মতামত

সাংবাদিক এটিএম তুরাব হত্যা মামলা : ন্যায়বিচারের গতি যেন থমকে না যায়

Icon
সম্পাদকীয়

২৩ই জুলাই, ২০২৬

সাংবাদিক এটিএম তুরাব হত্যা মামলা : ন্যায়বিচারের গতি যেন থমকে না যায়

পেশাগত দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে সিলেটে সাংবাদিক এটিএম তুরাব পুলিশের হাতে হত্যার শিকার হওয়ার ঘটনাটি কেবল সংবাদমাধ্যমের স্বাধীনতার ওপর আঘাত নয়, বরং সামগ্রিক বিচার ব্যবস্থার জন্যও একটি বড় পরীক্ষা। চাঞ্চল্যকর এই হত্যাকাণ্ডের পর একটি দীর্ঘ সময় পার হতে চললেও মামলার অগ্রগতি যেভাবে থমকে আছে বা মন্থর গতিতে চলছে, তা গভীরভাবে উদ্বেগজনক। একটি স্বাধীন ও গণতান্ত্রিক সমাজে সত্য প্রকাশের দায়ে একজন সাংবাদিককে প্রাণ দিতে হবে এবং তার বিচার পেতে বছরের পর বছর অপেক্ষা করতে হবে- তা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়।
আমরা প্রায়শই দেখি, দেশে সাংবাদিক নির্যাতনের বা হত্যাকাণ্ডের মামলাগুলো এক সময় ফাইলবন্দি হয়ে পড়ে কিংবা তদন্তের নামে বছরের পর বছর কালক্ষেপণ করা হয়। সাগর-রুনি হত্যাকাণ্ড যার সবচেয়ে বড় ও লজ্জাজনক উদাহরণ। সাংবাদিক তুরাব হত্যা মামলাটির ভবিষ্যৎ যেন সেই একই গোলকধাঁধায় হারিয়ে না যায়, তা নিশ্চিত করা এখন সময়ের দাবি।
তদন্তের দীর্ঘসূত্রতা অনেক সময় অপরাধীদের পার পেয়ে যাওয়ার সুযোগ করে দেয়, আবার অনেক ক্ষেত্রে আলামত নষ্ট বা সাক্ষীদের ভয়ভীতি দেখানোর পথ সুগম করে। তুরাবের পরিবার যেখানে আজও শোক ও নিরাপত্তাহীনতার মধ্যে দিন কাটাচ্ছে, সেখানে বিচার প্রক্রিয়ার এই ধীরগতি তাদের ক্ষতকে আরও বাড়িয়ে তুলছে।
সিলেটের সাংবাদিক সমাজসহ সর্বস্তরের নাগরিকেরা শুরু থেকেই এই হত্যাকাণ্ডের সুষ্ঠু ও দ্রুত বিচার দাবি করে আসছেন। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী এবং সংশ্লিষ্ট বিচারিক কর্তৃপক্ষের মনে রাখা উচিত, সাংবাদিক খুনের বিচার দ্রুত ও দৃষ্টান্তমূলকভাবে সম্পন্ন করা না গেলে তা অপরাধীদের আরও বেশি দুঃসাহসী করে তুলবে। এতে মাঠপর্যায়ে কর্মরত সাংবাদিকদের নিরাপত্তা চরম হুমকির মুখে পড়বে, যা পরোক্ষভাবে দেশের মুক্ত গণমাধ্যম ও বাকস্বাধীনতার কণ্ঠরোধ করার শামিল।
আমরা মনে করি, এই মামলার তদন্তে কোনো ধরনের শৈথিল্য বা প্রভাব খাটানোর সুযোগ দেওয়া উচিত নয়। সব আইনি প্রক্রিয়া ও সুষ্ঠু তদন্ত বজায় রেখেই বিশেষ অগ্রাধিকারের ভিত্তিতে সাংবাদিক তুরাব হত্যা মামলাটি দ্রুত নিষ্পত্তি করা দরকার। প্রকৃত অপরাধী, পরিকল্পনাকারী ও নির্দেশদাতাদের দ্রুততম সময়ে আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করা হোক। রাষ্ট্র ও বিচার বিভাগ দ্রুত এই মামলার রায় ঘোষণা করে প্রমাণ করুকÑএ দেশে সাংবাদিকদের জীবন ও পেশার নিরাপত্তা এখনো হারিয়ে যায়নি।

 

আপলোড : আব্দুল খালিক