মতামত

সিলেটে বেড়ে গেছে অপরাধের ভয়াবহতা, উত্তরণ কোন পথে?

Icon
সচিত্র সিলেট ডেস্ক :

১৩ই আগস্ট, ২০২৬

সিলেটে বেড়ে গেছে অপরাধের ভয়াবহতা, উত্তরণ কোন পথে?

আধ্যাত্মিক ও প্রবাসীঅধ্যুষিত শান্ত সুনিবিড় সিলেট অঞ্চলে সম্প্রতি সামাজিক অনাচার, নির্মমতা ও খুনোখুনির মতো অপরাধ উদ্বেগজনক হারে বৃদ্ধি পেয়েছে। সম্পর্কের টানাপোড়েন, নৈতিক অবক্ষয় এবং মানবিক মূল্যবোধের অভাব এমন এক পর্যায়ে পৌঁছেছে যে নিভৃত গৃহকোণও আজ নিরাপদ নয়। সাম্প্রতিক দুটি রোমহর্ষক ঘটনা পুঞ্জীভূত এই সামাজিক অস্থিরতার কঙ্কালসার চেহারাটিকেই উন্মোচিত করে।


সিলেট মহানগরের রায়নগরে ব্যবসায়ী আব্দুস সাত্তার, তাঁর স্ত্রী ও ১৫ বছর বয়সী অপ্রাপ্তবয়স্ক গৃহপরিচারিকা তাহমিনাকে গলা কেটে নির্মমভাবে হত্যা করা হয়েছে। প্রবাসীভিত্তিক এই পরিবারটিতে ডাকাতি, জমি সংক্রান্ত বিরোধ বা শত্রুতার সুযোগ নিয়ে ঘাতকরা যেভাবে তিনটি প্রাণ কেড়ে নিয়েছে, তা নাগরিক জীবনের নিরাপত্তাহীনতাকে নগ্নভাবে প্রকাশ করে।


অন্যদিকে, সুনামগঞ্জের দিরাইয়ে পারিবারিক কলহের জেরে নিজ জন্মদাতা বাবা ঘুমের ওষুধ খাইয়ে সাড়ে তিন বছরের কন্যাপত্র ও ছয় বছরের অবুঝ শিশুপুত্রকে পানিতে ফেলে হত্যা করেছেন। পরবর্তীতে ফেসবুকে লাইভ করে নিখোঁজের নাটক সাজানো এই বাবার ক্রূরতা আমাদের স্তম্ভিত করে। যে সমাজে অপরাধ লুকাতে প্রযুক্তির অপব্যবহার হয় এবং অবুঝ শিশুরা জন্মদাতার হাতেই প্রাণ হারায়, সেই সমাজের মনস্তাত্ত্বিক সুস্থতা গভীর প্রশ্নবিদ্ধ।


এই ভয়াবহ সামাজিক ব্যাধি ও অপরাধপ্রবণতা থেকে উত্তরণে জরুরি ভিত্তিতে সমন্বিত উদ্যোগ প্রয়োজন। সেগুলো কী কী?


আইনের কঠোর ও দ্রুত প্রয়োগ:
অপরাধ সংঘটিত হওয়ার পর অপরাধীদের দ্রুত সনাক্ত করে দৃষ্টান্তমূলক ও দ্রুত বিচার সুনিশ্চিত করতে হবে, যাতে সমাজে বিচারের বাণী নীরবে না কাঁদে।

বিচ্ছিন্ন বয়স্ক ও শিশুদের নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ:
সিলেটের প্রবাসী পরিবারগুলোর প্রবীণ সদস্য এবং অপ্রাপ্তবয়স্ক গৃহকর্মীদের নিরাপত্তা জোরদারে স্থানীয় পুলিশি নজরদারি ও সামাজিক মনিটরিং ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠা করা প্রয়োজন।

মানসিক স্বাস্থ্য ও পারিবারিক কাউন্সিলিং:
পারিবারিক কলহ, হতাশা বা আর্থিক টানাপোড়েন নিরসনে স্থানীয় পর্যায়ে মানসিক স্বাস্থ্যসেবা ও কাউন্সিলিং সাপোর্ট সহজলভ্য করতে হবে।

পারিবারিক ও সামাজিক মেলবন্ধন পুনর্গঠন:
দ্রুত নগরায়ণ ও বস্তুবাদের যুগে ভেঙে পড়া যৌথ পরিবার এবং সামাজিক মূল্যবোধ পুনরুদ্ধারে সামাজিক সংগঠন ও ধর্মীয় নেতাদের অগ্রণী ভূমিকা পালন করতে হবে।
সিলেট অঞ্চলের এই রক্তাক্ত চিত্র কোনো বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়, বরং আমাদের ক্ষয়িষ্ণু সমাজব্যবস্থার সতর্কসংকেত। কালবিলম্ব না করে রাষ্ট্রীয় আইন প্রয়োগের পাশাপাশি সামাজিক প্রতিরোধ গড়ে তোলা এখন সময়ের অন্যতম দাবি।

 

আপলোড : আব্দুল খালিক