ইসলাম
০৬ই আগস্ট, ২০২৬
অনেকেই জানতে চান, ফরজ গোসলের কথা মনে না রেখেই যদি সাধারণ অভ্যাস অনুযায়ী গোসল করা হয়, কুলি করা হয়, নাকে পানি দেওয়া হয় এবং পুরো শরীর ধোয়া হয়, তাহলে কি সেই গোসলের মাধ্যমে পবিত্রতা অর্জিত হবে? নাকি আবার নতুন করে ফরজ গোসল করতে হবে? ইসলামি শরিয়তে এ বিষয়ে রয়েছে স্পষ্ট নির্দেশনা।
ইসলামী বিধান অনুযায়ী, ফরজ গোসলের তিনটি অপরিহার্য কাজ হলো—ভালোভাবে কুলি করা, নাকে পানি পৌঁছানো এবং শরীরের প্রতিটি অংশে পানি পৌঁছে ধৌত করা। নিয়ত করা সুন্নত হলেও তা ফরজ নয়।
তাই কেউ যদি গোসলের সময় কুলি করেন, নাকে পানি দেন এবং পুরো শরীর ভালোভাবে ধুয়ে ফেলেন, তাহলে ফরজ গোসলের নিয়ত মনে না থাকলেও তার গোসল সহিহ হবে। এ ক্ষেত্রে পুনরায় গোসল করার প্রয়োজন নেই।
গোসলের কোনো ফরজ বাদ পড়লে কী করবেন?
যদি গোসলের সময় অসাবধানতাবশত কুলি করা, নাকে পানি দেওয়া বা শরীরের কোনো অংশে পানি পৌঁছানো বাদ পড়ে যায়, তাহলে পরে বিষয়টি মনে পড়লে শুধু যে অংশটি বাদ গেছে সেটি সম্পন্ন করলেই গোসল পূর্ণ হয়ে যাবে।
অর্থাৎ কুলি বাদ গেলে কুলি করা, নাকে পানি না গেলে নাকে পানি দেওয়া কিংবা শরীরের কোনো অংশ শুকনো থাকলে সেই অংশ ধুয়ে নিলেই গোসল সম্পূর্ণ হবে। এ ধরনের ভুলের কারণে শুরু থেকে আবার গোসল করার প্রয়োজন নেই।
অসম্পূর্ণ গোসলের পর নামাজ আদায় করলে
গোসলের ফরজ কোনো অংশ বাকি থাকা অবস্থায় যদি কেউ নামাজ পড়ে ফেলেন, তাহলে পরে গোসলের অপূর্ণ অংশ পূরণ করার পর সেই নামাজ পুনরায় আদায় করতে হবে। কারণ, পূর্ণ পবিত্রতা অর্জনের আগেই নামাজ আদায় করা সহিহ হবে না।
সুন্নত অনুযায়ী ফরজ গোসলের নিয়ম
সুন্নত অনুসারে ফরজ গোসল করার ধাপগুলো হলো—
যেসব কারণে গোসল ফরজ হয়
ইসলামী শরিয়ত অনুযায়ী নিচের চারটি কারণে গোসল ফরজ হয়ে যায়—
ইসলামী বিধান অনুযায়ী, ফরজ গোসলের মূল উদ্দেশ্য হলো পূর্ণ পবিত্রতা অর্জন। তাই গোসলের ফরজগুলো যথাযথভাবে আদায় করা জরুরি। তবে নিয়ত ভুলে গেলেও যদি ফরজ কাজগুলো সম্পন্ন হয়ে যায়, তাহলে সেই গোসলই যথেষ্ট এবং পুনরায় গোসল করার প্রয়োজন হয় না।
আপলোড : আব্দুল খালিক