টপ-১
১৯ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬
সিলেটের খাদিমপাড়া এলাকা থেকে নিখোঁজ হওয়া দুই মাদ্রাসার শিক্ষার্থীকে জৈন্তাপুর থেকে উদ্ধার করেছে স্পেশাল রেসপন্স ব্যাটালিয়ন (এসআরবি-৯)। পড়াশোনায় অনীহার কারণে এ দুজন মাদরাসা ছেড়ে একটি রেস্টুরেন্টে কাজ শুরু করছিল।
শনিবার (১৯ সেপ্টেম্বর) রাতে এসআরবি-৯ এর সদর দপ্তর থেকে পাঠানো সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এসব তথ্য জানানো হয়।
উদ্ধারকৃত শিক্ষার্থীরা হলো- সিলেট জেলার জকিগঞ্জ থানার উত্তর মনসুরপুর গ্রামের বেবুল আহমদের ছেলে মো. সাইদ মাসুদ চৌধুরী নাঈম (১৫) এবং সুনামগঞ্জ জেলার দোয়ারাবাজার থানার বড়বন গ্রামের আব্দুস সাত্তারের ছেলে মো. তামিম আহমদ (১৫)। তারা উভয়েই খাদিমপাড়ার জাবালে নূর হাফিজিয়া মাদ্রাসা ও এতিমখানার হিফজ বিভাগের শিক্ষার্থী ছিল।
এসআরবি জানায়, গত ১৫ সেপ্টেম্বর ফজরের নামাজের সময় ওই দুই শিক্ষার্থী একসঙ্গে মাদরাসা থেকে বের হয়ে আর ফিরে আসেনি। সম্ভাব্য স্থানে খোঁজাখুঁজি করে তাদের না পেয়ে মাদরাসার পক্ষ থেকে অভিভাবকদের জানানো হয় এবং পরবর্তীতে এসএমপির শাহপরাণ থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করা হয়।
পরে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে এসআরবি-৯ সদর কোম্পানির একটি আভিযানিক দল শনিবার বিকেল সাড়ে তিনটার দিকে সিলেট জেলার জৈন্তাপুর থানাধীন ফতেহপুর ইউনিয়নের হরিপুর বাজারস্থ ‘মায়ের দোয়া শাহজালাল রেস্টুরেন্টে’ অভিযান চালিয়ে ওই দুই শিক্ষার্থীকে অক্ষত অবস্থায় উদ্ধার করে।
প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে উদ্ধারকৃত শিক্ষার্থীরা জানায়- তারা মাদ্রাসায় পড়তে অনাগ্রহী ছিল। তাই তারা মাদরাসা থেকে গত ১৫ সেপ্টেম্বর স্বেচ্ছায় বের হয়ে জৈন্তাপুরের ওই রেস্টুরেন্টে গিয়ে কাজ শুরু করে। তাদের মধ্যে একজন এর আগেও দুইবার মাদ্রাসা থেকে পালিয়ে গিয়েছিল।
আইনি প্রক্রিয়া শেষে উদ্ধারকৃত দুই ছাত্রকে পরবর্তী ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য সিলেটের শাহপরাণ থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে।
এদিকে, গত বৃহস্পতিবার (১৭ সেপ্টেম্বর) সকালে নিখোঁজ সাইদ মাসুদ চৌধুরী নাঈমের পিতার ইমো অ্যাকাউন্টে একটি নম্বরবিহীন নম্বর থেকে বা কারা ভয়েস মেসেজ পাঠিয়ে টাকা দাবি করা হয়। একই দিন সন্ধ্যায় একটি ভিডিও কলে নাঈমের মতো দেখতে একজনকে হাত-পা বাঁধা অবস্থায় মারধর করার দৃশ্য দেখানো হয় এবং পরে একটি ভিডিও পাঠানো হয়। বিষয়টি গুরুত্বের সাথে নিয়ে এসআরবি-৯ ছায়া তদন্ত ও গোয়েন্দা তৎপরতা শুরু করে। তবে সংস্থাটি জানতে পারে- ভিডিওতে থাকা ওই দুই শিশু সিলেটের অপহৃত এই শিশুরা নয়।
এ বিষয়ে এসআরবি-৯ এর মিডিয়া অফিসার ও অতিরিক্ত পুলিশ সুপার কে এম শহিদুল ইসলাম সোহাগ শনিবার রাতে দৈনিক সচিত্র সিলেটকে জানান- এটি একটি চক্র। তারা পত্র-পত্রিকায় শিশু নিখোঁজের সংবাদ সূত্রে নাম্বার সংগ্রহ করে অভিভাবকদের কাছে এভাবে ভুয়া ভিডিও পাঠিয়ে বা কল করে টাকা দাবি করে। আমরা এ চক্রের সদস্যদের ধরতে অভিযান চালাচ্ছি।