মতামত
২৬ই আগস্ট, ২০২৬
রেমা-কালেঙ্গা ও সাতছড়ি জাতীয় উদ্যানের প্রাকৃতিক বনাঞ্চল শুধু হবিগঞ্জের ভৌগোলিক সম্পদ ভাবলে ভুল হবে। এটি দেশের জীববৈচিত্র্য ও পরিবেশগত ভারসাম্যের এক অনন্য স্থান। পরিতাপের বিষয়, ক্ষমতার পটপরিবর্তন হলেও এ সংরক্ষিত বনের গাছ চুরি ও সিন্ডিকেটের রাজত্ব এখনো থামেনি। সোমবার যুগান্তরের খবরে প্রকাশ-রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে আওয়ামী লীগ ও বিএনপির স্থানীয় নেতাদের যৌথ সিন্ডিকেট বনের মূল্যবান বৃক্ষসম্পদ লুটপাট করে চলেছে। তিক্ত হলেও সত্য, এ প্রবণতা রাষ্ট্রীয় সম্পদ সুরক্ষার ব্যর্থতাকেই প্রকাশ করে। সাবেক মন্ত্রী ও স্থানীয় সাবেক সংসদ-সদস্যদের ক্ষমতার ছায়াতলে যেভাবে চোরচক্র গড়ে উঠেছে, তা কেবল আইনি নীতিমালার অবমাননাই নয়, এক অর্থে এটি রাজনৈতিক সংস্কৃতির পচনেরই বহিঃপ্রকাশ।
আশার কথা, প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের বিশেষ গোপনীয় প্রতিবেদন এবং পরিবেশ মন্ত্রণালয়ের নির্দেশে পুলিশ ও বন বিভাগ যৌথভাবে চুনারুঘাট থানায় মামলা দায়ের করায় ঘটনার আইনি প্রক্রিয়ার সূচনা হয়েছে। রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে সংরক্ষিত বনের গাছ কেটে পাচারের অভিযোগে একই মামলায় আসামি করা হয়েছে আওয়ামী লীগ ও বিএনপির স্থানীয় নেতাসহ অন্তত ২০ জনকে। তবে বন বিভাগের ভেতরের অসাধু কর্মকর্তাদের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন থেকেই যায়। কারণ বনের পাহারাদারদের সঙ্গে অপরাধীদের যোগসাজশ ছাড়া বছরের পর বছর এভাবে কাঠ পাচার সম্ভব নয়।
আমরা মনে করি, রাজনৈতিক পরিচয়ের ছায়াতলে কেন এই অপরাধী চক্র বারবার পার পেয়ে যাচ্ছে এবং বন উজাড়ের অপকর্ম চালিয়ে যাচ্ছে, সর্বপ্রথম সে প্রশ্নের উত্তর খুঁজতে হবে। এর পেছনে প্রশাসনিক শিথিলতার কারণ কী, তাও খতিয়ে দেখতে হবে। সংরক্ষিত বনাঞ্চল রক্ষায় আইনের নিরপেক্ষ প্রয়োগের মাধ্যমে মামলায় অভিযুক্ত সর্বস্তরের আসামিদের দ্রুত গ্রেফতার এবং দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে, যেন কোনো রাজনৈতিক সমীকরণ তদন্তকে প্রভাবিত করতে না পারে। বন বিভাগের অভ্যন্তরীণ অনিয়ম চিহ্নিত করে ডিজিটাল নজরদারির ব্যবস্থা করতে হবে। সর্বোপরি স্থানীয় বনাঞ্চল সুরক্ষায় কমিউনিটি ওয়াচ কিংবা বিশেষ টাস্কফোর্স গঠনের মাধ্যমে কার্যকর পাহারার ব্যবস্থা জোরদার করাও এখন সময়ের দাবি। বন রক্ষায় জিরো টলারেন্স নীতি বাস্তবায়ন না হলে এই জাতীয় সম্পদ রক্ষা করা কঠিন হয়ে পড়বে।
লেখাটি দৈনিক যুগান্তরের সম্পাদকীয় কলামে প্রকাশিত
আপলোড : আব্দুল খালিক