সিলেট

সিলেটে একজনের নিবন্ধন নম্বরে অন্যজনের পাসপোর্ট!

Icon
মাহমুদ খান

০৭ই অক্টোবর, ২০২৬

সিলেটে একজনের নিবন্ধন নম্বরে অন্যজনের পাসপোর্ট!

নিজের জন্মনিবন্ধন নম্বর দিয়ে পাসপোর্ট করতে গিয়ে বিপাকে পড়েছেন সিলেটের ওসমানীনগরের ওসমানপুর ব্রাহ্মণশাসন ইউনিয়নের বাসিন্দা মো. আবু সাঈদ। তার অভিযোগ, তার জন্ম নিবন্ধন নম্বর ব্যবহার করে ‘মো. মাকনুন’ নামে পাসপোর্ট করা হয়েছে। অথচ এ বিষয়ে তিনি আগে কিছুই জানতেন না।

আবু সাঈদের পিতা মো. শফিকুর রহমান সচিত্র সিলেটকে জানান, ওসমানপুর ইউনিয়ন পরিষদ থেকে ইস্যু করা জন্ম নিবন্ধন নম্বর দিয়ে তিনি পাসপোর্টের আবেদন করেন। গত ২৪ সেপ্টেম্বর পাসপোর্টের আবেদন জমা দিতে গিয়ে বিপত্তি দেখা দেয়। যথারীতি সব কার্যক্রম শেষ করে ফিঙ্গার ও ছবি তুলতে গেলে তিনি জানতে পারেন, ওই জন্ম নিবন্ধন নম্বর দিয়ে ‘মো. মাকনুন’ নামে আরেকটি পাসপোর্ট করা হয়েছে।

এরপর তিনি পাসপোর্ট কার্যালয়ের বিভিন্ন কর্মকর্তার কাছে প্রায় এক সপ্তাহ ঘুরেও কোনো সমাধান পাননি বলে জানান। পরে কার্যালয়ের উপপরিচালকের কাছে গেলে তিনি বিষয়টি দেখে বলেন, এটি তাদের কোনো ভুল নয়, ইউনিয়ন পরিষদের বিষয়। এরপর আবু সাঈদ ইউনিয়ন পরিষদ থেকে মো. মাকনুন ও তার নিজের ভেরিফিকেশন কপি সংগ্রহ করেন। সেখানে দুইজনের জন্মনিবন্ধন নম্বর ও নাম ভিন্ন পাওয়া যায়।

আবু সাঈদের পিতা মো. শফিকুর রহমান অভিযোগ করেন, দুটি জন্ম নিবন্ধন নিয়ে উপপরিচালকের কাছে গেলে তাকে বলা হয়, আগে ‘যাচাই’ ছাড়াই পাসপোর্ট হয়েছে, তাই এমন ভুল হয়ে থাকতে পারে। তাকে থানায় সাধারণ ডায়েরি করার পরামর্শ দেওয়া হয়। তবে ওই নিবন্ধন দিয়ে পাসপোর্ট করা সম্ভব নয় বলেও তাকে জানানো হয়।

শফিকুর রহমান বলেন, “এটা তো আমার ভুল না, আমি কেন এখন নতুন জন্ম নিবন্ধন করব বা আমার মূল ডকুমেন্ট কেন আমি ডুপ্লিকেট করব?”

শফিকুর রহমানের দেওয়া নথি বিশ্লেষণ করে দেখা যায়, তার ছেলে মো. আবু সাঈদের জন্ম নিবন্ধন নম্বরের শেষ পাঁচ সংখ্যা ২৬৩৮৫। ওই জন্মনিবন্ধনে পিতা ও মাতার নামও সঠিক রয়েছে। জন্ম নিবন্ধনটি ওসমানপুর ইউনিয়ন পরিষদ থেকে ইস্যু করা এবং এর রেজিস্ট্রেশন তারিখ ৪ মার্চ ২০০৯।

অন্যদিকে একই নিবন্ধন কার্যালয়ের ১১৪৯০ নম্বর জন্ম নিবন্ধনধারীর নাম মো. মাকনুন। ওই জন্মনিবন্ধনে পিতা ও মাতার নামও ভিন্ন। এটি ইস্যু করা হয়েছে ৬ এপ্রিল ২০০৯।

তবে নথিতে দেখা যায়, আবু সাঈদের জন্ম নিবন্ধন নম্বর ২৬৩৮৫ ব্যবহার করে মো. মাকনুনের নামে পাসপোর্ট ইস্যু হয়েছে। ওই পাসপোর্টের শেষ তিন সংখ্যা ১৯৩ এবং এটি সিলেট বিভাগীয় পাসপোর্ট অফিস থেকে ইস্যু করা হয়। পরবর্তীতে একই জন্মনিবন্ধন নম্বর ব্যবহার করে ৪২৭ নম্বর পাসপোর্ট করা হয়েছে। ওই পাসপোর্টের প্রদানের তারিখ ৩০ জানুয়ারি ২০২৩ এবং মেয়াদ শেষ হওয়ার তারিখ ২৯ জানুয়ারি ২০২৮।

এ বিষয়ে উছমানপুর ইউনিয়ন পরিষদের প্রশাসনিক কর্মকর্তা গোবিন্দ চন্দ্র দেব বলেন, “আমাদের ইউনিয়ন থেকে কোনো সমস্যা নেই। দুইজনের দুই নম্বর আছে-যে কপি ইতোমধ্যে আমি ভুক্তভোগীর কাছে সরবরাহ করেছি। এটা কেন, কীভাবে হলো সেটি পাসপোর্ট অফিস বলতে পারবে।”

অভিযোগের বিষয়ে জানতে সিলেট বিভাগীয় পাসপোর্ট অফিসের উপসহকারী পরিচালক মো. সিরাজুল ইসলাম পাটওয়ারী ও উপপরিচালক মোহাম্মদ নুরুল হুদার ব্যবহৃত অফিসিয়াল নম্বরে একাধিকবার কল ও মেসেজ করা হলেও, কোনো সাড়া পাওয়া যায়নি।

 

আ/খা

৫ আগস্টের পরে এদেশে হক-বাতিল চিহ্নিত হয়ে গেছে: হুছামুদ্দীন চৌধুরী ফুলতলী
বিশ্ব পোলিও দিবসে সিলেটে রোটারির র‌্যালি
পুসাগের নবীনবরণ, সংবর্ধনা ও স্মারকগ্রন্থ প্রকাশনা অনুষ্ঠান
সিলেটের চুরির মামলার আসামি সুনামগঞ্জ থেকে গ্রেফতার
মাধবপুরে সবুজ দিগন্তজুড়ে ছড়িয়েছে চাষিদের রঙিন স্বপ্ন
আজমিরীগঞ্জে পরিত্যক্ত গুদামে পৌরসভার কার্যক্রম
সুনামগঞ্জে নারী ইউএনওকে নিয়ে পুরুষ এসিল্যান্ডের ‘বিরহী’ পোস্ট, তোলপাড়
হেমন্তে সিলেটে বৃষ্টির আভাস
পরিবেশ রক্ষায় গবেষণা ও জনসচেতনতা বাড়ানোর আহ্বান: ড. আনোয়াারুল
সুস্থ-সমৃদ্ধ সমাজ গড়তে সরকারের পাশাপাশি সামর্থ্যবান ব্যক্তি ও সংগঠনের উদ্যোগ জরুরি: এমপি এমরান চৌধুরী