সিলেট
২৬ই মে, ২০২৬
অবশেষে ঈদের দিনের কুরবানির পশুর চামড়া সংগ্রহ না করার সিদ্ধান্ত থেকে সরে এসেছেন সিলেটের কওমি মাদরাসাগুলোর কর্তৃপক্ষ।
মঙ্গলবার (২৬ মে) দুপুরে প্রেস ব্রিফিং করে বিষয়টি জানিয়েছেন সিলেটের জেলা প্রশাসক (ডিসি) মো. সারওয়ার আলম।
সিদ্ধান্ত পরিবর্তনের বিষয়টি সচিত্র সিলেটকে নিশ্চিতও করেছেন সিলেট বিভাগীয় কওমি মাদরাসা সংরক্ষণ পরিষদের নেতৃবৃন্দ।
প্রেস ব্রিফিংয়ে জেলা প্রশাসক বলেন- সিলেটের কওমি মাদরাসাগুলোর কর্তৃপক্ষ কিছুটা ক্ষোভ ও হতাশা থেকে এবারের চামড়া সংগ্রহ থেকে বিরত থাকার সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন। তবে আমরা দফায় দফায় তাদের সঙ্গে বৈঠক করেছি। একটি বৈঠকে ভার্চুয়ালি যুক্ত ছিলেন মাননীয় শিল্প, বাণিজ্য, বস্ত্র ও পাটমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির।
এসব বৈঠকে আলেমদের আলোচনা ও দাবির প্রেক্ষিতে আমরা সিলেট থেকে ঈদের দিন চামড়া যাতে ঢাকার ক্রেতারা কিনেন সেই উদ্যোগ নিয়েছি। যেসব মাদরাসায় লবনের প্রয়োজন আমরা সরবরাহ করেছি। এছাড়া যেসব ব্যবসায়ী এবার ‘ঢাকার ক্রেতাদের কাছে এখনো টাকা পান’ দাবি করে মাদরাসাগুলোর কাছ থেকে চামড়া ক্রয় থেকে বিরত থাকার সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন- তাদের বলা হয়েছে, এর তালিকা করে দিতে। আমরা টাকা উত্তোলনের ব্যবস্থা করবো। এসব আশ্বাসের ভিত্তিতে সব মাদরাসা কর্তৃপক্ষ চামড়া সংগ্রহ করবেন বলে জানিয়েছেন।
সিলেটের কুরবানির পশুর চামড়া দ্রুত বিক্রির আহ্বান জানিয়ে সিলেটের জেলা প্রশাসক বলেন- কেউ চামড়া বিক্রি করতে না পারলে জেলা প্রশাসনকে জানাবেন। প্রয়োজনে স্বেচ্ছাসেবকদের মাধ্যমে আমরা সেই চামড়া সংগ্রহ করা হবে। কোনো অবস্থাতেই যেন এই জাতীয় সম্পদ নষ্ট না হয়, সে বিষয়ে সবাই খেয়াল রাখবেন এবং প্রশাসন নজরদারি করবে এ বিষয়ে।
মো. সারওয়ার আলম জানান, এবার সিলেট জেলায় কোরবানির পশুর প্রায় ৭০ থেকে ৮৫ হাজার চামড়া সংগ্রহের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। চামড়া সংরক্ষণে সহায়তার জন্য সরকারিভাবে ৩৪৫ টন লবণ বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে।
এর আগে একাধিক প্রেস ব্রিফিং করে সিলেট বিভাগ কওমি মাদ্রাসা সংরক্ষণ পরিষদ জানায়- চামড়ার ন্যায্যমূল্য না থাকায় বছরের পর বছর লোকসান গুনতে হচ্ছে মাদ্রাসাগুলোকে। পরিবহন খরচ তুলতেই হিমশিম খেতে হয়। চামড়া শিল্পে বিদ্যমান সিন্ডিকেট ভাঙা এবং বাজারে ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত করতে সরকার কার্যকর উদ্যোগ নিতে পারেনি। ফলে কওমি মাদরাসাগুলো এবার কুরবানির পশুর চাড়মা সংগ্রহ করবে না।
তবে জেলা প্রশাসনের সঙ্গে সর্বশেষে বৈঠকের পর তারা এ সিদ্ধান্ত থেকে সরে এসেছেন।