সিলেট
৩০ই জুন, ২০২৬
নির্বাচনের আগে একটি প্রতিশ্রুতি ছিলো- ‘ভোট চাই শুধু জয়ের জন্য নয়, মানুষের সেবা করার জন্য।’ আজ সেই প্রতিশ্রুতিকে বাস্তবে রূপ দেওয়ার পথেই নিরলসভাবে এগিয়ে চলেছেন সিলেট-৬ (গোলাপগঞ্জ–বিয়ানীবাজার) আসনের সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট এমরান আহমদ চৌধুরী। গোলাপগঞ্জ ও বিয়ানীবাজারের মানুষ তাদের ভোটের মাধ্যমে যে আস্থা রেখেছিলেন, এই সাংসদ সেই আস্থার প্রতিদান দিচ্ছেন কাজের মাধ্যমে- মন্তব্য জনসাধারণের।
এমপি এমরান আহমদ চৌধুরী নির্বাচনে জয়লাভের পর বিশ্রাম নেননি, শুরু করেছেন দায়িত্বের নতুন অধ্যায়। ঢাকায় সংসদীয় ও দাপ্তরিক দায়িত্ব শেষ করেই রাতের আঁধার চিরে ছুটে আসেন নিজের নির্বাচনি এলাকায়। ভোর থেকেই শুরু হয় মানুষের দ্বারে দ্বারে যাত্রা। কখনো গ্রামের মেঠোপথে, কখনো জনসমাগমের বাজারে, আর কখনো শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে। আবার কখনো সাধারণ মানুষের উঠোনে বসে শুনেন তাদের কথা। দুপুর হলেই ফের ছুটে ঢাকায়, সংসদ অধিবেশনে অংশ নিতে। এ যেন বিরামচিহ্নহীন এক তৃপ্তির পথচলা।
দায়িত্বের প্রতিটি দিনে অ্যাডভোকেট এমরান আহমদ চৌধুরীর অভিজ্ঞতার ঝুলিতে যুক্ত হচ্ছে একেকটি সাফল্যের পালক। এরই ধারাবাহিকতায় এবার সিলেট-৬ আসনের সাংসদের নির্বাচনি এলাকার ৩টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বড় ধরনের উন্নয়ন বরাদ্দ পেয়েছে।
জানা গেছে, এমপির জোর প্রচেষ্টায় গোলাপগঞ্জ ও বিয়ানীবাজার উপজেলার তিনটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে নতুন একাডেমিক ভবন নির্মাণের জন্য মোট ৪ কোটি ৬৫ লাখ টাকা বরাদ্দ দিয়েছে শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তর।
দায়িত্ব গ্রহণের মাত্র চার মাসের মধ্যেই শিক্ষা খাতে এ বরাদ্দ নিশ্চিত হওয়ায় এলাকায় ব্যাপক ইতিবাচক সাড়া পড়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও বিষয়টি নিয়ে প্রশংসা করছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।
জানা যায়, শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তরের ২০২৫-২৬ অর্থবছরের পরিচালন বাজেটের আওতায় প্রকল্পগুলো অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। ২০২৬ সালের ২১ জুন শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তরের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. মেহেদী ইকবাল স্বাক্ষরিত পৃথক দুটি অফিস আদেশে এ বরাদ্দ দেয়া হয়।
শিক্ষার উন্নয়নে বিয়ানীবাজার উপজেলার জালালিয়া মহিলা দাখিল মাদ্রাসা, গোলাপগঞ্জ উপজেলার এল.বি. গ্রীন ফ্লাওয়ার উচ্চ বিদ্যালয় এবং রণকেলী বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় ও কলেজে ৪তলা ভিত বিশিষ্ট নতুন একাডেমিক ভবন নির্মাণে ১ কোটি ৫৫ লাখ টাকা করে বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। শিক্ষাক্ষেত্রে বিয়ানীবাজার উপজেলার জালালিয়া মহিলা দাখিল মাদ্রাসা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে। জরাজীর্ণ ক্যাম্পাস হওয়া সত্ত্বেও প্রতি বছর ধারাবাহিক সাফল্য অর্জন করছে এল.বি. গ্রীন ফ্লাওয়ার উচ্চ বিদ্যালয়। এবার সেই জরাজীর্ণ ক্যাম্পাস পাচ্ছে নতুন ভবন। ১০৩ শতক জমিতে নতুন একাডেমিক ভবন নির্মাণ করা হবে।
এদিকে নারী শিক্ষার প্রসারে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখে চলা রণকেলী বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় ও কলেজে নির্মিত হবে নতুন একাডেমিক ভবন। সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, নতুন ভবন নির্মিত হলে শিক্ষার্থীরা আরও উন্নত ও আধুনিক পরিবেশে লেখাপড়ার সুযোগ পাবে এবং শিক্ষা কার্যক্রমে নতুন গতি সঞ্চার হবে।
শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তরের সূত্রে জানা যায়, প্রকল্প বাস্তবায়নের আগে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে জরিপ, সয়েল টেস্ট এবং অন্যান্য কারিগরি প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে দরপত্র আহ্বান করা হবে। এরপর পর্যায়ক্রমে নির্মাণকাজ শুরু হবে।
স্থানীয়দের মতে, দীর্ঘদিনের অবকাঠামোগত সংকট কাটিয়ে নতুন ভবন নির্মিত হলে শিক্ষার্থীরা আধুনিক, নিরাপদ ও মানসম্মত পরিবেশে পাঠগ্রহণের সুযোগ পাবে। একই সঙ্গে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের শিক্ষা কার্যক্রম আরও গতিশীল হবে।
এদিকে দায়িত্ব গ্রহণের অল্প সময়ের মধ্যেই শিক্ষা, অবকাঠামোসহ বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্পে বরাদ্দ নিশ্চিত করায় সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট এমরান আহমদ চৌধুরীর ভূমিকাকে ইতিবাচকভাবে দেখছেন এলাকার বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ। তাঁদের মতে, এই বরাদ্দ গোলাপগঞ্জ ও বিয়ানীবাজারের শিক্ষা উন্নয়নে একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক হয়ে থাকবে।
এল.বি. গ্রীন ফ্লাওয়ার উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. আলতাফুর রহমান টিপু সচিত্র সিলেটকে বলেন- “আমাদের প্রতিষ্ঠানটি প্রতি বছর বোর্ড পরীক্ষায় ভালো ফলাফল অর্জন করে। নতুন একাডেমিক ভবন নির্মাণের জন্য ১ কোটি ৫৫ লাখ টাকা বরাদ্দ দেওয়ায় আমি শিক্ষার্থী, শিক্ষক, অভিভাবকদের পক্ষ থেকে সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট এমরান আহমদ চৌধুরীর প্রতি আন্তরিক কৃতজ্ঞতা জানাচ্ছি। এই ভবন নির্মিত হলে শিক্ষার মানোন্নয়নে এটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে আমি বিশ্বাস করি।”
এর আগে বিয়ানীবাজার সরকারি কলেজে অসম্পূর্ণ ও নির্মাণাধীন ১০তলা ভবনের পুন:নির্মাণ কাজের উদ্বোধন করেন এমপি এমরান আহমদ চৌধুরী। ১২ কোটি টাকা ব্যয়ে এই নির্মাণ কাজ চলমান।
এছাড়া মাথিউরা দ্বিপাক্ষিক উচ্চ বিদ্যালয়ের একাডেমিক ভবন নির্মাণ কাজেরও উদ্বোধন করেন তিনি। এক কোটি ৯১ লাখ টাকা ব্যয়ে এই ভবন নির্মাণের কাজ চলছে।
উন্নয়ন-বিষয়ে সিলেট-৬ আসনের এমপি অ্যাড. এমরান আহমদ চৌধুরী বলেন- গোলাপগঞ্জ-বিয়ানীবাজারের শিক্ষার অতীত সুনাম ফিরিয়ে আনতে আমার প্রচেষ্টার কোনো কমতি থাকবে না ইনশাআল্লাহ। পাশাপাশি গেল ১৭ বছর পিছিয়ে পড়া এ জনপদের মানুষের উন্নয়নের ন্যায্য হিস্যা আদায় করতে আমি সংগ্রাম চালিয়ে যাচ্ছি। এলাকার সর্বস্তরের মানুষের দোয়া ও সহযোগিতা নিয়ে আমি গোলাপগঞ্জ-বিয়ানীবাজারকে উন্নয়নের নতুন উচ্চতায় পৌঁছে দিতে চাই।