জীবন
০৬ই আগস্ট, ২০২৬
বর্তমান সময়ে অনেক মানুষ চুল পড়ার সমস্যায় ভুগছেন। অল্প বয়সেই মাথার সামনের অংশের চুল পাতলা হয়ে যাওয়া বা টাক পড়তে শুরু করা এখন একটি সাধারণ সমস্যা হয়ে দাঁড়িয়েছেন।
এই ধরনের টাক পড়াকে চিকিৎসাবিজ্ঞানের ভাষায় মেল প্যাটার্ন বল্ডনেস বলা হয়। এই সমস্যাতেই দারুণ উপকার করতে পারে কুমড়ার বীজের তেল, সাম্প্রতিক একটি গবেষণায় এমনই তথ্য উঠে এসেছে।
গবেষণা বলছে, যেসব পুরুষ প্রতিদিন ৪০০ মিলিগ্রাম কুমড়ার বীজের তেল টানা ২৪ সপ্তাহ খেয়েছেন, তাদের মাথায় চুলের সংখ্যা গড়ে প্রায় ৪০ শতাংশ বেড়েছে। শুধু চুলের সংখ্যাই নয়, গবেষকরা অংশগ্রহণকারীদের মাথার ত্বকের ছবিও পরীক্ষা করেন। সেখানে দেখা যায়, অনেকের চুল আগের তুলনায় ঘন এবং স্বাস্থ্যকর দেখাচ্ছে।
কুমড়ার বীজের তেল কীভাবে কাজ করে? বিশেষজ্ঞদের মতে, পুরুষদের বংশগত টাক পড়ার অন্যতম কারণ হল ডাইহাইড্রোটেস্টোস্টেরন (ডিএইটি) নামে একটি হরমোন। এই হরমোনের মাত্রা বেশি হলে ধীরে ধীরে চুলের গোড়া বা ফলিকল ছোট হতে শুরু করে। ফলে নতুন যে চুল গজায়, তা আগের তুলনায় অনেক পাতলা, ছোট এবং দুর্বল হয়। দীর্ঘদিন এই প্রক্রিয়া চলতে থাকলে একসময় চুল কমে গিয়ে টাক পড়তে শুরু করে।
কুমড়ার বীজের তেলে রয়েছে ফাইটোস্টেরল, অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট এবং ওমেগা-সমৃদ্ধ স্বাস্থ্যকর ফ্যাটি অ্যাসিড। গবেষকদের ধারণা, এই উপাদানগুলো ডিএইচটির ক্ষতিকর প্রভাব কিছুটা কমাতে সাহায্য করতে পারে। পাশাপাশি এগুলো মাথার ত্বককে ক্ষতিকর অক্সিডেটিভ স্ট্রেস থেকে রক্ষা করে এবং চুলের গোড়াকে সুস্থ রাখতে সহায়তা করে। ফলে নতুন চুল গজানোর পরিবেশ তৈরি হতে পারে।
চিকিৎসকদের মতে, এই গবেষণার ফল ইতিবাচক হলেও কুমড়র বীজের তেলকে টাক পড়ার নিশ্চিত সমাধান বলা যাবে না। কারণ চুল পড়ার পেছনে শুধু ডিএইচটি নয়, বংশগত কারণ, মানসিক চাপ, অপুষ্টি, থাইরয়েডের সমস্যা, হরমোনের ভারসাম্যহীনতা বা অন্য কোনও শারীরিক অসুস্থতাও দায়ী হতে পারে।
অতিরিক্ত চুল পড়লে সঠিক চিকিৎসা, পুষ্টিকর খাবার, পর্যাপ্ত ঘুম এবং স্বাস্থ্যকর জীবনযাপনের পাশাপাশি চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী কুমড়ার বীজের তেল ব্যবহার করলে উপকার মিলতে পারে।
আপলোড : আব্দুল খালিক