আলোচনার মধ্য দিয়েই সুস্থ ধারার রাজনীতি চর্চা করতে হবে। ঠাকুরগাঁওয়ের আঞ্চলিক ভাষায় উপস্থিত জনতার উদ্দেশে কথা বলতে গিয়ে আবেগপ্লুত হয়ে পড়েন রাষ্ট্রপতি। তিনি বলেন, ‘মুই জানু তোমরা মোক ভালবাসেন। সুতরাং যতক্ষণ কাঁতা কহিম, তোমরা শুনিবেন। ঠিক না?’ উপস্থিত জনতা সমস্বরে ‘হ্যাঁ’ বলে উঠলে তিনি আবার জিজ্ঞেস করেন, ‘ক্যাঙ্গাতি আছেন তোমরা বারে? ভালো আছেন তো?’ এলাকার সার্বিক উন্নয়নের প্রতিশ্রুতি দিয়ে রাষ্ট্রপতি জানান, ঠাকুরগাঁওয়ে ঘোষিত পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের জমির অধিগ্রহণ শেষ হয়েছে এবং দ্রুতই শিক্ষক নিয়োগের প্রক্রিয়া শুরু হবে। তিনি ঘোষণা দেন, আগামীকালই ইনশাআল্লাহ্ এই বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করা হবে। এছাড়া জেলায় মেডিকেল কলেজ স্থাপন, উপজেলা ও ইউনিয়ন পর্যায়ে খেলার মাঠ নির্মাণ, আধুনিক তথ্য কমপ্লেক্স, জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের আঞ্চলিক কার্যালয় এবং শিবগঞ্জ বিমানবন্দর পুনরায় চালু করার বিষয়ে সরকারের গৃহীত নানা পদক্ষেপের কথা তুলে ধরেন রাষ্ট্রপতি। স্থানীয় কর্মসংস্থান বাড়াতে ঠাকুরগাঁওয়ে কৃষিভিত্তিক শিল্প কারখানা গড়ে তোলার ওপর বিশেষ জোর দেন রাষ্ট্রপতি। তিনি যুবসমাজকে মাদকের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়ানোর পাশাপাশি শুধু চাকরি বা ঠিকাদারির ওপর নির্ভর না হয়ে নিজেরা উদ্যোক্তা হিসেবে আত্মপ্রকাশ করার আহ্বান জানান। দেশের রাজনীতিতে সহিষ্ণুতা ফেরানোর আহ্বান জানিয়ে রাষ্ট্রপতি বলেন, ‘গণতন্ত্রের সবচেয়ে বড় শক্তি হলো ট্রলারেন্স বা সহিষ্ণুতা। বিভেদ ভুলে সবাই যেন এক বাংলাদেশি নাগরিক হিসেবে নিজ নিজ অধিকার নিয়ে বাঁচতে পারি, সেই পরিবেশ আমাদের তৈরি করতে হবে।’ বক্তব্যের শেষভাগে নিজের শৈশব ও জন্মভূমির স্মৃতি স্মরণ করে কবিগুরু রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের পংক্তি উদ্ধৃত করে রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল বলেন, ‘মোর নাম এই বলে খ্যাত হোক, আমি তোমাদেরই লোক।’ জীবনের শেষ দিন পর্যন্ত দেশ ও জনগণের স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্ব এবং গণতন্ত্র রক্ষায় কাজ করে যাওয়ার দৃঢ় অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন তিনি। বক্তব্যের শুরুতে রাষ্ট্রপতি মঞ্চে উপস্থিত মন্ত্রী, সংসদ সদস্য, বিশিষ্ট নাগরিক, সামরিক-বেসামরিক কর্মকর্তা, বীর মুক্তিযোদ্ধা, শিক্ষক-শিক্ষার্থী, কৃষক-শ্রমিক এবং বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতৃবৃন্দকে ধন্যবাদ জানান। বিশেষ করে হিন্দু, মুসলমান, বৌদ্ধ ও খ্রিস্টানসহ স্থানীয় রাজবংশী ও সনাতন ধর্মাবলম্বী ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর প্রতি শুভেচ্ছা জ্ঞাপন করেন তিনি। পাশাপাশি দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনে অকুতোভয়ে পাশে থাকার জন্য নিজের সহধর্মিণীর প্রতি গভীর শ্রদ্ধা ও কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।

০৬ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬
জৈন্তাপুরে অবৈধভাবে বালু উত্তোলনের দায়ে এক লাখ টাকা জরিমানা

জৈন্তাপুরে অবৈধভাবে বালু উত্তোলনের দায়ে এক লাখ টাকা জরিমানা

সিলেটের জৈন্তাপুরে নদীর ইজারা বহির্ভূত এলাকা থেকে অবৈধভাবে বালু উত্তোলনের অপরাধে এক ব্যক্তিকে ১ লাখ টাকা জরিমানা করেছেন ভ্রাম্যমাণ আদালত। রোববার (৬ সেপ্টেম্বর) বেলা ১১টা থেকে দুপুর ১টা পর্যন্ত উপজেলার ১ নম্বর নিজপাট ইউনিয়নের বড়গাং এলাকায় টাস্কফোর্সের সমন্বিত অভিযানে এ জরিমানা করা হয়। জানা গেছে, বড়গাং এলাকায় নদীর ইজারা বহির্ভূত স্থান থেকে একটি চক্র দীর্ঘদিন ধরে অবৈধভাবে বালু উত্তোলন করে আসছিল। গোপন সংবাদের ভিত্তিতে রোববার সকালে পুলিশ ও বিজিবি সদস্যদের সঙ্গে নিয়ে সেখানে অভিযানে যান ভ্রাম্যমাণ আদালত। ঘটনাস্থলে অবৈধভাবে বালু উত্তোলনের প্রমাণ পাওয়ায় বালুমহাল ও মাটি ব্যবস্থাপনা আইন, ২০১০-এর ১৫(১) ধারায় সংশ্লিষ্ট বালু উত্তোলনকারীকে ১ লাখ টাকা জরিমানা করা হয়। অভিযানে নেতৃত্ব দেন জৈন্তাপুরের সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মো. মনিরুল ইসলাম। এতে জৈন্তাপুর মডেল থানা-পুলিশ এবং বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) জকিগঞ্জ ব্যাটালিয়নের (১৯ বিজিবি) সদস্যরা সহায়তা করেন। সহকারী কমিশনার (ভূমি) মো. মনিরুল ইসলাম বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

০৬ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬
সিলেটে শিশু শ্রোতারা উদযাপন করলো চেক রেডিও’র

সিলেটে শিশু শ্রোতারা উদযাপন করলো চেক রেডিও’র

ইউরোপের অন্যতম পুরোনো আন্তর্জাতিক রেডিও স্টেশন চেক প্রজাতন্ত্রের রাষ্ট্রীয় আন্তর্জাতিক রেডিও সম্প্রচার কেন্দ্র চেক রেডিও ৭-এর ৯০তম বার্ষিকী উদযাপন করা হয়েছে সিলেট সিটির ৩৪নং ওয়ার্ডে।  শনিবার (৫ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যা ৭টায় সিলেট নগরীর শাহপরান বাহুবল গ্রীণল্যান্ড আবাসিক এলাকায় এই প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উদযাপন করে বেতার শ্রোতা সংগঠন সাউথ এশিয়া রেডিও ক্লাব (সার্ক) বাংলাদেশ এর শিশু সদস্যবৃন্দ। বাংলাদেশে রেডিও প্রাগ-এর ৯০তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উদযাপনের এটি ক্লাবের তৃতীয় আয়োজন।  সাউথ এশিয়া রেডিও ক্লাব (সার্ক) বাংলাদেশ এর শিশু বিষয়ক সম্পাদক লাবীব ইকবাল-এর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে মুখ্য আলোচক হিসেবে উপস্থিত ছিলেন, ক্লাবের প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারম্যান ও রেডিও অ্যাক্টিভিস্ট দিদারুল ইকবাল (S21DAL)।  এসময় শিশু সদস্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন, নাফিউল ইসলাম হায়মন, প্রথম দাস রাজবীর, দৈপায়ন দাস, আবির হোসেন রিয়ান, আনাস বিন মুখলিছুর রহমান, রুহুল আমিন, তামজিদ আহমদ তানজিম, তাওফিক আহমদ তাহসিন, কাজী ইফতেকার উদ্দীন মাশফি, রাইসা তাবাসসুম জারা। অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন, সাউথ এশিয়া রেডিও ক্লাব (সার্ক) বাংলাদেশ এর ভাইস চেয়ারম্যান তাছলিমা আক্তার লিমা, সাউথ এশিয়া রেডিও ক্লাব (সার্ক)- লাক্কাতুরা চা বাগান ইউনিট, সিলেট সদর, সিলেটের সভাপতি বিক্রম রায় ও যুগ্ম সম্পাদক বিদ্যাপ্রকাশ বাক্তী, বিকাশ রঞ্জন দাশ, রিমা প্রমুখ।  দিদারুল ইকবাল  (S21DAL) বলেন, ১৯৩৬ সালের ৩১ আগস্ট সকাল ১০টায় চেক প্রজাতন্ত্রের স্পা শহরের কাছ থেকে একটি শর্টওয়েভ ট্রান্সমিটারের মাধ্যমে প্রথমবারের মতো বিশ্বের উদ্দেশ্যে একটি চেক সংকেত প্রেরণের মাধ্যমে রেডিও প্রাগ ইন্টারন্যাশনালের ঐতিহাসিক যাত্রা শুরু হয়েছিল যা আজ নয় দশক ধরে অব্যাহত রয়েছে। চেক প্রজাতন্ত্রের রাজনীতি, অর্থনীতি, ইতিহাস, সংস্কৃতি এবং সমসাময়িক বিভিন্ন বিষয় বিশ্ববাসীর কাছে তুলে ধরাই এর রেডিওর প্রধান কাজ। বর্তমানে এটি মূলত স্যাটেলাইট, মোবাইল অ্যাপ এবং তাদের অফিশিয়াল ওয়েবসাইটের মাধ্যমে ইন্টারনেটে সারাবিশ্বে লাইভ ও পডকাস্ট আকারে শোনা যায়। বাংলাদেশের সিলেটে এই রেডিও স্টেশনের ৯০তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উদযাপনের মাধ্যমে আমরা সবাই একটি ঐতিহাসিক মুহুর্তের অংশীদার হলাম। সাউথ এশিয়া রেডিও ক্লাব (সার্ক) বাংলাদেশের সংগ্রহশালায় রেডিও প্রাগের পাঠানো চমৎকার সব কিউএসএল কার্ড, ভিউ-কার্ড, স্টিকার এবং চেক প্রজাতন্ত্রের ইতিহাস-ঐতিহ্যের নানা ঐতিহাসিক স্মারক যতেœর সাথে সংরক্ষিত রয়েছে।

০৬ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬
ইউনিয়ন পরিষদ দিয়েই স্থানীয় সরকারের নির্বাচন শুরু হবে : ইসি আনোয়ারুল

ইউনিয়ন পরিষদ দিয়েই স্থানীয় সরকারের নির্বাচন শুরু হবে : ইসি আনোয়ারুল

ইউনিয়ন পরিষদ (ইউপি) নির্বাচনের মধ্য দিয়ে স্থানীয় সরকারের ভোটগ্রহণ শুরু হবে এবং চলতি মাসেই এ নির্বাচনের বিস্তারিত কর্মপরিকল্পনা প্রকাশ করা হবে বলে জানিয়েছেন নির্বাচন কমিশনার (ইসি) মো. আনোয়ারুল ইসলাম সরকার। রোববার (৬ সেপ্টেম্বর)রাজধানীর আগারগাঁও নির্বাচন কমিশন ভবনে নিজ দপ্তরে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এসব তথ্য জানান। আনোয়ারুল ইসলাম সরকার বলেন, ‘আমরা আশা করছি ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচন দিয়েই স্থানীয় সরকারের নির্বাচন শুরু হবে। ইউনিয়ন পরিষদের নির্বাচন একটা পর্যায়ে গেলে আমরা সিটি কর্পোরেশন, পৌরসভা বা অন্যান্য স্থানীয় সরকার নির্বাচনগুলো করব।’ ইউনিয়ন পরিষদের নির্বাচনের তফসিল কবে হবে- সে বিষয়ে তিনি বলেন, ‘এই মাসের মধ্যেই আপনারা অনেক কিছু দেখবেন এবং অনেক কিছুই আমরা সুনির্দিষ্টভাবে বলতে পারব। আমাদের কর্মপরিকল্পনা প্রণয়নের কাজ খুব দ্রুত গতিতে চলছে।’ এ নির্বাচনের তফসিল এক বা দুই সপ্তাহের মধ্যে জানানো হবে বলেও তিনি উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, নভেম্বর ও ডিসেম্বর মাসে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোতে বার্ষিক, বৃত্তি ও টেস্ট পরীক্ষাসহ নানা ব্যস্ততা থাকে। ভোটকেন্দ্র হিসেবে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলো ব্যবহৃত হয় এবং শিক্ষকরাই প্রিসাইডিং ও পোলিং অফিসারের দায়িত্ব পালন করেন। তাই পরীক্ষার সময়গুলো বাদ দিয়ে, আগে বা পরে নির্বাচনের তারিখ নির্ধারণের বিষয়টি আমরা গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করছি। তবে আইনি বাধ্যবাধকতা থাকা নির্বাচনগুলোকে অগ্রাধিকার দেওয়া হবে। তিনি বলেন, অতীতের অভিজ্ঞতার আলোকে আমরা এবার আরও সাহসী পদক্ষেপ নিচ্ছি। সব ভোটকেন্দ্র সিসিটিভি ক্যামেরার আওতায় আনা হবে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর মুভমেন্ট দ্রুত করতে ড্রোন ব্যবহারের পাশাপাশি বডি-ওর্ন ক্যামেরার সংখ্যা বাড়ানো হবে। এছাড়া অপতথ্যের ঝুঁকি মোকাবিলাতেও আমরা ব্যবস্থা নিচ্ছি। আনোয়ারুল ইসলাম সরকার বলেন, জাতীয় সংসদ নির্বাচনের মতো এবারও আচরণবিধিতে কিছু কড়াকড়ি থাকছে। ভিআইপিরা যেন সরকারি সুযোগ-সুবিধা ব্যবহার করে নির্বাচনী প্রচারণায় অংশ নিতে না পারেন, সেটির বিধান রাখা হয়েছে। এছাড়া পচনশীল নয় এমন দ্রব্য বা পোস্টারের ব্যবহার নিষিদ্ধ করা হচ্ছে। কিছুদিনের মধ্যেই এ সংক্রান্ত সংশোধিত আচরণবিধির প্রজ্ঞাপন জারি হবে। এমপিওভুক্ত শিক্ষকদের প্রার্থী হওয়া প্রসঙ্গে তিনি বলেন, শিক্ষকরা নির্বাচনে অংশ নিলে সহকর্মীরা তার পক্ষে কাজ করেন, যা ভোটকেন্দ্রে নিরপেক্ষতা নিয়ে প্রশ্নের জন্ম দেয়। শিক্ষাঙ্গনকে রাজনীতিমুক্ত রাখতে এবং শিক্ষকদের নিরপেক্ষতা বজায় রাখার স্বার্থে তারা যেন নির্বাচনে অংশ না নেন, এমন একটি পর্যবেক্ষণ স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ে পাঠিয়েছে ইসি। ঠাকুরগাঁও-১ আসনের উপ-নির্বাচন প্রসঙ্গে তিনি  বলেন, আইন অনুযায়ী, ঠাকুরগাঁও-১ আসনের উপ-নির্বাচন ৯০ দিনের মধ্যেই সম্পন্ন করতে হবে এবং এ জন্য কমিশন প্রস্তুত। শিগগিরই এর তফসিল ঘোষণা করা হবে। ইউপি নির্বাচন একটি নির্দিষ্ট পর্যায়ে যাওয়ার পর সিটি কর্পোরেশন ও অন্যান্য নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে।-বাসস

০৬ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬
সিলেটে মিছিলের চেষ্টা, নিষিদ্ধঘোষিত সংগঠনের দুজন গ্রেফতার

সিলেটে মিছিলের চেষ্টা, নিষিদ্ধঘোষিত সংগঠনের দুজন গ্রেফতার

সিলেটে নিষিদ্ধঘোষিত ছাত্রলীগের দুই সক্রিয় কর্মীকে গ্রেফতার করেছে কোতোয়ালি মডেল থানাপুলিশ। এর মধ্যে একজনকে শুক্রবার (৪ সেপ্টেম্বর) মহানগরের জল্লারপাড় এলাকা থেকে এবং আরেকজনকে রবিবার (৬ সেপ্টেম্বর) নেহারীপাড়া এলাকা থেকে গ্রেফতার করা হয়। গ্রেফতারকৃতরা হলেন- ময়মনসিংহ জেলার ধোবাউড়া থানার কামালপুর গ্রামের মো. আবু বক্কর সিদ্দিকের ছেলে মো. সোহেল আহমদ (২০) ও সুনামগঞ্জ জেলার ছাতক থানার দিঘলী রামপুর গ্রামের আব্দুস শহীদের ছেলে রবিউল ইসলাম হৃদয় (২৬)। তারা দুজনই সিলেট মহানগরে বসবাস করতেন।  সিলেট মেট্রোপলিটন পুলিশের (এসএমপি) মিডিয়া অফিসার অতিরিক্ত উপ-কমিশনার মঞ্জুরুল আলম জানান- গত ২৮ আগস্ট মহানগরের পূর্ব জিন্দাবাজারের বারুতখানা পয়েন্ট থেকে জেল রোড পর্যন্ত নিষিদ্ধঘোষিত ছাত্রলীগের নেতা-কর্মীরা রাষ্ট্রবিরোধী স্লোগান দিয়ে ঝটিকা মিছিলের চেষ্টা করেন। এ ঘটনায় পরে কোতোয়ারি মডেল থানায় মামলা দায়ের করা হয়।  মামলার তদন্তে সিসিটিভি ও ভিডিও ফুটেজসহ বিভিন্ন তথ্য যাচাই করে গ্রেফতারকৃত এ দুজনের সম্পৃক্ততার তথ্য পাওয়া গেছে। বাকি আসামিদেরও গ্রেফতারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে। এদিকে, গ্রেফতারকৃত দুজনকে আদালতের নির্দেশে জেলহাজতে প্রেরণ করেছে পুলিশ।

০৬ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬
ফ্রান্সে গ্যাস বিস্ফোরণে প্রাণ গেল সিলেটের শিশু নাহিলের

ফ্রান্সে গ্যাস বিস্ফোরণে প্রাণ গেল সিলেটের শিশু নাহিলের

ফ্রান্সের রাজধানী প্যারিসের গ্যাস লিকেজ থেকে ভয়াবহ বিস্ফোরণে বাংলাদেশি পরিবারের এক শিশুর মৃত্যু হয়েছে। তার নাম নাহিল। সে সিলেট বিভাগের হবিগঞ্জের বানিয়াচং উপজেলার পুকড়া ইউনিয়নের কাটখাল গ্রামের বাসিন্দা রাসেলের ছেলে বলে জানা গেছে।   এ ঘটনায় আরও ৭জন আহত হয়েছেন। আহতদের মধ্যে দুজনের অবস্থা গুরুতর বলে জানিয়েছে ফরাসি সংবাদমাধ্যম। শনিবার (৫ সেপ্টেম্বর) রাত সাড়ে ৯টার দিকে অবারভিলিয়ের এলাকায় একটি বাড়িতে এ বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে। বিস্ফোরণের পর বাড়িটির একটি অংশ ধসে পড়ে। খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিস, পুলিশ ও জরুরি উদ্ধারকারী দল ঘটনাস্থলে পৌঁছে উদ্ধারকাজ শুরু করে।   ফরাসি সংবাদমাধ্যম খব চধৎরংরবহ জানিয়েছে, বিস্ফোরণে দুই বছর বয়সী একটি শিশুর মৃত্যু হয়েছে। এ ঘটনায় সাতজন আহত হয়েছেন, যাদের মধ্যে দুজন গুরুতর অবস্থায় হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। উদ্ধার অভিযানে প্রায় ১১০ জন দমকলকর্মী অংশ নেন। স্থানীয় বাংলাদেশি কমিউনিটি ও পরিবারের সূত্রে জানা গেছে, নিহত শিশুটির নাম নাহিল। সে হবিগঞ্জের বানিয়াচং উপজেলার পুকড়া ইউনিয়নের কাটখাল গ্রামের বাসিন্দা রাসেলের ছেলে বলে জানা গেছে।   অবারভিলিয়ে শহরের মেয়র সোফিয়েন কাররুমি এ ঘটনায় গভীর শোক প্রকাশ করেছেন। ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর জন্য স্থানীয় প্রশাসনের পক্ষ থেকে অস্থায়ী থাকার ব্যবস্থাও করা হয়েছে। বিস্ফোরণের কারণ খতিয়ে দেখতে তদন্ত শুরু করেছে ফরাসি কর্তৃপক্ষ। প্রাথমিকভাবে গ্যাস লিকেজ থেকেই বিস্ফোরণ ঘটেছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। তবে গ্যাস লিকেজের সুনির্দিষ্ট কারণ জানতে তদন্ত চলছে।   এদিকে বাংলাদেশি শিশুর মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়ার পর ফ্রান্সের বাংলাদেশি কমিউনিটিতে শোকের ছায়া নেমে এসেছে। স্বজন ও পরিচিতজনরা শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা জানিয়েছেন এবং শিশুটির রুহের মাগফিরাতের জন্য সবার কাছে দোয়া চেয়েছেন।

০৬ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬
হজের নিবন্ধন করবেন যেভাবে

হজের নিবন্ধন করবেন যেভাবে

২০২৭ সালের পবিত্র হজের প্রাথমিক নিবন্ধন চলছে। এখন পর্যন্ত মাত্র দুই হাজার ১১৪ জন নিবন্ধন করেছেন। বাংলাদেশ থেকে এবার হজে যেতে পারবেন সাড়ে ৭৮ হাজার লোক। নিবন্ধন শুরু হয়েছে এক মাসেরও বেশি সময় আগে।আগামী ২৪ সেপ্টেম্বর নিবন্ধনের সময় শেষ হবে। এরপর সময় বাড়ানো হবে না বলেও জানিয়েছে ধর্ম মন্ত্রণালয়। ফলে নিবন্ধনের জন্য হাতে রয়েছে আর মাত্র ১৮ দিন।  ধর্ম মন্ত্রণালয়ের তথ্যানুযায়ী, এখন পর্যন্ত সরকারি ব্যবস্থাপনায় ৭৫১ জন ও বেসরকারিভাবে করেছে এক হাজার ৩৬৩ জন। এ হিসাবে বিপুলসংখ্যক কোটা এখনো খালি রয়েছে। তিন লাখ ৫০ হাজার টাকা দিয়ে নিবন্ধন করতে হচ্ছে। আগামী ১০ ডিসেম্বরের মধ্যে প্যাকেজ মূল্যের বাকি টাকা পরিশোধ করে চূড়ান্ত নিবন্ধন সম্পন্ন করতে হবে। আগামী ২৪ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত সরকারি ও বেসরকারি উভয় ব্যবস্থাপনায় ই-হজ সিস্টেমের মাধ্যমে প্রাথমিক নিবন্ধন করা যাবে। হজে যেতে আগ্রহীদের নির্ধারিত সময়ের মধ্যেই প্রাথমিক নিবন্ধন সম্পন্ন করতে হবে। এর আগে প্রত্যেক হজযাত্রীকে ৩০ হাজার টাকা জমা দিয়ে প্রাক-নিবন্ধন সম্পন্ন করতে হবে। এরপর সাড়ে তিন লাখ টাকা জমা দিয়ে প্রাথমিক নিবন্ধন সম্পন্ন করা যাবে। যেভাবে করবেন নিবন্ধন সরকারি ব্যবস্থাপনায় হজে যেতে ইচ্ছুক ব্যক্তিরা ই-হজ সিস্টেমে ইউজার তৈরি করে নিজেরাই নিবন্ধন করতে পারবেন। সরকারি ব্যবস্থাপনায় ই-হজ সিস্টেমে এই হজের নিবন্ধন করবেন যেভাবে ২০২৭ সালের পবিত্র হজের প্রাথমিক নিবন্ধন চলছে। এখন পর্যন্ত মাত্র দুই হাজার ১১৪ জন নিবন্ধন করেছেন। বাংলাদেশ থেকে এবার হজে যেতে পারবেন সাড়ে ৭৮ হাজার লোক। নিবন্ধন শুরু হয়েছে এক মাসেরও বেশি সময় আগে।আগামী ২৪ সেপ্টেম্বর নিবন্ধনের সময় শেষ হবে। এরপর সময় বাড়ানো হবে না বলেও জানিয়েছে ধর্ম মন্ত্রণালয়। ফলে নিবন্ধনের জন্য হাতে রয়েছে আর মাত্র ১৮ দিন।  ধর্ম মন্ত্রণালয়ের তথ্যানুযায়ী, এখন পর্যন্ত সরকারি ব্যবস্থাপনায় ৭৫১ জন ও বেসরকারিভাবে করেছে এক হাজার ৩৬৩ জন। এ হিসাবে বিপুলসংখ্যক কোটা এখনো খালি রয়েছে। তিন লাখ ৫০ হাজার টাকা দিয়ে নিবন্ধন করতে হচ্ছে। আগামী ১০ ডিসেম্বরের মধ্যে প্যাকেজ মূল্যের বাকি টাকা পরিশোধ করে চূড়ান্ত নিবন্ধন সম্পন্ন করতে হবে। আগামী ২৪ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত সরকারি ও বেসরকারি উভয় ব্যবস্থাপনায় ই-হজ সিস্টেমের মাধ্যমে প্রাথমিক নিবন্ধন করা যাবে। হজে যেতে আগ্রহীদের নির্ধারিত সময়ের মধ্যেই প্রাথমিক নিবন্ধন সম্পন্ন করতে হবে। এর আগে প্রত্যেক হজযাত্রীকে ৩০ হাজার টাকা জমা দিয়ে প্রাক-নিবন্ধন সম্পন্ন করতে হবে। এরপর সাড়ে তিন লাখ টাকা জমা দিয়ে প্রাথমিক নিবন্ধন সম্পন্ন করা যাবে। যেভাবে করবেন নিবন্ধন সরকারি ব্যবস্থাপনায় হজে যেতে ইচ্ছুক ব্যক্তিরা ই-হজ সিস্টেমে ইউজার তৈরি করে নিজেরাই নিবন্ধন করতে পারবেন। সরকারি ব্যবস্থাপনায় ই-হজ সিস্টেমে এই hajj.gov.bd সাইটে নিজেই নিবন্ধন করা যাবে। এছাড়া ইউনিয়ন ডিজিটাল সেন্টার, ইসলামিক ফাউন্ডেশনের বিভাগীয় ও জেলা কার্যালয়, জেলা ও উপজেলা মডেল মসজিদ, ইসলামিক ফাউন্ডেশনের বায়তুল মোকাররম কার্যালয় এবং ঢাকা হজ অফিস থেকেও নিবন্ধনের সুযোগ রয়েছে। সরকারি ব্যবস্থাপনায় হজযাত্রীদের সোনালী ব্যাংকের যেকোনো শাখায় ভাউচারের মাধ্যমে অর্থ জমা দিয়ে প্রাথমিক নিবন্ধন করতে হবে। অন্যদিকে, বেসরকারি ব্যবস্থাপনায় নিবন্ধনের ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট হজ এজেন্সির নির্ধারিত ব্যাংক হিসাবে অর্থ জমা দিতে হবে। এজেন্সির ব্যাংক হিসাবসংক্রান্ত তথ্য হজ পোর্টালে সংশ্লিষ্ট এজেন্সির প্রোফাইলে পাওয়া যাবে। নিবন্ধনের জন্য প্রয়োজনীয় শর্ত হজে যেতে আগ্রহীদের এমন পাসপোর্ট থাকতে হবে, যার মেয়াদ ২০২৭ সালের ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত কার্যকর থাকবে। প্রাথমিক নিবন্ধনের সময় হজযাত্রীদের প্রশিক্ষণ ও টিকা গ্রহণের জেলা, হজের ধরন এবং হজ প্যাকেজ নির্বাচন করতে হবে। তবে ১৫ বছরের কম বয়সি কেউ হজে যেতে পারবেন না। একইভাবে গুরুতর হৃদরোগ, ফুসফুস, লিভার বা কিডনি রোগে আক্রান্ত ব্যক্তি, স্নায়ুবিক বা মানসিক রোগী এবং ডিমেনশিয়ায় আক্রান্ত ব্যক্তিরা হজ পালনের জন্য অনুমোদিত হবেন না। এ ছাড়া কেমোথেরাপি, বায়োলজিক্যাল থেরাপি বা রেডিওথেরাপি গ্রহণরত ক্যানসার রোগীরাও হজে যাওয়ার অনুমতি পাবেন না। জনস্বাস্থ্যের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ সক্রিয় সংক্রামক রোগ, যেমন যক্ষ্মা ও হেমোরেজিক ফিভারে আক্রান্ত ব্যক্তিরাও হজে যেতে পারবেন না। পাশাপাশি গর্ভাবস্থার শেষ দুই মাসে থাকা কিংবা ঝুঁকিপূর্ণ গর্ভাবস্থায় থাকা কোনো নারী পাবেন না হজযাত্রী ফিটনেস সনদ।   সাইটে নিজেই নিবন্ধন করা যাবে। এছাড়া ইউনিয়ন ডিজিটাল সেন্টার, ইসলামিক ফাউন্ডেশনের বিভাগীয় ও জেলা কার্যালয়, জেলা ও উপজেলা মডেল মসজিদ, ইসলামিক ফাউন্ডেশনের বায়তুল মোকাররম কার্যালয় এবং ঢাকা হজ অফিস থেকেও নিবন্ধনের সুযোগ রয়েছে। সরকারি ব্যবস্থাপনায় হজযাত্রীদের সোনালী ব্যাংকের যেকোনো শাখায় ভাউচারের মাধ্যমে অর্থ জমা দিয়ে প্রাথমিক নিবন্ধন করতে হবে। অন্যদিকে, বেসরকারি ব্যবস্থাপনায় নিবন্ধনের ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট হজ এজেন্সির নির্ধারিত ব্যাংক হিসাবে অর্থ জমা দিতে হবে। এজেন্সির ব্যাংক হিসাবসংক্রান্ত তথ্য হজ পোর্টালে সংশ্লিষ্ট এজেন্সির প্রোফাইলে পাওয়া যাবে। নিবন্ধনের জন্য প্রয়োজনীয় শর্ত হজে যেতে আগ্রহীদের এমন পাসপোর্ট থাকতে হবে, যার মেয়াদ ২০২৭ সালের ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত কার্যকর থাকবে। প্রাথমিক নিবন্ধনের সময় হজযাত্রীদের প্রশিক্ষণ ও টিকা গ্রহণের জেলা, হজের ধরন এবং হজ প্যাকেজ নির্বাচন করতে হবে। তবে ১৫ বছরের কম বয়সি কেউ হজে যেতে পারবেন না। একইভাবে গুরুতর হৃদরোগ, ফুসফুস, লিভার বা কিডনি রোগে আক্রান্ত ব্যক্তি, স্নায়ুবিক বা মানসিক রোগী এবং ডিমেনশিয়ায় আক্রান্ত ব্যক্তিরা হজ পালনের জন্য অনুমোদিত হবেন না। এ ছাড়া কেমোথেরাপি, বায়োলজিক্যাল থেরাপি বা রেডিওথেরাপি গ্রহণরত ক্যানসার রোগীরাও হজে যাওয়ার অনুমতি পাবেন না। জনস্বাস্থ্যের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ সক্রিয় সংক্রামক রোগ, যেমন যক্ষ্মা ও হেমোরেজিক ফিভারে আক্রান্ত ব্যক্তিরাও হজে যেতে পারবেন না। পাশাপাশি গর্ভাবস্থার শেষ দুই মাসে থাকা কিংবা ঝুঁকিপূর্ণ গর্ভাবস্থায় থাকা কোনো নারী পাবেন না হজযাত্রী ফিটনেস সনদ।

০৬ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬
সিলেটে বস্তাবন্দি লাশটি কার? ২৮ ঘণ্টার মধ্যে রহস্য উন্মোচন

সিলেটে বস্তাবন্দি লাশটি কার? ২৮ ঘণ্টার মধ্যে রহস্য উন্মোচন

 গ্রেফতার ৩ সিলেটের দক্ষিণ সুরমা এলাকায় বস্তাবন্দি অবস্থায় অজ্ঞাত ব্যক্তির লাশ উদ্ধারের চাঞ্চল্যকর ও ক্লু-লেস হত্যাকাণ্ডের রহস্য ২৮ ঘণ্টার মধ্যে উন্মোচন করেছে পুলিশ। এছাড়া ঘটনার সাথে জড়িত মূল আসামিসহ তিনজনকে গ্রেফতার এবং হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত আলামত জব্দ করা হয়েছে। প্রেস ব্রিফিং করে এসব তথ্য সাংবাদিকদের জানিয়েছেন সিলেট মেট্রোপলিটন পুলিশের (এসএমপি) সারোয়ার মুর্শেদ শামীম। রবিবার (৬ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যায় এসএমপি কমিশনার কার্যালয়ের সম্মেলনক্ষে আয়োজিত এ প্রেস বিফিংয়ে জানানো হয়- ​গত শুক্রবার (৪ সেপ্টেম্বর) বেলা ১১টায় দক্ষিণ সুরমা থানাধীন কদমতলী বাস টার্মিনালস্থ রাজধানী এক্সপ্রেস ও উদার পরিবহন বাস কাউন্টারের সামনে ফুটপাতের পাশে একটি সাদা প্লাস্টিকের বস্তা পড়ে থাকতে দেখেন সিলেট সিটি কর্পোরেশনের পরিচ্ছন্নতাকর্মীরা। বস্তাটি সরানোর চেষ্টা করলে এর মুখ খুলে এক ব্যক্তির পা বেরিয়ে আসে।  তাৎক্ষণিকভাবে বিষয়টি স্থানীয়রা পুলিশকে জানালে দক্ষিণ সুরমা থানার অফিসার ইনচার্জসহ ঊর্ধ্বতন পুলিশ কর্মকর্তারা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন। ​পরবর্তীতে পিবিআই-এর সহায়তায় ও তথ্যপ্রযুক্তির ব্যবহারের মাধ্যমে মৃত ব্যক্তির পরিচয় শনাক্ত করা হয়। নিহত ব্যক্তির নাম মো. লায়েছ আহমদ (৩৪) বলে জানা যায়। পরে স্বজনদের সংবাদ দেওয়া হলে তারা এসে মরদেহ শনাক্ত করেন। লায়েছ সুনামগঞ্জ জেলার দোয়ারাবাজার থানার পানাইল নতুনপাড়া গ্রামের মৃত আব্দুর মিয়ার ছেলে। ​ঘটনার রহস্য উদ্ঘাটনে পুলিশ আশপাশের সিসিটিভি ফুটেজ পর্যালোচনা করে দেখতে পায়- একটি রিকশাভ্যানে করে ভ্যানচালক ও অপর এক ব্যক্তি বস্তাটি ফেলে যায়।  সিসিটিভি ফুটেজ ও প্রযুক্তিগত সহায়তায় কোতোয়ালি থানাধীন শামীমাবাদ এলাকা থেকে ভ্যানচালক আক্কাছকে আটক করা হয়। ​আটককৃত ভ্যানচালকের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে এই হত্যাকাণ্ডের মূল অভিযুক্ত মো. শামছু মিয়া (৩৪)-কে সিলেটের গোলাপগঞ্জ থানাধীন খালপাড় এলাকা থেকে গ্রেপ্তার করা হয়। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে শামছু মিয়া হত্যাকাণ্ডে নিজের সম্পৃক্ততার কথা স্বীকার করে। পরবর্তীতে তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে ঘটনার সাথে জড়িত আরও দুই সহযোগী- মামুন মিয়া (৩২) এবং মো. সাজু মিয়া (৩৩) নামের দুজনকে তাদের নিজ বাড়ি থেকে গ্রেফতার করে পুলিশ।  ​প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদের বরাতে পুলিশ জানায়, নিহত লায়েছ আহমদ এবং গ্রেফতারকৃত আসামিরা পরস্পর বন্ধু। পূর্বের পাওনা টাকা ফেরত না দেওয়াকে কেন্দ্র করে ঘটনার দিন লায়েছ আহমদ ও শামছু মিয়ার মধ্যে কথাকাটাকাটি হয়। একপর্যায়ে শামছু মিয়া ক্ষিপ্ত হয়ে লায়েছ আহমদের মাথায় সেলাই রেঞ্জ দিয়ে আঘাত করে। পরে মামুন ও সাজু মিয়ার সহায়তায় তারা লায়েছকে হত্যা করে। হত্যাকাণ্ডের পর মূল আসামি শামছু মিয়ার দোকান থেকে হত্যায় ব্যবহৃত একটি সেলাই রেঞ্জ, একটি বড় বটি দা এবং অন্যান্য আলামত জব্দ করে পুলিশ। ​এ ঘটনায় নিহত লায়েছ আহমদের ভাই শায়েক আহমদ বাদী হয়ে দক্ষিণ সুরমা থানায় মামলা দায়ের করেছেন। সে মামলায় আটক তিনজনকে গ্রেফতার দেখানো হয়েছে। এদিকে, মূল আসামি মো. শামছু মিয়া আদালতে হত্যাকাণ্ডে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি প্রদান করেছেন। হত্যাকাণ্ডের বিস্তারিত কারণ উদ্ঘাটন এবং আর কেউ জড়িত আছে কিনা তা খতিয়ে দেখতে পুলিশের তদন্ত কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে বলে জানিয়েছেন নতুন এসএমপি কমিশনার।

০৬ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬
দেশে মাথাপিছু ঋণ ১ লাখ ২৯ হাজার টাকা

দেশে মাথাপিছু ঋণ ১ লাখ ২৯ হাজার টাকা

চলতি বছরের মার্চ পর্যন্ত দেশের মাথাপিছু ঋণের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ১ লাখ ২৯ হাজার ২৩৯ টাকা। রোববার (৬ সেপ্টেম্বর) জাতীয় সংসদের অধিবেশনে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী এ তথ্য জানিয়েছেন। সংসদ সদস্য রেজা আহমেদের প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী জানান, জনগণের ওপর মাথাপিছু ঋণের বোঝা কমাতে সরকার রাজস্ব আদায় বৃদ্ধি, সরকারি অর্থায়নের সুষ্ঠু ও দক্ষ ব্যবস্থাপনা এবং ঋণ ব্যবস্থাপনাকে আরও শৃঙ্খলাবদ্ধ করার ওপর জোর দিচ্ছে। এ লক্ষ্যে রাজস্ব আদায়ের পরিধি বাড়িয়ে, কর ও কর-বহির্ভূত রাজস্ব বৃদ্ধি এবং সরকারের নিজস্ব আয় বাড়িয়ে ঋণের প্রয়োজনীয়তা কমানোর উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে বলে জানান মন্ত্রী। একইসঙ্গে সরকারি ব্যয়কে আরও সাশ্রয়ী ও কার্যকর করা এবং অপ্রয়োজনীয় ও কম অগ্রাধিকারপ্রাপ্ত ব্যয় নিয়ন্ত্রণের মাধ্যমে সরকারের অর্থায়নের প্রয়োজনীয়তা কমানোর ওপর জোর দেওয়া হচ্ছে। অর্থমন্ত্রী জানান, সরকারি ঋণের সুদের হার ও পুনর্বিত্তায়নের ঝুঁকি কমাতে বাজারভিত্তিক ও শৃঙ্খলাবদ্ধ ঋণ সম্প্রসারণ এবং সরকারি সিকিউরিটিজ বাজারকে আরও কার্যকর ও প্রতিযোগিতামূলক করার নীতি অনুসরণ করা হচ্ছে। এ উদ্দেশ্যে অভ্যন্তরীণ ঋণের বাজার সংস্কার ও বিনিয়োগকারীর ভিত্তি তৈরির উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। সঞ্চয়পত্রের মাধ্যমে অতিরিক্ত ঋণ গ্রহণ নিয়ন্ত্রণে নির্ধারিত সীমা অনুসরণ করা হচ্ছে এবং সঞ্চয়পত্রের সুদের বা মুনাফার হারকে বাজারের পরিস্থিতি ও প্রচলিত সুদের হারের সঙ্গে সঙ্গতিপূর্ণ করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলে জানান তিনি। এতে অপেক্ষাকৃত উচ্চ ঋণের ওপর নির্ভরতা কমানো এবং সরকারের সামগ্রিক সুদ-ব্যয় নিয়ন্ত্রণে রাখার পাশাপাশি একটি আরও ভারসাম্যপূর্ণ ঋণ পোর্টফোলিও তৈরি করা সম্ভব হবে। এছাড়া, অতিরিক্ত ও অপরিকল্পিত ঋণ গ্রহণ এড়াতে একটি 'বার্ষিক ঋণ গ্রহণ পরিকল্পনা' প্রণয়ন ও তা অনুসরণের ওপর জোর দেওয়া হচ্ছে বলে জানান মন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী।

০৬ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬
 হামে মৃত্যু হাজার ছুঁইছুঁই

হামে মৃত্যু হাজার ছুঁইছুঁই

গত ২৪ ঘণ্টায় দেশে হামের উপসর্গ নিয়ে আরও তিনজনের মৃত্যু হয়েছে। এ নিয়ে চলতি বছরে নিশ্চিত হামে ১০০ জন এবং হামের উপসর্গ নিয়ে ৮৯৪ জনের মৃত্যু হয়েছে। সব মিলিয়ে হাম ও এর উপসর্গ নিয়ে মৃত্যুর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৯৯৪ জনে। রোববার (৬ সেপ্টেম্বর) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নিয়মিত স্বাস্থ্য বুলেটিনে এ তথ্য জানানো হয়। এতে বলা হয়, শনিবার সকাল ৮টা থেকে পরবর্তী ২৪ ঘণ্টায় হামের উপসর্গ নিয়ে চট্টগ্রাম, খুলনা ও সিলেট বিভাগে একজন করে মারা গেছেন। এ সময়ে দেশের বিভিন্ন হাসপাতালে হামের উপসর্গ নিয়ে নতুন করে ১ হাজার ৪৩ জন রোগী এসেছে। তাদের মধ্যে ৯৫৪ জনকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। বিভাগভিত্তিক হিসাবে, গত ২৪ ঘণ্টায় ঢাকা বিভাগে ৩১৯ জন, রাজশাহীতে ২৩, সিলেটে ১১২, চট্টগ্রামে ২৩৮, বরিশালে ১১৬, ময়মনসিংহে ৪৮, খুলনায় ৮৫ এবং রংপুরে ১৩ জনকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছর এখন পর্যন্ত দেশের বিভিন্ন হাসপাতালে হামের উপসর্গ নিয়ে মোট ১ লাখ ৪৪ হাজার ১৬৮ জন রোগী ভর্তি হয়েছে। তাদের মধ্যে ১ লাখ ৩৮ হাজার ৭৭২ জন চিকিৎসা নিয়ে হাসপাতাল ছেড়েছে। গত ১৫ মার্চ থেকে দেশে সন্দেহজনক হামের রোগীর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১ লাখ ৬৪ হাজার ১৪৮ জনে। এর মধ্যে নিশ্চিতভাবে হামে আক্রান্ত হয়েছেন ১৯ হাজার ৬৯৬ জন।

০৬ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬
বাংলাদেশের প্রতি ইইউ’র সমর্থন পুনর্ব্যক্ত

বাংলাদেশের প্রতি ইইউ’র সমর্থন পুনর্ব্যক্ত

বাংলাদেশকে একটি নির্ভরযোগ্য ও দীর্ঘমেয়াদি অংশীদার হিসেবে উল্লেখ করে এ দেশের প্রতি দৃঢ় সমর্থন পুনর্ব্যক্ত করেছে ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ)। এ সহযোগিতাকে আরও জোরদার করতে ভবিষ্যতে একটি দ্বিপক্ষীয় মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি (এফটিএ) স্বাক্ষরের লক্ষ্যে এগিয়ে যাওয়ার বিষয়ে গুরুত্বারোপ করেছে সংস্থাটি। আজ বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ে অনুষ্ঠিত এক বৈঠকের পর সংবাদ সম্মেলনে এসব কথা জানান বাংলাদেশে নিযুক্ত ইইউ রাষ্ট্রদূত ও প্রতিনিধিদলের প্রধান মাইকেল মিলার। বৈঠকে বাংলাদেশ ও ইইউ’র মধ্যে দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্য ও বিনিয়োগ বাড়ানোর পাশাপাশি শুল্কমুক্ত বাণিজ্য সুবিধা ছাড়া অন্যান্য প্রশাসনিক ও প্রযুক্তিগত বাধা (অশুল্ক বাণিজ্য বাধা) নিরসনের অগ্রগতি পর্যালোচনা করা হয়। বাংলাদেশ স্বল্পোন্নত দেশের (এলডিসি) তালিকা থেকে উত্তরণের প্রস্তুতি নিচ্ছে। এ প্রেক্ষাপটে একটি পূর্বাভাসযোগ্য, স্বচ্ছ ও বৈষম্যহীন বাণিজ্য পরিবেশ তৈরির গুরুত্ব নিয়ে বৈঠকে বিস্তারিত আলোচনা করা হয়। বৈঠকে বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আবদুল মুক্তাদির, প্রধানমন্ত্রীর অর্থ ও পরিকল্পনাবিষয়ক উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর, পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ, পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী জোনায়েদ আব্দুর রহিম সাকি এবং ইনভেস্ট বাংলাদেশ কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান চৌধুরী আশিক মাহমুদ বিন হারুন উপস্থিত ছিলেন। ইইউ রাষ্ট্রদূত বলেন, আন্তর্জাতিক বিধিবিধানভিত্তিক ব্যবস্থা যখন বিশ্বজুড়ে চরম চাপের মুখে রয়েছে, তখনও বাংলাদেশ-ইইউ অংশীদারত্ব আরও জোরদারে সংস্থাটি প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। তিনি বলেন, ‘আন্তর্জাতিক নিয়মভিত্তিক ব্যবস্থা যখন অবিশ্বাস্য রকমের চাপের মধ্যে রয়েছে, তখনও আমরা আপনাদের নির্ভরযোগ্য অংশীদার হিসেবে পাশে আছি।’ এ সময় তিনি আইনের শাসন, ন্যায্য ও স্বচ্ছ প্রক্রিয়া এবং বহুপক্ষীয় ব্যবস্থার প্রতি ইইউ’র অঙ্গীকারের কথা তুলে ধরেন। মাইকেল মিলার জানান, বাংলাদেশ-ইইউ পারস্পরিক সহযোগিতা আরও গভীর করতে এবং দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্য ও বিনিয়োগের মধ্যকার জটিলতা দূর করতে দুই পক্ষের গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রণালয় ও রাষ্ট্রীয় সংস্থাগুলোর মধ্যে ধারাবাহিক রাজনৈতিক যোগাযোগ ও সমন্বয় বজায় রাখা প্রয়োজন। তিনি বলেন, বর্তমানে বিদ্যমান বাণিজ্য বাধাগুলো দূর করা সম্ভব হলে দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্যিক সম্পর্ক সম্প্রসারণের পথ আরও সুগম হবে। এটি ভবিষ্যতে আরও গভীর ও বিস্তৃত বাণিজ্যিক সম্পর্ক গড়ে তোলার অনুকূল পরিবেশ তৈরি করবে। প্রশাসনিক কর্মকাণ্ডে স্বচ্ছতা, বৈষম্যহীনতা ও সবার জন্য সমান সুযোগ নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্ব দিয়ে মাইকেল মিলার বলেন, বাণিজ্য বাধাগুলো দূর হলে উভয় দেশের ব্যবসায়ীরাই সমানভাবে লাভবান হবেন। এলডিসি থেকে বাংলাদেশের মসৃণ উত্তরণের ওপর জোর দিয়ে মাইকেল মিলার বলেন, বাংলাদেশের প্রাতিষ্ঠানিক উন্নয়ন ও ভবিষ্যৎ সমৃদ্ধির লক্ষ্যে ইইউ বাণিজ্য মন্ত্রণালয়সহ সংশ্লিষ্ট অন্যান্য মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে একযোগে কাজ করে যাচ্ছে। তিনি আশা প্রকাশ করেন, ইইউ ও বাংলাদেশের এই মজবুত অর্থনৈতিক সম্পর্ক শেষ পর্যন্ত বাংলাদেশের সাধারণ মানুষের ভাগ্য উন্নয়ন ও কল্যাণে বড় ভূমিকা রাখবে।-বাসস

০৬ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬
কোম্পানীগঞ্জে ইসলামী আন্দোলনের পূর্ণাঙ্গ কমিটির শপথ

কোম্পানীগঞ্জে ইসলামী আন্দোলনের পূর্ণাঙ্গ কমিটির শপথ

ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ সিলেটের কোম্পানীগঞ্জ উপজেলা শাখার ২০২৭-২০২৮ সেশনের পূর্ণাঙ্গ কমিটি গঠন ও শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়েছে। নবগঠিত কমিটির নেতৃবৃন্দকে শপথবাক্য পাঠ করানোর মধ্য দিয়ে নতুন সেশনের সাংগঠনিক কার্যক্রম শুরু হয়েছে। রোববার (৬ সেপ্টেম্বর) বিকেল ৪টায় কোম্পানীগঞ্জের টুকেরবাজার মেজবান রেস্টুরেন্ট অ্যান্ড পার্টি সেন্টারে এ শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।  উপজেলা শাখার সভাপতি মহিউদ্দিন আল মামুনের সভাপতিত্বে এবং সেক্রেটারি হাজী আবু আহমদের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ সিলেট জেলা শাখার সভাপতি মুফতি সাঈদ আহমদ। প্রধান অতিথির বক্তব্যে মুফতি সাঈদ আহমদ নবগঠিত কমিটির নেতৃবৃন্দকে সংগঠনের আদর্শ, শৃঙ্খলা ও দায়িত্বশীলতার সঙ্গে সাংগঠনিক কার্যক্রম পরিচালনার আহ্বান জানান। পরে তিনি ২০২৭-২০২৮ সেশনের পূর্ণাঙ্গ কমিটির সদস্যদের শপথবাক্য পাঠ করান। অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ সিলেট জেলা শাখার সেক্রেটারি মুফতী আবু তাহের মিসবাহ। ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ কোম্পানীগঞ্জ উপজেলা শাখার ২০২৭-২০২৮ সেশনের কমিটিতে মহিউদ্দিন আল মামুনকে সভাপতি, হাজী শানুর আলী (মেম্বার), হাফেজ মাওলানা আব্দুল মান্নান ও হাজী আব্দুল আউয়ালকে সহ-সভাপতি এবং হাজী আবু আহমদকে সেক্রেটারি করা হয়েছে। এ ছাড়া মুহাম্মদ আল আমীন জয়েন্ট সেক্রেটারি, মুফতী আনোয়ার শাহ্ কোম্পানীগঞ্জী অ্যাসিস্ট্যান্ট সেক্রেটারি, আদনান সোহাগ সাংগঠনিক সম্পাদক, ক্বারী মাওঃ উমর আলী (সোহেল) প্রচার সম্পাদক, আব্দুল জব্বার দফতর সম্পাদক এবং হাফেজ মাওলানা ইমতিয়াজ উদ্দিনকে অর্থ ও প্রকাশনা সম্পাদক করা হয়েছে। মাওলানা নূর মোহাম্মদ আমিনী প্রশিক্ষণ সম্পাদক, আলী হোসেন (সাংবাদিক) আইন ও মানবাধিকার বিষয়ক সম্পাদক, মো. শাহজালাল ছাত্রী ও মহিলা ইউনিট সম্পাদক, হাজী জালাল আহমদ ত্রাণ ও সমাজ কল্যাণ সম্পাদক এবং জালাল আহমদ নির্বাচন ও জনপ্রতিনিধি সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পেয়েছেন। কমিটির সদস্য হিসেবে রয়েছেন কামরুল ইসলাম সুমন, মোঃ শফিক খন্দকার, মোঃ নাছির উদ্দিন, আব্দুস সোবহান, মো. নজম উদ্দিন, হাফিজ জামাল উদ্দিন, মাওলানা আতিকুর রহমান, মাষ্টার শাহাব উদ্দিন ও রেজাউল করিম রেজু। অনুষ্ঠানে কোম্পানীগঞ্জ উপজেলা ইসলামী যুব আন্দোলন, ইসলামী ছাত্র আন্দোলন ও ইসলামী শ্রমিক আন্দোলনের সভাপতিবৃন্দসহ সংগঠনের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।

০৬ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬
জগন্নাথপুরে সরকারি খাল দখল করে ঘর নির্মাণের অভিযোগ

জগন্নাথপুরে সরকারি খাল দখল করে ঘর নির্মাণের অভিযোগ

সুনামগঞ্জের জগন্নাথপুর পৌরসভার ৯ নম্বর ওয়ার্ডের পশ্চিম ভবানীপুর এলাকায় প্রায় শতাধিক পরিবার গৃহবন্দী হওয়ার আশঙ্কা, পরিবারের যাতায়াত ও পানি নিষ্কাশনের একমাত্র ভরসা সরকারি একটি খাল জোরপূর্বক দখল, মাটি ভরাট ও ঘর নির্মাণের চেষ্টার অভিযোগ উঠেছে।  ভবানীপুর মৌজার ১ নম্বর খতিয়ানভুক্ত সরকারি খালটি উদ্ধার ও অবৈধ দখলদারদের উচ্ছেদের দাবিতে জগন্নাথপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) এবং সহকারী কমিশনার (ভূমি) বরাবর গ্রামবাসীর পক্ষ থেকে ৪০ জনের স্বাক্ষরসংবলিত একটি লিখিত আবেদন জমা দেওয়া হয়েছে। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, পশ্চিম ভবানীপুর গ্রামের সাধারণ মানুষের বর্ষাকালে নৌকা চলাচল, দৈনন্দিন যাতায়াত এবং পানি নিষ্কাশনের একমাত্র মাধ্যম এই সরকারি খালটি। অভিযোগ উঠেছে,  এলাকার ভুমিখেকো  সুফি মিয়া ও তার সঙ্গীরা দীর্ঘদিন ধরে খালটি জোরপূর্বক দখল করে মাটি ভরাট করছেন এবং পাকা ঘর নির্মাণের পাঁতারা চালাচ্ছেন। খালটি সম্পূর্ণ ভরাট হয়ে গেলে পুরো এলাকায় স্থায়ী জলাবদ্ধতা দেখা দেবে এবং শতাধিক পরিবার গৃহবন্দী হয়ে পড়ার তীব্র আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। অভিযোগকারী সাবেক পৌর কাউন্সিলর মইন উদ্দিন বলেন, "সরকারি এই খালটি ভরাট হয়ে গেলে বর্ষা মৌসুমে পানি নিষ্কাশন ব্যবস্থা পুরোপুরি বন্ধ হয়ে যাবে। ফলে আবাদি জমি ও বসতবাড়িতে স্থায়ী জলাবদ্ধতা দেখা দেবে। আমরা দ্রুত প্রশাসনের হস্তক্ষেপ দাবি করছি।" অন্যান্য স্থানীয় বাসিন্দারাও খালটি পুনরুদ্ধারের জোর দাবি জানিয়েছেন। সাবেক পৌর কাউন্সিলর ছমির উদ্দিন বলেন, "খালটি ভরাট হলে শতাধিক পরিবার জলাবদ্ধতা  পড়ে গৃহবন্দী হয়ে পড়বে। আমরা এলাকাবাসী অবিলম্বে এটি উদ্ধার চাই।" গ্রামের বয়োজ্যেষ্ঠ রহিম আলী জানান, "আমাদের পূর্বপুরুষদের আমল থেকেই এই সরকারি খাল দিয়ে নৌকা চলাচল করে আসছে।" আরেক বাসিন্দা হাজী আব্দুল হাসিম বলেন, "এটি পুরো এলাকার পানি নিষ্কাশনের প্রধান পথ। সরকারের কাছে আমাদের আকুল দাবি, খালটি যেন অবিলম্বে উদ্ধার করে দেওয়া হয়।" এ বিষয়ে অভিযুক্ত সুফি মিয়ার সাথে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাকে পাওয়া যায়নি। উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) জানান, "এলাকাবাসীর অভিযোগ পেয়েছি। সরেজমিন তদন্ত সাপেক্ষে সরকারি সম্পত্তি রক্ষা ও জনস্বার্থে প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।" জগন্নাথপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. ইসলাম উদ্দিন বলেন, "অভিযোগটি হাতে পেয়েছি। সহকারী কমিশনারকে (ভূমি) বিষয়টি সরেজমিন তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

০৬ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬
জকিগঞ্জে চারশত পিস ইয়াবাসহ যুবক আটক

জকিগঞ্জে চারশত পিস ইয়াবাসহ যুবক আটক

সিলেটের জকিগঞ্জে পুলিশের বিশেষ অভিযানে ৪০০ পিস ইয়াবা সহ জাকির হোসেন (২৩) নামে এক যুবককে গ্রেফতার করা হয়েছে। আটককৃত জাকির হোসেন উপজেলার খলাছড়া ইউনিয়নের উত্তর মাদারখাল গ্রামের রইছ উদ্দিনের ছেলে। শনিবার (৫ সেপ্টেম্বর) দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে জকিগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ মুহাম্মদ আব্দুর রাজ্জাকের দিকনির্দেশনায় এ অভিযান পরিচালনা করা হয়। পুলিশ জানায়, শনিবার দুপুরে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে উপজেলার  বিরশ্রী ইউনিয়নের পীরনগর এলাকায় জকিগঞ্জ-বিয়ানীবাজারগামী শেওলা পাকা সড়কে অভিযান চালিয়ে ৪শত পিস ইয়াবা ট্যাবলেটসহ জাকির হোসেনকে আটক করে।  জকিগঞ্জ থানা ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা(ওসি)  মো. আব্দুর রাজ্জাক বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান,  আটককৃত জাকির হোসেনের বিরুদ্ধে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইন ২০১৮-এর ৩৬(১) সারণির ১০(ক) ধারায় জকিগঞ্জ থানায় মামলা দায়ের করা হয়েছে।

০৬ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬
সরকারিভাবে হজে যাওয়া ব্যক্তিরা ফেরত পাবেন ৪ কোটি ৮৭ লাখ টাকা

সরকারিভাবে হজে যাওয়া ব্যক্তিরা ফেরত পাবেন ৪ কোটি ৮৭ লাখ টাকা

চলতি বছর সরকারি ব্যবস্থাপনায় হজ পালন করা চার হাজার ৩৪১ জন হাজিকে উদ্বৃত্ত চার কোটি ৮৭ লাখ ২৩ হাজার ১৪ টাকা ফেরত দেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন ধর্মমন্ত্রী শাহ মোফাজ্জাল হোসাইন কায়কোবাদ।  রোববার (৬ সেপ্টেম্বর) সচিবালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানান তিনি। চলতি বছর সরকারি ব্যবস্থাপনার হজযাত্রীদের অনুকূলে সৌদি পর্বের অব্যয়িত অর্থ ফেরত দেওয়া নিয়ে এ সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়। এ সময় ধর্ম প্রতিমন্ত্রী মোহাম্মদ শামীম কায়সার উপস্থিত ছিলেন। ধর্মমন্ত্রী বলেন, বাড়িভাড়া সাশ্রয় এবং সার্ভিস চার্জ কমে যাওয়ায় হজ প্যাকেজের অর্থ থেকে এ টাকা সাশ্রয় হয়েছে। সাশ্রয় হওয়া অর্থ সংশ্লিষ্ট হাজিদের ব্যাংক হিসাবে পাঠিয়ে দেওয়া হবে।  ধর্ম মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, হজ প্যাকেজ ও আবাসনের ধরণ অনুযায়ী হাজিদের ফেরত দেওয়া অর্থের পরিমাণ ভিন্ন হবে। হজ প্যাকেজ-১-এর হোটেল বুলুরা আল দুররার সাধারণ প্যাকেজের হাজিরা ৩৮ হাজার ৬৯৭ টাকা ৩২ পয়সা এবং শর্ট প্যাকেজের হাজিরা ৪৬ হাজার ৮৮৮ টাকা ৪০ পয়সা করে ফেরত পাবেন। দুই সিটের আপগ্রেডেশনের হাজিরা পাবেন ১ লাখ ৬৪ হাজার ১৯০ টাকা ৫৬ পয়সা। একই সঙ্গে দুই সিটের আপগ্রেডেশন ও শর্ট প্যাকেজে হজ পালনকারীরা পাবেন ১ লাখ ৮০ হাজার ৫৭২ টাকা ৭১ পয়সা। তিন সিটের আপগ্রেডেশনের হাজিরা পাবেন ১ লাখ ১৮ হাজার ৭২ টাকা ৮২ পয়সা। আর তিন সিটের আপগ্রেডেশন ও শর্ট প্যাকেজের হাজিরা পাবেন ১ লাখ ৩১ হাজার ৭৩৫ টাকা ৫৩ পয়সা। হজ প্যাকেজ-২-এর আওতায় ২ নম্বর বাড়ি বা হোটেল লুলুয়াত আল ভাওহীদের সাধারণ প্যাকেজের হাজিরা ২ হাজার ৫০৫ টাকা ৪৯ পয়সা এবং শর্ট প্যাকেজের হাজিরা ৮ হাজার ৭৩০ টাকা ৭০ পয়সা করে ফেরত পাবেন। দুই সিটের আপগ্রেডেশনের হাজিরা ৬২ হাজার ৩৩১ টাকা ৭৯ পয়সা এবং আপগ্রেডেশনসহ শর্ট প্যাকেজের হাজিরা ৭৮ হাজার ৭১৩ টাকা ১৪ পয়সা পাবেন। এ ছাড়া তিন সিটের আপগ্রেডেশনের হাজিরা ৩ হাজার ২৮৭ টাকা ৩৬ পয়সা এবং একই আপগ্রেডেশনের শর্ট প্যাকেজের হাজিরা ৮ হাজার ৪৩১ টাকা ৩৬ পয়সা করে ফেরত পাবেন। ৩ নম্বর বাড়ি বা হোটেল রাওদাত আল শুরূকের সাধারণ প্যাকেজের হাজিরা ৩ হাজার ৯৭৯ টাকা ৮৮ পয়সা, শর্ট প্যাকেজের হাজিরা ১২ হাজার ১৭০ টাকা ৯৫ পয়সা, দুই সিটের আপগ্রেডেশনের হাজিরা ৪ হাজার ৩৭৬ টাকা ৬৬ পয়সা এবং তিন সিটের আপগ্রেডেশনের হাজিরা ৪৪ হাজার ১১৯ টাকা ৮৭ পয়সা করে পাবেন। ৪ নম্বর বাড়ি বা হোটেল মানার আল শুরূকের সাধারণ প্যাকেজের হাজিরা ৭ হাজার ৪১৪ টাকা ২৩ পয়সা, দুই সিটের আপগ্রেডেশনের হাজিরা ৫ হাজার ৬৭৫ টাকা ৪৩ পয়সা এবং তিন সিটের আপগ্রেডেশনের হাজিরা ৬ হাজার ২৪১ টাকা ২৪ পয়সা করে ফেরত পাবেন। অন্যদিকে, সাধারণ হজ প্যাকেজ-৩-এর আওতায় হোটেল নান্দার ওয়ানে অবস্থানকারী প্রতিটি হাজি ৩ হাজার ৭১৮ টাকা ৯ পয়সা করে ফেরত পাবেন।

০৬ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬
ঢাকার চারপাশের নদী দূষণমুক্ত করতে নির্দেশনা প্রধানমন্ত্রীর

ঢাকার চারপাশের নদী দূষণমুক্ত করতে নির্দেশনা প্রধানমন্ত্রীর

বুড়িগঙ্গা, তুরাগসহ রাজধানীর চারপাশের নদী-খাল-ড্রেনের দূষণ রোধ এবং বর্জ্য অপসারণে সংশ্লিষ্টদের নিজ নিজ অবস্থান থেকে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালনের আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। রোববার (৬ সেপ্টেম্বর) সচিবালয়ে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের কক্ষে ‘বুড়িগঙ্গা নদীর পানি ও পরিবেশ উন্নয়ন এবং ঢাকা শহরের চারপাশে বৃত্তাকার নৌপথ সংক্রান্ত’ এক পর্যালোচনা সভায় সরকারপ্রধান এ নির্দেশ দেন বলে জানিয়েছেন তার সহকারী প্রেস সচিব আব্দুল্লাহ আল মাহমুদ শাহরিয়ার পামির। তিনি বলেন, ‘‘সভায় বুড়িগঙ্গা, তুরাগ, ধলেশ্বরী, বালু ও শীতলক্ষ্যা নদী এবং তৎসংলগ্ন খাল ও ড্রেনের দূষণ নিয়ন্ত্রণ, বর্জ্য অপসারণ, নদ-নদীর নাব্যতা ও পানির স্বাভাবিক প্রবাহ নিশ্চিত করা এবং ঢাকার চারপাশে বিদ্যমান বৃত্তাকার নৌপথের উন্নয়ন সংক্রান্ত কার্যক্রম পর্যালোচনা করা হয়েছে। “মাননীয় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য দূষণমুক্ত নদী ও একটি পরিচ্ছন্ন, বাসযোগ্য পরিবেশ রেখে যেতে সবাইকে নিজ নিজ অবস্থান থেকে দায়িত্বশীল হতে বলেছেন।” পামির জানান, এ বিষয়ে বৈঠকে যেসব পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে তা দ্রুত বাস্তবায়নে কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণের নির্দেশনা দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী। সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়, বিভাগ ও সংস্থাগুলোগুলো সমন্বয় করে কার্যক্রম এগিয়ে নেওয়ার ওপর বিশেষ গুরুত্বারোপ করেছেন। সহকারী প্রেস সচিব বলেন, “প্রধানমন্ত্রী বলেছেন, নিজেদের পাশাপাশি পরবর্তী প্রজন্মের জন্যও দূষণমুক্ত নদী ও একটি বাসযোগ্য পরিবেশ রেখে যাওয়ার চেষ্টা করতে হবে। “এ জন্য শুধু সরকারি নির্দেশনার জন্য অপেক্ষা করলে হবে না, ব্যক্তিগত দায়িত্ববোধ থেকেও কাজ করতে হবে।” বৈঠকে অন্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন স্থানীয় সরকার মন্ত্রী আবদুল মঈন খান, পরিবেশমন্ত্রী আবদুল আউয়াল মিন্টু, প্রতিমন্ত্রী শেখ ফরিদুল ইসলাম, শিল্প ও বাণিজ্য মন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির, পানি সম্পদমন্ত্রী শহীদউদ্দীন চৌধুরী এ্যানি, নৌপরিবহনমন্ত্রী শেখ রবিউল আলম, পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী জোনায়েদ সাকি, নৌপরিবহন প্রতিমন্ত্রী রাজিব আহসান, প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ সহকারী সাইমুম পারভেজ, প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব এ বি এম আব্দুস সাত্তার এবং নৌ বাহিনীর কমান্ডার ঢাকা নৌ অঞ্চল রিয়ার অ্যাডমিরাল আব্দুল্লাহ-আল-মাকসুসসহ সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ও বিভাগের সচিব, ঢাকা, নারায়ণগঞ্জ ও গাজীপুর সিটি করপোরেশনের প্রশাসক এবং সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা।

০৬ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬
বালাগঞ্জের চান্দাইর পাড়ায় কলেজ প্রতিষ্ঠার দাবি

বালাগঞ্জের চান্দাইর পাড়ায় কলেজ প্রতিষ্ঠার দাবি

বালাগঞ্জ উপজেলার বোয়ালজুড় ইউনিয়নের চান্দাইরপাড়া গ্রামে কলেজ প্রতিষ্ঠার দাবি উঠেছে। গ্রামটিতে মাধ্যমিক স্তরের ৫টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান রয়েছে। ফলে গ্রামটিকে স্থানীয় ভাবে শিক্ষা পল্লী হিসেবে করেছেন স্থানীয়রা। এ গ্রামের শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের পাশাপাশি রয়েছে ২টি ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান। এছাড়াও খেলাধূলার জন্য রয়েছে বড় মাঠ। গ্রামটি থেকে প্রায় ১০ কিলোমিটার দূরে একটি কলেজ রয়েছে। মাধ্যমিক পাসের পর শিক্ষার্থীদের কলেজে ভর্তি হতে হয়। কিন্তু ১০ কিলোমিটার দূরের কলেজের ভর্তি হলে শিক্ষার্থীদের ওই কলেজের যাতায়াত করা খুবই কষ্টকর। তাই এলাকাবাসী গ্রামটিতে একটি কলেজ প্রতিষ্ঠার দাবি জানাচ্ছেন।  চান্দাইরপাড়া গ্রামের বিভিন্ন্ প্রতিষ্ঠান থেকে এসএসসি ও দাখিল পাস করে তাদের অন্তত ১০ কিলোমিটার দূরে  বালাগঞ্জ উপজেলা সদরে, গোয়ালাবাজার, তাজপুর, বুরুঙ্গা কলেজে ভর্তি হতে হয়। তাই এত পথ মারিয়ে তাদের কলেজ ভর্তি হতে হয়। চান্দাপাড়া গ্রামের কলেজ প্রতিষ্ঠা হলে নিজের গ্রামের কলেজের তারা ভর্তি হতে পারতে। গ্রামের রয়েছে রেনেসাঁ কিন্ডার গার্ডেন স্কুল, চান্দাইরপাড়া সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়, চান্দাইরপাড়া উচ্চ বিদ্যালয়, বানিগাঁও মডেল উচ্চ বিদ্যালয় ও চান্দাইরপাড়া সুনিয়া হাফিজিয়া ফাজিল মাদরাসা রয়েছে। একই স্থানে ৪টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও ২টি ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান এটি একটি বিরল ঘটনা। প্রতিষ্ঠান গুলোও চলছে ভালো ভাবে।  নাই কোন দ্বন্দ। রেনেসাঁ কিন্ডার গার্ডেন স্কুল ছাত্র ৪৫ ছাত্রী ৫১ মোট ৯৬ জন। চান্দাইরপাড়া সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়, ছাত্র ৬৪ ছাত্রী ৮৭ মোট ১৫৪ জন। চান্দাইরপাড়া উচ্চ বিদ্যালয় থেকে এবার এসএসসি পাস করেছে ৫২জন শিক্ষার্থী। বানিগাঁও মডেল উচ্ রবিদ্যালয় থেকে এসএসসি পাস করেছে ২৬ জন এবং চান্দাইরপাড়া সুনিয়া হাফিজিয়া ফাজিল মাদরাসা থেকে এবার দাখিল পাস করেছে ২৮জন শিক্ষার্থী। চান্দাইরপাড়া গ্রামে কলেজ প্রতিষ্ঠা হলে ওইগ্রামের আশেপাশের আরও কয়েকটি উচ্চ বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী ওই কলেজে ভর্তির সুযোগ পাবে। রেনেসাঁ কিন্ডার গার্ডেন স্কুলের প্রধান শিক্ষক মো. আসাদুজ্জামান জানান, চান্দাইরপাড়া গ্রামের অন্তত ১০ কিলোমিটারের মধ্যে কোন কলেজ নেই। এ গ্রামের কলেজ প্রতিষ্ঠা হলে এলাকার ছেলে মেয়েরা এসএসসি পাসের পর কলেজে ভর্তি হতে পারবে।  চান্দাইরপাড়া সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. আব্দুর রউফ জানান, এলাকায় কলেজ না থাকার ফলে এসএসসি পাসের পর অনেক মেয়েরা কলেজের ভর্তির সুযোগ থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। তারা কলেজের ভর্তি হতে না পেরে এসএসসির পর পড়া-লেকা সথেকে ঝড়ে পড়ছে। চান্দাইরপাড়া উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক সুশীল চন্দ্রনাথ জানান, তাদের বিদ্যালয় থেকে গড়ে প্রতি বছর ৫০জনের অধিক ছাত্র-ছাত্রী এসএসসি পাস করে। অভিভাবকরা ছাত্রদের দূরের কলেজের ভর্তি করলেও যোগাযোগ ও আবাসন ব্যবস্থাস অপ্রতুলতার কারণে ছাত্রীদের কলেজের ভর্তি করতে পারে না।  চান্দাইরপাড়া সুনিয়া হাফিজিয়া ফাজিল মাদরাসা’র সুপার মাওলানা সরওয়ার জাহান জানান, তাদের প্রতিষ্ঠান থেকে প্রতি বছর গড়ে ৩০ থেকে ৪০ জন শিক্ষার্থী দাখিল পাস করে। অনেকে কলেজে ভর্তি হতে চায়। কিন্তু এলাকায় কোন কলেজ না থাকায় তারা কলেজে ভর্তি হতে পারে না। চান্দাইরপাড়া গ্রামে কলেজ প্রতিষ্ঠার হলে গ্রামের আশে পাশের কয়েকটি মাধ্যমিক স্তরের বিদ্যালয় থেকে এসএসসি ও দাখিল পাস করে শিক্ষার্থীরা নিজের গ্রামের কলেজে ভর্তি হতে পারবে।

০৬ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬
সিলেটে ১৫ একর জমিতে হচ্ছে আধুনিক স্টেডিয়াম

সিলেটে ১৫ একর জমিতে হচ্ছে আধুনিক স্টেডিয়াম

সিলেটের অন্তর্ভুক্তিমূলক উন্নয়নের অংশ হিসেবে শাহ্ খুররাম ডিগ্রি কলেজ সংলগ্ন গৃহায়ণ ও গণপূর্ত বিভাগের ১৫ একর জমিতে একটি আধুনিক সুযোগ-সুবিধা সংবলিত স্টেডিয়াম নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।  রবিবার (৬ সেপ্টেম্বর) প্রস্তাবিত স্থানটি সরজমিনে পরিদর্শন ও স্থানীয়দের সাথে এক মতবিনিময় সভায় সিলেট উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (সিউক) চেয়ারম্যান (অতিরিক্ত সচিব পদমর্যাদা) রেজাউল হাসান কয়েস লোদী এ তথ্য জানান। পরিদর্শনকালে সিউক চেয়ারম্যান কয়েস লোদী বলেন, স্থানীয় যুবসমাজ ও ক্রীড়াপ্রেমীদের আধুনিক খেলার পরিবেশ তৈরি নিশ্চিত করতেই এই প্রকল্প হাতে নেওয়া হচ্ছে। সুষম ও অন্তর্ভুক্তিমূলক অঞ্চলভিত্তিক আধুনিক অবকাঠামো নিশ্চিত করা সিউকের অন্যতম অগ্রাধিকার। অনুষ্ঠানে সিলেট উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের নির্বাহী পরিচালক মো. সাদিউর রহিম জাদিদ এবং সিলেট গণপূর্ত বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী আবু জাফর (প্রিন্স) উপস্থিত থেকে প্রকল্পের কারিগরি ও ভূমির সার্বিক দিক পর্যালোচনায় উক্ত ১৫একর জায়গার মধ্যে অবস্থিত শাহ্ খুররাম ডিগ্রি কলেজ এবং প্রস্তাবিত আধুনিক স্টেডিয়ামের জায়গার সীমানা নির্ধারক পূর্বক একটি ডিপিপি প্রনয়নের সিদ্ধান্ত নেয়া হয়। মতবিনিময় সভা ও স্থান পরিদর্শনকালে আরও উপস্থিত ছিলেন টুকেরবাজার ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান শহীদ আহমদ, সদর উপজেলা বিএনপির সভাপতি আবুল কাশেম, সাধারণ সম্পাদক আজিজুর রহমান আজিজ, ৬নং টুকেরবাজার ইউনিয়নের বর্তমান চেয়ারম্যান শফিকুর রহমান, গণদাবি পরিষদের সভাপতি অধ্যাপক এম শফিকুর রহমান, ৩৯ নম্বর ওয়ার্ডের সাবেক কাউন্সিলর আলতাফ হোসেন সুমন, ৩৮নং ওয়ার্ড বিএনপি আহবায়ক শাহজাহান আহমদ, ৩৭নং ওয়ার্ড বিএনপি আহবায়ক চান মিয়া বাচ্চু, কবির উদ্দিন আহমদ, গণপূর্ত বিভাগ সিলেট উপ-বিভাগ-১ এর উপ-বিভাগীয় প্রকৌশলী পার্থ সারথি দত্ত, উপ-সহকারী প্রকৌশলী রিপন দেব, শাহ্ খুররাম ডিগ্রি কলেজের প্রধান শিক্ষক কমর উদ্দীন, উক্ত কলেজের শিক্ষক নয়ন কুমার বিশ্বাস, ৩৮নং ওয়ার্ড বিএনপি নেতা আনোয়ার হোসেন, মুরাদ হোসেন, আলী আহমদ, এনামুল হোসেন, আলী হায়দার ফারুক, উসমান হারুন পনির, আলাউর রহমান, কামরুল ইসলাম, নাদিম আহমদ সাব্বির, শাহজাহান, ফখর উদ্দিন, ইমরান আহমদ পাখি, আবুল হাসনাত, জলি পুরকাস্থ. জেসমিন আক্তার, মনোয়ারা বেগম, নোমান আহমদ, জাবেদ হোসন, আব্দুর করিম, আব্দুস সালাম, জিতু হাসান, সিরাজ উদ্দিন, আব্দুল গফ্ফার, জসিম উদ্দিন, রেজাউল করিমসহ স্থানীয় গণমান্য ব্যক্তিবর্গ, বিভিন্ন পেশাজীবী ও সুশীল সমাজের প্রতিনিধিরা। পরিদর্শন শেষে স্থানীয় বাসিন্দারা তাদের এলাকার সার্বিক ক্রীড়া পরিবেশ উন্নয়নে এমন উদ্যোগে সন্তোষ প্রকাশ করেন এবং প্রকল্পটি দ্রুত বাস্তবায়নের আহ্বান জানান।

০৬ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬
যে কারণে সিসিক প্রশাসকের ‘রক্তের শর্করা বেড়ে যায়’

যে কারণে সিসিক প্রশাসকের ‘রক্তের শর্করা বেড়ে যায়’

সিলেট সিটি করপোরেশনের প্রশাসক আব্দুল কাইয়ুম চৌধুরী বলেছেন- ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণে মানুষের জীবনযাত্রার পরিবর্তন জরুরি। শুধু ওষুধ খেলেই সবসময় ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণে রাখা সম্ভব নয়; এর সঙ্গে খাদ্যাভ্যাস, নিয়মিত শারীরিক পরিশ্রম ও হাঁটাচলার বিষয়টিও গুরুত্বপূর্ণ। বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে সিলেট নগরে নাগরিকদের জন্য খোলা জায়গা, পার্ক ও হাঁটার উপযোগী পরিবেশ তৈরির উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। বাংলাদেশ ডায়াবেটিক সমিতির প্রতিষ্ঠাতা জাতীয় অধ্যাপক ডা. মো. ইব্রাহিমের ৩৭তম মৃত্যুবার্ষিকী ও ডায়াবেটিস সেবা দিবস উপলক্ষে সিলেটে দিনব্যাপী ফ্রি ডায়াবেটিস শনাক্তকরণ ক্যাম্পের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। রোটারি ক্লাব অব সিলেট সেন্ট্রালের উদ্যোগে রোববার (৬ সেপ্টেম্বর) সকাল ৯টা থেকে দুপুর ১২টা পর্যন্ত সিলেট সিটি করপোরেশন প্রাঙ্গণে এ ক্যাম্প অনুষ্ঠিত হয়। এতে সার্বিক সহযোগিতা করে সিলেট ডায়াবেটিক অ্যান্ড জেনারেল হাসপাতাল। পৃষ্ঠপোষকতায় ছিল স্কয়ার ফার্মাসিউটিক্যালস পিএলসি। উদ্বোনকালে সিসিক প্রশাসক আরও বলেন-  আমরা সিলেটে একটি পার্ক নির্মাণের উদ্যোগ  এগিয়ে নিচ্ছি। এ বিষয়ে সিলেটের সংসদ সদস্য ও বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আবদুল মুক্তাদিরসহ সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে কাজ করছি। আমরা চাই, নগরবাসী যেন সুস্থ থাকার জন্য নিয়মিত হাঁটাচলা ও শরীরচর্চার সুযোগ পান। ডায়াবেটিসের পরিস্থিতি তুলে ধরে সিসিক প্রশাসক বলেন- বাংলাদেশে ডায়াবেটিসের বিস্তার উদ্বেগজনকভাবে বাড়ছে। একসময় মনে করা হতো বয়স্কদের মধ্যেই ডায়াবেটিস বেশি হয়। কিন্তু বর্তমানে শিশু থেকে শুরু করে সব বয়সী মানুষের মধ্যেই এ রোগের বিস্তার দেখা যাচ্ছে। খাদ্যাভ্যাস, জীবনযাপন ও জেনেটিকসহ বিভিন্ন কারণে ডায়াবেটিস হতে পারে। তিনি বলেন- ডায়াবেটিসকে অবহেলা করার সুযোগ নেই। এ রোগ নিয়ন্ত্রণে নিয়ম-শৃঙ্খলা মেনে চলা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। খাদ্যাভ্যাসে নিয়ন্ত্রণ না থাকলে ডায়াবেটিস থেকে কিডনি, লিভারসহ শরীরের বিভিন্ন জটিলতা দেখা দিতে পারে। তাই শুধু ওষুধের ওপর নির্ভর না করে খাদ্যাভ্যাস পরিবর্তন, নিয়মিত হাঁটাচলা ও স্বাস্থ্যকর জীবনযাপনের ওপর গুরুত্ব দিতে হবে। নিজের অভিজ্ঞতা তুলে ধরে সিসিক প্রশাসক বলেন- আমিও একজন ডায়াবেটিস রোগী। আমিও চেষ্টা করি রক্তের শর্করা নিয়ন্ত্রণে রাখতে। তবে বিভিন্ন পাবলিক অনুষ্ঠান ও কর্মসূচিতে অনিয়মিত খাওয়া-দাওয়ার কারণে অনেক সময় আমারও রক্তের শর্করা বেড়ে যায়। তারপরও নিয়ম মেনে চলার মাধ্যমে এটি নিয়ন্ত্রণে রাখার চেষ্টা করি। তিনি বলেন- ডায়াবেটিস নিয়ে কাজ করা সামাজিক সংগঠনগুলোর উদ্যোগ অত্যন্ত প্রশংসনীয়। আমি নিজেও ডায়াবেটিস অ্যাসোসিয়েশন ও বারডেম হাসপাতালের সঙ্গে সম্পৃক্ত। অধ্যাপক আজাদ খান আমাকে এই কার্যক্রমের সঙ্গে যুক্ত করেছিলেন। সিলেটে যেসব সামাজিক সংগঠন ডায়াবেটিস প্রতিরোধ ও জনসচেতনতা তৈরিতে কাজ করছে, সিলেট সিটি করপোরেশন তাদের সঙ্গে একাত্মতা প্রকাশ করছে এবং ভবিষ্যতেও সহযোগিতা করবে। ডায়াবেটিস সচেতনতা ও জনস্বাস্থ্য নিয়ে রোটারি ক্লাব অব সিলেট সেন্ট্রালের এ উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়ে তিনি বলেন, মানুষের স্বাস্থ্য সুরক্ষায় এ ধরনের কার্যক্রম অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। ভবিষ্যতেও রোটারিসহ অন্যান্য সামাজিক সংগঠন আরও ব্যাপকভাবে মানুষের স্বাস্থ্যসচেতনতা তৈরিতে কাজ করবে—এটাই আমাদের প্রত্যাশা। ক্লাব প্রেসিডেন্ট রোটারিয়ান পিপি রুহুল আলম খান পিএইচএফের সভাপতিত্বে ও পরিচালনায় অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন অ্যাসিস্ট্যান্ট কান্ট্রি কো-অর্ডিনেটর রোটারিয়ান পিপি মো. সিদ্দিকুর রহমান পিএইচএফ, কো-অর্ডিনেটর (অর্থ) রোটারিয়ান পিপি বিকাশ কান্তি দাস পিএইচএফ, পোলিও প্লাস কমিটির সদস্য রোটারিয়ান পিপি মো. আব্দুল মুকিত আরএফএসএম, ক্লাব সদস্য রোটারিয়ান পিপি জিয়াউল হক এমপিএইচএফ, রোটারিয়ান পিপি এম এ রহিম আরএফএসএম, রোটারিয়ান পিপি মোহাম্মদ শামসুদ্দিন পিএইচএফ, রোটারিয়ান পিপি মো. আফসার আহমেদ চৌধুরী পিএইচএফ, রোটারিয়ান আইপিপি মোহাম্মদ আমিরুল ইসলাম সুমন আরএফএসএম, রোটারিয়ান আহমেদ রশীদ চৌধুরী আরএফএসএম, রোটারিয়ান মনসুর আহমেদ পিএইচএফ, সিলেট ডায়াবেটিস হাসপাতালের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক শিবব্রত ভৌমিক চন্দনসহ হাসপাতালের চিকিৎসক, নার্স এবং সিটি করপোরেশনের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা।

০৬ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬
সিলেটে গড়ে প্রতিদিন সড়কে ঝরে একাধিক প্রাণ

সিলেটে গড়ে প্রতিদিন সড়কে ঝরে একাধিক প্রাণ

চলতি বছরে সিলেট বিভাগে সড়ক দুর্ঘটনায় এক মাসে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ প্রানহানির ঘটনা ঘটেছে আগস্ট মাসে। গত মাসে (আগস্ট) সিলেট বিভাগে সড়ক দুর্ঘটনায় ৪৭ জনের প্রানহানি হয়েছে। এ মাসে সিলেট বিভাগে ৩৫টি সড়ক দূর্ঘটনায় ৪৭ জন নিহত ও ১২২ জন আহত হয়েছেন। যা চলতি বছরে এক মাসে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ প্রানহানির ঘটনা। এর আগে চলতি বছরের মে মাসে সর্বোচ্চ ৫১ জনের প্রানহানির ঘটনা ঘটে। রবিবার (৬ সেপ্টেম্বর) নিরাপদ সড়ক চাই (নিসচা) সিলেট বিভাগীয় কমিটির প্রকাশিত প্রতিবেদন সূত্রে এসব তথ্য জানা গেছে। সংস্থাটির প্রতিবেদন অনুযায়ী- আগস্ট মাসে সড়ক দুর্ঘটনায় সিলেট-ঢাকা মহাসড়কের সিলেট অংশে ১০টি দুর্ঘটনায় ২৪ জন নিহত হয়েছেন। এর মধ্যে সিলেট জেলার ওসমানীনগর উপজেলায় ৩টি সড়ক দূর্ঘটনায় ১৫ জন নিহত হয়েছেন। আগস্ট মাসে সড়ক দুর্ঘটনায় সিলেট বিভাগে সবচেয়ে বেশি প্রানহানি ঘটেছে সিলেট জেলায়। কম সংঘটিত হয়েছে সুনামগঞ্জ ও মৌলভীবাজার  জেলায়। জানা গেছে, আগস্ট মাসে সিলেট বিভাগে ৩৫টি  সড়ক দুর্ঘটনায় ৪৭ জন নিহত ও ১২২ জন আহত হয়েছেন। মাসটিতে সিলেট জেলায় ১৭টি সড়ক দুর্ঘটনায় ২৭ জন নিহত ও ৬৯ জন আহত হয়েছেন। সুনামগঞ্জ জেলায় ৫টি সড়ক দুর্ঘটনায় ৪ জন নিহত ও ২২ জন আহত হয়েছেন। মৌলভীবাজার জেলায় ৪টি সড়ক দুর্ঘটনায় ৪ জন নিহত ও ২ জন আহত হয়েছেন ও হবিগঞ্জ জেলায় ৯টি সড়ক দুর্ঘটনায় ১২ জন নিহত ও ২৯ জন আহত হয়েছেন। নিসচা প্রতিবেদনে আরও উল্লেখ করা হয়, আগস্ট মাসে সিলেট বিভাগে সড়ক দুর্ঘটনায় নিহতের মধ্যে ১০টি সড়ক দুর্ঘটনায় ১১ জন মোটরসাইকেল চালক ও আরোহী, ৭টি সড়ক দুর্ঘটনায় ৯ জন সিএনজি ও টমটম চালক ও আরোহী, ১২টি সড়ক দুর্ঘটনায় ১২ জন চালক ও ৭টি সড়ক দুর্ঘটনায় ৭ জন পথচারী নিহত হয়েছেন। এছাড়া নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে গাড়ি উল্টে ৭টি দুর্ঘটনায় ৫ জন, মুখোমুখি সংঘর্ষে ১২টি দুর্ঘটনায় ২৭ জন, গাছ ও বৈদ্যুতিক খুঁটির সাথে আঘাতে ১টি দুর্ঘটনায় ১ জন নিহত হয়েছেন।  আগস্ট মাসে নিহত ৪৭ জনের মধ্যে ৩৮ জন পুরুষ, ৬ জন নারী ও ৩ জন শিশু রয়েছেন বলে নিসচা’র প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়। নিসচা’র প্রতিবেদনে আগস্ট মাসের সড়ক দুর্ঘটনায় প্রধান কারন হিসাবে অতিরিক্ত গতিতে গাড়ি চালানো, নিয়ম না মেনে বেপরোয়া ওভারটেকিং করা, অনুমোদনহীন ও ফিটনেসবিহীন গাড়ি মহাসড়কে চলানো,মোটরসাইকেল চালক ও আরোহীদের মানসম্মত হেলমেট ব্যবহার না করা, পথচারীদের মধ্যে সচেতনতার অভাব ও সড়কে নির্মান ত্রুটিকে উল্লেখ করা হয়েছে। উল্লেখ্য, জুলাই মাসে সিলেট বিভাগে ২৮টি সড়ক দুর্ঘটনায় ৩১ জন নিহত ও ৭৫ জন আহত হয়েছেন।

০৬ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬
 বিদেশ ভ্রমণে খরচ করা যাবে ১৮ হাজার ডলার

বিদেশ ভ্রমণে খরচ করা যাবে ১৮ হাজার ডলার

বিদেশ ভ্রমণের ক্ষেত্রে এখন থেকে বছরে ১৮ হাজার ডলার খরচ করতে পারবেন প্রাপ্ত বয়স্করা, যা এতদিন ছিল ১২ হাজার। নতুন সীমা নির্ধারণ করে রোববার পরিপত্র জারি করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক। এতে বলা হয়, অনুমোদিত ডিলার (এডি) ব্যাংকগুলো কোনো প্রাপ্তবয়স্ক বাংলাদেশি নাগরিককে এক পঞ্জিকাবর্ষে বিদেশ ভ্রমণের জন্য সর্বোচ্চ ১৮ হাজার ডলার বা সমপরিমাণ বিদেশি মুদ্রা ছাড় করতে পারবে। কেন্দ্রীয় ব্যাংক বলছে, বাংলাদেশি নাগরিকদের ভ্রমণ সংক্রান্ত বিদেশি মুদ্রার ‘প্রকৃত চাহিদা’ পূরণ এবং আন্তর্জাতিক ভ্রমণের পরিবর্তিত প্রয়োজন বিবেচনায় নিয়ে এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। আর ১২ বছরের কম বয়সিদের ক্ষেত্রে আগের মতই প্রাপ্তবয়স্কদের জন্য অনুমোদিত সীমার ৫০ শতাংশ বিদেশি মুদ্রা ব্যবহারের সুযোগ থাকবে। বিদেশ ভ্রমণের বাৎসরিক ব্যয়সীমা বাড়ানো হলেও নোট আকারে আগের মতোই সর্বোচ্চ ৫ হাজার ডলার নেওয়ার সুযোগ রাখা হয়েছে।

০৬ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬
সিলেট সীমান্তে প্রায় ২ কোটি টাকার চোরাই পণ্য জব্দ

সিলেট সীমান্তে প্রায় ২ কোটি টাকার চোরাই পণ্য জব্দ

সিলেট সীমান্তে চোরাচালানবিরোধী পৃথক অভিযান চালিয়ে বিপুল পরিমাণ ভারতীয় মালামাল এবং বাংলাদেশ থেকে পাচারকালে পোশাক সামগ্রী জব্দ করেছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)। জব্দকৃত পণ্যের আনুমানিক মূল্য ১ কোটি ৮৬ লাখ ১৮ হাজার ২৩০ টাকা। রবিবার (৬ সেপ্টেম্বর) ভোররাতে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে সিলেট ব্যাটালিয়ন (৪৮ বিজিবি)-এর অধিনস্থ বিভিন্ন বিওপি (বর্ডার আউটপোস্ট) সীমান্ত এলাকায় এসব অভিযান পরিচালনা করে। বিজিবি সূত্রে জানা যায়, ৪৮ বিজিবির দায়িত্বাধীন সিলেট সীমান্তবর্তী বাংলাবাজার, তামাবিল, সংগ্রাম, প্রতাপপুর, সোনারহাট এবং কালাইরাগ বিওপির জোয়ানরা নিজ নিজ এলাকায় বিশেষ চোরাচালানবিরোধী অভিযান চালান। অভিযানকালে ভারত থেকে অবৈধভাবে আনা বিপুল পরিমাণ গরু, শাড়ি, জিরা, কসমেটিকস, বিড়ি, চকলেট, কম্বল, চা-পাতা, ফুচকা, চিনি ও সবজি জব্দ করা হয়। এছাড়া বাংলাদেশ থেকে ভারতে পাচারকালে বেশ কিছু টি-শার্ট, সোয়েটার ও জিন্স প্যান্ট আটক করা হয়। সিলেট ব্যাটালিয়নের (৪৮ বিজিবি) অধিনায়ক জানান, সীমান্তে নিরাপত্তা নিশ্চিত করা, চোরাচালান প্রতিরোধ এবং মাদকদ্রব্য পাচার বন্ধে বিজিবির আভিযানিক কার্যক্রম ও গোয়েন্দা নজরদারি নিরবচ্ছিন্নভাবে অব্যাহত রয়েছে। সেই ধারাবাহিকতায় আজকের এই সফল অভিযান পরিচালিত হয়েছে। আটককৃত চোরাচালানি মালামালসমূহের বিষয়ে প্রচলিত বিধি মোতাবেক পরবর্তী আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হচ্ছে বলে জানান বিজিবির এই কর্মকর্তা।

০৬ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬
সিলেটজুড়ে অবৈধ স্লিপার বাসের বিরুদ্ধে অভিযান অব্যাহত

সিলেটজুড়ে অবৈধ স্লিপার বাসের বিরুদ্ধে অভিযান অব্যাহত

সুনামগঞ্জে অনুমোদনহীনভাবে বাসের আসন বিন্যাস পরিবর্তন করে স্লিপার কোচে রূপান্তর ও বিভিন্ন অনিয়মের অভিযোগে তিনটি পরিবহনকে মোট ৯০ হাজার টাকা জরিমানা করেছে র‍্যাব-৯ ও জেলা প্রশাসন। শনিবার (৫ সেপ্টেম্বর) রাত ৯টা থেকে ১১টা পর্যন্ত সুনামগঞ্জ সদর থানাধীন মল্লিকপুর নতুন বাসস্ট্যান্ডের বিভিন্ন বাস কাউন্টারে এ যৌথ অভিযান পরিচালনা করা হয়।   র‍্যাব-৯ এর মিডিয়া অফিসার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার কে এম শহিদুল ইসলাম সোহাগ আজ রবিবার দুপুরে জানিয়েছেন- সড়ক পরিবহন আইন অনুযায়ী কোনো নিবন্ধিত মোটরযানের অভ্যন্তরীণ কাঠামো বা আসন বিন্যাস পরিবর্তন করতে হলে কর্তৃপক্ষের অনুমোদন নেওয়া বাধ্যতামূলক। তবে আইন অমান্য করে কিছু পরিবহন চেয়ার কোচ ভেঙে বেড বা স্লিপারে রূপান্তর করে যাত্রী পরিবহন করছিল। এসব অনিয়মের বিরুদ্ধে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ আইন অনুযায়ী ধারায় সুনামগঞ্জে বেঙ্গল পরিবহনকে ৩০ হাজার টাকা, শ্যামলী পরিবহনকে ৩০ হাজার টাকা এবং ইম্পেরিয়াল পরিবহনকে ৩০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে। এই ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে বলে জানান র‍্যাব-৯ কর্মকর্তা কে এম শহিদুল ইসলাম সোহাগ।

০৬ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬
সিলেটের সালমান শাহ, অমর এক কাব্য

সিলেটের সালমান শাহ, অমর এক কাব্য

ঢাকাই সিনেমার ইতিহাসে এমন কিছু নাম আছে, যাদের জনপ্রিয়তা সময়ের সঙ্গে ম্লান হয়নি। বরং প্রজন্ম থেকে প্রজন্মে আরও গভীর হয়েছে। সেই তালিকার অন্যতম উজ্জ্বল নাম অমর চিত্রনায়ক সালমান শাহ। আজ তার ৩০তম মৃত্যুবার্ষিকী। ১৯৯৬ সালের ৬ সেপ্টেম্বর মাত্র ২৫ বছর বয়সে না ফেরার দেশে পাড়ি জমান এই ক্ষণজন্মা নায়ক। তিন দশক পেরিয়ে গেলেও দর্শকের হৃদয়ে তার জায়গা এখনো অমলিন। সালমান শাহর আসল নাম চৌধুরী মোহাম্মদ শাহরিয়ার ইমন। ১৯৭১ সালের ১৯ সেপ্টেম্বর সিলেটে জন্মগ্রহণ করেন তিনি। বাবা কমর উদ্দিন চৌধুরী ও মা নীলা চৌধুরী। পরিবারের বড় ছেলে সালমান শাহ ১৯৯২ সালের ১২ আগস্ট সামিরাকে বিয়ে করেন। টেলিভিশন নাটক ও মডেলিংয়ের মাধ্যমে ক্যারিয়ার শুরু করলেও ১৯৯৩ সালে সোহানুর রহমান সোহান পরিচালিত ‘কেয়ামত থেকে কেয়ামত’ সিনেমার মাধ্যমে বড় পর্দায় অভিষেক হয় তার। প্রথম সিনেমাতেই দর্শকের হৃদয় জয় করে রাতারাতি তারকাখ্যাতি পান সালমান শাহ। এরপর মাত্র চার বছরের চলচ্চিত্রজীবনে অভিনয় করেন ২৭টি সিনেমায়। অভিনয়ের পাশাপাশি পোশাক, চুলের স্টাইল, সংলাপ বলার ধরন; সবকিছুতেই সময়ের চেয়ে এগিয়ে ছিলেন সালমান শাহ। নব্বইয়ের দশকের তরুণদের কাছে তিনি হয়ে উঠেছিলেন ফ্যাশন ও স্টাইলের আইকন। তার অভিনীত সিনেমা, গান ও সংলাপ এখনও দর্শকের কাছে সমান জনপ্রিয়। তার সঙ্গে জুটি বেঁধে সবচেয়ে বেশি সিনেমায় অভিনয় করেছেন শাবনূর। সালমানের মৃত্যুর পর একাধিকবার তার সঙ্গে কাজের স্মৃতি ও আক্ষেপের কথা জানিয়েছেন এই অভিনেত্রী। সালমান-শাবনূর জুটি আজও ঢাকাই সিনেমার অন্যতম জনপ্রিয় জুটি হিসেবে দর্শকের মনে জায়গা করে আছে। সালমান শাহ চলে যাওয়ার তিন দশক পরও তার জনপ্রিয়তায় ভাটা পড়েনি। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের এই সময়ে নতুন প্রজন্মও ইউটিউব, ফেসবুকসহ বিভিন্ন ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে তার সিনেমা ও গান আবিষ্কার করছে। পুরোনো ভক্তরা ফিরে যাচ্ছেন স্মৃতিতে, আর নতুন দর্শকের কাছে সালমান শাহ হয়ে উঠছেন এক চিরসবুজ নায়ক। এদিকে ৩০তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে সালমান শাহকে নিয়ে এবার বিশেষ আয়োজন করেছে বাংলাদেশ চলচ্চিত্র উন্নয়ন করপোরেশন (বিএফডিসি)। ‘সালমান শাহ স্মরণে’ শিরোনামে ৬ থেকে ৮ সেপ্টেম্বর তিন দিনব্যাপী তার অভিনীত তিনটি সিনেমা বিনামূল্যে প্রদর্শন করা হবে। প্রতিদিন বিকেল ৪টায় বিএফডিসির ভিআইপি প্রজেকশন হলে এসব সিনেমা দেখানো হবে। এ ছাড়া সালমান শাহর মৃত্যু নিয়ে দীর্ঘদিনের রহস্যও এখনো আলোচনায় রয়েছে। ২০২৫ সালে তার পরিবারের পক্ষ থেকে করা মামলার পরিপ্রেক্ষিতে আদালত মৃত্যুর ঘটনাটিকে হত্যা মামলা হিসেবে গ্রহণের নির্দেশ দেন। সেই মামলার আসামি সালমানের বন্ধু অভিনেতা ডনকে গ্রেফতারও করেছে পুলিশ। ভক্তদের দাবি, খুব দ্রুতই সব আসামিকে গ্রেফতার করে শাস্তির আওতায় আনা হবে। ১৯৯৬ সালের ৬ সেপ্টেম্বর সালমান শাহর মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়ার পর পুরো দেশের চলচ্চিত্রাঙ্গনে নেমে এসেছিল শোকের ছায়া। সেই শোক আজও পুরোপুরি মুছে যায়নি। তিন দশক পরও কোটি দর্শকের ভালোবাসায় বেঁচে আছেন তিনি একজন নায়ক হিসেবে, একজন ফ্যাশন আইকন হিসেবে এবং বাংলা চলচ্চিত্রের এক অনন্য অধ্যায় হিসেবে। সালমান শাহ নেই, কিন্তু তার সিনেমা আছে, গান আছে, স্টাইল আছে। আর আছে অসংখ্য দর্শকের ভালোবাসা। তাই তিন দশক পরও তিনি যেন একইভাবে প্রাসঙ্গিক, একইভাবে প্রিয়।  

০৬ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬
সিলেটে সেই ভয়ংকর রোগে আরেক কিশোরীর মৃত্যু

সিলেটে সেই ভয়ংকর রোগে আরেক কিশোরীর মৃত্যু

সিলেট হাম রোগের উপসর্গ নিয়ে আরও এক কিশোরীর মৃত্যু হয়েছে। এর আগে আরও দুই কিশোরী ও এক নার্সের মৃত্যু হয় এ রোগে। গতকালের কিশোরী নিয়ে সিলেট বিভাগে হাম রোগ ও তার উপসর্গে আক্রান্ত হয়ে মৃত্যুর সংখ্যা বেড়ে ১৫৮ জনে দাঁড়িয়েছে। এর মধ্যে নিশ্চিত হামে ১০ জন এবং উপসর্গ নিয়ে ১৪৮ জনের মৃত্যু হয়েছে। সিলেট বিভাগীয় স্বাস্থ্য পরিচালকের কার্যালয় থেকে আজ রবিবার (৬ সেপ্টেম্বর) হাম সংক্রান্ত প্রতিবেদন থেকে এসব তথ্য জানা গেছে। জানা গেছে, গতকাল সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যাওয়া সুমাইয়া (১৮ বছর ৮ মাস) মৌলভীবাজারের জুড়ী উপজেলার আব্দুল মতিনের কন্যা।  এদিকে, গত ২৪ ঘণ্টায় (গতকাল সকাল থেকে আজ সকাল ৮টা পর্যন্ত) ১১২ জন সন্দেহজনক হাম রোগী হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। বর্তমানে সিলেটের বিভিন্ন সরকারি ও বেসরকারি হাসপাতালে সর্বমোট ৪৬৬ জন সন্দেহজনক হাম রোগী চিকিৎসাধীন। জানা গেছে, চলতি বছরের শুরু থেকে আজ পর্যন্ত সিলেট বিভাগে মোট ১ হাজার ৩১ জন নিশ্চিত হাম রোগী শনাক্ত করা হয়েছে। এর মধ্যে সিলেটে ৩৬৩ জন, সুনামগঞ্জে ৩৫৭ জন, মৌলভীবাজারে ১৫৮ জন এবং হবিগঞ্জে ১৫৩ জন।

০৬ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬
সিলেট কালেক্টরেট জামে মসজিদ মার্কেট ২ ও ৪ নম্বর দোকানে ব্যাবসায় বাধা না দিতে হাইকোর্টের নিষেধাজ্ঞা

সিলেট কালেক্টরেট জামে মসজিদ মার্কেট ২ ও ৪ নম্বর দোকানে ব্যাবসায় বাধা না দিতে হাইকোর্টের নিষেধাজ্ঞা

সিলেট কালেক্টরেট জামে মসজিদ ট্রাস্টের নিয়ন্ত্রণাধীন কালেক্টরেট জামে মসজিদ মার্কেটের ২ নম্বর ও ৪ নম্বর দোকানে নির্বিঘ্নে ও শান্তিপূর্ণভাবে ব্যবসা পরিচালনা নিশ্চিত করতে সিলেটের জেলা প্রশাসনকে নির্দেশ দিয়েছেন মহামান্য সুপ্রিম কোর্টের হাইকোর্ট বিভাগ। একই সাথে এ ব্যবসা প্রতিষ্ঠান দুটির মালিকপক্ষকে ব্যবসা পরিচালনায় কোনো প্রকার বাধা-নিষেধ প্রদান বা উচ্ছেদের চেষ্টা না করতে সিলেটের জেলা প্রশাসনকে তিন মাসের জন্য বারিত করে অন্তর্র্বতীকালীন আদেশসহ অস্থায়ী নিষেধাজ্ঞা প্রদান করা হয়েছে। মহামান্য হাইকোর্ট বিভাগের বিচারপতি আহমেদ সোহেল এবং বিচারপতি এস. এম. ইফতেখার উদ্দিন মাহমুদ-এর সমন্বয়ে গঠিত দ্বৈত বেঞ্চ কর্তৃক গত ১৮ আগস্ট ২০২৬ তারিখে রিট পিটিশন নম্বর ৩৫৫০/২০২৬ এবং রিট পিটিশন নম্বর ৩৫৫১/২০২৬-এর পৃথক দুটি আদেশে এই নির্দেশনা প্রদান করা হয়। মামলার বিবরণ ও নথিপত্র পর্যালোচনা করে জানা যায়, সিলেট কালেক্টরেট জামে মসজিদ ট্রাস্টের ট্রাস্টি বোর্ড কর্তৃক বিগত ২৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ তারিখে অনুষ্ঠিত সভায় দোকান বরাদ্দের চুক্তিপত্র দলিল বাতিলের সিদ্ধান্ত এবং উক্ত সিদ্ধান্তের পরিপ্রেক্ষিতে সিলেটের জেলা প্রশাসক ও কালেক্টরেট জামে মসজিদ ট্রাস্টের চেয়ারম্যানের জারিকৃত জেনারেল আদেশ অনুযায়ী রেসপন্ডেন্ট নং ৫ (নেজারত, ডেপুটি কালেক্টর ও ট্রাস্টি বোর্ডের কোষাধ্যক্ষ) স্মারক নং ঈ:কঅ:ঔঅ:গ০:/২০২২/১৩, তারিখ ১০ মার্চ ২০২৬ মূলে পিটিশনারদের দোকান উচ্ছেদ করা এবং দখল হস্তান্তরের নির্দেশ দিয়ে নোটিশ জারি করেন। এ নোটিশের আইনি বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে ২ নম্বর দোকানের পজেশন গ্রহিতা জামিল চৌধুরী রিট পিটিশন নং ৩৫৫০/২০২৬ দাখিল করেন। অন্যদিকে ৪ নম্বর দোকানের পজেশন গ্রহিতা মোহাম্মদ আলী হোসেন রিট পিটিশন নং ৩৫৫১/২০২৬ দাখিল করেন। উভয় পিটিশনে ভূমি মন্ত্রণালয়ের সচিব (রেসপন্ডেন্ট নং ১), স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের সচিব (রেসপন্ডেন্ট নং ২), সিলেটের জেলা প্রশাসক, কালেক্টর ও ট্রাস্টি বোর্ডের চেয়ারম্যান (রেসপন্ডেন্ট নং ৩), র‍্যাব সিলেটের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রেসপন্ডেন্ট নং ৪) এবং নজরথ ডেপুটি কালেক্টর ও ট্রাস্টি বোর্ডের কোষাধ্যক্ষকে (রেসপন্ডেন্ট নং ৫) রেসপন্ডেন্ট করা হয়। গত ০৮ এপ্রিল ২০২৬ তারিখে মহামান্য হাইকোর্ট বিভাগ প্রাথমিক শুনানি শেষে রুল ও স্থগিতাদেশ (জঁষব ধহফ ঝঃধু ঙৎফবৎ) জারি করেন। কিন্তু উক্ত আদেশ সত্ত্বেও জেলা প্রশাসন তা না মানায় এবং ব্যবসা পরিচালনায় বিঘ্ন সৃষ্টি করায় পিটিশনারগণ আদালতে পৃথক অন্তর্র্বতীকালীন নিষেধাজ্ঞার (ওহলঁহপঃরড়হ) আবেদন করেন। আদালতে বাদী-পিটিশনারপক্ষে শুনানিতে অংশ নেন জ্যেষ্ঠ আইনজীবী ব্যারিস্টার মাহবুব উদ্দিন খোকন এবং ড. এম খালেদ আহমেদ। আবেদনগুলোর ওপর শুনানিকালে পিটিশনারপক্ষের বিজ্ঞ আইনজীবীরা শুনানি করেন। রেসপন্ডেন্টদের বিজ্ঞ আইনজীবীকে আবেদনের অনুলিপি সরবরাহ করা হলেও তারা আবেদনের কোনো বিরোধিতা করেননি। শুনানিতে ব্যারিস্টার মাহবুব উদ্দিন খোকন যুক্তি উপস্থাপন করে বলেন, ২৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ তারিখের ট্রাস্টি বোর্ডের সিদ্ধান্তের পর পিটিশনারদের দোকান হস্তান্তরের নির্দেশ দেওয়া হয় এবং বেআইনিভাবে উচ্ছেদের চেষ্টা করা হচ্ছে। কিন্তু উচ্ছেদের পূর্বে পিটিশনারদের কোনো প্রকার কারণ দর্শানোর নোটিশ (ঝযড়ি ঈধঁংব ঘড়ঃরপব) দেওয়া হয়নি, যা প্রাকৃতিক বিচারনীতির (চৎরহপরঢ়ষব ড়ভ ঘধঃঁৎধষ ঔঁংঃরপব) সম্পূর্ণ পরিপন্থী। তিনি জানান, পিটিশনারগণ এখনও সংশ্লিষ্ট দোকানগুলোর বৈধ দখলে রয়েছেন এবং নিয়মিতভাবে দোকান ভাড়া পরিশোধ করে আসছেন। তিনি আরও জানান, গত ০৮ এপ্রিল ২০২৬ তারিখে রুল ও স্থগিতাদেশ জারির পর আইনজীবী মারফত ০৯ এপ্রিল ২০২৬ তারিখে এবং সুপ্রিম কোর্টের সার্টিফাইড কপি ১৩ এপ্রিল ২০২৬ তারিখে রেসপন্ডেন্ট নং ১-এর কার্যালয়ে পৌঁছানো হয়, যা তারা গ্রহণ করেন। অর্থাৎ সংশ্লিষ্ট রেসপন্ডেন্টগণ আদালতের নির্দেশ সম্পর্কে সম্পূর্ণ রূপ অবগত ছিলেন। তবুও তারা বেআইনিভাবে পিটিশনারদের ব্যবসায় বাধা সৃষ্টি করেন এবং দোকান মালিকদের অনুপস্থিতিতে দোকানে তালা লাগিয়ে দেন। এই পরিস্থিতিতে আদালতের নিষেধাজ্ঞার আদেশ ছাড়া পিটিশনারদের শান্তিপূর্ণ দখল ও ব্যবসা রক্ষা করার আর কোনো কার্যকর উপায় ছিল না। আদালতের বক্তব্য ও পেশকৃত নথিপত্র বিবেচনায় এনে মহামান্য হাইকোর্ট বিভাগ পিটিশনারদের আবেদন মঞ্জুর করেন এবং ৩ থেকে ৫ নম্বর রেসপন্ডেন্টদের নির্দেশ দেন যেন সিলেট কালেক্টরেট মসজিদ মার্কেটের ২ ও ৪ নম্বর দোকানের শান্তিপূর্ণ দখলে কোনো বিঘ্ন সৃষ্টি না করা হয়। আদালতের এই স্থগিতাদেশ ও নিষেধাজ্ঞা ১৮ আগস্ট ২০২৬ তারিখ থেকে পরবর্তী ৩ (তিন) মাসের জন্য কার্যকর থাকবে বলে আদেশে উল্লেখ করা হয়েছে। এদিকে মামলা সংক্রান্ত বিষয়ে বাদী-পিটিশনারপক্ষের আইনজীবীরা মতামত প্রকাশ করে জানান, সিলেট কালেক্টরেট জামে মসজিদ ট্রাস্টের সভাপতি ও সিলেটের জেলা প্রশাসক একজন অত্যন্ত দক্ষ ও দূরদর্শী প্রশাসক। সিলেটে যোগদানের পরপরই তিনি বিভিন্ন ক্ষেত্রে ত্বরিত ও ন্যায়সংগত পদক্ষেপ গ্রহণ করে প্রশংসা কুড়িয়েছেন। বাদীপক্ষ পূর্ণ আশাবাদী যে, তিনি আইনের প্রতি শ্রদ্ধা রেখে মহামান্য সুপ্রিম কোর্টের হাইকোর্ট বিভাগের এই আদেশ যথাযথভাবে প্রতিপালন ও বাস্তবায়ন করবেন এবং সকল প্রতিবন্ধকতা অপসারণ করে তাদেরকে নির্বিঘ্নে ব্যবসা পরিচালনার সুযোগ করে দেবেন।

০৫ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬
জকিগঞ্জে একই ফ‍্যানের সঙ্গে ঝুলছিলো মা-মেয়ের নিথর দেহ!

জকিগঞ্জে একই ফ‍্যানের সঙ্গে ঝুলছিলো মা-মেয়ের নিথর দেহ!

সিলেটের জকিগঞ্জে নিজ ঘরে একই ফ্যানে মা ও চার বছরের মেয়ের ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। শনিবার (৫ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যায় উপজেলার বারহাল ইউনিয়নের বুরহানপুর গ্রামের দাশপাড়ায় এ মর্মান্তিক ঘটনা ঘটে।  নিহত নারী চম্পা রাণী দাশ (৩৫) গর্ভবতী ছিলেন বলে স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে। তাঁর সঙ্গে মারা গেছে ৪ বছরের মেয়ে রৃদি দাশ। চম্পা রাণী দাশ শাহগলী বাজারের জুয়েলারি ব্যবসায়ী রতন দাশের স্ত্রী। শনিবার (৫ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যায় উপজেলার বুরহানপুর গ্রামের দাশপাড়ায় এ ঘটনবা ঘটে। স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান মোস্তাক আহমদ চৌধুরী জানান, শনিবার সন্ধ্যার দিকে বুরহানপুর গ্রামের দাশপাড়ায় চম্পা রাণী দাশ ও তাঁর ছোট মেয়েকে ঘরের ভেতর একই ফ্যানে ঝুলন্ত অবস্থায় দেখতে পাওয়া যায়। বিষয়টি জানাজানি হলে স্থানীয় লোকজন সেখানে ছুটে যান। তিনি আরও বলেন, ‘ঘটনাটি অত্যন্ত মর্মান্তিক। নারীটি গর্ভবতী ছিলেন বলে আমরা জানতে পেরেছি। কী কারণে তিনি এমন ঘটনা ঘটিয়েছেন, তা এখনো জানা যায়নি। ঘটনাটি জকিগঞ্জ থানার পুলিশকে জানানো হয়েছে।’ জকিগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মুহাম্মদ আব্দুর রাজ্জাক বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, খবর পেয়ে ওসি (তদন্ত) মো. সুজন মিয়ার নেতৃত্বে ঘটনাস্থলে পুলিশ  পাঠানো হয়েছে। 

০৫ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬
গভীর শ্রদ্ধায় সাবেক অর্থমন্ত্রী সাইফুর রহমানকে স্মরণ

গভীর শ্রদ্ধায় সাবেক অর্থমন্ত্রী সাইফুর রহমানকে স্মরণ

সাবেক অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী, বিএনপির বর্ষীয়ান নেতা এম. সাইফুর রহমানের ১৭তম শাহাদাৎবার্ষিকীতে তাঁর স্মৃতির প্রতি বিনম্র শ্রদ্ধা জানিয়েছেন সিলেট জেলা বিএনপির নেতৃবৃন্দ। শনিবার (৫ সেপ্টেম্বর) দুপুরে সিলেট জেলা বিএনপির সভাপতি ও সিলেট সিটি করপোরেশনের (সিসিক) প্রশাসক আব্দুল কাইয়ুম চৌধুরীর নেতৃত্বে নেতৃবৃন্দ এম. সাইফুর রহমানের সমাধিতে পুষ্পার্ঘ্য অর্পণ করেন। পরে তারা মরহুমের রুহের মাগফিরাত কামনা করে মোনাজাত করেন। এ সময় এম. সাইফুর রহমানের ছেলে এম. নাসের রহমান এমপি, সিলেট জেলা বিএনপি নেতৃবৃন্দ এবং মৌলভীবাজারের স্থানীয় নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন। শ্রদ্ধা নিবেদন শেষে আব্দুল কাইয়ুম চৌধুরী বলেন, এম. সাইফুর রহমানের ১৭তম শাহাদাৎবার্ষিকীতে আমরা গভীর শ্রদ্ধার সঙ্গে তাঁকে স্মরণ করছি।তিনি শুধু একজন জাতীয় নেতা ছিলেন না, তিনি ছিলেন আমাদের মতো অসংখ্য নেতাকর্মীর অভিভাবক। আমরা তাঁর স্নেহধন্য হয়ে রাজনীতিতে পথ চলেছি। তিনি বলেন, আমাদের ছাত্ররাজনীতি ও পরবর্তী রাজনৈতিক জীবনের দীর্ঘ পথচলায় এম. সাইফুর রহমানের মতো নেতাদের কাছ থেকে আমরা অনেক কিছু শিখেছি। গণতান্ত্রিক আন্দোলন-সংগ্রামের মধ্য দিয়ে যে রাজনৈতিক পথ আমরা অতিক্রম করেছি, সেই সময়ে তিনি ছিলেন আমাদের জন্য একজন অভিভাবকতুল্য নেতা।বিএনপি যখনই রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্ব পেয়েছে, তিনি অর্থমন্ত্রী হিসেবে দেশের অর্থনীতি ও উন্নয়ন অগ্রগতিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছেন। আব্দুল কাইয়ুম চৌধুরী বলেন, দেশের অর্থনৈতিক ব্যবস্থাপনা, অভ্যন্তরীণ সম্পদ আহরণ ও রাজস্ব ব্যবস্থাপনার ক্ষেত্রে এম. সাইফুর রহমানের অনেক গুরুত্বপূর্ণ চিন্তা ও উদ্যোগ ছিল।সামাজিক নিরাপত্তাবেষ্টনীসহ বিভিন্ন জনকল্যাণমূলক কর্মসূচির ক্ষেত্রেও তাঁর নীতিগত ভূমিকা ছিল।শিক্ষা, বিশেষ করে নারী শিক্ষার  প্রসারে তাঁর সময়ের বিভিন্ন উদ্যোগ দেশের সামাজিক উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে।তাঁর অর্থনৈতিক চিন্তা ও রাষ্ট্র পরিচালনায় দূরদর্শিতা বাংলাদেশের ইতিহাসে স্মরণীয় হয়ে থাকবে। তিনি আরও বলেন, এম. সাইফুর রহমান ছিলেন বিএনপির প্রতিষ্ঠাকালীন নেতাদের অন্যতম।শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের নেতৃত্বে বিএনপি প্রতিষ্ঠার সময় যারা দল গঠনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছিলেন, তিনি তাঁদের একজন। সিলেটের মানুষ তাঁকে শুধু একজন রাজনীতিক হিসেবে নয়, নিজেদের একজন আপন মানুষ হিসেবে ভালোবাসতেন।সিলেটের উন্নয়ন ও অগ্রগতির জন্য তিনি যে ভূমিকা রেখেছেন, তা এই অঞ্চলের মানুষ কৃতজ্ঞতার সঙ্গে স্মরণ করে। সিসিক প্রশাসক বলেন, দীর্ঘ সময় সিলেটের কাঙ্ক্ষিত উন্নয়ন বাধাগ্রস্ত হয়েছে।এখন দেশের মানুষ নতুন করে বিএনপিকে রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্ব দিয়েছে।সিলেটের মানুষও বিপুলভাবে বিএনপির প্রার্থীদের নির্বাচিত করেছেন।সরকারের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বে সিলেটের প্রতিনিধিরাও রয়েছেন।আমরা যারা রাষ্ট্র ও সরকারের বিভিন্ন পর্যায়ে দায়িত্ব পালন করছি, আমাদের প্রত্যেকের লক্ষ্য হওয়া উচিত সিলেটের উন্নয়ন ও অগ্রগতিকে আরও এগিয়ে নেওয়া। তিনি বলেন, এম. সাইফুর রহমান যেভাবে সিলেটের উন্নয়ন নিয়ে ভাবতেন, সিলেটের মানুষের কল্যাণকে অগ্রাধিকার দিতেন এবং উন্নয়নের জন্য কাজ করতেন, আমরা তাঁর স্নেহধন্য হিসেবে সেই পথ অনুসরণ করতে চাই।আমাদের সামর্থ্য হয়তো তাঁর মতো ব্যাপক নয়, কিন্তু আমরা আমাদের অবস্থান থেকে সর্বোচ্চ চেষ্টা করব সিলেটকে আরও উন্নত ও সমৃদ্ধ করার। এম. সাইফুর রহমানের শাহাদাৎবার্ষিকীতে আমাদের প্রত্যাশা—তাঁর স্বপ্নের সিলেটকে উন্নয়ন ও অগ্রগতির আরও উচ্চতায় নিয়ে যাওয়া।তাঁর স্মৃতির প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জানাই এবং মহান আল্লাহর কাছে তাঁর রুহের মাগফিরাত কামনা করি। এদিকে, এম. সাইফুর রহমানের ১৭তম শাহাদাৎবার্ষিকী উপলক্ষে সিলেট জেলা বিএনপির উদ্যোগে শনিবার (৫ সেপ্টেম্বর) বাদ মাগরিব হযরত শাহজালাল (রহ.) দরগাহ মসজিদে দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়েছে। দোয়া মাহফিলে এম. সাইফুর রহমানের কর্মময় জীবনের ওপর আলোকপাত করে বক্তব্য দেন জেলা বিএনপির সভাপতি, সিসিক প্রশাসক আব্দুল কাইয়ুম চৌধুরী।  দোয়া মাহফিলে জেলা বিএনপির সহসভাপতি নাজিম উদ্দীন লস্কর, কামরুল হাসান শাহিন, আহমেদুর রহমান চৌধুরী মিলু, জিল্লুর রহমান সোয়েব, কুহিনুর আহমদ, শাকিল মোর্শেদ, এডভোকেট আল আসলাম মুমিন, লোকমান আহমদ, সালিক আহমদ, মনিরুল ইসলাম তোরন, সোলেমান আহমদ, শওকত মিয়া, শাহিন আলম জয়, আতাউর রহমান কাচা, সেলিম আহমদ, সাহেদ আহমদ, মিজানুর রহমান বেলাল, মোস্তাক আহমদ মোস্তাক, মাহবুব আলম, জাহেদূর রহমান, মুক্তার আহমদ, জুনেদ আহমদ প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

০৫ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬
‘কিছু রাজনৈতিক দল বিভ্রান্তির মাধ্যমে অরাজকতা সৃষ্টির পাঁয়তারা করছে’

‘কিছু রাজনৈতিক দল বিভ্রান্তির মাধ্যমে অরাজকতা সৃষ্টির পাঁয়তারা করছে’

প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান বলেছেন, ‘দেশের চলমান সংকটকে পুঁজি করে কিছু রাজনৈতিক দল বা ব্যক্তি বিভ্রান্তির মাধ্যমে অরাজকতা সৃষ্টির পাঁয়তারা করছে।’ তিনি বলেন, ‘গত কিছুদিন ধরে খেয়াল করছি, যেসব সমস্যা আমরা ইনহেরিট করেছি, স্বৈরাচার আমলেই হোক অথবা অন্তর্র্বতীকালীন সরকারের রেখে যাওয়া সমস্যাই হোক না কেন, সবগুলোই সমাধানের চেষ্টা করছি। সমস্যা নেই, তা কখনোই বলছি না। অবশ্যই বিভিন্ন ক্ষেত্রে সমস্যা আছে। কিন্তু সমস্যাগুলোকে পুঁজি করে কিছু রাজনৈতিক দল এবং কিছু ব্যক্তি বিভিন্নভাবে বিভ্রান্তি সৃষ্টির চেষ্টা করছেন। এর মাধ্যমে দেশে অরাজকতা তৈরি করার চেষ্টা করছেন।’ শনিবার (৫ সেপ্টেম্বর) বিকেলে বাংলাদেশ কৃষিবিদ ইনস্টিটিউট মিলনায়তনে বিএনপির ৪৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষ্যে আয়োজিত আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে প্রধানমন্ত্রী এসব কথা বলেন। ‘করবো কাজ, গড়বো দেশ, সবার আগে বাংলাদেশ’ শীর্ষক স্লোগানকে ধারণ করে বিকেল পৌনে ৪টায় পবিত্র কোরআন থেকে তেলাওয়াতের মধ্য দিয়ে এ সভা শুরু হয়। সরকারের অবস্থান তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আমি পরিষ্কারভাবে বলতে চাই, বাংলাদেশের জনগণ এই সরকারকে দায়িত্ব দিয়েছে দেশ পরিচালনা করার জন্য। অবশ্যই আমরা গণতন্ত্রের ধারাকে সমুন্নত রাখবো। গণতান্ত্রিক নীতি-নৈতিকতাগুলো আপহোল্ড করার সর্বোচ্চ চেষ্টা করবো।’ একই সঙ্গে তিনি হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, ‘কেউ যদি অরাজকতা সৃষ্টি করতে চায়; সেটিকে কীভাবে নিয়ন্ত্রণ করতে হবে তা দেশের আইনে বলে দেওয়া আছে। কাজেই জনগণের দ্বারা নির্বাচিত সরকার হিসেবে পরিষ্কারভাবে বলতে চাই, প্রত্যেকের নিজেদের সীমার মধ্যে থাকা দরকার।’ দেশের প্রতিটি সংকটকালীন মুহূর্তে বিএনপি জনগণের পাশে ছিল উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘প্রত্যেকটি সংকটকালীন মুহূর্তে বিএনপি নামক রাজনৈতিক দলটি নেতাকর্মী ও দেশের মানুষকে সঙ্গে নিয়ে সংকট কাটিয়ে ওঠার জন্য পরিশ্রম করেছে। সংকট থেকে ধীরে ধীরে দেশকে বের করেও নিয়ে এসেছে।’ তিনি আরও বলেন, ‘আজকে যেহেতু বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল এই মুহূর্তে দেশ পরিচালনার দায়িত্বে রয়েছে। শিল্পকারখানার মালিকসহ বহু সাধারণ মানুষ যারা বিদ্যুৎ ও জ্বালানির কষ্টে রয়েছেন, তাদের সবার কাছে আমি দলের পক্ষ থেকে দুঃখ প্রকাশ করছি।’

০৫ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬