সিলেট
০৮ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬
সিলেট এম. এ. জি. ওসমানী মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালে চিকিৎসকদের নির্ধারিত কর্মঘণ্টা পালনে অনিয়ম, রোগীদের চিকিৎসাসেবা প্রদানে হয়রানি, অবহেলা এবং দায়িত্ব পালনে নানাবিধ অনিয়মের মারাত্মক অভিযোগ উঠেছে। এসব অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে বিষয়টির সরেজমিন সত্যতা যাচাই ও ব্যবস্থা নিতে এনফোর্সমেন্ট অভিযান পরিচালনায় একটি বিশেষ টিম প্রেরণ করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)।
আজ মঙ্গলবার (৮ সেপ্টেম্বর) দুর্নীতি দমন কমিশনের ঢাকাস্থ প্রধান কার্যালয়ের এনফোর্সমেন্ট ইউনিট থেকে এ সংক্রান্ত এক নির্দেশ জারির পর হাসপাতালটিতে টিম পাঠানো হয়।
অভিযোগ রয়েছে- দেশের অন্যতম শীর্ষ এই সরকারি হাসপাতালে চিকিৎসকদের একটি অংশ সঠিক সময়ে ডিউটিতে উপস্থিত থাকেন না এবং নির্ধারিত কর্মঘণ্টা পুরোপুরি পালন করেন না। এছাড়া দূর-দূরান্ত থেকে আসা রোগীদের চিকিৎসাসেবা পেতে চরম ভোগান্তি ও অবহেলার শিকার হতে হয়।
এ অবস্থায় হাসপাতালটিতে শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনতে এবং রোগীদের হয়রানি বন্ধে দুদকের সিলেট বিভাগীয়/সমন্বিত জেলা কার্যালয়ের সমন্বয়ে এনফোর্সমেন্ট টিমটিকে দ্রুত সরেজমিন তদারকি ও তদন্তের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
দুর্নীতি দমন কমিশন সমন্বিত জেলা কার্যালয়ের উপ-পরিচালক সুবেল আহমেদ মঙ্গলবার বিকালে দৈনিক সচিত্র সিলেটকে জানান- দুই সদস্যবিশিষ্ট একটি টিম আজ ওসমানি হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। এই এনফোর্সমেন্ট টিম তথ্য-উপাত্ত সংগ্রহ করেছে এবং আরও কিছু তথ্য চেয়েছে। তথ্য-উপাত্ত বিশ্লেষণ করে কমিশনের পরবর্তী সিদ্ধান্তের জন্য প্রতিবেদন দাখিল করা হবে।
চিকিৎসাক্ষেত্রে পুরো সিলেট বিভাগসহ আশপাশ অঞ্চলের মানুষের ভরসা এম এ জি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল। তবে সদ্যবিদায়ী পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল উমর রাশেদ মুনিরের একটি নোটিশে ফুটে উঠেছে এ হাসপাতালে কর্মরত চিকিৎসকদের দায়িত্বের দৈন্যদশার চিত্র।
হাসপাতালটির বেশিরভাগ চিকিৎসক নির্ধারিত সময়ে কর্মস্থলে আসেন না। আবার দেরি করে এসেও নির্ধারিত সময়ের আগেই হাসপাতাল ছেড়ে চলে যান অনেকে। এতে চরমভাবে সেবাবঞ্চিত হচ্ছেন রোগীরা।
রোগীদের পক্ষ থেকে বিভিন্ন সময় এমন অভিযোগ জানানো গেলেও তা ছিলো ধোয়াশায়। তবে এবার হাসপাতাল পরিচালকের একটি নোটিশে একেবারে সামনে চলে এসেছে বিষয়টি।
মঙ্গলবার (১ আগস্ট) ওসমানী হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল উমর রাশেদ মুনির স্বাক্ষরিত এক নোটিশে চিকিৎসকদের নির্ধারিত সময়ে হাসপাতালে উপস্থিতি ও প্রস্থান নিশ্চিতের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
চিকিৎসকদের দায়িত্বশীলতার সঙ্গে নির্ধারিত কর্মঘণ্টা অনুসরণ করে রোগীদের চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করার উপর গুরুত্ব দেওয়া হয় ওই নোটিশে।
নোটিশে বলা হয়, চিকিৎসকদের জন্য হাসপাতালে প্রবেশের নির্ধারিত সময় সকাল ৮টা এবং প্রস্থানের বেলা আড়াইটা। তবে সাম্প্রতিক বায়োমেট্রিক উপস্থিতির তথ্য পর্যালোচনায় উপস্থিতি ও প্রস্থানের ক্ষেত্রে অসঙ্গতি পাওয়া গেছে।
বায়োমেট্রিক তথ্য অনুযায়ী- সকাল ৯টার পর কর্মস্থলে উপস্থিত হওয়ার হার বহির্বিভাগে ৪৮ শতাংশ এবং অন্তর্বিভাগে ৬৫ শতাংশ। অর্থাৎ নির্ধারিত সময় সকাল ৮টার এক ঘণ্টা পরও উল্লেখযোগ্যসংখ্যক চিকিৎসক কর্মস্থলে উপস্থিত হচ্ছেন।
অন্যদিকে, নির্ধারিত সময় দুপুর ২টা ৩০ মিনিটের আগেই কর্মস্থল ত্যাগের প্রবণতাও অনেক বেশি।
তথ্য অনুযায়ী, বহির্বিভাগের ৯৬ শতাংশ এবং অন্তর্বিভাগের ৯০ শতাংশ চিকিৎসক নির্ধারিত সময়ের আগেই কর্মস্থল ত্যাগ করছেন।
এ নোটিশ প্রদানের পরপরই ওসমানী হাসপাতাল পরিদর্শন করে গেছেন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন।