সিলেট

খুলছে সিলেটের নারী শিক্ষার্থীদের সম্ভাবনার দুয়ার

Icon
মাহমুদ খান :

১৯ই অক্টোবর, ২০২৬

খুলছে সিলেটের নারী শিক্ষার্থীদের সম্ভাবনার দুয়ার

সিলেটের দক্ষিণ সুরমার বদিকোনায় ১১২ কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মাণ করা হচ্ছে মহিলা পলিটেকনিক ইনস্টিটিউট। সিলেটে এমন প্রতিষ্ঠান এই প্রথম হচ্ছে। মেগা প্রকল্পে মেগা স্বপ্ন। নারী শিক্ষার্থীদের জন্য খুলছে অপার সম্ভাবনার দুয়ার।

তবে ২০১৮ সালে অনুমোদিত এ প্রকল্প ২০২০ সালের ডিসেম্বরের মধ্যে শেষ করার লক্ষ্য ছিল। কিন্ত জমি অধিগ্রহণে বিলম্ব, করোনাভাইরাস মহামারি, বন্যা ও ঠিকাদার পরিবর্তনের কারণে নির্ধারিত সময়ে কাজ শেষ হয়নি। সবমিলিয়ে বর্তমানে প্রকল্পের সার্বিক অগ্রগতি ৬৫ শতাংশ। যদিও একই প্রকল্পের আওতায় বরিশাল, ময়মনসিংহ ও রংপুরে মহিলা পলিটেকনিক ইনস্টিটিউট চালু হয়েছে।
তবে সিলেটের এই প্রকল্পের সংশ্লিষ্টরা আশা করছেন, ২০২৭ সালের জুনের মধ্যে নির্মাণকাজ শেষ করে ২০২৭ সাল থেকে প্রতিষ্ঠানটি চালু করা সম্ভব হবে।

সিলেটের দক্ষিণ সুরমার বদিকোনায় ৩ একর ৩৮ শতাংশ জমির উপর নির্মাণ করা হচ্ছে ইনস্টিটিটের সাতটি ভবন। এর মধ্যে রয়েছে ছয়তলা অ্যাকাডেমিক ভবন, ছয়তলা প্রশাসনিক ভবন, ছয়তলা ওয়ার্কশপ ভবন, একতলা অধ্যক্ষের বাসভবন, পাঁচতলা ডরমিটরি, চারতলা ২০০ শয্যার ছাত্রীনিবাস এবং তিনতলা স্টাফ কোয়ার্টার।

সরেজমিনে দেখা যায়, অ্যাকাডেমিক ভবনের নির্মাণকাজ প্রায় শেষ পর্যায়ে থাকলেও ভেতরে ও বাইরের পলেস্তর এবং রঙের কাজ বাকি। ওয়ার্কশপ ভবন, স্টাফ কোয়ার্টার ও ডরমিটরি ভবনের কাজ চলছে। ছাত্রীনিবাসের কাজ তুলনামূলকভাবে পিছিয়ে রয়েছে। সেখানে তৃতীয় তলার ছাদ পর্যন্ত কাজ শেষ হয়েছে এবং চতুর্থ তলার ছাদের কাজ চলছে। অধ্যক্ষের বাসভবনের কাজ প্রায় শেষ। প্রশাসনিক ভবনের চতুর্থ তলার ছাদ ঢালাই সম্পন্ন হয়েছে, দেয়াল ও পঞ্চম তলার ছাদের কাজ চলছে।

তবে প্রকল্প এলাকায় প্রবেশমুখে এখনো ফটক স্থাপন করা হয়নি। সীমানাপ্রাচীরের কাজও বাকি রয়েছে। সাতটি ভবনের কাজ পৃথক ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে করা হলেও প্রকল্পের ব্যয় ও অন্যান্য তথ্যসংবলিত সাইনবোর্ড মাত্র একটি দেখা যায়, আরেকটি থাকলেও সেটি ছিড়া ছিল। 

প্রকল্পসংশ্লিষ্ট সূত্র দৈনিক সচিত্র সিলেটকে জানায়, ২০১৮ সালে জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) সভায় প্রকল্পটি অনুমোদন দেওয়া হয়। প্রথম উন্নয়ন প্রকল্প প্রস্তাবে (ডিপিপি) ব্যয় ধরা হয়েছিল ৩৫৩ কোটি ৯৮ লাখ টাকা। ২০২১ সালের প্রথম সংশোধনীতে ব্যয় বাড়িয়ে ৪০২ কোটি ৯৫ লাখ টাকা করা হয়। পরবর্তী সংশোধনীতে প্রাক্কলিত ব্যয় ৪০১ কোটি ১৪ লাখ টাকা নির্ধারণ করা হয়।

মোট প্রকল্প থেকে সিলেটের জন্য বরাদ্দ রয়েছে ১১২ কোটি টাকা। এর মধ্যে জমি অধিগ্রহণে ব্যয় হয়েছে ২২ কোটি টাকার উপরে। সাতটি ভবন নির্মাণে ব্যয় ধরা হয়েছে ৪৬ কোটি টাকা।

প্রকল্পের মেয়াদ ছিল ২০১৮ সালের জানুয়ারি থেকে ২০২০ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত। তবে নির্ধারিত সময়ে কাজ শুরু করা যায়নি। সিলেটে জমি অধিগ্রহণে বিলম্ব হওয়ায় নির্মাণকাজও পিছিয়ে পড়ে। ২০২৪ সালে কাজ পাওয়া ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান কাজ ছেড়ে দিলে বাস্তবায়নে আরও বিলম্ব হয়। পরে নতুন দরপত্রের মাধ্যমে ২০২৫ সালের জানুয়ারিতে নতুন ঠিকাদার নিয়োগ দেওয়া হয়।

জানা গেছে, সিলেটে জমি অধিগ্রহণ ও ভূমি উন্নয়নে অতিরিক্ত সময় ও অর্থ ব্যয় হয়েছে। অন্য তিন বিভাগে আগে থেকেই জমি থাকায় সেখানে কাজ এগিয়ে নেওয়া তুলনামূলক সহজ হয়েছে।

শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তর সিলেটের তথ্য অনুযায়ী, ছয়তলা প্রশাসনিক ভবনের নির্মাণকাজ ২০২৫ সালের জুনে শুরু হয়। এ পর্যন্ত কাজ সম্পন্ন হয়েছে ৫৩ শতাংশ। একই বছরের জুলাইয়ে শুরু হওয়া অ্যাকাডেমিক ভবনের কাজ শেষ হয়েছে ৬৮ শতাংশ। জুনে শুরু হওয়া ওয়ার্কশপ ভবনের কাজের অগ্রগতি ৭০ শতাংশ। অধ্যক্ষের বাসভবনের ৮২ শতাংশ, ডরমিটরি ভবনের ৬২ শতাংশ, স্টাফ কোয়ার্টারের ৩২ শতাংশ এবং ছাত্রীনিবাসের ৫৭ শতাংশ কাজ শেষ হয়েছে। ভূমি উন্নয়নের কাজ শেষ হয়েছে ৯০ শতাংশ। সীমানাপ্রাচীর ও ফটক নির্মাণের অগ্রগতি ২২ শতাংশ। বিদ্যুৎ উপকেন্দ্র, জেনারেটর, অভ্যন্তরীণ রাস্তা, ড্রেন ও শহীদ মিনার নির্মাণের কাজ এখনো শুরু হয়নি। তবে এসব কাজের দরপত্র আহ্বান করে ঠিকাদারদের বুঝিয়ে দেওয়া হয়েছে বলে দাবি করেছেন প্রকল্পের দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা।

তবে কোন ভবনে দরপত্র মূল্য কত- সে তথ্য দিতে পারেনি সংশ্লিষ্ট অফিস।

প্রকল্পের ব্যয়সংক্রান্ত সাইনবোর্ড না থাকার বিষয়ে শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তর সিলেটের সহকারী প্রকৌশলী (সিভিল) ও প্রকল্পের দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. শাহীন হোসেন দৈনিক সচিত্র সিলেটকে বলেন- প্রকল্পের তথ্যসংবলিত ব্যানার ছিল, বৃষ্টিতে সেগুলো নষ্ট হয়ে গেছে। পুনরায় ব্যানার লাগানোর জন্য তিনি সংশ্লিষ্টদের বলে দেবেন বলে জানিয়েছেন।

তিনি বলেন- সীমানাপ্রাচীর ও ফটক, ড্রেন, অভ্যন্তরীণ রাস্তা এবং শহীদ মিনারসহ অন্যান্য কাজের দরপত্র আহ্বান করে ঠিকাদারদের কাজ বুঝিয়ে দেওয়া হয়েছে। শিগ্গিরই এসব কাজ সম্পন্ন হবে।

শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তর সিলেটের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. শামসুল আরেফিন খান দৈনিক সচিত্র সিলেটকে বলেন- প্রকল্পের সাতটি ভবনের নির্মাণকাজ চলমান রয়েছে। সিলেটে এ পর্যন্ত ৬৫ শতাংশ কাজ সম্পন্ন হয়েছে। ২০২৭ সালের জুনের মধ্যে বাকি কাজ শেষ হয়ে যাবে। তিনি বলেন, সিলেটে মূলত ২০২১ সালের অক্টোবর থেকে কাজ শুরু হয়। ২০২৪ সালে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান কাজ ছেড়ে দেয়। পরে নতুন করে দরপত্র আহ্বানের মাধ্যমে ২০২৫ সালের জানুয়ারিতে ঠিকাদার নিয়োগ দেওয়া হয়। সাতটি ভবন নির্মাণে ব্যয় হচ্ছে ৪৬ কোটি টাকা।

এ কর্মকর্তা জানান- সিলেট মহিলা পলিটেকনিক ইনস্টিটিউটে ইলেকট্রিক্যাল, কম্পিউটার সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি, ফুড এবং গ্রাফিক ডিজাইন টেকনোলজি চালুর পরিকল্পনা রয়েছে। তবে শুরুতে দুটি প্রযুক্তিতে শিক্ষার্থী ভর্তি নেওয়ার বিষয়ে আলোচনা চলছে। এরমধ্যে ফুড ও ইলেকট্রিক্যাল টেকনোলজিকে গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। স্টেকহোল্ডারদের সঙ্গে আলোচনা করে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা।

প্রকল্প পরিচালক (অতিরিক্ত দায়িত্ব) ও কারিগরি ও মাদ্রাসা শিক্ষা বিভাগের যুগ্ম সচিব মুহাম্মদ মুনীরুজ্জামান ভূঁঞা দৈনিক সচিত্র সিলেটকে বলেন- ২০২৭ সাল থেকে সিলেট মহিলা পলিটেকনিক ইনস্টিটিউট পুরোদমে চালু করা সম্ভব হবে। করোনা মহামারি ও বন্যার কারণে সিলেটে কাজের অগ্রগতি ব্যাহত হয়েছে।

তিনি বলেন- সিলেটে তুলনামূলক কম শিক্ষার্থী থাকায় প্রথমে দুটি প্রযুক্তি চালুর পরিকল্পনা রয়েছে। ফুড ও ইলেকট্রিক্যাল টেকনোলজি নিয়ে আলোচনা চলছে। তবে বিভিন্ন স্টেকহোল্ডারের সঙ্গে আলোচনা করে এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।

সিলেটে নারী ক্ষমতায়ন নিয়ে কাজ করা এবং উইমেন ফর উইমেন রাইটসের সভাপতি সামিয়া বেগম চৌধুরী দৈনিক সচিত্র সিলেটকে বলেন- সাম্প্রতিক সময়ে সিলেটের মেয়েরা বিভিন্ন ক্ষেত্রে এগিয়ে যাচ্ছেন। অনেক নারী উদ্যোক্তা হওয়ার চেষ্টা করছেন। ঘরে বসেও অনেকে বিভিন্ন পণ্য বিক্রি করে স্বাবলম্বী হচ্ছেন।

তিনি বলেন- মহিলা পলিটেকনিক ইনস্টিটিউট চালু হলে নারীদের দক্ষতা উন্নয়নের সুযোগ বাড়বে। প্রশিক্ষিত নারীরা দেশের কর্মক্ষেত্রে অবদান রাখার পাশাপাশি বিদেশেও দক্ষতার সঙ্গে কাজ করতে পারবেন। শুধু মেয়েদের জন্য প্রতিষ্ঠান হওয়ায় নিরাপদ পরিবেশ নিয়ে অভিভাবকদের মধ্যে স্বস্তি তৈরি হতে পারে বলেও তিনি মনে করেন।

অন্যদিকে, উদ্যোক্তা শান্ত শীল চার বছর মেয়াদি ডিপ্লোমা কোর্সের উপযোগিতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন। তিনি বলেন, চার বছর পড়াশোনার পর চাকরি পাওয়া নিয়ে অনেকের শঙ্কা থাকে। সরকার স্বল্পমেয়াদি কোর্স চালু করলে অনেকে বেশি উপকৃত হতে পারেন।
এদিকে সিলেট সরকারি পলিটেকনিক ইনস্টিটিউটের অধ্যক্ষ মোহাম্মদ রিহান উদ্দিন দৈনিক সচিত্র সিলেটকে বলেন- তাঁদের প্রতিষ্ঠানে ১ হাজার ৩০০ শিক্ষার্থীর আসন রয়েছে। চলতি শিক্ষাবর্ষে ভর্তি হয়েছেন ১ হাজার শিক্ষার্থী, তাঁদের মধ্যে শতাধিক ছাত্রী। মহিলা পলিটেকনিক ইনস্টিটিউটের কার্যক্রম চালু হলে ভালো সাড়া পাওয়া যাবে।

৫ আগস্টের পরে এদেশে হক-বাতিল চিহ্নিত হয়ে গেছে: হুছামুদ্দীন চৌধুরী ফুলতলী
বিশ্ব পোলিও দিবসে সিলেটে রোটারির র‌্যালি
পুসাগের নবীনবরণ, সংবর্ধনা ও স্মারকগ্রন্থ প্রকাশনা অনুষ্ঠান
সিলেটের চুরির মামলার আসামি সুনামগঞ্জ থেকে গ্রেফতার
মাধবপুরে সবুজ দিগন্তজুড়ে ছড়িয়েছে চাষিদের রঙিন স্বপ্ন
আজমিরীগঞ্জে পরিত্যক্ত গুদামে পৌরসভার কার্যক্রম
সুনামগঞ্জে নারী ইউএনওকে নিয়ে পুরুষ এসিল্যান্ডের ‘বিরহী’ পোস্ট, তোলপাড়
হেমন্তে সিলেটে বৃষ্টির আভাস
পরিবেশ রক্ষায় গবেষণা ও জনসচেতনতা বাড়ানোর আহ্বান: ড. আনোয়াারুল
সুস্থ-সমৃদ্ধ সমাজ গড়তে সরকারের পাশাপাশি সামর্থ্যবান ব্যক্তি ও সংগঠনের উদ্যোগ জরুরি: এমপি এমরান চৌধুরী