সংবাদ বিজ্ঞপ্তি

সিলেট কালেক্টরেট জামে মসজিদ মার্কেট ২ ও ৪ নম্বর দোকানে ব্যাবসায় বাধা না দিতে হাইকোর্টের নিষেধাজ্ঞা

Icon
সংবাদ বিজ্ঞপ্তি

০৫ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬

সিলেট কালেক্টরেট জামে মসজিদ মার্কেট ২ ও ৪ নম্বর দোকানে ব্যাবসায় বাধা না দিতে হাইকোর্টের নিষেধাজ্ঞা

সিলেট কালেক্টরেট জামে মসজিদ ট্রাস্টের নিয়ন্ত্রণাধীন কালেক্টরেট জামে মসজিদ মার্কেটের ২ নম্বর ও ৪ নম্বর দোকানে নির্বিঘ্নে ও শান্তিপূর্ণভাবে ব্যবসা পরিচালনা নিশ্চিত করতে সিলেটের জেলা প্রশাসনকে নির্দেশ দিয়েছেন মহামান্য সুপ্রিম কোর্টের হাইকোর্ট বিভাগ। একই সাথে এ ব্যবসা প্রতিষ্ঠান দুটির মালিকপক্ষকে ব্যবসা পরিচালনায় কোনো প্রকার বাধা-নিষেধ প্রদান বা উচ্ছেদের চেষ্টা না করতে সিলেটের জেলা প্রশাসনকে তিন মাসের জন্য বারিত করে অন্তর্র্বতীকালীন আদেশসহ অস্থায়ী নিষেধাজ্ঞা প্রদান করা হয়েছে।

মহামান্য হাইকোর্ট বিভাগের বিচারপতি আহমেদ সোহেল এবং বিচারপতি এস. এম. ইফতেখার উদ্দিন মাহমুদ-এর সমন্বয়ে গঠিত দ্বৈত বেঞ্চ কর্তৃক গত ১৮ আগস্ট ২০২৬ তারিখে রিট পিটিশন নম্বর ৩৫৫০/২০২৬ এবং রিট পিটিশন নম্বর ৩৫৫১/২০২৬-এর পৃথক দুটি আদেশে এই নির্দেশনা প্রদান করা হয়।

মামলার বিবরণ ও নথিপত্র পর্যালোচনা করে জানা যায়, সিলেট কালেক্টরেট জামে মসজিদ ট্রাস্টের ট্রাস্টি বোর্ড কর্তৃক বিগত ২৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ তারিখে অনুষ্ঠিত সভায় দোকান বরাদ্দের চুক্তিপত্র দলিল বাতিলের সিদ্ধান্ত এবং উক্ত সিদ্ধান্তের পরিপ্রেক্ষিতে সিলেটের জেলা প্রশাসক ও কালেক্টরেট জামে মসজিদ ট্রাস্টের চেয়ারম্যানের জারিকৃত জেনারেল আদেশ অনুযায়ী রেসপন্ডেন্ট নং ৫ (নেজারত, ডেপুটি কালেক্টর ও ট্রাস্টি বোর্ডের কোষাধ্যক্ষ) স্মারক নং ঈ:কঅ:ঔঅ:গ০:/২০২২/১৩, তারিখ ১০ মার্চ ২০২৬ মূলে পিটিশনারদের দোকান উচ্ছেদ করা এবং দখল হস্তান্তরের নির্দেশ দিয়ে নোটিশ জারি করেন।

এ নোটিশের আইনি বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে ২ নম্বর দোকানের পজেশন গ্রহিতা জামিল চৌধুরী রিট পিটিশন নং ৩৫৫০/২০২৬ দাখিল করেন। অন্যদিকে ৪ নম্বর দোকানের পজেশন গ্রহিতা মোহাম্মদ আলী হোসেন রিট পিটিশন নং ৩৫৫১/২০২৬ দাখিল করেন। উভয় পিটিশনে ভূমি মন্ত্রণালয়ের সচিব (রেসপন্ডেন্ট নং ১), স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের সচিব (রেসপন্ডেন্ট নং ২), সিলেটের জেলা প্রশাসক, কালেক্টর ও ট্রাস্টি বোর্ডের চেয়ারম্যান (রেসপন্ডেন্ট নং ৩), র‍্যাব সিলেটের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রেসপন্ডেন্ট নং ৪) এবং নজরথ ডেপুটি কালেক্টর ও ট্রাস্টি বোর্ডের কোষাধ্যক্ষকে (রেসপন্ডেন্ট নং ৫) রেসপন্ডেন্ট করা হয়।

গত ০৮ এপ্রিল ২০২৬ তারিখে মহামান্য হাইকোর্ট বিভাগ প্রাথমিক শুনানি শেষে রুল ও স্থগিতাদেশ (জঁষব ধহফ ঝঃধু ঙৎফবৎ) জারি করেন। কিন্তু উক্ত আদেশ সত্ত্বেও জেলা প্রশাসন তা না মানায় এবং ব্যবসা পরিচালনায় বিঘ্ন সৃষ্টি করায় পিটিশনারগণ আদালতে পৃথক অন্তর্র্বতীকালীন নিষেধাজ্ঞার (ওহলঁহপঃরড়হ) আবেদন করেন।

আদালতে বাদী-পিটিশনারপক্ষে শুনানিতে অংশ নেন জ্যেষ্ঠ আইনজীবী ব্যারিস্টার মাহবুব উদ্দিন খোকন এবং ড. এম খালেদ আহমেদ। আবেদনগুলোর ওপর শুনানিকালে পিটিশনারপক্ষের বিজ্ঞ আইনজীবীরা শুনানি করেন। রেসপন্ডেন্টদের বিজ্ঞ আইনজীবীকে আবেদনের অনুলিপি সরবরাহ করা হলেও তারা আবেদনের কোনো বিরোধিতা করেননি।

শুনানিতে ব্যারিস্টার মাহবুব উদ্দিন খোকন যুক্তি উপস্থাপন করে বলেন, ২৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ তারিখের ট্রাস্টি বোর্ডের সিদ্ধান্তের পর পিটিশনারদের দোকান হস্তান্তরের নির্দেশ দেওয়া হয় এবং বেআইনিভাবে উচ্ছেদের চেষ্টা করা হচ্ছে। কিন্তু উচ্ছেদের পূর্বে পিটিশনারদের কোনো প্রকার কারণ দর্শানোর নোটিশ (ঝযড়ি ঈধঁংব ঘড়ঃরপব) দেওয়া হয়নি, যা প্রাকৃতিক বিচারনীতির (চৎরহপরঢ়ষব ড়ভ ঘধঃঁৎধষ ঔঁংঃরপব) সম্পূর্ণ পরিপন্থী। তিনি জানান, পিটিশনারগণ এখনও সংশ্লিষ্ট দোকানগুলোর বৈধ দখলে রয়েছেন এবং নিয়মিতভাবে দোকান ভাড়া পরিশোধ করে আসছেন।

তিনি আরও জানান, গত ০৮ এপ্রিল ২০২৬ তারিখে রুল ও স্থগিতাদেশ জারির পর আইনজীবী মারফত ০৯ এপ্রিল ২০২৬ তারিখে এবং সুপ্রিম কোর্টের সার্টিফাইড কপি ১৩ এপ্রিল ২০২৬ তারিখে রেসপন্ডেন্ট নং ১-এর কার্যালয়ে পৌঁছানো হয়, যা তারা গ্রহণ করেন। অর্থাৎ সংশ্লিষ্ট রেসপন্ডেন্টগণ আদালতের নির্দেশ সম্পর্কে সম্পূর্ণ রূপ অবগত ছিলেন। তবুও তারা বেআইনিভাবে পিটিশনারদের ব্যবসায় বাধা সৃষ্টি করেন এবং দোকান মালিকদের অনুপস্থিতিতে দোকানে তালা লাগিয়ে দেন। এই পরিস্থিতিতে আদালতের নিষেধাজ্ঞার আদেশ ছাড়া পিটিশনারদের শান্তিপূর্ণ দখল ও ব্যবসা রক্ষা করার আর কোনো কার্যকর উপায় ছিল না।

আদালতের বক্তব্য ও পেশকৃত নথিপত্র বিবেচনায় এনে মহামান্য হাইকোর্ট বিভাগ পিটিশনারদের আবেদন মঞ্জুর করেন এবং ৩ থেকে ৫ নম্বর রেসপন্ডেন্টদের নির্দেশ দেন যেন সিলেট কালেক্টরেট মসজিদ মার্কেটের ২ ও ৪ নম্বর দোকানের শান্তিপূর্ণ দখলে কোনো বিঘ্ন সৃষ্টি না করা হয়। আদালতের এই স্থগিতাদেশ ও নিষেধাজ্ঞা ১৮ আগস্ট ২০২৬ তারিখ থেকে পরবর্তী ৩ (তিন) মাসের জন্য কার্যকর থাকবে বলে আদেশে উল্লেখ করা হয়েছে।

এদিকে মামলা সংক্রান্ত বিষয়ে বাদী-পিটিশনারপক্ষের আইনজীবীরা মতামত প্রকাশ করে জানান, সিলেট কালেক্টরেট জামে মসজিদ ট্রাস্টের সভাপতি ও সিলেটের জেলা প্রশাসক একজন অত্যন্ত দক্ষ ও দূরদর্শী প্রশাসক। সিলেটে যোগদানের পরপরই তিনি বিভিন্ন ক্ষেত্রে ত্বরিত ও ন্যায়সংগত পদক্ষেপ গ্রহণ করে প্রশংসা কুড়িয়েছেন। বাদীপক্ষ পূর্ণ আশাবাদী যে, তিনি আইনের প্রতি শ্রদ্ধা রেখে মহামান্য সুপ্রিম কোর্টের হাইকোর্ট বিভাগের এই আদেশ যথাযথভাবে প্রতিপালন ও বাস্তবায়ন করবেন এবং সকল প্রতিবন্ধকতা অপসারণ করে তাদেরকে নির্বিঘ্নে ব্যবসা পরিচালনার সুযোগ করে দেবেন।