টপ-১
২৪ই অক্টোবর, ২০২৬
হযরত শাহজালাল (র.)-এর মাজার—যেখানে প্রতিদিন হাজারো ব্যাকুল হৃদয় জমা হয় মনের গহিনের গোপন কষ্ট, জমে থাকা অভিমান আর প্রার্থনার আকুতি নিয়ে। দরগাহের দানবাক্সগুলো কেবল দান-অনুদান নয়, ধারণ করে অজস্র মানুষের অশ্রু আর বুকচাপা দীর্ঘশ্বাসের ইতিহাস। বরাবরের মতো এবারও দানবাক্স খোলার পর পাওয়া গেছে তেমনই এক ভক্তের বেদনাবিধুর চিঠি, যেখানে উঠে এসেছে এক ভাইয়ের হাতে আরেক ভাইয়ের স্বপ্নভঙ্গের করুণ গল্প।
শনিবার (২৪ অক্টোবর) সকালে মাজারের ডেকচি ও দানবাক্সগুলো খোলার পর দেশি টাকা ও বৈদেশিক মুদ্রার স্তূপের মাঝখান থেকে উদ্ধার করা হয় চিঠিটি। চিঠিটি লিখেছেন কিশোরগঞ্জের ভৈরবের বাসিন্দা আবু বক্কর ছিদ্দিক।
চিঠিতে বক্কর তাঁর নিজের বড় ভাইয়ের বিরুদ্ধে চরম প্রতারণার অভিযোগ এনেছেন।
পরিবারের সবার ছোট বক্কর লিখে জানান, তাঁকে বিদেশে নেওয়ার প্রলোভন দেখিয়ে দীর্ঘদিন ধরে মিথ্যে আশা দিয়ে গেছেন তাঁর ভাই। কিন্তু শেষ পর্যন্ত সে স্বপ্ন তো পূরণ হয়ইনি, উল্টো ভাইয়ের এই প্রতারণায় তিনি নিঃস্ব হয়ে পড়েছেন। এই বিশ্বাসভঙ্গের বেদনা সইতে না পেরে তিনি দিন দিন অসহনীয় মানসিক যন্ত্রণায় ভুগছেন এবং ভেতরে ভেতরে নিঃশেষ হয়ে যাচ্ছেন।
তবে ভাইয়ের ওপর ক্ষোভ থাকলেও মোনাজাতে তাঁর ক্ষতি চাননি বক্কর। চিঠিতে তিনি মহান আল্লাহর দরবারে আকুতি জানিয়ে লিখেছেন, তাঁর ভাই যেন ‘হাজার কোটি টাকার মালিক’ হন। কিন্তু একই সঙ্গে নিজের বুকচাপা কষ্টের বোঝা কিছুটা হালকা করতে মাজার কর্তৃপক্ষের কাছে এক কাতর অনুরোধ জানিয়েছেন তিনি। বক্করের আকুল প্রার্থনা—তাঁর এই চিঠিটি যেন গণমাধ্যমের সামনে তুলে ধরা হয়, যেন পৃথিবী জানতে পারে এক ছোট ভাইয়ের আড়ালে লুকিয়ে থাকা কতটা গভীর যন্ত্রণা।
পঞ্চমবারের মতো প্রকশ্যে গণনা করা হচ্ছে সিলেটের হযরত শাহজালাল রাহ. মাজারের ডেকচি ও দানবাক্সের টাকা। যেগুলো ভক্তবৃন্দরা দান করে থাকেন।
শনিবার (২৪ অক্টোবর) সকাল সাড়ে ৯টায় সিলেটের জেলা প্রশাসক মো. আব্দুল্লাহ আল মামুনসহ জেলা প্রশাসনের কর্মকর্তা, মাজার ব্যবস্থাপনায় গঠিত কমিটির প্রতিনিধিসহ সংশ্লিষ্ট সব পক্ষের উপস্থিতে এ কার্যক্রম শুরু হয়েছে।
বরাবারের মতো এবার মিলছে দেশি টাকার পাশাপাশি বিদেশি মুদ্রাও। সেই সাথে পাওয়া যাচ্ছে বিভিন্ন দাবি-সংবলিত চিরকুট বা চিঠি।