সিলেট

ওসমানীনগরে রাস্তার কাজ শেষ হওয়ার আগেই ফাটল! উঠছে কার্পেটিং

Icon
ওসমানীনগর প্রতিনিধি:

০৯ই জুন, ২০২৬

ওসমানীনগরে রাস্তার কাজ শেষ হওয়ার আগেই ফাটল! উঠছে কার্পেটিং

সিলেটের ওসমানীনগর উপজেলার বুরুঙ্গা বাজার ইউনিয়নে প্রধান সড়কের প্রায় ৩ কিলোমিটার অংশের সংস্কার কাজ শেষ হওয়ার আগেই বিভিন্ন স্থানে কার্পেটিং উঠে, ফাটল দেখা দেওয়া এবং যান চলাচলে সমস্যার অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয়দের দাবি, কাজ চলমান থাকা অবস্থাতেই সড়কের বিভিন্ন অংশে এ ধরনের সমস্যা দেখা দেওয়ায় তারা উদ্বিগ্ন।

সরেজমিনে দেখা যায়, বুরুঙ্গা সড়কের মোড় থেকে বুরুঙ্গা বাজার পর্যন্ত প্রায় ৩ কিলোমিটার সড়কের বিভিন্ন স্থানে কার্পেটিং উঠে গিয়ে পাথর ও ইটের সুরকি বেরিয়ে এসেছে। প্রথমপাশা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় থেকে বুরুঙ্গা ইকবাল আহমদ উচ্চ বিদ্যালয় সংলগ্ন এলাকায় বেশ কিছু অংশে ফাটল ও ক্ষয়ের চিহ্ন দেখা গেছে।  কয়েকটি স্থানে কার্পেটিং ক্ষতিগ্রস্থ হয়ে ছোট ছোট গর্তের সৃষ্টি হয়েছে। এছাড়া সিসি ঢালাই অংশের শুরুতে ফাটল দেখা যাওয়ার অভিযোগ রয়েছে। 

সড়কের কয়েকটি স্থানে দুই পাশের মাটি ভরাটের কাজ অসম্পূর্ণ থাকায় যানবাহন চলাচলেও ঝুঁকি তৈরি হচ্ছে অভিযোগ স্থানীয়দের। কাজ এখনো চলমান থাকলেও এরই মধ্যে বিভিন্ন স্থানে কার্পেটিং উঠে যাওয়া, পাথর বেরিয়ে আসা এবং ফাটল দেখা দেওয়ায় সড়কের গুণগত মান নিয়ে জনমনে প্রশ্ন তৈরি হয়েছে।
বুরুঙ্গা ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান খালিল আহমদ বলেন, “কাজ পুরোপুরি শেষ হওয়ার আগেই বিভিন্ন স্থানে ক্ষতির চিহ্ন দেখা যাচ্ছে। কোথাও ফাটল ধরেছে, আবার কোথাও কার্পেটিং উঠে যাচ্ছে। এছাড়া আমার কাছে মনে হচ্ছে সড়কটি আগের তুলনায় কিছুটা ছোট হয়ে গেছে। আগে যেখানে দুটি গাড়ি সহজে চলাচল করত, এখন সেখানে একসঙ্গে দুটি গাড়ি পাশ দিতে সমস্যা হচ্ছে। 

স্থানীয় ব্যবসায়ী কামাল আহমদ বলেন, “সিসি ঢালাই সড়কের দুই পাশের মাটি ভরাট নেই। অনেক স্থানে মাটি ভরাটের কাজ অসম্পূর্ণ রয়েছে। একসঙ্গে দুটি গাড়ি যাতায়াতে সমস্যা হচ্ছে। এতে যানবাহন চলাচলে ঝুঁকি তৈরি হচ্ছে। 

উপ-সিএনজি শাখার সহ-সাধারণ সম্পাদক মিজান আহমদ বলেন, “দীর্ঘদিনের দাবির পর সড়কের কাজ হয়েছে। যদি এখনই এ অবস্থা হয়, তাহলে ভবিষ্যতে কী হবে তা নিয়ে আমরা চিন্তিত। আমরা চাই বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া উচিত। 

অটোরিকশা চালক রাজু মিয়া ও সুরুজ আলী বলেন, “নতুন সড়ক হওয়ায় আমরা স্বস্তি পাব ভেবেছিলাম। কিন্তু এখন অনেক স্থানে গাড়ি চালাতে সমস্যা হচ্ছে। বিপরীত দিক থেকে গাড়ি এলে পাশ কাটাতে কষ্ট হয়। আমার কাছে মনে হচ্ছে আগের তুলনায় রাস্তা কিছুটা ছোট লাগছে। এ কারণে যেকোনো সময় দুর্ঘটনার আশঙ্কা রয়েছে। 

অভিযোগের বিষয়ে ঠিকাদার বেলাল আহমদ বলেন, “অনিয়মের অভিযোগ ভিত্তিহীন। উপজেলা প্রকৗশলীসহ সংশ্লিষ্টরা সরেজমিনে পরিদর্শন করেছেন। একটি স্থানে সামান্য ফাটল দেখা দিয়েছিল, যা ইতোমধ্যে মেরামত করা হয়েছে। তাছাড়া সড়কের আর কোথাও পাথর বেরিয়ে আসেনি। আমাদের কাজ চলমান রয়েছে এবং এখনো সম্পূর্ণ বিল পরিশোধ করা হয়নি।”

ওসমানীনগর উপজেলা প্রকৌশলী (এলজিইডি) আব্দুল্লাহ আল মামুন বলেন, “বিষয়টি আমরা সরেজমিনে পরিদর্শন করব। কোথাও কোনো ত্রুটি বা সমস্যা থাকলে ঠিকাদারকে তা সংশোধন করতে হবে। এখনো কাজের সম্পূর্ণ বিল পরিশোধ করা হয়নি।”

ওসমানীনগর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মুনমুন নাহার আশা বলেন, “বিষয়টি নিয়ে উপজেলা প্রকৌশলীর সঙ্গে কথা বলব। তিনি সরেজমিনে পরিদর্শন করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করবেন।


আপলোড: শিউলি