সিলেট
০৮ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬
দীর্ঘদিন পর প্রিয়জনদের কাছে দেশে ফেরার স্বপ্ন নিয়ে সৌদি আরব থেকে বিমানবন্দরের উদ্দেশ্যে রওনা দিয়েছিলেন সিলেটের কানাইঘাটের প্রবাসী করিম উদ্দিন (৫৫), সঙ্গে ছিলেন তার ছেলে মোহাম্মদ আলী (২৬)। ছেলের বিয়ের জন্য ফিরছিলেন দেশে। কিন্তু বিমানবন্দরে পৌঁছানোর আগেই মর্মান্তিক সড়ক দুর্ঘটনায় প্রাণ হারান করিম উদ্দিন। আহত অবস্থায় বেঁচে গেছেন তার ছেলে।
গতকাল সোমবার (৭ সেপ্টেম্বর) স্থানীয় সময় বেলা ২টার দিকে সৌদি আরবের তায়েফ থেকে জেদ্দা যাওয়ার পথে আল-খুরমা এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে।
জানা গেছে, বিমানবন্দরের উদ্দেশ্যে যাত্রা করা গাড়িটিতে চালকসহ পাঁচজন বাংলাদেশি ছিলেন। দুর্ঘটনায় গাড়িচালক খালিদ আহমদ (৬০)-সহ চারজন নিহত হন। আহত অবস্থায় বেঁচে যান করিম উদ্দিনের ছেলে।
নিহতদের মধ্যে করিম উদ্দিন ও গাড়িচালক খালিদ আহমদ সিলেটের কানাইঘাট উপজেলার বাসিন্দা। তাদের বাড়ি উপজেলার ৭ নম্বর দক্ষিণ বাণীগ্রাম ইউনিয়নের গাছবাড়ী এলাকার লামার তালুক গ্রামে। বাকিত দুজনের মধ্যে একজনের বাড়ি সুনামগঞ্জ জেলায় ও অপরজনের বাড়ি কুমিল্লা ।
করিম উদ্দিনের পারিবারিক সূত্র জানায়, তিনি দীর্ঘদিন সৌদি আরবে প্রবাসজীবন কাটানোর পর ছেলের বিয়েকে সামনে রেখে দেশে ফিরছিলেন। দেশে ফেরার টিকিট হাতে নিয়ে ছেলেকে সঙ্গে করে বিমানবন্দরের পথে রওনা হলেও বাড়ি ফেরা আর হলো না। বিমানবন্দরে পৌঁছানোর আগেই সড়ক দুর্ঘটনায় তার মৃত্যু হয়।
অন্যদিকে, খালিদ আহমদ ছিলেন ওই গাড়ির চালক। তিনি নিজে দেশে ফেরার জন্য নয়, অন্য চার বাংলাদেশিকে বিমানবন্দরে পৌঁছে দিতে গাড়ি চালিয়ে নিয়ে যাচ্ছিলেন। কিন্তু সেই যাত্রাই তার জীবনের শেষ যাত্রা হয়ে যায়।
দুই প্রবাসীর মৃত্যুর খবর দেশে পৌঁছালে কানাইঘাটে নিহতের স্বজন ও এলাকাবাসীর মধ্যে শোকের ছায়া নেমে আসে। প্রিয়জনদের দেশে ফেরার অপেক্ষায় থাকা পরিবারগুলোর আনন্দ মুহূর্তেই পরিণত হয় কান্নায়।
দুই প্রবাসীর মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করে স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান লোকমান উদ্দিন জানান, খবরটি অত্যন্ত মর্মান্তিক। তিনি নিহতদের পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে দেখা করে সমবেদনা জানিয়েছেন।
উল্লেখ্য, চলতি বছরের জুনে কাতারে সড়ক দুর্ঘটনায় কানাইঘাটের পাঁচ প্রবাসীর মৃত্যু হয়। এর রেশ কাটতে না কাটতেই জুলাইয়ে সৌদি আরবে সড়ক দুর্ঘটনায় আরও এক কানাইঘাট প্রবাসীর মৃত্যু হয়। এবার সৌদি আরবেই আবারও কানাইঘাটের দুই প্রবাসীর মৃত্যুতে এলাকায় নতুন করে শোকের মাতম শুরু হয়েছে।