লিড

বিদ্যুৎ সংকটেও সিলেটে ব্যাটারিচালিত রিকশার দাপট

Icon
সাকিব আল মামুন

২০ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬

বিদ্যুৎ সংকটেও সিলেটে ব্যাটারিচালিত রিকশার দাপট

বিদ্যুৎ সংকটের কারণে তীব্র লোডশেডিংয়ে যখন অতিষ্ঠ সিলেটবাসী, তখনও মহানগরের সড়কে থামছে না ব্যাটারিচালিত রিকশার চলাচল। সকাল থেকে রাত পর্যন্ত প্রধান সড়ক থেকে শুরু করে অলিগলি- সবখানেই দাপিয়ে বেড়াচ্ছে এসব অনুমোদনহীন রিকশা।

মহানগরের বিভিন্ন সড়কে দিন দিন বাড়ছে ব্যাটারিচালিত রিকশার উপস্থিতি। প্রধান সড়ক থেকে শুরু করে পাড়া-মহল্লার অলিগলি সর্বত্রই এখন দেখা মিলছে এসব যানবাহনের। এতে বাড়ছে যানজট, বেড়েছে দুর্ঘটনার হার, দেখা দিয়েছে সড়কে বিশৃঙ্খলা ও জনভোগান্তি। সাথে বাড়ছে বিদ্যুতের অপচয়।

বিভিন্ন সড়ক ঘুরে দেখা যায়, ব্যস্ততম সড়কগুলোতে অন্যান্য যানবাহনের পাশাপাশি বিপুলসংখ্যক ব্যাটারিচালিত রিকশা চলাচল করছে। যাত্রী উঠানামার সময় অনেক রিকশা সড়কের পাশে বা কখনো মূল সড়কেই থেমে যাচ্ছে। কোথাও পাশাপাশি একাধিক রিকশা চলাচল করায় পেছনে তৈরি হচ্ছে যানবাহনের সারি। 
বিশেষ করে জিন্দাবাজারের ভেতরের সব সড়ক, আম্বরখানা, লামাবাজার, শিবগঞ্জ, সুবিদবাজার, কুমারপাড়া, নাইওরপুল, টিলাগড়, চৌহাট্টা, রিকাবীবাজার, ওসমানী মেডিকেল কলেজ রোডসহ বিভিন্ন পয়েন্টে ব্যাটারি রিকশার দৌরাত্ম প্রকট হয়ে উঠেছে। প্রতিদিন সকাল ও বিকেলের ব্যস্ত সময়ে নগরীর বিভিন্ন সড়কে যানবাহনের চাপ বাড়লে ব্যাটারিচালিত রিকশার কারণে যান চলাচল স্বাভাবিক রাখতে ট্রাফিক ব্যবস্থাপনায় অতিরিক্ত চাপ তৈরি হচ্ছে। কোনো কোনো সড়কে কয়েক মিনিটের পথ পাড়ি দিতে দীর্ঘ সময় লেগে যাচ্ছে। এতে কর্মজীবী মানুষ, শিক্ষার্থী, রোগী বহনকারী যানবাহনসহ সাধারণ যাত্রীরা ভোগান্তিতে পড়ছেন।

জানা যায়, ২০২৪ সালের ১৬ সেপ্টেম্বর মহানগরের প্রধান প্রধান সড়কসহ গুরুত্বপূর্ণ সব সড়কে ব্যাটারিচালিত রিকশা চলাচল নিষিদ্ধ করে এসএমপি। নিষেধাজ্ঞা অমান্য করলে অবৈধ যান জব্দসহ আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার কথা জানানো হয়। এতে কিছুদিন কাজও হয়। নগরীর বাইরে চলাচল করতে থাকে এসব রিকশা। কিন্তু কর্তৃপক্ষের অবহেলায় কিছুদিন পরই ফের সড়কে ফেরে ব্যাটারির রিকশা। 

পথচারী রুবেল আহমদ বলেন, ব্যাটারিচালিত রিকশার কারণে শুধু যানজটই নয়, সড়ক নিরাপত্তা নিয়েও উদ্বেগ রয়েছে। হঠাৎ থেমে যাত্রী ওঠানামা, ভুল দিক দিয়ে চলাচল কিংবা ব্যস্ত সড়কে ধীরগতিতে চলার কারণে অন্যান্য যানবাহনের সঙ্গে সংঘর্ষের ঘটনা প্রায়ই ঘটে।পথচারীদের ক্ষেত্রেও ব্যস্ত সড়কে এসব যানবাহনের অনিয়ন্ত্রিত চলাচল ভোগান্তির কারণ হয়ে দাঁড়াচ্ছে।

বেসরকারি চাকরিজীবী কামরুল হাসান বলেন, নগরীর প্রধান সড়কগুলোতে ব্যাটারিচালিত রিকশার সংখ্যা দিন দিন বাড়ছে। এসব রিকশা যেখানে-সেখানে থামিয়ে যাত্রী ওঠানামা করায় যানজট সৃষ্টি হচ্ছে। বিশেষ করে অফিস সময়ে কয়েক মিনিটের পথ পাড়ি দিতে দীর্ঘ সময় লেগে যায়। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের উচিত অবৈধ ও অননুমোদিত রিকশা চিহ্নিত করে ব্যবস্থা নেওয়ার পাশাপাশি বৈধ রিকশাগুলোকে নির্দিষ্ট নিয়মের মধ্যে পরিচালনা করা।

সচেতন নাগরিকদের মতে, সিলেটের বাস্তবতা বিবেচনায় নিয়ে ব্যাটারিচালিত রিকশা চলাচল বন্ধে কার্যকর পদক্ষেপ নেয়া প্রয়োজন। এতে পথচারী ও অন্যান্য যানবাহনের নিরাপত্তা, যানজট নিয়ন্ত্রণ সম্ভব হবে।

রিলেটেড সংবাদ