সিলেটে ভিডিও ভাইরাল হওয়া সেই শিক্ষিকার বিরুদ্ধে হচ্ছে তদন্ত কমিটি
সিলেটে ভিডিও ভাইরাল হওয়া সেই শিক্ষিকার বিরুদ্ধে হচ্ছে তদন্ত কমিটি
সিলেটের ফেঞ্চুগঞ্জ উপজেলার পিটাইটিকর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষিকা একটি ভিডিও নিয়ে তোলপাড় চলছে। বিশেষ করে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম (ফেসবুকে) ওই শিক্ষিকার ভিডিও ভাইরাল হওয়ার পর থেকে পক্ষে-বিপক্ষে আলোচনা-সমালোচনা শুরু হয়েছে। বিষয়টি অনুসন্ধানে একটি তদন্ত গঠন করা হবে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা। জানা যায়, ওই শিক্ষিকার নাম বিউটি পাল। তিনি ফেঞ্চুগঞ্জ উপজেলার পিটাইটিকর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষিকা হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। বিউটি পাল এ বছর সিলেট জেলার শ্রেষ্ঠ প্রধান শিক্ষক নির্বাচিত হয়েছেন।  গত বৃহস্পতিবার (২৩ জুলাই) দুপুরের দিকে বিউটি পাল নিজের ফেসবুক আইডি (annabel Li Li) থেকে কয়েক সেকেন্ডের একটি রিল ভিডিও পোস্ট করেন। ভিডিওতে দেখা যায়, বিদ্যালয় প্রাঙ্গনেই শাড়ি পরে বাংলা গান ‘‘আজ কেন মন উদাসী হয়ে/ দূর অজানায় চায় হারাতে..’’ খোলা চুলে বিভিন্ন অঙ্গ-ভঙ্গি করছেন। মুহুর্তে ভিডিওটি ছড়িয়ে পড়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে। প্রধান শিক্ষিকার এমন ভিডিও ছড়িয়ে পড়ার পর থেকে দেশ-বিদেশে অবস্থানরত বিভিন্ন শ্রেণী পেশার লোকজন একপক্ষ শিক্ষিকার ভিডিও শেয়ার করে তীব্র সমালোচনা করছেন। বিষয়টি নিয়ে চলছে ট্রল ও সাইবার বুলিং। আরেকপক্ষ ওই শিক্ষিকার পক্ষ নিয়ে বুলিং ও ট্রলের নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাচ্ছেন। এদিকে, বিউটি পালের ভাইরাল হওয়া ভিডিও আচরণবিধি লঙ্ঘন হয়েছে কি না সেই বিষয়ে অনুসন্ধানে একটি তদন্ত গঠন করা হবে বলে জানিয়েছেন ফেঞ্চুগঞ্জ উপজেলা শিক্ষা অফিসার মোহাম্মদ সোহেল মোল্লা। রোববার (২৬জুলাই) বিকালে সচিত্র সিলেটকে ফেঞ্চুগঞ্জ উপজেলা শিক্ষা অফিসার মোহাম্মদ সোহেল মোল্লা বলেন, বিষয়টি আমাদের নজরে এসেছে ও এ নিয়ে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে কথা হয়েছে। বিষয়টি তদন্তের জন্য প্রাথমিক সিদ্ধান্ত হিসেবে একটি তদন্ত কমিটি গঠনের আলোচনা হয়েছে। শিক্ষা অফিসার আরও জানান, কমিটি গঠন ও তদন্তের পর দেখা হবে কোনো ধরনের আচরণবিধি লঙ্ঘনের ঘটনা ঘটেছে কিনা। তদন্ত প্রতিবেদনের ওপর ভিত্তি করেই পরবর্তীতে প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক পদক্ষেপ নেওয়া হবে। বিদ্যালয় চলাকালীন সময়ে এমন ঘটনার নিয়মকানুনের বিষয়ে জানতে চাওয়া হলে তিনি জানান, যেহেতু তদন্ত প্রক্রিয়া শুরুর প্রাথমিক পর্যায়ে রয়েছে, তাই এ বিষয়ে তদন্তের আগে কোনো আনুষ্ঠানিক বক্তব্য প্রদান করা সমীচীন হবে না। এ বিষয়ে সিলেট জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার সাখাওয়াত এরশেদ সচিত্র সিলেটকে বলেন, এটা নিয়ে আমরা কাজ করছি। একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হবে এবং সেখানে আচরণবিধি লঙ্ঘন ও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম নিয়ে সরকারি যে নির্দেশনা রয়েছে তা লঙ্ঘন হয়েছে কি না তা খতিয়ে দেখা হবে।
জনকল্যাণে কাজ করলে মানুষ আজীবন মনে রাখে : সিসিক প্রশাসক
জনকল্যাণে কাজ করলে মানুষ আজীবন মনে রাখে : সিসিক প্রশাসক সিলেট সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসক ও সিলেট জেলা বিএনপির সভাপতি আব্দুল কাইয়ুম চৌধুরী বলেছেন, জনকল্যাণে নিষ্ঠার সঙ্গে কাজ করলে মানুষ সেই অবদান কখনও ভুলে যায় না। সিলেট মেট্রোপলিটন পুলিশের (এসএমপি) বিদায়ী কমিশনার মো. আব্দুল কুদ্দুছ চৌধুরী তারই উজ্জ্বল উদাহরণ। দায়িত্ব পালনকালে তিনি আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নয়ন, জননিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ এবং জনবান্ধব নানা উদ্যোগের মাধ্যমে মানুষের আস্থা অর্জন করেছেন। তাই আজ সর্বস্তরের মানুষ তাকে ভালোবাসা ও সম্মান জানাচ্ছে। সামাজিক সংগঠন ইউনাইটেড সিলেটের উদ্যোগে রোববার (২৬ জুন) বিকেলে সারদা হলে চট্টগ্রাম রেঞ্জের ডিআইজি হিসেবে বদলিজনিত বিদায় উপলক্ষে আয়োজিত সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। সিসিক প্রশাসক বলেন, আব্দুল কুদ্দুছ চৌধুরী একজন দক্ষ, সৎ ও দায়িত্বশীল পুলিশ কর্মকর্তা। তার নেতৃত্বে সিলেটে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উল্লেখযোগ্য উন্নয়ন হয়েছে। জাতীয় সংসদ নির্বাচন শান্তিপূর্ণ, অবাধ ও সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন করতেও তিনি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছেন। তিনি বলেন, সম্প্রতি সংঘটিত কয়েকটি চাঞ্চল্যকর হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা গ্রহণ এবং দ্রুত আসামিদের গ্রেপ্তার করে তিনি পেশাদারিত্বের পরিচয় দিয়েছেন। নগরবাসীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে তার আন্তরিক প্রচেষ্টা সর্বদা প্রশংসিত হবে। সিলেট প্রেসক্লাবের সভাপতি মুকতাবিস-উন-নূরের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য রাখেন, ইউনাইটেড সিলেটের সভাপতি আব্দুল মোমিন। বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন, জালালাবাদ ক্যান্টনমেন্ট পাবলিক স্কুল অ্যান্ড কলেজের প্রাক্তন অধ্যক্ষ কর্নেল (অব.) সৈয়দ আলী আহমদ, মহানগর দায়রা জজ আদালতের পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি) অ্যাডভোকেট বদরুল আহমদ চৌধুরী, সিলেট জেলা দোকান মালিক সমিতির সদস্যসচিব আব্দুর রহমান রিপন। অন্যানের মধ্যে আরও বক্তব্য রাখেন, সিলেট ব্যবসায়ী ঐক্যকল্যাণ পরিষদের সভাপতি আব্দুল মুনিম মল্লিক মুন্না, সিলেট প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ সিরাজুল ইসলাম, জুবায়ের আহমদসহ বিভিন্ন সামাজিক, পেশাজীবী ও ব্যবসায়ী সংগঠনের নেতৃবৃন্দ। সংবর্ধিত অতিথি আব্দুল কুদ্দুছ চৌধুরী বলেন, "সিলেটবাসীর অকুণ্ঠ সহযোগিতা পেয়েছি বলেই দায়িত্ব পালনে সফল হতে পেরেছি। তাই এই সফলতার কৃতিত্ব একান্তই সিলেটবাসীর।" তিনি বলেন, সিলেটে অবৈধ রিকশা নিয়ন্ত্রণ এবং ফুটপাত দখলমুক্ত করার মতো কঠিন কাজ বাস্তবায়ন সম্ভব হয়েছে সবার সম্মিলিত সহযোগিতার কারণে। একই সঙ্গে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নয়নেও প্রশাসন ও জনগণের সমন্বিত প্রচেষ্টা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে। অনুষ্ঠান শেষে বিদায়ী পুলিশ কমিশনার মো. আব্দুল কুদ্দুছ চৌধুরীর হাতে সম্মাননা স্মারক তুলে দেন অতিথিবৃন্দ। 
স্কলার্সহোম শিবগঞ্জ শাখায় কৃতি শিক্ষার্থীদের সংবর্ধনা
স্কলার্সহোম শিবগঞ্জ শাখায় কৃতি শিক্ষার্থীদের সংবর্ধনা "মেধা, অধ্যবসায় ও সুশিক্ষাই একটি জাতির উজ্জ্বল ভবিষ্যতের ভিত্তি।"—এই চেতনাকে ধারণ করে ২০২৫ সালের প্রাথমিক বৃত্তি পরীক্ষায় অসাধারণ সাফল্য অর্জনকারী শিক্ষার্থীদের সংবর্ধনা দিয়েছে স্কালার্সহোম শিবগঞ্জ শাখা।রোববার (২৬ জুলাই) প্রতিষ্ঠানটির মিলনায়তনে এ সংবর্ধনা অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়। স্কলার্সহোম শিবগঞ্জ শাখার উপাধ্যক্ষ শানিজ ফাতেমা ইব্রাহিমের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্য রাখেন, স্কলার্সহোমের একাডেমিক কো-অর্ডিনেটর অধ্যাপক জয়নুল আবেদিন চৌধুরী। বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন, স্কলার্সহোম টিলাগড় শাখার অধ্যক্ষ ও স্কলার্সহোম শিবগঞ্জ শাখার প্রাক্তন অধ্যক্ষ মোহাম্মদ শামছ উদ্দিন।  অনুষ্ঠানের সূচনা পর্বে বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী নাবিহা তাহসিন’র সঞ্চালনায় অভিভাবকদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন, মোছা. হেনা বেগম, বেলাল হোসেন এবং কবির আহমেদ প্রমুখ। শেষে অতিথিবৃন্দ কৃতি শিক্ষার্থীদের সম্মাননা সনদ তুলে দেন। উল্লেখ্য, ২০২৫ সালের প্রাথমিক বৃত্তি পরীক্ষায়  এ প্রতিষ্টান থেকে ট্যালেন্টপুলে বৃত্তি পেয়েছে ৬ জন শিক্ষার্থী এবং সাধারণ বৃত্তি পেয়েছে ১০ জন শিক্ষার্থী।
প্রাথমিক শিক্ষার মানোন্নয়নে নীতিমালা প্রণয়নের কাজ চলছে: প্রতিমন্ত্রী
প্রাথমিক শিক্ষার মানোন্নয়নে নীতিমালা প্রণয়নের কাজ চলছে: প্রতিমন্ত্রী প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ বলেছেন, প্রাথমিক শিক্ষার মানোন্নয়ন ও প্রশাসনিক দক্ষতা বৃদ্ধি করতে সরকার নতুন নীতিমালা ও মূল্যবোধভিত্তিক কারিকুলাম প্রণয়নের কাজ করছে। এ লক্ষ্যে দেশের আটটি বিভাগে প্রশাসনিক কর্মকর্তাদের নিয়ে ধারাবাহিক কর্মশালার আয়োজন করা হয়েছে। সিলেট বিভাগ দিয়ে এ কর্মসূচির সূচনা হয়েছে। রোববার (২৬ জুলাই) সিলেট নগরীর পিটিআই অডিটোরিয়ামে জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিস আয়োজিত বাংলাদেশের প্রাথমিক শিক্ষার শ্রেণি কার্যক্রম পরিচালনা, মনিটরিং, জবাবদিহিতা ও স্থানীয় প্রশাসনের প্রতি পরিবর্তিত প্রত্যাশা শীর্ষক প্রশিক্ষণ কর্মশালায় সেশন পরিচালনা শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব কথা বলেন।  প্রতিমন্ত্রী বলেন, উন্নত বিশ্বের শিক্ষা ব্যবস্থা হুবহু অনুসরণ নয় বরং বাংলাদেশের বাস্তবতার সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে ফলাফলভিত্তিক শিক্ষা ব্যবস্থা গড়ে তোলাই সরকারের লক্ষ্য। প্রাথমিক পর্যায়ে Foundational Learning ​​​​​ শতভাগ নিশ্চিত করার পাশাপাশি ধর্মীয়, পারিবারিক ও নাগরিক মূল্যবোধকে নতুন কারিকুলামে অধিক গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। দেশবরেণ্য বিশেষজ্ঞ ও আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠানের সহযোগিতায় কারিকুলাম প্রণয়নের কাজ এগিয়ে চলছে। একই সঙ্গে শিক্ষক ও প্রশাসনিক কর্মকর্তাদের জন্য নতুন নীতিমালার প্রথম খসড়া আগামী ১৭ আগস্টের মধ্যে প্রস্তুত করার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। তিনি বলেন, নীতিমালা চূড়ান্ত হওয়ার আগে শিক্ষকদের বেতন কাঠামো নিয়ে মন্তব্য করা সমীচীন নয়। তবে শিক্ষকদের পেশাগত দক্ষতা ও জীবনমান উন্নয়নে কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া হবে। বর্তমানে মিড-ডে মিল কর্মসূচি পাইলট পর্যায়ে রয়েছে। এর বাস্তবায়নে পাওয়া ত্রুটি সংশোধনে সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠানের তদারকি, কারখানা পরিদর্শন, খাদ্য প্রযুক্তিবিদ নিয়োগ ও বিদ্যালয়ভিত্তিক ‘মাদার্স কমিটি’ গঠনসহ বিভিন্ন পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। পাইলটিং সফল হলে ২০২৭ সালের শুরু থেকে কর্মসূচিটি সারা দেশে চালুর পরিকল্পনা রয়েছে। প্রতিমন্ত্রী আরও বলেন, ২০২৮ সালে নতুন কারিকুলাম চালুর সঙ্গে সঙ্গে বেসরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলোকেও নীতিমালার আওতায় আনা হবে। এসব বিদ্যালয়ের কারিকুলাম, শিক্ষকের মান, অবকাঠামো ও শিক্ষা ক্যালেন্ডার নিয়মিত মনিটরিং করা হবে। একই সঙ্গে বিদ্যমান নীতিমালার আওতায় অধিদপ্তরের কার্যক্রম পরিচালিত হবে এবং নতুন নীতিমালা কার্যকর হওয়ার পর তা বাস্তবায়ন করা হবে। সিলেটের জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার সাখওয়াত এরশেদের সভাপতিত্বে কর্মশালায় বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন, প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের অতিরিক্ত মহাপরিচালক মো. আব্দুর রহিম, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক মো. মাসুদ রানা।  এসময় সিলেট বিভাগের প্রাথমিক শিক্ষা সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তাগণ উপস্থিত ছিলেন।
গোয়াইনঘাটে মাদক ও মানব পাচারকে না বলুন’ শীর্ষক  সভা
গোয়াইনঘাটে মাদক ও মানব পাচারকে না বলুন’ শীর্ষক সভা তরুণ প্রজন্মকে মাদক ও মানব পাচারের ভয়াবহতা সম্পর্কে সচেতন করতে  সিলেটের গোয়াইনঘাট উপজেলার সোনারহাট উচ্চ বিদ্যালয়ে ‘মাদক ও মানব পাচারকে না বলুন’ শীর্ষক এক সচেতনতামূলক আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।  রোববার (২৬ জুলাই) দুপুরে উপজেলার সোনারহাট উচ্চ বিদ্যালয়ের মিলনায়তনে এ আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটির সভাপতি আব্দুল করিমের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন, গোয়াইনঘাট থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. ওমর ফারুক মুরুল। বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন, গোয়াইনঘাট উপজেলা পরিষদের সাবেক ভাইস চেয়ারম্যান মাওলানা গোলাম আম্বিয়া কয়েছ। অন্যান্যের মধ্যে আরও বক্তব্য রাখেন, যুক্তরাজ্য প্রবাসী মোস্তাফিজুর রহমান কাওছার, বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক জাফর ইকবাল ও সিনিয়র শিক্ষক আব্দুর রাজ্জাক। অনুষ্ঠানে বিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষার্থী, অভিভাবক এবং স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ উপস্থিত ছিলেন।
জুলাইয়ের ২৫ দিনে রেকর্ড প্রবাসী আয়
জুলাইয়ের ২৫ দিনে রেকর্ড প্রবাসী আয় চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রথম মাস জুলাইয়ের প্রথম ২৫ দিনেই রেকর্ড ২২৯ কোটি ৯৪ লাখ ৫০ হাজার ডলারের প্রবাসী আয় এসেছে। বাংলাদেশি মুদ্রায় যার পরিমাণ প্রায় ২৮ হাজার ২২৬ কোটি টাকা (প্রতি ডলার ১২২.৭৫ টাকা হিসাবে)। রোববার (২৬ জুলাই) কেন্দ্রীয় ব্যাংকের হালনাগাদ প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের জুলাইয়ের ২৫ দিনে অর্জিত এই আয় আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় উল্লেখযোগ্যভাবে বেশি। গত ২০২৫-২৬ অর্থবছরের জুলাইয়ের প্রথম ২৫ দিনে প্রবাসীরা পাঠিয়েছিলেন ১৯৯ কোটি ৮২ লাখ ৮২ হাজার ডলার। সে তুলনায় চলতি বছরের একই সময়ে প্রবাসী আয় প্রবৃদ্ধি হয়েছে ১৫ শতাংশ। ব্যাংকভিত্তিক লেনদেনের চিত্রে দেখা গেছে, প্রবাসীরা সবচেয়ে বেশি অর্থ পাঠিয়েছেন বেসরকারি ব্যাংকগুলোর মাধ্যমে। ২৫ দিনে বেসরকারি বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোর মাধ্যমে এসেছে ১৬৫ কোটি ৭১ লাখ ডলার। এছাড়া রাষ্ট্রায়ত্ত বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোর মাধ্যমে দেশে এসেছে ৩৩ কোটি ৭১ লাখ ৭০ হাজার ডলার। বিশেষায়িত একমাত্র বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের মাধ্যমে এসেছে ৩০ কোটি ১৫ লাখ ৫০ হাজার ডলার। আর দেশে কর্মরত বিদেশি বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোর মাধ্যমে প্রবাসী আয় এসেছে ৩৬ লাখ ২০ হাজার মার্কিন ডলার। খাত সংশ্লিষ্টরা বলছেন, বৈধ ব্যাংকিং চ্যানেলে রেমিট্যান্স পাঠাতে সরকারের নানা প্রণোদনা এবং ডলারের দর স্বাভাবিক থাকায় প্রবাসীরা এখন ব্যাংকিং পথকেই অগ্রাধিকার দিচ্ছেন। এতে দেশের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভে ইতিবাচক প্রভাব পড়ার প্রত্যাশা করা হচ্ছে।
মৌলভীবাজারে পিকআপ-সিএনজি মুখোমুখি সংঘর্ষে নিহত ১
মৌলভীবাজারে পিকআপ-সিএনজি মুখোমুখি সংঘর্ষে নিহত ১ মৌলভীবাজারের বড়লেখায় পিক-আপ ও সিএনজি চালিত অটোরিকশার মুখোমুখি সংঘর্ষে আলী হোসেন নামের এক ব্যক্তি নিহত হয়েছে। এঘটনায় ৩ জন আহত হয়েছেন। আহতদের সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। রোববার (২৬ জুলাই)  দুপুরে বড়লেখা-জুড়ী আঞ্চলিক মহাসড়কের বড়লেখা উপজেলার দক্ষিণভাগ ইউনিয়নের হাতলিয়া এ ঘটনা ঘটে। নিহত আলী হোসেন জুড়ী উপজেলার গোয়ালবাড়ী ইউনিয়নের কচুরগুল এলাকার হাজী সোয়াব উদ্দিনের ছেলে।  পুলিশ ও স্থানীয়রা জানান, বড়লেখা-জুড়ী আঞ্চলিক সড়কের হাতলিয়া এলাকায় সিএনজিচালিত অটোরিকশা ও পিক-আপের মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়। এসময় স্থানীয়রা তাদেরকে উদ্ধার করে জুড়ী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে আসলে কর্তব্যরত চিকিৎসক আলী হোসেকে মৃত ঘোষণা করেন এবং ৩ জনকে প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে উন্নয়ত চিকিৎসার জন্য সিলেট এমএজি মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে । জুড়ী উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. সমরজিৎ সিংহ বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, আলী হোসেনসহ ৪জনকে জুড়ী স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে এলে কর্তব্যরত চিতিৎসক আলী হোসেনকে মৃত ঘোষণা করেন। আহত ৩ জনকে  সিলেট এম এ জি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। বড়লেখা থানা ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা(ওসি) মনিরুজ্জামান খান বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, নিহত আলী হোসেনের স্বজনা বিনা ময়নাতদন্তের মরদেহ নেয়ার আবদনের প্রেক্সিতে বিনা ময়না তদন্তের আলী হোসেনের মরদেহ স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হয়।
সিলেটে ভিডিও ভাইরাল হওয়া সেই শিক্ষিকার বিরুদ্ধে হচ্ছে তদন্ত কমিটি
সিলেটে ভিডিও ভাইরাল হওয়া সেই শিক্ষিকার বিরুদ্ধে হচ্ছে তদন্ত কমিটি সিলেটের ফেঞ্চুগঞ্জ উপজেলার পিটাইটিকর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষিকা একটি ভিডিও নিয়ে তোলপাড় চলছে। বিশেষ করে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম (ফেসবুকে) ওই শিক্ষিকার ভিডিও ভাইরাল হওয়ার পর থেকে পক্ষে-বিপক্ষে আলোচনা-সমালোচনা শুরু হয়েছে। বিষয়টি অনুসন্ধানে একটি তদন্ত গঠন করা হবে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা। জানা যায়, ওই শিক্ষিকার নাম বিউটি পাল। তিনি ফেঞ্চুগঞ্জ উপজেলার পিটাইটিকর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষিকা হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। বিউটি পাল এ বছর সিলেট জেলার শ্রেষ্ঠ প্রধান শিক্ষক নির্বাচিত হয়েছেন।  গত বৃহস্পতিবার (২৩ জুলাই) দুপুরের দিকে বিউটি পাল নিজের ফেসবুক আইডি (annabel Li Li) থেকে কয়েক সেকেন্ডের একটি রিল ভিডিও পোস্ট করেন। ভিডিওতে দেখা যায়, বিদ্যালয় প্রাঙ্গনেই শাড়ি পরে বাংলা গান ‘‘আজ কেন মন উদাসী হয়ে/ দূর অজানায় চায় হারাতে..’’ খোলা চুলে বিভিন্ন অঙ্গ-ভঙ্গি করছেন। মুহুর্তে ভিডিওটি ছড়িয়ে পড়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে। প্রধান শিক্ষিকার এমন ভিডিও ছড়িয়ে পড়ার পর থেকে দেশ-বিদেশে অবস্থানরত বিভিন্ন শ্রেণী পেশার লোকজন একপক্ষ শিক্ষিকার ভিডিও শেয়ার করে তীব্র সমালোচনা করছেন। বিষয়টি নিয়ে চলছে ট্রল ও সাইবার বুলিং। আরেকপক্ষ ওই শিক্ষিকার পক্ষ নিয়ে বুলিং ও ট্রলের নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাচ্ছেন। এদিকে, বিউটি পালের ভাইরাল হওয়া ভিডিও আচরণবিধি লঙ্ঘন হয়েছে কি না সেই বিষয়ে অনুসন্ধানে একটি তদন্ত গঠন করা হবে বলে জানিয়েছেন ফেঞ্চুগঞ্জ উপজেলা শিক্ষা অফিসার মোহাম্মদ সোহেল মোল্লা। রোববার (২৬জুলাই) বিকালে সচিত্র সিলেটকে ফেঞ্চুগঞ্জ উপজেলা শিক্ষা অফিসার মোহাম্মদ সোহেল মোল্লা বলেন, বিষয়টি আমাদের নজরে এসেছে ও এ নিয়ে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে কথা হয়েছে। বিষয়টি তদন্তের জন্য প্রাথমিক সিদ্ধান্ত হিসেবে একটি তদন্ত কমিটি গঠনের আলোচনা হয়েছে। শিক্ষা অফিসার আরও জানান, কমিটি গঠন ও তদন্তের পর দেখা হবে কোনো ধরনের আচরণবিধি লঙ্ঘনের ঘটনা ঘটেছে কিনা। তদন্ত প্রতিবেদনের ওপর ভিত্তি করেই পরবর্তীতে প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক পদক্ষেপ নেওয়া হবে। বিদ্যালয় চলাকালীন সময়ে এমন ঘটনার নিয়মকানুনের বিষয়ে জানতে চাওয়া হলে তিনি জানান, যেহেতু তদন্ত প্রক্রিয়া শুরুর প্রাথমিক পর্যায়ে রয়েছে, তাই এ বিষয়ে তদন্তের আগে কোনো আনুষ্ঠানিক বক্তব্য প্রদান করা সমীচীন হবে না। এ বিষয়ে সিলেট জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার সাখাওয়াত এরশেদ সচিত্র সিলেটকে বলেন, এটা নিয়ে আমরা কাজ করছি। একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হবে এবং সেখানে আচরণবিধি লঙ্ঘন ও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম নিয়ে সরকারি যে নির্দেশনা রয়েছে তা লঙ্ঘন হয়েছে কি না তা খতিয়ে দেখা হবে।
বাজারের ৩৪ টুথপেস্টের ২৬টিতে মিলেছে বিষাক্ত মাইক্রোপ্লাস্টিক
বাজারের ৩৪ টুথপেস্টের ২৬টিতে মিলেছে বিষাক্ত মাইক্রোপ্লাস্টিক দেশের বাজারে বিক্রি হওয়া ৩৪টি টুথপেস্টের মধ্যে ২৬টিতেই ক্ষতিকর মাইক্রোপ্লাস্টিকের উপস্থিতি পাওয়া গেছে বলে এক গবেষণায় দাবি করেছে পরিবেশ বিষয়ক গবেষণা সংস্থা এনভায়রনমেন্ট অ্যান্ড সোশ্যাল ডেভেলপমেন্ট অর্গানাইজেশন (এসডো)। রোববার (২৬ জুলাই) রাজধানীতে নিজস্ব কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এক বছরব্যাপী পরিচালিত এ গবেষণার ফল প্রকাশ করে সংস্থাটি। গবেষণায় বলা হয়েছে, প্রতি ১০০ গ্রাম টুথপেস্টে সর্বনিম্ন ২০টি থেকে সর্বোচ্চ ৩২০টি পর্যন্ত মাইক্রোপ্লাস্টিক কণা শনাক্ত হয়েছে। সবচেয়ে বেশি ৩২০টি কণা পাওয়া গেছে ‘মেডিপ্লাস ফ্লুরাইড জেল’-এ। এসডো জানায়, গবেষণার অংশ হিসেবে দেশের ২ হাজার ৭৬০ জন ভোক্তার ওপর জরিপ পরিচালনা করা হয়। পাশাপাশি জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিবেশবিজ্ঞান বিভাগের ‘এনভায়রনমেন্টাল হেলথ অ্যান্ড ইকোটক্সিকোলজি ল্যাবরেটরিতে’ স্টিরিওমাইক্রোস্কোপি ও ফুরিয়ার ট্রান্সফর্ম ইনফ্রারেড (এফটিআইআর) স্পেকট্রোস্কোপি প্রযুক্তি ব্যবহার করে নমুনা পরীক্ষা করা হয়। প্রতিবেদনে বলা হয়, পরীক্ষা করা ২৫টি দেশীয় টুথপেস্টের মধ্যে ২২টিতে মাইক্রোপ্লাস্টিক পাওয়া গেছে। এছাড়া ভারতের পাঁচটির মধ্যে একটিতে, থাইল্যান্ডের দুটির মধ্যে একটিতে এবং ভিয়েতনামের দুটি টুথপেস্টের দুটিতেই এ ক্ষতিকর কণা শনাক্ত হয়েছে। উদ্বেগের বিষয় হলো, শিশুদের জন্য তৈরি ছয়টি টুথপেস্টের চারটিতেই মাইক্রোপ্লাস্টিকের উপস্থিতি পাওয়া গেছে। গবেষণার তথ্য অনুযায়ী, প্রতি ১০০ গ্রাম হিসেবে মেডিপ্লাস ফ্লুরাইড জেলে ৩২০টি, ক্লোজ আপ রেড হটে ১৬০টি, ক্লোজ আপ মেন্থল ফ্রেশে ১৬০টি, কোডোমো আল্ট্রা শিল্ড ফর্মুলা স্ট্রবেরিতে ১৪০টি, সিগন্যাল গ্রিন টিতে ১২০টি, পেপসোডেন্ট অ্যাডভান্স সল্টে ১০০টি, হিমালয়া কমপ্লিট কেয়ারে ১০০টি এবং সেনসোডাইন ফ্রেশ মিন্টে ৮০টি মাইক্রোপ্লাস্টিক কণা শনাক্ত হয়েছে। শিশুদের টুথপেস্টের মধ্যে কোডোমো আল্ট্রা শিল্ড ফর্মুলায় ১৪০টি, মেরিল বেবি স্ট্রবেরিতে ৬০টি, মেরিল বেবি অরেঞ্জে ৪০টি এবং পেপসোডেন্ট কিড অরেঞ্জে ২০টি প্লাস্টিক কণা পাওয়া গেছে। তবে গবেষণায় বাংলাদেশে উৎপাদিত জেনফ্রেশ, প্যারাসুট জাস্ট ফর বেবি (ম্যাঙ্গো) এবং ক্লোজ আপ রেড হট জিংক ফ্রেশ টেকনোলজিতে কোনো শনাক্তযোগ্য মাইক্রোপ্লাস্টিক পাওয়া যায়নি। এছাড়া শিশুদের জন্য আমদানি করা কোডোমো অরেঞ্জ টুথপেস্টেও মাইক্রোপ্লাস্টিকের উপস্থিতি শনাক্ত হয়নি বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
হামের উপসর্গে ২৪ ঘণ্টায় আরও ৪ মৃত্যু
হামের উপসর্গে ২৪ ঘণ্টায় আরও ৪ মৃত্যু দেশে ২৪ ঘণ্টায় হামের উপসর্গ নিয়ে আরো চার জনের মৃত্যুর তথ্য দিয়েছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। এরমধ্যে দুজন ময়মনসিংহ বিভাগের এবং একজন করে আছেন ঢাকা ও বরিশাল বিভাগের। অধিদপ্তরের হিসাবে, দেশে ১৫ মার্চ থেকে সংক্রামক এ ব্যাধির উপসর্গ নিয়ে ৭২৫ জনের মৃত্যু হলো। আর হামে আক্রান্ত হয়ে মারা গেছে ৯৫ জন। রোববার স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের বুলেটিনে বলা হয়, শনিবার সকাল ৮টা থেকে ২৪ ঘণ্টায় দেশে হাম শনাক্ত হয়েছে ১৭০ জনের শরীরে। দেশে হামের উপসর্গ নিয়ে এবছর সবচেয়ে বেশি ৩১৭ জন মারা গেছে ঢাকা বিভাগে। এর পরেই আছে সিলেট বিভাগ, সেখানে মারা গেছে ১০৬ জন। এছাড়া রাজশাহীতে ৯০, চট্টগ্রামে ৫৭, বরিশালে ৪৪, ময়মনসিংহে ৬৯, খুলনায় ৩২ ও রংপুর বিভাগে ১০ জন মারা গেছে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর বলেছে, গেল ২৪ ঘণ্টায় আরো ৯৯০ জন হামের উপসর্গ নিয়ে দেশের বিভিন্ন হাসপাতালে এসেছে। তাদের মধ্যে ভর্তি হয়েছে ৯৪১ জন। ঢাকা বিভাগে ভর্তি হয়েছেন ৩২২ জন, রাজশাহীতে ৩২, সিলেটে ৯৫, চট্টগ্রামে ২২০, বরিশালে ১৫৫, ময়মনসিংহে ৫৫, খুলনায় ৪১ ও রংপুরে ভর্তি হয়েছেন ২১ জন। এ নিয়ে সারা দেশের বিভিন্ন হাসপাতালে হাম রোগী ভর্তির সংখ্যা দাঁড়াল এক লাখ ছয় হাজার ২৩৯ জন। দেশে সন্দেহজনক হাম রোগীর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে এক লাখ ২৩ হাজার ৭৫৩। আর নিশ্চিত হাম রোগীর সংখ্যা ১৫ হাজার ৪৪২।
নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে ইসির প্রস্তুতি শুরু
নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে ইসির প্রস্তুতি শুরু রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিনের বিদায়ের পর নতুন রাষ্ট্রপ্রধান নির্বাচনের প্রক্রিয়া শুরু করতে যাচ্ছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। এ বিষয়ে শিগগির ভারপ্রাপ্ত স্পিকার কায়সার কামালের সঙ্গে বৈঠক করতে যাচ্ছেন প্রধান নির্বাচন কমিশনার এ এম এম নাসির উদ্দিন। গুরুতর অসুস্থততার কথা জানিয়ে শুক্রবার বিকালে রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন পদত্যাগ করেন। সংবিধান অনুযায়ী স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ পরবর্তী রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত না হওয়া পর্যন্ত দায়িত্ব পালন করবেন। আর সেই পর্যন্ত স্পিকারের দায়িত্ব সামলাবেন ডেপুটি স্পিকার কায়সার কায়সার কামাল। ইতোমধ্যে রাষ্ট্রপতির পদত্যাগ এবং ভারপ্রাপ্ত স্পিকারের দায়িত্ব পালন সংক্রান্ত গেজেট প্রকাশ হয়েছে। সপ্তাহের প্রথম কার্যদিবস রোববার অনানুষ্ঠানিক বৈঠক করেছে নির্বাচন কমিশন, তাতে রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের আইনি দিক পর্যালোচনা করা হয়। রাষ্ট্রপতি ভোটের প্রস্তুতির বিষয়ে জানতে চাইলে ইসি সচিব আখতার আহমেদ বলেন, “আমরা তো প্রস্তুতি শুরু করছি। “প্রথা অনুযায়ী এখন স্পিকারের (ভারপ্রাপ্ত স্পিকার কায়সার কামাল) সাথে সাক্ষাৎ করবেন সিইসি। ইসি সচিবালয় দু-একদিনের মধ্যে চিঠি দিয়ে সাক্ষাতের সূচি চাইবে। ভারপ্রাপ্ত স্পিকার যখন সময় দেবেন, তখনই এই বৈঠক হবে।” রাষ্ট্রপতির পদত্যাগের পরবর্তী ৯০ দিনের মধ্যে নির্বাচন করার সাংবিধানিক বাধ্যবাধকতা রয়েছে। সেক্ষেত্রে ২২ অক্টোবরের মধ্যে নির্বাচন করতে হবে। সংসদ সদস্যদের গোপন ব্যালটে রাষ্ট্রপতি নির্বাচন হয়। সেজন্য সংসদ সচিবালয় থেকে ভোটার তালিকা বা সংসদ সদস্যদের নাম ইসি সচিবালয়ে পাঠানো হবে। এরপর সার্বিক বিষয় পর্যালোচনা করে নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করা হবে। জাতীয় সংসদের আগামী অধিবেশনে নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হবেন বলে আশা প্রকাশ করেছেন আইনমন্ত্রী আসাদুজ্জামান। সংসদের বাজেট অধিবেশন ১৫ জুলাই শেষ হওয়ার কথা জানিয়ে শনিবার তিনি বলেন, “সংবিধানের ১২৩ এর (২) অনুচ্ছেদ অনুসারে পদত্যাগের মধ্যে ৯০ দিনের মধ্যে নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচন করতে হবে। যেহেতু ১৫ জুলাই থেকে ৬০ দিনের মধ্যে আমাদের পরবর্তী অধিবেশন হওয়ার কথা সাংবিধানিকভাবে; আশা করি, সেই অধিবেশনে এটা করা সম্ভব হবে।” ভারপ্রাপ্ত স্পিকারের সঙ্গে আলোচনা করে উপযুক্ত সময় বিবেচনা করে নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের তফসিল দেবে ইসি। গাজী নজরুলের বিষয়ে সংসদের চিঠি পায়নি ইসি এদিকে জামায়াতে ইসলামী থেকে বহিষ্কৃত সংসদ সদস্য গাজী নজরুল ইসলামের বিষয়ে সংসদের কোনো চিঠি পায়নি নির্বাচন কমিশন। ইসি সচিব আখতার আহমেদ রোববার বলেন, “দল থেকে বহিষ্কারের বিষয়ে জামায়াতের একটি চিঠি আমরা পেয়েছি। এখনও সংসদ সচিবালয় থেকে রেফার করে এ ধরনের কোনো পত্র ইসি সচিবালয়ে পৌঁছেনি।” ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনে জামায়াতে ইসলামীর দাঁড়িপাল্লা প্রতীকে সাতক্ষীরা-৪ (শ্যামনগর) আসন থেকে নির্বাচিত হন নজরুল ইসলাম। এর মধ্যে গেল ২০ জুলাই রাতে এক নারীর সঙ্গে তার অন্তরঙ্গ মুহূর্তের ভিডিও ফেইসবুকে ছড়িয়ে পড়ে। শুরুতে জামায়াতের নেতাকর্মীরা ভিডিওটি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) দিয়ে তৈরি বলে দাবি করেন। তবে সংসদ সদস্য নজরুল ইসলাম ফেইসবুক পোস্টে ওই নারীকে দ্বিতীয় স্ত্রী বলে দাবি করেন। উদ্ভূত পরিস্থিতিতে ২২ জুলাই তাকে বহিষ্কার করে জামায়াতে ইসলামী। পরদিন দলটি নিজেদের সিদ্ধান্তের কথা জানিয়ে স্পিকার ও নির্বাচন কমিশনকে চিঠি দেয়। জামায়াতে ইসলামী বহিষ্কার করলেও গাজী নজরুল ইসলামের এমপি পদ নিয়ে নির্বাচন কমিশনের করার কিছু নেই বলে জানিয়েছেন ইসি আব্দুর রহমানেল মাছউদ। এক প্রশ্নের জবাবে বৃহস্পতিবার তিনি বলেছেন, দল বহিষ্কার করলেও ইসির কিছু করার সুযোগ নেই। তবে দল থেকে স্বেচ্ছায় পদত্যাগ করলে সংসদ সদস্য পদ শূন্য হয়। ইসি মাছউদ বলেন, কেবল দলের বহিষ্কারের চিঠি দিয়ে এমপি পদ থাকা না থাকার আলোচনা একটি বিতর্কিত বিষয়। গাজী নজরুল ইসলামের পদ নিয়ে স্পিকার বা জাতীয় সংসদের তরফ থেকে কোনো আনুষ্ঠানিক ‘রেফারেন্স’ বা চিঠি পেলে আইন ও সংবিধান পর্যালোচনা করে ব্যবস্থা নেবে নির্বাচন কমিশন।
জৈন্তাপুরে ভাতিজার দায়ের কোপে আহত চাচার মৃত্যু
জৈন্তাপুরে ভাতিজার দায়ের কোপে আহত চাচার মৃত্যু সিলেটের জৈন্তাপুর উপজেলার চিকনাগুল ইউনিয়নের কাপনাকান্দি গ্রামে জমি-সংক্রান্ত দীর্ঘদিনের বিরোধের জের ধরে আপন ভাতিজার দায়ের কোপে গুরুতর আহত হওয়ার এক মাস পর মারা গেছেন মনোফর আলী (৭০)।  রোববার (২৬ জুলাই) সকাল ৮টার দিকে নিজ বাড়িতে তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন।  জানা যায়, গত ২৩ জুন বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে মনোফর আলীর মালিকানাধীন রাস্তার ওপর বেড়া দিয়ে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করা হয়। বিষয়টি নিয়ে প্রতিবাদ করতে গেলে তার আপন ভাতিজা রাহিম আলীর নেতৃত্বে কয়েকজন সংঘবদ্ধ হয়ে মনোফর আলীর বাড়ির উঠানে গিয়ে হামলা চালায়। হামলার একপর্যায়ে রাহিম আলী ধারালো দা দিয়ে মনোফর আলীর মাথায় কোপ দেন। এতে মনোফর আলী মাটিতে লুটিয়ে পড়লে প্রতিবেশীরা তাকে  উদ্ধার করে প্রথমে সিলেটের আখালিয়াস্থ মাউন্ট এডোরা হাসপাতালে ভর্তি করেন সেখানে ১৬ দিন চিকিৎসা শেষে। পরে সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়। দীর্ঘদিন চিকিৎসা চললেও অবস্থার উন্নতি না হওয়ায় চিকিৎসকদের পরামর্শে তাকে বাড়িতে নিয়ে আসা হয়। বাড়িতে চিকিৎসাধীন অবস্থায় রোববার সকালে তিনি মৃত্যুবরণ করেন। জৈন্তাপুর মডেল থানার ওসি (তদন্ত) আল আমিন বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, খবর পেয়ে পুলিশ মনোহর আলীর মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠিয়েছে। হামলার ঘটনায় নিহতের পুত্রবধূ মোছা. শিপা বেগম বাদী হয়ে জৈন্তাপুর মডেল থানায় মামলা দায়ের করেছেন বলেও জানান ওসি)। 
সান্তানকে সুপথে রাখতে অভিভাবককে নজরদারি বাড়াতে হবে: এমপি এমরান চৌধুরী
সান্তানকে সুপথে রাখতে অভিভাবককে নজরদারি বাড়াতে হবে: এমপি এমরান চৌধুরী সিলেট-৬ (গোলাপগঞ্জ-বিয়ানীবাজার) আসনের সংসদ সদস্য ও জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট এমরান আহমদ চৌধুরী বলেছেন, তথ্যপ্রযুক্তির উৎকর্ষতায় আমরা এগিয়ে যাচ্ছি ঠিকই, কিন্তু এর কিছু নেতিবাচক দিকও আছে। ইন্টারনেট ও স্মার্টফোনের সহজলভ্যতায় খারাপ জিনিসগুলোও আমাদের সন্তানদের সামনে আসছে। তারা কোমলমতি হওয়ায় ঠিক-বেঠিক সহজে বুঝে উঠতে পারছে না। অনেক সময়  অপ্রাপ্ত বয়স্ক ছেলে-মেয়েরা স্ক্যান্ডালে জড়িয়ে পড়ছে। তাই আমরা অভিভাবকদের নিজ সন্তানকে খেয়াল রাখতে হবে। পড়ালেখার পাশাপাশি খেলাধুলা, সুস্থ সংস্কৃতি ও ভালো কাজের প্রতি উৎসাহিত করতে হবে।    রোববার (২৬ জুলাই) দুপুরে খাড়াবরা সপ্তগ্রাম উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে ‘শিক্ষার মানউন্নয়ন ও নৈতিকতাসম্পন্ন ভবিষ্যৎ প্রজন্ম গঠনে সচেতন অভিভাবকই প্রধান শক্তি’ শীর্ষক এ অভিভাবক সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। বিয়ানীবাজার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা উম্মে হাবিবা মজুমদারের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন, থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) আবু জাফর মাহফুজুল কবির, সিলেট জেলা বিএনপির সহসভাপতি নজমুল হোসেন পুতুল, উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার মৌলুদুর রহমান, জেলা বিএনপির যুগ্ম-সম্পাদক ওলি চৌধুরী, উপজেলা বিএনপির সভাপতি অ্যাডভোকেট আহমদ রেজা ও ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক গিয়াস উদ্দিন এবং সিলেট মহানগর জাসাস নেতা শাহজাহান আহমদ। অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য রাখেন, বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মীর মোহাম্মদ, মারজানুল উলুম কাড়াবরা মাদরাসার নায়েবে মুহতামিম মাওলানা জামাল উদ্দিন, সাবেক ভাইস চেয়ারম্যান শাব্বির আহমদ, ৩নং ওয়ার্ড বিএনপির সভাপতি কয়ছর আহমদ, তরুণ সমাজসেবী ফুরকান আহমদ, কেএসপির পক্ষ থেকে দেলোয়ার হোসেন, উপজেলা যুবদলের আহবায়ক আব্দুল করিম তাজুল, সিনিয়র যুগ্ম-আহবায়ক দৌলা হোসেন সুভাষ, নুরুল কিবরিয়া, নুরুল আমিন, সাব্বির আহমদ, ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি হারুন রশিদ ও সহসাধারণ সম্পাদক মতিউর রহমান সানু প্রমুখ। শুরুতে মানপত্র পাঠ করেন দশম শ্রেণির ছাত্রী মাহমুদা আক্তার শীলা। শেষে এমপি এমরান আহমদ চৌধুরী খাড়াবরা কওমি মাদরাসা এবং স্থানীয় মাইয়াখালি পয়েন্ট ও জিরো পয়েন্টে চলমান উন্নয়ন কাজ পরিদর্শন করেন। পরে সিলেট জেলা বিএনপির উপদেষ্টা মরহুম আম্বিয়া চৌধুরীর কবর জিয়ারত করেন এমপি এমরান আহমদ চৌধুরী।
সোমবার হতে শুরু হচ্ছে হজের প্রাথমিক নিবন্ধন
সোমবার হতে শুরু হচ্ছে হজের প্রাথমিক নিবন্ধন এ বছরের ২৭ জুলাই হতে শুরু হচ্ছে ২০২৭ সালের হজের প্রাথমিক নিবন্ধন। ২৪ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত চলবে এ নিবন্ধন কার্যক্রম।  এ সময়ের মধ্যেই হজে গমনেচ্ছু ব্যক্তিদেরকে প্রাথমিক নিবন্ধন সম্পন্ন করতে হবে। ই-হজ সিস্টেমের মাধ্যমে যে কেউ নিবন্ধন করতে পারবেন। অর্থ পরিশোধ করে চূড়ান্ত নিবন্ধন করতে হবে। সৌদি হজ ও ওমরাহ মন্ত্রণালয় কর্তৃক ঘোষিত হজ কার্যক্রমের রোডম্যাপ অনুযায়ী এই সময়সূচি ঘোষণা করেছে ধর্ম বিষয়ক মন্ত্রণালয়। হজে গমনেচ্ছু ব্যক্তিদের অবশ্যই মেয়াদ সম্বলিত পাসপোর্ট থাকতে হবে। জটিল রোগে আক্রান্ত বা শারীরিকভাবে ঝুঁকিপূর্ণ ব্যক্তিরা হজে যেতে পারবেন না। নিবন্ধনের জন্য প্রয়োজনীয় অর্থ: সাড়ে তিন লক্ষ টাকা জমা দিয়ে সরকারি ও বেসরকারি যেকোনো মাধ্যমে হজের প্রাথমিক নিবন্ধন করা যাবে। প্রাথমিক নিবন্ধিত ব্যক্তিদেরকে চলতি বছরের ১০ ডিসেম্বরের মধ্যে প্যাকেজ মূল্যের অবশিষ্ট অর্থ পরিশোধ করে চূড়ান্ত নিবন্ধন করতে হবে। প্রাথমিক নিবন্ধনের পূর্বে হজযাত্রীদের আবশ্যিকভাবে ৩০ হাজার টাকা দিয়ে প্রাক-নিবন্ধন করতে হবে। যে সকল স্থানে নিবন্ধন করা যাবে:  সরকারি মাধ্যমে ই-হজ সিস্টেমে (যধলল.মড়া.নফ) ইউজার তৈরি করে যে কেউ নিজেই নিবন্ধন করতে পারবে। এছাড়া, ইউনিয়ন ডিজিটাল সেন্টার, ইসলামিক ফাউন্ডেশনের বিভাগীয় ও জেলা কার্যালয়, জেলা ও উপজেলা মডেল মসজিদ, ইসলামিক ফাউন্ডেশনের বায়তুল মোকাররম অফিস ও ঢাকা হজ অফিসে হজের নিবন্ধন করা যাবে।  সরকারি মাধ্যমে হজে গমনেচ্ছু ব্যক্তিদেরকে সোনালী ব্যাংকের যেকোনো শাখায় ভাউচারের মাধ্যমে টাকা জমা দিয়ে প্রাথমিক নিবন্ধন করতে হবে।  তবে, বেসরকারি মাধ্যমের হজযাত্রীদেরকে হজ কার্যক্রম সংশ্লিষ্ট ব্যাংকে এজেন্সির নির্ধারিত হিসাবে টাকা জমা দিতে হবে। এজেন্সির ব্যাংক হিসাবের তথ্য হজ পোর্টালে সংশ্লিষ্ট এজেন্সির প্রোফাইলে পাওয়া যাবে।   যে সকল ব্যক্তি হজে যেতে পারবে না: ১৫ বছরের কম বয়সী কেউ হজে যেতে পারবে না। এছাড়া, দুরারোগ্য ব্যাধি যেমন: হৃদযন্ত্র, ফুসফুস, লিভার বা কিডনি রোগ, স্নায়ুবিক বা মানসিক ব্যাধিতে আক্রান্ত ও ডিমনেশিয়া রোগী, কেমোথেরাপি বা বায়োলজিক্যাল থেরাপি বা রেডিওথেরাপি নিচ্ছেনÑ এমন ক্যান্সার আক্রান্ত রোগী হজে যেতে পারবে না।  এছাড়া, জনস্বাস্থ্যের ওপর প্রভাব ফেলে এমন সক্রিয় সংক্রামক রোগ যেমন- যক্ষ্মা ও হেমোরেজিক ফিভারে আক্রান্ত ব্যক্তি হজে যেতে পারবে না। গর্ভাবস্থার শেষ দুই মাস ও ঝুঁকিপূর্ণ গর্ভাবস্থায় কোনো মহিলা হজযাত্রী ফিটনেস সনদ পাবে না। উল্লেখ্য, প্রাথমিক নিবন্ধনের সময় হজযাত্রীদেরকে আবশ্যিকভাবে প্রশিক্ষণ ও টিকা গ্রহণের জেলা, হজের ধরণ ও হজ প্যাকেজ নির্বাচন করতে হবে।  এছাড়া, ২০২৭ সালের ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত মেয়াদ সম্বলিত পাসপোর্ট প্রয়োজন হবে।
মুক্তাদির-আরিফসহ ১৮ মন্ত্রীর পুলিশ এসকর্ট প্রত্যাহার
মুক্তাদির-আরিফসহ ১৮ মন্ত্রীর পুলিশ এসকর্ট প্রত্যাহার মন্ত্রিসভার ১৮ সদস্যের জন্য দেওয়া পুলিশের বিশেষ প্রোটেকশন এসকর্ট প্রত্যাহার করেছে সরকার। এই তালিকায় রয়েছেন সিলেট থেকে নির্বাচিত দুজন সংসদ সদস্য- বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির এবং প্রবাসীকল্যানমন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরীও। তবে দায়িত্বের গুরুত্ব বিবেচনায় ৬ জ্যেষ্ঠ মন্ত্রী ও প্রধানমন্ত্রীর এক উপদেষ্টার ক্ষেত্রে এই সুবিধা বহাল রাখা হয়েছে। রাষ্ট্রীয় ব্যয় সংকোচন, জ্বালানি সাশ্রয় এবং পুলিশের জনবল ও যানবাহনের সংকট বিবেচনায় এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। গত সপ্তাহে প্রধানমন্ত্রীও নিজের নিরাপত্তা বহরের আকার ছোট করার সিদ্ধান্ত নেন। একাধিক মন্ত্রীর ব্যক্তিগত কর্মকর্তা এবং ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন। তারা জানিয়েছেন, গত সপ্তাহ থেকে ধাপে ধাপে এই সিদ্ধান্ত কার্যকর করা হয়েছে। জানতে চাইলে পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের একজন কর্মকর্তা বলেন, গত সপ্তাহে সরকার মন্ত্রিসভার অনেক সদস্যের পুলিশের বিশেষ প্রোটেকশন এসকর্ট প্রত্যাহার করার আদেশ জারি করেছে। আদেশ জারির দিন থেকেই এই সিদ্ধান্ত কার্যকর করা হয়েছে। এখন মন্ত্রীর শুধু গানম্যান রয়েছে। সরকারি সূত্র জানায়, বর্তমান সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকেই ঢাকায় চলাচলের সময় অধিকাংশ মন্ত্রী পুলিশের বিশেষ প্রোটেকশন এসকর্ট পেয়ে আসছিলেন। বর্তমানে মন্ত্রিসভায় ২৪ জন পূর্ণমন্ত্রী রয়েছেন। এসকর্ট প্রত্যাহার করা হলেও সরকারি বিধি অনুযায়ী সংশ্লিষ্ট মন্ত্রীরা আগের মতোই গানম্যান, হাউস গার্ড এবং ঢাকার বাইরে সফরকালে বিশেষ পুলিশি নিরাপত্তা পাবেন। সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনার পর স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ভিআইপি নিরাপত্তা ব্যবস্থায় ব্যয় কমানোর বিষয়ে পুলিশ সদর দপ্তরকে নির্দেশ দেয়। পাশাপাশি দীর্ঘদিনের জনবল ও যানবাহনের সংকটও এই সিদ্ধান্তের পেছনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে। একজন মন্ত্রীর এসকর্ট দলে সাধারণত একজন উপপরিদর্শক (এসআই) ও চারজন কনস্টেবল থাকেন। তাদের জন্য একটি পুলিশ পিকআপ ভ্যান বরাদ্দ থাকে এবং সদস্যদের বেতন-ভাতা ও যানবাহনের জ্বালানি ব্যয় সরকারি কোষাগার থেকে বহন করা হয়। যেসব মন্ত্রী এখনো পুলিশের প্রোটেকশন এসকর্ট পাচ্ছেন তারা হলেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, অর্থ ও পরিকল্পনা মন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ, বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ, মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রী ডা. আবু জাফর মো. জাহিদ হোসেন, পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান এবং প্রধানমন্ত্রীর অর্থ ও পরিকল্পনা বিষয়ক উপদেষ্টা ড. রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর। অন্যদিকে ধর্মমন্ত্রী কাজী শাহ মোফাজ্জল হোসাইন কায়কোবাদ, পরিবেশ, বন ও জলবায়ু বিষয়ক মন্ত্রী আবদুল আউয়াল মিন্টু, মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রী আহমেদ আযম খান, সংস্কৃতিমন্ত্রী নিতাই রায় চৌধুরী, ভূমিমন্ত্রী মিজানুর রহমান মিনু, বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রী আফরোজা খানম, শিল্প, বস্ত্র, পাট ও বাণিজ্য মন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির, শ্রম ও কর্মসংস্থান এবং প্রবাসীকল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রী আরিফুল হক, তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন, কৃষি, মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রী মোহাম্মদ আমিন উর রশিদ, পানিসম্পদমন্ত্রী মো. শহীদ উদ্দীন চৌধুরী অ্যানি, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রী আসাদুল হাবিব দুলু, আইন, বিচার ও সংসদবিষয়ক মন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান, গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রী জাকারিয়া তাহের, শিক্ষা, প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন, স্বাস্থ্য ও পরিবারকল্যাণ মন্ত্রী সরদার সাখাওয়াত হোসেন, ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রী ফকির মাহবুব আনাম এবং সড়ক পরিবহন, সেতু, রেলপথ ও নৌপরিবহন মন্ত্রী শেখ রবিউল আলমের এসকর্ট প্রত্যাহার করা হয়েছে। ডিএমপির তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে শুধু ঢাকাতেই ৪৯ জন মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রীসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তির নিরাপত্তায় ১ হাজার ৬৯১ জন পুলিশ সদস্য দায়িত্ব পালন করছেন। অথচ প্রয়োজন ২ হাজার ৫৭৫ জন। অর্থাৎ, প্রায় ৯০০ সদস্যের ঘাটতি রয়েছে। এই ঘাটতির কারণে দায়িত্বে থাকা সদস্যদের অতিরিক্ত সময় কাজ করতে হচ্ছে এবং তাদের ওপর শারীরিক ও মানসিক চাপ বাড়ছে। পুলিশ কর্মকর্তারা জানান, জনবল সংকটের পাশাপাশি যানবাহনের অভাবও পরিস্থিতিকে জটিল করে তুলেছে। ২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টের আন্দোলনের সময় বিভিন্ন থানা ও পুলিশ স্থাপনায় হামলায় প্রোটেকশন ইউনিটের বেশ কয়েকটি গাড়ি পুড়ে যায়। ফলে বর্তমানে একটি গাড়ি দিয়ে একাধিক ভিআইপির নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হচ্ছে। এ অবস্থায় সীমিত জনবল ও যানবাহন দিয়েই দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে পুলিশকে হিমশিম খেতে হচ্ছে।
কানাইঘাট যুবকের ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার
কানাইঘাট যুবকের ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার সিলেটের কানাইঘাট উপজেলার লক্ষীপ্রসাদ পূর্ব ইউনিয়নের মিকিরপাড়া গ্রামে একটি গাছের মগডাল থেকে সৈয়দ আহমদ (শারীফ) (২২) নামের এক যুবকের ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ।   ওই যুবক উপজেলার লক্ষীপ্রসাদ পূর্ব ইউনিয়নের মিকিরপাড়া গ্রামের মৃত কুটু মনির ছেলে। রোববার (২৬ জুলাই) সকালে উপজেলার মিকিরপাড়া গ্রামের একটি গাছের ডালে ঝুলে থাকা অবস্থায় তার মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। পুলিশ ও স্থানীয়রা জানান, রোববার সকালে শারীফের মা বাড়ির পাশের একটি গাছের মগডালে গলায় রশি পেঁচানো অবস্থায় ছেলেকে ঝুলতে দেখেন। পরে তিনি বিষয়টি স্থানীয় ইউপি সদস্য নাজিম উদ্দিনকে জানান। খবর পেয়ে কানাইঘাট থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে স্থানীয়দের সহযোগিতায় গাছের মগডাল থেকে মরদেহটি উদ্ধার করে। কানাইঘাট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আমিনুল ইসলাম বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, মিকিরপাড়া গ্রামের একটি গাছের মগডাল থেকে এক যুবকের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। প্রাথমিকভাবে এটি আত্মহত্যার ঘটনা বলে ধারণা করা হচ্ছে। তবে ময়না তদন্তের রিপোর্ট পাওয়ার পর মৃত্যুর প্রকৃত কারণ জানা যাবে।