জীবন
১৩ই আগস্ট, ২০২৬
বৃষ্টির মাঝেও বাড়ছে তাপমাত্রার পারদ। বাতাসে আর্দ্রতার আধিক্যে গরম আবহাওয়া বিরাজ করছে প্রকৃতিতে। এমন অবস্থায় বড়দের পাশাপাশি নানা রকম স্বাস্থ্য সম্যসায় ভুগছে শিশুরাও। বিশেষ করে শর্দি-জ্বরে আক্রান্ত হচ্ছে অনেকে। ঠান্ডা লাগলে নাক বন্ধ হয়ে শ্বাস নিতে ও ঘুমাতে কষ্ট হয় শিশুদের।
বিশেষজ্ঞদের মতে, ছোটদের নাক বন্ধ হয়ে থাকলে তাদের শ্বাস নিতে খুবই কষ্ট হয়। শ্বাসকষ্টে ঘুমও ব্যাহত হয়। এ সময় অনেক অভিভাবক চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়াই স্টেরয়েডযুক্ত নাকের ড্রপ বা অ্যান্টিবায়োটিকের ব্যবহার শুরু করেন। না বুঝে এসব ওষুধের ব্যবহার শিশুদের জন্য নিরাপদ নয়। বরং কিছু ঘরোয়া উপাদানেই এই সমস্যা থেকে বেরিয়ে আসা সম্ভব।
১. গরম পানির ভাপ
শিশুদের নাক বন্ধ হলে হালকা গরম পানির ভাপ দিলে নাকের ভেতরের মিউকাস নরম হবে ও নাকের বন্ধভাব খুলে যাবে। তবে সর্তক থাকতে হবে পানি যাতে বেশি গরম না থাকে। বর্তমানে বাজারে ভাপ নেওয়ার জন্য যন্ত্র পাওয়া যাচ্ছে।
২. স্যালাইন নাকের ড্রপ
শিশুদের নাক পরিষ্কার রাখতে স্যালাইন নাকের ড্রপ ব্যবহার করা যেতে পারে। নাক বন্ধ থাকলে এক ফোঁটা করে দিনে এক থেকে দুবার ব্যবহার করা যাবে এই ড্রপ। এতে নাকের ভেতরের মিউকাস পরিষ্কার হয়ে যাবে।
৩. পর্যাপ্ত পানিপান
ঠান্ডা লাগলে শরীরে পানির ঘাটতি বা ডিহাইড্রেশন হওয়ার আশঙ্কা থাকে। তাই এই সময়ে শিশুকে পর্যাপ্ত পরিমাণ পানি ও তরল খাবার খাওয়াতে হবে। নিয়মিত পানি পান করলে এই ধরনের সমস্যা অনেকটাই কমে আসে। এমনকি নাকের ভেতরে শক্ত হয়ে জমে থাকা মিউকাস বেরিয়ে আসে। তবে এই সময়ে শিশুকে ঠান্ডা পানি খাওয়ানো যাবে না। এতে সমস্যা আরো বাড়বে।
৪. মাথা সামান্য উঁচু করে ঘুম
নাক বন্ধ থাকলে শিশুদের ঘুমে সমস্যা হতে পারে। নাক বন্ধ থাকা অবস্থায় শিশুকে সামান্য কাত করে বা মাথা সামান্য উঁচুতে রেখে শোয়াতে হবে। শিশুর পিঠ ও মাথার নিচে নরম তোয়ালে বা পাতলা কাঁথা ভাঁজ করে দিন। তবে সরাসরি মাথার নিচে বালিশ দেওয়া যাবে না।
৫. চিকিৎসকের পরামর্শ
ঘরোয়া উপায়ের পরও যদি নাকের বন্ধভাব দীর্ঘ সময় থাকে, শিশুর শ্বাস নিতে কষ্ট হয়,জ্বর আসে বা নাক থেকে বের হওয়া মিউকাস হলুদ বা সবুজ রঙের হয় তাহলে দেরি না করে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত। ঠিক সময়ে চিকিৎসা নিলে জটিলতা এড়ানো সম্ভব।
আপলোড : আব্দুল খালিক