জীবন

তরুণদের মধ্যে বাড়ছে ক্যানসার ঝুঁকি

Icon
জীবন ডেস্ক

১৯ই আগস্ট, ২০২৬

তরুণদের মধ্যে বাড়ছে ক্যানসার ঝুঁকি

ক্যানসার সাধারণত বেশি বয়সের মানুষের রোগ হিসেবে পরিচিত। তবে ৩০ বা ৪০-এর কোঠার শুরুতেই ক্যানসার ধরা পড়ার ঘটনা এখন আর চিকিৎসকদের কাছে একেবারে অস্বাভাবিক নয়। 

অনকোলজিস্টরা বলেন, তরুণদের মধ্যে ক্যানসারের প্রতিটি ঘটনাকে নতুন কোনো প্রবণতা হিসেবে দেখা উচিত নয়। এর পেছনে জীবনযাত্রার পরিবর্তন, ঝুঁকির কারণ, সচেতনতা এবং দ্রুত রোগ শনাক্ত হওয়ার মতো একাধিক বিষয় কাজ করছে। তবে ৩০-এর কোঠায় কারও ক্যানসার হলে শুধু বয়সের দিকে না তাকিয়ে ওই ব্যক্তির ক্যানসারের ঝুঁকি কেন তৈরি হয়েছে, তা খুঁজে দেখা প্রয়োজন।

কেন তরুণদের মধ্যে ক্যানসারের ঝুঁকি বাড়ছে?

ক্যানসারের পেছনে একটি নির্দিষ্ট কারণ থাকে না।  চিকিৎসকদের মতে, অতিরিক্ত ওজন ও বিপাকীয় সমস্যা ক্যানসারের ঝুঁকি বাড়াতে পারে। স্থির জীবনযাপন, অস্বাস্থ্যকর খাবার এবং নিয়মিত শরীরচর্চার অভাবও পরোক্ষভাবে ঝুঁকি বাড়াতে পারে। এর সঙ্গে স্থূলতা, ইনসুলিনের ভারসাম্যহীনতা ও শরীরে দীর্ঘস্থায়ী প্রদাহের সম্পর্ক রয়েছে।

তামাকও বড় একটি ঝুঁকি।  ধূমপান ও জর্দা-গুলসহ বিভিন্ন ধরনের ধোঁয়াবিহীন তামাক ব্যবহারের কারণে মুখ, জিহ্বা, গলা ও ফুসফুসের ক্যানসারের ঝুঁকি বাড়ছে। ১৫ থেকে ৩৯ বছর বয়সি পুরুষদের মধ্যেও মুখ ও জিহ্বার ক্যানসার উল্লেখযোগ্যভাবে দেখা যায়।

এ ছাড়া অতিরিক্ত অ্যালকোহল গ্রহণ, পরিবেশ ও কর্মক্ষেত্রে ক্ষতিকর পদার্থের সংস্পর্শ, পরিবারের ক্যানসারের ইতিহাস এবং বংশগত কিছু কারণ ব্যক্তির ঝুঁকি বাড়াতে পারে।

তবে শুধু জীবনযাপনকে দায়ী করাও ঠিক নয়। অনেক তরুণের ক্যানসার হয়, যাদের মধ্যে এসব পরিচিত ঝুঁকির কোনোটি দেখা যায় না।

তরুণদের মধ্যে কোন ক্যানসার বেশি দেখা যায়?

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তরুণদের ক্যানসার নিয়ে আলোচনা হলে কোলোরেক্টাল বা অন্ত্রের ক্যানসার বেশি গুরুত্ব পায়। 

চিকিৎসকদের মতে, তরুণদের মধ্যে স্তন, থাইরয়েড, মুখ ও জিহ্বার ক্যানসার উল্লেখযোগ্য। ২০২২ সালের তথ্য অনুযায়ী, ১৫ থেকে ৩৯ বছর বয়সী নারীদের মধ্যে শনাক্ত ক্যানসারের ২৭.৩ শতাংশ ছিল স্তন ক্যানসার। একই বয়সি পুরুষদের মধ্যে মুখের ক্যানসার ছিল প্রায় ১২ শতাংশ।

তাই অনলাইনে কোনো একটি ক্যানসার নিয়ে বেশি আলোচনা হচ্ছে বলেই সেটি তরুণদের মধ্যে সবচেয়ে বেশি দেখা যাচ্ছে—এমন ধারণা সঠিক নাও হতে পারে।

কোন লক্ষণগুলো অবহেলা করা উচিত নয়?

শরীরে কোনো সন্দেহজনক গাঁট, অকারণে রক্তপাত, দীর্ঘদিন মলত্যাগের অভ্যাসে পরিবর্তন, কারণ ছাড়াই ওজন কমে যাওয়া, দীর্ঘস্থায়ী কাশি বা মুখের কোনো ক্ষত দীর্ঘদিনেও না শুকালে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া জরুরি।

তবে এর অর্থ এই নয় যে এসব লক্ষণ দেখা দিলেই ক্যানসার হয়েছে। বরং দীর্ঘদিন ধরে কোনো অস্বাভাবিক পরিবর্তন থাকলে তার কারণ খুঁজে বের করাই গুরুত্বপূর্ণ।

৩০-এর কোঠায় ক্যানসার কীভাবে প্রতিরোধ করবেন?

চিকিৎসকদের মতে, ক্যানসার নিয়ে আতঙ্কিত হওয়ার বদলে যেসব ঝুঁকি কমানো সম্ভব, সেগুলোর দিকে নজর দেওয়া উচিত। যেমন—

১.তামাক সম্পূর্ণ এড়িয়ে চলা

২. অ্যালকোহল কমানো বা এড়িয়ে চলা

৩. স্বাস্থ্যকর ওজন বজায় রাখা

৪. নিয়মিত শরীরচর্চা করা

৫. সুষম খাবার খাওয়া

৬. পরিবারের ক্যানসারের ইতিহাস সম্পর্কে জানা।

ক্যানসারের পরীক্ষা বা স্ক্রিনিং অবশ্যই বয়স ও ব্যক্তিগত ঝুঁকি অনুযায়ী হওয়া উচিত।  পরিবারের ঘনিষ্ঠ সদস্যদের মধ্যে ক্যানসারের ইতিহাস থাকলে বা বংশগত ঝুঁকি জানা থাকলে চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী আগেই স্ক্রিনিংয়ের প্রয়োজন হতে পারে।

বিশেষজ্ঞের মতে, ক্যানসার প্রতিরোধের প্রস্তুতি মধ্যবয়সে পৌঁছানোর পর নয়, তার অনেক আগেই শুরু করা উচিত।  উদ্দেশ্য ক্যানসার নিয়ে ভয় তৈরি করা নয়; বরং সতর্কতার সঙ্গে লক্ষণগুলো চেনা এবং প্রয়োজন হলে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া।

সূত্র: হিন্দুস্তান টাইমস

 

আপলোড : আব্দুল খালিক