সিলেট

মধ্যরাতে ঢাকার রাস্তায় মোটরসাইকেলের অচেতন সেই তরুণীর বাড়ি সিলেটে!

Icon
সচিত্র সিলেট রিপোর্টার :

২৮ই আগস্ট, ২০২৬

মধ্যরাতে ঢাকার রাস্তায় মোটরসাইকেলের অচেতন সেই তরুণীর বাড়ি সিলেটে!

রাজধানী ঢাকার আব্দুল্লাহপুর-টঙ্গী সড়কে মধ্যরাতে দুই যুবক মোটরসাইকেলে করে অচেতন অবস্থায় নিয়ে যাওয়া তরুণীর বাড়ির সিলেট বিভাগের সুনামগঞ্জ জেলার ছাতকে। খবর ‘কালবেলা’র।

ওই তরুণীকে নিথর অবস্থায় নিয়ে যাওয়ার ঘটনার ‘রহস্য উন্মোচিত’ হয়েছে অবশেষে। শুক্রবার (২৮ আগস্ট) বিকেলে শেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত ওই তরুণী সুস্থ আছেন।

বুধবার (২৬ আগস্ট) দিবাগত রাত আনুমানিক ৩টা ১৫ থেকে ৩টা ২০ মিনিটের দিকে একটি বাইকের তিন আরোহীকে ঢাকার রাস্তায় দেখা যায়। ওমরাহ সফর শেষ করে বগুড়ায় ফেরার পথে মুফতি মনোয়ার হোসেন নামে এক ব্যক্তি আব্দুল্লাহপুর থেকে টঙ্গী পর্যন্ত একটি মোটরসাইকেলকে অনুসরণ করেন।

তিনি দেখতে পান, মোটরসাইকেল চালকের পেছনে বসা এক যুবক এক তরুণীকে জাপটে ধরে রেখেছেন। তরুণীটির পা দুটি খালি ছিল এবং অস্বাভাবিকভাবে নিথর হয়ে ঝুলছিল।

প্রত্যক্ষদর্শীর বর্ণনা অনুযায়ী, ‘জাগ্রত বা জীবন্ত মানুষের এমনভাবে পা ঝোলার কথা না।’ এতে মেয়েটি মৃত নাকি অচেতন ছিলেন, তা নিয়ে তার মধ্যে গভীর সন্দেহ তৈরি হয়।

পরবর্তীতে জানা যায়, সে রাতের তরুণীকে বহনকারী সেই মোটরসাইকেলটির মালিকের বাড়ি কেরানীগঞ্জের আব্দুল্লাহপুরে। পাশাপাশি দুটি মোবাইল নম্বর পাওয়া গেছে। এর একটির শেষ তিন সংখ্যা ১৫২। নম্বরটি এক শোরুম মালিকের। তবে তিনি দাবি করেছেন- ওই মোটরসাইকেলটি তার শোরুম থেকে বিক্রি হয়নি এবং কীভাবে তার নম্বর সেখানে গেল, তা তিনি জানেন না। অন্য একটি নম্বর বন্ধ পাওয়া যায়।

মোটরসাইকেল মালিকের বাড়ি আব্দুল্লাহপুর হলেও যিনি চালকের আসনে ছিলেন তার বাড়ি রাজেন্দ্রপুর। তার নামের শেষাংশে ‘আলম’ আছে।

বাইকে থাকা তরুণীর বড়বোনের স্বামী জানিয়েছেন, ‘মিতু (ছদ্মনাম) কখনো ড্রিংকস করেনি। সেদিন আমরা স্বামী-বউ ঝগড়া করছিলাম। এটা দেখে ও রাগ কর চলে যায়। তারপর হয়তো ড্রিংকস করে। এরপর অসুস্থ হয়ে পড়লে ছেলেগুলো বাসায় দিয়ে যায়।

তবে ওই তরণী মদ্যপ অবস্থায় ছিলেন বলে জানিয়েছেন তার বড় বোন। এই তরুণী আগে দুটি বিয়ে করেছেন বলেও জানা গেছে। 

তার বড় বোনের স্বামী দাবি করেন- বারে অসুস্থ হওয়ার পর আলম নামে একজন ও তার বন্ধু মেয়েটিকে নিয়ে টঙ্গীতে তার বাসায় আসার চেষ্টা করেন। কিন্তু এই অবস্থায় টঙ্গীতে না গিয়ে তারা মিরপুর ফিরে যান। সেখানে এক বান্ধবীর বাসায় তাকে রেখে বোনকে ফোন দেন আলম।

ওই তরুণীর বোন বলেন, ‘ওর কিছুদিন আগে ডিভোর্স হয়েছে। তাই আমার কাছে এনে রেখেছি। সেদিন রাগ করে চলে যায়। ওর দুলাভাই আমার গায়ে হাত তুলেছিল। এটা ও মানতে পারেনি। এরপর বারে অসুস্থ হওয়ার পর আলম আর তার বন্ধু ওকে নিয়ে টঙ্গীতে আমার বাসায় আসার চেষ্টা করে। কিন্তু এই অবস্থায় টঙ্গীতে না গিয়ে তারা মিরপুর চলে যায়। সেখানে এক বান্ধবীর বাসায় রেখে আমাকে ফোন দেয়।’