নির্বাচিত সংবাদ
১০ই জুন, ২০২৬
বাংলাদেশ থেকে উচ্চশিক্ষার উদ্দেশ্যে যুক্তরাজ্যে যাওয়া শিক্ষার্থীরা শুধু একাডেমিক ক্ষেত্রেই নয়, নেতৃত্বের ক্ষেত্রেও নিজেদের সক্ষমতার পরিচয় দিচ্ছেন। লেখাপড়ার পাশাপাশি তাঁরা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র সংসদে প্রেসিডেন্ট, ভাইস প্রেসিডেন্ট ও অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ পদে নির্বাচিত হয়ে শিক্ষার্থীদের অধিকার, কল্যাণ ও প্রতিনিধিত্ব নিশ্চিত করতে কাজ করে যাচ্ছেন। আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের এই সাফল্য তাঁদের নেতৃত্বগুণ ও সক্ষমতার উজ্জ্বল প্রতিফলন হিসেবে দেখা হচ্ছে। এসব কৃতী শিক্ষার্থীর মধ্যে রয়েছেন সিলেটের তরুণ-তরুণীরাও।
প্রাপ্ত তথ্যানুযায়ী- বর্তমানে যুক্তরাজ্যের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে অন্তত ১৫ জন বাংলাদেশি শিক্ষার্থী গুরুত্বপূর্ণ ছাত্রনেতৃত্বের দায়িত্ব পালন করছেন। এর মধ্যে একজন সিলেটের ফেঞ্চুগঞ্জের সন্তান হাফসা আজমারি ফারজু।
তিনি ওয়েলসের রেক্সহ্যাম বিশ্ববিদ্যালয়ের স্টুডেন্টস ইউনিয়নের ভাইস প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হয়েছেন। হাফসা আজমারি ফারজু ‘সাসটেইনেবিলিটি চ্যাম্পিয়ন অব দ্য ইয়ার’ পুরস্কারপ্রাপ্ত এবং শিক্ষার্থীদের অধিকার, সমতা ও টেকসই উন্নয়ন নিয়ে কাজ করছেন।
অ্যাঙ্গলিয়া রাসকিন ইউনিভার্সিটির লন্ডন ক্যাম্পাস ছাত্র সংসদের ভাইস প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হয়েছেন নোয়াখালীর কোম্পানীগঞ্জের সন্তান নাঈম হাসান। ১ হাজার ৬২৭ ভোট পেয়ে নির্বাচিত হওয়া নাঈম বর্তমানে আইন বিভাগের শিক্ষার্থী। বিশ্ববিদ্যালয়ে নেতৃত্ব দেওয়ার পাশাপাশি তিনি বিভিন্ন সামাজিক ও পরিবেশবিষয়ক কর্মকাণ্ডেও যুক্ত রয়েছেন।
ইউনিভার্সিটি অব দ্য ওয়েস্ট অব ইংল্যান্ড (ইউডব্লিউই) ব্রিস্টলের স্টুডেন্টস ইউনিয়নের ভাইস প্রেসিডেন্ট (এডুকেশন) হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন খাদিজা হোসেন অড়লা। প্রায় ৪০ হাজার শিক্ষার্থীর একাডেমিক স্বার্থের প্রতিনিধিত্বকারী খাদিজা শিক্ষার মানোন্নয়ন, শিক্ষার্থীদের অধিকার এবং আবাসন ও রেন্টার্স রাইটস ইস্যুতে কাজ করছেন।
কুষ্টিয়ার শায়েখ হাসান। ডিজিটাল মার্কেটিং বিভাগের এই শিক্ষার্থী শিক্ষার্থীদের কল্যাণে সফল ভূমিকার কারণে টানা দ্বিতীয়বার নির্বাচিত হয়েছেন।
ইউনিভার্সিটি অব সাউথ ওয়েলস স্টুডেন্টস ইউনিয়নের প্রেসিডেন্ট হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন ইরফান রহমান। কম্পিউটার সায়েন্সে স্নাতক ইরফান এর আগে বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলাদেশ সোসাইটির নেতৃত্ব দিয়েছেন এবং বর্তমানে শিক্ষার্থীদের প্রতিনিধিত্ব ও আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের সহায়তায় কাজ করছেন।
ইউনিভার্সিটি অব গ্লস্টারশায়ার স্টুডেন্টস ইউনিয়নের ওয়েলফেয়ার অ্যান্ড ডাইভারসিটি অফিসার হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন ইফফাত জাহান। প্রায় এক দশক পর শিক্ষাজীবনে ফিরে এসে তিনি ৬৭৬ ভোট পেয়ে নির্বাচিত হন। তাঁর উদ্যোগে শিশু পরিচর্যাসুবিধা, মাতৃদুগ্ধ কর্নার ও নামাজের কক্ষ স্থাপনের মতো গুরুত্বপূর্ণ উদ্যোগ বাস্তবায়িত হয়েছে।
গাজীপুরের টঙ্গীর সন্তান মো. সাইফ মোল্লা চঞ্চল গ্রিনউইচ বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্র সংসদের ভাইস প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হয়েছেন। কম্পিউটার সায়েন্সের এই শিক্ষার্থী মানসিক স্বাস্থ্য, প্রতিবন্ধী ও সংখ্যালঘু শিক্ষার্থীদের অধিকার এবং অন্তর্ভুক্তিমূলক ক্যাম্পাস পরিবেশ তৈরিতে কাজ করছেন।
ইউনিভার্সিটি অব সাউথ ওয়েলস ছাত্র সংসদের ভাইস প্রেসিডেন্ট (এডুকেশন) এ বি এম রাহাত মুবাশশির ইতিহাসের সর্বোচ্চ ভোট পেয়ে এবং প্রথম বাংলাদেশি হিসেবে এই পদে নির্বাচিত হয়েছেন। তিনি বর্তমানে প্রায় ২৫ হাজার শিক্ষার্থীর একাডেমিক প্রতিনিধিত্ব করছেন।
লন্ডন মেট্রোপলিটন বিশ্ববিদ্যালয় স্টুডেন্টস ইউনিয়নের প্রেসিডেন্ট রাজ্য মন্ডল। ৮৭৬ ভোট পেয়ে নির্বাচিত এই বাংলাদেশি শিক্ষার্থী শিক্ষার্থীদের অধিকার, মানসিক স্বাস্থ্য এবং আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের সমস্যা নিয়ে কাজ করছেন।
একই বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাইস প্রেসিডেন্ট (অ্যাকটিভিটিজ অ্যান্ড অপরচুনিটিজ) হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন নাহিদ বিনতে ইসলাম। টানা দুবার নির্বাচিত নাহিদ সহশিক্ষা কার্যক্রম, দক্ষতা উন্নয়ন এবং বহুসাংস্কৃতিক পরিবেশে শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণ বাড়াতে কাজ করছেন।
ব্রুনেল ইউনিভার্সিটি লন্ডন স্টুডেন্টস ইউনিয়নের প্রেসিডেন্ট হিসেবে পুনর্নির্বাচিত হয়েছেন নাফি হাসান খান। অ্যারোস্পেস ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের এই শিক্ষার্থী এর আগে বাংলাদেশ সোসাইটির নেতৃত্ব দিয়েছেন এবং বর্তমানে শিক্ষার্থী সম্পৃক্ততা ও ক্যাম্পাস উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছেন।
লন্ডন মেট্রোপলিটন ইউনিভার্সিটি স্টুডেন্টস ইউনিয়নের ভাইস প্রেসিডেন্ট (ইকুইটি অ্যান্ড ওয়েলফেয়ার) সৌমিত্র পাল। নোয়াখালীর এই শিক্ষার্থী মানসিক স্বাস্থ্য, অ্যান্টিরেসিজম, অ্যান্টিহ্যারাসমেন্ট এবং নিরাপদ ক্যাম্পাস নিশ্চিত করার বিষয়ে কাজ করছেন।
ইউনিভার্সিটি অব হার্টফোর্ডশায়ার স্টুডেন্টস ইউনিয়নের ইতিহাসে প্রথম বাংলাদেশি প্রেসিডেন্ট হিসেবে নির্বাচিত হয়েছেন জুবায়ের আহম্মেদ। প্রায় ৩৮ হাজার শিক্ষার্থীর প্রতিনিধিত্বকারী এই পদে থেকে তিনি আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের টিউশন ফি, নিরাপত্তা এবং ধর্মীয় সুবিধা নিশ্চিত করতে কাজ করছেন।
একই বিশ্ববিদ্যালয়ে এসপেকস অফিসার ও বোর্ড অব ট্রাস্টির সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন রংপুরের মুহতাসিম সাদাত নিবির। তিনি ইঞ্জিনিয়ারিং অনুষদের শিক্ষার্থীদের প্রতিনিধিত্বের পাশাপাশি একাডেমিক অভিজ্ঞতা উন্নয়ন ও পরিবহনসেবার মানোন্নয়নে কাজ করেছেন।
ইউনিভার্সিটি অব সাউথ ওয়েলস স্টুডেন্টস ইউনিয়নের ভাইস প্রেসিডেন্ট (ওয়েলফেয়ার) এম ইমাম হোসাইন টানা দুবার সর্বোচ্চ ভোট পেয়ে নির্বাচিত হয়েছেন। শিক্ষার্থীদের কল্যাণ, সহায়তা ও সংকট মোকাবিলায় তাঁর ভূমিকা ব্যাপক প্রশংসিত হয়েছে।
এসব শিক্ষার্থী বলছেন- ‘বিশ্ববিদ্যালয়জীবনের নেতৃত্বের অভিজ্ঞতাকে কাজে লাগিয়ে আমার সমাজে ইতিবাচক পরিবর্তন আনতে চাই। সমতা, ন্যায়বিচার ও সাম্যের ভিত্তিতে একটি সুন্দর সমাজ গড়ার স্বপ্ন দেখি আমরা। পাশাপাশি পরিবেশ ও প্রাকৃতিক ভারসাম্য রক্ষা করে ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য একটি টেকসই, বাসযোগ্য ও শান্তিপূর্ণ পৃথিবী রেখে যেতে চাই।’
তারা আরও বলেন- ‘শিক্ষার্থীনেতৃত্ব ও নীতিনির্ধারণী কার্যক্রমে অর্জিত অভিজ্ঞতাকে কাজে লাগিয়ে শিক্ষা, সামাজিক ন্যায়বিচার ও জননীতির ক্ষেত্রে ইতিবাচক পরিবর্তন আনতে চাই। আমরা বিশ্বাস করি- মানসম্মত শিক্ষা, সমান সুযোগ এবং অন্তর্ভুক্তিমূলক নীতিই একটি ন্যায়ভিত্তিক ও টেকসই সমাজ গঠনের ভিত্তি। ভবিষ্যতে আন্তর্জাতিক অভিজ্ঞতা কাজে লাগিয়ে বাংলাদেশে শিক্ষা ও সামাজিক উন্নয়নে অবদান রাখার স্বপ্ন দেখি আমরা।
(মূল রিপোর্ট : প্রথম আলো)